রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকায় তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার পিএন স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে দেখা যায়, বিএসটিআইয়ের গুণগত মানসনদ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি ‘বিস্কুট, পাউরুটি ও কেক’ উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ করে আসছিল। এছাড়া পণ্যের ওজন, মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় তথ্যসম্বলিত লেবেলও যথাযথভাবে সংযুক্ত ছিল না। এসব অনিয়মের দায়ে তাজা লাইভ বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেহরীন তাবাসসুম তিথীর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। অভিযানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে মোহাম্মদ করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ারগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ, চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের মো. সেলিম (৫০), সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭), মো. জাবেদ (২৮) ও মো. আলামিন (২৯)। পুলিশ জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা একদল ব্যক্তি তাকে ঘিরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করেন পারভেজ। মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার জন্য করিমকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হন পারভেজ। পরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে কৌশলে করিমকে রাউজানের কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে পারভেজসহ অন্যরা করিমকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রথমে চট্টগ্রাম নগরের চাঁদগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে শুক্কুর ও জাবেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও কার্তুজ রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর খামারে রাখা হয়েছে। পরে সোমবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে গ্রেফতার দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ওই খামারে অভিযান চালায় ডিবি। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে খামারের ভেতরে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদরাশা এলাকা থেকে সেলিম ও আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় তৈরি লোহার এলজি, একটি এয়ারগান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সিসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের দুটি মামলা রয়েছে। মামলার অন্যতম পলাতক আসামি পারভেজসহ অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, সিডিএমএস ও থানা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন, বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এমআরএএইচ/এসএনআর
বিদ্যালয়ের পাশেই সহপাঠীর বাড়ি। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে সহপাঠীকে খুঁজতে তাদের বাড়িতে যায় সাত বছরের শিশুটি। তবে সহপাঠীর বাবা জামিনুর ইসলাম (৩২) ছাড়া বাড়িতে আর কেউ ছিল না। এ সুযোগে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। পরে নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে চাপা দেওয়া হয় শিশুটির মরদেহ।গতকাল রোববার রাতে মাদারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জামিনুর ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন।শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। গত শনিবার রাতে জামিনুরের বসতঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ওই রাতেই জামিনুর ও তাঁর স্ত্রী সবুজাকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।শিশুটির মামামানুষটি কীভাবে এত ছোট ও নিষ্পাপ একটি শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারলেন! পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না; তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জামিনুরের মেয়ের সহপাঠী ছিল শিশুটি। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে এবং বিদ্যালয় থেকে জামিনুরের বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করত শিশুটি। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে শিশুটি জামিনুরের বাড়িতে যায়। সেদিন জামিনুরের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তাঁর বোনের বাড়িতে রান্না করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জামিনুর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।শিশুটির মামা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মানুষটি কীভাবে এত ছোট ও নিষ্পাপ একটি শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারলেন! পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না; তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- বাবলু মিয়া (২৮), মো. মনির হোসেন (৩০), নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) ও শামীম আল মামুন (২৯)। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একটি দল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। বিশেষ পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনদের সরবরাহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিআইডির নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল। আরও পড়ুন অনলাইন জুয়ার ৭ সদস্য গ্রেফতার, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ৪৮৪ সিম জব্দ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে এবং অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে জুয়া পরিচালনা করা হচ্ছিল। তদন্তে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করে গত ১৭ মে পল্টন থানায় মামলা করে সিআইডি। ছুফি উল্লাহ আরও বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতেন। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন কেটে নেওয়ার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করা হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়ার সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত এজেন্ট সিম সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন সিআইডির পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ। এ মামলায় এর আগে আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ৭ জুন টাঙ্গাইল থেকে সোলায়মান, সাগর মিয়া ও জুয়েল রানা, ১৬ জুন নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ থেকে রায়হান খান, পাভেল রহমান ভূঁইয়া ও আবু জোবায়ের সানি, ১২ জুলাই নড়াইল থেকে মো. জসিম উদ্দীন ও সুমন রায় এবং ১৯ আগস্ট রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকা থেকে সৈয়দ জামান ও রুহুল কুদ্দুস ওরফে বাপ্পীকে গ্রেফতার করা হয়। টিটি/একিউএফ
গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর পিবিআই। হত্যায় ব্যবহৃত বটি, দা, মোবাইল ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেম, পূর্বের বিয়েসহ নানা বিষয়ে ক্ষোভের জন্ম থেকে ওই নারীকে তার প্রেমিক হত্যা করে বলে জানিয়েছে পিবিআই। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গাজীপুর জেলার পিবিআই’র পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার। গ্রেফতার মো. মিশন ইসলাম (২২) বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. মাসকুর আলমের ছেলে, তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বুড়াবুড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। মাসহ মিশন ইসলাম গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসী ভিটা সাগর মার্কেট এলাকার আনোয়ারের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। নিহত ডলি আক্তার (৩০) ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার পাহাড় পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ডলি গাজীপুরের বানিয়ারচালা একটি কারখানায় কাজের পাশাপাশি ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের খালের পানিতে একটি সুটকেস, পাশের একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা এক নারীর খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বড় ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা রুজু করেন। মামলা রুজুর পর নিহতের পরিচয় শনাক্তসহ ছায়া তদন্ত শুরু করে গাজীপুর পিবিআই। গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী জানান, তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যায় জড়িত সন্দেহে মো. মিজানুর রহমান মিল্টন, মো. মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার আলাদা ভাড়া বাসা থেকে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, ডলি আক্তার ও মো. মিশন ইসলাম একই কারখানায় কাজে সুবাদে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। সম্পর্কের সূত্রে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের ভাড়া বাসায় যান ডলি আক্তার। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে মিশন ও ডলি একই রুমে ও বানু আক্তার পাশের রুমে ঘুমাতে যান। এসময় বিয়েসহ পূর্বের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও কথা কাটাকাটি হলে ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন ইসলাম। রাতেই ডলিকে ঘুম ও এলার্জির ওষুধ খাওয়ান মিশন। ডলি ঘুমিয়ে গেলে রাত ২টার দিকে মিশন তার লুঙ্গি পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে করে মরদেহ ঘরের চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখেন। পরদিন সকালে মিশনের মা বানু আক্তার ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় চৌকির নিচে ডলির মরদেহ দেখতে পান। পরে মা ও সন্তান পরিকল্পনা করে মরদেহটি গুম করার জন্য বাজার থেকে একটি সুটকেস নিয়ে আসেন। মরদেহ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড সংগ্রহ করেন। পরে বটি, দা ও ব্লেড ব্যবহার করে মরদেহটি কোমর থেকে দুই খণ্ড করেন। মরদেহের এক খণ্ড সুটকেসে, অপর খণ্ড পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখেন। বাসা পরিবর্তনে সহযোগিতার কথা বলে বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে ডেকে আনেন মিশন ইসলাম। মিশনের বাসায় এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় ওঠান মিল্টন। পরে মিশন, বানু আক্তার ও মিল্টন অটোরিকশায় রাজেন্দ্রপুর যান, সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ভবানীপুর ব্রিজ এলাকায় গিয়ে সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেন। এসময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে বস্তা ও সুটকেসে কী রয়েছে মিশনের কাছে জানতে চান। মিশন ডলির মরদেহ থাকার বিষয়টি জানালে তারা নিজদের বাসায় চলে যায়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে মিশন ইসলামের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ডলির মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করতে ব্যবহার করা বটি, দা, মৃতদেহ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করে পিবিআই। গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মরদেহটি পচে যাওয়ায় প্রথমে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। শিহাব খান/এফএ
চট্টগ্রাম নগরীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত অভিযানে ৫১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ১২ হাজার ৪০৪ ইয়াবা, ৩৭৪ লিটার চোলাই মদ, ৫২ কেজি ৭৬৭ গ্রাম গাঁজা ও বিদেশি মদ-বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় মাদকসংক্রান্ত ৩৭টি মামলা করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ৫১৭ জনের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৮৪ জন, পূর্বের মামলায় ৬০ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৩৩ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় চারজন রয়েছেন। এছাড়া কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৩৭ জন, পরোয়ানামূলে ১১৯ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ২০৬ জনকে। তাদের মধ্যে নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৪৬ জন মাদক ব্যবসায়ী, তিনজন মাদক বহনকারী এবং ১৫৭ জন মাদকসেবী রয়েছেন। আরও পড়ুন মাদক শুধু জীবন নয়, পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রও ধ্বংস করে: এসপি মাসুদ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৭৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩১ হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, অভিযানে ১২ হাজার ৪০৪ ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৭৪ লিটার চোলাই মদ, ৫২ কেজি ৭৬৭ গ্রাম গাঁজা, চার বোতল বিদেশি মদ ও ২৪ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, জনস্বার্থে মাদকবিরোধী এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের বিশেষ নজরদারিতে ২২৩ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ৪৪ পিস ভেপ ও ১৪৪ পিস মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ করা হয়েছে। দুবাই, মালয়েশিয়া ও গুয়াংজু থেকে আসা তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। আটক পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা। গ্রিন চ্যানেল পেরোতেই ধরা পড়ে এসব যাত্রীরা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর জানায়, গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, এয়ারপোর্টের বি-শিফট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আগত সন্দেহভাজন যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করে। এর অংশ হিসেবে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-৫৮৪ ফ্লাইটের যাত্রী আবদুল করিম গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় তার ব্যাগেজ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি ও ইনভেন্টরি করা হয়। এ সময় তার ব্যাগেজ থেকে ২২৩ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। একই দিনে মালয়েশিয়া থেকে আসা এয়ার এশিয়ার একে-৭১ ফ্লাইটের যাত্রী শিপনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৪৪ পিস ভেপ জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, গুয়াংজু থেকে আসা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-৩২৫ ফ্লাইটের দুই যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে মোবাইল ডিসপ্লে আটক করা হয়। যাত্রী কে এম তোফায়েল আহমেদের থেকে ৯৮ পিস এবং শামিমা আকতারের কাছ থেকে ৪৬ পিস মোবাইল ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়। দুই যাত্রীর কাছ থেকে মোট ১৪৪ পিস মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ করা হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, একদিনে তিনটি আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের ব্যাগেজ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট, ভেপ ও মোবাইল ডিসপ্লে আটকের ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এসব পণ্য আনার সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না এবং যাত্রীদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। আটক পণ্যগুলোর বিষয়ে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। এসএম/জেএইচ
যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় দুলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় দেন। বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ)। তিনি জানান, রায়ে দুলালকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শারমিনের সঙ্গে দুলাল হোসেনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের পর থেকেই দুলাল হোসেন তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের পরামর্শে শারমিনের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতেন। যৌতুকের জন্য তাঁকে প্রায়ই মারধর করা হতো।মামলায় আরও বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে মারধর করেন। পরে ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুলালের বসতঘরের ভেতর শারমিনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।মামলার সূত্রে জানা যায়, শারমিনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভান। পরে তাঁকে প্রথমে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাঁর শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। খবর পেয়ে শারমিনের মা ও মামলার বাদী মোমেলা বার্ন ইউনিটে গিয়ে মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাত নয়টার দিকে শারমিন মারা যান।এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ কে এম সাইদুজ্জামান। তিনি বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় সাক্ষ্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তৎকালীন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাওহীদ-আল-আজাদ শারমিনের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি রেকর্ড করেন।এসআই মো. শফিয়ার রহমান শারমিনের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।তদন্ত শেষে দুলাল হোসেনের সঙ্গে হারুন, মোর্শেনা, জরিনা, সুমাইয়া ও রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি ১৯ নম্বর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। বিচার চলার সময় আসামি জরিনা মারা যাওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।দণ্ডিত দুলাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামিনে থাকা আসামিদের ও তাঁদের জামিনদারদের জামিনের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে আড়াই বছর আত্মগোপনে থেকে বাড়ি ফিরে নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতা। চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ পরিবারের। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে..
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শৈলাট বাজারে অটোরিকশার মালামাল চুরির সন্দেহে কামরুল হাসান (৩৮) নামের এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় মারধরের এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় শ্রীপুর থানা পুলিশ। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাকে মারধরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযাগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শৈলাট বাজারের একটি এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালামাল চুরি করা হয়েছে অভিযোগে কামরুল হাসানকে আটক করেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। তাকে প্রথমে দড়ি দিয়ে একটি গাছে বেঁধে বেদম মারধর করা হয়। এরপর হাত-পা একসঙ্গে পিঠের কাছাকাছি নিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখেন লোকজন। এসময় তাকে আবারও মারধর করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে আহত অবস্থায় দেওয়া অভিযুক্ত কামরুল হাসানের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। তিনি ওই ভিডিওতে নিজেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করেন। তার দাবি, তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত নন। বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু মালামাল সংগ্রহ করে এবং কিছু মালামাল অন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনে সেগুলো শৈলাট বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে পৌঁছার পর এক ব্যক্তি তাকে চোর সন্দেহ করে আটক করে মারধর করেন। আরও পড়ুন সাত মাসে পনেরো হাজার শিশু নিখোঁজ: কোথায় হারিয়ে গেল এরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি নিজের মোবাইলে কিছু ছবি দেখিয়ে জানান, কামরুল ইসলাম এর আগেও কয়েকবার চুরি করে ধরা পড়েছিলেন। স্থানীয়রা তাকে ছেড়ে দিলে তিনি আবার একই কাজে জড়িয়ে পড়েন। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা একজনকে পুলিশে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে গণপিটুনির বিষয়টি তার জানা নেই। শিহাব খান/এসআর/এএসএম
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে পারিচালিত অভিযানে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণসহ বিভিন্ন অনিয়ম পেয়েছে সংস্থাটি। এসব অভিযোগে জরিমানা ও মামলাও করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর প্রয়োগ, মনিটরিং কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা, দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযান এবং বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এই সময়ে ২০টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। আরও পড়ুন খাবারে তেলাপোকা ও ক্ষতিকর রং, চট্টগ্রামে ৩ রেস্তোরাঁকে জরিমানা ৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ, পেস্ট কন্ট্রোল প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়া প্রভৃতি অপরাধের কারণে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায়ও নিরাপদ খাদ্য আইন অনুসারে অভিযান চলমান। এই ৭ দিনে লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভিবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও নীলফামারি জেলায় মোট ১৪টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি করা, পোড়াতেল ব্যবহার করা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার করা, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি এর ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে কেওড়াজলের ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন করা প্রভৃতি কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে মোট ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরও পড়ুন ধানমন্ডির জিংলিং রেস্টুরেন্টকে লাখ টাকা জরিমানা এছাড়া, ১২ সেপ্টেম্বর নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পাবনা ও সিলেটে পৃথকভাবে সামারি ট্রায়াল পরিচালিত হয়। পাবনায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য অফিসারের উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় ২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে সিলেটের বিসিক শিল্পনগরী, খাদিমনগরে অবস্থিত দুটি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনকালে একটি প্রতিষ্ঠানে কোনো দৃশ্যমান অসংগতি পরিলক্ষিত না হলেও অপর প্রতিষ্ঠানে খাদ্য সংরক্ষণ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা প্রতীয়মান হওয়ায় ৭ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৯৬টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং পরিচালনা করা হয়। মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আরও পড়ুন ভবনে এডিস মশার লার্ভা, জরিমানা পৌনে ২ লাখ টাকা এছাড়া, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী প্রচার কার্যক্রম চলমান। এসব প্রচারণার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তার করণীয় বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। উক্ত সময়ে সচেতনতামূলক টিভিসি বাংলাদেশ টেলিভিশনে টিভিসি প্রচারের পাশাপাশি স্ক্রলবার্তাও প্রচার করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে। চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গবেষণা, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে। এনএইচ/ইএ
গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজের ছোট মেয়েকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মেজ মেয়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানার বনমালা রেলগেট এলাকায় জনৈক সুমন মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে দুপুরে আদালতে নেওয়া হয়। তবে আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার আবুল কাশেম (৭০) ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার হরিপুর গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে বনমালা রেল গেট সুমন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। থানায় করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল কাশেম ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার স্ত্রী মানসিক প্রতিবন্ধী। দুই বছর আগে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে আবুল কাশেম পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। ভাড়া বাসায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে আবুল কাশেমের মেজ মেয়ে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। আরও পড়ুন ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যা, প্রেমিকসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড বিকেলে সে বাসায় এসে জানতে পারে, তার ১৩ বছর বয়সী ছোট বোনকে বাসায় একা পেয়ে বাবা ধর্ষণ করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আবুল কাশেমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। শিহাব খান/এসআর/এএসএম
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত সংক্রান্ত ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বলেন। আইজিপি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা, ক্লাউড কম্পিউটিংসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি একদিকে যেমন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। আরও পড়ুন সাইবার বুলিং ঠেকাতে আইআরআইয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবারভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি, ডিজিটাল চাঁদাবাজি ইত্যাদি অপরাধ ঘটাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় তদন্তের সক্ষমতা অর্জন আধুনিক পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অপরিহার্য। প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, এ কোর্সের মাধ্যমে আপনারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনেও সক্ষম হবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্যান্য তদন্তকারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা কার্যকরভাবে অন্যান্য তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দিলে আমাদের সাইবার মামলা তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছা. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণ রোডম্যাপ এবং বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন। আরও পড়ুন সংশোধন হচ্ছে সাইবার আইন / গুজব-অপতথ্য প্রচারে ১০ বছরের জেল, ৪০ লাখ টাকা জরিমানা এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজের অনুষদ সদস্য এবং রিসোর্স পারসনরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কাজী মো. ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এপেক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ নানামুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ প্রশিক্ষণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ ১০ দিনের এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে। পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কেআর/ইএ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক গৃহবধূকে (৪০) শ্লীলতাহানির পর ইটের আঘাতে আঙুল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসময় তাকে মারধরও করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী তিন সন্তানের জননী। তার স্বামী একজন দিনমজুর। অভিযুক্ত ছেলে লাল চাঁন (৪৩) উপজেলার পানুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি সম্পর্কে শেফালী আক্তারের দেবর। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে পানুর চরপাড়া এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান ওই গৃহবধূ। সেখানে লাল চাঁনও উপস্থিত ছিলেন। এসময় পারিবারিক বিষয় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লাল চাঁন শেফালীর চুলের মুঠি ধরে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মারেন। মারধরের একপর্যায়ে লাল চাঁন একটি ইট দিয়ে শেফালীর মাথায় আঘাত করেন। দ্বিতীয়বার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল গুরুতর জখম হয়। এসময় তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে অটোরিকশায় করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ভাঙা আঙুলের প্লাস্টার করার পাশাপাশি অন্যান্য আঘাতেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থা জটিল হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। ভুক্তভোগী বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন ছুটে না এলে লাল চাঁন আমাকে মেরেই ফেলত। চিকিৎসক আমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছিল। কিন্তু টাকার অভাবে যেতে পারিনি।’ আরও পড়ুন মাওয়ায় খাবারের হোটেলে বেদে সম্প্রদায়ের হামলা তিনি বলেন, ‘এর আগেও লাল চাঁন আমাকে মারধর করে বাম হাত ভেঙে দিয়েছিল। সে প্রভাবশালী আর আমরা দিনমজুর। তাই এভাবে মারধর করলেও বিচার পাই না।’ এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লাল চাঁনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। অভিযোগের কপি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুনের বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম
রাজধানী ঢাকার আদাবরে কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপের হাল ধরা শাহীন এবং তার দুই সহযোগীকে আটক করেছে র্যাব। তারা হলেন ফরিদ ও শিকদার লিটন। র্যাব বলছে, শাহীন গ্রুপটি পুনর্গঠনের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম সক্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুরের বসিলায় র্যাব-২ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কবজিকাটা আনোয়ার গ্রুপের প্রধান এবং প্রতিষ্ঠাতা মো. আনোয়ারকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র্যাব-২। পরে বিভিন্ন সময়ে এর সদস্যরা নিয়মিতভাবে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হতে থাকলে গ্রুপটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এই সুযোগে শাহীন কার্যক্রম পুনর্গঠনের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ ও গ্রুপ সক্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন। আরও পড়ুন মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না: ডিএমপি কমিশনার নয়মুল হাসান জানান, গত ১১ এপ্রিল আদাবরে পাঠাও ডেলিভারিম্যানের কাছ থেকে সর্বস্ব ছিনতাইকালে শাহীন নেতৃত্ব দেন বলে স্পষ্ট ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। এছাড়া, সম্প্রতি চাঁদা না পেয়ে এক অটোচালককে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান শাহীন। পরে র্যাব-২ শাহীন ও তার সহযোগীদের গতিবিধিতে নজরদারি বৃদ্ধি করে। তিনি বলেন, রোববার ভোররাতে আদাবরের শেখের টেক এলাকায় একটি বাড়িতে শাহীন ও তার সহযোগীরা অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। পরে র্যাব-২ এর একটি দল বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে থানা লুটের ১৮ রাউন্ড ৯এমএম পিস্তলের ও ৯ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের তাজা গুলি, একটি ওয়ান শুটারগান, একটি ধারালো অস্ত্র, তিন হাজার ৩৩৫টি ইয়াবা, পাঁচ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ তিনজনকে আটক করে। অভিযুক্তদের নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান র্যাবের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জব্দ আলামত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। কেআর/একিউএফ
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অবসরপ্রাপ্ত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ওরফে আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলাটিতে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও বাদী জাকির হোসেনসহ ১১ সাক্ষীর সবাই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি.এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলার সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে জাকির হোসেনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম তাকে জেরা করেন। জেরা শেষ হওয়ায় মামলাটি এখন আত্মপক্ষ শুনানির পর্যায়ে যাচ্ছে। সিয়ামের আত্মপক্ষ শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন আদালতে সিয়ামের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী রেজাউল করিম। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী এর বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে সিয়ামের ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি তদন্তের পর একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তদন্তে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত ১৭ জুন সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন একই আদালত। ওইদিনই মামলাটির বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ গঠনের পর ধারাবাহিকভাবে সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। রোববার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনের জবানবন্দি ও জেরা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটির ১১ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এমডিএএ/এমকেআর
গাজীপুরে একটি মাদ্রাসায় দুই শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পেটানোর পর গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা পৃথক মামলায় গত শুক্রবার রাতে ও গতকাল শনিবার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।এর আগে গত বুধবার নগরের গাছা থানার সাক্রাউরী এলাকার ‘আল-মাদ্রাসাতু দারুদ তাকওয়া’ নামের ওই মাদ্রাসায় ১২ ও ১৩ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে।এক শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি জেনে শুক্রবার মাদ্রাসায় এলে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। পরে এলাকাবাসী এক শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দেন। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার পর আরও দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার তিনজন হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক শোয়াইব আহাম্মদ (২৬), মো. হাবিবুর রহমান (২৬) ও মো. শাহিন (১৯)। তাঁদের মধ্যে শোয়াইব ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার চর মুহুরী এলাকার, হাবিবুর ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বরমা গ্রামের এবং শাহিন শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার ভাইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একজনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলীতে এবং অন্যজনের বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে।পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে মাদ্রাসার মাঠে খেলার সময় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর পায়জামা খুলে যায়। এ নিয়ে ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। বিষয়টি শিক্ষক শোয়াইব আহাম্মদের নজরে এলে তিনি প্রথমে এক শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক পেটান। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে তিনি লোহার গরম খুন্তি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর নিতম্বে ছ্যাঁকা দেন এবং ঘটনাটি কাউকে না জানাতে হুমকি দেন।অন্যদিকে ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন শোয়াইব। পরে তার হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে বিবস্ত্র করে একইভাবে পেটান এবং তলপেটে খুন্তির ছ্যাঁকা দেন।এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার রাতে সাক্রাউরীর মুন্সি মার্কেট এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক শোয়াইব আহাম্মদকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে রাতেই এক শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে ওই শিক্ষককে আসামি করে গাছা থানায় একটি মামলা করেন।মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা প্রথম আলোকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে ছেলে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফেরার পর তিনি লক্ষ করেন, সে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা বসতে পারছে না। জিজ্ঞাসা করলে ভয়ে ছেলে প্রথমে ফোড়া হয়েছে বলে জানায়। পরদিন আবারও জিজ্ঞাসা করলে ছেলে কাঁদতে কাঁদতে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর ছেলেকে নিয়ে শুক্রবার মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং হুমকি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন। পরে তিনি ছেলেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়টি জানার পর অন্য শিক্ষার্থীর অভিভাবক পরদিন শনিবার আরেকটি মামলা করেন। মামলায় শোয়াইব আহাম্মদের পাশাপাশি মাদ্রাসার আরও দুই শিক্ষককে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ ওই দুজনকেও গ্রেপ্তার করে।এক শিক্ষার্থীর বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেন ওই শিক্ষক। হাত-পা বেঁধে বিবস্ত্র করে তাকে পেটানো হয়। গরম লোহার খুন্তি দিয়ে ছেলের তলপেটে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। শোয়াইবের সঙ্গে হাবিবুর ও শাহিনও খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করেন।গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, ওই মাদ্রাসার দুটি ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান।
সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীন ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের ঢেউটিন ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পিপিআর লঙ্ঘনের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বলা হয়েছে বিএমটিএফ (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি) নিজেরা উৎপাদিত ঢেউটিন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে সরবরাহ করবে। এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কার্যাদেশ নিয়েছে বিএমটিএফ। কিন্তু আদতে তা তারা উৎপাদন করেনি। টিকে গ্রুপ থেকে ঢেউটিন কিনে এনে তা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে সরবরাহ করেছে। এতে পিপিআর লঙ্ঘন করা হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির কারণে দর প্রতিযোগিতার কোনো সুযোগ ছিল না। টেউটিনের দাম ধরা হয়েছে বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি সরকারের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ভ্যাটও ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা এসব অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেটে ঢেউটিন খাতে বরাদ্দ ছিল ৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্য থেকে সর্বশেষ ৩৪ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার ৮শ’ টাকার ঢেউটিন কেনা হয়। পাঁচটি প্যাকেজের টেন্ডার আইডি-তে ঢেউটিনগুলো কেনা হয়। পিপিআর অনুযায়ী, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিজেরা পণ্য উৎপাদন করে সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ওই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য কেনা যাবে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেড নিজেরা ঢেউটিন উৎপাদন করে এবং নিজেদের উৎপাদিত ঢেউটিন তারা সরবরাহ করবে- এ অঙ্গীকারনামায় প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে। ঢেউটিনগুলোর ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮শ’ টাকা করে। বাজারদরের চেয়ে এই মূল্য অনেক বেশি, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট। বাজারে সর্বোচ্চ মানের ঢেউটিন প্রতি মেট্রিক টন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি। ত্রাণের ঢেউটিন কখনোই ভালো মানের কেনা হয় না, এটা সবারই জানা কথা। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সরবরাহ করা এই ঢেউটিনগুলোও সরেজমিন পরিদর্শনে নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তেজগাঁও সিএসডিস্থ কেন্দ্রীয় ত্রাণ গুদাম পরিদর্শনে আরও ভয়াবহ রকমের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। তা হলো, প্রত্যেকটি ঢেউটিনের গায়ে ‘টিকে’ কোম্পানির সিল রয়েছে। অর্থাৎ ‘টিকে’ কোম্পানির উৎপাদিত ঢেউটিন এগুলো। বিএমটিএফ নিজেরা উৎপাদন করেনি বা নিজেদের উৎপাদিত ঢেউটিন সরবরাহ করেনি। অবাক ব্যাপার হলো, ঢেউটিন সরবরাহের কাজে এ রকমের জাল-জালিয়াতি তো করা হয়েছেই, এমনকি নিজেদের উৎপাদিত পণ্য- একথা দাবি করে সরকারের ভ্যাটও ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে সরকারকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার কথা। কিন্তু বিএমটিএফ (বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি) নিজেদের উৎপাদিত পণ্য- দাবি করে ১০ শতাংশ ছাড় পেয়েছে। পরিশোধ করেছে মাত্র ৫ শতাংশ ভ্যাট। মোট ৩৪ কোটি ৯ লাখ ২৬ হাজার ৮শ’ টাকার ভ্যাট ১০ শতাংশের হারে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিএমটিএফ’র এমন কর্মকাণ্ডকে অনৈতিক ও বড় ধরনের অনিয়ম বলে আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছেন। বিএমটিএফ যে নিজেদের উৎপাদিত ঢেউটিন সরবরাহ করছে না, একথা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের শীর্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সবাই জানেন। জেনে বুঝেই তারা এমন অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন।
নওগাঁ থেকে (স্টাফ রিপোর্টার) মোঃ আকতার হোসেন। নওগাঁর পোরশা নিতপুর সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২ চোরাকারবারীকে আটক করেছে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)। মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২৬ বিকেলে নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের দিয়াড়াপাড়া নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন উপজেলার নিতপুর মাস্টার পাড়া গ্রামের মোঃ কালুর ছেলে মোঃ নয়ন (৪০) এবং একই গ্রামের মোঃ হানিফের ছেলে মোঃ আনারুল (৩২)। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক ৪:৫০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিতপুর বিওপির টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মোহাম্মাদ আলীর নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দিয়ারাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ৭ হাজার ৪৫০ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ২ চোরাকারবারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আরিফুল ইসলাম মাসুম (পিএসসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পোরশা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ আসামীদের পোরশা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তরের প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধ সীমান্ত পারাপার, গবাদিপশু ও মাদক পাচারসহ যেকোনো ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবির এই সর্বাত্মক ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে ছাগলকাণ্ডের মতিউরের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য উঠে আসে। তবে অনুসন্ধানে মতিউরের চেয়েও সহিদুলের বেশি সম্পত্তির প্রমাণ মিলেছে। সহিদুলের শুধু ফ্ল্যাটের দামই আছে ১৬২ কোটি টাকা। প্লট, ফ্ল্যাট, দোকান ও শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ যোগ করলে মোট সম্পদের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকারও বেশি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চাকরি করে ঢাকায় ৫৩ ফ্ল্যাটসহ ৪০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়েছেন তিনি। রয়েছে একাধিক আলিশান বাড়ি, অন্তত ২০টি প্লট ও দোকানপাট। সহিদুল ইসলাম নামের এনবিআরের ১৩তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বহুল আলোচিত ‘ছাগলকাণ্ডের’ মতিউর রহমানের সহকর্মী। বসুন্ধরা আবাসিকে শতকোটির ভবন রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরার জি ব্লকে ১০তলা একটি ভবন নির্মাণ করেছে সহিদুল দম্পতি। ভবনের নাম ‘শেল কবিতা’। বর্তমানে সেখানেই বসবাস করছেন তারা। প্রতি ফ্লোরে আড়াই হাজার বর্গফুটের দুটি করে ফ্ল্যাট। ২০ ফ্ল্যাটের পুরো ভবনটিই তাদের। একাধিক ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই এলাকায় প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম অন্তত পাঁচ কোটি টাকা। সেই হিসাবে শুধু ফ্ল্যাটের দামই কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা। জমিসহ পুরো ভবনের বাজারমূল্য আরও অনেক বেশি। মিরপুর, বাংলামোটর, ইস্কাটনে ৩৩ ফ্ল্যাট বসুন্ধরার বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সহিদুলের নিজের, স্ত্রীর ও আত্মীয়দের নামে আরও ৩৩টি ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। বাংলামোটর এলাকার স্বজন টাওয়ারে সহিদুলের নিজ নামে দুটি ফ্ল্যাট আছে। বাজারমূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। এ ছাড়া মিরপুর রূপনগর আরামবাগ আবাসিক এলাকায় স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে একটি ছয়তলা ভবন রয়েছে। সেখানে ১০টি ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গার্ডেনিয়া টাওয়ারে ফাহমিদার নামে চার কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট আছে। এই ভবনে বেশিরভাগ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা বসবাস করেন। মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ৭০ কোটির ভবন ও জমি মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং দ্বিতীয় প্রজেক্টে স্ত্রীর নামে আরেকটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছিলেন সহিদুল। ২০ ফ্ল্যাটের ওই ভবনের বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি। পরে ভবনটি চার শ্যালকের নামে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে কাগজপত্রে ভবনের মালিক হিসেবে রয়েছেন কাজী মুক্তাদীর ইবনু মিনান, কাজী মুতামিদ ইবনে মিনান, কাজী মুত্তাকী ইবনে মিনান ও কাজী মুস্তাকীম ইবনে মিনান। সব মিলিয়ে সহিদুল, স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি ও চার শ্যালকের নামে থাকা ৫৩টি ফ্ল্যাট এবং দুই দোকানের বাজারমূল্য অন্তত ১৬২ কোটি টাকা। ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ছয়তলা বাড়ি এ ছাড়া ইস্টার্ন হাউজিংয়ের আগুন্দা ২১ মৌজায় (খতিয়ান ১৪৩ ও ১৪৪) ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশের দুটি প্লটে প্লাস্টিক কারখানা ভাড়া দেওয়া। মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। মিরপুর বেড়িবাঁধের গড়ানচটবাড়ি মৌজায় (খতিয়ান ২৬৬৭) ৩৩ শতাংশ জমির দাম অন্তত ৩০ কোটি টাকা। নিউমার্কেট ও আজিজে দোকান রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ১২৭ নম্বর দোকানটি সহিদুলের নামে। এটির বাজারমূল্য আনুমানিক দুই কোটি টাকা। নিউমার্কেটের ২৬/২ নম্বর দোকানটিও তার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, এটির দাম দুই কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ, দুটি দোকানের মোট মূল্য চার কোটি টাকার ওপরে। মধুমতি মডেল টাউনে ১০ কোটির বাংলোবাড়ি শুধু রাজধানীতে নয়, ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারেও বিপুল সম্পদ গড়েছেন সহিদুল। মধুমতি মডেল টাউনে তার নামে একটি আলিশান বাংলোবাড়ি রয়েছে। বাড়িটির নাম ‘সেঁজুতি’। ৩৫ কাঠা জমির ওপর গড়ে ওঠা লাল ইটের এই ভবন নিয়ে স্থানীয়দের কৌতূহলের শেষ নেই। মধুমতি মডেল টাউনে ৩৫ কাঠার ওপর বাংলো বাড়ি। এলাকাবাসী জানান, মাঝেমাঝে কয়েকটি গাড়ি এসে থামে। তবে ভবনের কেয়ারটেকার বা অন্য কেউ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন না। এলাকার বাজারদর অনুযায়ী, এই বাংলোবাড়ির শুধু জমির দামই আছে অন্তত ১০ কোটি টাকা। মধুমতিতে আরও ৯০ কোটির জমি গাবতলী থেকে আমিনবাজার পেরিয়ে দুই কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের পাশে ৫৫০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে মধুমতি মডেল টাউন। সবুজে ঘেরা এই প্রকল্পে সমাজের নানা শ্রেণির মানুষের বিনিয়োগ রয়েছে। বেশিরভাগই বাংলোবাড়ি। কোনো প্লট ভাড়া দেওয়া বাস-কাভার্ডভ্যানের ওয়ার্কশপ হিসেবে। রয়েছে গরু-ছাগলের একাধিক খামার। এই প্রকল্পে সহিদুলের মালিকানায় রয়েছে পাঁচটি প্লট। প্রকল্পের প্রধান ফটক পেরিয়ে বাঁ-দিকে প্রথম সড়কের দ্বিতীয় প্লটটি ২০ কাঠার। বর্তমানে গ্যারেজ হিসেবে ভাড়া দেওয়া। মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। কয়েকশ গজ সামনে ব্রিজ লাগোয়া ১২০ কাঠার প্লটে রয়েছে গরু, ছাগল ও ভেড়ার খামার। মূল্য ৩০ কোটি টাকা। ওই প্লটের পাশে ৬০ কাঠার আরেকটি প্লট এক্সকাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতির গ্যারেজ হিসেবে ভাড়া দেওয়া। মূল্য ১৫ কোটি টাকা। ব্রিজ পেরিয়ে ১০ কাঠার একটি প্লটের দাম তিন কোটি টাকার বেশি। প্রকল্পের শেষ প্রান্তে ডানদিকে ১১০ কাঠা জমির দাম কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা। পাঁচটি প্লটে মোট জমি ৩২০ কাঠা। একসঙ্গে বাজারমূল্য অন্তত ৯০ কোটি টাকা। পূর্বাচলে ৬২ কোটির ছয় প্লট পূর্বাচলে সহিদুল দম্পতির ছয়টি জমির কাগজপত্র পাওয়া গেছে। ডুমনি মৌজায় পিংক সিটিতে (খতিয়ান ১২০৪৬) ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। পূর্বাচল পাঁচ নম্বর সেক্টরের পিতলগঞ্জ মৌজায় (খতিয়ান ৪৪৬১) সাড়ে ১৬ শতাংশ জমির দাম ১৫ কোটি টাকার বেশি। দিঘলিয়া মৌজায় (খতিয়ান ২৬৩৩) ৩৩ শতাংশ জমির মূল্য অন্তত দুই কোটি টাকা। বাড়িয়াছনি মৌজায় (খতিয়ান ৫২৭২) সাত শতাংশ জমির মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি। স্ত্রী ফাহমিদার নামে পূর্বাচলের মুশুরীগ্রাম মৌজায় (খতিয়ান ৪৩৪৩) ১৭ শতাংশ জমির মূল্য দুই কোটি টাকার বেশি। কামতা মৌজায় (খতিয়ান ২১৫০) সাত শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। গাজীপুরের কালিগঞ্জে পাড়াবর্থা-৮০ মৌজায় (খতিয়ান ২৭) সহিদুলের নামে ১৫ শতাংশ জমির কাগজ হাতে এসেছে। এই জমির দাম কোটি টাকারও বেশি। শেয়ারবাজারে ৮০ কোটি স্থাবর সম্পদের বাইরে অস্থাবর সম্পদেও সহিদুল দম্পতির বিনিয়োগ কম নয়। ফাহমিদা রাব্বির নামে শেয়ারবাজারে একটি বিও অ্যাকাউন্টে (শেষ পাঁচ সংখ্যা ৬৯৭৫৪) প্রায় ৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। সোনালী ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে (শেষ চার সংখ্যা ০৭২৯) তার নামে নগদ ৫৫ লাখ টাকা জমা আছে বলেও নিশ্চিত হয়েছে। বাবার টাকায় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্বামী-স্ত্রীর বিপুল সম্পদের পাশাপাশি ছেলে হাসিন ফারহানের নামেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করে দিয়েছেন সহিদুল। বসুন্ধরার বিলাসবহুল জেসিএক্স বিজনেস টাওয়ারে অফিস খুলেছেন ফারহান। ভেলোসিটি গ্রুপের অধীনে ভেলোসিটি আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইন্টেরিয়র এবং ভেলোসিটি মার্কেটিং এজেন্সিসহ একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। এই অফিসের জন্য ফারহানকে সহিদুল অন্তত পাঁচ কোটি টাকা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে। চাকরি জীবনে আয় কত? এমন পদে সরকারি চাকরি করে কত টাকায় আয় করা সম্ভব তা জানতে সহিদুলের সহকর্মী ছিলেন কিংবা কাস্টমস ক্যাডারের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা এমন কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করে। তাদের বর্ণনায়, চাকরি জীবনে সর্বসাকুল্যে বেতন বাবদ পান দেড় কোটি টাকার মতো। এর বাইরে স্কলারশিপ কিংবা বিদেশ সফর বাবদ আরো ১ কোটি টাকা। আর অবসরকালীন দেড় কোটি টাকা বা এরচেয়ে কিছু কমবেশি। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক খরচ বাদ দিয়ে কোন ভাবে আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার বেশি সঞ্চয় করা সম্ভব না। কিন্তু বাস্তবে সহিদুল ইসলাম দম্পতির যে সম্পত্তি তা এই হিসাবের অন্তত ১০০গুণ বেশি। কর্মজীবনে সহিদুল ইসলাম এনবিআরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুল্ক ও আবগারি বিভাগের সদস্য, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্য, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকার (পশ্চিম) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারের মতো দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এনবিআরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব পদে থাকাকালে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। একাধিক সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশনের তারিখেও এই তথ্যের সত্যতা মেলে। সহিদুলের বেশিরভাগ সম্পত্তি ২০১০ সালের পর অর্জিত। অথচ এমন একজন কর্মকর্তার পুরো চাকরিজীবনের আয় কত হতে পারে? একই গ্রেডের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য সুবিধাসহ রাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা পাওয়া যায়। বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে সারা চাকরিজীবনের মোট আয় প্রায় তিন কোটি টাকা। নিজের ও পারিবারিক খরচ বাদ দিলে সর্বোচ্চ সঞ্চয়ের পরিমাণ হতে পারে কমবেশি তিন কোটি টাকা। কিন্তু সহিদুলের ৪০০ কোটি টাকার সম্পদ কোথা থেকে এলো, সেই প্রশ্নের জবাব মেলে না। কথা বলতে রাজি নন সহিদুল দম্পতি আয়ের তুলনায় অনেক বেশি সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানতে একাধিকবার সহিদুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনটি মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও ধরেননি তিনি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলে সিন করেও উত্তর দেননি। পরে স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বি ফোন ধরেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন করা মাত্রই তিনি ফোন কেটে দেন। বসুন্ধরার জি ব্লকে শেল কবিতা ভবনে সরাসরি গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেননি। অনুসন্ধানের তাগিদ টিআইবির ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই সম্পত্তির উৎস কী, সে বিষয়ে রাষ্ট্রের অনুসন্ধান করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্র যদি নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগ-৫-এর একটি সরকারি টেন্ডার মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টেন্ডারের শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার সনদ দাখিলের পরও একটি যৌথ উদ্যোগ (JV) প্রতিষ্ঠানকে Non-Responsive ঘোষণা করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে Notification of Award (NOA) জারি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। nationalvoicenewsbangla.com’র হাতে আসা লিগ্যাল নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, Baset Prokousholi Limited–Versatile Technology Ltd JV-এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাজ্জাদ হোসেন পলাশ গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে নোটিশ পাঠান। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, টেন্ডার মূল্যায়নের সময় প্রতিষ্ঠানটির জমা দেওয়া Similar Nature Work Experience, Completion Certificate এবং Scope of Work যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। অথচ টেন্ডার নথিতে একই প্রকল্পের নাম নয়, বরং Similar Nature, Complexity and Construction Technology-এর কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পূর্বে একটি অডিটোরিয়াম প্রকল্পে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। সেখানে ইন্টারনাল ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস, স্টেজ লাইটিং, সাউন্ড সিস্টেম, এলইডি ডিসপ্লে, এয়ার কন্ডিশনিং, অ্যাকোস্টিক ওয়ার্কসসহ একাধিক জটিল প্রযুক্তিগত কাজ সম্পন্ন করা হলেও সেই অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়নের সময় গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। আইনগত নোটিশে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের মূল্যায়ন সরকারি ক্রয়বিধির স্বচ্ছতা, সমতা ও প্রতিযোগিতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে Non-Responsive ঘোষণার কারণ লিখিতভাবে জানানো, অভিজ্ঞতার সনদ পুনর্মূল্যায়ন এবং NOA-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (BPPA) Review Panel এবং প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া হবে। বক্তব্য চেয়ে চিঠি, তবুও নীরবতা:সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে nationalvoicenewsbangla.com র পক্ষ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী তামজিদ হোসেন-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত বক্তব্য চাওয়া হয়। অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা বা প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপনের জন্য ০২ জুলাই ২০২৬, বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তিনি কোনো লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দেননি। এমনকি অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেননি। উঠছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন:সরকারি টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট নথিতে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির বিষয় নয়; বরং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। এ কারণে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।nationalvoicenewsbangla.com বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। গণপূর্ত অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী বা অন্য কোনো পক্ষ পরবর্তীতে এ বিষয়ে বক্তব্য দিলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন