মঙ্গলবারের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা
আগামী ১৩ অক্টোবরের (মঙ্গলবার) কাছাকাছি সময়ের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
<p>এ বছর সাহিত্যে নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের সঙ্গে ব্রুকলিনের লেখক কেট ডোয়ারের আলাপ হয়েছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। কারসন তখন আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইক্যাভিকে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর কিছু সময় তিনি ও তাঁর স্বামী রবার্ট কারি এ শহরে থাকেন।</p><p>২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল দ্য প্যারিস রিভিউতে প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকার অনুবাদ করেছেন <strong>রবিউল কমল</strong></p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> ‘রং নর্মা’ নামের ‘রং’ বা ‘ভুল’ শব্দটি নিয়ে বলুন।</p><p> <strong>অ্যান কারসন:</strong> কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘কানাডীয়রা মার্কিনদের চেয়ে কীভাবে আলাদা?’ আমি বলি, ‘কানাডীয়দের একটা স্বভাব আছে, আর তা হলো তারা ভদ্র, কিন্তু ভুল। সব সময়ই ভদ্র, কিন্তু ভুল!’ বইয়ের নামের মধ্যে ‘ভুল’ শব্দটা রাখার একটা কারণ এটাই। আরেকটা কারণ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে সব সময় মনে হয়, হয়তো আপনি ভুল করছেন। অথবা ভুল করার কাছাকাছি আছেন। তাই সাবধানে কথা বলতে হয়। কারণ, সেখানে সবকিছুর বিচার হয়। কে কত ভালো, কে কত উঁচু পদে আছে—এসবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।</p><p> বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী চাকরি পাওয়ার মতো বিষয়ও অনেক সময় নির্ভর করে আপনি যা বলছেন, তা ঠিক কি না তার ওপর। এ ধরনের চিন্তা আমাকে বিচলিত ও বিরক্ত করে। তাই এই মানসিকতাকে একটু নাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> আপনার ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল, আমরা প্রায়ই বলি, বন্ধু বা প্রেমিক-প্রেমিকারা নাকি ‘একই ধরনের ভাষায় কথা বলে’। কিন্তু আমার মনে হয়, প্রত্যেক মানুষ নিজের মতো করে কথা বলে। তাই সম্পর্কের মধ্যে সব সময় একে অন্যকে বোঝার চেষ্টা করতে হয়। অনেকটা অনুবাদের মতো।</p><p><strong>কারসন:</strong> সত্যি বলতে, একজন মানুষ কথা বললে সে আসলে কী বোঝাতে চায়, অন্য মানুষ কখনোই পুরোপুরি বুঝতে পারে না। এটা কেবল অনুবাদ নয়, বরং অন্ধকারের মধ্যে নিজেকে ছুড়ে দেওয়ার মতো। ভাষা খুব ব্যক্তিগত একটা বিষয়।</p><p>প্রত্যেক মানুষের ভাষা একটু আলাদা। অনেক সময় তা অদ্ভুতও হয়। তাই একে অনুবাদ বলা যায়। তবে ব্যাপারটা তার চেয়ে কঠিন। মানুষ হয়ে কথা বলার মানেই হলো, প্রতিটি বাক্যের মাধ্যমে সেই কঠিন জায়গাটা পার হওয়ার চেষ্টা করা।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> এক ভাষায় কোনো কথা যেভাবে বলা যায়, অন্য ভাষায় হয়তো ঠিক সেভাবে বলা যায় না। অনুবাদক হিসেবে সেখানে আপনার কী অনুভূতি হয়? মানে মূল লেখা আর অনুবাদের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য আছে কি না?</p><p><strong>কারসন</strong>: আমি সেই জায়গাকে একটা খাদের মতো ভাবি। যেন দুটি রাস্তার মাঝখানে একটা খাদ। অনুবাদক যখন কাজ করেন, তখন তাঁর মাথায় একই সঙ্গে দুটি ভাষা থাকে। তিনি এক ভাষার কথা অন্য ভাষায় বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুটি ভাষা কখনোই পুরোপুরি এক হয় না। তাই দুটো সম্ভাবনাই মাথায় ভাসতে থাকে।</p><p>কিছু লেখক নিজের লেখার মধ্যেও এমনটা করেন। এমিলি ডিকিনসন তার ভালো উদাহরণ। তিনি একটি শব্দ লেখেন। তারপর সেটি কেটে দিয়ে অন্য শব্দ লেখেন। কখনো পাশে আরেকটি শব্দ লেখেন। কখনো পুরো কবিতাটাই আবার লিখে ফেলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সব কটিই তাঁর কবিতার অংশ হয়ে যায়।</p><p>মজার ব্যাপার হলো, কবিতাটা তখন আর একেবারে গোছানো থাকে না। বরং অসম্পূর্ণতা, কাটাকাটি ও বদল—সব মিলিয়েই কবিতাটা তৈরি হয়।</p><p>অনুবাদের সময়ও এমন কিছু ঘটে। ধরুন, আপনার সামনে একটি পুরোনো কবিতা আছে। সেখানে কোনো শব্দের অর্থ পরিষ্কার নয়। আবার নিচে বিভিন্ন গবেষক সেই শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ দিয়েছেন। তখন আপনার মাথায় একই জায়গার কয়েকটি সম্ভাব্য অর্থ থাকে। সব কটিই একসঙ্গে থাকে। আমি জানি না, ব্যাপারটা কীভাবে বইয়ের পাতায় ঠিকভাবে দেখানো যায়।</p><p>গ্রিক ভাষার কবিতা সামনে রেখে, নিচে তার নানা সম্ভাব্য অর্থ দেখা দারুণ একটি অভিজ্ঞতা বলে আমি মনে করি। কিন্তু বইয়ে ‘এটা অমুক কবিতার অনুবাদ’ লিখে দিলে সেই অভিজ্ঞতা আর থাকে না।</p><p>কম্পিউটারে হয়তো লিংক দিয়ে কিছুটা দেখানো যায়। কিন্তু কেউ এত লিংকে গিয়ে পড়তে চায় না। একজন গবেষক যখন মূল কবিতার সামনে বসে তার নানা সম্ভাবনা দেখতে পান, তখন যে অনুভূতি হয়, তা পুরোপুরি ভাষায় বোঝানো কঠিন।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> একেবারে নতুন করে কিছু লেখার সময়ও কি এমন হয়?</p><p>কারসন: আমার মনে হয়, কোনো একটা ভাবনা হঠাৎ মাথায় এল, তারপর সেটা যদি আমার কাছে ভালো লাগে, আমি তার পেছনে সময় ব্যয় করি। অনেকটা এমন, আপনার বাড়ির পেছনের উঠান দিয়ে একটা শিয়াল দৌড়ে গেল। আপনি তার পেছনে হাঁটতে শুরু করলেন। দেখতে চান, সে কোথায় যায়। লেখার ব্যাপারটাও অনেকটা তেমন।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> ‘রং নর্মা’র শিয়ালটি বেশ রহস্যময়। লেখার সময় তার কোনো নির্দিষ্ট অর্থ ছিল?</p><p><strong>কারসন:</strong> সত্যি বলতে, শিয়ালটা কোথা থেকে এসেছিল আমি জানি না। রাগনার কিয়ার্তানসনের দ্য ভিজিটর্স অ্যালবামের জন্য আমি কিছু লিখছিলাম। একই সময়ে ছবি আঁকছিলাম। হঠাৎ আমার আঁকা ছবিতে একটা শিয়াল চলে এল। শিয়ালটা এত সুন্দর হয়েছিল যে আমি ভাবলাম, ‘শিয়ালটাকে কোথাও না কোথাও রাখতেই হবে।’ তাই তাকে ‘দ্য ভিজিটর্স’-এর লেখায় ঢুকিয়ে দিলাম। শিয়ালটা একেবারেই হঠাৎ এসেছিল। কিন্তু তাতেই মনে হলো, তাকে নিয়ে কিছু একটা করতেই হবে।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> কীভাবে আপনি লেখার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় বেছে নেন?</p><p><strong>কারসন:</strong> অনেক সময় আমি কেবল আলো নিয়ে লিখি। কখনো মনে হয়, আমার আর আলোর মধ্যে একটা অদৃশ্য চুক্তি আছে। যেন আজকের আলোটা কেমন, সেটা আমার খাতায় লিখতেই হবে। সেই খাতা হয়তো কোনো দিন কেউ পড়বে না। কিন্তু আমাকে ঠিক সেই শব্দগুলো খুঁজে বের করতে হবে, যা দিয়ে আজকের আলোকে বোঝানো যায়।</p><p>আমি জানি না, এই চুক্তি কোথা থেকে এসেছে। কিন্তু আমার মনে হয়, অন্য সব লেখার পেছনেও এই ব্যাপারটা কাজ করে। আলোর কথা লেখার পর আমি আমার মাকে নিয়ে লিখতে পারি। রাতের খাবারে কী খাব, সেটা নিয়েও লিখতে পারি। প্রুস্তের অনুবাদ নিয়ে লিখতে পারি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা ততক্ষণে হয়ে গেছে। আলোই ছিল আসল বিষয়। কেন এমন হয়, আমি জানি না।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> ‘স্নো’ লেখায় আপনি একটি অদ্ভুত ঘটনার কথা বলেছেন। আপনার মা মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ আগে যে হোটেলে ছিলেন, সেখানে রাতের এক কর্মচারীকে নিয়ে আপনার অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছিল। এমন ঘটনা কি আপনার সঙ্গে প্রায়ই ঘটে?</p><p><strong>কারসন:</strong> একবার এমন হয়েছিল। গ্রিক পুরাণে হার্মিসকে এমন একজন বলা হয়, যিনি মৃত মানুষের আত্মাকে অন্য জগতে নিয়ে যান। তাই হোটেলের সেই কর্মচারীকে আমার কাছে তেমন একজন মনে হয়েছিল। আরেকবার কারি ও আমি তাঁর বাবার শেষকৃত্যে যাচ্ছিলাম। মাঝ মিশিগানের কোথাও আমরা রাস্তার পাশে একজনকে দেখতে পেলাম। চারপাশে কেবল ফাঁকা জায়গা।</p><p>লোকটির পরনে ছিল পরিষ্কার নীল স্যুট ও নীল জামা। এত পরিষ্কার ছিল যে গাড়িতে ওঠার পর মনে হলো, গাড়ির ভেতরেও পরিষ্কার কাপড়ের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সে খুব একটা কথা বলতে চাইছিল না। সে বলল, তিনটা শহর পর একটি গণগ্রন্থাগারে যাবে। কিন্তু সে কে, সে বিষয়ে কিছু বলল না। আমরা তাকে সেই গ্রন্থাগারের কাছে নামিয়ে দিলাম।</p><p>পরে বুঝলাম, লোকটা যেন একটা সংকেত ছিল। কারির বাবা তখনো মারা যাননি। কিন্তু সেদিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তাই আমাদের মনে হয়েছিল, লোকটি যেন বলে গিয়েছিল, কেউ একজন শিগগিরই অন্য জগতে চলে যাবে। হ্যাঁ, এমন ঘটনা ঘটে; তবে খুব বেশি নয়।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> আপনি ও কারি নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্প নিয়ে একসঙ্গে একটি ক্লাস চালাতেন। ক্লাসটির নাম ছিল ‘দ্য এগোসার্কাস’। সেখানে ছাত্রদের কী ধরনের কাজ করতে দিতেন?</p><p><strong>কারসন:</strong> একবার আমরা বলেছিলাম, ‘কিছু একটা পোড়াও। তারপর সেই ছাই দিয়ে কিছু বানাও।’ আরেকবার বলেছিলাম, ‘একটি হোস্টেলকে আরও সাজিয়ে–গুছিয়ে নাও।’</p><p>কখনো শুধু তিনটি শব্দ দিতাম, যেমন ‘নৌকা’, ‘মাখন’, ‘মৃত্যু’। তারপর ছাত্ররা এসব নিয়ে কিছু তৈরি করত। আমরা লেখালেখি নিষেধ করিনি। তারা শেষ পর্যন্ত কিছু না কিছু লিখত। কিন্তু আমরা চাইতাম, তারা অন্য কিছু করার চেষ্টাও করুক। তারা এমন কিছু করতে শিখুক, যা তারা পারে অথচ নিজেরাই জানত না।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> লেখালেখির বাইরে এমন কোনো কাজ কি আছে, যা আপনার লেখায় সাহায্য করে?</p><p><strong>কারসন</strong>: ছবি আঁকা, ছবি রং করা, সাঁতার, আর ঘর গুছিয়ে রাখা। এটা আমি বেশ ভালো পারি।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> সাঁতার আপনার লেখার সঙ্গে কীভাবে জড়িত?</p><p><strong>কারসন:</strong> সাঁতার মন খারাপ হওয়া ও খিটখিটে হয়ে যাওয়া থেকে দূরে রাখে। মাঝে মাঝে সাঁতার কাটতে কাটতে আমি ভাবি। তবে বেশির ভাগ সময় পানিতে যে ভাবনাগুলো আসে, সেগুলো খুব একটা ভালো হয় না, স্বপ্নের মতো; স্বপ্নে যেমন মনে হয়, ‘এই তো! পৃথিবীর সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি!’ তারপর ঘুম ঘুম চোখে উঠে সেই কথা লিখে রাখা হয়। সকালে উঠে দেখা যায়, সেখানে লেখা আছে, ‘কলা কিনতে হবে!’</p><p>আর পানি আমি খুব পছন্দ করি। কিছু মানুষ আছে, যাদের কেবল পানির কাছাকাছি থাকলেই ভালো লাগে।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> আপনি ও কারি জন কেজের ভক্ত। তিনি শিল্প থেকে নিজের অহংকে দূরে রাখার কথা বলতেন। আপনার ২০১৬ সালের ‘ফ্লোট’ বইয়ের শুরুতে তাঁর একটি কথা আছে, ‘কোনো জিনিসকে ধরে রাখার মানে তার শূন্যতার উদ্যাপন।’</p><p><strong>কারসন</strong>: লেখকদের জন্য কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। লেখকদের মাথায় অনেক স্মৃতি জমে থাকে। অনেক পুরোনো অভিজ্ঞতা থাকে। তারা সেগুলোকে নিজের জীবনকথা মনে করেন। তারপর লেখার সময় বারবার সেই পুরোনো স্মৃতিগুলোই ব্যবহার করেন। কিন্তু এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।</p><p><strong>প্রশ্ন</strong>: লেখালেখির জগতে চরিত্র, গল্পের দৃষ্টিকোণ, গল্প বলার নিয়ম—এসব নিয়ে অনেক কথা হয়। আপনি কি লেখার সময় এসব নিয়ে ভাবেন?</p><p><strong>কারসন</strong>: কখনো না। এসব নিয়ে আমি ভাবিই না। আমার মনে হয়, মানুষকে এসব নিয়ে এত ভাবা বন্ধ করা উচিত। শুধু একটা বিষয় নিয়ে ভাবুন। তারপর সেই ভাবনাকে অনুসরণ করুন। যতক্ষণ না সেটার ভেতরের সত্যটা খুঁজে পান।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> আমার মনে হয়, অন্তত আমেরিকায় গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতাকে এখন কম গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একজন শিক্ষক ও চিন্তাবিদ হিসেবে আপনি কি তা বুঝতে পারেন?</p><p><strong>কারসন</strong>: এ কারণেই আমি ‘স্থিরতা’ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলাম। আমি যখন জীবনের শেষ কয়েক বছর পড়াতাম, তখন কিছু সময় প্রাচীন গ্রিক ভাষা পড়াতাম। আর কিছু সময় লেখালেখি।</p><p>আমি যখন স্কুলে পড়তাম, তখন প্রাচীন গ্রিক শেখার একটা নিয়ম ছিল। প্রথমে মূল লেখাটা পড়তে হতো। তারপর যে শব্দগুলো জানা নেই, সেগুলো অভিধানে খুঁজতে হতো। অভিধানে একটা শব্দ খুঁজতে সময় লাগে। আর সেই সময়টুকু খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আপনি তখন একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন, কিন্তু উত্তরটা পাননি।</p><p>আপনি খুঁজছেন, ভাবছেন, অপেক্ষা করছেন। এ সময়ের মধ্যে আপনার মনে অনেক কিছু ঘটতে থাকে। আমি এই সময়কে বলি ‘স্থিরতা’। এখন কম্পিউটারে পুরো লেখা থাকে। কোনো শব্দ বুঝতে না পারলে শুধু একটা বোতামে চাপ দিলেই সঙ্গে সঙ্গে তার অর্থ চলে আসে। কম্পিউটার সাধারণত সেই বাক্যের জন্য সবচেয়ে মানানসই অর্থটাই দেখায়। তখন আপনি আর শব্দটির অন্য অর্থগুলো নিয়ে ভাবার সুযোগ পান না। শব্দটির পুরোনো ইতিহাসও জানতে পারেন না।</p><p>এই ছোট্ট অপেক্ষার সময়টা হারিয়ে যাচ্ছে। আর তার ফলে ভাষাকে দেখার ধরনও বদলে যাচ্ছে। এই অপেক্ষা আমাদের মস্তিষ্ককে একটু বিশ্রাম দেয়। কারণ, তখন আমরা পুরোপুরি ভাবছি না, আবার একেবারে ভাবনাহীনও নই। আমরা শুধু জানার জন্য শব্দের অর্থ খুঁজছি। আমার খুব খারাপ লাগে যে এই সময়টা হারিয়ে যাচ্ছে।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> আমরা সময়কে যেভাবে অনুভব করি, তার সঙ্গে কি আমাদের মনোযোগের সম্পর্ক আছে? যে মানুষ অনেক বই পড়ে, সে কি সারা দিন পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষের চেয়ে সময়কে অন্যভাবে অনুভব করে?</p><p><strong>কারসন</strong>: প্রশ্নটা শুনলে মনে হয়, এর মধ্যে একটা বিচার আছে। তাই আমি নিশ্চিত নই। তবে একটা বিষয়ে আমি নিশ্চিত, আমরা সবাই এমন সময় খুঁজি, যখন মনে হয় সময় থমকে আছে। এটা তখনই হয়, যখন আমরা কোনো কিছুর দিকে পুরো মনোযোগ দিই। যেমন আপনি নেটফ্লিক্সে একটা সিনেমা দেখছেন। অথবা খুব মন দিয়ে নিজের সবচেয়ে ভালো কবিতাটা লিখছেন। দুটোই আপনাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পারে, যেখানে আপনি সময়ের কথা ভুলে যান।</p><p>সময় নিয়ে আমার একটাই আগ্রহ, কীভাবে তাকে থামানো যায়। কারণ, সময় যখন থামে না, তখন একঘেয়েমি আসে। আপনি শুধু সময়কে চলে যেতে দেখেন। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে এমন কিছু ঘটে না, যা নিজের কষ্ট থেকে দূরে নিয়ে যায়।</p><p>আমার কাছে একঘেয়েমি আর সময়কে পুরোপুরি ভুলে যাওয়ার মাঝখানে খুব বেশি কিছু নেই। হয়তো অন্য অবস্থাটার নাম অমরত্ব। অথবা সময়ের বাইরে চলে যাওয়া। সেই অবস্থাটা খুব আনন্দের। এতটাই আনন্দের যে তখন সময় নিয়ে চিন্তাই থাকে না।</p><p><strong>প্রশ্ন:</strong> আপনি কি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমন অবস্থায় থাকতে পারেন?</p><p><strong>কারসন</strong>: কয়েক মিনিট হয়তো, যদি ভাগ্য ভালো থাকে।</p>
ঢাকা কর অঞ্চল-২৫ ১৩ থেকে ২০ গ্রেডে মোট ৬১ পদে নিয়োগ দেবে। আবেদন শুরু ৮ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০টা, শেষ ২৫ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৪টা।
<p>মাল্টা দেখতে অত্যন্ত নিরীহ। হাতে নিলে মনে হয়—এ তো নিছক একটা ফল! কিন্তু আমদানির পর তার জীবন আর এত সরল থাকে না। ৮৭ টাকার আমদানি মূল্য পেরিয়ে শুল্ক, কর, বন্দর, পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা—সব ধাপ অতিক্রম করে সেই মাল্টাই বাজারে ৪৮০–৫২০ টাকা! তার বর্তমান শুল্ক-করহার ১২১.৭৮%—যা টেসলা বা মার্সিডিজের চেয়েও বেশি! এত দিনে মাল্টা নিজেই বুঝে গেছে, ফল হিসেবে জন্মালেও এখন সে রীতিমতো শুল্কযুক্ত বিলাসপণ্য। এসব নিয়েই মাল্টার সাথে কথা বলেছেন মাহমুদুল হাসান।</p><p><strong>কেমন আছেন? ফলজন্ম নিশ্চয়ই সার্থক বলে মনে হচ্ছে?</strong></p><p>খুব ভালো আছি। তবে আমাকে শুধু ফল ভাবলে ভুল করবেন, আমি এখন কাগজপত্রসহ একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্যাকেজ!<br></p><p><strong>তা তো বটেই! আপনার বর্তমান শুল্ক-করহার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এত বেশি কেন?</strong></p><p>জানি না। তবে একটা কথা বুঝেছি—আমার শরীরে যত ভিটামিন সি, তার চেয়ে শুল্কের শতাংশই বেশি!</p> <p><strong>শুনেছি টেসলা আমদানিতে শুল্ক-কর ৮৯–৯২ শতাংশ, মার্সিডিজে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ। আপনি তো তাদেরও পেছনে ফেলেছেন!</strong></p><p>হ্যাঁ। টেসলা গাড়ি আমাকে দেখে মনে মনে হয়তো বলে, ‘পরের জন্মে মাল্টা হব!’ </p><p><strong>আপনি কি নিজেকে এখন বিলাসপণ্য মনে করেন?</strong></p><p>অবশ্যই। আগে আমাকে ফলের দোকানে ঝুড়িতে রাখা হতো। এখন দাম শুনে ক্রেতা আমাকে এমনভাবে ধরে, যেন ভুল করে আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজ কিনতে এসেছে!</p> <p><strong>আপনার শুল্কের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। ২০০৬–০৭ অর্থবছরে ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরে বেড়ে ৮৯, ১০৬, এখন ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।</strong></p><p>আমারও ক্যারিয়ার আছে ভাই। সবার বেতন বাড়ে, আমার শুল্ক বাড়ে!</p> <p><strong>কিন্তু আমদানিকারক তো আপনাকে ৮৭ টাকায় কিনছেন। তারপর এত খরচ?</strong></p><p>এটাই তো আমার দুঃখ। আমি সীমান্ত পার হওয়ার সময় ছিলাম ৮৭ টাকার মাল্টা। বাজারে ঢোকার সময় দেখি, আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ঢুকে গেছে—শুল্ক, কর, বন্দর, পরিবহন, পাইকার, খুচরা!</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u3q9y9e95d">ডিম সিন্ডিকেটে এআই (AI) বিপ্লব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/trarpa7245">দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি</a></aside><p><strong>তারা কি আপনার আত্মীয়?</strong></p><p>আত্মীয় না হলেও আমার দামের অংশীদার! তাদের নিয়ে বাজে কথা বলবেন না।<br></p><p><strong>সবশেষে আপনার দাম দাঁড়ায় ৪৮০–৫২০ টাকা। ক্রেতারা কী বলে?</strong></p><p>কেউ বলে, ‘বাবা রে!’ কেউ বলে, ‘মাল্টা ফল টক! অনেকেই আবার আমাকে হাতে নিয়ে দাম শুনে ঝুড়িতে রেখে দেয়—ভিটামিন সি তখন চোখ দিয়ে বের হয়!<br></p><p><strong>শেষ প্রশ্ন। এভাবে দাম বাড়তেই থাকলে আপনার ভবিষ্যৎ কী?</strong></p><p>ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল।</p><p><br><strong>কীভাবে?</strong></p><p>একদিন ফলের দোকান থেকে আমাকে সরিয়ে জুয়েলারির শোকেসে রাখা হবে। শুধু বড়লোকেরাই আমাকে কিনতে আসবে। তারা আমাকে দেখেই বলবে, ‘মাল্টাকে গাড়িতে তোল!’</p> <p><strong>তত দিনে তো আপনার দাম আরও বাড়বে, তাই না?</strong></p><p>অবশ্যই। তখন আর কেজি দরে দাম বলা যাবে না। ভরি দরে বলতে হবে— ‘ভাই, আজকের মাল্টার রেট কত?’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/e67ff7yany">যাত্রা বিড়ম্বনা</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bwluvlmmu8">বিবাহিত পুরুষ চেনার সহজ উপায়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/trarpa7245">দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hiksaptred">গ্যাঞ্জাম of সায়েন্সল্যাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/uw52c84wv8">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/7rof92zr6d">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/ild7ymelwa">তেলসংকটে মহাসমাধান</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/xdsew60kia">ঢাকায় বৃষ্টি অতঃপর—</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/fwdnjtnd6a">তেলের সুপ্ত প্রভাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/25g8h60wg6">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/309xit85/Ad-Picture.png"><figcaption>পরিবারের প্রত্যাশার চাপ, টাকার টানাটানি, ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়া, পরিচয়ের সংকট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ, এসব নিয়েই সিনেমার গল্প।</figcaption></figure><p>ক্লাস আছে, পরীক্ষা আছে, অ্যাসাইনমেন্টের চাপও আছে। এসবের মধ্যেই দুই বছর ধরে একটা খ্যাপাটে স্বপ্ন মাথায় নিয়ে ঘুরেছিলেন একদল শিক্ষার্থী—‘একটা সিনেমা বানাব।’ কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা তাঁদের ছিল না, মাথার ওপর ছিল না বড় কোনো প্রযোজকের হাত। খরচাপাতি সব সামলাতে হয়েছে নিজেদের পকেট থেকে, টিউশনির আয় থেকে। শেষ পর্যন্ত সেই সিনেমা মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেছে। নাম অন্যপাতা। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই ছবিটি মুক্তি পাবে।</p><p>বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী যুক্ত ছিলেন এই মহাযজ্ঞে। শুরুটা হয়েছিল মাত্র ছয়জনকে নিয়ে। কাজ যত এগিয়েছে, যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও শিক্ষার্থী। </p><p>এসজেএ প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মো. শাহেজাহান এ্যানি। তিনি চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। করোনার সময় একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়ে আত্মবিশ্বাস পেয়েছিলেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজার পরামর্শে পরে সিনেমা নিয়ে পড়াশোনাও করেছেন। এরপর যখন মনে হয়েছে তিনি প্রস্তুত, তখন হাত দিয়েছেন অন্যপাতায়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/s50ao0oxx4">কাঁচি থেকে ওয়াশিং পাউডারের বোতল, এই জাদুঘরের প্রতিটি স্মারকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নোবেলজয়ীদের গল্প</a></aside><p>এ্যানি বলেন, ‘অন্যপাতার অভিজ্ঞতা অনেকটাই ম্যাজিক্যাল। এটা বানাতে গিয়ে আবিষ্কার করেছি, আমার চারপাশের প্রতিটি মানুষ কতটা সুন্দর, সাহায্যের জন্য কতটা উদ্গ্রীব। ৬ জনের টিম আস্তে আস্তে ৪০ জনের হয়েছে। তাই মাঝে মাঝে আমরা বলি, অন্যপাতাকে আমরা বানাইনি, অন্যপাতা আমাদের বানিয়েছে।’</p><p>সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে বেশ কিছু কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে নির্মাতাদের। ছবি তো শুধু বানালেই হয় না, আছে আরও নানা আনুষ্ঠানিকতা। সিনেমার অন্যতম প্রযোজক অংকন দে অনিমেষ বলছিলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, আমরা অনেক কিছুই চিনতাম না, জানতাম না। এফডিসি একটা বিশাল ধাঁধার মতো মনে হচ্ছিল।’ প্রক্রিয়াটা কেমন, কার কাছে যেতে হবে, কী করতে হবে, কিছুই ঠিকমতো বুঝতে পারছিলেন না তাঁরা। সেই সুযোগে কেউ কেউ ঠকানোর চেষ্টা করেছেন। অনিমেষের হিসাবে, কয়েক জায়গায় প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় লাখ টাকা খুইয়েছেন তাঁরা।</p><p>ছবির বাজেট নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাইলেন না অনিমেষ। কত খরচ হয়েছে নির্মাতারা নিজেরাও জানেন না। তার ওপর অঙ্কটা এখনো বাড়ছে। তবে তাঁদের দাবি, কারিগরি দিকে তাঁরা ছাড় দেননি। ছবিটা পর্দায় দেখলেই দর্শক বুঝবেন, এটা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সিনেমার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।</p><p>প্রযোজনার পাশাপাশি সহকারী পরিচালকের দায়িত্বও সামলেছেন অনিমেষ। এর বাইরে আরও একটা ভূমিকা জুটেছে তাঁর—অভিনয়। অথচ শুরুতে পরিকল্পনা ছিল সামান্যই। কথা ছিল দুই-একটা সংলাপ দেবেন; ব্যস, এটুকুই। কিন্তু পুরো সিনেমা যখন দাঁড়িয়ে গেল, দেখা গেল ছোট্ট সেই চরিত্রটা আর ছোট নেই। নিজের একটা আলাদা গল্প, একটা নিজস্ব পথ তৈরি করে নিয়েছে সে।</p><p>আরেক প্রযোজক বুয়েটের আবতাহী শামস বলেন, ‘অন্যপাতা আমার কাছে শুধু একটা সিনেমা না, একটা স্বপ্নকে সত্যি করার গল্প। প্রযোজক হিসেবে প্রথম কাজ, তাই প্রতিটা মুহূর্তেই নতুন কিছু শিখেছি, ভুল করেছি, আবার ঠিক করার চেষ্টা করেছি। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, এতগুলো মানুষের বিশ্বাস আর পরিশ্রমকে একটা গল্পের মধ্যে একসঙ্গে দেখতে পারা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে যতটা ভালোবাসা দিয়ে কাজটা করতে পেরেছি, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন সিনেমাটা দর্শকের, তাঁরা কীভাবে নেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/jayzojrv/IMG-20261008-WA0080.jpg"><figcaption>ক্যামেরার সামনে–পেছনে কাজ করেছেন একদল শিক্ষার্থী</figcaption></figure><p>সিনেমার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়া শাকিল ও প্রত্যাশা পাল। শাকিলের এটাই প্রথম সিনেমা। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার সিনেমায় কাজ করছি, তাই অনেক বেশি উৎসাহী ছিলাম।’ পড়ালেখার ফাঁকেই দুই বছর ধরে একটু একটু করে সময় বের করে সিনেমাটা বানিয়েছেন নির্মাতারা। তবে শাকিলকে তাঁর চরিত্র ধরে রাখতে হয়েছে এই পুরোটা সময়। এটাই তাঁর কাছে বড় অভিজ্ঞতা।</p><p>প্রত্যাশা জানালেন, গল্পটা প্রথমবার শোনার সময়ই তাঁর মনে হয়েছিল, এই সিনেমায় অভিনয় করাটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাঁর ভাষ্য, ‘অন্যপাতা অনেক দূর যাবে।’</p><p>কালার গ্রেডিং ও পোস্ট–প্রোডাকশন পুরোটা একা হাতে সামলেছেন চুয়েটের তানভীর জানি। চিত্রগ্রাহক হিসেবে ছিলেন ইব্রাহিম বিন আনছারী। সিনেমার ছয়টি মৌলিক গানের সংগীত পরিচালক ফাহরিয়াজ তাসজিম। আবহসংগীত করেছেন আইনান। কাস্টিং ডিরেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোমান আহমেদ। সঙ্গে কারিগরি ও শিল্পনির্দেশনায় ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দ্র নীল। থ্রি–ডি অ্যানিমেশন আর্টিস্ট হিসেবে দলে ছিলেন বুয়েটের মাশরাফি ইসলাম। আর হ্যাঁ, লাইন প্রডিউসারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যে সামলেছে, তাঁর নাম সুদীপ্ত পাল। সুদীপ্ত সবে এসএসসি পেরিয়েছে।</p><p>এত কষ্ট করে যে গল্পটা শিক্ষার্থীরা পর্দায় এনেছেন, সেটা আদতে তাঁদের নিজেদেরই গল্প। পরিবারের প্রত্যাশার চাপ, টাকার টানাটানি, ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়া, পরিচয়ের সংকট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ, এসব নিয়েই সিনেমার গল্প। পরিচালক এ্যানি বলেন, ‘এটা কোনো এক্সপেরিমেন্টাল গল্প না। এটা আমাদের সবার গল্প, প্রতিদিনের যুদ্ধের গল্প। দর্শক বড় পর্দায় নিজেকে খুঁজে পাবেন।’</p><p>অনিমেষের মতে, ‘ভর্তিযুদ্ধর মধ্য দিয়ে সবাই যায়, কিন্তু এ নিয়ে খুব বেশি কাজ হয় না। এই গল্পটা কোথাও না কোথাও বলা খুব দরকার ছিল। বাংলাদেশের দর্শক এই সিনেমায় একটা দুষ্টু-মিষ্টি কমেডির ছোঁয়া পাবেন, যা সচরাচর দেখা যায় না।’</p><p>১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের সিনেমায় আছে ছয়টি মৌলিক গান ও আবহসংগীত। চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের নানা নৈসর্গিক ও প্রাকৃতিক দৃশ্য উঠে এসেছে ক্যামেরায়। নির্মাতারা বলছেন, গল্প ও সংলাপে আজকের তরুণ প্রজন্মের ভাষা আর জীবনযাপনের ছাপ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।</p><p>প্রথম ধাপে ১০ থেকে ১২টি হলে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা আছে নির্মাতাদের। ইতিবাচক সাড়া পেলে হলের সংখ্যা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবেন তাঁরা। এরই মধ্যে ছবিটি সেন্সরে জমা পড়েছে। প্রকাশ পেয়েছে সিনেমার পোস্টার, মোশন ভিডিও, গান। শিগগিরই মুক্তি পাবে ট্রেলার।</p>
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ ও ইএমবিএ ডিগ্রির জনপ্রিয়তা বেড়েছে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং সমসাময়িক ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানের সুযোগ গ্রহণের কারণে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নতুন বিজনেস মডেলের উদ্ভাবনের ফলে পেশাদারত্ব আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
লিলির স্বামী সামাদ তিন বছরের জন্য ইতালিতে গিয়েছিল। লিলির আগের প্রেম ছিল বুলবুলের সঙ্গে; বাবা বিয়ে দেননি, তবু তারা গোপনে যোগাযোগ রাখে।
বাণিজ্যিক ভবনে করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং ব্যবসায়িক সুবিধার দিকগুলো কেমন দেখছেন?
<p>চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে প্রবাসী আয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রবাসী আয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক; আর কৃষি ব্যাংক গত কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এই দুটি ব্যাংক গত অর্থবছর শেষেও প্রবাসী আয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও সেই শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে ব্যাংক দুটি।</p><p> প্রবাসী আয়–সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের তথ্যের ভিত্তিতে দেশে প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা তৈরি করেছে প্রথম আলো। তাতে দেখা যায়, তালিকায় ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরের অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট ব্যাংক। এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে দশম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী আয় আহরণকারী দেশের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে ২টি সরকারি মালিকানাধীন আর বাকি ৮টি বেসরকারি খাতের ব্যাংক। এই ১০ ব্যাংক মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে প্রবাসী আয় এনেছে প্রায় ৫৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৮৫৯ কোটি ডলার। সেই হিসাবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে যে প্রবাসী আয় এসেছে, তার দুই–তৃতীয়াংশের বেশি বা ৬৮ শতাংশই এসেছে ১০ ব্যাংকের মাধ্যমে।</p><p>এবার জেনে নিন চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের কারা কত প্রবাসী আয় দেশে আনল। সেই সঙ্গে কার অবস্থান কোথায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/pau432u3/Info-2.jpg"></figure><h3>তালিকায় নতুন যেগুলো</h3><p>বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন দুটি ব্যাংক জায়গা করে নিয়েছে শীর্ষ দশের তালিকায়। নতুন যুক্ত হওয়া ব্যাংক দুটি হলো ঢাকা ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এই দুটি ব্যাংক নতুন করে তালিকায় জায়গা করে নেওয়ায় গত অর্থবছর শেষের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে দুটি। বাদ পড়া ব্যাংক দুটি হলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।</p><p>গত অর্থবছর শেষে যে ১০টি ব্যাংক সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় দেশে এনেছিল, সেই তালিকায়ও শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কৃষি ব্যাংক, তৃতীয় অবস্থানে ব্র্যাক ব্যাংক, চতুর্থ অবস্থানে ট্রাস্ট ব্যাংক, পঞ্চম অগ্রণী ব্যাংক; আর ষষ্ঠ থেকে দশম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে জনতা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্–বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এসে শীর্ষ দশের তালিকায় কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থানের বদল হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ট্রাস্ট ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটি পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে ট্রাস্ট ব্যাংকের এই অবস্থান বদল হয়েছে। গত অর্থবছর শেষে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা জনতা ব্যাংক এবারের তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে; আর তাতে গত অর্থবছরের অষ্টম অবস্থান থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে এসেছে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক। সিটি ব্যাংকের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি, রয়েছে সপ্তম অবস্থানে। আর গত বছর শেষের নবম অবস্থান থেকে এবার দশম অবস্থানে রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক।</p><p>এবার জেনে নিন গত অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় আহরণে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় কারা ছিল। সেই সঙ্গে কার অবস্থান কোথায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-10/ih5pqklb/Info-1.jpg"></figure><p>গত অর্থবছর শেষে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছিল ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার। যার মধ্যে উল্লিখিত ১০ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছিল মোট প্রবাসী আয়ের দুই–তৃতীয়াংশের বেশি বা ৭১ শতাংশ।</p>
আজ রোববার ঢাকার পত্রিকাগুলোয় দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ এবং গ্রেফতারের খবর গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশের খবরে গুরুত্ব পেয়েছে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি, নারিকেল চারা আমদানিতে অনিয়ম,নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। এ ছাড়া সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অর্থনীতির গতি কমে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়েও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করে হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
একেকটি ছোট দল আসে, স্লোগান তোলে বা প্ল্যাকার্ড বের করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায় - এটাই ছিল সকাল থেকে দিল্লির ছবি। এই ছবিই সকাল থেকে দেখা গেল যন্তর মন্তরে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি ও বামপন্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত হাজার খানেক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, ব্যারিকেড এবং ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী, ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকে-সহ একাধিক নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি; সাংবাদিকদের আটক এবং আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জেরও অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশে প্রতিবছর শীতে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। সাইবেরিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চল থেকে শুরু করে ইউরোপ, মধ্য এশিয়া থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে শীতের সময় বাংলাদেশে আসে এসব পাখিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ান ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করার জন্য একটি চুক্তি ঘোষণা করেছেন, যাকে পুতিনের জন্য একটি উপহার বলে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বাংলাদেশে গ্রাহক পর্যায় থেকে অপারেটর পর্যন্ত এলপিজির যে সাপ্লাই চেইন কাজ করে সেখানে কোথায় এই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে তার সন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে প্রতিটি স্তরেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মুনাফার একটা চেষ্টা রয়েছে ব্যবসায়ীদের যে কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাইকে তার "শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারের প্রচেষ্টার" জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ভারতের দিল্লিতে শীর্ষ নেতাদের গণগ্রেপ্তার ও কঠোর পুলিশি পদক্ষেপের মুখেও দমে না গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’।
ভারতের জেন–জি (জেনারেশন জেড) তরুণদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
আগামী ১৩ অক্টোবরের (মঙ্গলবার) কাছাকাছি সময়ের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পর্তুগাল জাতীয় দলে। দলীয় শিবির ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সুর পাল্টেছেন ফেডারেশন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা।
দুর্দান্ত এক ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে বড় সংগ্রহ এনে দেন ম্যাট রেনশ। তাঁর ১৯০ রানের ইনিংসে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৩৯০ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া।
জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে।
দীর্ঘ দেহ, লম্বা সোনালি চুল আর চুলে খোঁপা, ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নরওয়ের ফুটবলার আর্লিং হালান্ডকে চিনতে এর থেকে বেশি কিছু দরকার হয়না। হালান্ডের সিগনেচার স্টাইলও বলা যায়।