সাপের বিষে আক্রান্ত মানুষকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের হাতে এত দিন ছিল সীমিত কিছু উপায়। বিষধর সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। তাই একটি অ্যান্টিভেনম দিয়ে সব ধরনের বিষ মোকাবিলা করা কঠিন। এবার সে সমস্যার সমাধানে নতুন আশার কথা জানিয়েছেন ভারত ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীরা। তারা এমন একটি অ্যান্টিভেনম তৈরি করেছেন, যা ভারতের বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। গবেষকদের ধারণা, এ চিকিৎসা পদ্ধতি সফল হলে বিশ্বজুড়ে সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমানো সম্ভব হবে। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন’-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নতুন অ্যান্টিভেনমটি পাঁচ ধরনের ক্ষুদ্র অ্যান্টিবডি খণ্ড বা ন্যানোবডি দিয়ে তৈরি। পরীক্ষায় চশমা কোবরা, মনোকলড কোবরা ও ভারতের দুই প্রজাতির কিং কোবরার বিষ ঠেকাতে এটি খুবই কার্যকর হয়েছে। শুধু ভারতেই প্রতি বছর সাপের কামড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হয়। এ সংখ্যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। সাপের প্রজাতিভেদে বিষের ধরনও আলাদা। কোনো বিষ স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে, আবার কোনোটি রক্ত বা শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই সব ধরনের বিষের বিরুদ্ধে একই অ্যান্টিভেনম তৈরি করা কঠিন। আরও পড়ুন অভিনয় করছে সাপ, চরিত্র পেতে দিতে হলো অডিশনও! হাসপাতালে ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনমেরও বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তৈরি করা অ্যান্টিভেনমের কার্যকারিতায় পার্থক্য থাকতে পারে। এছাড়া এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। পাশাপাশি সব প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে এটি সমানভাবে কাজও করে না। প্রচলিত পদ্ধতিতে অ্যান্টিভেনম তৈরির জন্য ঘোড়ার মতো প্রাণীকে বারবার বিষপ্রয়োগ করা হয়। এতে প্রাণীর শরীরে বিষের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। পরে প্রাণীর রক্ত থেকে সেই অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিতে খরচ যেমন বেশি, তেমনি প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডিও তুলনামূলক কম পাওয়া যায়। তবে, নতুন পদ্ধতিতে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াটি কিছুটা ভিন্ন। গবেষকরা বিভিন্ন প্রজাতির কোবরার বিষ লামা ও আলপাকার মতো উটজাতীয় প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করেন। এরপর এসব প্রাণীর রক্তে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোন অ্যান্টিবডি বিষের ক্ষতিকর উপাদান নিষ্ক্রিয় করতে পারে। পরে, সেই অ্যান্টিবডিগুলো শনাক্ত করে পরীক্ষাগারে অণুজীবের মাধ্যমে তৈরি করার সম্ভাবনা দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আরও পড়ুন সাপের শরীরে কেমোথেরাপি, ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন ইতিহাস এভাবে পাওয়া অ্যান্টিবডিগুলো থেকে গবেষকরা পাঁচটি ন্যানোবডি বেছে নেন। পরে এগুলো মিলিয়ে তৈরি করেন অ্যান্টিবডির একটি মিশ্রণ বা ককটেল। এ অ্যান্টিবডিগুলো কোবরার বিষের ক্ষতিকর উপাদানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিষকে শরীরের নির্দিষ্ট কোষ বা টিস্যুতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। পরীক্ষায় এ অ্যান্টিবডি ককটেল বিষের কার্যকারিতা ঠেকাতে সফল হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বিষপ্রয়োগের ৩০ মিনিট পরও এটি ইঁদুরকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এমনকি বিষের কারণে যেসব ইঁদুর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল বা স্নায়ুতন্ত্রে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, তারাও পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো উপসর্গও দেখা যায়নি। আরও পড়ুন সাপ ধরার কৌশল প্রদর্শনীতে কর্মকর্তার মৃত্যু গবেষণার অন্যতম লেখক কার্তিক সুনাগর বলেন, অ্যান্টিভেনম চিকিৎসায় প্রায় ১০০ বছর ধরে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। নতুন এ পদ্ধতি ভারতের সাপের কামড়ের সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ও গবেষণার আরেক লেখক আন্দ্রেয়াস লাউটসেন বলেন, এ গবেষণা নতুন ধরনের অ্যান্টিভেনম তৈরির একটি পথ দেখিয়েছে। স্থানীয় সাপের বিষে যেসব উপাদান মানুষের শরীরে বেশি ক্ষতি করে, সেগুলো লক্ষ্য করে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা অ্যান্টিভেনম তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি, নতুন অ্যান্টিবডিতে আরও উপাদান যুক্ত করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষধর সাপের বিরুদ্ধেও এর কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, মানুষের চিকিৎসায় এটি ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গবেষকরা। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এমডিআরএইচ/
হামের প্রকোপ এখনো রয়ে গেছে। হামে আক্রান্ত শিশু নিয়ে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটছেন অভিভাবকেরা। যদিও আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই কমে আসবে এই প্রকোপ। কিন্তু পত্রিকার সংবাদ বলছে, এ বছর হামে শিশুমৃত্যু হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে আরও কিছুদিন।রোগের কারণহাম রোগের মূল কারণ হলো মিজলস ভাইরাস, যা প্যারামিক্সোভিরিডি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।লক্ষণ কীহাম রোগের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ৮-১২ দিনের মধ্যে দেখা যায়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো—উচ্চ জ্বর, শুকনা কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা কনজাংইটিভাইটিস, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট), শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, যা মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ঢেলে সাজাচ্ছি: উপাচার্যসংক্রমণের ধরনহাম খুব সহজেই ছড়ায়। আক্রান্ত শিশু কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসে থাকা ভাইরাস দুই ঘণ্টা সময় ধরে অন্য সুস্থ ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে। আক্রান্ত শিশুর লক্ষণ শুরু হওয়ার চার দিন আগে থেকে এবং ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর্যন্ত সংক্রামক থাকে।চিকিৎসাযথাযথ বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার, জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ওষুধই এই রোগের মূল চিকিৎসা। পরপর দুই দিন দুটি উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন ক্যাপসুল বয়স অনুযায়ী দেওয়া হয় এই রোগের তীব্রতা কমানোর জন্য। এর পাশে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয়। তবে যদি শিশু গুরুতর অসুস্থ, খাবারে অনীহা, ঘন ঘন বমি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি হলে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।প্রতিরোধসময়মতো হামের টিকা দুই ডোজ ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং ১৫ মাস বয়সে প্রদান করতে হবে। সব সময় হাত–মুখ ধুতে হবে, চোখে হাত দেওয়া যাবে না।হাঁচি, কাশি, শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে।শিশুর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অন্তত ৫ দিন আলাদা করে রাখতে হবে।শিশুর জ্বর ও ফুসকুড়ি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অধ্যাপক ডা. ইমনুল ইসলাম, শিশু বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়; চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর-৬, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার।আজ রোববার রাজধানীর নভোথিয়েটারের প্লেনারি হলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এর ‘হেলথ ইনোভেশন ফর অল: এক্সপান্ডিং অ্যাকসেস টু অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ কেয়ার’ শীর্ষক প্লেনারি আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ মেলার আয়োজন করে।জুবাইদা রহমান বলেন, অনেক মানুষ তাদের শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে যাওয়ার পর বিশেষায়িত হাসপাতালে যান। বাড়ির কাছাকাছি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীদের এই সেবা নিতে দূরদূরান্তে যেতে হয়।আধুনিক উচ্চতর চিকিৎসাসেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, তবে এটি কেবল বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। অনেক উন্নত দেশও এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আমরা প্রায়ই বলি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। এটি সত্য, তবে রোগ এবং এর ঝুঁকিগুলো মারাত্মক রূপ নেওয়ার আগেই তা নির্ণয় করা জরুরি।দেশের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য তা সহজলভ্য করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে না। হামে আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মায়েদের বাড়ির কাছেই স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। প্রতিটি স্ক্রিনিং কর্মসূচির সঙ্গে নিশ্চিত রোগনির্ণয়, পরামর্শ, চিকিৎসা, ওষুধ, পর্যবেক্ষণ এবং রেফারেলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।ডা. জুবাইদা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার এই দৃষ্টিভঙ্গি একটি সুস্পষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা আয়, অবস্থান বা সামাজিক মর্যাদার ওপর নির্ভরশীল কোনো বিশেষ সুবিধা হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এটি সহজলভ্য হওয়া উচিত।জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, সংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং, রক্তের উপাদান পৃথক্করণ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং রক্তদাতা থেকে রোগী পর্যন্ত সম্পূর্ণ অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের একটি জাতীয়ভাবে সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।এসব উদ্যোগে উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। তবে উদ্ভাবন মানেই সব সময় ব্যয়বহুল কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করা বা নতুন কোনো অ্যাপ চালু করা নয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এ কে আজাদ খান।প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) মহাপরিচালক (ডিজি) আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বাপি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন, টিএমএসএসের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মতিউর রহমান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) পরিচালক ডা. মো. আকতার হোসেন, ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের মেডিকেল সার্ভিসেস পরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম খান এবং এসকেজেন লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সাদাফ সাজ সিদ্দিকী।
শহুরে জীবনে পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্ন বেড়েছে অনেক। কিন্তু তার সঙ্গে কমেছে প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। মাটি ছোঁয়া, ঘাসে বসা, কিংবা গাছের বাকলে হাত রাখা এসব সাধারণ কাজ এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের বাইরে চলে গেছে। অথচ গবেষণা বলছে অন্য কথা।প্রকৃতির মাটি ও গাছপালার সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শ শরীরের উপকারী জীবাণুর বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে। এমনকি প্রভাব ফেলতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপরও।মাটিতে হাত দেওয়া কেন উপকারী হতে পারে?আমাদের ত্বক শুধু শরীরকে বাইরের জগৎ থেকে আলাদা করে রাখে না। এর ওপর বসবাস করে অসংখ্য অণুজীব। এদের সবাই কিন্তু ক্ষতিকর নয়। বরং নানা ধরনের উপকারী জীবাণু একসঙ্গে থাকলে তারা একে অপরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে ক্ষতিকর জীবাণুর আধিপত্য তৈরি হওয়ার সুযোগ কমে যায়। ফিনল্যান্ডের প্রকৃতি-স্বাস্থ্য গবেষক মিরা গ্রোনরুস একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল প্রায় ২০ সেকেন্ড মাটি আর বাগানের গাছে হাত ঘষতে। পরে হাত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। তারপরও দেখা যায় বড় পরিবর্তন। তাদের হাতের ত্বকে জীবাণুর সংখ্যা আর বৈচিত্র্যে এসেছিল স্পষ্ট বদল। খালি চোখে হাত দেখতে পরিষ্কারই লাগছিল। কিন্তু ত্বকের অণুজীব-জগতে ততক্ষণে ঘটে গিয়েছিল বড় ধরনের পরিবর্তন।মাত্র ২০ সেকেন্ডেই বদল, তবে নিয়মিত সংস্পর্শই আসলমাত্র কয়েক সেকেন্ড প্রকৃতির সংস্পর্শেও ত্বকের জীবাণু-পরিবেশে বদল আসে। তবে এই প্রভাব স্থায়ী নয়। গবেষকদের মতে, কিছুদিন পর ত্বকের জীবাণুর অবস্থা আবার আগের মতো হয়ে যেতে পারে। তাই একবার মাটি ছোঁয়ার চেয়ে বেশি জরুরি হলো নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা। বাগান করা, গাছের যত্ন নেওয়া, ঘাসে বসা, কিংবা প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটানো। এসব দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্য দিয়েই তৈরি হতে পারে এই সংযোগ।শিশুদের মাটিতে খেলাধুলাতেও লুকিয়ে থাকতে পারে বড় উপকারফিনল্যান্ডের কয়েকটি ডে-কেয়ার সেন্টারে চলেছে আরেকটি গবেষণা। সেখানে দেখা হয়, প্রকৃতির কাছাকাছি পরিবেশে শিশুদের খেলতে দিলে কী হয়। কিছু জায়গায় পাথর বা মেঝের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠের গুঁড়ো, বালি, গাছপালা আর মাটির মতো প্রাকৃতিক উপাদান। গবেষণাটি চলে দুই বছর ধরে। সেখানে শিশুদের এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়মিত খেলতে দেওয়া হয়। এরপর পরীক্ষা করা হয় তাদের ত্বকের জীবাণু-পরিবেশ। ২৮ দিন পর আর এক বছর পরের ফলাফল তুলনা করে দেখা যায় একটা স্পষ্ট পার্থক্য। বনভূমির মতো প্রাকৃতিক মাটির সংস্পর্শে থাকা শিশুদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, নানা ধরনের অণুজীবের উপস্থিতিই ত্বকের জীবাণু-পরিবেশকে রাখে ভারসাম্যপূর্ণ।‘ভালো’ জীবাণু থাকলে ক্ষতিকর জীবাণুর জায়গা কমেত্বকে যখন নানা ধরনের অণুজীব একসঙ্গে বসবাস করে, তখন ক্ষতিকর বা রোগ তৈরিকারী জীবাণুর আধিপত্য গড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। গবেষক মারজা রোসলুন্ড বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, একটি বৈচিত্র্যময় পরিবেশে সব জীবাণুর জন্যই জায়গা থাকে। তাই কোনো একটি ক্ষতিকর গোষ্ঠীর একচেটিয়া দখল তৈরি করা সহজ হয় না। অর্থাৎ ত্বককে সবসময় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখাই আদর্শ নয়। বরং দরকার একটা স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য।ত্বকের বদলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাওপ্রকৃতির সংস্পর্শের উপকার শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের জীবাণু-বৈচিত্র্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কিছু সূচকও। শিশুদের নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গার মাটিতে খেলার পর ত্বকের কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। সঙ্গে বদল এসেছে রক্তের কিছু ইমিউন মার্কার বা সাইটোকাইনের মাত্রাতেও। এই সাইটোকাইনগুলোই মূলত শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।তবে এর মানে এই নয় যে মাটির সংস্পর্শ সরাসরি অ্যাজমা, একজিমা বা অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে। গবেষকেরা নিজেরাও বলছেন, এসব রোগে ঠিক কতটা প্রভাব পড়ে, তা নিশ্চিত করে জানতে আরও গবেষণা দরকার।বাগান করাও হতে পারে সহজ একটা উপায়প্রকৃতির সংস্পর্শে যেতে বড় কোনো বনভ্রমণের দরকার নেই। বাগান করাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ পথ। একটি গবেষণায় কিছু প্রাপ্তবয়স্ককে শীতকালে ঘরের ভেতর সবজি চাষ করতে বলা হয়েছিল। কেউ ব্যবহার করেছিলেন জীবাণু-সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় মাটি। কেউ আবার ব্যবহার করেছিলেন তুলনামূলক কম বৈচিত্র্যের মাটি। প্রায় এক মাস পর দেখা যায়, বৈচিত্র্যময় মাটি ব্যবহারকারীদের ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে। পাশাপাশি রক্তে কিছু প্রদাহনাশক সাইটোকাইনের মাত্রাতেও এসেছে পরিবর্তন।অর্থাৎ প্রতিদিন গাছে পানি দেওয়া, মাটি খোঁড়া কিংবা নিজের হাতে সবজি ফলানোর মতো সাধারণ কাজও শরীরকে প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করতে পারে।অফিসেও কি প্রকৃতির ছোঁয়া কাজে দেয়?প্রকৃতির উপকার পেতে সবসময় বাইরে যাওয়ারও দরকার নেই। ফিনল্যান্ডের কিছু অফিসে জীবন্ত গাছ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল এক ধরনের সবুজ দেয়াল। এরপর দেখা হয় কর্মীদের শরীরে এর প্রভাব। দুই সপ্তাহ পরই দেখা যায় স্পষ্ট বদল। কর্মীদের ত্বকে জীবাণুর বৈচিত্র্য বেড়েছিল। রক্তে কিছু প্রদাহ-বর্ধক সাইটোকাইনের মাত্রা কমেছিল। ত্বকে ল্যাকটোব্যাসিলাসের মতো উপকারী কিছু জীবাণুর উপস্থিতিও বেড়েছিল। গবেষণাটি আকারে ছোট হলেও একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেয়। দৈনন্দিন পরিবেশে সবুজ আর প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করাটাও হতে পারে উপকারী।শহুরে জীবনে প্রকৃতির সংস্পর্শ কেন জরুরি?গবেষকদের একটা বড় ধারণার নাম বায়োডাইভার্সিটি হাইপোথিসিস বা জীববৈচিত্র্য প্রকল্প। এই ধারণা অনুযায়ী, গাছপালা, মাটি আর বাতাসে থাকা নানা রকম অণুজীবের বৈচিত্র্যই প্রভাব ফেলে আমাদের শরীরের জীবাণু-পরিবেশের ওপর। প্রকৃতির জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ-সংক্রান্ত কিছু সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। এই ধারণা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন বহুদিন ধরেই। তবে এই সম্পর্কের সঠিক কারণ ও প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।এ কারণেই গবেষকদের পরামর্শ একটাই। শহর এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যেখানে মানুষকে প্রকৃতির সংস্পর্শে আসতে আলাদা করে সময় বের করতে না হয়। স্কুলে যাওয়ার পথে, অফিসে যাওয়ার পথে, কিংবা পার্কে হাঁটার সময়ই যেন গাছপালা আর মাটির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়ে যায় আপনাআপনি।একটু মাটি, একটু ঘাসপ্রকৃতির কাছে ফিরতে বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই। পার্কে হাঁটতে গিয়ে গাছের বাকলে হাত রাখা, কিছুক্ষণ ঘাসে বসা, বারান্দার টবের গাছের যত্ন নেওয়া, কিংবা ছোট করে একটা বাগান করা, এভাবেই শুরু হতে পারে সবকিছু। তবে বাইরে থেকে ফিরে হাত পরিষ্কার করা এবং মাটি ব্যবহারের সময় সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি। লক্ষ্য কিন্তু ‘নোংরা থাকা’ নয়। লক্ষ্য হলো প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় জীবজগতের সঙ্গে পরিমিত আর নিরাপদ একটা সম্পর্ক তৈরি করা।এই গবেষণাগুলো একটা মজার সত্যিই মনে করিয়ে দেয়। স্বাস্থ্যকর জীবনের সব সমাধান হয়তো স্ক্রিন, জিম বা দামি ওয়েলনেস পণ্যের মধ্যে নেই। কখনো কখনো একটু মাটি ছোঁয়া, গাছের পাশে বসা, কিংবা ঘাসে খালি হাতে স্পর্শ করাও হতে পারে প্রকৃতির সঙ্গে শরীরের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে সহজ পথ।সূত্র: বিবিসিছবি: এআই ও পেকজেলসডটকম
নুভিস্তা ফার্মার আয়োজনে ‘পিসিওএস (PCOS) সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা। সহযোগিতায় এলিসা ও লিয়ানা।এ পর্বের আলোচনায় বিষয়—পিসিওএস (PCOS) কী, কেন হয়, এর লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে কী জানা জরুরি এবং পিসিওএস (PCOS) নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা।আলোচকপ্রফেসর শাহানারা চৌধুরীসাবেক প্রেসিডেন্ট, ওজিএসবি চট্টগ্রামভাইস প্রেসিডেন্ট, এফএসএসবিপ্রফেসর মলয় কান্তি চক্রবর্তীসাবেক অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধান (গাইনী), নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালীসাবেক সভাপতি, ওজিএসবি, নোয়াখালী শাখাসঞ্চালকডা. সালমা আক্তার শিমুসহযোগী অধ্যাপকচট্টগ্রাম মা-ও-শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ ‘দুঃখজনক’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সদ্য পদত্যাগ করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ওই নিয়োগই দুঃখজনক ছিল। তার এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের পদে নিয়োগ পাওয়ার মতো বিশ্বাসযোগ্য যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ছিল না। তিনি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়েছেন। আরও পড়ুন খালি ভারত ভারত না করে নিজের দেশের চিন্তা করেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতির বিষয়গুলো সামনে আসবেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির দুর্গন্ধ থামানো কঠিন, এটি বের হয়ে আসবেই। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। আরও পড়ুন বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে চায় শেভরন সায়মা ওয়াজেদকে শুধু একটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া আরও কঠোর করা প্রয়োজন। কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মালদ্বীপের একজন প্রার্থীকে সমর্থন করছে, যার ভালো যোগ্যতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে। কেএসআর/
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। একদিনে মারা গেছেন আরও ছয়জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ১৪৯ জনের মৃত্যু হলো। তাদের মধ্যে ৫২ জনই মারা গেছেন চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার ৫১৬ জন। এ নিয়ে এবার ভর্তি হলেন মোট ৫১ হাজার ৮৩৭ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৩ জন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও তিনজন নারী। তাদের মধ্যে একজন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্তবয়স্ক। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৪৯ জনের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আরও পড়ুন ডেঙ্গু ঠেকাতে চট্টগ্রামের ২ হাজার মসজিদে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেই তুলনায় চলতি মাসে অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৫২ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন মারা যান ৮ সেপ্টেম্বর। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৪৮, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৮ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৫, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১২, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন। আরও পড়ুন আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর রেকর্ড সেপ্টেম্বরের ১১ দিনেই ভাঙলো রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, গত আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯১ জন। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫৭১ জন ভর্তি হন ৮ সেপ্টেম্বর। এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন হাসপাতালে আসেন। একিউএফ/
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর আলাউদ্দিন নগরের হাসপাতালে ২২ বছর ধরে চলছে বিনামূল্যের চক্ষু সেবা ক্যাম্প। চোখে ঝাপসা দেখা, ব্যথা, ছানি কিংবা দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন চোখের চিকিৎসা করাতে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, কেউ এসেছেন মাইকের প্রচার শোনে। আবার কেউবা এসেছেন ফেসবুকে দেখে। হাসপাতালে প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। এ কাজে সহযোগিতা করছে আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন, দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন ও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। দুইদিনে প্রায় চার হাজার মানুষকে সেবা প্রদান করা হবে। তারমধ্যে অন্তত দুই হাজার জনের ছানি অপারেশন করা হবে। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। খোকসা থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব মো. আজাহার বলেন, 'এখান থেকে গতবছর এক চোখের ছানি অপারেশন করেছিলাম। টাকা পয়সা লাগেনা। সেবার মানও ভালো। আরেক চোখে ঝাপসা দেখছি। তাই আবার আসছি।' ফেসবুকে বিনামূল্যে চিকিৎসার কথা শুনে কুষ্টিয়ার জগতি থেকে এসেছেন গৃহিণী জেসমিন বেগম। তিনি বলেন, ‘ছানি কাটতে এক ক্লিনিক ৬০ হাজার টাকা চাইছে। সবাই বলল আলাউদ্দিন নগরের বিনামূল্যের চিকিৎসা ভালো। সেজন্য আসছি। এখানে অনেক লোকের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে চিকিৎসা ভালোই হয়।’ কুমারখালীর চাঁদপুর ইউনিয়নের মহননগর পশ্চিমপাড়ার সিরাজুল ইসলামের কৃষক ছেলে ওহিদুল ইসলাম বলেন, 'মাইকে শুনে সকাল ৬টার দিকে এসেছি। ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা - নিরীক্ষা সব ফ্রি। একটা চশমাও দিয়েছে ফ্রি। খুব ভালো চিকিৎসা। কুষ্টিয়ার উদিবাড়ি থেকে এসেছেন মঞ্জুয়ারা খাতুন ( ৫৭)। তিনি বলেন, 'চোখে ছানি পড়েছে। বাইরের ডাক্তার ২৫ - ৩০ হাজার টাকা চেয়েছে। কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ ফ্রি।' নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বেসরকারি চাকুরিজীবী বলেন, 'এখানে ধনী - গরিব সব শ্রেণির মানুষই আসে। সেবার মানও ভালো। বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে এসেছি। বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করাবো।' আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করে চলেছেন। আরও আলাউদ্দিন তৈরি হলে সমাজের কেউ আর চোখের জ্যোতি হারাবেনা। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের নিবন্ধন, লাইনে শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তায় কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এমন মানবিক কর্মসূচিতে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত স্বেচ্ছাসেবী রুমা খাতুন। খুলনা বিএনএসবি হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মো. বাপ্পী বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় চলছে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ক্যাম্প। এখানে বয়স্ক রোগীদের সংখ্যা বেশি। অর্থের অভাবে যেন কোনো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের আলো নিভে না যায়। সেজন্য আলাউদ্দিন আহমেদ ২০০৪ সাল থেকে বিনামূল্যে এমন ক্যাম্প চালিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গতবছর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে প্রায় ২২ হাজার মানুষ ছানি অপারেশনের রোগী রয়েছে। এবছর প্রায় চার হাজার জনকে সেবাদানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তারমধ্যে দুই হাজার জনের ছানি অপারেশন করা হবে। আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম জানান, বাছাইকৃত রোগীদের খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হয়। থাকা, খাওয়া, যাতায়াত, চিকিৎসা সবই বিনামূল্যে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে। আল-মামুন সাগর/কেজে/এএসএম
পিৎজার নাম শুনলেই অনেকের জিভে পানি চলে আসে। আট থেকে আশি-এই ইতালিয়ান খাবারের জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু বিদেশের গণ্ডিতে আটকে নেই। চিকেন পিৎজা, বারবিকিউ পিৎজা কিংবা চিজি পিৎজা-স্বাদে নতুনত্ব আনতে নানা ধরনের পিৎজা এখন পাওয়া যায়। কিন্তু ওজন কমানোর চেষ্টা করলে পিৎজার নাম শুনেই অনেকেই দূরে সরে যান। কারণ পিৎজায় সাধারণত পরিমাণমতো ময়দার বেস, চিজ ও বিভিন্ন টপিং থাকে। সঙ্গে যদি সফট ড্রিংক কিংবা অতিরিক্ত চিজ যোগ হয়, ক্যালোরির পরিমাণ বেশ বেড়ে যায়। তবে তার মানে এই নয় যে ডায়েট করলে পছন্দের খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। বরং পরিমাণ ও খাবারের সঙ্গে কী খাচ্ছেন-সেদিকে একটু নজর রাখলেই মাঝে মাঝে পিৎজা কেতে পারেন। পিৎজার সঙ্গে সফট ড্রিংক নয় পিৎজা খাওয়ার সময় সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় রাখার অভ্যাস অনেকেরই। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করতে হবে। কারণ চিনিযুক্ত সফট ড্রিংক থেকে খুব সহজেই অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হতে পারে। তাই পিৎজার সঙ্গে সফট ড্রিংকের বদলে পানি, সোডা ওয়াটার বা চিনি ছাড়া কোনো পানীয় বেছে নিতে পারেন। এতে পিৎজার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের সম্ভাবনা কমবে। সঙ্গে রাখুন প্রোটিন ও ফাইবার শুধু পিৎজা খেলে অনেকেরই একের পর এক স্লাইস খেতে ইচ্ছা করতে পারে। এই অভ্যাস এড়াতে পিৎজার সঙ্গে ফাইবার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সালাদ রাখতে পারেন। শসা, টমেটো, লেটুস, গাজরের মতো সবজি দিয়ে সালাদ বানাতে পারেন। চাইলে সঙ্গে গ্রিলড চিকেন, ডিম কিংবা অন্য কোনো পছন্দের প্রোটিন যোগ করা যায়। ফাইবার ও প্রোটিনযুক্ত খাবার তুলনামূলক বেশি সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে পিৎজা খাওয়ার সময় অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার প্রবণতাও কিছুটা কমতে পারে। তবে সালাদের সঙ্গে অতিরিক্ত মেয়োনিজ, ক্রিমি ড্রেসিং বা চিজ যোগ করলে উল্টো ক্যালরি বেড়ে যেতে পারে। তাই ড্রেসিংয়ের পরিমাণেও নজর রাখা জরুরি। অতিরিক্ত চিজ এড়িয়ে চলুন পিৎজাতে অনেকেই বেশি চিজ খেতে পছন্দ করেন। অর্ডার করার সময় বাড়তি চিজ যোগ করাও কারো কারো অভ্যাস। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অতিরিক্ত চিজ এড়িয়ে চলাই ভালো। পিৎজায় আগে থেকেই চিজ থাকে। তাই বাড়তি চিজ না চেয়ে স্বাভাবিক পরিমাণেই খেতে পারেন। চাইলে বেশি সবজি ও তুলনামূলক হালকা টপিং বেছে নিতে পারেন। চিকেন বা অন্য প্রোটিন টপিং নিলে সেটি কীভাবে রান্না করা হয়েছে, সেটিও খেয়াল করুন। অতিরিক্ত তেল বা ভাজা টপিংয়ের বদলে গ্রিলড বা রোস্টেড অপশন তুলনামূলক ভালো হতে পারে। স্লাইসের সংখ্যাতেও নজর দিন ডায়েটের মধ্যে পিৎজা খেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পরিমাণ। ‘আজ পিৎজা খাব’ ভেবে একসঙ্গে অনেকটা খেয়ে ফেলার বদলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করুন। ধীরে ধীরে খেলে কখন পেট ভরে যাচ্ছে, সেটিও বুঝতে সুবিধা হয়। আরও পড়ুন নারিকেল তেল কি সত্যিই সুপারফুড? চুল-ত্বকের যত্নেও কতটা কাজে দেয় আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-কোনো একটি খাবার একা ওজন বাড়ায় বা কমায় না। দিনের মোট খাবার, মোট ক্যালোরি, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস মিলিয়েই ওজনের ওপর প্রভাব পড়ে। আরও পড়ুন কত কেজির ইলিশ কিনলে স্বাদে ভালো হয় জানেন? তাই ডায়েট মানেই পিৎজা চিরতরে বাদ নয়। মাঝে মাঝে পিৎজা খেতে পারেন, তবে পরিমাণ বুঝে এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেটি মাথায় রেখে। পছন্দের খাবারকে পুরোপুরি নিষেধ না করে সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যাভ্যাস ধরে রাখতে বেশি বাস্তবসম্মত। সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, এনডিটিভি এসএকেওয়াই
চোখের সামনে আমরা অনেক সময় কিছু কালো কালো গোল অংশ ঝাপসা ভাবে দেখতে পাই। অথচ আশপাশ পরিষ্কার। এটা চোখের একটি বিশেষ রোগের কারণে হয়। রোগটির নাম সেন্ট্রাল সেরাস কোরিও রেটিনোপ্যাথি অথবা সেন্ট্রাল সেরাস রেটিনোপ্যাথি। সংক্ষেপে সিএসসিআর বা সিএসআর।কী এই রোগরোগটা সম্পর্কে জানার আগে আমাদের চোখের ভেতরের একটি বিশেষ অংশ সম্পর্কে জানতে হবে। চোখে দেখার পর্দা বা রেটিনার একটি কেন্দ্রবিন্দু আছে, যা অতি সংবেদনশীল ‘ম্যাকুলা’ নামে পরিচিত। মাঝের আরও ছোট্ট সংবেদনশীল অংশটি হলো ‘ফোভিয়া’। যেকোনো বস্তু পরিষ্কার দেখার জন্য চোখের এই অংশ ভালো থাকা খুব দরকার। আমরা যা দেখি, তার আকৃতি-প্রকৃতি, রং ইত্যাদি নির্ধারণ করে এই অংশ, যা ‘কোন’ নামের এক বিশেষ কোষ নিয়ে তৈরি।এআই–যুগে টিকে থাকতে কী করবেন, পড়ুন কম্পিউটারবিজ্ঞানীর পরামর্শচোখের এই সংবেদনশীল অংশের আশপাশে অনেক রক্তবাহী শিরা আছে। এই শিরা থেকে যদি রক্তের জলীয় অংশ কোনোভাবে লিক করে কোষে জমা হতে থাকে, তখন দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া শুরু হয়। তখন ‘ম্যাকুলা’ অংশের কোষ ফুলে ওঠে, রেটিনা থেকে উঠে আসে আর দৃষ্টি সমস্যা দেখা দেয়।এ রোগের লক্ষণ কী?লক্ষণ একটাই, যন্ত্রণাবিহীন ঝাপসা কালো গোল ছায়া দেখা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক চোখেই সমস্যা বেশি দেখা যায়। ক্ষেত্রবিশেষ দুই চোখেও হতে পারে।কেন হয়?রোগটা কেন হয়, তার প্রাথমিক কারণ জানা যায়নি। তবে আনুষঙ্গিক কিছু কারণ বা ঝুঁকি আছে। যেমন১. হঠাৎ অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম, অনিদ্রা।২. দীর্ঘদিন নিয়মিত বা অনিয়মিতভাবে স্টেরয়েড ওষুধ সেবন।৩. অতিরিক্ত ধূমপান বা মদ্যপান।৪. ডায়াবেটিস।চিকিৎসা কীপ্রথমত, রোগীকে রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে হবে। বুঝতে হবে, চোখে সংবেদনশীল এলাকায় জলীয় পদার্থ জমেছে বা সহজ কথায় তরল জমেছে। মাটিতে পানি জমে থাকলে আস্তে আস্তে তা শুকিয়ে যায়। তেমনি নতুন করে কোনো শিরা লিক না করলে যেটুকু পানি জমেছে তা ধীরে ধীরে আপনা-আপনিই শুকিয়ে যাবে। তাই ভয়ের কারণ নেই। যেহেতু হঠাৎ দুশ্চিন্তা এ রোগের অন্যতম কারণ, তাই রোগীকে অবশ্যই দুশ্চিন্তা দূর করতে হবে।দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ কমানোর ওষুধ, কিছু প্রদাহ নিরোধক চোখের ড্রপ, ভিটামিন সি, তাজা ফলমূল গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন নয়। তবে সুস্থ হতে সময় লাগে। ক্ষেত্রবিশেষ দুই মাসও লাগতে পারে।অনেকের পক্ষে এই সময় বেশি দীর্ঘ ও কষ্টকর মনে হলে বা অস্বস্তি বেশি হলে চোখের অ্যানজিওগ্রাফি, ওসিটি করার পরে লিক হওয়া এলাকা নির্ধারণ করে স্বল্প তাপের লেজার চিকিৎসা করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিভিইজিএফ ইনজেকশন কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।চোখে শিরা লিক করে পানি জমা সেরে যাওয়ার পরও ভবিষ্যতে এই সমস্যা আবার হতে পারে, এটাও রোগীকে বুঝতে হবে। তাই দুশ্চিন্তা কমানো ও স্ট্রেসবিহীন জীবনযাপনের অভ্যাস করা জরুরি।সমস্যাটি নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। আবার হালকাভাবে নেওয়াও উচিত নয়। মনে রাখতে হবে, এটি চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকা আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না নিলে অনেক সময় ভবিষ্যতে দৃষ্টির স্থায়ী সমস্যা হতে পারে।লেখক: ডা. আহসান কবির, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন, যশোর
দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) ১৫ মাস বয়সী শিশুদের জন্য এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৫ সালে জাতীয় টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের পর জাতীয় টিকাদান কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে এই টিকা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে ইপিআইয়ের স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে এক ডোজ টিসিভি প্রদান করা হবে। একই সেশনে এমআর-২ (গজ-২) টিকার সঙ্গে এই টিকা একযোগে দেওয়া যাবে। মাঠকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশু শনাক্ত, টিকার চাহিদা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত সেশনে টিকাদান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুদের ভ্যাক্স : ইপিআই অ্যাপে নিবন্ধন, টিকা কার্ড ডাউনলোড এবং টিকা প্রদানের পর স্মার্ট হেলথ্ বিডি/ই ট্র্যাকার অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভার মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন সহজীকরণের ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত কর্মসূচিতে ৫ ডোজের ভায়াল ব্যবহার করা হবে এবং ভ্যাকসিন ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করতে হবে। মাল্টিডোজ ভায়াল নীতিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে খোলা ভায়াল পরবর্তী সেশনেও ব্যবহার করা যাবে, যাতে ভ্যাকসিনের অপচয় কমানো সম্ভব হয়। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতাদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে টাইফয়েড টিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই নগরবাসী যেন সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া আরও সহজ হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো, ভবন ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যাতে দেশের কোনো গ্রাম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না থাকে। চিকিৎসার অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটে, সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমাদের দেশে উৎপাদিত ওষুধের মান কোনো অংশেই কম নয়। বেশিরভাগ ওষুধই অত্যন্ত উচ্চমানের এবং এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সেখানকার রোগীরা এসব ওষুধ ব্যবহার করে সন্তুষ্ট। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। আর এটিই প্রধানমন্ত্রীর মূল স্লোগান। আমরা শুধু মুখে বলছি না, এটি বাস্তবায়নও করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, চলতি মাস থেকে নতুন বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এটির পর্যবেক্ষণ করছেন। একই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সরকার উৎসাহিত করছে, এবারের বাজেটেও আমরা তাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য প্রচুর সুযোগ–সুবিধা ও প্রণোদনা দিয়েছি। বাংলাদেশে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ আর সঠিক নীতিমালা পেলে তারাও বিশ্বে অন্যতম সেরাটা দেখাতে পারেন। এই সবকিছুর পেছনে দিনশেষে নেতৃত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আমাদের একজন নেতা আছেন, যিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আমাদের পথ দেখাচ্ছেন। আমরা এখন সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করছি। আমরা জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং তা পূরণ করবে সরকার।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত বছরের পর বছর ধরে অবহেলা এবং জবাবদিহিতার অভাবের মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষকে তাদের স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে দিতে হয়। এর ফলে অসুস্থতা দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গুলশানের এক হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জুবাইদা রহমান বলেন, ‘অসংক্রামক রোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর ফলে আমাদের দেশের মানুষ দ্রুত বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে এবং নগরায়ন মানুষের জীবনযাপন, কাজ ও সেবা গ্রহণের পদ্ধতিকে বদলে দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরুসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের খাবার সরবরাহসহ নানা বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে গাইবান্ধা–২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, রোগীদের জন্য পরিবেশন করা মাংসের ওজন পরীক্ষা করে গুরুতর অসঙ্গতি দেখতে পান। হাসপাতালের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী, একজন রোগীর জন্য দুপুরে ১৯০ গ্রাম (ব্রয়লার) মাংস দেওয়ার কথা। কিন্তু সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ওজন করে দেখা যায়, মাংসের পরিমাণ মাত্র ২৫ থেকে ৪০ গ্রাম। এ ঘটনায় হাসপাতালের সেবার মান ও রোগীদের খাবারের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল সড়কের স্থানীয় বাসিন্দা সুজন মিয়া বলেন, ‘ঠিকাদার শাহাদাৎ আওয়ামী লীগের আমলে একক আধিপত্য বিস্তার করে হাসপাতালের সব কেনাকাটা করতো। ওই সময় তিনি দুটি কাজ করতেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুজন বিভিন্ন ঠিকাদারের কাজের দায়িত্বসহ ৯টি কাজ করছেন। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে এই ব্যক্তি এখন কোটি টাকার মালিক। গাইবান্ধাবাসী দীর্ঘদিনের এ জুলুম ও অত্যাচারের হাত থেকে নিস্তার চায়।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খাদ্য সরবরাহকারী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমি ঠিকাদার না। ঠিকাদার বাহিরের।’ কোন জায়গার ঠিকাদার এবং নাম কী জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাহিরের ঠিকাদার, আমি জড়িত আছি। বাদ দাও তো ভাই।‘ গাইবান্ধা–২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম হাসপাতালের খাবারসহ ঠিকাদারের শাস্তির বিষয়ে বলেন, ‘রোগীদের জন্য সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই আত্মসাৎ না হয়। রোগীদের প্রাপ্য খাবার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল একটি পাবলিক প্রতিষ্ঠান। এখানে কারো এককভাবে কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আমিও অনেক অভিযোগ শুনেছি। এসব বিষয় নিয়ে সংসদে কথা বলেছি। আর অনিয়ম যাতে না হয়, সেজন্য আমি নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবো
দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী শনিবারের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নরমাল ডেলিভারি অর্থাৎ লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। GeographicReference স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের একটি শ্রেণী অতিমাত্রায় মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মানুষের কল্যাণ বা দেশের স্বার্থের চেয়ে অর্থ উপার্জনই তাদের প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, একসময় দেশে অধিকাংশ সন্তান জন্ম হতো স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে। গ্রামাঞ্চলে অভিজ্ঞ দাইয়ের সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসবের দীর্ঘ ঐতিহ্য ছিল। এখন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটলেও স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ানের প্রবণতা বেড়েছে। মন্ত্রী বলেন, গর্ভাবস্থার শুরুতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্র ও কিছু চিকিৎসাকেন্দ্র পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জটিলতার ভয় দেখায়। ‘অপারেশন না করলে মা কিংবা সন্তান বাঁচবে না’ এমন আশঙ্কা তৈরি করে সিজারিয়ানের সিদ্ধান্তে বাধ্য করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় পরিবারগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নেয়। চিকিৎসকরা মানুষের কাছে আল্লাহর পর সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। তাই চিকিৎসা পেশায় নৈতিকতার বিষয়টি আরও শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর পুষ্টির বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুর জীবনের শুরু থেকেই যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। অপুষ্টি, অল্প বয়সে বিয়ে এবং মায়েদের দুর্বল স্বাস্থ্য শিশুদের নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনেক শিশুই চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। একই সঙ্গে অনেক মায়ের শরীরেও পর্যাপ্ত পুষ্টি নেই। ফলে নবজাতকের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিডওয়াইফদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি এলাকায় দক্ষ মিডওয়াইফের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটি শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; বরং জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়। তিনি জানান, চলতি বছর স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের বড় অংশই মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগামী শনিবারের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে। কোনো ক্লিনিক এ নির্দেশনা না মানলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে পরামর্শ পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন। তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণে মানুষকে বাধ্য করার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা ছাড়া একটি সুস্থ, সমৃদ্ধ ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানের শেষদিকে মিডওয়াইফদের সংগঠন গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সংগঠন মাতৃস্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মশালায় জানানো হয়, ৪০টা নরমাল ডেলিভারি পরে একজন ধাত্রী রেজিষ্ট্রেশন পান। প্রতি বছর মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ৫৮০০ ধাত্রী দক্ষ হয়ে উঠেন। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে তাদের কাজের সুযোগ না থাকায় এ সকল ধাত্রীদের সিংহভাগই ঝরে পড়েন। এর মধ্যে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে বছরে শুধুমাত্র ৫০০ ধাত্রী কাজ করার সুযোগ পেলেও বাকীরা সাধারণ নার্স হিসাবে কাজ করেন। এতে শিশু জন্মের সময় দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পায়। কর্মশালায় বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির (বিএমএস) সভাপতি রোজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার ও বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। একই সঙ্গে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে গত বুধবার (১ জুলাই) জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বজায় রাখতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিকিৎসকদের নাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-র নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য সংগ্রহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা। এ ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে কিংবা ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জেলা পর্যায়ের মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিবন্ধিত চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে রোগীরা আরও নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা বা চিকিৎসক সংকট গোপনের মতো অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও গুরুতর অসুস্থ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন অর্থবছরে বড় ধরনের বিশেষ কর্মসূচি ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত—এই ৬ ধরনের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের এক আনুষ্ঠানিক বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, দেশের সামাজিক সুরক্ষা বলয়কে আরও শক্তিশালী করতে ১২টি উল্লেখযোগ্য কার্যাবলি, প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’ এবং প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ‘বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম’ পরিচালনা করা। একই সঙ্গে অসহায় নারীদের সহায়তায় ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রম’ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য ‘প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম’ জোরদার করা হবে। অবহেলিত শিশুদের সুরক্ষায় ‘বেসরকারি এতিমখানায় আর্থিক সহায়তা’ প্রদানের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ‘সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম’ পরিচালনা করবে সরকার। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম’ এবং বধির ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের সকল প্রতিবন্ধী মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান ও অধিকার নিশ্চিত করতে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান এবং জাতীয় তথ্য ভাণ্ডার তৈরি’র বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি অটিজমে আক্রান্তদের কল্যাণে ‘অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র (২য় সংশোধিত) প্রকল্প’ এবং দেশের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আধুনিকায়নে ‘স্ট্রেন্দেনিং সোশ্যাল প্রটেকশন ফর ইম্প্রুভড রেজিলিয়েন্স ইনক্লুশন অ্যান্ড টার্গেটিং (এসএসপিআইআরআইটি) প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে। জানা যায়, নতুন অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ৩০,৪৪২,৬৬,০০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের মধ্যে নিয়মিত পরিচালন খাতে ১৫,১৭৪,৭৬,০০ হাজার টাকা এবং সরাসরি উন্নয়ন খাতে ১৫,২৬৭,৯০,০০ হাজার টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভারত। দেশটিতে প্রথমবারের মতো মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য একটি ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন বাজারে আনা হয়েছে, যা ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও দ্রুত ও সহজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যমতে, রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধটি বাজারে এনেছে। বর্তমানে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি সাধারণত শিরায় (আইভি) ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, যেখানে রোগীদের হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করতে হয়। তবে নতুন এই ইনজেকশন সরাসরি ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা যায় এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে রোগীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা এ পদ্ধতিতে বেশি সুবিধা পাবেন এই চিকিৎসা মূলত নন–স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি) রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে, যা ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ। এটি শরীরের ‘পিডি–এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে দেয়। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। প্রোটিনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ কোষ ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি–এল১–এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর। প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই থেরাপির উপযুক্ত হতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যেখানে ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে। তবে চিকিৎসা পদ্ধতিটি যতটা আধুনিক, এর খরচও ততটাই বেশি। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। একজন রোগীর সাধারণত ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়, ফলে পুরো চিকিৎসার ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছাতে পারে। এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চিকিৎসা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা। খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি এটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের (সিজিএইচএস)-এর আওতায়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে সরকারি সহায়তা ও কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবাখাতে যুগান্তকারী সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন উপদ্রুত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ‘পাখি–ফ্লু’র প্রথম প্রাদুর্ভাব। একদিকে প্রতিরোধমূলক আইন নিয়ে চলেছে বড় আলোচনা, অন্যদিকে জীবাণুমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন জোরদার চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের বড় ধাপ স্বাস্থ্য ক্ষেত্র সংস্কার কমিশন একটি ঐতিহাসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেছে, যেখানে প্রস্তাব রাখা হয়েছে: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ‘সবার জন্য বিনামূল্যে’ নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক অধিকার ঘোষণার দাবি । স্বতন্ত্র ও স্থায়ী ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনের পরামর্শ, যা জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির পরামর্শদাতা ও মান–নিয়ন্ত্রক সংস্থা হবে । তবে, বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের স্পষ্ট পথিকা এখনও তৈরি হয়নি—স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় যৌথ কমিটি জরুরি । এ ছাড়াও, কমিশন ১৫% জাতীয় বাজেট স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ, আর রোগ–নিয়ন্ত্রণ ও ঔষধ ও মানবশক্তি বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে । পাখি–ফ্লু: দেশে ৭ বছর পর প্রথম আঘাত জেসোর জেলার একটি পোল্ট্রি খামারে ‘হাইলি প্যাথোজেনিক অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা’ (HPAI) শনাক্ত হয়েছে — ৩,৯৭৮টি মুরগির মধ্যে ১,৯০০টি মারা যায়, বাকি বাদী করা হয়েছে । এটি পড়ে আদালতকারি ভ্যাকসিনেশন, খামার পর্যবেক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি হয়েছে। পরিবেশগত এবং আর্থ–সামাজিক হুমকি দূষণজনিত রোগ: ঢাকা শহরের বায়ুমণ্ডল সাম্প্রতিক হারে “হাজার্ডাস” পর্যায়ে পৌঁছয়, যা সাধারণ মানুষ ও হাঁপানির রোগীদের জন্য বিপজ্জনক—অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আইন–সচেতনার জন্য আবেদন জানিয়েছেন । চিকিৎসা ব্যবস্থার ঝুঁকি: উঁচু রক্তচাপ ও NCD–এর কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে ৭১%, কিন্তু তিনি শুধু ৪.২% বাজেট বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ । কী বলা হলো এক নজরে? বিষয় অবস্থা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে ঘোষণা, আইনকে সাংবিধানিক অধিকার বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন গঠন প্রস্তাব বাজেট বরাদ্দ ১৫% দাবি প্রতিষ্ঠিত রোডম্যাপ এখনও অপেক্ষায় পাখি–ফ্লু প্রথম প্রাদুর্ভাব, ১,৯০০ মুরগি মারা গিয়েছে পরিবেশমূলক স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ দূষণ ভয়াবহ, NCD–সংক্রান্ত মৃত্যুহার ও উদ্বেগ বিশ্লেষণ স্বাস্থ্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য সবার নাগাল নিশ্চিত না হলে বড় পরিকল্পনার সফলতা অনিশ্চিত। ‘স্বাস্থ্য–কমিশন’ গঠন ও বাজেটে বড় পরিবর্তন আনা গেলে জাতীয় স্বাস্থ্য মানে দীর্ঘমেয়াদি লাভ হবে। তবে অপরদিকে, নতুন রোগের প্রাদুর্ভাব ও দূষণের মতো অপ্রত্যাশিত হুমকি মোকাবিলার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একাধিক স্তরে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ না দিলে জনগণের নিরাপদ–সেবা পাওয়া ঝুঁকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিবর্তনের মুখে, তবে বাস্তবায়ন ও সময়ানুবর্তী পন্থা নিশ্চিত না হলে সব প্রচেষ্টা বৃথা। সরকারের উচিত দ্রুত রোডম্যাপ প্রকাশ করে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করা।
দেশজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চলতি জুন মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই ৪ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশঙ্কা করছে, বর্ষা মৌসুমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগেভাগেই সতর্ক থাকতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্যমতে, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ২০০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বেশিরভাগ রোগীর বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। বাড়ছে জটিলতা চিকিৎসকরা বলছেন, এবার ডেঙ্গুর উপসর্গে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রচলিত জ্বর, ব্যথা ছাড়াও অনেক রোগী পাতলা পায়খানা, বমি ও তীব্র দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবির রহমান জানান, "অনেকে দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, ফলে শরীরে প্লেটলেট বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জটিলতা বাড়ছে।" স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা সোমবার এক জরুরি ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, "শহরাঞ্চলে জমে থাকা পানি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। সবাইকে বাসা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।" কী করণীয়? বিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি জমে থাকে এমন জায়গা—ফুলদানি, পরিত্যক্ত টায়ার, ড্রেন বা প্লাস্টিক পাত্র—সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা জরুরি। শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, তাই তাদের বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের তৎপরতা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ মশা নিধনে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে। তবে অনেক এলাকাবাসী এখনও অভিযোগ করছেন, তাদের এলাকায় কার্যকর ফগিং বা মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন