ব্রেকিং নিউজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্পিডবোট-বাল্কহেড মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্পিডবোট ও স্টিলের বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও এই ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় গ্রামের রায়হান ভূঁইয়ার ছেলে মো. দয়াল মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার বরারচর গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে সজীব মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে এক অসুস্থ রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়ে স্পিডবোটটি চাতলপাড় ফিরে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি স্টিলের বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দয়াল মিয়া ও সজীব মিয়া নামের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে এলে এরমধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় পুলিশ। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। আবুল হাসনাত মো. রাফি/এএমএ

জাতীয়

দেশজুড়ে

View more
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় হওয়ায় এসময়ে মশক নিধন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চসিক জেনারেল হাসপাতালে ‘ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র বলেন, একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য কাম্য নয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় চসিক প্রতিরোধমূলক ও চিকিৎসামূলক দুই ধরনের কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করছে। তিনি জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর, জেলার উপজেলা ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮৮২ জন। এর মধ্যে মহানগরে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। এ পর্যন্ত মহানগরে চারজন, উপজেলা পর্যায়ে সাতজন এবং অন্যান্য জেলায় একজনসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চসিকের মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ক্রাশ প্রোগ্রাম ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকৃত বিটিআই ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি এডাল্ট মশা নিয়ন্ত্রণেও নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর অতীত চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সালে মহানগর ও জেলা মিলিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ৫ হাজার ৫৪৫ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮৭ জনে। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনে দাঁড়ায়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৮৮২ জন। মেয়র জানান, ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ৪১ জন, ২০২৩ সালে ১০৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৫ জন এবং ২০২৫ সালে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১২ জন। সেপ্টেম্বর মাসে মহানগরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, কনটেইনার, নির্মাণসামগ্রীসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও ফুলের টব নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি এসির পানি জমার স্থানও পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও যেন তিনদিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে বলেন মেয়র। ডেঙ্গু আক্রান্তদের জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইনসহ তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে রোগীর অবস্থা দ্রুত জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মেয়র বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়। অতীতের পরিসংখ্যানও সেটিই বলছে। তাই এই সময়ে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। সিটি করপোরেশন তার দায়িত্ব পালন করছে, এখন নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। এমআরএএইচ/এমকেআর

দেশজুড়ে
Video news
বিশ্ব
মোদির বিশেষ নৈশভোজে অনুপস্থিত সি চিন পিং! কিন্তু কেন?
মোদির বিশেষ নৈশভোজে অনুপস্থিত সি চিন পিং! কিন্তু কেন?

ব্রিকসের প্রথম দিনের নৈশভোজে ছিল ভারতের বৈচিত্র্যময় নিরামিষ খাবারের আয়োজন। তবে এত আয়োজনের মধ্যেও কেন ছিলেন না চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং? বিস্তারিত ভিডিওতে…

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

হুতিদের অগ্রযাত্রায় কারও লাভ, কারও ক্ষতি
হুতিদের অগ্রযাত্রায় কারও লাভ, কারও ক্ষতি

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের পুরোটা এখন দেশটির হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। গত সপ্তাহান্তে তারা বন্দরনগর মোখা দখল করে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন (পেরিম) দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নেয়।এখন আফ্রিকার উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে হুতি বাহিনী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপরও তাদের কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ইয়েমেনের বাইরে হুতিরা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো নেই। তবে এই যুদ্ধের প্রভাব ইতিমধ্যে আফ্রিকা মহাদেশেও পড়তে শুরু করেছে।ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী কারা, কীভাবে উত্থানআন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গতকাল রোববার জানিয়েছে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে ২ হাজারের বেশি মানুষ আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে পালিয়ে গেছেন।ইয়েমেনের উপকূল থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে জিবুতির শহর ওবকে ইয়েমেনিরা পৌঁছাচ্ছেন। সেখানে তাঁদের খাবার ও পানি দেওয়া হচ্ছে। তবে আইওএম সতর্ক করে বলেছে, আরও সহায়তা প্রয়োজন।সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথবিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ বাব আল-মানদেব দিয়ে পরিচালিত হয়। সমুদ্রপথে পরিবহন করা তেলের প্রায় ১১ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৮ শতাংশও এই পথ দিয়ে যায়।কৃত্রিম উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) ছবিতে বাব আল–মানদেব প্রণালি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারঅন্যদিকে হুতিদের মিত্র ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর একধরনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। এ যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত।হুতিদের রাজনৈতিক শাখার সদস্য হাজেম আল-আসাদ বলেন, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবে নৌ চলাচলসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রয়েছে।ইরান বলে আসছে, ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিরা একটি স্বাধীন গোষ্ঠী।তবে ইয়েমেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের বড় জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।সমুদ্রপথের নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নৌ কর্মকর্তা আলেক্সান্দ্রু ক্রিস্তিয়ান হুদিস্তেয়ানু আল-জাজিরাকে বলেন, বাব আল-মানদেব প্রণালি হরমুজ প্রণালির চেয়ে সরু।এক দেশ, বহু শক্তির লড়াই: ইয়েমেন কীভাবে বারবার যুদ্ধের আগুনে পুড়ছেহেলিকপ্টার নিয়ে লোহিত সাগরে একটি জাহাজের পিছু নিয়েছে হুতিরাহুদিস্তেয়ানু বলেন, হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তাদের সামগ্রিক সক্ষমতায় মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনেনি। তবে এর ফলে আগের তুলনায় জাহাজ নিশানা করা তাদের জন্য সহজ হয়েছে।এর একটি উদাহরণ হলো, সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এতে উপকূলে থাকা এক হুতি কমান্ডারকে বলতে শোনা যায়, ওই এলাকায় কামান বসিয়ে ইয়েমেনের উপকূলের কাছের জলসীমায় থাকা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সম্ভব।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পোর্টওয়াচের তথ্য বলছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলের পরিমাণ ও পরিবহন করা পণ্যের পরিমাণ ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে জাহাজে হুতিদের হামলার পর লোহিত সাগরে উত্তেজনা আবার বেড়ে গিয়েছিল।বড় জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কেপ অব গুড হোপ ঘুরে জাহাজ চালাচ্ছে। এতে একটি যাত্রায় ২০ দিনের বেশি সময় বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।লোহিত সাগরে সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন আটালান্টা’ টাস্কফোর্স কাজ করছে। তবে লোহিত সাগরে আবার জাহাজে হামলা শুরু হলে নির্ধারিত দায়িত্বের সীমাবদ্ধতার কারণে এই বাহিনীর পক্ষেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতে পারে।মুখোমুখি লড়াইয়ে হুতি ও সরকারি বাহিনী, সৌদিতেও হামলাইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারত। ৩১ আগস্ট ২০২৬ হুদিস্তেয়ানু বলেন, এই অঞ্চলে নৌবহরের রসদসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে অনেক দেশের নৌবাহিনী জিবুতিকে বন্দর হিসেবে ব্যবহার করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে অপারেশন আটালান্টার মতো চলমান অভিযানের আওতায় থাকা জাহাজগুলোর নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করা কঠিন।হুদিস্তেয়ানু আরও বলেন, ‘তবে আমি বলব না যে এসব জাহাজ শুধু নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে রয়েছে।...হুমকির জবাব দিতে দেরি করলে বা নিষ্ক্রিয় থাকলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে।’ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে বাব আল-মানদেব ও হরমুজ প্রণালির দিকে বেশি পাঠানো হয়েছিল। এর ফলে হর্ন অব আফ্রিকার উপকূলের কাছে নিরাপত্তার কিছু ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে সংগঠিত সামুদ্রিক অপরাধী চক্রগুলো।হুদিস্তেয়ানু সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা বিশেষ করে সোমালিয়ার উপকূলজুড়ে জলদস্যুতার পুনরুত্থান দেখতে পাচ্ছি। বহুস্তরীয় এই সংকটের সময় আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর নজর হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে সরে যাওয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।’হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্রমিসরের দুশ্চিন্তালোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না বলে হুতিরা আশ্বস্ত করেছে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো নিশানা করে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত হুতিরা লোহিত সাগরে ১০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। হুতিদের দাবি ছিল, এসব জাহাজ ইসরায়েল বা দেশটির মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় মিসরের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস সুয়েজ খালের টোল।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মিসর প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। এই অর্থ সুয়েজ খালের মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ।হুদিস্তেয়ানু বলেন, হুতিদের এই অভিযান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা সহজেই বোঝা যায়। লোহিত সাগর দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করত, সেগুলোর বড় একটি অংশ একপর্যায়ে পুরোপুরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে হুতিরা জাহাজে হামলা বন্ধ করার কথা জানায়। কিন্তু অনেক কোম্পানি কেপ অব গুড হোপ ঘুরে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখে। তারা আর আগের পথে ফিরে আসেনি।ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক কুচকাওয়াজহরমুজ প্রণালিতে জাহাজে নতুন করে হামলা, তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছেআফ্রিকা অধ্যয়নের অধ্যাপক ও সংঘাত নিরসনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ বদর হাসান আল-শাফেই বলেন, এই সময়ে ক্ষতি সত্ত্বেও মিসর কৌশলগতভাবে সংযত অবস্থান নিয়েছিল।আল-শাফেই আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ইয়েমেনে যা ঘটছে, তাতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকার নীতি অনুসরণ করে মিসর। ২০১৫ সালে উপসাগরীয় দেশগুলোর ইয়েমেনে হস্তক্ষেপের সময় থেকেই এটি মিসরের একটি স্থায়ী অবস্থান।’আল-শাফেই আরও বলেন, বাব আল-মানদেব দিয়ে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়েছে। জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের দিকে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এসব সত্ত্বেও মিসর হস্তক্ষেপ করেনি। যদিও এতে দেশটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতিইরিত্রিয়ার গুরুত্ব বেড়েছেইয়েমেনিরা এখন লোহিত সাগরে প্রবেশের পথে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় রয়েছে। এর ফলে ইয়েমেনের অপর পাশে বাব আল-মানদেবের কাছে অবস্থিত আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে।ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ার্কির শাসনামলে দেশটি স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছে। এ কারণে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে দেশটির যোগাযোগও সীমিত ছিল।তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফওয়ার্কি লোহিত সাগরে ইরিত্রিয়ার কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কও উন্নত করেছেন তিনি।আল-শাফেই বলেন, ‘ইয়েমেনে যা ঘটছে, তা থেকে নিজেকে দূরে রাখার ভান করছেন আফওয়ার্কি। কিন্তু বাস্তবে লোহিত সাগরে যা ঘটছে, তা থেকে তিনি অনেক সুবিধা পাচ্ছেন।’লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের ওপর ইয়েমেন সরকারের হামলা

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

অর্থনীতি
রাজশাহীতে তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
রাজশাহীতে তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার পিএন স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, বিএসটিআইয়ের গুণগত মানসনদ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি ‘বিস্কুট, পাউরুটি ও কেক’ উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ করে আসছিল। এছাড়া পণ্যের ওজন, মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় তথ্যসম্বলিত লেবেলও যথাযথভাবে সংযুক্ত ছিল না। এসব অনিয়মের দায়ে তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেহরীন তাবাসসুম তিথীর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। অভিযানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
মোটরসাইকেল চুরির জেরে হত্যার ঘটনা, ৪ জন গ্রেফতার
মোটরসাইকেল চুরির জেরে হত্যার ঘটনা, ৪ জন গ্রেফতার

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ারগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ, চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)। পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হন পারভেজ। পরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা করিমকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রথমে চট্টগ্রাম নগরের চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে রাখা হয়েছে। পরে সোমবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে গ্রেফতার দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ওই খামারে অভিযান চালায় ডিবি। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে খামারের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদরাশা এলাকা থেকে সেলিম ও আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় তৈরি লোহার এলজি, একটি এয়ারগান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সিসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলা রয়েছে। মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, সিডিএমএস ও থানা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এমআরএএইচ/এসএনআর

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
মেয়ের সহপাঠীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে অভিযুক্ত: পুলিশ
মেয়ের সহপাঠীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে অভিযুক্ত: পুলিশ

বিদ্যালয়ের পাশেই সহপাঠীর বাড়ি। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে সহপাঠীকে খুঁজতে তাদের বাড়িতে যায় সাত বছরের শিশুটি। তবে সহপাঠীর বাবা জামিনুর ইসলাম (৩২) ছাড়া বাড়িতে আর কেউ ছিল না। এ সুযোগে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। পরে নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে চাপা দেওয়া হয় শিশুটির মরদেহ।গতকাল রোববার রাতে মাদারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জামিনুর ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন।শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। গত শনিবার রাতে জামিনুরের বসতঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ওই রাতেই জামিনুর ও তাঁর স্ত্রী সবুজাকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।শিশুটির মামামানুষটি কীভাবে এত ছোট ও নিষ্পাপ একটি শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারলেন! পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না; তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জামিনুরের মেয়ের সহপাঠী ছিল শিশুটি। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে এবং বিদ্যালয় থেকে জামিনুরের বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করত শিশুটি। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে শিশুটি জামিনুরের বাড়িতে যায়। সেদিন জামিনুরের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বোনের বাড়িতে রান্না করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জামিনুর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।শিশুটির মামা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মানুষটি কীভাবে এত ছোট ও নিষ্পাপ একটি শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারলেন! পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না; তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
অনলাইন জুয়ার টাকা ব্যাংক-ক্রিপ্টোর মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতেন তারা
অনলাইন জুয়ার টাকা ব্যাংক-ক্রিপ্টোর মাধ্যমে বিদেশে পাচার করতেন তারা

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- বাবলু মিয়া (২৮), মো. মনির হোসেন (৩০), নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) ও শামীম আল মামুন (২৯)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি দল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। বিশেষ পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনদের সরবরাহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিআইডির নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। আরও পড়ুন অনলাইন জুয়ার ৭ সদস্য গ্রেফতার, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ৪৮৪ সিম জব্দ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে জুয়া পরিচালনা করা হচ্ছিল। তদন্তে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করে গত ১৭ মে পল্টন থানায় মামলা করে সিআইডি। ছুফি উল্লাহ আরও বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতেন। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন কেটে নেওয়ার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করা হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়ার সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত এজেন্ট সিম সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন সিআইডির পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ। এ মামলায় এর আগে আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ৭ জুন টাঙ্গাইল থেকে সোলায়মান, সাগর মিয়া ও জুয়েল রানা, ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে রায়হান খান, পাভেল রহমান ভূঁইয়া ও আবু জোবায়ের সানি, ১২ জুলাই নড়াইল থেকে মো. জসিম উদ্দীন ও সুমন রায় এবং ১৯ আগস্ট রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকা থেকে সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পীকে গ্রেফতার করা হয়। টিটি/একিউএফ

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর
কনসিলার, ব্লাশ আর নিউড লিপ: মাত্র ৩ প্রোডাক্টেই কীভাবে ন্যাচারাল গ্ল্যাম আনেন জাহ্নবী কাপুর

মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

আয়ান তাহরিম
জুন ২৮, ২০২৫
0
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

আয়ান তাহরিম
জুন ২৮, ২০২৫
0
বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে
বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা।   ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন।   শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।”   কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে।   বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।

জানিফ হাসান
জুন ২৮, ২০২৫
0

Follow us

Top week

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?
জাতীয়

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সাপের কামড়ের চিকিৎসায় নতুন অ্যান্টিভেনম, হতে পারে যুগান্তকারী
সাপের কামড়ের চিকিৎসায় নতুন অ্যান্টিভেনম, হতে পারে যুগান্তকারী

সাপের বিষে আক্রান্ত মানুষকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের হাতে এত দিন ছিল সীমিত কিছু উপায়। বিষধর সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। তাই একটি অ্যান্টিভেনম দিয়ে সব ধরনের বিষ মোকাবিলা করা কঠিন। এবার সে সমস্যার সমাধানে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন ভারত ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা। তারা এমন একটি অ্যান্টিভেনম তৈরি করেছেন, যা ভারতের বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। গবেষকদের ধারণা, এ চিকিৎসা পদ্ধতি সফল হলে বিশ্বজুড়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমানো সম্ভব হবে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন অ্যান্টিভেনমটি পাঁচ ধরনের ক্ষুদ্র অ্যান্টিবডি খণ্ড বা ন্যানোবডি দিয়ে তৈরি। পরীক্ষায় চশমা কোবরা, মনোকলড কোবরা ও ভারতের দুই প্রজাতির কিং কোবরার বিষ ঠেকাতে এটি খুবই কার্যকর হয়েছে। শুধু ভারতেই প্রতি বছর সাপের কামড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়। এ সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। কোনো বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে, আবার কোনোটি রক্ত বা শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই সব ধরনের বিষের বিরুদ্ধে একই অ্যান্টিভেনম তৈরি করা কঠিন। আরও পড়ুন অভিনয় করছে সাপ, চরিত্র পেতে দিতে হলো অডিশনও! হাসপাতালে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমেরও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তৈরি করা অ্যান্টিভেনমের কার্যকারিতায় পার্থক্য থাকতে পারে। এছাড়া এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। পাশাপাশি সব প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে এটি সমানভাবে কাজও করে না। প্রচলিত পদ্ধতিতে অ্যান্টিভেনম তৈরির জন্য ঘোড়ার মতো প্রাণীকে বারবার বিষপ্রয়োগ করা হয়। এতে প্রাণীর শরীরে বিষের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। পরে প্রাণীর রক্ত থেকে সেই অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিতে খরচ যেমন বেশি, তেমনি প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডিও তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। তবে, নতুন পদ্ধতিতে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন। গবেষকরা বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষ লামা ও আলপাকার মতো উটজাতীয় প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করেন। এরপর এসব প্রাণীর রক্তে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোন অ্যান্টিবডি বিষের ক্ষতিকর উপাদান নিষ্ক্রিয় করতে পারে। পরে, সেই অ্যান্টিবডিগুলো শনাক্ত করে পরীক্ষাগারে অণুজীবের মাধ্যমে তৈরি করার সম্ভাবনা দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আরও পড়ুন সাপের শরীরে কেমোথেরাপি, ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ইতিহাস এভাবে পাওয়া অ্যান্টিবডিগুলো থেকে গবেষকরা পাঁচটি ন্যানোবডি বেছে নেন। পরে এগুলো মিলিয়ে তৈরি করেন অ্যান্টিবডির একটি মিশ্রণ বা ককটেল। এ অ্যান্টিবডিগুলো কোবরার বিষের ক্ষতিকর উপাদানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিষকে শরীরের নির্দিষ্ট কোষ বা টিস্যুতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। পরীক্ষায় এ অ্যান্টিবডি ককটেল বিষের কার্যকারিতা ঠেকাতে সফল হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিষপ্রয়োগের ৩০ মিনিট পরও এটি ইঁদুরকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এমনকি বিষের কারণে যেসব ইঁদুর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল বা স্নায়ুতন্ত্রে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, তারাও পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো উপসর্গও দেখা যায়নি। আরও পড়ুন সাপ ধরার কৌশল প্রদর্শনীতে কর্মকর্তার মৃত্যু গবেষণার অন্যতম লেখক কার্তিক সুনাগর বলেন, অ্যান্টিভেনম চিকিৎসায় প্রায় ১০০ বছর ধরে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নতুন এ পদ্ধতি ভারতের সাপের কামড়ের সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ও গবেষণার আরেক লেখক আন্দ্রেয়াস লাউটসেন বলেন, এ গবেষণা নতুন ধরনের অ্যান্টিভেনম তৈরির একটি পথ দেখিয়েছে। স্থানীয় সাপের বিষে যেসব উপাদান মানুষের শরীরে বেশি ক্ষতি করে, সেগুলো লক্ষ্য করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা অ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন অ্যান্টিবডিতে আরও উপাদান যুক্ত করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষধর সাপের বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, মানুষের চিকিৎসায় এটি ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এমডিআরএইচ/

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
হামের লক্ষণ ও প্রতিকার কী 
হামের লক্ষণ ও প্রতিকার কী 

হামের প্রকোপ এখনো রয়ে গেছে। হামে আক্রান্ত শিশু নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন অভিভাবকেরা। যদিও আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই কমে আসবে এই প্রকোপ। কিন্তু পত্রিকার সংবাদ বলছে, এ বছর হামে শিশুমৃত্যু হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে আরও কিছুদিন।রোগের কারণহাম রোগের মূল কারণ হলো মিজলস ভাইরাস, যা প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।লক্ষণ কীহাম রোগের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ৮-১২ দিনের মধ্যে দেখা যায়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো—উচ্চ জ্বর, শুকনা কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা কনজাংইটিভাইটিস, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট), শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ঢেলে সাজাচ্ছি: উপাচার্যসংক্রমণের ধরনহাম খুব সহজেই ছড়ায়। আক্রান্ত শিশু কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসে থাকা ভাইরাস দুই ঘণ্টা সময় ধরে অন্য সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। আক্রান্ত শিশুর লক্ষণ শুরু হওয়ার চার দিন আগে থেকে এবং ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর্যন্ত সংক্রামক থাকে।চিকিৎসাযথাযথ বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ওষুধই এই রোগের মূল চিকিৎসা। পরপর দুই দিন দুটি উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ক্যাপসুল বয়স অনুযায়ী দেওয়া হয় এই রোগের তীব্রতা কমানোর জন্য। এর পাশে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয়। তবে যদি শিশু গুরুতর অসুস্থ, খাবারে অনীহা, ঘন ঘন বমি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি হলে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।প্রতিরোধসময়মতো হামের টিকা দুই ডোজ ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং ১৫ মাস বয়সে প্রদান করতে হবে। সব সময় হাত–মুখ ধুতে হবে, চোখে হাত দেওয়া যাবে না।হাঁচি, কাশি, শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অন্তত ৫ দিন আলাদা করে রাখতে হবে।শিশুর জ্বর ও ফুসকুড়ি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম, শিশু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
‘নোংরা’ থাকাই কি স্বাস্থ্যকর জীবনের নতুন সংজ্ঞা? গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য
‘নোংরা’ থাকাই কি স্বাস্থ্যকর জীবনের নতুন সংজ্ঞা? গবেষণায় মিলেছে চমকপ্রদ তথ্য

শহুরে জীবনে পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্ন বেড়েছে অনেক। কিন্তু তার সঙ্গে কমেছে প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। মাটি ছোঁয়া, ঘাসে বসা, কিংবা গাছের বাকলে হাত রাখা এসব সাধারণ কাজ এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে চলে গেছে। অথচ গবেষণা বলছে অন্য কথা।প্রকৃতির মাটি ও গাছপালার সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শ শরীরের উপকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে। এমনকি প্রভাব ফেলতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও।মাটিতে হাত দেওয়া কেন উপকারী হতে পারে?আমাদের ত্বক শুধু শরীরকে বাইরের জগৎ থেকে আলাদা করে রাখে না। এর ওপর বসবাস করে অসংখ্য অণুজীব। এদের সবাই কিন্তু ক্ষতিকর নয়। বরং নানা ধরনের উপকারী জীবাণু একসঙ্গে থাকলে তারা একে অপরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষতিকর জীবাণুর আধিপত্য তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যায়। ফিনল্যান্ডের প্রকৃতি-স্বাস্থ্য গবেষক মিরা গ্রোনরুস একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল প্রায় ২০ সেকেন্ড মাটি আর বাগানের গাছে হাত ঘষতে। পরে হাত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। তারপরও দেখা যায় বড় পরিবর্তন। তাদের হাতের ত্বকে জীবাণুর সংখ্যা আর বৈচিত্র্যে এসেছিল স্পষ্ট বদল। খালি চোখে হাত দেখতে পরিষ্কারই লাগছিল। কিন্তু ত্বকের অণুজীব-জগতে ততক্ষণে ঘটে গিয়েছিল বড় ধরনের পরিবর্তন।মাত্র ২০ সেকেন্ডেই বদল, তবে নিয়মিত সংস্পর্শই আসলমাত্র কয়েক সেকেন্ড প্রকৃতির সংস্পর্শেও ত্বকের জীবাণু-পরিবেশে বদল আসে। তবে এই প্রভাব স্থায়ী নয়। গবেষকদের মতে, কিছুদিন পর ত্বকের জীবাণুর অবস্থা আবার আগের মতো হয়ে যেতে পারে। তাই একবার মাটি ছোঁয়ার চেয়ে বেশি জরুরি হলো নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা। বাগান করা, গাছের যত্ন নেওয়া, ঘাসে বসা, কিংবা প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটানো। এসব দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্য দিয়েই তৈরি হতে পারে এই সংযোগ।শিশুদের মাটিতে খেলাধুলাতেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় উপকারফিনল্যান্ডের কয়েকটি ডে-কেয়ার সেন্টারে চলেছে আরেকটি গবেষণা। সেখানে দেখা হয়, প্রকৃতির কাছাকাছি পরিবেশে শিশুদের খেলতে দিলে কী হয়। কিছু জায়গায় পাথর বা মেঝের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠের গুঁড়ো, বালি, গাছপালা আর মাটির মতো প্রাকৃতিক উপাদান। গবেষণাটি চলে দুই বছর ধরে। সেখানে শিশুদের এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়মিত খেলতে দেওয়া হয়। এরপর পরীক্ষা করা হয় তাদের ত্বকের জীবাণু-পরিবেশ। ২৮ দিন পর আর এক বছর পরের ফলাফল তুলনা করে দেখা যায় একটা স্পষ্ট পার্থক্য। বনভূমির মতো প্রাকৃতিক মাটির সংস্পর্শে থাকা শিশুদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, নানা ধরনের অণুজীবের উপস্থিতিই ত্বকের জীবাণু-পরিবেশকে রাখে ভারসাম্যপূর্ণ।‘ভালো’ জীবাণু থাকলে ক্ষতিকর জীবাণুর জায়গা কমেত্বকে যখন নানা ধরনের অণুজীব একসঙ্গে বসবাস করে, তখন ক্ষতিকর বা রোগ তৈরিকারী জীবাণুর আধিপত্য গড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। গবেষক মারজা রোসলুন্ড বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, একটি বৈচিত্র্যময় পরিবেশে সব জীবাণুর জন্যই জায়গা থাকে। তাই কোনো একটি ক্ষতিকর গোষ্ঠীর একচেটিয়া দখল তৈরি করা সহজ হয় না। অর্থাৎ ত্বককে সবসময় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখাই আদর্শ নয়। বরং দরকার একটা স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য।ত্বকের বদলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাওপ্রকৃতির সংস্পর্শের উপকার শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের জীবাণু-বৈচিত্র্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু সূচকও। শিশুদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গার মাটিতে খেলার পর ত্বকের কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। সঙ্গে বদল এসেছে রক্তের কিছু ইমিউন মার্কার বা সাইটোকাইনের মাত্রাতেও। এই সাইটোকাইনগুলোই মূলত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।তবে এর মানে এই নয় যে মাটির সংস্পর্শ সরাসরি অ্যাজমা, একজিমা বা অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে। গবেষকেরা নিজেরাও বলছেন, এসব রোগে ঠিক কতটা প্রভাব পড়ে, তা নিশ্চিত করে জানতে আরও গবেষণা দরকার।বাগান করাও হতে পারে সহজ একটা উপায়প্রকৃতির সংস্পর্শে যেতে বড় কোনো বনভ্রমণের দরকার নেই। বাগান করাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ পথ। একটি গবেষণায় কিছু প্রাপ্তবয়স্ককে শীতকালে ঘরের ভেতর সবজি চাষ করতে বলা হয়েছিল। কেউ ব্যবহার করেছিলেন জীবাণু-সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় মাটি। কেউ আবার ব্যবহার করেছিলেন তুলনামূলক কম বৈচিত্র্যের মাটি। প্রায় এক মাস পর দেখা যায়, বৈচিত্র্যময় মাটি ব্যবহারকারীদের ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। পাশাপাশি রক্তে কিছু প্রদাহনাশক সাইটোকাইনের মাত্রাতেও এসেছে পরিবর্তন।অর্থাৎ প্রতিদিন গাছে পানি দেওয়া, মাটি খোঁড়া কিংবা নিজের হাতে সবজি ফলানোর মতো সাধারণ কাজও শরীরকে প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করতে পারে।অফিসেও কি প্রকৃতির ছোঁয়া কাজে দেয়?প্রকৃতির উপকার পেতে সবসময় বাইরে যাওয়ারও দরকার নেই। ফিনল্যান্ডের কিছু অফিসে জীবন্ত গাছ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এক ধরনের সবুজ দেয়াল। এরপর দেখা হয় কর্মীদের শরীরে এর প্রভাব। দুই সপ্তাহ পরই দেখা যায় স্পষ্ট বদল। কর্মীদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য বেড়েছিল। রক্তে কিছু প্রদাহ-বর্ধক সাইটোকাইনের মাত্রা কমেছিল। ত্বকে ল্যাকটোব্যাসিলাসের মতো উপকারী কিছু জীবাণুর উপস্থিতিও বেড়েছিল। গবেষণাটি আকারে ছোট হলেও একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেয়। দৈনন্দিন পরিবেশে সবুজ আর প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করাটাও হতে পারে উপকারী।শহুরে জীবনে প্রকৃতির সংস্পর্শ কেন জরুরি?গবেষকদের একটা বড় ধারণার নাম বায়োডাইভার্সিটি হাইপোথিসিস বা জীববৈচিত্র্য প্রকল্প। এই ধারণা অনুযায়ী, গাছপালা, মাটি আর বাতাসে থাকা নানা রকম অণুজীবের বৈচিত্র্যই প্রভাব ফেলে আমাদের শরীরের জীবাণু-পরিবেশের ওপর। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ-সংক্রান্ত কিছু সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। এই ধারণা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন বহুদিন ধরেই। তবে এই সম্পর্কের সঠিক কারণ ও প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।এ কারণেই গবেষকদের পরামর্শ একটাই। শহর এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যেখানে মানুষকে প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে আলাদা করে সময় বের করতে না হয়। স্কুলে যাওয়ার পথে, অফিসে যাওয়ার পথে, কিংবা পার্কে হাঁটার সময়ই যেন গাছপালা আর মাটির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়ে যায় আপনাআপনি।একটু মাটি, একটু ঘাসপ্রকৃতির কাছে ফিরতে বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই। পার্কে হাঁটতে গিয়ে গাছের বাকলে হাত রাখা, কিছুক্ষণ ঘাসে বসা, বারান্দার টবের গাছের যত্ন নেওয়া, কিংবা ছোট করে একটা বাগান করা, এভাবেই শুরু হতে পারে সবকিছু। তবে বাইরে থেকে ফিরে হাত পরিষ্কার করা এবং মাটি ব্যবহারের সময় সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। লক্ষ্য কিন্তু ‘নোংরা থাকা’ নয়। লক্ষ্য হলো প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সঙ্গে পরিমিত আর নিরাপদ একটা সম্পর্ক তৈরি করা।এই গবেষণাগুলো একটা মজার সত্যিই মনে করিয়ে দেয়। স্বাস্থ্যকর জীবনের সব সমাধান হয়তো স্ক্রিন, জিম বা দামি ওয়েলনেস পণ্যের মধ্যে নেই। কখনো কখনো একটু মাটি ছোঁয়া, গাছের পাশে বসা, কিংবা ঘাসে খালি হাতে স্পর্শ করাও হতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে শরীরের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে সহজ পথ।সূত্র: বিবিসিছবি: এআই ও পেকজেলসডটকম

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান
সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার।আজ রোববার রাজধানীর নভোথিয়েটারের প্লেনারি হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর ‘হেলথ ইনোভেশন ফর অল: এক্সপান্ডিং অ্যাকসেস টু অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ কেয়ার’ শীর্ষক প্লেনারি আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ মেলার আয়োজন করে।জুবাইদা রহমান বলেন, অনেক মানুষ তাদের শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে যাওয়ার পর বিশেষায়িত হাসপাতালে যান। বাড়ির কাছাকাছি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীদের এই সেবা নিতে দূরদূরান্তে যেতে হয়।আধুনিক উচ্চতর চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, তবে এটি কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। অনেক উন্নত দেশও এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আমরা প্রায়ই বলি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। এটি সত্য, তবে রোগ এবং এর ঝুঁকিগুলো মারাত্মক রূপ নেওয়ার আগেই তা নির্ণয় করা জরুরি।দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য তা সহজলভ্য করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে না। হামে আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মায়েদের বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। প্রতিটি স্ক্রিনিং কর্মসূচির সঙ্গে নিশ্চিত রোগনির্ণয়, পরামর্শ, চিকিৎসা, ওষুধ, পর্যবেক্ষণ এবং রেফারেলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।ডা. জুবাইদা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার এই দৃষ্টিভঙ্গি একটি সুস্পষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আয়, অবস্থান বা সামাজিক মর্যাদার ওপর নির্ভরশীল কোনো বিশেষ সুবিধা হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এটি সহজলভ্য হওয়া উচিত।জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, সংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং, রক্তের উপাদান পৃথক্‌করণ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং রক্তদাতা থেকে রোগী পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের একটি জাতীয়ভাবে সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।এসব উদ্যোগে উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। তবে উদ্ভাবন মানেই সব সময় ব্যয়বহুল কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করা বা নতুন কোনো অ্যাপ চালু করা নয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী  এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কে আজাদ খান।প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) মহাপরিচালক (ডিজি) আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বাপি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন, টিএমএসএসের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মতিউর রহমান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) পরিচালক ডা. মো. আকতার হোসেন, ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের মেডিকেল সার্ভিসেস পরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম খান এবং এসকেজেন লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সাদাফ সাজ সিদ্দিকী।

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
পিসিওএস কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা কী | পর্ব–০৩ | নুভিস্তা ফার্মা
পিসিওএস কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা কী | পর্ব–০৩ | নুভিস্তা ফার্মা

নুভিস্তা ফার্মার আয়োজনে ‘পিসিওএস (PCOS) সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা। সহযোগিতায় এলিসা ও লিয়ানা।এ পর্বের আলোচনায় বিষয়—পিসিওএস (PCOS) কী, কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে কী জানা জরুরি এবং পিসিওএস (PCOS) নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা।আলোচকপ্রফেসর শাহানারা চৌধুরীসাবেক প্রেসিডেন্ট, ওজিএসবি চট্টগ্রামভাইস প্রেসিডেন্ট, এফএসএসবিপ্রফেসর মলয় কান্তি চক্রবর্তীসাবেক অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধান (গাইনী), নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালীসাবেক সভাপতি, ওজিএসবি, নোয়াখালী শাখাসঞ্চালকডা. সালমা আক্তার শিমুসহযোগী অধ্যাপকচট্টগ্রাম মা-ও-শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুতুলের নিয়োগই দুঃখজনক, তিনি যোগ্য ছিলেন না
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় পুতুলের নিয়োগই দুঃখজনক, তিনি যোগ্য ছিলেন না

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ ‘দুঃখজনক’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ওই নিয়োগই দুঃখজনক ছিল। তার এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগ পাওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছিল না। তিনি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতির বিষয়গুলো সামনে আসবেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির দুর্গন্ধ থামানো কঠিন, এটি বের হয়ে আসবেই। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। আরও পড়ুন বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে চায় শেভরন সায়মা ওয়াজেদকে শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও কঠোর করা প্রয়োজন। কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থন করছে, যার ভালো যোগ্যতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে। কেএসআর/

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে কম সহনশীল ১০ শহরের তালিকায় বাংলাদেশের দুই শহর
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে কম সহনশীল ১০ শহরের তালিকায় বাংলাদেশের দুই শহর

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় একদম ওপরের দিকে থাকে বাংলাদেশ। বেশ কয়েক বছর ধরেই এমন চলছে। এবার নতুন এক প্রতিবেদনে বিশ্বের বড় শহরগুলো জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কতটা মানিয়ে নিতে পেরেছে, তার ভিত্তিতে একটি তালিকা করা হয়েছে।জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ঘটে বন্যা, দাবানলসহ নানা দুর্যোগ। এসব দুর্যোগে কোনো জায়গা কতটা ঝুঁকিতে আছে, সেটিই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, এই ঝুঁকি মোকাবিলা করে টিকে থাকার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা জলবায়ু দুর্যোগের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির একটি উদাহরণ।ভূস্থানভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করে আলফাজিও নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের ৭২টি বড় শহরের জলবায়ু-সহনশীলতার তালিকা তৈরি করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব শহরের মধ্যে অনেকের ‘ঝুঁকির মাত্রা এবং তা মোকাবিলার সক্ষমতার মধ্যে বিপজ্জনক ব্যবধান’ রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের কি বুদ্ধি কমে যাচ্ছেআলফাজিওর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পারাগ খান্না বলেছেন, ‘জলবায়ু–সহনশীলতা হলো ঝুঁকি বাদ দিয়ে অভিযোজনের সক্ষমতা।’ সবাই সহনশীলতার কথা বলে, কিন্তু কেউ তা পরিমাপ করে না।প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে কোনো শহর কতটা সহনশীল, তা নির্ধারণে দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। প্রথমত, জলবায়ুজনিত বিভিন্ন ঝুঁকির সরাসরি প্রভাব শহরটির ওপর কতটা পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ বন্যা, উপকূলীয় বন্যা, অতিরিক্ত গরম, খরা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস। দ্বিতীয়ত, এসব ঝুঁকির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শহরটি কতটা প্রস্তুত।শহরগুলোর এই প্রস্তুতি বা অভিযোজন সক্ষমতা যাচাই করতে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, নীতিগত পদক্ষেপ এবং বন্যা প্রতিরোধী বাঁধ ও পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নিষ্কাশনব্যবস্থার মতো অবকাঠামো বিবেচনা করা হয়েছে।হিমালয়ের হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ঢলে কোনো কোনো ভবন ধসে গেছে, কোনোটির ছাদ পর্যন্ত কর্দমাক্তএ ধরনের ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনেকটা কমিয়ে দিতে পারে। যেমন অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডার চাপে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু শক্তিশালী বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি বা বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।জলবায়ু-সহনশীল শহরের তালিকায় প্রথম হয়েছে শিকাগো। শহরটি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে মিঠা পানির পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিও কম। শহরটি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে আছে বিশাল ‘ডিপ টানেল প্রজেক্ট’। বন্যা ও পানিদূষণ কমানোর লক্ষ্যেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে সবচেয়ে কম সহনশীল শহরগুলোর অনেকগুলোই দক্ষিণ এশিয়ায়। এসব শহরে বন্যা ও মৌসুমি বৃষ্টির ঝুঁকি অনেক বেশি। তবে সে তুলনায় এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি কম। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা শহর ভারতের আহমেদাবাদ। শহরটি নদীর তীরে অবস্থিত। এরপর ভারতের হায়দরাবাদ। তৃতীয় স্থানে আছে পাকিস্তানের মুলতান শহর। চতুর্থ স্থান ঢাকা। চট্টগ্রাম আছে তালিকায় নয় নম্বরে।মহাবিপর্যয় এলে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হবে কোনটিজলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে সহনশীল ১০ শহর জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সবচেয়ে কম সহনশীল ১০ শহর সূত্র: আলফাজিও, নিউইয়র্ক টাইমস

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
বারির দুই জাতের কফি নিয়ে পাহাড়ে নতুন স্বপ্ন
বারির দুই জাতের কফি নিয়ে পাহাড়ে নতুন স্বপ্ন

দেশের আমদানিনির্ভর কফির বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। প্রায় আড়াই দশকের গবেষণায় খাগড়াছড়িতে কফির দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাহাড়ের অনাবাদি ও পতিত জমির পাশাপাশি ফলবাগান কিংবা বনজ গাছের ছায়াতেও আবাদ করা যাবে এসব কফি। ফলে অনুৎপাদনশীল জমিকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে কফি চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুধু নতুন জাত উদ্ভাবনেই থেমে নেই গবেষণা। কৃষকের মাঠে চারা পৌঁছানো, পাহাড়ি পরিবেশে উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই এবং কফিকে ঘিরে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার তৈরির সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। ২০২১ সাল থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ চারা বিতরণ করেছে গবেষণা কেন্দ্র। তবে পাহাড়ি কফিকে বাণিজ্যিক ফসলে রূপ দিতে উৎপাদনের পাশাপাশি মানসম্মত প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারব্যবস্থা ও মূল্য সংযোজনের অবকাঠামো গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বারি সূত্রে জানা গেছে, কফির পাশাপাশি কাজুবাদাম নিয়েও গবেষণা ও জাত উদ্ভাবনের কাজ এগিয়ে চলছে। এ লক্ষ্যে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা অবকাঠামোর বিভিন্ন কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (বারি অংগ)’ প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়ন কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করা হয়। ‘দেশে কফির চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে’ শুধু কফি উৎপাদন নয়, পাহাড়ে এই ফসলকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে নতুন কৃষি অর্থনীতি। বিদ্যমান ফলদ ও বনজ গাছের সঙ্গে companion crop হিসেবে কফি চাষ করা সম্ভব হওয়ায় নতুন করে পুরো জমি পরিষ্কার করারও প্রয়োজন নেই। একই জমি থেকে একাধিক ফসলের আয় পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি চারা উৎপাদন, বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনেও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। আরও পড়ুন কাজুবাদাম-কফিতে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষি জানা গেছে, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে কফি নিয়ে গবেষণার সূচনা হয় ২০০১ সালে। এরপর বিভিন্ন উৎস থেকে কফির জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, বাছাই, অগ্রবর্তী লাইন তৈরি, ফলন ও গুণগত মান যাচাই এবং পাহাড়ি পরিবেশে অভিযোজন পরীক্ষা চালানো হয়। দীর্ঘ গবেষণার ধারাবাহিকতায় পাহাড়ি পরিবেশে রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা—দুই ধরনের কফির উপযোগী জাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। গবেষণা-সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বারি কফি-১ (রোবাস্টা) এবং ২০২৫ সালে বারি কফি-২ (অ্যারাবিকা) অবমুক্ত করা হয়। ২০২১ সাল থেকেই বারি কফি-১ নিয়ে গবেষণার অগ্রগতির খবর প্রকাশিত হয়ে আসছিল। পরবর্তী সময়ে গবেষণার ফল হিসেবে দুটি জাত অবমুক্ত করা হয়। গবেষণা নথি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি কফির চারা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এসব চারা মাঠপর্যায়ে রোপণের পর কৃষক পর্যায়েও কফি উৎপাদনের বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়েছে। গবেষণা নথির হিসাবে, প্রতিদিন ৫০ কাপ কফি ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হলে দৈনিক বিক্রি দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ কফিকে শুধু কৃষিপণ্য হিসেবে না দেখে উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও স্থানীয় বিক্রয়ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। আরও পড়ুন কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা / সীতাকুণ্ডে ‘রোভাস্টা জাতের’ কফি চাষে বাজিমাত ২০২৫ সালের একটি মাঠভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পূর্ণবয়স্ক একটি কফি গাছ থেকে বছরে প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি কফি বীজ পাওয়া যেতে পারে। একই প্রতিবেদনে উৎপাদিত কফি বীজের দাম প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কফির জাত, গুণগত মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর দামের তারতম্য হতে পারে। ফলে এ হিসাবকে নির্দিষ্ট বাজারদর না ধরে সম্ভাব্য কৃষি-অর্থনৈতিক হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষের আরেকটি সুবিধা হলো এটি বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের সঙ্গে সমন্বিতভাবে চাষ করা যায়। ফলে নতুন করে পুরো জমি পরিষ্কার করে শুধু কফির বাগান তৈরি না করেও বিদ্যমান বাগান ব্যবস্থার সঙ্গে কফিকে যুক্ত করা সম্ভব। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসলের আয় পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখেও কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তবে পাহাড়ে কফির সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু চারা রোপণ ও উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। কাঙ্ক্ষিত ফলনের জন্য পাহাড়ের মাটি, উচ্চতা ও আবহাওয়া বিবেচনায় উপযুক্ত জাত ও ক্লোন নির্বাচন, ছায়াব্যবস্থা, সার প্রয়োগ, পানি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো ফল সংগ্রহ জরুরি। এর সঙ্গে সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ে কফির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে কাঁচা কফি উৎপাদনের পাশাপাশি ‘চারা থেকে কাপ’ পর্যন্ত পূর্ণ মূল্যশৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হবে। পাহাড়েই কফি শুকানো, বীজ আলাদা করা, রোস্টিং, গ্রাইন্ডিং ও প্যাকেটজাত করার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ গড়ে উঠলে কৃষক কাঁচা কফির ফল বিক্রির পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত পণ্যে বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারবেন। আরও পড়ুন রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদামে আশাবাদী চাষিরা এতে কফি চাষের সঙ্গে চারা উৎপাদন, বাগান পরিচর্যা, ফল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ পাহাড়ে কফি চাষ শুধু একটি নতুন অর্থকরী ফসলের সম্ভাবনাই নয়, স্থানীয় পর্যায়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষিভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল তৈরির সুযোগও তৈরি করছে। পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিতে সাবেক প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলমগীর হোসেন এবং প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুস সাত্তার উল্লেখ করেন, পাহাড়ি এলাকার অনাবাদি ও পতিত জমিকে উপযুক্ত অর্থকরী ফসলের আওতায় আনা গেলে কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ের কৃষি অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। কফি উৎপাদনের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে স্থানীয় পর্যায়েই মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে। আরও পড়ুন খেজুরের বীজ থেকে শাহিনের অভিনব ‘কফি’ উদ্ভাবন বর্তমানে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, দেশে কফির চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, রপ্তানির জন্য শুধু কফি উৎপাদন যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মানের কফি বীজ, ধারাবাহিক গুণগত মান, সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং নির্ভরযোগ্য বাজারসংযোগ প্রয়োজন। এসসিএন/কেএইচকে/এএসএম

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
ছুটি রিসোর্টের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬, বৃক্ষ রোপন করলেন বিদ‍্যা সিনহা মিম
ছুটি রিসোর্টের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬, বৃক্ষ রোপন করলেন বিদ‍্যা সিনহা মিম।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:  তারিখ: ১৮ মে ২০২৬  বাংলাদেশের স্বনামধন্য বৃহৎ রিসোর্ট ব্র্যান্ড ছুটি রিসোর্ট ২০২৬ সালের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন করে সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ছুটি রিসোর্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বিদ্যা সিনহা মিম, যিনি নিজ হাতে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। ২০১২ সাল থেকে ছুটি রিসোর্ট নিরলসভাবে দেশি-বিদেশি ফলজ, বনজ ও বিরল প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে একটি সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলতি বছরও ছুটি রিসোর্ট নতুন উদ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করেছে।   আগামী এক মাসের মধ্যে ছুটি রিসোর্টের চারটি রিসোর্ট এবং নির্মাণাধীন নতুন প্রকল্পসমূহে প্রায় ৪,০০০ (চার হাজার) গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছুটি গ্রুপের চেয়ারম্যান এ‍্যডভোকেট মোস্তফা মাহমুদ আরিফি, ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল, ছুটি রিসোর্ট পূর্বাচলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলমগীর ফেরদৌস, ছুটি রিসোর্ট পুবাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ সামসুল ইসলাম মাসুদসহ রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং আগত অতিথিরা। সকলের অংশগ্রহণে এই সবুজ উদ্যোগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।       একটি সবুজ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে ছুটি রিসোর্ট সকলকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানায়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ শেষে মিম বলেন, “আসুন আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করি। এর মাধ্যমে দেশকে সবুজায়িত করি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি।” তিনি এই মহতী উদ্যোগের জন্য ছুটি রিসোর্টকে ধন্যবাদ জানান। ছুটি রিসোর্ট লি:  concern of Chuti group:  www.chutigroup.com

News
মে ১৮, ২০২৬
0
শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’-এর প্রভাবে সারাদেশে শুরু হয়েছে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে আজ (রোববার) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধাতেই বজ্রপাতে মারা গেছেন পাঁচজন। আহত হয়েছেন আরও এক ব্যক্
বজ্রপাতে গাইবান্ধায় ৫ জনসহ পাঁচ জেলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু

শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’-এর প্রভাবে সারাদেশে শুরু হয়েছে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে আজ (রোববার) দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধাতেই বজ্রপাতে মারা গেছেন পাঁচজন। আহত হয়েছেন আরও এক ব্যক্তি। এছাড়া বজ্রপাতে একটি গরুও মারা গেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এবং সাঘাটা উপজেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চারজন হলেন- ওই এলাকার জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫), নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০) এবং সাঘাটা উপজেলার নম্বর আলী (৬৫)। এ ঘটনায় আহত শামীম (১৮) ধোপাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় ওই দুই তরুণ ও শিশু বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মারা যান নম্বর আলী। এছাড়া বজ্রপাতে নাটোরের সিংড়ায় একজন, জামালপুরের মেলন্দাহে দুজন, সিরাজগঞ্জে দুজন, বগুড়ার গাবতলীতে একজন এবং সকালের দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে একজন নিহত হয়েছেন।   এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আজ রাতের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১১ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

News
এপ্রিল ২৭, ২০২৬
0
Irregular rainfall disrupts farming
বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণে চাষাবাদে ব্যাঘাত, কৃষকদের আয় কমছে দিনদিন

বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রকৃতি ও নির্ধারিত ঋতুচক্র। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি যেমন চাষাবাদের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এর অনিয়মিততা কৃষকের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে বৃষ্টির আচরণে যে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে, তাতে কৃষিজ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে ব্যাপকভাবে। আগে যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ে চাষাবাদ করা যেত নির্দ্বিধায়, এখন সেখানে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে দোটানার মধ্যে। কখন বৃষ্টি হবে, কতটা হবে, কবে হবে—এই অনিশ্চয়তা কৃষকের পরিকল্পনা ভেস্তে দিচ্ছে বারবার।   জুন-জুলাই মাসেই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন অনেক বছরেই দেখা যায়, বৃষ্টি শুরু হচ্ছে দেরিতে অথবা হচ্ছে অতিরিক্ত অল্প সময়ে। এতে করে রোপা আমনের মতো ফসল সময়মতো রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার কখনো বৃষ্টি হচ্ছে হঠাৎ করে অতিরিক্ত, যা বীজতলা ধ্বংস করে দিচ্ছে বা সদ্য রোপণ করা চারা নষ্ট করে দিচ্ছে। আবার কখনো দীর্ঘদিন খরা বিরাজ করায় জমিতে ফাটল ধরছে, শুকিয়ে যাচ্ছে ফসল। এর ফলে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ যেমন কমছে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।   অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে চাষাবাদের চক্রে পরিবর্তন আসছে। অনেক কৃষকই নির্ধারিত সময়ে জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। কোনো কোনো অঞ্চলে আবার বৃষ্টি এসে প্রস্তুত জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, যা চাষাবাদের উপযোগিতা নষ্ট করছে। আবার অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, ধান কাটা-মাড়াইয়ের সময়েই হঠাৎ বৃষ্টি নেমে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এতে করে কৃষকদের শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সাথে বাড়ছে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা।   এক সময়ের নির্ভরযোগ্য কৃষি মৌসুমগুলো এখন অনেকটাই অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাও অনেক সময় যথাযথ তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, ফলে কৃষকরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এমন অবস্থায় অনেক কৃষকই বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিচ্ছেন অথবা অন্য পেশায় ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষিখাতের জন্য বড় হুমকি। এতে করে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।   বৃষ্টির অনিয়মিত আচরণ শুধু ধান বা গম নয়, শাকসবজি, তিল, আখ কিংবা মসুরের মতো ফসলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাষের পর সঠিক সময়ে পানি না পাওয়ায় ফসল স্বাভাবিক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আবার বেশি পানি পেয়ে অনেক ক্ষেতেই গাছ পচে যাচ্ছে বা ফলন হচ্ছে অপূর্ণাঙ্গ। এতে কৃষকদের আয় দিনদিন কমছে, আর ঋণগ্রস্ততার হার বাড়ছে।   এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জলবায়ু সহনশীল কৃষি পরিকল্পনা এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। টেকসই চাষাবাদ পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা, এবং আবহাওয়া তথ্য সেবা সহজলভ্য করতে হবে। একইসাথে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভর না করে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের দিকে এগিয়ে যেতে না পারলে এই অনিয়মিত বৃষ্টির চক্র আগামীতে আরও বড় সমস্যা তৈরি করবে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।

Mahidujjaman Tamim
জুন ২৮, ২০২৫
0
সবুজ প্রযুক্তিতে বিপ্লব: স্মার্ট কৃষি যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গ্রামের চাষাবাদ
সবুজ প্রযুক্তিতে বিপ্লব: স্মার্ট কৃষি যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে গ্রামের চাষাবাদ

বাংলাদেশের কৃষি খাত আজ পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এক সময় যে চাষাবাদ ছিল কেবল কৃষকের অভিজ্ঞতা ও প্রাকৃতিক নির্ভরশীলতার উপর, সেখানে এখন যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি যন্ত্রের প্রসারে দেশের গ্রামীণ চাষাবাদে এক বিপ্লব ঘটছে। পরিবর্তন আসছে কৃষকের চাষের ধরণ, উৎপাদনের পরিমাণ এবং খরচের পরিমিত ব্যবস্থাপনায়।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত মানের পাওয়ার টিলার, স্মার্ট স্প্রেয়ার, স্বয়ংক্রিয় পানি সেচ যন্ত্র, ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক ছিটানো, স্যাটেলাইট নির্ভর আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের স্মার্ট কৃষি যন্ত্র এখন অনেক গ্রামের মাঠে মাঠে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকের শ্রম ও সময় দুই-ই বাঁচছে, উৎপাদনও হচ্ছে আরও পরিকল্পিতভাবে।   স্মার্ট যন্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি উপকার পাচ্ছেন তরুণ কৃষকরা, যারা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী এবং স্মার্টফোন বা অ্যাপ ব্যবহার করে চাষাবাদে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মাটি পরীক্ষার জন্য পোর্টেবল যন্ত্র, মোবাইল অ্যাপ থেকে আবহাওয়ার আপডেট, এমনকি কৃষি পরামর্শও মিলছে এখন হাতের মুঠোয়। ফলে ফসল উৎপাদনের আগে থেকেই তারা জানেন কোন ফসল কবে লাগাতে হবে, কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, আর কখন ফসল ঘরে তুললে সর্বোচ্চ লাভ মিলবে।   সবুজ প্রযুক্তির আরও একটি বড় দিক হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। প্রচলিত পদ্ধতিতে অধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির ক্ষতি হতো, কিন্তু এখন অনেকেই জৈব সার ও বায়োকন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নিরাপদ হচ্ছে, অন্যদিকে মাটির উর্বরতাও বজায় থাকছে দীর্ঘমেয়াদে। এ ছাড়া সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিও অনেক অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা খরার সময়েও কৃষকদের সহায়তা করছে।   তবে এই পরিবর্তনের পথ এখনো সহজ নয়। অনেক কৃষক এখনো প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলেও তাদের দক্ষতা বা আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে এগিয়ে যেতে পারছেন না। স্মার্ট যন্ত্রের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজন সমবায় ভিত্তিক ব্যবহার, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।   এই বিপ্লব সফল করতে হলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে কৃষি প্রযুক্তি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা, কৃষকদের জন্য সহজলভ্য প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিলে কৃষি আরও লাভজনক ও টেকসই হবে। স্মার্ট কৃষি শুধু কৃষকের জীবনে পরিবর্তন আনবে না, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ প্রযুক্তির এই বিপ্লবই হতে পারে আগামী দিনের নিরাপদ ও আধুনিক কৃষির ভিত্তি।

Mahidujjaman Tamim
জুন ২৮, ২০২৫
0
এসবিএসি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৫৫ বছরেও আবেদনের সুযোগ
এসবিএসি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৫৫ বছরেও আবেদনের সুযোগ

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি) ‘অফিসিয়াল ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই এমবিএ অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসির (এসবিএসি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি) পদের নাম অফিসিয়াল ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ অথবা স্নাতকোত্তর অভিজ্ঞতা ১০ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ৫৫ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এসবিএসি)। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
ডেকো ফুডসে নিয়োগ, ২২ বছর বয়স হলেই আবেদন
ডেকো ফুডসে নিয়োগ, ২২ বছর বয়স হলেই আবেদন

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ডেকো ফুডস লিমিটেড ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিবিএ/বিএসসি অথবা স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ডেকো ফুডস লিমিটেডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ডেকো ফুডস লিমিটেড বিভাগের নাম এমআইএস পদের নাম এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা নির্ধারিত নয় চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবিএ/বিএসসি অথবা স্নাতক অভিজ্ঞতা ১-২ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ২২-৩০ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ডেকো ফুডস লিমিটেড। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চুক্তিতে নিয়োগ, পদ ৫০০০
ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে চুক্তিতে নিয়োগ, পদ ৫০০০

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ই-জোন এইচআরএম লিমিটেড। আউটসোর্সিং চুক্তিতে মোট ৫০০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। চাকরির বিবরণ পদের নাম: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদসংখ্যা: ৫০০০ শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি/ সমমান ডিগ্রি থাকলে আবেদন করা যাবে।২ লাখ টাকার আইটি স্কলারশিপ, ডিগ্রি যা-ই হোক আবেদনের আছে সুযোগবেতন-ভাতা২৫,০০০-৪০,০০০ টাকা (শর্ত প্রযোজ্য)।নিয়োগের ধরনচুক্তিভিত্তিক (১৮ মাস)।কর্মস্থল৫৩ জেলায় ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে।আবেদনের নিয়মform.ezjobsbd.com লিংকে প্রবেশ করে রেজিস্ট্রেশন করে আবেদন করতে হবে।আবেদনের শেষ তারিখ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানায়।

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
বদলির জন্য ১৩৬৭৭ শিক্ষকের আবেদন, এ সপ্তাহেই শুরু
বদলির জন্য ১৩৬৭৭ শিক্ষকের আবেদন, এ সপ্তাহেই শুরু

  বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে অনলাইন আবেদনের সময় শেষ হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় এ আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়। এতে ১৩ হাজার ৬৭৭ জন শিক্ষক বদলির আবেদন করেছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্র এ তথ্য জানায়। মাউশি কর্মকর্তারা জানান, শিগগির বদলির আবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এদিকে, শিক্ষকদের বদলি আবেদন শেষ হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি সপ্তাহেই শিক্ষকদের বদলি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাউশির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আজ দেশে ফিরছেন। মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থা করা হবে। চলতি সপ্তাহ থেকে শিক্ষকদের এ বদলি শুরু হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন। তিনি উদ্বোধন না করলে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে পারেন। এএএইচ/এসএনআর

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
আরএফএল গ্রুপে নিয়োগ, ৪৫ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগ
আরএফএল গ্রুপে নিয়োগ, ৪৫ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগ

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপ ‘সিনিয়র ম্যানেজার/ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে আরএফএল গ্রুপের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম আরএফএল গ্রুপ বিভাগের নাম প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট পদের নাম সিনিয়র ম্যানেজার/ম্যানেজার পদসংখ্যা ২ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর অভিজ্ঞতা ৬ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ৩০-৪৫ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা ও হবিগঞ্জ জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন আরএফএল গ্রুপ। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
ফ্রেশারদের মধ্যে আমরা কী খুঁজি
ফ্রেশারদের মধ্যে আমরা কী খুঁজি

বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষে ব্যাংক, টেলিকম ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের মতো করপোরেট–দুনিয়ায় পা রাখার স্বপ্ন অনেক তরুণেরই থাকে। কিন্তু এই দুনিয়া নিয়ে তাঁদের মনে থাকে নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা। তরুণদের যাত্রাপথ সহজ করতেই লিখেছেন গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন।অনেকের ধারণা, সিজিপিএ বা ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ই করপোরেট ক্যারিয়ারের একমাত্র টিকিট। বাস্তব অভিজ্ঞতা কিন্তু ভিন্ন। নিয়োগের প্রক্রিয়ার শুরুতে হয়তো হাজার হাজার আবেদনের মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই করার জন্য আমরা একাডেমিক স্কোর বা সিজিপিএ দেখি, কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে ডাক পাওয়ার পর আসল মূল্যায়ন শুরু হয় শিক্ষার্থীর চিন্তাধারা ও মানসিক দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে।নতুন বিষয় শেখার আগ্রহ প্রযুক্তি ও করপোরেট–জগৎ এখন প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে। আগে যেখানে শুধু ফোনে কথা বলা বা প্রচলিত সেবাই ছিল প্রধান, সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, ওটিটি ও ডিজিটালাইজেশন পুরো ব্যবসার ধরন বদলে দিয়েছে। তাই কোনো প্রার্থী একাডেমিক দিক থেকে কতটা জানেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—নতুন বিষয় শিখতে তিনি কতটা আগ্রহী। একজন ফ্রেশারের মধ্যে যদি গ্রোথ মাইন্ডসেট বা আত্মোন্নয়নের তীব্র তাগিদ থাকে, তবে তিনি যেকোনো জটিল প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও আগ্রহ ইন্টারভিউ বোর্ডে আসার আগেই প্রার্থীকে ঠিক করতে হবে—যে সংস্থায় কাজ করতে যাচ্ছেন, সেই সংস্থা ও শিল্পের চলমান পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি কতটুকু জানেন। ধরা যাক, আপনি টেলিকম খাতে কাজ করতে চান। এই ক্ষেত্রে কী কী রূপান্তর ঘটছে, মূল প্রোডাক্ট বা লক্ষ্য কী—এসব বিষয়ে প্রার্থীর পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। আমরা সব সময় দেখি যে প্রার্থী কি শুধু একটা চাকরির জন্য এসেছেন, নাকি প্রতিষ্ঠানের কাজের সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি মেলাতে পেরেছেন।অভিজ্ঞতা ও সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড আমরা প্রার্থীর পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগৎ দেখার চেষ্টা করি। তিনি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাব বা প্রজেক্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন? কোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? কিংবা কোনো সামাজিক উদ্যোগে ভূমিকা রেখেছেন? এসব কার্যক্রম প্রার্থীর উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা, টিমওয়ার্ক ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রকাশ করে। একাডেমিক ফলাফলের বাইরে এই অভিজ্ঞতা অনেক সময় প্রার্থীর যোগ্যতা প্রমাণের বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠে।নিজের গল্প বলার সাহস জোগায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংগঠনপরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো কর্মক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আসবেই। কোনো কাজের ফলাফল হয়তো প্রত্যাশামতো হবে না কিংবা কাজের ধরন হঠাৎ বদলে যেতে পারে। সেই মুহূর্তে একজন ফ্রেশার কত দ্রুত নিজের ভুল থেকে শিখে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন, তা অত্যন্ত জরুরি। পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের ভেতরে পরিবর্তন আনার মানসিকতা থাকা চাই।বর্তমান চাকরির বাজারে প্রথাগত বা ডিগ্রিভিত্তিক ধারণা অনেকটাই শিথিল হয়ে এসেছে। এখন প্রতিষ্ঠানগুলো ডিগ্রি বা সাবজেক্টের চেয়ে প্রার্থীর শেখার ইচ্ছা, ইতিবাচক মানসিকতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। নিজের যোগ্যতা ও চিন্তাভাবনাকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারলে যেকোনো ফ্রেশারের জন্যই করপোরেট সাফল্যের পথ উন্মুক্ত।গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেন

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
যাত্রাবাড়ীতে চার ছিনতাইকারী গ্রেফতার
যাত্রাবাড়ীতে চার ছিনতাইকারী গ্রেফতার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চার ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. রনি (২৯), মো. হৃদয় গাজী (২৬), রহিম হাসান ওরফে ইয়াহিয়া (২৫) ও মোহাম্মদ ফয়সাল (২৬)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। আরও পড়ুন মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেআর/বিএ

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার ৮ জন রিমান্ডে
নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার ৮ জন রিমান্ডে

রাজধানীর উত্তরখানে একটি অটো গ্যারেজে গোপনে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার আটজনকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের সদস্য সন্দেহে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততা যাচাই এবং নাশকতার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন নাশকতার পরিকল্পনা: আওয়ামী লীগের আরও ২২ জন ৩ দিনের রিমান্ডে রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- মো. মাজহারুল ইসলাম ওরফে রায়হান (৩২), মো. রাকিব (২৩), মো. তানভীর খান (২৬), মো. আবদুর রহমান (৪০), মো. সিফাত (২০), মো. মাহফুজুর রহমান (২৪), মো. আশিক মিয়া (২৩) ও মো. বকুল আহমেদ ওরফে রাজু (২৪)। যেসব কারণে রিমান্ড মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরখান থানার উপপরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে উসকানিদাতা বা পৃষ্ঠপোষকদের নাম-ঠিকানা বের করার জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তবে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার দিপু রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরও পড়ুন গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ২৫ জন রিমান্ডে মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার রাতে উত্তরখানের পুরানপাড়ার একটি অটো গ্যারেজে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কয়েকজন সদস্য একত্রিত হন। সেখানে তারা সরকার ও সাধারণ মানুষের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ওই অটো গ্যারেজে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে সেখানে থাকা আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তরখান থানার এসআই মো. জাহিদ হোসেন বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এমডিএএ/ইএ

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
ঢাকায় এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা
ঢাকায় এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। রোববার বিকেলে বাংলামোটরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সভায় ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা নিরসন, ‘জুলাই শহীদদের’ পরিবারের পাশে থাকা এবং ‘নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের’ তৎপরতা প্রতিরোধের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ১১ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত এক ছাত্র
সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ১১ তলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত এক ছাত্র

রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম অমিত ঘোষ (১৬)। সে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার উচ্চমাধ্যমিকের (দ্বাদশ শ্রেণি) শিক্ষার্থী। বর্তমানে সে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্কুলটির শিক্ষকরা। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, রোববার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় সে। উপুড় হয়ে পড়ায় তার নাক-মুখ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে সেখান থেকে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের মালিবাগ ক্যাম্পাসের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা মাধ্যমের দিবা শাখার অভিভাবকদের গ্রুপে গণিতের শিক্ষক গোপাল দেবনাথ লিখেছেন, ‘আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী anime নামক মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে আজ ৬ নম্বর ভবনের ১১তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। সে সুইসাইড নোট রেখে গেছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’ বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষক গোপাল দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে লাফ দিয়েছে, এটুকুই শুনেছি। কিন্তু সে লাফ দিয়েছে, নাকি পড়ে গেছে তা জানি না। আর তার ব্যাগে নাকি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সবই শুনেছি। আমি কিছু দেখিনি।’ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক শাকিলা আক্তার দীপা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের একটি ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের একটা ছেলে নিজে নিজেই লাফ দিয়েছে। সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে ওর ব্যাগে। সঙ্গে সঙ্গে ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন ওর কী অবস্থা তা বলতে পারছি না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সামনেই ঘটনাটা ঘটেছে। এখনো আমার হাত-পা কাঁপছে। স্থির হতে পারছি না। একদম মুখ-চোখ থেতলে গেছে। ছেলেটা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠুক সেই দোয়া করি।’ এদিকে, সুইসাইড নোটে অমিত ঘোষ কী লিখে গেছে, তা জানা যায়নি। তবে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক জানিয়েছেন, ছেলেটা পড়ালেখার চাপের কথা সুইসাইড নোটে লিখে গেছে। তবে কেউ কেউ বলছে, সুইসাইড নোট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। স্কুলের দুজন শিক্ষক বলেন, ৬ নম্বর ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ১১ তলার ছাদ খোলা। সেখানে এখনো কাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়া নিষেধ। তারপরও কেন অমিত ঘোষ সেখানে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম, উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনকল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, গুরুতর আহত অমিত ঘোষের পরিবারের একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, সকালে আহত শিক্ষার্থী অমিত ঘোষকে ঢামেকে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢামেক থেকে তার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।  এএএইচ/এমকেআর

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
ওসমানীনগরে ত্রাসের রাজত্ব ইউএনও মুনমুনের.
ওসমানীনগরে ত্রাসের রাজত্ব ইউএনও মুনমুনের.

  সিলেটের ওসমানীনগরে রীতিমতো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা। তার একের পর এক বিতর্কিত ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। ‘আপা’ সম্বোধন করায় জরিমানা করাসহ ক্ষমতার অপব্যবহার, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ওসমানীনগরে যোগদানের পর থেকেই ৩৬তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। বছরজুড়ে আলোচিত ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ‘আপা’ সম্বোধন করায় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বনফুল অ্যান্ড কোংয়ের ওসমানীনগর শাখার এক কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আলোচনায় আসেন ইউএনও মুনমুন। এ ঘটনার পর তার কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। ভুক্তভোগী কর্মচারী আব্দুল মান্নানের দাবি, ইউএনও মুনমুনকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ভয় দেখিয়ে ওই জরিমানায় স্বাক্ষর করানো হয়। এ ঘটনা নিয়ে গত বুধবার আমার দেশ অনলাইনে ‘ইউএনওকে আপা সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর থেকে ঘটনাটি আড়াল করতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে শুরু করেন ইউএনও মুনমুন। গত বৃহস্পতিবার সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম চলাকালে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউএনও মুনমুন। নিজের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে তিনি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করেন। সংবাদ সম্মেলনে বনফুলের কর্মচারীকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের করা গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি। অভিযানে নিজের ছয় বছরের শিশু কন্যাকে সঙ্গে নেওয়ার বৈধতা, বনফুলের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে কর্মচারীর স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি ইউএনও মুনমুন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পকের অধীন উপজেলার ৫৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২০ কেন্দ্রে ছয়টি করে ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশন ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় । কিন্তু ওই টাকা বণ্টন না করে আত্মসাৎ করেন ইউএনও মুনমুন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক শতাংশ বরাদ্দ খাত থেকে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফান্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অথচ প্রকৃত সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী ব্যয় হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ গোপন রেখে ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল উত্তোলন করা হয়। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দ্রুত বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল স্থানে ক্যামেরা স্থাপন শুরু করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি তাজপুর বাজারে একটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউএনওর স্বামীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ’-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগও ওঠে। সিসিটিভি প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ফলে উচ্চ আদালতে চলমান রিট মামলা থাকা অবস্থায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ওসমানীনগর থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে বেআইনি এবং বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী দাবি করে কবির আহমদ গত ১২ মে পুনরায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ইউএনও মুনমুনের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে, তিনি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে পরিষদের রাজস্ব খাতে একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সরকারি গাড়ি মেরামতের নামে ৯৬ হাজার টাকা, উপজেলা পরিষদ ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা ক্রয় ও মেরামতের নামে ৭৩ হাজার টাকা, বাংলোর পানির পাম্প মেরামত ও স্থাপনে ৭২ হাজার টাকা এবং ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্লান্ট সংযোজন বাবদ এক লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব প্রকল্পে আংশিক কাজ বা কোনো কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে, গত ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত ‘আয়ান এন্ড ইয়াকুব বিরিয়ানি হাউজে’ সরকারি চাল মজুত রয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিপন রায় প্রাথমিকভাবে চালগুলো জব্দ করেন। পরদিন ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় ওই প্রতিষ্ঠানে ইউএনও মুনমুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সরকারি ১২০ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল মাছুম আবির ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় চাল ক্রয়ের বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। আদালত যাচাই-বাছাই শেষে চালের বৈধতা স্বীকার করে দ্রুত বাজারজাত করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চাল বৈধ ঘোষণা করার পরও ফুডগ্রেইন (খাদ্যশস্য) সনদ না থাকার অভিযোগে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আল মাছুম আবির অভিযোগ করেন, ইউএনওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার কারণেই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে আল মাছুম আবির ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রায় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এ সময় ইউএনও তার বিরুদ্ধে আগের মানববন্ধনের প্রসঙ্গ তুলে রায় পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে জানান। এর আগে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে একটি রিট মামলা চলমান থাকাবস্থায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ইউএনওর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর একই ধরনের প্রক্রিয়ায় তাজপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবির আহমদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে আন্দালন করে কোনো লাভ হয়নি। এদিকে, গত ৩ এপ্রিল রাতে উপজেলার তাজপুর বাজারে বারণী মেলার নামে অবৈধভাবে র‌্যাফেল ড্র বিক্রির অভিযোগে ভাড়ায় কাজ করা লিপন আহমদ নামে একজনকে তিন দিনের কারাদণ্ড দেন ইউএনও মুনমুন। একই সঙ্গে প্রচারকাজে ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত টমটম ও মাইক জব্দ করা হয়। অথচ পরদিন ৪ এপ্রিল তাজপুর বাজারে জনসম্মুখে ওই লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জব্দ করা টমটম, মাইক ও টিকিট বই পরদিন আয়োজকরা ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেন। আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভাড়ায় কাজ করা ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ায় ইউএনওর রায় নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বিভাগীয় কমিশনার অতিরিক্ত সচিব মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে অনেকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

News
জুন ৭, ২০২৬
0
এশিয়া কাপে আরো একবার ভূলুণ্ঠিত ক্রিকেটের সৌজন্য
এশিয়া কাপে আরো একবার ভূলুণ্ঠিত ক্রিকেটের সৌজন্য

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাকিস্তানি খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে করমর্দন করা থেকে বিরত থেকেছেন। এশিয়া কাপে ট্রফি না নেওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার পর এই প্রশ্ন উঠছে, যে খেলা বিভিন্ন সময় ডিপ্লোমেসির অঙ্গ হয়ে থেকেছে সেই ক্রিকেটই কি তার স্বতস্ফুর্ত সৌজন্য ও স্পোর্টসম্যানশীপ হারাচ্ছে?

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
ভারত থেকে বাংলাদেশে টনে টনে ইলিশ আমদানি কেন হচ্ছে
ভারত থেকে বাংলাদেশে টনে টনে ইলিশ আমদানি কেন হচ্ছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও অগাস্টে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করেছে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। আমদানি করা এসব ইলিশের মূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা। ভারত থেকে বাংলাদেশে কেন ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
কুষ্টিয়ায় কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা
কুষ্টিয়ায় কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

কুষ্টিয়ার খোকসায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সাতজনসহ মোট ৩৫ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহদানে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের শোমসপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ সংবর্ধনার আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র প্রার্থী মো. রিপন হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন খোকসা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. রোকোনুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। সংবর্ধনায় ৩৫ জনকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ এক হাজার টাকা করে উপহার দেওয়া হয়। কৃতী শিক্ষার্থী সাদিয়া সিদ্দিক জানায়, শিক্ষক ও বাবা-মায়ের দোয়া এবং নিজের পরিশ্রমে জিপিএ-৫ অর্জন করতে পেরেছি। খুবই ভালো লাগছে, এ ধরনের সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হবে। সহকারী শিক্ষক সামিউল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসিতে সফলতা অর্জন করেছে। সংবর্ধনা প্রদানে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহদানে এমন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আরও বেশি বেশি হওয়া দরকার বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুজ্জামান। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় শোমসপুর বালিকা বিদ্যালয় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিপন হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ও উন্নয়নবান্ধব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহদানের লক্ষ্যেই এমন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। ভবিষ্যতে আরও বড় আয়োজন করা হবে। আল-মামুন সাগর/এসজেডএইচ/এএসএম

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
২০২৬ সালে মহাসাগরের সেরা ১০টি ছবি
২০২৬ সালে মহাসাগরের সেরা ১০টি ছবি

প্রতি বছর 'ওশান ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার' প্রতিযোগিতাটি ফটোগ্রাফারদের বিশ্বের সাগরের সবচেয়ে শ্বাসরুদ্ধকর ছবি জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। বিশ্বের মহাসাগরগুলোর সৌন্দর্য এবং সেই সাথে এদের সামনে আসা চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছে এমন দশটি অসাধারণ ছবি।

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, আবেদনের তথ্য পরে জানানো হবে
বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, আবেদনের তথ্য পরে জানানো হবে

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এবং বিভাগীয় প্রধান কমিটির সভায় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশিত না হওয়ায় এবারের ভর্তি-সংক্রান্ত যোগ্যতা, জিপিএ শর্ত ও আবেদনপ্রক্রিয়া এখনো নির্ধারিত হয়নি।ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ৫৫ অনলাইন কোর্স বিনা মূল্যে শেখার সুযোগবাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) দেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে একমাত্র সরকারি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১১টি বিভাগ রয়েছে। ১১টি বিভাগে মোট ৬৩০টি আসনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বিভাগগুলো হলো ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং (৮০), ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং (৮০), ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং (৮০), অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং (৮০), টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট (৮০), টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন (৪০), ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (৪০), টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স (৪০), ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যালস ইঞ্জিনিয়ারিং (৪০), এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (৪০) ও টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (৩০)।ঢাবি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বররাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে আবেদন শুরু ১২ নভেম্বর, পরীক্ষা শুরু ৮ জানুয়ারি

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে আসছে নতুন নিয়ম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে আসছে নতুন নিয়ম

  দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি নির্বাচনের নিয়মে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সভাপতি নির্বাচন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কিছু পরিবর্তন ও সংশোধন এনে খসড়া প্রবিধানমালা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত অনুমোদন হলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। খসড়া প্রবিধানমালা অনুযায়ী- গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি ও কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারাও সভাপতি প্রার্থী হতে পারবেন। একই সঙ্গে সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বহাল রাখা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এতে সভাপতিত্ব করেন। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর কমিটি প্রবিধানমালার এ সংশোধনী চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন যেভাবে প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটির বিভিন্ন ক্যাটাগরির সদস্য পদে আগে নির্বাচন হবে। সদস্য নির্বাচন শেষ হওয়ার সাতদিনের মধ্যে সভাপতির নির্বাচনের জন্য সভা আহ্বান করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার সভায় সভাপতিত্ব করবেন। উপস্থিত নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হবেন। তবে সভাপতি নির্বাচনের সভায় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের ন্যূনতম দুই-তৃতীয়াংশের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমান সর্বোচ্চ ভোট পেলে তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পদত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে সভাপতির পদ শূন্য হলে সর্বোচ্চ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নতুন সভাপতি নির্বাচনের বিধানও রাখা হয়েছে। সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান বহাল এদিকে, ২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালায় থাকা যোগ্যতা সভাপতির শিক্ষাগত স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি বহাল রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রবিধানমালাতেও একই যোগ্যতা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এতে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক বা কর্মচারী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। একই ব্যক্তি একই ধরনের দুটির বেশি ও মেয়াদভিত্তিক ধরনের তিনটির বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না- এমন বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে। গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নেও পরিবর্তনগভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রবিধানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান ছিল। ২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানে ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনার বিধান আনা হয়। সেখানে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের সুযোগ রাখা হয়। তবে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত প্রবিধানে গভর্নিং বডির সভাপতি পদে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নামের তালিকায় আগে এবং পরে (ক্রমধারা) থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে না। সভাপতির ক্ষমতা কমছে!ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির নির্বাচিত সভাপতির কিছু ক্ষমতা খসড়া প্রবিধানমালায় রহিত করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগেও শব্দের পরিবর্তন প্রস্তাবিত প্রবিধানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি বিধি অনুযায়ী সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশকৃত শিক্ষক নিয়োগ করবে। প্রয়োজনের ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতিও দেওয়া যাবে। আগের সংশোধিত প্রবিধানে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাবিত প্রবিধানে এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধন প্রার্থীকে নিয়োগ ও কর্মচারীদের প্রয়োজনমতো নিয়োগ বা পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত প্রবিধানমালার আরও কয়েকটি স্থানে ‘শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান’ শব্দের পরিবর্তে নতুন পরিভাষা প্রতিস্থাপনের কথা উল্লেখ করা হয়। জানতে চাইলে রোববারের সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এটা নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। এরপর শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিলে তা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর নীতিমালা আকারে জারি করা হবে। ফলে এটি এখনই চূড়ান্ত হয়েছে, তা বলা যাবে না। আলোচনার মাধ্যমে আরও সংশোধনী আনা হতে পারে।’ এএএইচ/জেএইচ

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে?
শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন: শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে? উত্তর: নামাজের শেষ বৈঠকে দরুদ দুইবার পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। তবে দরুদ একবার পড়াই নিয়ম। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা যাবে না। ভুলে হলে অসুবিধা নেই। বৈঠক বা হাঁটুগেড়ে বসা নামাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নামাজের প্রতি দুই রাকাত পর বৈঠক করতে হয়। দুই রাকাতবিশিষ্ট নামাজের শেষে বৈঠক করা ফরজ, চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের প্রথম দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ওয়াজিব এবং শেষের বৈঠক ফরজ। নামাজের প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া সুন্নত। আরও পড়ুন অপ্রয়োজনে গলা খাঁকারি দিলে কি নামাজ ভেঙে যাবে? চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুআকক্কাদা নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পরে আর কিছু পড়া যায় না। কেউ যদি ভুল করে এ সব নামাজের প্রথম বৈঠকে দরুদ বা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। তবে চার রাকাতবিশিষ্ট নফল নামাজের প্রথম বৈঠকে দরুদ শরিফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া যায়; বরং ফকিহরা চার রাকাতবিশিষ্ট নফল নামাজের প্রথব বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ ও দুআয়ে মাসুরা পড়া উত্তম বলেছেন। তাই কেউ যদি নফল নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ইচ্ছাকৃত বা ভুল করে দরুদ বা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ফেলে, তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। অর্থ ও উচ্চারণসহ দরুদে ইবরাহিমি اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ। অর্থ: হে আল্লাহ! উম্মি নবি মুহাম্মাদের ওপর এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিমের ওপর এবং ইবরাহিমের পরিবারের ওপর। উম্মি নবি মুহাম্মাদ ও তার পরিবারকে বরকত দান করুন, যেমন ইবরাহিম ও তার পরিবারকে বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। (সুনানে দারাকুতনি) আরও পড়ুন শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেলে কসর নামাজ পড়তে হবে? ওএফএফ

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
যত হাসি তত কান্না বলেছেন রামসন্না, কে ছিলেন এই ‘রামসন্না’?
যত হাসি তত কান্না বলেছেন রামসন্না, কে ছিলেন এই ‘রামসন্না’?

‘যত হাসি তত কান্না, বলে গেছে রাম সন্না’ বাংলা ভাষায় বহুল পরিচিত একটি প্রবাদ। কারো জীবনে যখন অতিরিক্ত আনন্দ আসে, তখন বয়স্করা অনেক সময় সতর্ক করে বলেন, ‘বেশি হাসতে নেই, যত হাসি তত কান্না।’ কথাটির মধ্যে রয়েছে জীবনের সুখ-দুঃখের ওঠানামার একটি সহজ দর্শন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই রাম সন্না আসলে কে? সত্যিই কি এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন, যিনি এই কথা বলে গিয়েছিলেন? রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত পরিচয় হলো তিনি ছিলেন রামশংকর শর্মা। তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। রামশংকর শর্মা নামে এমন একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন এবং তার জীবনী ‘আত্মচরিত’ নামে একটি বই লিখেছিলেন এমন একটি কাহিনি বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় গোয়েন্দা উপন্যাসে পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাধীন ঐতিহাসিক সূত্রে এই ব্যক্তির জীবন ও প্রবাদটির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ সহজে পাওয়া যায় না। আরও পড়ুন নেতারও ছাড় নেই, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ঠান্ডা পানিতে চুবানো হয়! রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত গল্পটি পাওয়া যায় কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের কর্নেল সিরিজের ‘বলে গেছেন রাম সন্না’ বইয়ে। সেখানে কর্নেল নীলাদ্রি সরকার রাম সন্নার পরিচয় হিসেবে ‘রামশংকর শর্মা’ নামটি উল্লেখ করেন। বইয়ের কাহিনি অনুযায়ী, রামশংকর অল্প বয়সে বাড়ি ছেড়ে জাহাজে সি-বয়ের চাকরি নেন। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। জীবনের শেষদিকে নদিয়ার একটি গ্রামে ফিরে এসে নিজের পৈতৃক ভিটায় বড় বাড়ি তৈরি করেন। সেই কাহিনিতে আরও বলা হয়েছে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় রামশংকর গোপনে বিদ্রোহীদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এ কারণে ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে তার বিচার হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়। ফাঁসির সেলে থাকার সময় তিনি নিজের জীবনী ‘আত্মচরিত’ লিখেছিলেন বলেও উপন্যাসে উল্লেখ রয়েছে। পরে তার ভাই শ্যামশংকর সরকারের অনুমতি নিয়ে বইটি প্রকাশ করেন। শুনতে অনেকটা ইতিহাসের গল্পের মতো হলেও সমস্যা হলো, এই তথ্যগুলোর বড় অংশই পাওয়া যায় কথাসাহিত্যের ভেতরে। ফলে উপন্যাসে বর্ণিত ঘটনাগুলোকে সরাসরি ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। এমনকি রাম সন্নার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে যেসব লেখালেখি হয়েছে, সেখানেও এই তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আরও পড়ুন ৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে তাহলে প্রবাদটি এলো কীভাবে? এখানেও নিশ্চিত ইতিহাসের বদলে লোকমুখে প্রচলিত ভাষার বিবর্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। বাংলার লোকজ প্রবাদে কোনো একটি কথা অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে প্রচলিত হয়ে যায়। সেই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় সময়ের সঙ্গে অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। ‘রাম সন্না’ও তেমন কোনো লোকচরিত্র বা প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে থাকতে পারেন। প্রবাদটির মূল বক্তব্য অবশ্য বেশ পরিষ্কার। জীবনে যেমন আনন্দ আছে, তেমনি দুঃখও আছে। অতিরিক্ত আনন্দের পর হতাশা আসতে পারে, সুখের সময়ের পর কঠিন সময়ও আসতে পারে। তাই কথাটি মূলত মানুষকে জীবনের উত্থান-পতন সম্পর্কে সচেতন করে। অর্থাৎ ‘যত হাসি তত কান্না’ কথাটি আক্ষরিক অর্থে যতবার হাসা হবে, ঠিক ততবার কাঁদতে হবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক বা গাণিতিক নিয়ম নয়। এটি জীবনের ভারসাম্য ও অনিশ্চয়তার একটি রূপক ব্যাখ্যা। বাংলা সাহিত্যেও এই প্রবাদের ব্যবহার বেশ পুরোনো ও পরিচিত। হুমায়ূন আহমেদের ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে ‘যত হাসি তত কান্না, কহে গেল রাম সন্না’ এই ছন্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রবাদটি শুধু মুখে মুখে নয়, বাংলা কথাসাহিত্যের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছে। আহসান হাবীবও তার একটি বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘যত হাসি তত কান্না বলে গেছে রাম সন্না’। বইটির নামের মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, রাম সন্না নামটি বাংলা সংস্কৃতিতে কতটা পরিচিত একটি প্রবাদপ্রতিম চরিত্রে পরিণত হয়েছে। তবে তিনিও রাম সন্নার নিশ্চিত ঐতিহাসিক জীবনী তুলে ধরেছেন এমন প্রমাণ নেই। আরেকটি মজার বিষয় হলো, ‘রাম সন্না’ নামটি নিয়েও ভিন্নতা দেখা যায়। কোথাও ‘রাম সন্না’, কোথাও ‘রাম সন্যা’, আবার কোথাও রামশংকর শর্মার সঙ্গে নামটি যুক্ত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুখে মুখে চলতে চলতে প্রবাদের শব্দ ও চরিত্রের পরিচয়েও পরিবর্তন এসেছে। আরও পড়ুন সিলেটের আছে নিজস্ব বর্ণমালা, ঐতিহ্য ফিরছে সাইনবোর্ডে তবে এই প্রবাদের জনপ্রিয়তার আসল কারণ সম্ভবত রাম সন্নার পরিচয় নয়, বরং কথাটির সহজ জীবনদর্শন। মানুষ আনন্দের সময় যেমন ভবিষ্যৎ ভুলে যায়, তেমনি দুঃখের সময়ও মনে হয় এই পরিস্থিতি বুঝি আর শেষ হবে না। ‘যত হাসি তত কান্না’ সেই দুই অবস্থার মাঝখানে দাঁড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় জীবন কখনো একই রকম থাকে না। তাই রাম সন্না সত্যিই ইতিহাসের কোনো ব্যক্তি ছিলেন, নাকি লোককথা ও সাহিত্যের হাত ধরে তৈরি হওয়া এক প্রবাদপ্রতিম চরিত্র তার নিশ্চিত উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। রামশংকর শর্মা সম্পর্কিত কাহিনির উল্লেখ থাকলেও সেটিকে ঐতিহাসিক সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করার মতো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার পরিচয় যতই অস্পষ্ট হোক, বাংলা ভাষার প্রবাদে রাম সন্না বেশ পরিচিত। আর তার নামে চালু হওয়া একটি ছোট্ট বাক্য আজও বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয় জীবনে যেমন হাসি আছে, তেমনি কান্নাও আছে। কেএসকে

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ, সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি
আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ, সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি

  আজ মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক পবিত্র স্থান পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে সুশোভিত হবে। এ উপলক্ষে দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত যত্ন, শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে, যা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও কাবা শরিফ ধৌতকরণ কার্যক্রম সুপরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রস্তুতি পর্বে সকল প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ধৌতকরণ ও সুগন্ধিকরণের জন্য বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এ মিশ্রণে ব্যবহার করা হয় ১৫ লিটার পবিত্র জমজমের পানি, ১৫ লিটার তাইফের গোলাপ পানি, ১৫ লিটার গোলাপ তেল এবং ১০০ মিলিলিটার উৎকৃষ্ট মানের উদ (আগর) তেল। এ ছাড়া ধৌতকরণ চলাকালে কাবার গিলাফ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দরজার আবরণের নিচের অংশ সতর্কতার সঙ্গে উপরে তুলে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় মূল ধৌতকরণ পর্ব। বিশেষভাবে প্রস্তুত করা কাপড়ের সাহায্যে জমজমের পানি ও তাইফের গোলাপ পানির মিশ্রণ দিয়ে কাবা শরিফের অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ এবং মেঝে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। সবশেষে সুগন্ধিকরণ ও ধূপন পর্ব। এ সময় কাবা শরিফের ভেতরের দেয়াল ও কোণাগুলো উৎকৃষ্ট মানের উদ তেল ও আম্বর দিয়ে সুগন্ধিত করা হয়। পরে মনোমুগ্ধকর সুগন্ধি ও ধূপের সুবাসে কাবার অভ্যন্তর ভরে ওঠে। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে নতুন আবেগ ও ভালোবাসার সঞ্চার করে। দুই পবিত্র মসজিদের সাধারণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ ও সরঞ্জাম আগেভাগেই সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশুদ্ধতা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করেই সম্পন্ন করা হবে কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই আধ্যাত্মিক আয়োজন

News
জুন ৩০, ২০২৬
0
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ বাংলাদেশি
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ বাংলাদেশি

  পবিত্র হজ পালন শেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ৬৪ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। এ বছর হজ করতে গিয়ে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (২৪ জুন) হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ৮৮০ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

News
জুন ২৪, ২০২৬
0
শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের
শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের

নিজের টেনিস কেরিয়ারের সম্ভবত সেরা বছর কাটালেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। ফরাসি ওপেনের পর এবার ইউএস ওপেনও জিতলেন তিনি। টুর্নামেন্ট খেলতে নামতে পারেননি ইয়ানিক সিনার। চোট সারিয়ে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়েন কার্লোস আলকারাজ। প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যান নোভাক জকোভিচ। সেই সুযোগ কাজে লাগালেন জভেরেভ। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটনকে চার সেটের লড়াইয়ে (৬-৩, ৭-৬, ৫-৭, ৬-২) হারালেন জার্মান তারকা। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন জভেরেভ। চলতি বছর ফরাসি ওপেন জিতেছেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেছেন। বছরের শেষটা করলেন ইউএস ওপেন জিতে। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন এই জার্মান তারকা। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে শুধু শেলটন নন, ২৪ হাজার দর্শকের সিংহভাগের বিরুদ্ধে খেলতে হল জভেরেভকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘরের ছেলে শেলটনকে সমর্থন করে গেলেন দর্শকেরা। তাতে লাভ হলো না। একমাত্র তৃতীয় সেটের শেষ দিক ছাড়া শেলটনের খেলায় সেই ঝাঁঝ দেখা গেল না। প্রথম গেমেই শেলটনের সার্ভিস ভাঙেন জভেরেভ। সেই থেকে শুরু। একবার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভাঙার পর সেই সেটে আর তাকে থামানো যায়নি। আরও এক বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সহজেই প্রথম সেট নিজের নামে করেন জভেরেভ। শেলটন বাঁ-হাতি। সাধারণত বাঁ-হাতিদের সামনে ডানহাতিরা একটু হলেও সমস্যায় পড়েন। কিন্তু শেলটন প্রথমবার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনাল খেলছিলেন। ফলে কিছুটা হলেও চাপে ছিলেন। সেখানেই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন জভেরেভ। বেশ কয়েকটি লম্বা র‌্যালি হল। শেলটন অপেক্ষা করছিলেন, জভেরেভ কখন ভুল করেন। কিন্তু খুব একটা ভুল করলেন না জার্মান তারকা। দ্বিতীয় সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজের নিজের সার্ভিস ধরে রাখলেন। ফলে ফয়সালা হল টাইব্রেকারে। সেখানে শেলটনকে উড়িয়ে দিলেন জভেরেভ। তৃতীয় সেটও টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু দ্বাদশ গেমে জভেরেভের সার্ভিস ভাঙেন শেলটন। ওই একবারই জভেরেভের সার্ভিস খারাপ দেখাল। জোড়া ডাবল ফল্টের খেসারত দিতে হল তাকে। তৃতীয় সেটে ফেরার পর মনে হচ্ছিল, শেলটন খেলা পঞ্চম সেট পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু চতুর্থ সেটে আবার নিজের জাত চেনালেন জভেরেভ। দু’বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সেট ও সেই সঙ্গে ম্যাচ নিজের নামে করলেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে যাওয়ার পর ডমিনিক টিয়েমের কাছে শেষ তিন সেটে হেরে ম্যাচ হারতে হয়েছিল জভেরেভকে। এবার আর সেটা হতে দিলেন না তিনি। ১৯৮৯ সালে বরিস বেকারের পর দ্বিতীয় জার্মান তারকা হিসাবে এই ট্রফি তুললেন জভেরেভ। মাত্র চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন জভেরেভ। খেলার মাঝে দেখা যাচ্ছিল, বারবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করছেন। কখনও চকলেট খাচ্ছেন। কখনও কোনও পানীয়। এত বছর ধরে এই রোগ সামলে পেশাদার টেনিসে সফল হওয়ার কৃতিত্ব নিজের মাকে দিয়েছেন তিনি। খেলা শেষে জভেরেভ বলেন, ‘চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসক বলেছিল, পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা আমার কম। কিন্তু আমার পাশে আমার মা ছিল। আমাকে সব সময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি যা হয়েছি, তার কৃতিত্ব পুরোটাই মায়ের।’ খেলা শেষে শেলটনের প্রেমিকা ট্রিনিটি রডম্যানেরও মন জয় করেছেন জভেরেভ। পেশাদার ফুটবলার ট্রিনিটি নিজের ম্যাচ ছেড়ে শেলটনের ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলেন। খেলা শেষে শেলটনের কথা শুনে কেঁদে ফেলেন তিনি। তা দেখে জভেরেভ বলেন, ‘ট্রিনিটি, আমার মনে হয় তোমার আজ খেলা ছিল। তাই না? সেই ম্যাচ ছেড়ে তুমি আমাদের খেলা দেখতে এসেছ। তুমি আমার কাছে পয়া’- এ কথা শুনে ট্রিনিটি হেসে ফেলেন। আইএইচএস/

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ
প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচেই ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই ৭ গোল হজম করেছিল মারিয়া মান্দারা। কোনোভাবেই উত্তর কোরিয়ার সামনে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ নারী দল এর আগে কখনো এতগুলো গোল হজম করে হারেনি। জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশকে দিশেহারা করে তোলে উত্তর কোরিয়া। প্রথমার্ধেই একে-একে বাংলাদেশের জালে ৭ বার বল জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার কিছুটা কমে আসলেও আরও ৩ গোল যোগ করে ব্যবধানকে উন্নীত করে ১০-০ ব্যবধানে। প্রতিপক্ষের জন রং, চাই উন ও কিম কিয়ং করেছেন জোড়া গোল। বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার গোল উৎসবের শুরুটা হয় ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই। শুরু করেন জন রিয়ং জং। এরপর ১০ম মিনিটেও তিনি নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন। তবে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোল করেছিলেন রি সং। তার গোলটি বাতিল করে দেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। ১২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন হোয়াং ইউ। ৬ মিনিট পর ১৮ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন চায়ে উন ইয়ং। ৩৫ মিনিটে তিনিও সম্পন্ন করেন নিজের জোড়া গোল। দলের স্কোরলাইন হয় ৫-০। ৪০ ও ৪৩ মিনিটে জোড়া গোল করে প্রথমার্ধেই ৭-০ ব্যবধান করেন কিম কিয়ং ইয়ং। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোল উৎসব শুরু করে উত্তর কোরিয়া। ৫১তম মিনিটে দলের ৮ম গোল করেন রি সং আ। ৬০ মিনিটে ৯ম গোল করেন জং কুম। ৬০-৯০, এই ৩০ মিনিটে উত্তর কোরিয়াকে বেশ ভালোভাবেই ঠেকিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই আধাঘন্টায় কোনো গোল হতে দেননি তারা। তবে, ৯০তম মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে ১০ম গোল করেন হান জিন হং। আরআই/আইএন/আইএইচএস

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন
সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন

মোহাম্মদ সালাহর গন্তব্য নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ ছিল না। কেউ ভেবেছিলেন সৌদি আরব, কেউ আবার আমেরিকা। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল মোহাম্মদ সালাহ নিজের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোর। নামটা অপরিচিত লাগছে? তুরস্কের লিগেও ক্লাবটা কিন্তু জনপ্রিয়তায় শীর্ষে নেই, এমনকি শীর্ষ তিনেও নেই। তবু সালাহকে তারা বরণ করে নিয়েছে জমকালো আয়োজনে। সালাহর আগমন ত্রাবজোনস্পোর সমর্থকদের কাছে যেন ছেলের বহুদিন পর ঘরে ফেরার গল্প।শুধু সালাহ নন, বেলজিয়ান তারকা রোমেলু লুকাকু দীর্ঘ ইউরোপিয়ান ক্যারিয়ার ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ফেনারবাচে। দুসান ভ্লাহোভিচও জুভেন্টাস ছেড়ে এই মৌসুমে যোগ দিয়েছেন বেসিকতাসে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পাঁচ লিগ ছেড়ে গালাতাসারাইতে আছেন ভিক্টর ওশিমেন। গত কয়েক মৌসুম ধরেই খেলোয়াড়দের বিমান ভিড়ছিল সৌদি আরব আর আমেরিকায়। সেই বিমান এবার গন্তব্য বদলে পৌঁছে গিয়েছে তুরস্কে। হঠাৎ এই রদবদলের কারণ কী?লুকাকুর জন্য মধ্যরাতে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিল হাজারো মানুষ।যত দিন যাচ্ছে, তুরস্কে ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এই মৌসুমেই ইউরোপের শীর্ষ লিগ ছেড়ে তুরস্কে পাড়ি দিয়েছেন ম্যাসন গ্রিনউড, নাথান আকে, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড, আলেকজান্ডার নুবেলের মতো তারকা। সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচের কথা তো বললামই। শুধু যে বয়সের ভারে নুয়ে পরা তারকারা যোগ দিচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। বরং তরুণ তারকারাও সৌদি-আমেরিকা ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন তুরস্ক? কিন্তু কেন?ইউরোপিয়ান ফুটবলের ছোঁয়াসৌদি থেকে আমেরিকা—টাকার ঝনঝনানির পেছনে ছুটতে গেলেই বের হয়ে যেতে হচ্ছে ইউরোপ থেকে। ইউরোপিয়ান ফুটবল ছেড়ে যখনই ভিন্ন মহাদেশে পাড়ি দিচ্ছেন ফুটবলাররা, একেবারেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাচ্ছেন। মেসি-রোনালদোর পাঁড় ভক্ত না হলে হয়তো কোনো দিন এমএলএস বা সৌদি লিগের ম্যাচ খুলেও দেখা হয়নি নিশ্চয়। তুর্কি লিগ কিন্তু তেমন নয়। এই লিগের খেলা নিয়মিত দেখা না হলেও তাদের নিয়মিতই দেখা যাবে ইউরোপের বড় মঞ্চে। চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগে প্রতি মৌসুমেই চমক দেখায় তুর্কি দলগুলো। এতে করে দর্শকদের চোখের আড়ালে যাওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই। সালাহর জন্য বিমানবন্দরে প্রস্তুত ছিল ব্যানার। রাত তখন দেড়টা।১৭ বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছে ফেনারবাচ। ফলে লুকাকু-আসেনসিওদের দেখা যাবে ইউরোপের সেরা মঞ্চে। ইউরোপিয়ান বলয়ে থাকায় বাকি দলগুলোও চাইলে নজর রাখতে পারবে খেলোয়াড়দের দিকে। ফলে ভবিষ্যৎ দলবদলের ক্ষেত্রেও একটা সুবিধা পাবেন খেলোয়াড়েরা।দর্শকদের উন্মাদনা:সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচের ছবিগুলো দেখেছ? এখনো কিন্তু ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়নি দর্শকদের সঙ্গে। তাঁরা মাত্র বিমানবন্দরে নেমেছেন দলের সঙ্গে যোগ দিতে। এর মধ্যেই দর্শকদের চিৎকারে কান পাতা দায়। দর্শকেরা বিমানবন্দরে হাজির হয়েছেন শুধু খেলোয়াড়কে বরণ করে নিতে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলোয়াড়দের হাতে জার্সি তুলে দেওয়ার দিনও এত দর্শক আসেন না। শীর্ষ তারকা ছাড়া দর্শকদের এমন উন্মাদনা দেখার সাক্ষী হন না কেউ। এমন সমর্থন পেতে কে না চায়?মোহাম্মদ সালাহকে বরণ করার জন্য বিমানবন্দর থেকে মাঠ পর্যন্ত ছিল দর্শকদের ঢল। এমনকি মাঠে তাঁকে নিয়ে আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন সালাহ নিজেও। ফোন বের করে দর্শকদের স্বাগত আয়োজন ভিডিও করেছেন নিজ হাতে। সালাহকে যেন ঘরের ছেলে হিসেবেই বরণ করে নিয়েছে তুরস্ক।সালাহকে স্বাগত জানাতে ত্রাবজোনস্পোরের বিশাল আয়োজন।এ তো গেল বরণ করার কথা। মাঠের উন্মাদনাতেই তুর্কি লিগ ছাড়িয়ে যায় শীর্ষ পাঁচ লিগকে। অন্যান্য লিগে যেমন দেখা যায়, বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ না হলে দর্শকদের আগ্রহও থাকে কম। কিন্তু তুর্কি লিগ তেমন নয়। প্রতিটি ম্যাচই যেন দর্শকদের কাছে একেকটি উৎসব। ফ্লেয়ার, ব্যানার নিয়ে হাজির হন মাঠে। নিজেদের খেলোয়াড়দের সমর্থন দিতে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই কারও। ফুটবলের প্রতি তাদের প্যাশন নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো সাহস নেই কারও।টাকার ঝনঝনানিএবার আসা যাক টাকার প্রশ্নে। সৌদি ও আমেরিকান লিগ টাকার বান্ডিল দেখিয়েই যেন বড় বড় খেলোয়াড়ের হাত করে নিচ্ছে। তুর্কি লিগ কিন্তু সেদিক দিয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই। হ্যাঁ, সৌদি আর আমেরিকার মতো টাকার বস্তা নিয়ে হাজির হতে পারেনি তারা। কিন্তু খেলোয়াড়দের চুক্তির ব্যাপারে তারা এমন কিছু পন্থার আশ্রয় নিয়েছে, যাতে করে খেলোয়াড়দেরই লাভ বেশি।মোহাম্মদ সালাহর কথাই ধরো। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বেতন তো পাবেনই। সঙ্গে তাঁর নামে যত জার্সি বিক্রি হবে, তাঁর অফিসিয়াল খেলনা থেকে শুরু করে যা কিছু বিক্রি হবে, সবকিছু থেকে একটা বড় অংশ পাবেন তিনি। ত্রাবজোনস্পোরের হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে সালাহর জার্সি বিক্রি করে তাঁর দেওয়া বেতনের বড় একটা অংশ উঠে গেছে তাদের। তাহলে বোঝো, বাকি খেলোয়াড়দের লাভের পরিমাণটা ঠিক কত?তুর্কি লিগের প্রতি তাই এই মৌসুমে খেলোয়াড়দের আগ্রহটাও তাই দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর বড় বড় খেলোয়াড়ের দেখাদেখি স্পনসর, দর্শকেরাও লুফে নিচ্ছেন তুর্কি লিগের খেলা। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগার পাশাপাশি তুর্কি লিগেও আলাদা করে নজর রাখতে হতে পারে তোমাদের।

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা
এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা

কঠিন, আরও কঠিন, একেবারে অগ্নিপরীক্ষার মতো কঠিন—বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এবারের এশিয়ান গেমসের গ্রুপটা ঠিক তেমনই। উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার—তিন প্রতিপক্ষই শক্তিতে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাই এই গ্রুপকে বাংলাদেশের জন্য ‘কঠিন’ বললে হয়তো কমই বলা হবে।বাস্তবতাটা বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারেরও অজানা নয়। কিন্তু কঠিন গ্রুপ মানেই যে আগেই হাল ছেড়ে দিতে হবে, তা মনে করেন না তিনি। তাঁর বার্তা বরং ভিন্ন—চ্যালেঞ্জটা উপভোগ করতে হবে, নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিতে হবে।জাপানের আইচি-নাগোয়াতে ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। তবে ফুটবল, ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলা শুরু হচ্ছে এর আগেই। আজ মেয়েদের ফুটবলে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের সামনে উত্তর কোরিয়া। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা একটায়।শুরুতেই এমন প্রতিপক্ষ, যারা কাগজে–কলমের শক্তিতে তো বটেই, অভিজ্ঞতা ও সাফল্যেও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১ নম্বরে, বাংলাদেশ ১০৭। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৯৬ ধাপ। এর সঙ্গে যোগ করুন উত্তর কোরিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাফল্য—তাহলে কাজটা কতটা কঠিন, সেটি বুঝতে খুব বেশি হিসাব করতে হবে না।বাংলাদেশ নারী দলের বড় সাফল্যের তালিকায় এখন পর্যন্ত দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাই সবচেয়ে উজ্জ্বল। এশিয়ান গেমসেও এর আগে খেলেছে মাত্র একবারই, ২০২২ সালের গত আসরে। সেবার গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ ড্র করেই বিদায় নিতে হয়েছিল।অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে উঠেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। এশিয়ার সেরা হয়েছে তিনবার। অলিম্পিকেও অংশ নিয়েছে দুবার। আর এশিয়ান গেমসে ছয়বার সোনার লড়াইয়ে নেমে তিনবারই জিতেছে। এমন দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতবে—এমন প্রত্যাশা করলে বাস্তবতার চেয়ে কল্পনাকেই বেশি প্রশ্রয় দেওয়া হবে। তাই জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরে গিয়ে নিজেদের খেলাটাকে গুরুত্ব দিতে চাইছে বাংলাদেশ।ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বলা বাটলারের কথাতেও তারই প্রতিফলন, ‘বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি আমরা। আমরা ভালো করেই জানি, এমন একটি গ্রুপে খেলছি, যেখানে এশিয়ান ফুটবলের শক্তিশালী দলগুলোর দুটি—উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া আছে। এমনকি র‍্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমারও আমাদের চেয়ে এগিয়ে। পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে আমাদের জন্য, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। তবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা খেলাটি উপভোগ করতে চাই।’উত্তর কোরিয়ার পর বাংলাদেশের সামনে দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী বৃহস্পতিবার সেই ম্যাচ। র‍্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ১৯তম, বাংলাদেশের চেয়ে ৮৮ ধাপ এগিয়ে। পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলা দলটি এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে নয়বার, জিতেছে তিনটি ব্রোঞ্জপদক। সিনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এখনো দেখা হয়নি। অর্থাৎ নতুন এক পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমার ৫৫তম—বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে। শক্তির বিচারে তারাও পিছিয়ে থাকার মতো দল নয়। তবে এ ম্যাচটিই বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে একটু আশার জায়গা তৈরি করছে।কারণ, তিন গ্রুপ প্রতিপক্ষের মধ্যে একমাত্র মিয়ানমারের বিপক্ষেই বাংলাদেশের মেয়েদের একাধিকবার খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এখন পর্যন্ত দুবার মুখোমুখি হয়ে একবার জিতেছেও বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবারই প্রথম সিনিয়র পর্যায়ে দেখা হবে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তো গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে ৫–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।সেই হিসাবেই হয়তো মিয়ানমার ম্যাচটিকে মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে কোচ বাটলারও জানেন, শুধু অতীতের একটি জয় দিয়ে বর্তমানের ম্যাচ জেতা যায় না। বরং প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই শেষ ম্যাচে ভালো করার চেষ্টার কথা বললেন তিনি, ‘আমাদের দেশে তো মেয়েদের নিয়মিত কোনো লিগই নেই! তাই এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের বড় কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা না করে বাস্তববাদী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতিবাচক ও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই। দেখা যাক, প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে কতটা কাজে দেয়।’বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা অবশ্য শুধু প্রতিপক্ষের শক্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও ধাক্কা খেয়েছে দল। ফর্মে থাকা ডিফেন্ডার নবীরণ খাতুন চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। তবে স্বস্তির খবর, নবীরণ ছাড়া স্কোয়াডে আর কারও চোটের সমস্যা নেই।সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পথটা মোটেও সহজ নয়। তবে কঠিন পথ বলেই হয়তো এই যাত্রার আলাদা মূল্য আছে। বাংলাদেশ জানে, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী। জানে, ব্যবধানও অনেক। তবু সেই কঠিনকেই ভালোবেসে মাঠে নামতে প্রস্তুত তারা।

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করছি: আমিনুল হক
পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করছি: আমিনুল হক

খেলাধুলাকে শুধু অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক আসরে পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, আমরা শুধু এশিয়ান গেমস কিংবা অলিম্পিকের মতো সর্বোচ্চ আসরে অংশগ্রহণ করতে চাই না। আমরা চাই, পদক জেতার জন্য অংশগ্রহণ করতে। পদকের জন্য লড়াই করতে পারি সেই চিন্তা নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্রীড়া উৎসব-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার কোনো বয়স নেই। নিজেকে সুস্থ রাখা ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য হাঁটাচলা, দৌড়ানো কিংবা খেলাধুলার চর্চা করা প্রয়োজন। খেলাধুলার এই চর্চার প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও পড়ে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল মুক্তিযুদ্ধের সময় খেলাধুলার মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব এই চিন্তা থেকেই বর্তমান সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘শূন্য থেকে’ কাজ শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ৫০০ ক্রীড়াবিদ পাবেন ক্রীড়া ভাতা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০০ ক্রীড়াবিদ এই ভাতা পাচ্ছেন। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরও প্রায় ২০০ জনকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু খেলোয়াড় নয়, যোগ্য রেফারি ও কোচদেরও যাচাই-বাছাই করে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন যেভাবে দেওয়া হয়, একইভাবে ক্রীড়া ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। এক মাস ক্রীড়া ভাতা বন্ধ থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি নতুন কর্মসূচি হওয়ায় সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। ভাতা চালু করার জন্য এরইমধ্যে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা আবার চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বকেয়া ভাতাসহ পরবর্তী সব ভাতা একসঙ্গে ক্রীড়াবিদদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রীড়া ভাতা দিতে সরকার প্রতি বছর ৬০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ দিয়ে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত হবে। বাবা-মায়েরাও সন্তানকে শুধু ডাক্তার বা প্রকৌশলী বানানোর চিন্তা না করে ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী হবেন। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ ১৫ লাখ নিবন্ধন তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়াবিদ তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, এর ধারণাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এসেছে। তিনি বলেন, প্রথম আসরে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। উপজেলা থেকে জেলা, বিভাগ হয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। গত ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে প্রথম আসর শেষ করেন। দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দল গঠন করে ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ্য ছিল ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ। সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হলে এই সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আমিনুল হক বলেন, ছেলে-মেয়ে ও কিশোর-কিশোরীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পরিবার, স্কুল ও সমাজে একটি বার্তা যাচ্ছে খেলাধুলাই দল-মত নির্বিশেষে একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। ৫০৩ উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার অবকাঠামো শক্তিশালী করতে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরইমধ্যে ২০১টি উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের কার্যক্রম অনুমোদন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় উপজেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। তার ভাষ্য, জেলা পর্যায়ের ক্রীড়া কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তুলে আনা সহজ হবে। বিকেএসপিতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে জাতীয় পর্যায়ে ভালো করা ৩০৬ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) দুই মাসের প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ থেকে অসাধারণ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের বাছাই করা হবে। তাদের বিনামূল্যে সরকারি খরচে বিকেএসপিতে ভর্তি করানো হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার দায়িত্বও সরকার বহন করবে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ নামে পাঠ্যবই স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি পাঠ্যপুস্তক সংযোজন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বইটি লেখার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরে চতুর্থ শ্রেণিতে বইটি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আমিনুল হক বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ১০টি ইভেন্টকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই, তিন কিংবা পাঁচ বছর পর এসব উদ্যোগের সুফল পাওয়া শুরু হবে। বছরব্যাপী প্রশিক্ষণে গুরুত্ব এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে তারা জাপানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছেন। তিনি বলেন, এশিয়ান গেমসের পর ১৩ থেকে ১৪টি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে বছরব্যাপী ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের মধ্যে রাখা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই তাদের প্রস্তুত করা হবে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, কোনো বিদেশি কোচকে এনে এক মাসের মধ্যে একটি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। একজন কোচ বা ক্রীড়াবিদকে সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা শুরু করেছি জিরো থেকে। বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নেবে। ফলাফল যা-ই হোক, আমরা থেমে থাকতে চাই না। আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আগামী পাঁচ বা ১০ বছর পর অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস কিংবা কমনওয়েলথ গেমসে শুধু অংশগ্রহণ নয়, পদকের জন্য লড়াই করতে পারে এমন ক্রীড়াবিদ তৈরিই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এমএএস/এসএনআর

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
একাদশে নেই ঋতুপর্ণা, ১২ মিনিটে ৩ গোল হজম বাংলাদেশের
একাদশে নেই ঋতুপর্ণা, ১২ মিনিটে ৩ গোল হজম বাংলাদেশের

এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের শুরুর একাদশে নেই দলের অন্যতম প্রধান তারকা ঋতুপর্ণা চাকমা। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষার। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কোচ পিটার বাটলার একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন। অধিনায়ক হিসেবে আছেন মারিয়া মান্দা। বাংলাদেশের গোলপোস্ট সামলাবেন মিলি আক্তার। রক্ষণভাগে রয়েছেন আফঈদা খন্দকার, আইরিন খাতুন, সুরভী আক্তার আরফিন ও অর্পিতা বিশ্বাস। মাঝমাঠে মারিয়া মান্দার সঙ্গে আছেন কোহাতি কিসকু, মোমিতা খাতুন ও আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। আক্রমণভাগে দায়িত্ব পেয়েছেন তহুরা খাতুন ও সুলতানা। এরইমধ্যে মাঠে নেমে ১৬ মিনিটে ৩ গোল হজম করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশ মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, আইরিন খাতুন, সুরভী আক্তার আরফিন, অর্পিতা বিশ্বাস, কোহাতি কিসকু, মোমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, সুলতানা। আরআই/আইএন

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
শুভশ্রীর সঙ্গে আজকাল কথা বলতেও ভয় পান দেব, জানালেন কারণ
শুভশ্রীর সঙ্গে আজকাল কথা বলতেও ভয় পান দেব, জানালেন কারণ

দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে একসময় কম আলোচনা হয়নি। প্রেমের গুঞ্জন থেকে শুরু করে বিচ্ছেদ- দীর্ঘ সময় পরও এই দুই তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দর্শকের আগ্রহের কমতি নেই। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন দেব। আরও পড়ুন দুই মাসেই ভেঙে গেল ১১৪ বছরের রেকর্ড, সবার সেরা এখন ‘দ্য ওডিসি’ দুর্গাপূজায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেব ও শুভশ্রী অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’। সিনেমাটির প্রচার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে বলে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন দেব। সম্প্রতি কলকাতায় একটি স্যালোনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন অভিনেতা। দেব জানান, শুভশ্রীর সঙ্গে এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও তিনি ভয় পান। কারণ তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেই সেটিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। দেব বলেন, একসময় শুভশ্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এখন তারা বন্ধু। কিন্তু প্রকাশ্যে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও সেটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়ে যায়। এমনকি কোনো অনুষ্ঠানে শুভশ্রীকে স্বাভাবিকভাবে আলিঙ্গন করলেও সেটি নিয়েও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দেবের ভাষ্য, এসব কারণেই ‘দেশু ৭’-এর প্রচারে তারা সেভাবে একসঙ্গে বের হচ্ছেন না। কারণ প্রচারে গেলেই সিনেমার গল্প, নির্মাণ বা অভিনয়ের বদলে তাদের সম্পর্ক, বিচ্ছেদ কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। অভিনেতা বলেন, তারা প্রচারে বের হলেই বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অথচ কেউ ‘দেশু ৭’ নিয়ে কথা বলছে না। সিনেমাটিতে তিনি যে নতুন ধরনের নির্মাণভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, সেটিও আলোচনায় আসছে না। এমনকি দীর্ঘদিন পর কোনো বাংলা সিনেমার শুটিং লাদাখে হয়েছে, সেই বিষয়টিও আলোচনায় আসছে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। বড় বাজেটের ‘দেশু ৭’ সিনেমায় দেবের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন শুভশ্রী। সিনেমাটির টিজার প্রকাশের পর থেকেই এর অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দেব-শুভশ্রীর রোমান্টিক দৃশ্যও। দেব জানান, শুধু শুভশ্রীকে নিয়ে কয়েক দিনের শুটিং করেই চাইলে একাধিক সিনেমা তৈরি করা সম্ভব ছিল। এতে ব্যবসায়িক সাফল্যও আসত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে ‘ধূমকেতু’র পর দর্শক যেভাবে দেব-শুভশ্রীকে দেখতে চেয়েছেন, সেই প্রত্যাশা মাথায় রেখেই ‘দেশু ৭’ নির্মাণ করেছেন তিনি। আরও পড়ুন মোশাররফ করিমের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে চান? জানুন কীভাবে সিনেমাটিতে দেব ও শুভশ্রী ছাড়াও অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রজতাভ দত্ত, অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক ও লোকনাথ দে। দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই সিনেমাটির টিকিট বিক্রিতে দর্শকের আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে।   এলআইএ

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে রেলস্টেশনে কেন পাথর ছুড়ে মেরেছিল দর্শক?
অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে রেলস্টেশনে কেন পাথর ছুড়ে মেরেছিল দর্শক?

পর্দায় খল চরিত্রে এমনভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন যে, একসময় দর্শক বাস্তবের সাদেক বাচ্চু আর পর্দার খলনায়ককে আলাদা করতে পারেননি। এমনকি দুর্দান্ত অভিনয়ে চরিত্র বাস্তবের মতো ফুটিয়ে তোলার কারণে একপর্যায়ে দর্শকের কাছ থেকে বাদামের খোসা ও পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছিল তার সঙ্গে। আরও পড়ুন এবার বিসিএস ক্যাডার ফারহান, ভুলে ভরা গল্পে বিরক্ত দর্শক মঞ্চ থেকে বেতার, টেলিভিশন হয়ে চলচ্চিত্র; সব মাধ্যমেই নিজের অভিনয় প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন সাদেক বাচ্চু। তবে চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পর্দায় তার নেতিবাচক চরিত্র দেখে দর্শক যেমন তাকে নিন্দা করেছেন, তেমনি অভিনয়ের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে ভালোবাসাও দিয়েছেন। আজ গুণী এই অভিনেতার ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবস। ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সাদেক বাচ্চু। তার চলে যাওয়ার পরও বাংলা চলচ্চিত্রে তার অভিনীত অসংখ্য চরিত্র দর্শকের মনে অমলিন হয়ে আছে। সাদেক বাচ্চুর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়। তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুরে। তার আসল নাম মাহবুব আহমেদ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগে চাকরি করলেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে যান। ২০১৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। অভিনয়ের শুরুটা ষাটের দশকেই। ১৯৭২ সালের দিকে ‘গণনাট্য পরিষদ’ থিয়েটারে যুক্ত হন তিনি। সেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক রচনা ও নির্দেশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এরপর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। প্রযোজক আব্দুল্লাহ ইউসুফ ইমামের ‘প্রথম অঙ্গীকার’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে পথচলা শুরু করেন তিনি। এরপর অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন সাদেক বাচ্চু। তবে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৮৫ সালে ‘রামের সুমতি’ সিনেমার মাধ্যমে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নায়কের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। পরে ধীরে ধীরে খল চরিত্রে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন। বিশেষ করে ‘চাঁদনী’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। এরপর থেকে নেতিবাচক চরিত্রে তার উপস্থিতি যেন হয়ে ওঠে দর্শকের কাছে আলাদা এক আকর্ষণ। তার অভিনীত চরিত্রগুলো এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠত যে, পর্দার বাইরে সেই চরিত্রের রেশও দর্শকের মনে থেকে যেত। অভিনেতা নিজেই একটি অভিজ্ঞতার গল্প জানিয়ে বলেছিলেন, একটি সিরিয়ালে রাজাকারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সাদেক বাচ্চু। দর্শকমহলে তুমুল আলোচিত নাটকের এক দৃশ্যে একজনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন সাদেক বাচ্চু। সেই পর্ব প্রচারের পরদিন বোনকে আনতে ট্রেনে জামালপুর গিয়েছিলেন তিনি। স্টেশনে তাকে দেখে দর্শকরা বাদামের খোসা ছুড়ে মারেন, কেউবা আবার পাথর ছুড়তে থাকেন। সেই যাত্রায় কোনোমতে সেখান থেকে আসতে পেরেছিলেন তিনি। চরিত্রকে এতটাই বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই ছিল সাদেক বাচ্চুর অভিনয়ের বড় সাফল্য। সাদেক বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’, ‘জীবন নদীর তীরে’, ‘জোর করে ভালোবাসা হয় না’, ‘তোমার মাঝে আমি’, ‘ঢাকা টু বোম্বে’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘এক জবান’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘বধূবরণ’, ‘ময়দান’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রিয়জন’ ও ‘সুজন সখী’। আরও পড়ুন ৮০-৮১ সালে কেমন ছিলেন দিলারা জামান? ৪০ বছর আগের ছবি প্রকাশ্যে খল চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এই অভিনেতা। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অভিনয়কে ভালোবেসেছেন সাদেক বাচ্চু। পর্দায় তার খল চরিত্র দেখে দর্শক কখনো ক্ষুব্ধ হয়েছেন, কখনো তাকে ঘৃণা করেছেন, আবার কখনো সেই অভিনয়েই মুগ্ধ হয়েছেন।   এলআইএ

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
ইতালিতে হামলা, এবার নিজের সিনেমার টিমের বিরুদ্ধেই অভিযোগ বাঁধনের
ইতালিতে হামলা, এবার নিজের সিনেমার টিমের বিরুদ্ধেই অভিযোগ বাঁধনের

ইতালির ভেনিসে হামলার শিকার হওয়ার পর এবার নিজের সিনেমার টিমের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, হামলার পর ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার টিমের সদস্যরা একরকম তাকে বর্জন করেছেন। আরও পড়ুন হঠাৎ অসুস্থ সোনালি দিনের নায়ক মাহমুদ কলি, চাইলেন দোয়া এমনকি ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বাকি কার্যক্রমে তাদের সঙ্গে অংশ নিতেও তাকে নিষেধ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন এই অভিনেত্রী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফেরেন বাঁধন। এ সময় তার বাবা প্রকৌশলী আমিনুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। দেশে ফিরেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতালিতে ঘটে যাওয়া হামলা ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। হামলার পর ভেনিসে কতটা সহায়তা পেয়েছেন, তা জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সহকর্মীদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি জানিয়ে বাঁধন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সাথে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে আমার কো-অ্যাক্টরদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন।’ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এদিকে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাঁধন অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন সমর্থনের কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধুর সৈনিক পরিচয়দানকারী কয়েকজন তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বাঁধন বেশ কিছু ভিডিও ফেসবুকে দেন। এতে কয়েকজনকে বাঁধনের দিকে তেড়ে যেতে ও ধস্তাধস্তি করতে দেখা যায়। এ সময় বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দেওয়া হয়। ফেসবুক লাইভে বাঁধন বলেন, ‘এখানে আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ফিজিক্যালি হ্যারাস করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই।’ আরও পড়ুন মোশাররফ করিমের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে চান? জানুন কীভাবে এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেন বাঁধন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দেশে ফিরে বাঁধন ইতালির পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, ‘আমাকে ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তারা সব সময় লবিতে থাকত। আমি যে জায়গায় যেতাম, সেখানে সঙ্গে সঙ্গে থাকত। ৮ সেপ্টেম্বর আমি পুলিশ ফাইল করেছি। তারা আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে।’   এমআই/এলআইএ

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
আইফোন ১৮ কিনতে কিডনি বিক্রি! ভাইরাল এআই ছবি বানাবেন যেভাবে
আইফোন ১৮ কিনতে কিডনি বিক্রি! ভাইরাল এআই ছবি বানাবেন যেভাবে

নতুন আইফোন বাজারে এলেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয় নানা রকম আলোচনা। দাম বেশি হলে সেই আলোচনা আরও জমে ওঠে। এবার আইফোন ১৮ নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে এমনই নানা মজার পোস্ট। তার মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া হলো ‘আইফোন কিনতে কিডনি বিক্রি’ ধরনের ছবি। ভাইরাল হওয়া এসব ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কেউ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হাতে ধরে আছেন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স। আবার কোনো ছবিতে অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালেই নতুন আইফোন হাতে হাসিমুখে সেলফি তুলছেন কেউ। ছবিগুলো দেখে মনে হতে পারে, সত্যিই বুঝি দামি ফোন কেনার জন্য কিডনি বিক্রি করেছেন তিনি! আসলে বিষয়টি মোটেই এমন নয়। এগুলো মূলত মজা করে তৈরি করা এআই-জেনারেটেড ছবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সাধারণ একটি ছবি এডিট করে সেখানে হাসপাতাল, ব্যান্ডেজ এবং নতুন আইফোনের মতো নানা উপাদান যোগ করা হচ্ছে। চাইলে আপনিও নিজের ছবি ব্যবহার করে এমন মজার ছবি তৈরি করতে পারেন। আরও পড়ুন একটি ছবি বানাতে এআই কতখানি পানি খরচ করে জানেন? হাসপাতালের বেডে আইফোন হাতে ছবি আপনার ছবিকে হাসপাতালের পোস্ট-সার্জারি দৃশ্যে বদলে দিতে নিচের প্রম্পটটি ব্যবহার করতে পারেন। শুধু ছবিটি আপলোড করে নির্দেশনাটি দিন। Prompt: Transform the uploaded photo into a highly realistic photograph of the same person or people recovering in a modern hospital room after a fictional surgery. Keep their original facial features, identity, hairstyle, skin tone, body proportions and overall appearance clearly recognisable. If the uploaded photo contains two people, keep both people in the scene naturally. Place the person or people on or beside a hospital bed, with realistic hospital clothing, large abdominal bandages and hospital wristbands. Add an IV stand, medical equipment, white bedding and soft clinical lighting. The person or people should be proudly holding exactly one iPhone 18 Pro Max towards the camera, making the phone the clear focus of the photograph. Do not create any additional phones. Make the scene look like a convincing social media photograph with a humorous, exaggerated feel. No blood, open wounds or graphic medical details. অস্ত্রোপচারের পর আইফোন হাতে সেলফি হাসপাতালে চিকিৎসার পর নতুন আইফোন হাতে নিয়ে সেলফি তোলার মতো ছবি বানাতে চাইলে এই নির্দেশনাটি কাজে লাগবে। Prompt: Edit the uploaded photograph into a highly realistic post-surgery hospital selfie while keeping the same person or people completely recognisable. Preserve their faces, hairstyles, skin tones, expressions and general appearance from the original image. Change the setting into a realistic hospital recovery room and add abdominal bandages, hospital wristbands and subtle medical equipment. The person or people should be proudly showing exactly one iPhone 18 Pro to the camera, as if the new phone is the most important thing about their recovery. If there are two people in the original photograph, keep both of them naturally positioned together while showing only one iPhone 18 Pro in the entire image. Make it look like a casual photograph taken on a phone, with realistic lighting, reflections, hands and proportions. Keep the medical elements non-graphic. আরও পড়ুন একটি ছবি বানাতে এআই কতখানি পানি খরচ করে জানেন? হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে হাতে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স আরও একটু সিনেমাটিক বা ভাইরাল পোস্টের মতো ছবি চাইলে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসার দৃশ্য তৈরি করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যবহার করুন এই প্রম্পট-Prompt: Transform the uploaded photograph into a highly realistic photograph of the same person or people leaving a modern hospital after a fictional surgery. Preserve their original identity, facial features, hairstyles, skin tones and natural appearance. Keep one or both people depending on the uploaded photograph. Place them in a hospital corridor or near the entrance, with realistic glass doors, reception areas and subtle medical surroundings. Add visible abdominal bandages and hospital wristbands. Have the person or people proudly display exactly one iPhone 18 Pro Max towards the camera, with the phone clearly visible and treated as the centre of attention. Do not add any second phone. Make the scene look like a candid viral social media photograph, with natural lighting and realistic proportions. Keep all medical details non-graphic ব্যান্ডেজ নিয়েই অ্যাপল স্টোরে হাজির এবার যদি আরও মজার কনসেপ্ট চান, তাহলে হাসপাতাল থেকে সোজা অ্যাপল স্টোরে গিয়ে নতুন আইফোন কেনার দৃশ্যও তৈরি করতে পারেন। এর জন্য এই প্রম্পটটি ব্যবহার করু- Prompt: Edit the uploaded photo into a highly realistic photograph inside an Apple Store. Keep the same person or people from the original photograph clearly recognisable, preserving their facial features, hairstyles, skin tones and general appearance. If the original photo has two people, keep both naturally together. Give the person or people visible abdominal bandages and a hospital wristband, as though they have just come from a fictional surgery. Place them inside a realistic Apple Store with wooden display tables, iPhone displays, bright store lighting and softly blurred customers in the background. The person or people should proudly hold exactly one iPhone 18 Pro after buying it. Make sure there is only one iPhone visible in their hands and no additional phones elsewhere in the scene. The contrast between the hospital bandages and excitement over the iPhone 18 Pro should create the humour. Keep the image photorealistic and non-graphic. আরও পড়ুন ভ্লগিংয়ের জন্য সেরা ৫ ক্যামেরা নিজের মতো ছবিও বানাতে পারবেন শুধু এই চার ধরনের ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না। আপনার পছন্দের যে কোনো ছবি আপলোড করে এআইকে স্পষ্টভাবে জানাতে পারেন, ছবিতে কী পরিবর্তন চান। যেমন-কোথায় দৃশ্যটি হবে, কী পোশাক থাকবে, হাতে কী থাকবে, আলো কেমন হবে কিংবা ছবিটি বাস্তবধর্মী না মজার ধরনের হবে। তবে প্রম্পটে যত নির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া যায়, ফলাফল সাধারণত তত বেশি কাঙ্ক্ষিত হয়। বিশেষ করে নিজের ছবি ব্যবহার করলে মুখের পরিচয়, চেহারার বৈশিষ্ট্য এবং ছবির মূল ব্যক্তিকে অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশ দিলে ফল আরও ভালো হতে পারে। এ ধরনের ছবি মূলত বিনোদন ও মজার কনটেন্ট তৈরির জন্য। তাই হাসপাতাল বা অস্ত্রোপচারের মতো দৃশ্য তৈরি করলে সেটি যে কল্পিত বা এআই দিয়ে তৈরি প্রয়োজনে পোস্টে তা স্পষ্ট করে দেওয়া ভালো। এতে বাস্তব ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির সম্ভাবনাও কমবে। কেএসকে

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
বিমানবন্দরে নেমে যা বললেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
বিমানবন্দরে নেমে যা বললেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বাঁধনের বাবা প্রকৌশলী আমিনুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হামলার ঘটনার পর ইতালির পুলিশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাঁধন বলেন, আমাকে ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তারা সবসময় লবিতে থাকতো। আমি যে জায়গায় যেতাম সেই জায়গাই সঙ্গে সঙ্গে যেত। ৮ তারিখে আমি পুলিশ ফাইল করেছি। ওই জায়গার পুলিশ আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ সাহায্য করেছে। আরও পড়ুন ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ বাঁধনের দৃঢ় ঘোষণা, ‘কেস ফাইল না করে ভেনিস ছাড়ছি না’ তিনি আরও বলেন, যারা আক্রমণ করছে; তারা নিজেরাই সমস্যার মধ্যে পড়ছে। যারা আক্রমণ করছে তারা মনে করছে যে পার পেয়ে যাবেন। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছেন। এমন না যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, অথবা পানি মেরেছে। আমার গায়ে হাত তুলেছে তারা। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। তারা তাদের জায়গা অনিরাপদ করছে; আমাদের না। দলকানা না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, আপনার পরিবার সাফার করবে। কিন্তু দলের যে বড় বড় নেতারা আছেন, যারা আপনাদের অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে উসকে দিচ্ছে আপনাদের। তাদের জীবন কিন্তু আপনাদের না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনারা বাংলাদেশে টাকা পাঠান। আপনারা এগুলো আর প্লিজ কইরেন না। আরও পড়ুন ভেনিসে কঠিন অভিজ্ঞতার পর বাঁধনের আবেগঘন বার্তা ভেনিসে হামলার শিকার বাঁধন, সেই সিনেমার ঐতিহাসিক জয় এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন বলে জানান বাঁধন। পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও জানান এই অভিনেত্রী। গত সপ্তাহে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।’ দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি সেখানে জিতে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডসের প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো পুরস্কার। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে জানান বাঁধন। তার অভিযোগ, তাকে পানি, কোমলপানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার হাত থেকে মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিলেন। আরও পড়ুন সংস্কৃতিমন্ত্রী / অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাঁধনের আরও অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনার পর বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবাদ ও সমর্থনের বার্তা এসেছে। এমআই/এমএমএআর

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
থাই-হাই স্লিট গাউনে নেটপাড়ায় ঝড় তুললেন ঋতাভরী
থাই-হাই স্লিট গাউনে নেটপাড়ায় ঝড় তুললেন ঋতাভরী

টালিউড সুন্দরীদের মধ্যে ঋতাভরী চক্রবর্তীর আলাদা নামডাক আছে। জিরো ফিগারের প্রচলিত ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের ছন্দেই  হাজির হন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক ফটোশুটে এমনই এক গ্ল্যামারাস ও বোল্ড লুকে ধরা দিয়েছেন তিনি । রইল বিস্তারিত...ফ্যাশন নিয়ে বরাবরই এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসেন টালিউড ডিভা ঋতাভরী চক্রবর্তী। সম্প্রতি এক ফটোশুটে ব্রাউন লেদার সোফায় বসে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছেন তিনি। তাঁর পরনে ছিল ডিপ অলিভ গ্রিন বা জলপাই রঙের স্যাটিন গাউন। ফ্লোর ছোঁয়া এই গাউনটির নকশায় ফুটে উঠেছে বোল্ডনেসের ছোঁয়া। থাই-হাই স্লিট লুকটিতে যোগ করেছে বাড়তি আবেদনময়তা। স্ট্র্যাপ লেস ডিজাইন আর বডিস জুড়ে সূক্ষ্ম সোনালি এমবেলিশমেন্টের কারুকাজ এনেছে রাজকীয় আবহ।লুকের গ্ল্যামার আরও বাড়িয়েছে ঋতাভরীর মেকআপ। লেন্স পরা চোখে গাঢ় স্মোকি কাজল, শিমারি মেটালিক আইশ্যাডো ও ড্রামাটিক আইল্যাশ। গালে উষ্ণ পিচ শেডের ব্লাশ আর ঠোঁটে গ্লসি ব্রাউন-ন্যুড লিপস্টিক। সব মিলিয়ে মেকআপে ছিল সফট গ্ল্যামের সঙ্গে চোখে পড়ার মতো আবেদন।জুয়েলারিতেও আভিজাত্য ধরে রেখেছেন অভিনেত্রী। কানে শোভা বাড়িয়েছে জমকালো গোল্ডেন ড্রপ ইয়াররিংস। হাতে মেটালিক স্টেটমেন্ট ব্রেসলেট ও আংটি। আর নখের উজ্জ্বল লাল নেলপালিশ পুরো লুকের নিউট্রাল টোনে এনেছে দারুণ বৈচিত্র্য। এই বোল্ড লুকের সঙ্গে খোলা চুলই বেছে নিয়েছেন ঋতাভরী। ওয়েভি ও ভলিউমিনাস চুলগুলো বাতাসে আলতো করে উড়ছিল। সবশেষে সুন্দরী বেছে নিয়েছেন, কালো পয়েন্টেড-টো হাই-হিল মিউলস। সব মিলিয়ে ঋতাভরীর এই লুক ছিল একই সঙ্গে সাহসী, আবেদনময় ও রাজকীয়।

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
নারী অধিকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হলেও প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি
নারী অধিকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হলেও প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি

বাংলাদেশে নারীদের প্রকৃত অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, নারীবাদ যতটা না নারীর স্বার্থে কাজ করে, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে নারীবাদের নামে বহু সংগঠন ও আন্দোলন হয়েছে, সভা-সমিতি হয়েছে। কিন্তু নারীর নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহিলা ও পরিবার বিষয়ক উপকমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারীর প্রকৃত সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চায়। এজন্য চলতি সেশনে দলের নারী উইংকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী পাটওয়ারী বৈঠকে দেশব্যাপী দলের সব শাখায় নারী সদস্যদের সক্রিয় করা, ছাত্রী উইংয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়া ছাত্রী ও মহিলা ইউনিটের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এমইউ/কেএসআর

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
বিচার চেয়ে রুনির ভাইয়ের আবেদন, যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর
বিচার চেয়ে রুনির ভাইয়ের আবেদন, যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু, তা এখনো জানেন না বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রুনির ভাই নওশের আলম ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা জানান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নওশের আলমের আবেদনটি তারা খতিয়ে দেখবেন। এ হত্যাকাণ্ড ‘ওয়াইডস্প্রেড’ বা ‘সিস্টেমেটিক’ (ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগত) অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। যদি এর আওতায় না পড়ে, তাহলে বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি পড়ে, তাহলে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আরও পড়ুন চিফ প্রসিকিউটর / সাগর-রুনি হত্যায় এক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততার তথ্য মিললো তিনি বলেন, আজ নওশের আলম একটি লিখিত আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। তারা প্রত্যাশা করছেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করুক। অথবা তদন্তে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পিবিআইকে দিয়ে সহযোগিতা করা হোক। আমিনুল ইসলাম বলেন, নওশের আলম যে আবেদন দিয়েছেন, সেটার ওপর তদন্ত করার আইনগত এখতিয়ার কতটুকু ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আছে, তা আমি জানি না। আবেদনটি তারা দিয়েছেন, আমরা খতিয়ে দেখবো। আবেদনে যা বলা হয়েছে নওশের আলমের আবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ২টা থেকে পরদিন সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পার হলেও এখনো এ মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও র‍্যাবের পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তবে টাস্কফোর্স গঠনের প্রায় দুই বছর হতে চললেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। নওশের আলম আবেদনে বলেন, পরিবারের সদস্যরা চান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনুক। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। আরও পড়ুন ডিভাইস মিসিংয়ের সূত্রে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় নতুন ক্লু অভিযোগটি ‘কমপ্লেইন্ট’ হিসেবে রেজিস্টারভুক্ত করে মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানান তিনি। যেভাবে তদন্ত এগিয়েছে সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। পরে তদন্তভার যায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি)। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব। ঘটনার এক যুগ পর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। গত বছরের নভেম্বরে র‍্যাবের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র বুঝে নেয় পিবিআই। আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার তারিখ এখন পর্যন্ত ১২৯ বার পিছিয়েছে। সর্বশেষ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এফএইচ/ইএ

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
গণপূর্তের কাঠের কারখানায় ভুতুড়ে নীরবতা, সরকারি সব কাজ পাচ্ছে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান
গণপূর্তের কাঠের কারখানায় ভুতুড়ে নীরবতা, সরকারি সব কাজ পাচ্ছে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান

  রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানা। একসময় সেখানে তৈরি হতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দরজা-জানালা, আদালতের আসবাব, বিভিন্ন দপ্তরের কক্ষের টেবিল-চেয়ার, এমনকি শৈল্পিক কাঠের নকশাও। কর্মচঞ্চল সেই কারখানাজুড়ে এখন কেবল ভুতুড়ে নীরবতা। যেসব শেডে সারা দিন কাঠ কাটার শব্দ, মেশিনের গর্জন আর শ্রমিকদের ব্যস্ততা থাকত; সেখানে পড়েছে ধুলাবালির স্তর। প্রায় এক দশক ধরে কার্যত অচল হয়ে থাকা সরকারি এ কারখানার আশপাশে যদিও গড়ে উঠেছে আসবাবের অনেক কারখানা ও দোকান। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ যাচ্ছে ব্যক্তিমালিকানাধীন এসব প্রতিষ্ঠানের হাতেই। আর সেগুলো পাইয়ে দিতে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য রুচিশীল ও আলংকারিক কাঠের আসবাব তৈরির উদ্দেশ্যে পাকিস্তান আমলে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় যুক্ত করা হয় কাঠ প্রক্রিয়াকরণের আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। দীর্ঘ সময় ধরে এখান থেকেই সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন স্থাপনায় প্রয়োজনীয় কাঠের সামগ্রী। বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চালাতে কারখানার ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক। কিন্তু এক দশক আগে নানা কারণ দেখিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর সরকারি প্রকল্পের আসবাব তৈরির কাজ চলে যায় আশপাশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয়। গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, সরকারি বিভিন্ন ভবনে গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত দরজা-জানালা ও কাঠের আসবাবের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রকল্পে উদ্বোধনের আগেই দরজা-জানালা নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অথচ অতীতে সরকারি কাঠের কারখানায় তৈরি আসবাব এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে, যার মান নিয়ে নেই তেমন অভিযোগ। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-৬ নম্বরে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্পের পাশে থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানার মূল ফটক বন্ধ। আবাসন প্রকল্পের ভেতর দিয়ে বিকল্প পথে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বিশাল চত্বরজুড়ে সারিবদ্ধ ১৫টি শেড। রয়েছে কারখানা, মেকানিক্যাল স্টোর, গ্যারেজ ও স্টাফ কোয়ার্টার। কিন্তু অধিকাংশই তালাবদ্ধ। কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কিছু আসবাব। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। ফাটল ধরেছে ভবনগুলোর দেয়াল, ছাদের টিন মরিচা ধরা, চারপাশে জরাজীর্ণ পরিবেশ। আবার একটি শেডে হাঁস-মুরগি লালনপালন করতে দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইএম কাঠ কারখানা উপবিভাগ গণপূর্তের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। অন্তর্বর্তী সরকার সেটি পুনরায় সচলের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও পরবর্তী সময়ে তা আর এগোয়নি। বন্ধ কারখানা চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্তের ইএম কাঠের কারখানা উপবিভাগের প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মাদ আনোয়ার হোসেন ডেইলি ভয়েস নিউজ কে  বলেন, ‘চালু হয়নি ব্যাপারটা সে রকম না। বিভাগটির কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় দুই শতাধিক ছোট-বড় আসবাবের কারখানা ও শোরুম গড়ে উঠেছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আসবাবের বড় অংশই এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া হয়। ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালগুলোকে সম্প্রতি ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে প্রয়োজনীয় আসবাব সরবরাহে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কাজ দেয়া হয়েছে নয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের দরপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে অংশ নেয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর যান্ত্রিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট, সিজনিং প্লান্ট, ল্যাকার প্লান্টসহ কাঠ ও ইস্পাতের আসবাব উৎপাদন কারখানা থাকা বাধ্যতামূলক। তবে যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পেয়েছে তাদের অনেকেরই কোনো প্লান্ট নেই। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাঠের সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি দেশের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। উন্নয়ন প্রকল্পে অতিমূল্যায়ন, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের ঘটনা বারবারই ঘটছে। আর এর জন্য এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের যোগসাজশে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রে অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের একটি অংশ পারস্পরিক যোগসাজশে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বা কাটমানির বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল উত্তোলনের মতো অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এসব অনিয়মের তদন্তও একই প্রভাববলয়ের ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজাউল করিম সোহাগ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে আসবাবপত্র ও কাঠসংক্রান্ত ক্রয় নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেটিও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি উদাহরণ। এসব ঘটনা প্রমাণ করে এখনো সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে।’ জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ক্রয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেটিকে অকার্যকর রেখে একই ধরনের পণ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহের যৌক্তিকতা নেই। বরং সরকারি কারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা গেলে একদিকে যেমন সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ রেখে পাশের নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি কাজ করানোর পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ডেইলি ভয়েস নিউজ কে তিনি বলেন, ‘বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের সময়ে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার একটি বড় অংশ সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। দুঃখজনকভাবে সেই চর্চার ধারাবাহিকতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু কীভাবে গণপূর্তের কাঠের কারখানা বন্ধ হয়ে গেল, কেন বন্ধ হলো এবং সে সিদ্ধান্তের কোনো দালিলিক ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে না—এটি প্রশাসনিক জবাবদিহির বড় ধরনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।’ কারখানাটি বন্ধ থাকার ফলে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে এবং এর জন্য কারা দায়ী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কারখানাটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই বর্তমান সরকারের উচিত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা।’ প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ থাকা গণপূর্ত বিভাগের কাঠের কারখানাটি পুনরায় চালু করা গেলে সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত কাঠের আসবাব ও সরঞ্জামের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) খালেকুজ্জামান চৌধুরী। তার মতে, নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকলে সরকারের একদিকে যেমন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, অন্যদিকে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহও নিশ্চিত করা যাবে। খালেকুজ্জামান চৌধুরী  ডেইলি ভয়েস নিউজ কে বলেন, ‘নিজস্ব কারখানা থাকলে আমাদের অনেক সুবিধা হয়। ঠিকাদারদের মাধ্যমে সবসময় ভালো মানের উপকরণ পাওয়া যায় না। কিন্তু নিজস্ব কারখানা থাকলে আমরা নিজেরাই মান নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। বিশেষ করে আদালতসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য যেসব আসবাবপত্রে তুলনামূলক কম অলংকরণ থাকে, সেগুলো নিজস্ব কারখানাতেই দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন করা সম্ভব।’ একসময় কারখানাটিতে বিপুলসংখ্যক ওয়ার্ক-চার্জড কর্মী কাজ করতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবসরের পর তাদের পদ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানাটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে নতুন জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে সরকারি এ উৎপাদন ইউনিট আবারো সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।’

News
জুলাই ৯, ২০২৬
0
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকায় বসা নিয়ে তর্ক বির্তক ঘুষির আঘাতে একজনের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়।       ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।       হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান।       তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি।   এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান।       এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

News
এপ্রিল ২৭, ২০২৬
0
২১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাগজ পরীক্ষায় ‌কারসাজি
২১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাগজ পরীক্ষায় ‌কারসাজি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৩১ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে পুরোদমে। কাজ পাওয়া ছাপাখানায় কাগজ দিচ্ছেন কাগজকল মালিকরা। তাতে করা হচ্ছে মুদ্রণ। নিয়ম অনুযায়ী- মুদ্রণের আগে কাগজকল থেকে আসা কাগজের মান ল্যাবে (পরীক্ষাগার) পরীক্ষা করা হয়। কাগজ মানে উত্তীর্ণ হলে তাতে ছাপার অনুমোদন দেওয়া হয়। অথচ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই ছাপার এ কাগজ পরীক্ষায় ঘটছে ভয়াবহ কারসাজি। নিম্নমানের কাগজও পেয়ে যাচ্ছে অনুমোদন। কোনো ল্যাব (পরীক্ষাগার) টেস্ট ছাড়াই ঘুসের বিনিময়ে নিম্নমানের কাগজের অনুমোদন দিচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ভাড়া করা নামসর্বস্ব একটি ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান। টেন্ডারের মাধ্যমে ৫২ লাখ টাকায় তদারকির কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি’। এ বছর মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণি ও ইবতেদায়ির ২১ কোটি ২৮ লাখেরও বেশি পাঠ্যবই ছাপা ও কাগজ তদারকির দায়িত্ব পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বই ছাপাতে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। অথচ কাগজ পরীক্ষার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবের অধিকাংশ মেশিন নষ্ট। নেই স্থায়ী কোনো কেমিস্টও (কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ)। আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ের ভূতুড়ে চাহিদায় ৩০০ কোটি টাকা লুটপাটের ছক অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি বড় ছাপাখানার মালিক যোগসাজশ করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে ছাপাখানাগুলো এ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হাজার হাজার টন নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছে। এমনকি কাগজকলগুলোর কেমিস্টরাই (বিশেষজ্ঞ) এসে স্বতন্ত্র তদারককারী এ প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে কাগজ পরীক্ষা করে ছাড়পত্র বানিয়ে নিচ্ছেন। অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে নিম্নমানের কাগজ। তাতেই চলছে বই ছাপা। পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কাজ পাওয়ার জন্য ধার করা মেশিন এনে ল্যাবে রেখেছিল। কাজ পাওয়ার পর সেই মেশিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি এনসিটিবির নজরেও এসেছে। তদন্ত করে প্রমাণ মিললে প্রয়োজনে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার কথা ভাবছে এনসিটিবি। কাজ বাগিয়ে নিতে প্রতারণা পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপার মান ঠিক রাখতে প্রতি বছর স্বতন্ত্র ইন্সপেকশন (তদারকি) প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। টেন্ডারের মাধ্যমে এ নিয়োগ করা হয়। এবার চতুর্থ দরদাতা হিসেবে ইন্সপেকশনের কাজ পেয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। টেন্ডার মূল্যায়ন চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির অফিস, ল্যাব, কতজন কেমিস্ট ও কর্মচারী আছে, তা সরেজমিনে যাচাই করে এনসিটিবি। এবারও তা করা হয়েছে। কিন্তু ওই সময় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল তার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে মেশিন ধার করে ল্যাবে রেখেছিলেন। পাশাপাশি খণ্ডকালীন একজন কেমিস্টকে (বিশেষজ্ঞ) দেখানো হয়। আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ের ‘ভূতুড়ে’ চাহিদা ঠেকিয়ে শতকোটি টাকা সাশ্রয় অনুসন্ধানে জানা যায়, টেন্ডারের কাজ পাওয়ার পর মেশিনগুলো ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির ল্যাব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। আনা হয় পুরোনো ও নিম্নমানের কিছু মেশিন। এখন নেই কোনো কেমিস্টও। প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ বেলাল নিজেই এ ঘটনা স্বীকার করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেশিনগুলো আমার ছোট ভাইয়ের ছিল। রাগারাগি হওয়ায় ভাই মেশিনগুলো নিয়ে গেছে।’ ল্যাবে সরেজমিনে যা দেখা গেল মতিঝিলের সিটি সেন্টারের ২৫ তলায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিডি সার্ভিসেসের অফিস। সেখানে গত ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসে দুজন কর্মকর্তা ও একজন পিয়ন। তারা কম্পিউটারে একের পর এক ছাপাখানার কাগজের মানের প্রতিবেদন তৈরি করছেন। অথচ সেগুলোর কোনো পরীক্ষা করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে অনুমাননির্ভরভাবে কাগজের ওজন (জিএসএম), ব্রাইটনেস (উজ্জ্বলতা), বার্স্টিং ফ্যাক্টর (ফেটে যাওয়া প্রতিরোধক), অপাসিটি (চোখে দেখতে স্বস্তিদায়ক), বাল্ক (কাগজের পুরুত্ব), গ্লোস (চকচকে) ও স্টিফনেস (বেঁকে যাওয়া প্রতিরোধক) বসিয়ে দিচ্ছেন। অথচ পাশেই থাকা কাচঘেরা ল্যাব বা পরীক্ষাগারে কেউ নেই। নামসর্বস্ব কিছু মেশিন পড়ে আছে। কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। পরীক্ষার আয়োজনও নেই। আরও পড়ুন বই ছাপায় সিন্ডিকেট / আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি কিছুক্ষণ পরই অফিসে আসেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল। কেমিস্ট না থাকা ও ল্যাব অচল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শেখ বেলাল বলেন, ‘আমার কেমিস্ট আছে। তিনি এখন বাইরে।’ কেমিস্ট কখন আসবেন-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই। তবে টানা দুই ঘণ্টা তার অফিসে বসে থেকেও কেমিস্টের দেখা মেলেনি। একপর্যায়ে শেখ বেলালকে তার ল্যাবের মেশিনগুলো সচল কি না তা দেখাতে বলা হলে তিনি কাগজের জিএসএম মাপার মেশিনে পরীক্ষা করে দেখান। সেখানে একই কাগজ রাখার পর একবার ৬২ জিএসএম, আবার ৭২ জিএসএম দেখাতে থাকে। এতে মেশিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে শেখ বেলাল নিজেই বলেন, ‘হয়তো এখন মেশিনের মাথায় গন্ডগোল হয়েছে।’ বাকি মেশিনগুলো কেমিস্ট ছাড়া সচল করা যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আরও পড়ুন ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপাবে এনসিটিবি, খরচ ১৭০০ কোটি টাকা একইভাবে কোপ টেস্টার মেশিন দিয়ে কাগজের পানি শোষণের সক্ষমতা এবং বাস্টিং ফ্যাক্টর মেশিন দিয়ে কাগজের ছেঁড়ার প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এ দুটি মেশিনও অকেজো। ল্যাবের এমন বেহাল দশার ছবি ও কাগজ পরিমাপে অসামঞ্জস্যতার ভিডিও জাগো নিউজের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এনসিটিবির মিনি ল্যাবেও ভুয়া মেশিন সরবরাহ! ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডি নামের এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু নিজের অফিসের ল্যাবেই অচল মেশিন রেখেছে, তা নয়। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে বসানো মিনি ল্যাবেও ভুয়া মেশিন দিয়ে প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজ পাওয়ার চুক্তির শর্ত অনুযায়ী- পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অফিসে সব মেশিন দিয়ে একটি মিনি ল্যাব তৈরি করে দিতে হয়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি যে ল্যাব বসিয়ে দিয়েছে, তাতে ব্রাইটনেস মাপার মেশিন না দিয়ে হোয়াইটনেস মাপার মেশিন দিয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে হোয়াইটনেস মেশিনে ব্রাইটনেস মেশিনের নাম-কাজসহ বিস্তারিত তথ্যের লেবেল লাগিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এ দুটি মেশিনের কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আরও পড়ুন প্রাথমিকের বই ছাপায় অগ্রগতি, মাধ্যমিকে মাত্র শুরু কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞরা (কেমিস্ট) জানান, ব্রাইটনেস ও হোয়াইটনেস পরীক্ষার মেশিন আলাদা। ব্রাইটনেস হলো- কাগজ নির্দিষ্ট আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে কতটা আলো প্রতিফলিত করে তার পরিমাপ। আর হোয়াইটনেস হলো- কাগজ কতটা সাদা তা পরিমাপ করে। কিন্তু এনসিটিবি এবার সাদা কাগজে বই ছাপাচ্ছে না। ফলে হোয়াইটনেস মেশিন দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। কাগজকলের লোক দিয়েই মান পরীক্ষা! বই ছাপার কাগজ সরবরাহে দেশীয় কাগজকলগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রেশ পেপার মিল। এবারও ছাপাখানাগুলোতে কাগজ দিচ্ছে ফ্রেশ। অথচ এ কাগজল কলে চাকরি করা একজনকে খণ্ডকালীন কেমিস্ট নিয়োগ করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। ওই কেমিস্টের নাম আব্দুল্লাহ আল শাকিল। এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কেমিস্ট শাকিল বিনা বেতনে কাজ করছে। মূলত ফ্রেশ পেপার মিলের পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, ফ্রেশের দেওয়া কাগজই আবার তৃতীয়পক্ষের হয়ে ফ্রেশে চাকরি করা শাকিল বৈধতা দিচ্ছেন। এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত।’ বিষয়টি নিয়ে কেমিস্ট আব্দুল্লাহ আল শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ওখানে (ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি) চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। কিন্তু চাকরি তো করি না।’ কিন্তু তার নাম ও মোবাইল নম্বরসহ একটি তালিকা এনসিটিবিতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক তাকে কেমিস্ট দাবি করেছেন, বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’ আরও পড়ুন এইচএসসি পরীক্ষা / ৫ বছর পর পূর্ণ সিলেবাস, সময় স্বল্পতায় প্রস্তুতির ঘাটতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘শাকিল যে ফ্রেশের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, তা জানতাম না। জানলে তাকে নিতাম না।’ কাগজ অনুমোদনে টনপ্রতি ঘুস! এবার ৩১ কোটি বই ছাপাচ্ছে এনসিটিবি। এতে কাগজ প্রয়োজন হচ্ছে ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তার মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ২১ কোটির বেশি বই ছাপাতে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন কাগজ লাগবে। এ কাগজের মান যাচাই করছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি। এরই মধ্যে নামকাওয়াস্তে পরীক্ষা করে প্রায় তিন হাজার টন কাগজ অনুমোদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।- অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা, চেয়ারম্যান, এনসিটিবি অভিযোগ রয়েছে, কাগজকল ও ছাপাখানা মালিকরা যোগসাজশ করে টেন্ডারে যে মানের কাগজে বই ছাপার কথা বলা হয়েছে, তার থেকে নিম্নমানের কাগজ দিচ্ছে। এ অনিয়ম ধরার দায়িত্ব ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু টনপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা করে ঘুস নিয়ে নিম্নমানের কাগজও ছাড় করিয়ে বৈধতা দিচ্ছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি। সম্প্রতি দোয়েল প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা প্রিন্টার্স, ইস্টার্ন প্রিন্টার্স অফিসে বসে ছাপাখানা মালিক ও কাগজকল মালিকদের সঙ্গে দফারফা হয়। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন ছাপাখানা মালিক জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন পাঠ্যবই পরিমার্জনে দলমত বিবেচনায় নেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জাগো নিউজকে জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে শুরুতে টনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং মাঝামাঝি সময়ে টনপ্রতি দুই হাজার টাকা দিতে হবে। কারণ ছাপার শুরুর দিকে খারাপ কাগজ তুলনামূলক কম দেওয়া হয়। মাঝামাঝি ও শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে খারাপ কাগজ বেশি চালিয়ে দেওয়া হয়। সেজন্য দুই সময়ে দুই রকম রেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘুসগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিক শেখ বেলাল বলেন, ‘এ অভিযোগ একেবারে মিথ্যা।’ কিন্তু পরক্ষণে তিনি একাধিক বড় ছাপাখানা মালিককে এ প্রতিবেদকের সামনে বসে মোবাইলে কল করে সহযোগিতা চান। সংবাদ যেন প্রকাশিত না হওয়া, তার জন্য তদবির করতে অনুরোধও করেন। সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের, নিয়ন্ত্রণে বড় কয়েকটি ছাপাখানা বিনামূল্যে পাঠ্যবই ছাপানোর সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের। কাগজকল, ছাপাখানা ও ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করেই প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এ কাজ করে। নিম্নমানের কাগজে বই ছাপিয়ে দিয়ে বিরাট অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন ছাপাখানা ব্যবসায়ে জড়িত বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে কাজ করলে বইয়ের মান ভালো হয়। কিন্তু কখনই তা করে না। কারণ ‍প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের কাগজ ও ছাপার কাজ ইন্সপেকশনে যে ‍দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়, তারাও ছাপাখানা মালিকদের হয়ে কাজ করে।’ আরও পড়ুন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে ওসমান হাদির বীরত্বগাথা তোফায়েল খানের ভাষ্য, ‘কয়েকটি ছাপাখানা মালিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবির কর্মকর্তাদের পেছনে টাকা ঢেলে পছন্দের ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়। এ সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র ভাঙতে না পারলে পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপানোর মান কখনই ঠিক হবে না।’ যেভাবে কাজ করে ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান এ বছর এনসিটিবির বই ছাপার কাজ করছে ১১৪টি ছাপাখানা। ছাপাখানাগুলো বই ছাপার আগে যে কাগজ এনে রাখে, তা থেকে দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে (র‌্যানডম) কাগজ সংগ্রহ করে আনে ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। পরে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। টেন্ডারে যে বিষয়গুলো এবং তার প্যারামিটার ঠিক করে দেওয়া হয়েছে, তা কাগজে আছে কি না সেটি ল্যাবে পরীক্ষা করে এনসিটিবিকে প্রতিবেদন দেয় ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ছাপাখানাগুলোকে নির্দিষ্ট কাগজ অনুমোদন এবং বই ছাপা শুরু করতে নির্দেশনা দেয় এনসিটিবি। বই ছাপার কাগজ পরীক্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন পাঠ্যবই ছাপার কাজে কাগজ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাগজের ওজন, পুরুত্ব, উজ্জ্বলতা, চোখে সহনীয়, ছেঁড়া প্রতিরোধক, পানি শোষণ ক্ষমতাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হয়। কারণ শিক্ষার্থীরা এক বছর এ বই পড়ে। শিশুদের চোখের ক্ষতি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বই যেন সহজেই ছিঁড়ে না যায়; ছাপা যেন উঠে না যায় এবং পানি বা তরল পড়লে যেন টিস্যু পেপারের মতো গলে ছিঁড়ে না পড়ে, সে কারণে কাগজ পরীক্ষা করে তারপর বই ছাপানো হয়। বিপাকে এনসিটিবি, তবুও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস বই ছাপার কাজ আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে হবে। বই ছাপাতে হলে কাগজের অনুমোদন করানোর নিয়ম রয়েছে। এ কারণে এখন হুট করেই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করলে বিপাকে পড়বে এনসিটিবি। তারপরও অভিযোগগুলোকে ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।’ এএএইচ/ইএ

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
রূপবতী ও রূপহীনাদের গল্প
রূপবতী ও রূপহীনাদের গল্প

গল্পটি প্রকাশিত হয় প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকীতে ২০০৫ সালের ১১ নভেম্বর। এত দিন শুধু কাগজের পাতাজুড়ে থাকা সেই গল্পটি আজ অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।শহরের রূপবতী এক কন্যা—অতিরূপসী, যেন দেবচন্দদিবাকর মোহনীয়া সে, খুব সম্ভবত যৌবনের দ্বারে উপনীত হওয়ামাত্র উন্নাসিকা হয়ে উঠেছিল দুর্দান্ত রূপের গরিমায়—স্পর্ধিত এক দেমাগে তখন সবকিছু তুচ্ছতাচ্ছিল্য; আর শহরের পুরুষ সকলের দৃষ্টির ঔত্সুক্যই তো প্রমাণ করে তত্তুল্য সুন্দরী এই শহরে আর একজনও নেই। সুতরাং দুর্বহ সৌন্দর্যের ঢেউ ভাঙে, ঝপাং শব্দ হরদম যখন–তখন, কিন্তু তারপরও একদিন, যে নাকি সর্বক্ষণ পুরুষের সম্ভ্রম ব্যবহার আর অদম্য কৌতূহলের লোভ–থই-থই নিমগ্ন দৃষ্টি দেখে অভ্যস্ত, সেই নারীর বিশ্বাসে ফাটল ধরিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে এক যুবক ওর অনিন্দ্যসুন্দর রূপশ্রী থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। সুন্দরী তরুণীর অকরুণ চিত্তের স্থির অহংবোধে যেন তির ছুড়ল কেউ অব্যর্থ হাতে, রূপসীর হৃদয় উপহত হলো ওর প্রতি যুবকের অনাগ্রহ ব্যবহার দেখে—এত দিন হৃদয় ওর থমকে-দমকে মহারানির মতোই পুরুষ মানুষের হৃদয়-রক্তের অনুলেহ দ্বারা স্নাত হয়ে আসছিল, সন্দেহ নেই যে পরমা সুন্দরী কুমারী সে, আর তার ওপর চর্চিত প্রসাধনে সে বরাবর অনন্যা—অধরোষ্ঠে রমণীয় হাসি তখনো মোহজনক, চোখের কজ্জল দর্শনে বিদ্যুত্স্পৃষ্টতার তড়িত্প্রবাহ, সে জানে তার চেহারায় কুহেলিকার উপলক্ষণের কথা, তারপরও কেন—কেন, কেন যে ওই দুর্বিনেয় যুবকের বৈমুখ্য!কন্যা বাড়িতে এসে ছুটে গেল আয়নার সম্মুখে। সেই মুখ-চোখ-নাক, সেই ভ্রূভঙ্গি—সব ঠিকঠাক আগের মতো, কাল যেমন ছিল, তবে কেন ওই দুর্মুখ যুবক মুখ ঘুরিয়ে তাকে রেখে অন্য কোনো বিষয়ে মনোযোগী হলো? কী এক উন্মন ভাবের সৃষ্টি হয় ওর রূপ-চৈতন্যে—লোকটি কি মানুষ! মানুষ হলে কী রূপ মানুষ!! ওর অস্তিত্বে এক নতুন দুর্বোধ্য ঢেউ জটিল অনুভূতি সৃষ্টি করে হঠাৎই ঝিকা মারে যেন, ভীষণভাবে বিষম খেয়ে এখন সে স্থির, আশ্চর্য স্থির হয়ে সে নিজেকে দেখছে। যুবক ওর সৌন্দর্যকে অবহেলা করেছে—প্রাবৃত অহংকারের হৃদয় এখন অনলে জ্বলছে, ক্ষুব্ধ মনে ফণা তুলে ফোঁস শব্দও তোলে কি তোলে না, জানি না, আর সে নিজেই কি জানে সে তখন কী করছে না করছে, কী জানি! ঘোরের ভেতর আয়নার কাচের ওপর দৃশ্যত নিজের প্রতিবিম্বের দিকেই তাকিয়ে আছে সে অনেকক্ষণ ধরে, সম্মুখের এই প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে সে স্বীয় প্রতিচ্ছবি দেখছে না, যেন অন্য কোনো দৃশ্য দেখছে, কিংবা কিছুই দেখছে না, সে শুধু বিষে জর্জরিত হয়ে একরূপ শীতল ছোবল অনুভব করতে থাকে অন্তরে অন্তরে। সখী, সখীরে, আজ আমার হৃদয়ে লেগেছে ঘাত, কোথায় বৈদ্য, কোথায় ওষুধ!দুই.এবার বলি এক অজানা শ্রীহীন কন্যার কথা—কন্যার রূপ নেই তো কী, যৌবন এল যথারীতি। তবে বাদ্যহীন বাজনায়, দীনহীন বেশে খুব নীরবে যেন, চুপি চুপি, কেউ জানল কি জানল না, যৌবনাবতীর দিকে কেউ ঔত্সুক্য নয়নে তাকাল না। কন্যাকুমারী যৌবনপ্রাপ্তির পর থেকেই শহরের পুরুষ সকলের দৃষ্টিতে দেখে আসছে অবজ্ঞা, উপেক্ষা, উদাসীনতা। এতে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। কখনো সে নিজের অন্তরের কাছে কিংবা অপরের কাছে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেনি। সে নিজের ভেতর এক বিশ্বাসের আত্মপ্রত্যয় গড়ে তুলতে পেরেছিল, যা তাকে ভাবতে সাহায্য করত পুরুষের দৃষ্টিতে রমণীয় হওয়াই নারীর একমাত্র কাজ নয়, আরও অনেক দূরচরণীয় কাজ করার আছে নারীর জন্য—এ বিশ্বাস তার অটল, ধ্রুবতারার মতোই উজ্জ্বল, আজ পর্যন্ত চিড় ধরাতে পারেনি কেউ, আঁধারের ছায়া নামাতে পারেনি এ বোধে। আসলে সে একটি কঠিন বিষয়ের তুখোড় ছাত্রী ছিল। সমবয়সী পুরুষবন্ধুরা ওর প্রতিভায় ঈর্ষান্বিত হচ্ছে, প্রতিযোগিতায় তারা তার কাছে পরাস্ত, এতেই এই নারীর সুখ এবং এ নিয়ে তার ভালো লাগার জগৎ—বেশ তো আছে সে।বেশ তো ছিল সে, কিন্তু সেই-ই আজ অনুভব করল একজন মুগ্ধ দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। হ্যাঁ, এক সুদর্শন যুবকের দৃষ্টি-পুত্তলিতে নিজ ছায়া অনুমান করতে পেরে সে যেন নিমেষেই অন্য আরেকজন হয়ে গেল। যুবক গায়ক স্টেজে দাঁড়িয়ে গান গাইছে—প্রথমত আমি তোমাকে চাই—শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই। বিরাট হলঘরভর্তি মানুষকে উপেক্ষা করে যুবকের আগ্রহী দৃষ্টি যখন তার দিকেই ধাবিত হয়ে স্থির হচ্ছে, তখন সে ঘেমে-নেয়ে থির থির করে কেঁপে উঠছে। এরূপ কেন হচ্ছে তার—বুকের ভেতর রিনরিনি বৃষ্টির ধ্বনি, অনুপ্ত বাসনায় এ কী অজানা ভয়ংকর ঢেউ! শ্রীহীন কন্যার নারীমন এক আশ্চর্য লজ্জা আর সংসক্তির পুলকে দুলে উঠল—সে নত চোখে বসে বসে এই দৃষ্টিপাতের কারণ খুঁজল, পেল না—সে তখন নিজের সারাটি জীবন তছনছ করে খুঁজতে থাকে এরূপ দৃষ্টিতে আর কেউ ওর দিকে তাকিয়েছিল কি না, কিন্তু না, কে তাকাবে তার দিকে? এরূপ দুর্লক্ষ দৃষ্টিপাতের তাজ্জব-বাস্তব-সত্য ঘটনা এই প্রথম। ওই দুটি চোখের আমন্ত্রণভরা দৃষ্টির কারণে এই নারীর পুরোনো জগৎ পাল্টে একেবারে আলাদা এক নয়া জগতের সৃষ্টি হলো। সে জানতই না যে পুরুষের দৃষ্টিতে একরূপ আগুন থাকে, যে আগুনে কাগজের মতোই পুড়তে থাকে নারীর হৃদয়। কন্যাটির মধ্যে দ্বন্দ্ব-দ্বিধামিশ্রিত এরূপ জিজ্ঞাসাই বারবার ঘূর্ণির মতো চক্করবক্কর খেল, এ কীরূপে হয়, ওই যুবক কেন তাকায় তার দিকে, ওর শ্রীহীন মুখের দিকে তাকিয়ে সে কী খোঁজে, কী জানি, ভালোবাসা কী? তা কীরূপে হয়, অযতনে আঁচড়ানো চুল, প্রসাধনহীন ঠোঁট, গাল-চক্ষু সবই তো আগের মতো, তারপরও—ওই তো শেষবারের মতো আরেকবার তার দিকে তাকিয়েই সে গান শেষ করে স্টেজ থেকে চলে যাচ্ছে পর্দার বাইরে। বাড়ি এসে কন্যা ছুটে যায় আয়নার সম্মুখে। স্থির চোখে নিজ মুখ দেখে—হ্যাঁ, সেই চোখ-নাক-ঠোঁট-ভ্রূভঙ্গি সব ঠিকঠাক আগের মতোই, তবে কেন ওই গায়ক যুবক অলক্ষ্যে বারবার তাকাচ্ছিল তার দিকে? কেন?লোকটা কি মানুষ! কী রূপ মানুষ!দেবদূতের মতো আশিস হাতে নিয়ে সে স্বর্গের ছবি দেখিয়ে গেল তাকে। একঝলক আবেগ-স্পন্দন, সে কখনো ভুলবে না। এই যুবকের স্মৃতি, ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি তখন ফুলের মতো সুন্দর-মায়াবী হয়ে ফুটে উঠল।তিন.ওদিকে রূপবতী কন্যার চোখের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। মনে মনে ভীষণ গোসা তার—সে সময়মতো খায় না, গোসল করে না, সাজসজ্জায় মনোযোগ নেই, কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথাও বলে না, ওর প্রতিদিনের রূপসম্পর্কিত বিশ্বাসে ঘুণ ধরেছে—থই দিগন্ত ভাসমান অহংকারের প্রাবল্যে এক জ্বলন্ত বালির অবস্থা যেন—খালি পোড়ায়, জ্বালায়, শুধু ফোসকা পড়ে, সে এক অসহনীয় দুরবস্থা, আসলে অন্তরে সে সর্বক্ষণই যুবকের উদাসীনতা আর দৃষ্টির অবজ্ঞাই অনুভব করছে আর জ্বলছে। যুবককে উদ্দেশ করে নপুংসক গালি দেয় সে, কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারে—এরূপ আকর্ষণীয় পুরুষ সে এ জীবনে আর কখনো দেখেনি, ওর ঈপ্সিত পুরুষ এখন একটাই—অজস্র মুখের ভিড়ে ঘুরেফিরে ওই যুবকের মুখই তার মনে ফিরে ফিরে আসে—এ এক মুশকিল, আশ্চর্য, আশপাশের কত পুরুষই তো তার রূপের উত্তাপে পতঙ্গের মতো পুড়ে মরছে, কিন্তু তার হিসাব কে রাখে, হিসাবের মধ্যে শুধু আজ এক যুবক, হ্যাঁ, সেই যুবক কখনো উজ্জ্বল আর কখনো ছায়াময় হয়ে দুলতে থাকে। দূর হ দূর হ—কাক তাড়ানোর মতো যুবকের প্রতি তার অনুচ্চারিত দুর্বলতাকে তাড়াতে চেষ্টা করে সে। দুর্বলতা কিন্তু মনের এডাল–ওডালে উড়ে বেড়াচ্ছে। কুমারী তাকে শক্তপোক্তভাবে খারিজ করতে চেষ্টা করে—দূর ছাই, কী যে হচ্ছে তার, ক্রোধান্বিত হয়ে যদিও ফুসছে সে তখনো, তারপরও সুন্দরী অবাক হয়ে ভাবে, যুবক তাকে পাত্তাই দিল না! কী নেই আমার—ভ্রূকুঞ্চিত নারী ঠোঁট ফোলায়, যুবক গান গায় ভালো কথা, তাই বলে নারীর রূপের কদর করবে না! উপর্যুপরি জ্বালাই বাড়ছে তার, এ জ্বালা সাতসমুদ্দুর তেরো নদীর পানিতে স্নাত হলেও জুড়াবে না—যুবতী উন্মাদনায় অস্থির হয়ে ওঠে, মনের ভেতর অশান্তির জ্বাল বুনছে কেউ, জালে আটকা পড়ে যাচ্ছে সে; চোখ বন্ধ করে নারী—এরূপ জ্বাল থেকে রক্ষা করতে পারত একজনই, কিন্তু সেই যুবক—সে তো ওর প্রতি উদাসীন, যুবতী বুঝতে পারল যে অশান্তির সূচনা হলো আজ তার থেকে খুব সম্ভবত পরিত্রাণ নেই।চার.রূপহীন কন্যাটিও খায় না, গোসল করে না, কারও সঙ্গে কথাও বলে না, কেন যুবক ওই রূপে তাকাল—এক চাহনিতে সমস্ত জগৎ টালমাটাল—সখীরে, ভালোবাসা কারে কয় জিজ্ঞাসায় অন্তর যখন ব্যাকুল, তখন সে কোথায়?—নেই। হারিয়ে গিয়েছে। যাই হোক, সে তো রেখে গিয়েছে এক অপরূপ স্মৃতি। ওই দৃষ্টির স্মরণে সে শিহরিত হয়ে ভাবে, তবে এর নামই ভালোবাসা! সে কেন বাজায় বাঁশি। সখীরে, সে কেন বাজায় বাঁশি! অজস্র মানুষের ভিড়ে একটি মুখই তার মনের ভেতর দোল খেতে খেতে তাকে বেঁচে থাকবার স্বপ্ন দেখাতে লাগল। কিন্তু এরূপ প্রবল তৃষ্ণায় সে কীরূপ সর্বদাই অস্থির—সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর পানিতে এ তৃষ্ণা মিটবে না, তার নারীমন সেই মুখ আরেকবার দেখতে চায়। উন্মাদনায় অস্থির সেও—না, এর কোনো মানে হয় না, সে জানে, তারপরও সে অপেক্ষা করে।পাঁচ.কিসের তরে এই অপেক্ষা, কোথায় এর শেষ তা কি নিজেরাই জানে? কী একরূপ ঘোরের ভেতর তারা চিন্তা করে ওই যুবককে নিয়ে, ভিন্ন রকমের অনুভূতি কিন্তু ফলাফল একই রূপ থেকে যাচ্ছে, সে আবার আসবে এরূপ আশা দুজনই অন্তরে পোষণ করতে থাকল।রূপবতী কন্যা তার পটলচেরা চোখের তৃষ্ণার্ত দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করে—কন্যাকুমারীর কৃষ্ণ আঁখিতে একসময় ধূসরতার প্রলেপ পড়ে, কুঞ্চনের সৃষ্টি হয় চোখের কোলে, তারপরও নারীর নির্বোধ ভরসা সে আসবে, আসবেই, শুধু আরেকবার তার সঙ্গে দৃষ্টিমিলন হোক—এরূপ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সে একদিন অনূঢ়া অবস্থায় প্রৌঢ়া হলো।আর রূপহীনা নারীর হৃদয় ছুঁয়ে একজোড়া কৌতূহলী চোখ বহুদিন পর্যন্ত শুকতারার মতো মিটমিট করে জ্বলতে থাকল, সে–ও আর বিয়ে করে সংসারী হতে পারেনি, সে–ও অনূঢ়া অবস্থাতেই প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলো।ছয়.বহুদিন পর রূপবতী এক প্রৌঢ়া আর রূপহীন এক প্রৌঢ়ার গমনস্থল হলো এক গানের জলসা। স্রেফ সময় কাটানোর ফন্দি—মধ্যবয়সের সঙ্গীহীন জীবনের সময় যে কাটে না, হাবিজাবি করে করেই যতটুকু সময় ব্যয় করা যায়। বিদেশ থেকে গানের তালিম নিয়ে আগত এক প্রখ্যাত গায়কের গানের জলসা—জলসাঘরে লোকে লোকারণ্য। রূপবতী প্রৌঢ়ার এক চেয়ার বাদেই বসেছে রূপহীনা। রূপবতী তাকিয়ে আছে স্টেজের দিকে স্থিরচিত্তে, রূপহীনা–ও উসখুস দৃষ্টিতে তাকিয়ে। হঠাৎ সচেতন হয়ে উঠল রূপহীনা, একি, কে—ওই তো, স্টেজে উঠে আসছে যে, সে যে সেই, বহুদিনের আরাধনার পর তবে সত্য সত্য তার দেখা মিলল। সেই চেহারা, সেই গানের গলা, সুরের ভেতর আরও পরিপক্বতা, কিন্তু সে হয় কী করে, ওর নাম ছিল জালাল মাহমুদ, খুব সম্ভবত নামটি পাল্টে নিয়ে শোভন সরকার হয়েছে—হায় কপাল, মানুষ কীরূপ নাম পাল্টায়! সে যাই হোক, সেই যুবক আজ প্রৌঢ়ত্বের দ্বারে উপনীত হয়েছে এটা সত্য, কিন্তু লোকটির চেহারা কেন পাল্টায়নি?রূপবতী প্রৌঢ়া চোখ বন্ধ করে তন্ময় হয়ে গান শুনছিল, হঠাৎ কী মনে করে চোখ খুলতেই অবাক হয়ে গেল সে, মানুষটি যার চেহারায় বিশেষ পরিবর্তন না হলেও অন্য মানুষ মনে হচ্ছে। সেই শক্ত চোয়াল, ঘুরিয়ে নেওয়া দৃষ্টি এসব আর নেই। তা না থাক, কিন্তু সঙ্গে ওই যে মহিলা—না রূপবতী না রূপহীনা স্ত্রীলোকটিই কি তার স্ত্রী, না সফরসঙ্গিনী? ঠোঁট উল্টায় সে, কী জানি! মহিলার পরিচয় জানার ঔত্সুক্য বোধ করে সে। ভ্রূ কুঁচকায় রূপসী প্রৌঢ়া, জালাল মাহমুদ তবে আজকের খ্যাতিমান গায়ক শোভন সরকার, জালাল শোভন হয়ে লুকিয়েছিল এত দিন। শোভন সরকারের নাম কত শুনেছে সে, তবু কখনোই ভাবেনি শোভন আসলে জালালের আরেক নাম। রূপবতী কন্যার কাছে এটা একরূপ জোচ্চুরি মনে হলো।সাত.রূপবতী প্রৌঢ়া শোভন সরকারের মুখোমুখি হলো, দেখুন তো চেনা যায় কি না—এরূপ কথা দিয়ে মহিলা শুরু করেছিল।শোভন সরকারের প্রৌঢ় চোখ কৌতূহলে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।—একসময় আপনার প্রতি অমনোযোগী হয়েছিলাম। মনে আছে আপনার, আপনার অহংকারী চোখ সেদিন আহত হয়েছিল, ভেবেছিল কে এই মূর্খ যে রূপের কদর করতে জানে না—আমার চালাকি আপনি ধরতে পারেননি।প্রৌঢ়া কিছুটা বিস্ময় হয়ে তাকিয়ে রইল।—কিছুই বুঝতে পারছি না, কিসের চালাকি।প্রৌঢ় গায়ক হাসে, বলে আপনার দিকে সবাই তখন তাকাত, আমার বিশ্বাস এখনো তাকায়।রূপসী প্রৌঢ়া অতি তিক্ত কণ্ঠে বলে—তাতে কি, আপনি তো তাকাননি।—সেটাই তো চালাকি।প্রৌঢ় মিটমিট করে হাসছে।বলল, সবাই তাকায়, আমিও যদি তাকাই, তাহলে কি আমি আর আপনার চোখে আলাদা হতে পারতাম। রূপবতী প্রৌঢ়া রেগে লাল হয়ে বলল, আপনি তাকান বা না তাকান তাতে আমার কী? আমি কেন আপনাকে সবার থেকে আলাদা করে দেখব?প্রৌঢ় হাসছে।কী শান্ত হাসি, কী নির্মল—বলল, হ্যাঁ আমি জানি, আপনি কাউকে আলাদা করে দেখতে চান না, আমিও পারিনি আপনার চোখে আলাদা হতে।জ্বলন্ত দৃষ্টিতে প্রৌঢ়া তখন তাকিয়ে আছে বহু বছর আগের এক যুবক, আজকের প্রৌঢ়র দিকে। তুমি জালাল হও আর শোভন হও, কী লাভ হয়েছে এরূপ খেলায়। কিছু না, তবু খেলেছ, পুরুষের স্বভাবই বুঝি তা–ই।প্রৌঢ় এবার দৃষ্টি ঘুরিয়ে রূপহীন প্রৌঢ়ার দিকে তাকাল, বলল—কেমন আছেন আপনি?রূপহীন প্রৌঢ়া কুমারী হৃদয়ের তপ্তশ্বাস নিয়ে বলল, ভালো আছি, কিন্তু আপনি আমাকে মনে রেখেছেন?—কেন মনে রাখব না? আপনার চোখে আলাদা হওয়ার জন্য কতবার তাকিয়েছি, আপনি হয়তো তা ভুলে গিয়েছেন।—না, ভুলিনি। কী করে ভুলি, আপনিই তো প্রথম এবং শেষ আমার দিকে মনোযোগী দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন, আপনাকে আমার মনে আছে।শ্রীহীন মধ্যবয়সী নারী কথার ফাঁকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। প্রৌঢ় গায়ক কেন যেন হঠাৎ মাথা নত করে ফেলে, বলে, বয়সের কিছু ঝোঁক থাকে, আমারও হয়তো মাঝেমধ্যে কিছু ঝোঁক চাপত মাথায়।তারপর অন্যমনস্ক হয়ে হাসে। মদোদ্ধত দিনের বিলসনের স্মৃতি ছায়া হয়ে কম্পন তুলেছে আজ তার প্রৌঢ় হৃদয়ে।আট.দুই প্রৌঢ়া কুমারীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে প্রৌঢ় যখন অতীতে ডুবে যাচ্ছিলেন, তখন সেই না সুন্দর, না অসুন্দর মহিলাটি চলে এল, এসেই নিঃসংকোচে প্রৌঢ়ের হাত ধরে বলল, ‘তুমি এখানে, চলো চলো, যেখানেই মেয়ে মানুষ দেখো সেখানেই ছোক-ছোক।’ ছি! এ কী ভাষা মহিলার! কিন্তু এরূপ ভাষা শুনেও প্রৌঢ় লোকটি বোকার মতো হাসে, বাধ্য স্বামীর মতোই সেই মহিলার পেছন পেছন চলে গেল হলের বাইরে। হলের ভেতরটা শূন্য।

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...
এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...

  ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ, চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। এবার সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় কেন্দ্রে আনা হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক থাকবেন। কোনো কক্ষে দুজনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। পাঁচ বাই ছয় ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে সেই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদিও সব বোর্ডে একই মানদণ্ড বজায় রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা এবং প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং আর মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৮৬৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বাংলা প্রথম প্রত্র দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা। চলতি বছর ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা। এর মধ্যে ১৪৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার ৪০টিই ঢাকায়। পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এগুলো হলো: পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল ও রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট, আর ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট হতে অন্তত সাত দিন আগে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করবেন। উত্তরপত্রে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ওএমআর ফরমে যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবেন পরীক্ষার্থীরা। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের মধ্যে লেখা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর (নন-প্রোগ্রামেবল) ব্যবহার করতে পারবেন। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবেন না। জরুরি যোগাযোগ ও সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রম এই কন্ট্রোল রুম থেকেই পরিচালনা করা হবে। সেজন্য ১টি টেলিফোন নম্বর, তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর এবং একটি ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার এবং সংবাদ স্ক্রলে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বরটি হলো- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়া যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫৬১০৩১৫২ নির্ধারণ করা হয়েছে।

News
জুলাই ২, ২০২৬
0
আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী
আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী

  এবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এখানে প্রতিটি স্টল ঘুরে আমাদের মনে হলো দেশে নিউটন–আইনস্টাইনের অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী এখনে সময় প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেছেন। প্রতিজনকে প্রশ্ন করেছেন। সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

News
জুন ৩০, ২০২৬
0
সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান
সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান

  নিজস্ব প্রতিবেদক; পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা প্রধানদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার  বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল লতিফ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, আইকিউএসি'র পরিচালক প্রফেসর ড. মাহবুব রব্বানী, আরটিসির পরিচালক প্রফেসর ড. মামুন-উর-রশিদ, অর্থ ও হিসাব বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র ডেপুটি ডাইরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেলের পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার খায়রুল বাশার মিয়া ও মো. তানজিলুর রহমান, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক সৈয়দ নিজাম উদ্দিন এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রিয়াজ কাঞ্চন শহীদসহ বিভিন্ন দপ্তরের শাখা প্রধানরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চশিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হলে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি আরও বলেন, "অতীতে বিভিন্ন কারণে পবিপ্রবিতে শিক্ষার প্রত্যাশিত পরিবেশ ব্যাহত হয়েছিল। আমরা সবাই মিলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সেই পরিস্থিতি উত্তরণে কাজ করব। পবিপ্রবিকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা একটি 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স'-এ পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।" ভাইস-চ্যান্সেলর শাখা প্রধানদের  সততা, জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি দপ্তরের দক্ষ ও স্বচ্ছ কার্যক্রমই বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে। শিক্ষার্থী কল্যাণ, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং গবেষণার প্রসারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।" মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক হকার্যক্রমের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।.

News
জুন ১১, ২০২৬
0
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকায় বসা নিয়ে তর্ক বির্তক ঘুষির আঘাতে একজনের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর থেকে মেরকুটা যাওয়ার যাত্রীবাহী নৌকায়, মনু বাবুর ঘাটলা নামক স্থানে নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে তর্ক বির্তক একপর্যায়ে মোহাম্মদ খাঁর ছেলে এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে বগডহর গ্রামের মনসুর আলী বেপারি বাড়ির মৃত হারিজ মিয়ার ছেলে হানিফ মিয়া (৫০) মৃত্যু হয়।       ঘটনাস্থালে থাকা লোকজন জানান,হাঠাৎ করেই নৌকায় বসাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে মহল্লা গ্রামের এলেম খাঁর ঘুষির আঘাতে পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের হানিফ মিয়া অচেতন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাথে সাথে স্থানীয়লোকজন ও তার স্ত্রী তাকে নবীনগর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।       হানিফ মিয়ার স্ত্রী জানান, তারা তাদের মেয়ের স্বামির বাড়ি বেড়াতে মহল্লা গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নৌকায় বসতে যান, তখন ভিতরে থাকা যাত্রী বলেন, এখানে বসতে পারবেন না, তখন আমার স্বামী বলেন কেন বসতে পারবো না,তখন ভিতরে থাকা সেই লোকটি আমার স্বামী কে গালাগাল করলে, এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ঐ ব্যাক্তি আমার স্বামী কে ঘুষি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্থানীয়লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জানান।       তিনি আরো বলেন, আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি দেখে সেই লোকটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন,আমি তাকে চিনি না তবে দেখলে চিনতে পারবো,তার বাড়ি মহল্লা গ্রামে এতটুকুই জানি।   এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটিতে থাকা ডাক্তার অঙ্কন জানান, উনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আসার আগেই তিনি মারা যান।       এবিষয়ে নবীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, আপনারা যা শুনেছেন আমরাও তাই শুনেছি, খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

News
এপ্রিল ২৭, ২০২৬
0
সুতা-চুমকিতে কারচুপির কারুকাজ
সুতা-চুমকিতে কারচুপির কারুকাজ

সুতার টান, চুমকি, পুঁতি আর পাথরের নিপুণ সমন্বয়ে কাপড়ে ফুটে ওঠে বাহারি নকশা। একেকটি নকশার পেছনে থাকে কারিগরের ধৈর্য, দক্ষতা ও দীর্ঘ সময়ের শ্রম। সাধারণ কাপড়কে জমকালো করে তুলতে হাতে হাতে চলছে কারচুপির কাজ। শাড়ি, লেহেঙ্গা, কুর্তি, থ্রিপিসসহ বিভিন্ন পোশাকে করা হচ্ছে এসব কারুকাজ। উৎসব-পার্বণ ও বিয়ের অনুষ্ঠানে জমকালো পোশাকের চাহিদা বাড়লে ব্যস্ততা বাড়ে কারচুপির কারিগরদেরও। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এমনই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা।লাল কাপড়ে সুতার ফোঁড়, চুমকি ও পাথর বসিয়ে নকশা ফুটিয়ে তুলছেন কারিগরেরা।কাপড়ে নকশা আঁকার পর তা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত কারিগরেরাকারচুপির প্রতিটি কাজের পেছনে থাকে কারিগরের ধৈর্য, দক্ষতা ও দীর্ঘ সময়ের শ্রমহাতে হাতে তৈরি হচ্ছে বাহারি কারচুপির কাজসুতার সঙ্গে চুমকি ও পাথর বসিয়ে কাপড়ে তৈরি করা হচ্ছে সূক্ষ্ম নকশাসোনালি চুমকি ও পুঁতি দিয়ে কারচুপির কাজ করছেন কারিগরনিপুণ হাতে কাপড়ে ফুটিয়ে তুলছেন সূক্ষ্ম নকশাএকই কাপড়ে পাশাপাশি বসে কারচুপির কাজ করছেন দুই কারিগরকারচুপির কাজে ব্যবহৃত নানা রঙের সুতা সাজানো রয়েছে তাকজুড়ে। এসব সুতা দিয়েই কাপড়ে ফুটে ওঠে নানা নকশা

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান ঢাকার ডিসির
‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান ঢাকার ডিসির

চাকরি খোঁজার পরিবর্তে কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা অর্জন এবং বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দিকে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তার প্রত্যাশা, আগামী দিনে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরাই দেশের প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলবে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং এর অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের মধ্যে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ১৩ শিক্ষার্থীকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। ফরিদা খানম বলেন, ভালো ফলাফল অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন হিসেবে দেখলে চলবে না। জিপিএ-৫ কে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি ধাপ হিসেবে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আরও বড় লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আরও পড়ুন ২১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাগজ পরীক্ষায় ‌কারসাজি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশি কয়েকজন সফল ব্যক্তির উদাহরণ দেন। তাদের মধ্যে ড. এফ আর খান, জাওয়েদ করিম, সালমান খান, ড. আতাউল করিম, ড. জাহিদ হাসান ও তাহমিমা আনামের নাম উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকার জেলা প্রশাসক বলেন, এসব মানুষের অর্জন দেখিয়েছে যে বাংলাদেশের মেধাবীদের সামর্থ্যের সীমা নেই। এখন নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব হলো অন্যের সাফল্য অনুসরণ করার পাশাপাশি নিজেদের সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে দেশের মানুষের ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশি কোম্পানি, উদ্ভাবন ও পণ্যও বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাবে। শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিষ্ঠান তৈরির স্বপ্ন দেখতে হবে, যার পণ্য ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছাবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফরিদা খানম বলেন, জীবনে শুধু একটি চাকরি পাওয়ার লক্ষ্য রাখলে হবে না; অন্যের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরির যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে। প্রযুক্তির ভোক্তা হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি তৈরির সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি পণ্য ব্যবহার করার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিনি আরও বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় তরুণ প্রজন্মের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু করার আগ্রহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতিও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে। এ সময় তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, শুধু ভালো ভবিষ্যতের আশায় দেশ ছাড়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর মানসিকতা থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, স্টাফ অফিসার টু ডিসি মো. ইসরাফিল জাহান এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।  এমডিএএ/কেএসআর

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ কেন
সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ কেন

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ রহিত করে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ নামে পাশ হলেও তখনি সরকারের দিক থেকে পরবর্তীতে আইনে আরও সংশোধনী আনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সংশোধনীর খসড়া নিয়ে কেন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে?

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
পরিবেশসচেতন প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে শেষ হলো ‘গ্রিন জেনেসিস’ উৎসব
পরিবেশসচেতন প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে শেষ হলো ‘গ্রিন জেনেসিস’ উৎসব

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত গ্রিন জেনেসিস উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে উৎসাহিত করা।জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জাতীয় পরিবেশ উৎসব ‘গ্রিন জেনেসিস ২০২৬’ শেষে হয়েছে। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের নতুন ধারণা, উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরার জন্য একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশসচেতন প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আউটরিচ টিমের আয়োজনে এই উৎসবে ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা। এসবের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানও উপস্থাপন করেন।আয়োজকেরা জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী এ আয়োজনে নিবন্ধন করেন। ১২টি বিভাগে জমা পড়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আবেদন। দেশের প্রায় ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৮৮টি ক্লাব এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।উৎসবের প্রথম দিন শুরু হয় ‘আ লেটার টু নেচার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির উদ্দেশে নিজেদের ভাবনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরে চিঠি লেখেন। প্রকৃতির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা উঠে আসে এই পর্বে।‘ইকো ডিকোড’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অঝরা ইসলাম এবং আবদুল্লাহ ইসলাম (টিম ‘গো বিগ গ্রিনস’)। তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরাদ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্লাইমেট সায়েন্স অলিম্পিয়াড’ এবং ‘ক্লাইমেট ওরেটরি’। জলবায়ুবিজ্ঞান, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয় অলিম্পিয়াডে। অন্যদিকে ক্লাইমেট ওরেটরিতে তরুণেরা জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য উপস্থাপন করে নিজেদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘গ্রিন জেনেসিস ইনস্পিরেশন’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশন। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআর পরিচালক গোলাম রব্বানী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট লাইফের প্রধান তাহসিনা রহমান শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।এদিন আরও অনুষ্ঠিত হয় এনভায়রনমেন্টাল প্রজেক্ট ডিসপ্লে, ইকো ডিকোড প্রবলেম-সলভিং চ্যালেঞ্জ, পোস্টার ডিজাইন, ওয়াল ম্যাগাজিন, ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, এআই আর্ট, এনভায়রনমেন্টাল রিল, গ্রিন জার্নালিজমসহ বিভিন্ন সেগমেন্ট। অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই সমাধান, গবেষণা, সৃজনশীল যোগাযোগ এবং পরিবেশবিষয়ক গল্প বলার নতুন নতুন ধারণা উপস্থাপন করেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে তরুণেরা শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেই থেমে থাকেননি, তাঁরা এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও কাজ করেছেন।উৎসবজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পাঁচটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাগুলো পরিচালনা করেন সিথ্রিইআরের ডিরেক্টর গোলাম রব্বানী, অফিস অব কমিউনিকেশনসের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, প্রথম আলোর ডিজিটাল কনটেন্ট লিড ও লেখক খায়রুল বাবুই, সিথ্রিইআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শারমিন নাহার এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই সৃজন বণিক। এসব কর্মশালায় পরিবেশবিষয়ক যোগাযোগ, গবেষণা, সাংবাদিকতা, জনসচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর ও সৃজনশীল উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়।উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত। পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং সচেতনতার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। আর সেই যাত্রায় তরুণেরাই সবচেয়ে বড় শক্তি।’ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন আউটরিচ টিমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দীপ্তি সরকার। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।চার দিনব্যাপী তারুণ্যের এই উৎসবে সহযোগী ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং ইয়ুথ ফর আ গ্রিন আর্থ (ওয়াইজিই)। সহ–আয়োজক ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, এনভায়রনমেন্টাল ক্লাব, কমিউনিটি সার্ভিস ক্লাব এবং ন্যাচারাল সায়েন্স ক্লাব। পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এসিআই মোটরস। ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে ছিল প্রথম আলো ডটকম।

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে?
গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে?

অপরিচিত রাস্তায় যাওয়ার সময় গুগল ম্যাপস খুলে গন্তব্যের ঠিকানা লিখলেই সামনে ভেসে ওঠে রাস্তার অবস্থা। কোথাও সবুজ, কোথাও হলুদ, আবার কোথাও গাঢ় লাল রঙে দেখা যায় রাস্তা। লাল মানেই ধীরগতি বা যানজট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাস্তার প্রতিটি গাড়িকে ক্যামেরায় না দেখেও গুগল ম্যাপস কীভাবে এত দ্রুত বুঝে ফেলে কোথায় জ্যাম তৈরি হয়েছে? এর পেছনে রয়েছে বিপুল পরিমাণ লোকেশন ডাটা, পুরোনো ট্র্যাফিকের হিসাব, ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বিত বিশ্লেষণ। আপনার ফোনই দেয় গুরুত্বপূর্ণ সংকেত গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা বুঝতে স্মার্টফোনের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো রাস্তায় একসঙ্গে অনেক ফোন থাকা অবস্থায় যদি সেগুলোর গতিবিধি স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর হয়ে যায়, তাহলে গুগল বুঝতে পারে ওই অংশে যান চলাচল কমে এসেছে। ধরা যাক, কোনো সড়কে সাধারণত গাড়ি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল ওই এলাকার একাধিক ডিভাইসের চলাচল অনেক ধীর। তখন সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সিস্টেমটি অনুমান করতে পারে যে রাস্তাটিতে যানজট তৈরি হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে গুগল প্রতিটি গাড়িকে আলাদাভাবে নজরদারি করছে। বরং অনেক ডিভাইস থেকে পাওয়া সম্মিলিত তথ্য ব্যবহার করে একটি রাস্তার সামগ্রিক গতির চিত্র তৈরি করা হয়। আরও পড়ুন গুগল ম্যাপে ঠিকানা খুঁজে পাওয়া আরও সহজ শুধু বর্তমান তথ্য নয়, পুরোনো হিসাবও কাজে লাগে গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক অনুমান কেবল ওই মুহূর্তের তথ্যের ওপর নির্ভর করে না। কোনো রাস্তা কোন দিন, কোন সময়ে সাধারণত ব্যস্ত থাকে, সেটিও হিসাবের মধ্যে থাকে। যেমন, কর্মদিবসের সকালে অফিসগামী মানুষের চাপে একটি সড়কে নিয়মিত যানজট তৈরি হতে পারে। আবার বিকেল বা সন্ধ্যায় একই রাস্তায় গাড়ির চাপ বাড়তে পারে। অতীতের এসব প্রবণতার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তথ্য মিলিয়ে সম্ভাব্য ভ্রমণ সময় অনুমান করে গুগল। এই কারণেই আপনি রাস্তায় পৌঁছানোর আগেই ম্যাপস অনেক সময় জানিয়ে দিতে পারে, কোন পথে যেতে কত সময় লাগতে পারে। ব্যবহারকারীর রিপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ দুর্ঘটনা, রাস্তা বন্ধ, নির্মাণকাজ বা অন্য কোনো আকস্মিক ঘটনার কারণে হঠাৎ যানজট তৈরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতি বুঝতে ব্যবহারকারীদের দেওয়া রিপোর্টও কাজে লাগে। কিছু ক্ষেত্রে ট্র্যাফিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও পাওয়া তথ্য সিস্টেমের বিশ্লেষণে যুক্ত হতে পারে। তবে কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত লাইভ ডাটা না থাকলে ট্র্যাফিকের পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল হতে পারে। আরও পড়ুন গুগল ম্যাপসের ৭ ফিচার, যা বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহারই করেন না লাল রাস্তা মানেই কি শতভাগ নিশ্চিত জ্যাম? না। ম্যাপের রং আসলে একটি অনুমানভিত্তিক ট্র্যাফিক চিত্র। পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে কিংবা হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে বাস্তব অবস্থা এবং ম্যাপের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য হতে পারে। অর্থাৎ গুগল ম্যাপসের রঙিন রাস্তা কোনো স্যাটেলাইট ক্যামেরায় তোলা লাইভ দৃশ্য নয়। বরং অসংখ্য ডাটা, ঐতিহাসিক ট্র্যাফিকের ধরন এবং আধুনিক অ্যালগরিদমের বিশ্লেষণ থেকে তৈরি একটি সম্ভাব্য চিত্র। আপনি যখন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা বেছে নেন, তখন পর্দায় কয়েকটি রঙের রেখা দেখা গেলেও এর পেছনে কাজ করে বিশাল এক ডাটা-নির্ভর ব্যবস্থা। সেই কারণেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গুগল ম্যাপস জানিয়ে দিতে পারে কোন পথে গেলে সময় বাঁচতে পারে আর কোথায় হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। কেএসকে

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান: বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান: বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - AI) এক নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ, অটোমেশন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং শিক্ষা সহ প্রায় সব খাতে এআই-এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে নয়। দেশীয় স্টার্টআপ, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি। বাংলাদেশের অগ্রগতি: দেশে বর্তমানে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান চ্যাটবট, অটোমেটেড কাস্টমার সার্ভিস, ফেস রিকগনিশন, এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ 'AI ফর বাংলাদেশ' প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই শিক্ষা চালু করছে ধীরে ধীরে। চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা: যথাযথ ডেটা অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার অভাবে এআই প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে জনসচেতনতার অভাবও অন্যতম বড় বাধা। বিশেষজ্ঞ মতামত: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি সময়মতো ডেটা সুরক্ষা আইন, এআই গবেষণা তহবিল এবং শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারে, তবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়—এটি বর্তমানে বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা করতে পারে, তবে এআই হতে পারে দেশের পরবর্তী ডিজিটাল বিপ্লবের চালিকা শক্তি।

News
জুন ২৮, ২০২৫
0
দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী
দেশের ১৯২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণ হবে: মন্ত্রী

  প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে।   দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।   তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  

News
জুলাই ৯, ২০২৬
0
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা
বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের জন্য অধিদফতরের জরুরি নির্দেশনা

  দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।  একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা। এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

News
জুলাই ৫, ২০২৬
0
বিদেশে খেলা প্রতিভা দেশে তোলা BFF–র চেষ্টায় — প্রবাসী ফুটবলারদের ‘ট্রায়াল’ ডাকা হলো
বিদেশে খেলা প্রতিভা দেশে তোলা BFF–র চেষ্টায় — প্রবাসী ফুটবলারদের ‘ট্রায়াল’ ডাকা হলো

Hamza Choudhury–র (লেস্টার সিটি) বাংলাদেশে খেলার ঘোষণা BFF–এর জন্য প্ররোচনা হিসেবে কাজ করেছে। স্পীডস্টার ফুটবলার হিসেবে তার অভিষেকের পর, BFF একাধিক প্রবাসী ট্যালেন্ট খুঁজে বের করে বাংলাদেশ দলে নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে। 🔹 বিদেশি মূল–বিশ্বে পরিচিত কিছু নাম শামীট সোম (Shamit Som/Shamit Shome): কানাডায় থাকা ২৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার, কানাডার জাতীয় দলেরও অংশ ছিলেন। BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, তৈরি হয়েছে দুই সপ্তাহের সময়, যাতে তিনি ক্লাব ও কোচদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন । এর পাশাপাশি, ফাহামিদুল ইসলাম (ইতালির চতুর্থ বিভাগ), ফারহান মাহমুদ (ফ্রান্স), ক্যারিম হাসান স্মিথ, ইলমান মাতিন, ও আশিকুর রহমান (ইংল্যান্ড), নাবিদ আহমেদ (কানাডা), আমির সামি (যুক্তরাষ্ট্র) সহ ১৩ দেশের ৩২ জন বিদেশি খেলোয়াড় BFF–র নজরে এসেছে । 🔹 ট্রায়াল ও পরিকল্পনা BFF ছয় থেকে সাত দিনব্যাপী ১–৫ জুন ২০২৫ ট্রায়ালের আয়োজন করেছে ঢাকায়, যেখানে প্রবাসী ১৬–২০ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যাচাই করা হবে । BFF–র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাহাদ করিম জানান, এটি দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি–বাংলাদেশি যোগ উইঙ্গার বা মিডফিল্ডার হিসেবে সম্ভাবনাময় জুড়ির একটি চেষ্টার অংশ en.wikipedia.org। 🔹 Hamza Choudhury–এর ভূমিকা ও প্রভাব Hamza–র বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্তির পরে BFF–র উদ্যোগ আরো জোরালো হয়েছে। তিনি অক্টোবর ২০২৪–এ FIFA অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের জন্য যোগ্যতা পান tds-images.thedailystar.net+3dhakatribune.com+3thedailystar.net+3। BFF–র প্রেসিডেন্ট তাবিথ আওয়াল ও নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সভুজ–এর সাথে UK’র King Power স্টেডিয়ামে দেখা করেন; এসময় Hamza–র সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি করা হয় — যা BFF–র বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রলোভনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । BFF মূলত চায়, Hamza কেবল মাঠেই নয়,Pro-ফর্ম ও আন্তর্জাতিক মানে গাইড হিসেবে কাজ করুক এবং তাকে অনুসরণ করে অন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ দলে আসুক reddit.com+14jagonews24.com+14dhakatribune.com+14। 🔹 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সচরাচর বিদেশি জাতীয় দল ইতিবাচক ভাবে একাধিক ম্যাচের জটিলতা সামলে প্রবাসীদের গ্রহণে সময় নেয়, তবে BFF–র পরিকল্পনায় প্রথম ফোকাস থাকবে বিদেশে জন্ম বা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত যুববলদের, যেন তারা দ্রুত জাতীয় দলের সঙ্গে তাল মিলাতে পারে । সামিট সোম–এর জিপিএস–ম্যাপ হওয়া, স্কুলছাত্রদের টুর্নামেন্ট থেকে উঠে আসা andere তরুণদের ধরে বাংলাদেশের শিবিরে যোগ দিতে ইচ্ছুক— জুজের পথ প্রশস্ত হতে পারে আগামী মাসগুলোতে। সংক্ষেপে বিষয় পরিস্থিতি প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩২ জন (১৩ দেশ) প্রধান উদাহরণ Hamza Choudhury, Shamit Shome ট্রায়াল সময় জুন ২০২৫ গতিগতি Hamza–র অভিষেক ও FIFA অনুমোদনের পর BFF–র আরো সক্রিয় পদক্ষেপ লক্ষ্য বিদেশি-প্রমাণ পয়েন্টে প্রয়োগযোগ্য ফুটবলারদের সন্ধান ও সংযোজন বিশ্লেষণ খেলোয়াড় sourced from Europe/N. America–এর সংখ্যা বাড়ছে—এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য স্বপ্নের সম্ভাবনা। Hamza Choudhury–র অভিজ্ঞতা মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। BFF–র লক্ষ্য, এই প্রবাসীদের inclusion–এর মাধ্যমে জাতীয় দলে গুণগত মান ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো—এতে SAFF, AFC, ও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় দলটি শক্তিশালী দাঁড়াতে পারবে। তবে এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে BFF–কে পারমিট, ক্লাব-নমঞ্জুরি, এবং FIFA–এর clearance ত্বরান্বিত করতে হবে। পাশাপাশি ম্যাচফিটনেস ও জাতীয় আদর্শে খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত করতে হবে। প্রবাসী প্রজন্মের সুশৃঙ্খল তালিকাভুক্তকরণ প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নত করবে। Shamit Shome–এর মতো অভিজ্ঞ ও তরুণ মুখগুলোর দ্রুত বাংলাদেশ দলে সংযোজন সম্ভাব্য হলে, ভবিষ্যতে প্রবল প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হবে না।

Mahidujjaman Tamim
জুন ২৮, ২০২৫
0
আগস্টেই আংশিক Camp Nou-তে ঘরোয়া ম্যাচের প্রস্তুতি
আগস্টেই আংশিক Camp Nou-তে ঘরোয়া ম্যাচের প্রস্তুতি

ফেসব্যাক্সট্ম Camp Nou রেনোভেশন প্রকল্প ২০২৩ সালের জুনে শুরু হয়ে দীর্ঘ বিলম্বের পর, অবশেষে গ্যাম্পার ট্রফির মাধ্যমে ১০ আগস্ট ২০২৫ সালে ‘আংশিক’ কার্যক্রমে ফিরছে বার্সেলোনা। এই সময় পর্যন্ত ক্লাব ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে মিল রেখেও রয়েছে ফিনান্সিয়াল ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, যা প্রকল্পকে ধাপে এগিয়ে দিয়েছে। সময়সূচির পরিবর্তন ও প্রগতির সারাংশ বার্সেলোনা থেকে ২০২৩–২০২৬ সময়ের ‘Espai Barça’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে Camp Nou পুনর্নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালের জুনে, যা শুরুতে ডিসেম্বরে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ সরাসরি এবং ২০২৬–এর গ্রীষ্মে সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে reuters.com+15padmagazine.co.uk+15fcbarcelonanoticias.com+15thisismoney.co.uk+3eurofootball.news+3reddit.com+3 । মাঠে বায়ো-হাইব্রিড ঘাস বসানো শুরু হয়েছে এপ্রিল ২০২৫–এ, যা মূল যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে । ১ম ও ২য় স্তরে প্রায় ৩৯,০০০ সিট বসানো সম্পন্ন, ৩য় শ্রেণির ভিত্তিক নির্মাণ চলছে ও VIP রিং‑এর কাঠামো তৈরি দ্রুতগতি পেয়েছে । আর্থিক পুনর্গঠন ও ঋণের অধঃবিন্যাস রেনোভেশনের জন্য €১.৪৫–€১.৫ বিলিয়ন ঋণ নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে €৪২৪ মিলিয়ন বর্তমানে বন্ড ইস্যু করে, ২০২৮ থেকে ২০৩৩-৫০ পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে পরিশোধ পরিকল্পনা করা হয়েছে । এই ধরণের আর্থিক পদক্ষেপ ক্লাবের বার্ষিক রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে স্পন্সরশিপ ও টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে €২০০–€৩৫০ মিলিয়ন সম্ভাব্যভাবে অর্জনের হিসেব আছে । প্রশাসনিক বাধা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া গ্যাম্পার ট্রফির আগে সিটি কাউন্সিল, ফায়ার সার্ভিস, মসোস দ’Esquadra ও UEFA-র সাথে বেশ কিছু পারমিট নিতে হবে as.com । বার্সেলোনা পাত্তা দিচ্ছে নেই, এবং আশা করছে জুলাই মাসে আংশিকভাবে লাইসেন্স পেয়ে যাবে । তবে, VIP সেকশন, পঞ্চম তলা, ছাদ অর্থাৎ “roof” ইনস্টলেশন ২০২৬ গ্রীষ্মে সমাপ্ত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে । ⚽ গ্যাম্পার ট্রফি ও স্বাগতম চান্স ১০ আগস্ট Trofeu Joan Gamper আংশিকভাবে নতুন Camp Nou-তে আয়োজনের পরিকল্পনা, যেখানে আনুমানিক ৫০,০০০–৬০,০০০ দর্শক অংশ নিতে পারে cincodias.elpais.com+13as.com+13elpais.com+13 । ছাদ ছাড়া, লিফ্ট, গ্যালারি, ভিআইপি এলাকা ও বাথরুমে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে — ক্লাব এটি “ট্রায়াল ফেজ” হিসেবে দেখছে, এবং ভক্তদের ধৈর্য কামনা করেছে । সারসংক্ষেপ উপাদান অবস্থা উল্লেখযোগ্য তারিখ মাঠ ও সিট ঘাস বসানো–সিটিং প্রায় সম্পন্ন এপ্রিল–মে ২০২৫ VIP/তৃতীয় শ্রেণি কাঠামো তৈরি প্রক্রিয়াধীন চলমান ছাদ বিলম্বিত, ২০২৬ গ্রীষ্মে সম্ভাব্য — পারমিট অপেক্ষমাণ, জুলাইয়ে মিলতে পারে — আংশিক খোলা গ্যাম্পার ট্রফি: ১০ আগস্ট ২০২৫ ১০ আগস্ট ২০২৫ পূর্ণ উদ্বোধন ২০২৬ গ্রীষ্মের দিকে — ঋণ পুনর্গঠন €৪২৪ মিলিয়ন বন্ড, ২০৩৩–৫০ পর্যন্ত সময়সীমা জুন ২০২৫ Spotify Camp Nou ইউরোপের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশের পথে; তবে নির্মাণ বিলম্ব এবং পারমিট-সংক্রান্ত বাধাগুলি টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জের শুরু। অর্থনৈতিক পুনর্গঠন অর্থসঙ্কট সামলে রাখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। ক্লাবের এখন মূল অগ্রাধিকার আছে — ১০ আগস্টে আংশিক রিটার্ন দিয়ে ফ্যানদের সাথে পুনঃমিলন ঘটানো। আর এটি যদি সাফল্যের সাথে সফল হয়, তাহলে পরবর্তী বছরের পূর্ণাঙ্গ ক্যাপাসিটিতে ফিরতে সহজ পথ উন্মোচিত হবে।

Mahidujjaman Tamim
জুন ২৮, ২০২৫
0
আর্থিক সঙ্কটে ইতিহাসের গভীরে লিয়োন — প্রশাসনিকভাবে Ligue 1 থেকে Ligue 2-তে
আর্থিক সঙ্কটে ইতিহাসের গভীরে লিয়োন — প্রশাসনিকভাবে Ligue 1 থেকে Ligue 2-তে

ফ্রান্সের সাতবারের চ্যাম্পিয়ন Olympique Lyonnais (OL) এক বিপদের মুখে পড়েছে — ক্রীড়া না খেলার কারণে নয়, বরং আর্থিক অস্বচ্ছতা ও ঋণ বোঝাইয়ের কারণে তাদের শাস্তি হিসেবে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভভাবে Ligue 1 থেকে Ligue 2-তে নামানো হয়েছে। কী ঘটেছে? LFP-র নিয়ন্ত্রক সংস্থা DNCG ২০২৪ সালের নভেম্বরেই Lyonকে আর্থিক অস্থিতিশীলতার জন্য সতর্ক করেছিল। তারপরও ক্লাব দেড়শো মিলিয়নের বেশি নিশ্চিত তহবিল না জমিয়ে জুনে তাদের নিশ্চিতভাবে অবনমনের নির্দেশ দেন aftonbladet.se+15beinsports.com+15en.wikipedia.org+15reddit.com+1reddit.com+1reddit.com+4indiatoday.in+4indiatoday.in+4। OL-এর মালিক John Textor আর ইকোনমিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করে; যদিও মেডিয়া সেলস এবং প্লেয়ার ট্রান্সফার থেকে আয় ছিল, তাও DNCG-কে মিটাতে পারল না । ক্লাব ও মালিক অভিযোগ করছে, “আমরা যথেষ্ট তহবিল জমিয়েছি, এবং ঠান্ডা মাথায় দেখি কিভাবে এটা অলিম্পিক উইথ এফেল্ট করবে”—তাই তারা আপিল জমা দিয়েছে । আর্থিক পটভূমি & ঋণের পরিমাণ DNCG রিপোর্ট অনুযায়ী, OL-এর দেড়শো মিলিয়ন ইউরোর ঋণ আছে। John Textor-এর হোল্ডিং সংস্থা Eagle Football Group-এর দায়ও প্রায় €445–422 মিলিয়ন reddit.com+15ft.com+15indiatoday.in+15। ক্যাপিটাল ইনজেকশনের অধীনে Crystal Palace-এর একটি স্টেক বিক্রি করার পরও Lyon তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি indiatoday.in। ক্লাবের প্রতিক্রিয়া Lyon তাদের অবনমন "বিশ্বাসঘাতক ও অযৌক্তিক" বলেছে এবং দ্রুত apel (appeal) জমা দিয়েছে । প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবের মালিক কিছু কার্যক্রম নিয়েছেন: Crystal Palace থেকে স্টেক বিক্রি, নারী দলের বিক্রি, প্লেয়ার বিক্রয়াদি — যাতে নগদ প্রবাহ বাড়ানো যায় । ক্রীড়া প্রভাব যদিও Lyon লিগে ছয় নম্বরে শেষ করেছে এবং ইউরোপে জায়গা পেয়েছিল, প্রশাসনিক অবনমন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় বাধা হিসেবে দাঁড়াতে পারে indiatoday.in+13theplayoffs.news+13talksport.com+13। UEFA মাল্টি‑ক্লাব হয়রানির কারণে Lyon-এ Europa League-র কোটা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে; কৃষকভাবে তারা ডিসকোয়ালিফাইড হলে অন্য ক্লাব যেমন Strasbourg বা Crystal Palace প্রভাবিত হতে পারে । কি হতে পারে পরবর্তী ধাপ? DNCG‑তে আপিল: Lyon-এর আপিল সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে thekenyatimes.com+10as.com+10beinsports.com+10।   অর্থ সংকটের পুনর্মূল্যায়ন: ক্লাবকে সম্ভবত নতুন গ্যারান্টি দেখাতে হবে। যদি পুনরায় ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের স্থান ধরে নিতে পারে Stade Reims । ইউরোপ ব্যবস্থা: Lyon নিশ্চিত করতে চাইবে Europa League-এ খেলতে পারে কি না—UEFA-মাল্টি ownership বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সারসংক্ষেপ বিষয় বিবরণ স্থিতি DNCG-র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: Ligue 2-এ অবনমন ঋণের পরিমাণ প্রায় €422–445 মিলিয়ন যোগ্যতা Ligue 1-এ 6ম স্থান; ইউরোপে Europa League-এ জায়গা দেওয়া হয়েছিল ক্লাব প্রতিক্রিয়া “অযৌক্তিক” বলছে, আপিলে যাচ্ছে + ফান্ড সংগ্রহে কিছু সিদ্ধান্ত নেয় তারা ইউরোপীয় প্রভাব মাল্টি-ক্লাব ownership বিষয় নিয়ে UEFA সিদ্ধান্ত অপেক্ষায়   Olympique Lyonnais-বিশ্বের এক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব, তবে তাদের আর্থিক নীতির ভঙ্গ হয়েছিল বেশ কয়েকবার। উপরে উল্লেখিত সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও আপিল ব্যবস্থা তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে — কিন্তু তা না হলে দ্বিতীয় বিভাগে নামা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। ক্লাব ও সমর্থকদের নজর এখন শুধু খেলোয়াড়ি প্রতিযোগিতা নয়, বরং অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রক মান বজায় রাখা—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে থাকবে।

Mahidujjaman Tamim
জুন ২৮, ২০২৫
0
ডোপিং-বানের পর ফেরার পথে পগবা — মোনাকোতে চূড়ান্তভাবে।
ডোপিং-বানের পর ফেরার পথে পগবা — মোনাকোতে চূড়ান্তভাবে।

ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে চলা ডোপিং-বানের পর ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং চূড়ান্তভাবে তিনি যুক্ত হতে চলেছেন ফরাসি ক্লাব AS মোনাকো'-তে। ⏯️ ফেরার সময়রেখা জুলাই ২০২২-এ জুভেন্টাসে ফিরে দুর্দান্ত শুরুর পরই ২০২৩ সালের আগস্টে ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ আসে, যা ৪ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় ইটালিয়ান অ্যান্টিডোপিং ট্রাইব্যুনাল thesun.co.uk+15en.wikipedia.org+15footballtransfers.com+15। কিন্তু তারা সেই শাস্তি ১৮ মাসে কমিয়ে দেয়, যার ফলে মার্চ ২০২৫ থেকে পগবা আবার মাঠে নামতে পারবেন । আর এখন, জুন ২০২৫-এ জানা যাচ্ছে, তিনি মোনাকো-র সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করতে চলেছেন, যা আগামী জুন ২০২৭ পর্যন্ত থাকবে । 📝 চুক্তির বিবরণ গণমাধ্যম “লা প্যারিসিয়েন” এবং BBC জানিয়েছে পগবা মোনাকোর সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিতে মৌখিকভাবে একমত হয়েছেন । Guardian আরও পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছে: ২০২৩ সালের শেষ থেকে প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকলেও, তিনি অবশেষে মোনাকোতে ফিরছেন, যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ অনুরূপ জায়গা নিশ্চিত রয়েছে । পরবর্তী সপ্তাহে তাকে মেডিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কার প যন । 🎯 মোনাকোর পরিকল্পনা মোনাকো ২০২৪–২৫ মৌসুমে ফ্রেঞ্চ লিগে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরছে — সেখানে পগবার অভিজ্ঞতা তাঁদের মসৃণ অন্তর্ভুক্তি ও তরুণদের জন্য নেতৃত্বের প্রাধান্য জোগাবে । The Guardian লিখেছে, 'তাঁর যোগদানে মোনাকোর মিডফিল্ডে দৃঢ়তা বাড়তে পারে' । €৬–৭ মিলিয়ন পরিসরে বার্ষিক বেতন পার হওয়া সম্ভাবনা রয়েছে, যা ফ্রি ট্রান্সফার হলেও প্রতিযোগিতামূলক এক ডিল । 🔄 অন্য ক্লাবের আগ্রহ পগবা ছিলেন মার্সেইয়েল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়েল মাদ্রিদ, গোল্ডন বিৎস্য চাইকার সঙ্গে সুসংলগ্ন । তবে সে-সব আগ্রহ এখন মিথ্যা বা অনিশ্চিত — তবে জুভেন্টাস ছাড়ার পর তিনি এলএফসি, মাইয়ামি ও স울 লিগের দিকে তাকিয়েছিলেন । অবশেষে, ইউরোপে থেকে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন মোনাকোই তাঁর প্রথম পছন্দ । 🌍 জাতীয় দলের আশাবাদের সাথে সম্পর্ক পগবা তার ৯১টি জাতীয় দলের ক্যাপ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য । তিনি চান আগামী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের জন্য ফ্রান্স দলে জায়গা করতে পারেন, কিন্তু ফর্ম আর ম্যাচ ফুটবল পাওয়া জরুরি । Didier Deschamps খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর মান পুনঃস্থাপনের সুযোগে আশাবাদী, যদিও ফর্মই শেষ বিচারক । ✅ সারসংক্ষেপ বিষয় অবস্থা নিষেধাজ্ঞা সমাপ্তি মার্চ ২০২৫ চুক্তি ক্লাব AS মোনাকো (২০২৫–২০২৭) চুক্তির ধরণ দুই বছর, ফ্রি ট্রান্সফার প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, Ligue 1 অন্যান্য ক্লাব আগ্রহ ছিল মার্সেইয়েল, ম্যান ইউ, রিয়েল মাদ্রিদ; MLS/সৌদি আগ্রহী ছিল জাতীয় দলের স্বপ্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ-এ ফেরা   পগবার এই মোনাকো-ফেরা প্রমাণ করে, তিনি এখনো বড় মঞ্চে খেলার ক্ষমতা নিয়ে দৃঢ় মনোভাবী। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং প্রিমিয়ারের চাইতে একটি সম্ভাবনাময় পরিবেশ চেয়েছেন। ফ্রান্স জাতীয় দলে ফেরার জন্য মাঝপথে পা ফেলতে চান। তবে, ১৮ মাসের পার্থিব জার্নি এবং শরীরচর্চার খোলিকতা এখনো সমঝোতা প্রয়োজন — সেটাই আসল পরীক্ষা।

Mahidujjaman Tamim
জুন ২৮, ২০২৫
0
ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প
ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইরান ওই ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জুলাইয়ে ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সম্প্রতি ওই হামলা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটির ছবি সংগ্রহ করার কথা বলা হয়।চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে ট্রাম্প বিষয়টি তুলবেন কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। বরং তিনি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি কার্যক্রম একই রকম বলে উল্লেখ করেন।জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, তিন সেনা নিহতগতকাল রোববার ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মূলত তারা যা করে, আমরাও তা-ই করি। যখন তারা বলে, চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে, তখন আমি বলি—আপনারা ঠিকই বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।’আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প ও সির একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্টমূলত তারা যা করে, আমরাও তা-ই করি। যখন তারা বলে, চীন আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে, তখন আমি বলি—আপনারা ঠিকই বলেছেন, আমরাও তাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করি।আয়ারল্যান্ড সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে গতকাল রোববার ট্রাম্প আবারও বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে।ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি মোটামুটি ভালো আচরণই করেছেন, আমরাও ভালো আচরণ করছি।’ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে স্যাটেলাইটের ছবি সরবরাহকারী চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এতে বেইজিং সরাসরি জড়িত ছিল, এমন কথাও তাঁরা বলেননি।এখন ট্রাম্প যেভাবে সরাসরি চীনের জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন তাতে মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রশাসন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নানা উত্তেজনা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও তেহরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর হতাশা রয়েছে।ইরানের ৫টি ট্যাংকারে হামলা, জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও হরমুজে ১০টি জাহাজে হামলা তেহরানের

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন
ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন

একটি কালো পোশাক। অথচ ফ্যাশনের ইতিহাসে এর গল্প শুধু পোশাকের মধ্যে আটকে নেই। রাজপরিবারের টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন এক মুহূর্ত এবং নিজের উপস্থিতি দিয়ে নীরব বার্তা দেওয়ার সাহস-সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পোশাকটি। প্রিন্সেস ডায়ানার সেই বিখ্যাত কালো পোশাক, যা পরবর্তীকালে ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ নামে পরিচিতি পায়, এবার আবারও আলোচনায়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে পোশাকটি নিলামে তুলতে যাচ্ছে সদবি’স । প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এর দাম উঠতে পারে প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৯ ডিসেম্বর। যে রাত বদলে দিয়েছিল পোশাকটির গল্প সময়টা ১৯৯৪ সাল। স্থান লন্ডন। সন্ধ্যার কিছু আগে টেলিভিশনে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে প্রিন্স চার্লস তার ক্যামিলার সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। ঠিক সেই সন্ধ্যাতেই লন্ডনের সার্পেন্টাইন গ্যালারির তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে হাজির হন প্রিন্সেস ডায়ানা। রাজপরিবারের একজন সদস্য হিসেবে সেদিন তাঁর উপস্থিতি এমনিতেই ছিল আলোচনার বিষয়। কিন্তু ডায়ানার পোশাক সেই আলোচনাকে নিয়ে যায় অন্য মাত্রায়। তার পরনে ছিল ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের নকশা করা একটি কালো, স্ট্র্যাপবিহীন সিল্কের সান্ধ্য পোশাক। পোশাকটির কাটিং ছিল শরীরের সঙ্গে মানানসই, আর নকশায় ছিল সেই সময়ের প্রচলিত রাজকীয় পোশাকের তুলনায় অনেক বেশি সাহসী ভাব। কালো রঙ, খোলা কাঁধ এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সব মিলিয়ে ডায়ানাকে সেদিন অন্যরকম লাগছিল। পরে ফ্যাশন দুনিয়ায় পোশাকটির নাম হয়ে যায় ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’। পোশাক যখন হয়ে ওঠে বার্তা ডায়ানার স্টাইল নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা বারবার একটি বিষয় তুলে ধরেছেন-তিনি শুধু সুন্দর দেখানোর জন্য পোশাক বেছে নিতেন না। তার পোশাক অনেক সময় তার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস কিংবা পরিস্থিতির প্রতি তার অবস্থানও প্রকাশ করত। সদবি’স-এর হ্যান্ডব্যাগ ও ফ্যাশন বিভাগের গ্লোবাল হেড মর্গেন হালিমির ভাষ্যেও উঠে এসেছে সেই বিষয়টি। তার মতে, ডায়ানা বুঝতেন ফ্যাশনকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। সেই রাতের পোশাকটিও যেন তারই একটি উদাহরণ। ডায়ানা সেদিন কোনো বক্তব্য দেননি, কিন্তু তার পোশাক ও উপস্থিতি নিয়ে পরবর্তী সময়ে যে বিপুল আলোচনা তৈরি হয়, তা প্রমাণ করে ফ্যাশন কখনো কখনো শব্দের চেয়েও শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। দ্বিতীয়বার নিলামে কালো সেই পোশাক পোশাকটির নিলামের ইতিহাসও কম আকর্ষণীয় নয়। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা নিজের পোশাকের একটি বড় সংগ্রহ নিলামে তুলেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা। সেই নিলামে মোট ৭৯টি পোশাক বিক্রি হয়। ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’টি তখন প্রায় ৫২ হাজার ৯১৭ মার্কিন ডলারে কিনে নেন গ্লাসগোর বাসিন্দা ব্রিগ ও গ্রেম ম্যাকেঞ্জি। দীর্ঘদিন তাদের সংগ্রহে থাকার পর এবার পোশাকটি আবার নিলামের বাজারে ফিরছে। এবার পোশাকটির মালিক গ্রেম ম্যাকেঞ্জি সেটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থাৎ প্রায় তিন দশক পর ফের নতুন কোনো সংগ্রাহকের হাতে যেতে পারে ফ্যাশন ইতিহাসের এই আলোচিত পোশাক। শুধু পোশাক নয়, থাকছে স্মৃতিও নিলামে পোশাকটির সঙ্গে বিক্রি হবে আরও একটি বিশেষ স্মারক। ডায়ানা ও ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্ট্যাম্বোলিয়ানের স্বাক্ষর করা ১৯৯৭ সালের নিলাম ক্যাটালগের একটি কপিও থাকবে এর সঙ্গে। আরও পড়ুন দুরে ফিশানের উচ্চারণ নিয়ে সমালোচনা হলেও তার স্টাইলে মুগ্ধ দর্শক   নিলামের আগে পোশাকটি সরাসরি দেখার সুযোগও পাবেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনে প্রদর্শনীর পর এটি যাবে হংকং, জেনেভা ও নিউইয়র্কে। এরপর ডিসেম্বরের নিলামে উঠবে সেই ঐতিহাসিক কালো পোশাক। বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ এডিনবরা হাসপাতালের জন্য দেওয়া হবে। আরও পড়ুন ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা ডায়ানা হয়তো জানতেন না, সেই এক সন্ধ্যার পোশাক একদিন ফ্যাশনের ইতিহাসে এত বড় গল্প হয়ে উঠবে। কিন্তু তিন দশক পরও তার কালো পোশাকটি প্রমাণ করছে- ফ্যাশন শুধু সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে উঠতে পারে আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা ও নীরব প্রতিবাদের ভাষাও। সূত্র: বিবিসি এসএকেওয়াই

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

ইরান তাদের জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে। এসব পণ্যের মধ্যে সামরিক সরঞ্জামও রয়েছে। এ জন্য দেশটি অনেকটা ‘পণ্য বিনিময়’ ব্যবস্থার মতো একটি ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।এ বিষয়ে জানেন ইরানের এমন দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ আরও তিন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।গোপন এ বাণিজ্যব্যবস্থায় ইরানি তেলের বিনিময়ে চীনা পণ্য কেনার জন্য ক্রেডিট দেওয়া হয়।আন্দ্রেয়া ঘিসেল্লি, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের প্রভাষকচীনের নেতারা চান না দেশটির ব্যাংক বা কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ুক। তাঁরা এমন একটা সুযোগ চান, যাতে প্রয়োজনে বলা যায় যে তাঁরা কিছু জানেন না।সহজ কথায়, ইরান যখন চীনে তেল পাঠায়, দেশটি এর বদলে সরাসরি কোনো মার্কিন ডলার বা নগদ অর্থ দেয় না। কারণ, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা (যেমন সুইফট) দিয়ে অর্থ পাঠালে তা যুক্তরাষ্ট্রের নজরে পড়বে এবং নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। তাই তেলের সমপরিমাণ অর্থ চীনে গঠিত একটি বিশেষ ফান্ড বা ব্যাংকে ইরানের নামে ‘ক্রেডিট’ (বা অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স) হিসেবে জমা রাখা হয়।ইরান পরে চীনের কাছ থেকে কোনো যন্ত্রাংশ, গাড়ি, পণ্য বা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে চাইলে নগদ অর্থ না দিয়ে ওই জমানো ‘ক্রেডিট’ থেকে খরচ দেখায়।এ ক্রেডিটকে একটি শপিং মলের ‘উপহার কার্ড’ বা ‘ডিজিটাল কুপন’-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়। আপনি যেমন কার্ডে অর্থ ভরে রেখে পরে শুধুই ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করতে পারেন, ইরান ঠিক তেমনি তেল দিয়ে চীনে নিজেদের নামে ‘কুপন বা ক্রেডিট’ জমা করছে এবং সেই ক্রেডিট ভাঙিয়ে চীন থেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দেশে নিয়ে আসছে।এসপিভি ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান ওষুধ, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে।এর ফলে কোনো ব্যাংক থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা (ডলার) লেনদেনের দরকার পড়ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ কেনাবেচা সহজে আটকাতে পারছে না।সূত্রগুলোর ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এটি তেহরানের জন্য আর্থিকভাবে টিকে থাকার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হয়ে উঠেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বৃদ্ধির সময়েও এ ব্যবস্থা তেহরানকে আর্থিকভাবে টিকে থাকতে সহায়তা করেছে।বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটি ওই গোপন ব্যবস্থার মাধ্যমে কম দামে ইরানের তেল পাওয়ার সুযোগ ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে ইরানে পণ্য রপ্তানি করা চীনা ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক নজরদারি বা শাস্তির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।ইরানের তেল কেনা বা পরিবহনে সহায়তা করা চীনের কিছু ছোট প্রতিষ্ঠানের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে ওয়াশিংটন চীনের ক্ষেত্রে বিরত থেকেছে।ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করা থেকে দেশটিকে বিরত রাখা যায়।ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি আবার সচল করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন চাপ আরও বাড়িয়েছে। গত আগস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে, তাদের সেই সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। না হলে সেসব দেশকে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।ছয় মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের অংশ হিসেবে তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপের কারণে চীনের সঙ্গে তেহরানের পণ্য বিনিময়ের ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে, তা রয়টার্স নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, ১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহাল হওয়ার পর থেকে কোনো ইরানি অপরিশোধিত তেলের চালান সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চীনে যেতে পারেনি।চীন ও ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে বারবার অবৈধ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার করেছে। দেশ দুটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদার। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা কীভাবে বাণিজ্য চালু রাখছে, সে বিষয়ে দেশ দুটি প্রকাশ্যে তেমন কিছু বলে না।রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সব কটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান এ ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন থেকে ওষুধ, যানবাহন ও যোগাযোগ সরঞ্জাম কিনেছে। এসব পণ্যের নির্মাতারা সরাসরি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করেনি। তাদের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনেরও কোনো ইঙ্গিত নেই।গত এক বছরে অন্তত একবার কয়েক কোটি ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ইরানে সরবরাহের চুক্তির ক্ষেত্রেও এ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।তবে এসব লেনদেনের সঙ্গে জড়িত চীনা নির্মাতাদের বিষয়ে সূত্রগুলো বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। এসব লেনদেন সত্যিই হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।ইরান ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর তেহরানও চুক্তির কিছু শর্ত মানা বন্ধ করে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানে অধিকাংশ বড় ধরনের প্রচলিত অস্ত্র রপ্তানির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। ওই সময় নিজের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।কেপলারের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ইরান থেকে জাহাজে করে পাঠানো তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। প্রতিদিন গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে দেশটি।ইউরোপের দেশগুলো ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। তখন ইরান ও চীন এ পদক্ষেপকে ‘আইনগত ও প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছিল।পণ্য বিনিময়ের মতো বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আপনারা যে পরিস্থিতির কথা বলছেন, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক আইনে যার কোনো ভিত্তি নেই এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদন করেনি, এমন একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা সব সময় করে আসছে চীন।’নিউইয়র্ক ও জেনেভায় ইরানের জাতিসংঘ মিশনের কাছে নানা বিষয় জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।হোয়াইট হাউসের কাছেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে ‘ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ থেকে দেশটিকে বিরত রাখা যায়।’তবে রয়টার্স চীন ও ইরানের যে গোপন বাণিজ্যব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছে, ওই কর্মকর্তা তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা এড়িয়ে চলা দশকের পর দশক ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেলের ক্রেতা এখন খুব কম। পণ্যবাজার–বিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান থেকে জাহাজে করে পাঠানো তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। প্রতিদিন গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে দেশটি।২০২১ সালে ইরান ও চীন ২৫ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে। এতে জ্বালানি ও অবকাঠামোর মতো বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তিটির বিস্তারিত প্রকাশ্যে তেমন একটা প্রকাশ করা হয়নি।এদিকে একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও ওই ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করা একটি ক্রেতা অন্তত চলতি বছর পর্যন্ত চীনে অপরিচিত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে মাসে শত শত কোটি ডলার জমা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নাম চুইশিন।গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগ্রহ করা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই ব্যক্তিরা বলেন, ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হংকংয়ে নিবন্ধিত একটি কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় কেনাকাটার অর্থ ওই হিসাবে জমা দেওয়া হতো। এরপর চুইশিন চীনা রপ্তানিকারক ও ইরানে অবকাঠামো নির্মাণকারী কোম্পানিগুলোকে অর্থ পাঠাত। ধারণা করা হচ্ছে, এ অর্থ পাঠাতে চীনের আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হতো।তিনটি সূত্র জানিয়েছে, চুইশিনের মাধ্যমে পরিচালিত ইরানি তেল বিক্রির অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশ অবকাঠামো প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়। গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছিল। বাকি অর্থ রাখা হয় একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠানের (এসপিভি) হিসাবে। ইরানে পণ্য সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো অর্থ পরিশোধে এই এসপিভি ব্যবহার করে।ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মহলের ঘনিষ্ঠ দেশটির দুটি সূত্র এসপিভির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে এর আগে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।পাঁচটি সূত্রই জানিয়েছে, এসপিভিতে থাকা অর্থ পরিচালনা করে দুটি প্রতিষ্ঠান। এর একটি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হয়ে কাজ করে এবং অন্যটি ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানিকারকদের এসপিভির অর্থ ব্যবহারের অনুমোদন দিলে ইরানের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানটি চীনের প্রতিষ্ঠানটিকে তা জানায়। এরপর ইরানে চীনা পণ্য সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়।চীনা কোম্পানির নিবন্ধনসংক্রান্ত কোনো নথিতে ‘চুইশিন’ নামে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের রেকর্ড খুঁজে পায়নি রয়টার্স। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হয়ে কাজ করে বলে যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেগুলোরও কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র বলেছে, চুইশিন হয়তো শুধু স্প্রেডশিটে থাকা একটি নাম।চীন ও ইরানের মধ্যে গোপনে ব্যবসা করার জন্য বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত এসপিভির মাধ্যমে গত এক বছরে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি ডলার লেনদেন হয়েছে।ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি (এনআইওসি) ও ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করে—কথিত এমন কোম্পানিগুলোর একই নামে হংকংয়ের কোম্পানি নিবন্ধন তালিকায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানার কাঠামো বা ব্যবসায়িক লেনদেনের কোনো প্রকাশ্য নথি রয়টার্স খুঁজে পায়নি। নিবন্ধিত ঠিকানায় প্রশ্ন পাঠিয়েও কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জবাব পাওয়া যায়নি। নিবন্ধিত ঠিকানাগুলো এমন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, যারা অন্য কোম্পানির জন্য প্রশাসনিক সেবা দিয়ে থাকে।নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সুযোগ ইরানের সঙ্গে লেনদেনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ঝুহাই ঝেনরং। একটি সূত্র রয়টার্সকে ২০২৫ সালের ২২ জুলাইয়ের বলে দৃশ্যমান হওয়া ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির একটি চিঠি দিয়েছে। এতে চীনা তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটির কাছে বকেয়া অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এটি দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রমাণ।রয়টার্স স্বাধীনভাবে নথিটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। উল্লিখিত গোপন বাণিজ্যব্যবস্থায় নিজেদের ভূমিকা বা নথিটি সম্পর্কে জানতে এনআইওসি ও ঝুহাই ঝেনরংয়ের কাছে জানতে চেয়েও কোনো উত্তর পায়নি রয়টার্স। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি।রয়টার্সকে তিনটি সূত্র বলেছে, উল্লিখিত ব্যবস্থা অন্তত ২০২১ সাল থেকে চালু আছে। প্রথম দিকে এর মাধ্যমে ইরানে ওষুধ ও কোভিড-১৯-এর টিকা সরবরাহ করা হতো।সূত্রগুলো আরও বলেছে, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা কোম্পানিগুলোর ওপর ওয়াশিংটন চাপ বাড়িয়ে দেওয়ায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমেই বেড়েছে। তাদের হিসাবে, গত এক বছরে এসপিভির মাধ্যমে ইরান ও চীনের মধ্যে ২০০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি ডলারের লেনদেন হয়েছে।চীন এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে এবং দেখাচ্ছে যে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। এমনটাই মনে করছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাষক আন্দ্রেয়া ঘিসেল্লি। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন।তবে ঘিসেল্লি বলেন, চীনের নেতারা চান না, দেশটির ব্যাংক বা কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ুক। তাঁরা এমন একটা সুযোগ চান, যাতে প্রয়োজনে বলা যায়, তাঁরা কিছু জানেন না।

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?
সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

হুথিদের তুলনায় সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও বিপাকে রয়েছে সৌদি আরব। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা রিয়াদকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরব এখন বড় ধরনের যুদ্ধ চায় না। তবে হুথিদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী আচরণ দেশটিকে আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। ইয়েমেন ও ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, পরিস্থিতির সব ইঙ্গিতই সৌদির বড় ধরনের পাল্টা হামলার দিকে যাচ্ছে। তার মতে, কার্যত সৌদি আরবের হাতে এখন খুব বেশি বিকল্প নেই। আরও পড়ুন তেলের পথে যুদ্ধের আগুন, সবার নজর সৌদি আরবে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই সম্প্রতি হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে। একই সঙ্গে, তারা মোখা বন্দর শহরেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। বাব আল-মান্দেব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথগুলোর একটি। এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সৌদি আরবের ওপরও চাপ বেড়েছে। এর মধ্যেই ইরাক থেকে ড্রোন হামলার শিকার হয়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জন্য ইরানের দিকে আঙুল তুলেছেন। ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাকে সক্রিয় রয়েছে। আরও পড়ুন বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা, লোহিত সাগরে নতুন সমীকরণ হরমুজ বন্ধ থাকায় পাইপলাইনের গুরুত্ব বেড়েছে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। আগে এসব তেল পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারে তোলা হতো। ফলে পাইপলাইনে হামলা সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। গত মাসের শুরুতেই সৌদি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরাকি মিলিশিয়া ও হুথিদের সমন্বিত একাধিক হামলার আশঙ্কা করছে রিয়াদ। আরও পড়ুন ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে সৌদি আরব হুথিদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। একদিকে বিপুল সম্পদের অধিকারী সৌদি আরবের আধুনিক ও সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে দরিদ্র ইয়েমেনের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। কিন্তু বাস্তবে হুথিদের দমন করা অত্যন্ত কঠিন প্রমাণিত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে গোষ্ঠীটি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধকৌশল উন্নত করেছে। গাজা যুদ্ধের পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তারা। পশ্চিমা দেশ ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের কাছে হুথিরা ইরানের একটি প্রক্সি বাহিনী হিসেবে পরিচিত হলেও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। আরও পড়ুন হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি? হুথিদের প্রধান দাবি কী হুথিদের দাবি, উত্তর ইয়েমেনের তাদের নিয়ন্ত্রিত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর সৌদি আরবের অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। এই অবরোধের মধ্যে অর্থনৈতিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার প্রধান নাসর আল-দিন আমের বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে তাদের গোষ্ঠী। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা বাড়ানোর পথ থেকে তারা সরে আসবে না। আরও পড়ুন হুথির হাতে পেরিম দ্বীপ, বন্ধ হবে লোহিত সাগরও? ২০১৪ থেকেই ইয়েমেনে যুদ্ধ ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দেশ ছাড়তে হয়। পরের বছর হুথিদের হটাতে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইরান হুথিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ, নাকচ করেন ট্রাম্প সর্বশক্তি দিয়ে হামলা করলে বড় ঝুঁকি বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের একটি পথ হলো হুথিদের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান চালানো। কিন্তু এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের বিশ্লেষক চিনজিয়া বিআঙ্কো মনে করেন, সৌদি আরব যদি সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধে নামে, তাহলে তা ইয়েমেনের দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে পরিণত হতে পারে। আরও বড় আশঙ্কা হলো, সেই সংঘাতে ইরান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। তখন সংঘাতটি শুধু ইয়েমেনকেন্দ্রিক থাকবে না। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং তার মাধ্যমে রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৃহত্তর সংঘাতের অংশ হয়ে উঠতে পারে। আরও পড়ুন হাঁটা শেখার আগেই দৌড়ের পরীক্ষায় মক্কা চুক্তি! যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদির পাশে দাঁড়াবে? সৌদি আরবের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কতটা সামরিক সহায়তা দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়াতে খুব একটা আগ্রহী নয়। হরমুজ প্রণালির সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি জটিল। ট্রাম্পও বলেছেন, হুথিরা চায় না যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই সংঘাতে জড়াক। তবে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিতে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। সৌদি সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাওয়াফ ওবায়েদ বলেছেন, রিয়াদের অনুরোধ মূলত মার্কিন বিমান হামলার জন্য ছিল না। তাদের চাওয়া ছিল গোয়েন্দা সহায়তা। আরও পড়ুন সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে? রাজনৈতিক সমাধানের পথও সংকুচিত সৌদি আরবের আরেকটি বিকল্প হলো রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা। কিন্তু সেই পথও এখন আগের তুলনায় অনেক কঠিন। গত কয়েক মাস ধরে রিয়াদ হুথি ও ইরানকে সতর্ক করে আসছে। বিভিন্ন সময় নিন্দা জানিয়েছে এবং কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাতে হুথিদের অগ্রযাত্রা থামেনি। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পরও তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা চালায়নি। বরং ইরাক সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে। বিশ্লেষক চিনজিয়া বিআঙ্কোর মতে, রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগ সৌদি আরব প্রায় শেষ করে ফেলেছে। আরও পড়ুন তেল পাইপলাইনে হামলা, কী করবে সৌদি সমঝোতা হলে মূল্যও দিতে হবে হুথিদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো গেলেও সৌদি আরবকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। বিশ্লেষক আল-বাশার মতে, এমন সমঝোতা হলে হুথিদের প্রায় সব দাবিই মেনে নিতে হতে পারে। তার ভাষায়, সেটি হবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল আত্মসমর্পণের মতো। তবে অন্যদিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধেও সৌদি আরবের জন্য বড় ঝুঁকি রয়েছে। ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারে। সামনে কী করবে রিয়াদ সৌদি আরব কবে এবং কীভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের সামরিক অভিযান এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে, এমনকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও, এই অভিযান আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একাধিক ফ্রন্টে বড় ধরনের চমকও দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধে যাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ হুথিদের পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীরও হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব। ফলে রিয়াদের সামনে এখন দুটি পথই কঠিন—যুদ্ধে গেলে বড় আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি, আর সমঝোতায় গেলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বড় ছাড় দেওয়ার আশঙ্কা। সূত্র: সিএনএনকেএএ/

News
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
0
হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?
হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় রয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। তাদের এই অগ্রগতি সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, হুথি মূলত কারা? তারা ঠিক কতটা শক্তিশালী? আসুন, এই প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজা যাক... ইতিহাস ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজধানী সানা দখলের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে হুথি সৈন্যরা/ ছবি: এএফপি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা একসময় মূলত স্থানীয় গেরিলা বাহিনী হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ, ইরানের সহায়তা এবং নিজেদের অস্ত্র উৎপাদন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার কারণে তারা এখন এমন এক সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌ-অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। সর্বশেষ লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত অগ্রগতি এবং কৌশলগত মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর সামনের সারিতে সংঘাত তুলনামূলকভাবে স্থবির থাকলেও ২০২৬ সালে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক যুদ্ধ নতুন করে ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এখন লোহিত সাগরের দিকে হুথিদের অগ্রগতি তাদের শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ শক্তি হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম আঞ্চলিক সামরিক শক্তি হিসেবে সামনে এনেছে। ক্ষেপণাস্ত্রই প্রধান শক্তি হুথিদের সামরিক শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলোর একটি হলো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রভাণ্ডার। তাদের হাতে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণেও হুথিদের ব্যবহৃত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে ইয়েমেন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হুথিদের ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সুযোগ দিয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতীতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। রিয়াদের মতো দূরবর্তী লক্ষ্যেও হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছিল গোষ্ঠীটি। তবে হুথিদের হাতে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে নেই। বিভিন্ন মডেল ও উৎসের অস্ত্র তাদের ভাণ্ডারে থাকায় সংখ্যার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- তারা এসব অস্ত্র নিয়মিতভাবে ব্যবহার এবং কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সংযোজন বা উৎপাদন করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। ড্রোনে বড় পরিবর্তন হুথিদের সামরিক শক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ড্রোন। একসময় অপেক্ষাকৃত সীমিত সক্ষমতার এই অস্ত্র এখন তাদের যুদ্ধকৌশলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তাদের হাতে স্বল্পপাল্লার ড্রোন থেকে শুরু করে দীর্ঘপাল্লার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন বা ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ইউএভি’ রয়েছে। কাসেফ ও সাম্মাদ পরিবারের ড্রোনসহ ইরানি নকশার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবস্থা হুথিরা ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের ভেতরে তুলনামূলক সহজ প্রযুক্তির ড্রোন তৈরি বা সংযোজনের সক্ষমতাও গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ড্রোনের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখানেই হুথিদের শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। অত্যাধুনিক একটি অস্ত্র পুরোপুরি তৈরি করার সক্ষমতা না থাকলেও তারা বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তি ও নকশা ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্র তৈরি বা সংযোজন করতে পারে। ফলে একটি নির্দিষ্ট কারখানা বা সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা চালিয়ে তাদের পুরো ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা কঠিন। সমুদ্রেও ভয়ংকর সক্ষমতা হুথিদের সামরিক শক্তিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে তাদের নৌ-আক্রমণ সক্ষমতা। জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোনবোট ও অন্যান্য নৌ-অস্ত্র ব্যবহার করে তারা লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। ২০২৩ সালের শেষদিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলার ধারাবাহিকতায় হুথিরা প্রমাণ করেছে যে তাদের সক্ষমতা শুধু স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। তারা বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে এবং একটি ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার থেকে যোদ্ধারা জাহাজে নেমে সেটি দখলও করেছিল। ২০২৬ সালে পেরিম দ্বীপের মতো কৌশলগত অবস্থান তাদের হাতে আসায় এই সক্ষমতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পেরিম দ্বীপ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছেই অবস্থিত। ফলে হুথিরা সেখানে অবস্থান শক্ত করতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের কাছাকাছি থেকে তুলনামূলক কম দূরত্বে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন ও নৌ-অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে। ইরানের ভূমিকা কতটা? হুথিদের সামরিক শক্তি গড়ে ওঠার পেছনে ইরানের ভূমিকা নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা রয়েছে। ইরান সরাসরি হুথিদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিভিন্ন সূত্র ও গবেষণায় অস্ত্র, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও সামরিক পরামর্শের সহায়তার কথা উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক হুথি অভিযানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং উন্নত অস্ত্র ও ড্রোন সরবরাহের ভূমিকার কথা আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে হুথিদের পুরো সামরিক সক্ষমতাকে শুধু ইরানের অস্ত্র সরবরাহ দিয়ে ব্যাখ্যা করাও ঠিক হবে না। এক দশকের যুদ্ধ তাদের নিজস্ব যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, অস্ত্র পরিবর্তন, স্থানীয় উৎপাদন এবং বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরিচালনার দক্ষতা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের ড্রোন সক্ষমতায় ইরানি প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের নিজস্ব অপারেশনাল অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অস্ত্র নয়, যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও শক্তি হুথিদের বড় সুবিধা তাদের দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে লড়াই তাদেরকে আকাশ হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর কৌশল শিখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পরও তাদের অস্ত্র তৈরির ও হামলা চালানোর সক্ষমতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, হুথিরা বিভিন্ন ধরনের ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অ্যান্টি-শিপ অস্ত্র ধরে রেখেছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সক্ষমতাও তৈরি করছে। এ কারণেই হুথিদের ক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে সামরিক শক্তি বিচার করা কঠিন। একটি বড় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মতো তাদের বিমানবাহিনী বা অত্যাধুনিক নৌবহর নেই। কিন্তু তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক নৌযান ব্যবহার করে তারা অত্যন্ত ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজ, তেল স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে বড় শক্তি- ভৌগোলিক অবস্থান হুথিদের সামরিক সক্ষমতার সবচেয়ে বড় গুণ সম্ভবত তাদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডের অবস্থান। বাব আল-মান্দাব হলো লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল। এই পথ দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে হুথিরা এই অঞ্চলে চাপ সৃষ্টি করতে পারলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণও এখানেই। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের কাছে ইরানের মতো বিপুল সামরিক অবকাঠামো নেই এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যে ধরনের দীর্ঘদিনের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, তার সমতুল্য শক্তিও তাদের নেই। কিন্তু লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের কাছে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তাহলে হুথিরা কতটা শক্তিশালী? সব মিলিয়ে হুথিদেরকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। তাদের কাছে আধুনিক যুদ্ধবিমান, বড় নৌবহর বা ব্যাপক সাঁজোয়া বাহিনী নেই। কিন্তু ক্ষুদ্র ও তুলনামূলক কম খরচের অস্ত্র দিয়ে বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব সৃষ্টি করার সক্ষমতা তাদের সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, দীর্ঘপাল্লার ড্রোন, অ্যান্টি-শিপ অস্ত্র, বিস্ফোরক নৌযান, স্থানীয় অস্ত্র সংযোজনের সক্ষমতা এবং দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা- সব মিলিয়ে হুথিরা মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র শক্তিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। আর এখন পেরিম দ্বীপ ও মোখার মতো কৌশলগত অবস্থানে তাদের অগ্রগতি এই শক্তিকে আরও বড় আঞ্চলিক প্রভাবের সুযোগ করে দিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য ন্যাশনাল, আল-জাজিরা এসএএইচ

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0
পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার সে দেশের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় বাণিজ্য মেলা হবে। তিনি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য দিয়ে পাকিস্তানে অনুরূপ বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে তার দেশের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথা জানান। আরও পড়ুন দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির এ বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে হাইকমিশনার পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। হাইকমিশনার বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি হাইকমিশনারকে তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেএইচ/একিউএফ

News
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
0

Follow us

Rss feed news

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা অনুমোদন
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা অনুমোদন

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক ও তাঁর ছেলের প্রায় ২৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ এবং ১৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পুলিশের এসিসহ দুই এএসআই প্রত্যাহার
ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পুলিশের এসিসহ দুই এএসআই প্রত্যাহার

৪ সেপ্টেম্বর নগরের হালিশহর থানার কে-ব্লক এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল ও তাঁর বন্ধু মো. মনসুরকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
গাইবান্ধার হরিদাস ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে
গাইবান্ধার হরিদাস ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে

ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে ৭৫ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের মামলায় রিমান্ড শেষে রামবিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে জিন্নাহর ছবি; ডাকসু সংগ্রহশালা ঘিরে বিতর্ক
ইলন মাস্ক, দূরদর্শী উদ্যোক্তা নাকি ক্ষমতার ভয়ংকর খেলোয়াড়? তথ্যচিত্র নিয়ে তুমুল বিতর্ক
ইলন মাস্ক, দূরদর্শী উদ্যোক্তা নাকি ক্ষমতার ভয়ংকর খেলোয়াড়? তথ্যচিত্র নিয়ে তুমুল বিতর্ক

প্রায় চার ঘণ্টার এই তথ্যচিত্রে শুধু মাস্কের ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, তাঁর ব্যক্তিজীবন, রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার ব্যবহার এবং নিজের তৈরি জন-ইমেজ; সবকিছুকে খতিয়ে দেখা হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
হরমুজে সহায়তা না করা দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
হরমুজে সহায়তা না করা দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

<p>ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করতে চাইছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা বা সমঝোতায় যাওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহের পথ স্বাভাবিক রাখতে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে না, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।</p><p> সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র ইরান খুব দ্রুত এবং মরিয়া হয়ে (ওয়াশিংটনের সঙ্গে) একটি চুক্তি করতে চাইছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হবে কি না, তা আমিই নির্ধারণ করব। অবশ্য এই ধারণার বিষয়ে আমাদের অবস্থান উন্মুক্ত।’</p><p>ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল পরিবহন নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করছে না, তারা মার্কিন প্রশাসনকে অর্থ পরিশোধ বা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/73u6ebolt0">ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প</a></aside><p>এর আগে গত রোববার আয়ারল্যান্ড সফরে আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, এ বছরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সম্ভবত ইরান যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেই জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/gt9tosb7xp">হরমুজ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, কূটনীতিতে হোঁচট</a></aside>

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ

<p>পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবিকে কেন্দ্র করে করা রিট খারিজ করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে ডিলিট (মুছে দেওয়া) করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আজ সোমবার এ আদেশ দেন।</p><p> গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি গ্রামীৃণ কল্যাণের চেয়ারম্যানও ছিলেন।</p><p> এর আগে পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে ১০ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্ত বৈধতা পায়।</p><p>হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণ দুটি আবেদন করে, যা আজ চেম্বার আদালতে ওঠে। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।</p><p>পরে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের না করা পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চাওয়া হয়েছিল। কেননা এই রায়ের ভিত্তিতে যাতে কোনো উদ্যোগ বা কার্যক্রম না নেওয়া হয়। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় বের না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে রাষ্ট্রপক্ষ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আইনজীবী আশ্বস্ত করেছেন। আদালত গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, যেহেতু হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি, তাই আমরা এখন হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে।’</p><p>তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন চেম্বার আদালত। আবেদনকারী পক্ষকে হাইকোর্টের রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি গ্রহণের পর লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলা হয়েছে।’</p><p>পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল (অতিরিক্ত কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে) করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয় রায়ে।</p><p>হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পৃথক লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় ঘোষণা করেন। পরে একই বছরের ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে নেন একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) হবে।</p><p>পাশাপাশি ওই মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। এই বেঞ্চ শুনানি শেষে ১০ সেপ্টেম্বর রুল ডিসচার্জ (রুল খারিজ) করে রায় ঘোষণা করেন।</p>

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
শিক্ষার্থীদের ঢাকার ইতিহাস চেনাতে ছুটির দিনে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ ডিএসসিসির
শিক্ষার্থীদের ঢাকার ইতিহাস চেনাতে ছুটির দিনে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ ডিএসসিসির

<p>ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে ছুটির দিনে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে শিক্ষাসফরের আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।</p><p> সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-14/0h0a0ejk/DSCC-2.jpeg"><figcaption>‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করছেন নৃত্যশিল্পীরা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা</figcaption></figure><p>৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্বে দেশের নয়টি নাট্যদল নয়টি নাটক মঞ্চস্থ করে। এর মধ্যে প্রাচ্যনাটের ‘কিনু কাহারের থেটার’, লোক নাট্যদল (বনানী)-এর ‘কঞ্জুস’, ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্য সেন’, বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটারের ‘আলেয়া’, আরণ্যক নাট্যদলের ‘কম্পানি’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমিনা সুন্দরী’, তীরন্দাজ রেপার্টরির ‘কণ্ঠনালীতে সূর্য’, দৃষ্টিপাত নাট্য দলের ‘সে এক স্বপ্নের রাত’ এবং বাংলাদেশ থিয়েটারের ‘সী-মোরগ’ উল্লেখযোগ্য।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-14/euz2cfdx/DSCC-3.jpeg"><figcaption>জাতীয় নাট্যশালায় সমাপনী আয়োজনে নৃত্যশিল্পীদের সমবেত নৃত্য পরিবেশনা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা</figcaption></figure><p>সমাপনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব শুধু পরিচ্ছন্নতা ও কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা এবং ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, লালকুঠিসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সংস্কারকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির দিনে কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ ঐতিহাসিক স্থানে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ব্যবহারের জন্য ডিএসসিসির আওতাধীন মিলনায়তন ও কমিউনিটি সেন্টারে বিশেষ ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-14/je97tt3t/DSCC-4.jpeg"><figcaption>‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ একটি নাটকের দৃশ্য। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা</figcaption></figure><p>পরে উৎসবে অংশ নেওয়া নাট্যদলগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ আগস্ট পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে উৎসবের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।</p><p>সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান।</p>

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্পিডবোট-বাল্কহেড মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্পিডবোট-বাল্কহেড মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্পিডবোট ও স্টিলের বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও এই ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় গ্রামের রায়হান ভূঁইয়ার ছেলে মো. দয়াল মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার বরারচর গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে সজীব মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে এক অসুস্থ রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়ে স্পিডবোটটি চাতলপাড় ফিরে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি স্টিলের বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দয়াল মিয়া ও সজীব মিয়া নামের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে এলে এরমধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় পুলিশ। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। আবুল হাসনাত মো. রাফি/এএমএ

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
পুরস্কার জিতে ইসরায়েলি নির্মাতারা পেলেন নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি
পুরস্কার জিতে ইসরায়েলি নির্মাতারা পেলেন নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা ও পুরস্কার পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিল তথ্যচিত্র ‘নাজা’। তবে উৎসবে সাফল্যের পর এবারই কঠিন চাপের মুখে পড়েছেন ছবিটির দুই নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোর। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’র প্রদর্শনী ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ছবিটির প্রদর্শনী শেষে দর্শকেরা প্রায় ২৪ মিনিটের দীর্ঘ করতালি দেন, যা উৎসবটির ইতিহাসে দীর্ঘতম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ছবিটির নির্মাতারা তাদের কাজের জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কারও পান। তবে ছবিটির বিষয়বস্তু নিয়ে ইসরায়েলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ‘নাজা’তে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড ও এর পেছনের ব্যবস্থাগুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে ছবিটির আনুষ্ঠানিক পরিচিতিতে বলা হয়েছে। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার ছবিটিকে ‘চমকপ্রদ’ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি এই দুই নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেবেন। মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, নির্মাতারা বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নিজেদের দেশের ক্ষতি করছেন। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভেনিসে পুরস্কার গ্রহণের সময় ইউভাল আব্রাহাম বলেন, ছবিটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের সমালোচনা করা তার জন্য সহজ নয়। তার দাবি, ছবিটি না দেখেই অনেকে এর সমালোচনা ও অস্বীকার করছেন। আব্রাহাম আরও বলেন, কোনো অপরাধ অস্বীকার করাই সেটিকে টিকে থাকতে সহায়তা করে। তাই ইসরায়েলি নাগরিকদের এই ছবি দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদেরও ছবিটি দেখার আহ্বান জানান নির্মাতা। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়ার পর ‘নাজা’ এখন রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে। ছবিটির দুই নির্মাতাকে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।   এলআইএ

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট: আসিফ মাহমুদ
পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট: আসিফ মাহমুদ

এই রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ এমন মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, একটা আনপপুলার অপিনিয়ন দেই। ১১ হাজার কোটি না, আমি যদি এর ১% অর্থাৎ ১১০ কোটি টাকারও দুর্নীতি করতাম তাহলে দুদক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানই আমার বিরুদ্ধে কিছু করতো না। এই করাপ্টেড রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ লেখেন, জায়গামতো সালামি আর গিফ্ট পাঠিয়ে দিলে হাজার হাজার অভিযোগও কখনো অনুসন্ধানের মুখ দেখতো না। মাঝেমধ্যে মনে হয় সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। শুধু টাকা থাকার কারণে এস আলমরা টিকে যায় রাষ্ট্রের লাখ কোটি টাকা লোপাট করেও। এনসিপির এই নেতা লেখেন, বড় বড় নেতার ছেলেদের সঙ্গে সমঝোতা করে বিসিবি ডিরেক্টর না বানানো, সমঝোতা করে ফ্যাসিবাদের আইকন খেলোয়াড়কে দেশে না আনা, জোর করে সিটি করপোরেশনে বসতে সহযোগিতা না করা, গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়নে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু, ভারতীয় দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম ফেলানীর নামে নামকরণ করাসহ ভুড়ি ভুড়ি বোল্ড কাজ করার পরেও যে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে বেঁচে আছি এটাই অনেক। আরও পড়ুন আসিফ মাহমুদ / বিদেশে ১ পয়সা বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমি আমার নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণের প্রশ্নে কখনো মাথানত করিনাই। শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই সমঝোতা না করে বোল্ড পজিশন বা চ্যালেঞ্জ নেওয়াকে আমার ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। রাজনীতিতে কম্প্রোমাইজ করে চললে হয়তো অনেক ভালো থাকতে পারতাম, তবে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকা লাগতো সারাজীবন। শেষে তিনি লেখেন, এমন বড় বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করিনি যাদের কথা এই রাষ্ট্রের কেউই সহজে ফেলার সাহস করে না। এমনটা তো হওয়ারই ছিল। এএমএ

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
গান ও শিল্পীর শক্তি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে: রিজভী
গান ও শিল্পীর শক্তি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে: রিজভী

সাংস্কৃতিক বাহিনী ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, একটি গান বা একটি কলি সমাজে বা রাষ্ট্রে সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে। একটি গান ও একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘একজন নেতার কথা বলছি’ শীর্ষক গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রিজভী বলেন, বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা...’, ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি...’-এ ধরনের একটি গান বা কলি সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে সমাজে বা রাষ্ট্রে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আসামে একটি গানের কারণে একজন শিল্পীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কারণ সেখানে কট্টরপন্থি সরকার ছিল। একটি গান, একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি অ্যাটম বোমার চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। যা স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মী বাহিনী যেই রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনে থাকবে না, সেই আন্দোলন কখনোই সফল হবে না। এটা হচ্ছে বড় বড় মনীষীদের কথা। প্রতিটি বৃহত্তর স্বাধীনতার সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক প্রতিটি বিপ্লবে মূল সৈনিক হচ্ছে সাংস্কৃতিক বাহিনী। সাংস্কৃতিক বাহিনী হচ্ছে প্রত্যেকটি আন্দোলনের অগ্রগামী, অগ্রসেনানী। তারা যদি সুসংগঠিত না থাকে, তাহলে আন্দোলন সফল হয় না। পৃথিবীর দেশে দেশে দেখা গেছে, ফ্যাসিস্টদেরও সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী থাকে। হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসকের অনেক বড় বড় সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী ছিল। কিন্তু শিল্পী হলেই যে মানবতাবাদী হবে, তা নয়। আরও পড়ুন রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আজকে রোকেয়া প্রাচীরা শেখ হাসিনার গুণগান গাইছে এবং বহু চক্রান্তের মধ্যে তারা জড়িত হচ্ছে। এরইমধ্যে আপনারা দেখেছেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হলেই যে তার মন উদার ও মানবতাবাদী হবে, তা কিন্তু নয়। সেই ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, যার মধ্যে নজরুলের (জাতীয় কবি) গুণাবলি রয়েছে। নজরুলের গুণাবলি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য যার ভেতর আছে, সেই হবে প্রকৃত অর্থে শিল্পী। তিনি আরও বলেন, আহনাফ, মুগ্ধ, আবু সাঈদ-এদের যে মহিমান্বিত আত্মদান, তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরানো, সাদা শার্ট রক্তে লাল হওয়া, কিন্তু ওরা দেখেনি। তাদের চোখ দিয়ে তারা দেখেনি। ওরা কত বদ্ধ ও কত সঙ্কীর্ণ যে, একই দেশের মানুষ হয়ে তারা একটা ভয়ঙ্কর ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করেছে। জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবুর সভাপতিত্বে এবং জাসাসের সদস্য খালেদ এনাম মুন্নার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল, শাম্মী আক্তার এমপি ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন প্রমুখ। কেএইচ/এএমএ

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
সাপ ডোবানো ‘স্নেক ওয়াইন’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কেন এত জনপ্রিয়
সাপ ডোবানো ‘স্নেক ওয়াইন’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কেন এত জনপ্রিয়

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় স্থানীয় বাজারে ব্যস্ততার মাঝেই চোখে পড়বে দোকানগুলোর সামনের তাকেই সারি সারি সাজানো ‘স্নেক ওয়াইন’। নাম থেকেই আন্দাজ করা যায় এর বিশেষত্ব-বোতলে মদ বা অ্যালকোহলের মধ্যে থাকবে ছোট্ট একটি সাপ যার কারণে পানীয়টিতে একটি আলাদা স্বাদ ও গন্ধের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। শুনে গা শিউরে উঠলেও সত্যি সত্যিই এ স্বচ্ছ বোতলগুলোতে মদের ভেতর ভাইপার প্রজাতির সাপ (মৃত) প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। চমকপ্রদ এ পানীয়টি দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের ঘরে-বাইরে, অনুষ্ঠান, সরাইখানা-রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত হয়ে আসছে। চীনের রাজবংশগুলোর চিকিৎসালয়ে ওষুধ বা প্রতিশেধক হিসেবে ব্যবহৃত এই স্নেক ওয়াইন একসময় পরিণত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের পছন্দের পানীয়তে এবং হয়ে উঠেছে তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বচ্ছ কাঁচের বোতলে আস্ত সাপ ডোবানো এই স্বচ্ছ অ্যালকোহল বা মদের প্রচলন চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঝু রাজবংশের সময়ে, ২ হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে। বর্তমানে এটি ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড ও চীনের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। এটি কীভাবে তৈরি হয় টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাইস ওয়াইন বা উচ্চমানের শস্যদানা থেকে প্রস্তুতকৃত ওয়াইনে একটি সাপ ডুবিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়। কখনো কখনো মদের ভেতর বিছা, জিনসেং বা স্থানীয় লতাপাতাও দেওয়া থাকে। মদে থাকা ইথানল সাপের ভেতর থাকা টক্সিক প্রোটিনগুলোকে ভেঙে এর বিষের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে, মদটি পান করতে কোনো ঝুঁকি থাকে না। পুরো বোতল নিতে না চাইলে ছোট বিকল্প হিসেবে আকালে ছোট গ্লাসে সাপ টুকরো করে কেটে এর রক্তসহ মদে পরিবেশন করা হয়। ওষুধ হিসেবে ব্যবহার ট্রেডিশনাল চীনা ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হয়। চীনা ওষুধ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা আগে থেকেই সাপকে একটি শরীর উষ্ণকারী ও আর্দ্রতাদূরকারী খাবার হিসেবে দেখে থাকেন। বাতের ব্যাথা, দীর্ঘস্থায়ী অবসন্নতা কমাতে ও রক্ত চলাচল বাড়াতে এ পানীয় বেশ উপকারী বলে প্রচলন রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এ অঞ্চলের বিভিন্ন রূপকথা বা উপকথায় এ পানীয়কে প্রাকৃতিক টনিক হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের বাইরে স্থানীয় মার্কেটগুলোতে স্নেক ওয়াইনকে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এখানকার বাসিন্দারা বাড়িতে কোনো মেহমান এলে তাকে এই স্নেক ওয়াইন পরিবেশন করে সম্মানিত বোধ করাতে পছন্দ করেন। আবার বিদেশিদের কাছে স্যুভেনির হিসেবে নিয়ে যেতে বিভিন্ন ছোট ছোট বোতলেও বিক্রি করা হয় এই বিশেষ ওয়াইন। এএমএ

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে এক শিশুসহ ছয়জনের প্রাণহানি হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন হাজেরা বেগম (৫০), শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) ও কুলসুমা (৩৫)। এ ছাড়া অজ্ঞাত এক শিশুও নিহত হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে সব তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের একটি নষ্ট লিফটে আগুনের সূত্রপাত হয়। লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় ছিল এবং এর ভেতরে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের একটি ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরও পড়ুন ময়মনসিংহ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখানে ময়লা ও আবর্জনাও জমে ছিল। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর ধোঁয়া ও আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নতুন ভবনে থাকা রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। এ সময় সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং পরে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা মানুষজন একসঙ্গে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এতে সিঁড়ি ও ভবনের বের হওয়ার পথে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়। আতঙ্কিত অনেকে দ্রুত বের হতে গিয়ে পড়ে যান। তাদের ওপর দিয়ে অন্যরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে পদদলনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এতে হাসপাতালের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হোসাইন সুলভ/এএমএ

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ব্যবসায়ীকে হয়রানি করে অর্থ আদায়, সিএমপির দুই এএসআই ক্লোজড
ব্যবসায়ীকে হয়রানি করে অর্থ আদায়, সিএমপির দুই এএসআই ক্লোজড

জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক ব্যবসায়ী ও তার বন্ধুর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ১৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দুই এএসআইয়ের (সহকারী উপ-পরিদর্শক) বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে অভিযোগ ওঠা সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) এএসআই বাছির উদ্দিন এবং সিএমপি রেশন স্টোরের সুফিয়ানকে সাময়িকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে। একই ঘটনায় এলআইসির সহকারী কমিশনার (এসি) শরিফুল আলম সুজনকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি আদায়ের অভিযোগে দুই এএসআইকে ক্লোজড করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর এসিকে দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এসি শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একদল পুলিশের বিরুদ্ধে নগরীর হালিশহরের কে ব্লকের একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল (২৭) ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ তাদের দুজনকে একটি টয়োটা করোলা গাড়িসহ এলআইসি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। শাকিল নিজেকে খাতুনগঞ্জে পলিপ্রোপিলিন (পিপি দানা) ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের পটিয়ায় তার একটি কৃষি খামারও রয়েছে। তার বন্ধুর গাড়ির পার্টসের ব্যবসা আছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে তল্লাশি চালায় এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য একটি ডিভাইসে স্থানান্তর করে। শাকিল ও তার বন্ধু মনসুর জানান, শাকিলের ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়ার এবং তাদের জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এসি শরীফ ও এএসআই বাছির। তাদের আরও অভিযোগ, এসি শরিফুল ও তার সঙ্গে থাকা সদস্যরা শাকিলকে তার বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা) নানা মাধ্যমে স্থানান্তর করতে বাধ্য করেন। আরও পড়ুন আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কোনো রাজনৈতিক চাপে নয়: দুদক শাকিল অভিযোগ করেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিন কনস্টেবল তাকে সিএমপির কাছে একটি ব্যাংকের বুথে নিয়ে যান এবং পাঁচ দফায় ৪ লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলআইসি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট থেকেও ৮০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়। দুই ভুক্তভোগী জানান, কর্মকর্তারা একটি সাদা কাগজে তাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে নেন, তাদের সই নেন এবং তাদের ভিডিও ধারণ করার পর রাত ১২টার দিকে ছেড়ে দেন। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের প্রাইভেটকার ফিরিয়ে দিয়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এমডিআইএইচ/এএমএ

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
প্রশিক্ষণের পর নারীদের কর্মসংস্থানের পথও দেখাতে হবে
প্রশিক্ষণের পর নারীদের কর্মসংস্থানের পথও দেখাতে হবে

নারীদের শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রশিক্ষণের পর অর্জিত দক্ষতা কোথায় ও কীভাবে কাজে লাগিয়ে তারা আয় করতে পারবেন, সেই পথও দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে প্রশিক্ষণ দিলে সরকারি অর্থ ও প্রশিক্ষণার্থীদের সময় ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। তাই প্রশিক্ষণের আগে সংশ্লিষ্ট খাতের চাহিদা, কাজের সুযোগ ও প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সম্ভাবনা নিয়ে পরিকল্পনা ও গবেষণা প্রয়োজন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, আমার দায়িত্ব শুধু ২০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া-এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে এসব নারী কোথায় কাজ করবেন এবং কীভাবে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করবেন, সেই পরিকল্পনাও থাকতে হবে। প্রশিক্ষণের বিষয় নির্ধারণে স্থানীয় বাজারের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার আর্থসামাজিক বাস্তবতা ও কাজের সুযোগ এক নয়। তাই সব এলাকায় একই ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর নাও হতে পারে। কোন এলাকায় কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তা যাচাই করেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সহযোগী বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে একজন নারী যদি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ না পান, তাহলে প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণই শেষ কথা নয়। অর্জিত দক্ষতার নিয়মিত চর্চা করতে হবে। পাশাপাশি বাজার ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে। জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের চাহিদার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। একজন উদ্যোক্তা যে পণ্য তৈরি করবেন, তাতে তার সময়, শ্রম ও বিনিয়োগ রয়েছে। তাই সেই পণ্যের বাজারে চাহিদা আছে কি না, সেটিও ভাবতে হবে। প্রতিদিন নিজের দক্ষতা কতটা বাড়ালেন এবং নতুন কী শিখলেন, সে বিষয়েও মনোযোগী হতে হবে। আরও পড়ুন বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, আবেদন করবেন যেভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের নিজেদের দক্ষতা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের আয় শুরু করলে সেটি তার ব্যক্তিগত সফলতা। কিন্তু সেই দক্ষতার মাধ্যমে আশপাশের আরও কয়েকজন নারী উপকৃত হলে তখন এর সামাজিক সার্থকতা তৈরি হয়। সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আপনার হাতে সেলাই মেশিন পৌঁছালেই কর্মসূচি সফল হবে না। আপনার কাছ থেকে আরও ১০ জন প্রশিক্ষণ নিয়ে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন করতে পারলে তখনই এ উদ্যোগ সত্যিকার অর্থে সফল হবে। শুধু সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের কর্মক্ষম সময় সীমিত। তাই সুযোগ ও সময়কে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ শুধু সরকার বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের বড় শক্তি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে। নারীদের ক্ষেত্রেও কতজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলো, তার চেয়ে প্রশিক্ষণের পর কতজন স্বাবলম্বী হলেন সেটিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নকারী এনজিওগুলোকে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ এবং সেই চাহিদা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের নিজেদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে বলেন। অনুষ্ঠানে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতার পরিধি আরও বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন সম্পর্কে নিয়মিত জানার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আজকের প্রশিক্ষণই শেষ নয়। অর্জিত দক্ষতাকে আরও প্রসারিত ও উন্নত করতে হবে। পৃথিবী প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারীদেরও এগিয়ে যেতে হবে। এমআরএএইচ/এএমএ

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টানানো, শিক্ষক মূল্যায়নসহ তিন ঘটনা তদন্তে তিন কমিটি
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি টানানো, শিক্ষক মূল্যায়নসহ তিন ঘটনা তদন্তে তিন কমিটি

ডাকসু সংগ্রশালায় জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি টানানো, ওয়েবসাইট চালু করে শিক্ষক মূল্যায়ন এবং নির্ভীক জুলাই নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের ঘটনা তদন্তে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে আগামী নভেম্বর মাসের ১২ তারিখ থেকে থেকে বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
এশিয়া কাপে আরো একবার ভূলুণ্ঠিত ক্রিকেটের সৌজন্য
এশিয়া কাপে আরো একবার ভূলুণ্ঠিত ক্রিকেটের সৌজন্য

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাকিস্তানি খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে করমর্দন করা থেকে বিরত থেকেছেন। এশিয়া কাপে ট্রফি না নেওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার পর এই প্রশ্ন উঠছে, যে খেলা বিভিন্ন সময় ডিপ্লোমেসির অঙ্গ হয়ে থেকেছে সেই ক্রিকেটই কি তার স্বতস্ফুর্ত সৌজন্য ও স্পোর্টসম্যানশীপ হারাচ্ছে?

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ভারত থেকে বাংলাদেশে টনে টনে ইলিশ আমদানি কেন হচ্ছে
ভারত থেকে বাংলাদেশে টনে টনে ইলিশ আমদানি কেন হচ্ছে

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও অগাস্টে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করেছে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। আমদানি করা এসব ইলিশের মূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা। ভারত থেকে বাংলাদেশে কেন ইলিশ আমদানি হচ্ছে?

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
২০২৬ সালে মহাসাগরের সেরা ১০টি ছবি
২০২৬ সালে মহাসাগরের সেরা ১০টি ছবি

প্রতি বছর 'ওশান ফটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার' প্রতিযোগিতাটি ফটোগ্রাফারদের বিশ্বের সাগরের সবচেয়ে শ্বাসরুদ্ধকর ছবি জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। বিশ্বের মহাসাগরগুলোর সৌন্দর্য এবং সেই সাথে এদের সামনে আসা চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছে এমন দশটি অসাধারণ ছবি।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
শরীরে চর্বির দলা 'লাইপোমা', এটি কি ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে?
শরীরে চর্বির দলা 'লাইপোমা', এটি কি ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে?

অনেকের শরীরে চামড়ার নিচে নরম ও গোলাকার পিণ্ডের মতো কিছু একটা অনুভব করা যায়, যা ধরলে নড়াচড়া করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় লাইপোমা বা লিপোমা। এটি কী স্বাস্থ্যের জন্য বড় কোনো ঝুঁকি তৈরি করে, চিকিৎসা হয় কীভাবে?

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্টেশন ছাড়ার পর ইউক্রেনের ট্রেনে রাশিয়ার হামলা
বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্টেশন ছাড়ার পর ইউক্রেনের ট্রেনে রাশিয়ার হামলা

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, রুশ জেট-চালিত ড্রোন হামলার মাত্র '১৫ মিনিট আগে' ওই ট্রেনের যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হামলার সময় সাবেক সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রেয়াসও ইয়াহোদিন স্টেশনে থাকা অন্য একটি ট্রেনে ছিলেন। ড্রোনটি ট্রেনটির ইঞ্জিনে আঘাত হানে।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
পত্রিকা: '২৪ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম'
পত্রিকা: '২৪ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম'

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আজকের পত্রিকাগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের আনা দুর্নীতির অভিযোগ, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য খসড়া নিয়ে সংবাদ ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়াবলী।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ ব্রিকস সম্পর্ক নতুন করে তৈরি করছে, যদিও বিভেদ এখনো আছে
ইরান যুদ্ধ ব্রিকস সম্পর্ক নতুন করে তৈরি করছে, যদিও বিভেদ এখনো আছে

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর নেতাদের নিজেদের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের একটি সুযোগও দিয়েছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো একমত যে তাদের একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, তবে বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তে কী আসা উচিত এবং সেখানে কীভাবে পৌঁছানো যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আরও কঠিন।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬