খেলাধুলা

শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের
শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের

নিজের টেনিস কেরিয়ারের সম্ভবত সেরা বছর কাটালেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। ফরাসি ওপেনের পর এবার ইউএস ওপেনও জিতলেন তিনি। টুর্নামেন্ট খেলতে নামতে পারেননি ইয়ানিক সিনার। চোট সারিয়ে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়েন কার্লোস আলকারাজ। প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যান নোভাক জকোভিচ। সেই সুযোগ কাজে লাগালেন জভেরেভ। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটনকে চার সেটের লড়াইয়ে (৬-৩, ৭-৬, ৫-৭, ৬-২) হারালেন জার্মান তারকা। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন জভেরেভ। চলতি বছর ফরাসি ওপেন জিতেছেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেছেন। বছরের শেষটা করলেন ইউএস ওপেন জিতে। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন এই জার্মান তারকা। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে শুধু শেলটন নন, ২৪ হাজার দর্শকের সিংহভাগের বিরুদ্ধে খেলতে হল জভেরেভকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘরের ছেলে শেলটনকে সমর্থন করে গেলেন দর্শকেরা। তাতে লাভ হলো না। একমাত্র তৃতীয় সেটের শেষ দিক ছাড়া শেলটনের খেলায় সেই ঝাঁঝ দেখা গেল না। প্রথম গেমেই শেলটনের সার্ভিস ভাঙেন জভেরেভ। সেই থেকে শুরু। একবার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভাঙার পর সেই সেটে আর তাকে থামানো যায়নি। আরও এক বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সহজেই প্রথম সেট নিজের নামে করেন জভেরেভ। শেলটন বাঁ-হাতি। সাধারণত বাঁ-হাতিদের সামনে ডানহাতিরা একটু হলেও সমস্যায় পড়েন। কিন্তু শেলটন প্রথমবার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনাল খেলছিলেন। ফলে কিছুটা হলেও চাপে ছিলেন। সেখানেই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন জভেরেভ। বেশ কয়েকটি লম্বা র‌্যালি হল। শেলটন অপেক্ষা করছিলেন, জভেরেভ কখন ভুল করেন। কিন্তু খুব একটা ভুল করলেন না জার্মান তারকা। দ্বিতীয় সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজের নিজের সার্ভিস ধরে রাখলেন। ফলে ফয়সালা হল টাইব্রেকারে। সেখানে শেলটনকে উড়িয়ে দিলেন জভেরেভ। তৃতীয় সেটও টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু দ্বাদশ গেমে জভেরেভের সার্ভিস ভাঙেন শেলটন। ওই একবারই জভেরেভের সার্ভিস খারাপ দেখাল। জোড়া ডাবল ফল্টের খেসারত দিতে হল তাকে। তৃতীয় সেটে ফেরার পর মনে হচ্ছিল, শেলটন খেলা পঞ্চম সেট পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু চতুর্থ সেটে আবার নিজের জাত চেনালেন জভেরেভ। দু’বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সেট ও সেই সঙ্গে ম্যাচ নিজের নামে করলেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে যাওয়ার পর ডমিনিক টিয়েমের কাছে শেষ তিন সেটে হেরে ম্যাচ হারতে হয়েছিল জভেরেভকে। এবার আর সেটা হতে দিলেন না তিনি। ১৯৮৯ সালে বরিস বেকারের পর দ্বিতীয় জার্মান তারকা হিসাবে এই ট্রফি তুললেন জভেরেভ। মাত্র চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন জভেরেভ। খেলার মাঝে দেখা যাচ্ছিল, বারবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করছেন। কখনও চকলেট খাচ্ছেন। কখনও কোনও পানীয়। এত বছর ধরে এই রোগ সামলে পেশাদার টেনিসে সফল হওয়ার কৃতিত্ব নিজের মাকে দিয়েছেন তিনি। খেলা শেষে জভেরেভ বলেন, ‘চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসক বলেছিল, পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা আমার কম। কিন্তু আমার পাশে আমার মা ছিল। আমাকে সব সময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি যা হয়েছি, তার কৃতিত্ব পুরোটাই মায়ের।’ খেলা শেষে শেলটনের প্রেমিকা ট্রিনিটি রডম্যানেরও মন জয় করেছেন জভেরেভ। পেশাদার ফুটবলার ট্রিনিটি নিজের ম্যাচ ছেড়ে শেলটনের ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলেন। খেলা শেষে শেলটনের কথা শুনে কেঁদে ফেলেন তিনি। তা দেখে জভেরেভ বলেন, ‘ট্রিনিটি, আমার মনে হয় তোমার আজ খেলা ছিল। তাই না? সেই ম্যাচ ছেড়ে তুমি আমাদের খেলা দেখতে এসেছ। তুমি আমার কাছে পয়া’- এ কথা শুনে ট্রিনিটি হেসে ফেলেন। আইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ
প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচেই ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই ৭ গোল হজম করেছিল মারিয়া মান্দারা। কোনোভাবেই উত্তর কোরিয়ার সামনে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ নারী দল এর আগে কখনো এতগুলো গোল হজম করে হারেনি। জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশকে দিশেহারা করে তোলে উত্তর কোরিয়া। প্রথমার্ধেই একে-একে বাংলাদেশের জালে ৭ বার বল জড়ায়। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার কিছুটা কমে আসলেও আরও ৩ গোল যোগ করে ব্যবধানকে উন্নীত করে ১০-০ ব্যবধানে। প্রতিপক্ষের জন রং, চাই উন ও কিম কিয়ং করেছেন জোড়া গোল। বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার গোল উৎসবের শুরুটা হয় ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই। শুরু করেন জন রিয়ং জং। এরপর ১০ম মিনিটেও তিনি নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন। তবে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোল করেছিলেন রি সং। তার গোলটি বাতিল করে দেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)। ১২ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন হোয়াং ইউ। ৬ মিনিট পর ১৮ মিনিটে চতুর্থ গোলটি করেন চায়ে উন ইয়ং। ৩৫ মিনিটে তিনিও সম্পন্ন করেন নিজের জোড়া গোল। দলের স্কোরলাইন হয় ৫-০। ৪০ ও ৪৩ মিনিটে জোড়া গোল করে প্রথমার্ধেই ৭-০ ব্যবধান করেন কিম কিয়ং ইয়ং। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোল উৎসব শুরু করে উত্তর কোরিয়া। ৫১তম মিনিটে দলের ৮ম গোল করেন রি সং আ। ৬০ মিনিটে ৯ম গোল করেন জং কুম। ৬০-৯০, এই ৩০ মিনিটে উত্তর কোরিয়াকে বেশ ভালোভাবেই ঠেকিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এই আধাঘন্টায় কোনো গোল হতে দেননি তারা। তবে, ৯০তম মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে ১০ম গোল করেন হান জিন হং। আরআই/আইএন/আইএইচএস

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
একাদশে নেই ঋতুপর্ণা, ১২ মিনিটে ৩ গোল হজম বাংলাদেশের
একাদশে নেই ঋতুপর্ণা, ১২ মিনিটে ৩ গোল হজম বাংলাদেশের

এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের শুরুর একাদশে নেই দলের অন্যতম প্রধান তারকা ঋতুপর্ণা চাকমা। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষার। এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কোচ পিটার বাটলার একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন। অধিনায়ক হিসেবে আছেন মারিয়া মান্দা। বাংলাদেশের গোলপোস্ট সামলাবেন মিলি আক্তার। রক্ষণভাগে রয়েছেন আফঈদা খন্দকার, আইরিন খাতুন, সুরভী আক্তার আরফিন ও অর্পিতা বিশ্বাস। মাঝমাঠে মারিয়া মান্দার সঙ্গে আছেন কোহাতি কিসকু, মোমিতা খাতুন ও আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। আক্রমণভাগে দায়িত্ব পেয়েছেন তহুরা খাতুন ও সুলতানা। এরইমধ্যে মাঠে নেমে ১৬ মিনিটে ৩ গোল হজম করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশ মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, আইরিন খাতুন, সুরভী আক্তার আরফিন, অর্পিতা বিশ্বাস, কোহাতি কিসকু, মোমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, সুলতানা। আরআই/আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করছি: আমিনুল হক
পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করছি: আমিনুল হক

খেলাধুলাকে শুধু অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক আসরে পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, আমরা শুধু এশিয়ান গেমস কিংবা অলিম্পিকের মতো সর্বোচ্চ আসরে অংশগ্রহণ করতে চাই না। আমরা চাই, পদক জেতার জন্য অংশগ্রহণ করতে। পদকের জন্য লড়াই করতে পারি সেই চিন্তা নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ক্রীড়া উৎসব-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার কোনো বয়স নেই। নিজেকে সুস্থ রাখা ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য হাঁটাচলা, দৌড়ানো কিংবা খেলাধুলার চর্চা করা প্রয়োজন। খেলাধুলার এই চর্চার প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও পড়ে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল মুক্তিযুদ্ধের সময় খেলাধুলার মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব এই চিন্তা থেকেই বর্তমান সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘শূন্য থেকে’ কাজ শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। ৫০০ ক্রীড়াবিদ পাবেন ক্রীড়া ভাতা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, বর্তমানে প্রায় ৩০০ ক্রীড়াবিদ এই ভাতা পাচ্ছেন। চলতি মাসের শেষ নাগাদ আরও প্রায় ২০০ জনকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু খেলোয়াড় নয়, যোগ্য রেফারি ও কোচদেরও যাচাই-বাছাই করে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন যেভাবে দেওয়া হয়, একইভাবে ক্রীড়া ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। এক মাস ক্রীড়া ভাতা বন্ধ থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি নতুন কর্মসূচি হওয়ায় সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। ভাতা চালু করার জন্য এরইমধ্যে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা আবার চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বকেয়া ভাতাসহ পরবর্তী সব ভাতা একসঙ্গে ক্রীড়াবিদদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রীড়া ভাতা দিতে সরকার প্রতি বছর ৬০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ দিয়ে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত হবে। বাবা-মায়েরাও সন্তানকে শুধু ডাক্তার বা প্রকৌশলী বানানোর চিন্তা না করে ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী হবেন। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে’ ১৫ লাখ নিবন্ধন তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়াবিদ তুলে আনতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, এর ধারণাটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এসেছে। তিনি বলেন, প্রথম আসরে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। উপজেলা থেকে জেলা, বিভাগ হয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। গত ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে প্রথম আসর শেষ করেন। দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দল গঠন করে ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ্য ছিল ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ। সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হলে এই সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আমিনুল হক বলেন, ছেলে-মেয়ে ও কিশোর-কিশোরীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পরিবার, স্কুল ও সমাজে একটি বার্তা যাচ্ছে খেলাধুলাই দল-মত নির্বিশেষে একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। ৫০৩ উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার অবকাঠামো শক্তিশালী করতে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরইমধ্যে ২০১টি উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের কার্যক্রম অনুমোদন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় উপজেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। তার ভাষ্য, জেলা পর্যায়ের ক্রীড়া কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তুলে আনা সহজ হবে। বিকেএসপিতে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে জাতীয় পর্যায়ে ভালো করা ৩০৬ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) দুই মাসের প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ থেকে অসাধারণ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের বাছাই করা হবে। তাদের বিনামূল্যে সরকারি খরচে বিকেএসপিতে ভর্তি করানো হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার দায়িত্বও সরকার বহন করবে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ নামে পাঠ্যবই স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে ২০২৭ সালের শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি পাঠ্যপুস্তক সংযোজন করা হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বইটি লেখার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে এটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরে চতুর্থ শ্রেণিতে বইটি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আমিনুল হক বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ১০টি ইভেন্টকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই, তিন কিংবা পাঁচ বছর পর এসব উদ্যোগের সুফল পাওয়া শুরু হবে। বছরব্যাপী প্রশিক্ষণে গুরুত্ব এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে তারা জাপানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছেন। তিনি বলেন, এশিয়ান গেমসের পর ১৩ থেকে ১৪টি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে বছরব্যাপী ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের মধ্যে রাখা হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই তাদের প্রস্তুত করা হবে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, কোনো বিদেশি কোচকে এনে এক মাসের মধ্যে একটি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। একজন কোচ বা ক্রীড়াবিদকে সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা শুরু করেছি জিরো থেকে। বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এখান থেকে জাতীয় পর্যায়ে খেলবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নেবে। ফলাফল যা-ই হোক, আমরা থেমে থাকতে চাই না। আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আগামী পাঁচ বা ১০ বছর পর অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস কিংবা কমনওয়েলথ গেমসে শুধু অংশগ্রহণ নয়, পদকের জন্য লড়াই করতে পারে এমন ক্রীড়াবিদ তৈরিই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এমএএস/এসএনআর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন
সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন

মোহাম্মদ সালাহর গন্তব্য নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ ছিল না। কেউ ভেবেছিলেন সৌদি আরব, কেউ আবার আমেরিকা। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল মোহাম্মদ সালাহ নিজের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোর। নামটা অপরিচিত লাগছে? তুরস্কের লিগেও ক্লাবটা কিন্তু জনপ্রিয়তায় শীর্ষে নেই, এমনকি শীর্ষ তিনেও নেই। তবু সালাহকে তারা বরণ করে নিয়েছে জমকালো আয়োজনে। সালাহর আগমন ত্রাবজোনস্পোর সমর্থকদের কাছে যেন ছেলের বহুদিন পর ঘরে ফেরার গল্প।শুধু সালাহ নন, বেলজিয়ান তারকা রোমেলু লুকাকু দীর্ঘ ইউরোপিয়ান ক্যারিয়ার ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ফেনারবাচে। দুসান ভ্লাহোভিচও জুভেন্টাস ছেড়ে এই মৌসুমে যোগ দিয়েছেন বেসিকতাসে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পাঁচ লিগ ছেড়ে গালাতাসারাইতে আছেন ভিক্টর ওশিমেন। গত কয়েক মৌসুম ধরেই খেলোয়াড়দের বিমান ভিড়ছিল সৌদি আরব আর আমেরিকায়। সেই বিমান এবার গন্তব্য বদলে পৌঁছে গিয়েছে তুরস্কে। হঠাৎ এই রদবদলের কারণ কী?লুকাকুর জন্য মধ্যরাতে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিল হাজারো মানুষ।যত দিন যাচ্ছে, তুরস্কে ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এই মৌসুমেই ইউরোপের শীর্ষ লিগ ছেড়ে তুরস্কে পাড়ি দিয়েছেন ম্যাসন গ্রিনউড, নাথান আকে, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড, আলেকজান্ডার নুবেলের মতো তারকা। সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচের কথা তো বললামই। শুধু যে বয়সের ভারে নুয়ে পরা তারকারা যোগ দিচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। বরং তরুণ তারকারাও সৌদি-আমেরিকা ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন তুরস্ক? কিন্তু কেন?ইউরোপিয়ান ফুটবলের ছোঁয়াসৌদি থেকে আমেরিকা—টাকার ঝনঝনানির পেছনে ছুটতে গেলেই বের হয়ে যেতে হচ্ছে ইউরোপ থেকে। ইউরোপিয়ান ফুটবল ছেড়ে যখনই ভিন্ন মহাদেশে পাড়ি দিচ্ছেন ফুটবলাররা, একেবারেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাচ্ছেন। মেসি-রোনালদোর পাঁড় ভক্ত না হলে হয়তো কোনো দিন এমএলএস বা সৌদি লিগের ম্যাচ খুলেও দেখা হয়নি নিশ্চয়। তুর্কি লিগ কিন্তু তেমন নয়। এই লিগের খেলা নিয়মিত দেখা না হলেও তাদের নিয়মিতই দেখা যাবে ইউরোপের বড় মঞ্চে। চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগে প্রতি মৌসুমেই চমক দেখায় তুর্কি দলগুলো। এতে করে দর্শকদের চোখের আড়ালে যাওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই। সালাহর জন্য বিমানবন্দরে প্রস্তুত ছিল ব্যানার। রাত তখন দেড়টা।১৭ বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছে ফেনারবাচ। ফলে লুকাকু-আসেনসিওদের দেখা যাবে ইউরোপের সেরা মঞ্চে। ইউরোপিয়ান বলয়ে থাকায় বাকি দলগুলোও চাইলে নজর রাখতে পারবে খেলোয়াড়দের দিকে। ফলে ভবিষ্যৎ দলবদলের ক্ষেত্রেও একটা সুবিধা পাবেন খেলোয়াড়েরা।দর্শকদের উন্মাদনা:সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচের ছবিগুলো দেখেছ? এখনো কিন্তু ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়নি দর্শকদের সঙ্গে। তাঁরা মাত্র বিমানবন্দরে নেমেছেন দলের সঙ্গে যোগ দিতে। এর মধ্যেই দর্শকদের চিৎকারে কান পাতা দায়। দর্শকেরা বিমানবন্দরে হাজির হয়েছেন শুধু খেলোয়াড়কে বরণ করে নিতে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলোয়াড়দের হাতে জার্সি তুলে দেওয়ার দিনও এত দর্শক আসেন না। শীর্ষ তারকা ছাড়া দর্শকদের এমন উন্মাদনা দেখার সাক্ষী হন না কেউ। এমন সমর্থন পেতে কে না চায়?মোহাম্মদ সালাহকে বরণ করার জন্য বিমানবন্দর থেকে মাঠ পর্যন্ত ছিল দর্শকদের ঢল। এমনকি মাঠে তাঁকে নিয়ে আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন সালাহ নিজেও। ফোন বের করে দর্শকদের স্বাগত আয়োজন ভিডিও করেছেন নিজ হাতে। সালাহকে যেন ঘরের ছেলে হিসেবেই বরণ করে নিয়েছে তুরস্ক।সালাহকে স্বাগত জানাতে ত্রাবজোনস্পোরের বিশাল আয়োজন।এ তো গেল বরণ করার কথা। মাঠের উন্মাদনাতেই তুর্কি লিগ ছাড়িয়ে যায় শীর্ষ পাঁচ লিগকে। অন্যান্য লিগে যেমন দেখা যায়, বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ না হলে দর্শকদের আগ্রহও থাকে কম। কিন্তু তুর্কি লিগ তেমন নয়। প্রতিটি ম্যাচই যেন দর্শকদের কাছে একেকটি উৎসব। ফ্লেয়ার, ব্যানার নিয়ে হাজির হন মাঠে। নিজেদের খেলোয়াড়দের সমর্থন দিতে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই কারও। ফুটবলের প্রতি তাদের প্যাশন নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো সাহস নেই কারও।টাকার ঝনঝনানিএবার আসা যাক টাকার প্রশ্নে। সৌদি ও আমেরিকান লিগ টাকার বান্ডিল দেখিয়েই যেন বড় বড় খেলোয়াড়ের হাত করে নিচ্ছে। তুর্কি লিগ কিন্তু সেদিক দিয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই। হ্যাঁ, সৌদি আর আমেরিকার মতো টাকার বস্তা নিয়ে হাজির হতে পারেনি তারা। কিন্তু খেলোয়াড়দের চুক্তির ব্যাপারে তারা এমন কিছু পন্থার আশ্রয় নিয়েছে, যাতে করে খেলোয়াড়দেরই লাভ বেশি।মোহাম্মদ সালাহর কথাই ধরো। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বেতন তো পাবেনই। সঙ্গে তাঁর নামে যত জার্সি বিক্রি হবে, তাঁর অফিসিয়াল খেলনা থেকে শুরু করে যা কিছু বিক্রি হবে, সবকিছু থেকে একটা বড় অংশ পাবেন তিনি। ত্রাবজোনস্পোরের হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে সালাহর জার্সি বিক্রি করে তাঁর দেওয়া বেতনের বড় একটা অংশ উঠে গেছে তাদের। তাহলে বোঝো, বাকি খেলোয়াড়দের লাভের পরিমাণটা ঠিক কত?তুর্কি লিগের প্রতি তাই এই মৌসুমে খেলোয়াড়দের আগ্রহটাও তাই দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর বড় বড় খেলোয়াড়ের দেখাদেখি স্পনসর, দর্শকেরাও লুফে নিচ্ছেন তুর্কি লিগের খেলা। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগার পাশাপাশি তুর্কি লিগেও আলাদা করে নজর রাখতে হতে পারে তোমাদের।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা
এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা

কঠিন, আরও কঠিন, একেবারে অগ্নিপরীক্ষার মতো কঠিন—বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এবারের এশিয়ান গেমসের গ্রুপটা ঠিক তেমনই। উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার—তিন প্রতিপক্ষই শক্তিতে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাই এই গ্রুপকে বাংলাদেশের জন্য ‘কঠিন’ বললে হয়তো কমই বলা হবে।বাস্তবতাটা বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারেরও অজানা নয়। কিন্তু কঠিন গ্রুপ মানেই যে আগেই হাল ছেড়ে দিতে হবে, তা মনে করেন না তিনি। তাঁর বার্তা বরং ভিন্ন—চ্যালেঞ্জটা উপভোগ করতে হবে, নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিতে হবে।জাপানের আইচি-নাগোয়াতে ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। তবে ফুটবল, ক্রিকেটসহ কয়েকটি খেলা শুরু হচ্ছে এর আগেই। আজ মেয়েদের ফুটবলে প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের সামনে উত্তর কোরিয়া। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা একটায়।শুরুতেই এমন প্রতিপক্ষ, যারা কাগজে–কলমের শক্তিতে তো বটেই, অভিজ্ঞতা ও সাফল্যেও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১ নম্বরে, বাংলাদেশ ১০৭। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৯৬ ধাপ। এর সঙ্গে যোগ করুন উত্তর কোরিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাফল্য—তাহলে কাজটা কতটা কঠিন, সেটি বুঝতে খুব বেশি হিসাব করতে হবে না।বাংলাদেশ নারী দলের বড় সাফল্যের তালিকায় এখন পর্যন্ত দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাই সবচেয়ে উজ্জ্বল। এশিয়ান গেমসেও এর আগে খেলেছে মাত্র একবারই, ২০২২ সালের গত আসরে। সেবার গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ ড্র করেই বিদায় নিতে হয়েছিল।অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে উঠেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। এশিয়ার সেরা হয়েছে তিনবার। অলিম্পিকেও অংশ নিয়েছে দুবার। আর এশিয়ান গেমসে ছয়বার সোনার লড়াইয়ে নেমে তিনবারই জিতেছে। এমন দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতবে—এমন প্রত্যাশা করলে বাস্তবতার চেয়ে কল্পনাকেই বেশি প্রশ্রয় দেওয়া হবে। তাই জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরে গিয়ে নিজেদের খেলাটাকে গুরুত্ব দিতে চাইছে বাংলাদেশ।ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে বলা বাটলারের কথাতেও তারই প্রতিফলন, ‘বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি আমরা। আমরা ভালো করেই জানি, এমন একটি গ্রুপে খেলছি, যেখানে এশিয়ান ফুটবলের শক্তিশালী দলগুলোর দুটি—উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া আছে। এমনকি র‍্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমারও আমাদের চেয়ে এগিয়ে। পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে আমাদের জন্য, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সংশয় নেই। তবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা খেলাটি উপভোগ করতে চাই।’উত্তর কোরিয়ার পর বাংলাদেশের সামনে দক্ষিণ কোরিয়া। আগামী বৃহস্পতিবার সেই ম্যাচ। র‍্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ১৯তম, বাংলাদেশের চেয়ে ৮৮ ধাপ এগিয়ে। পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলা দলটি এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে নয়বার, জিতেছে তিনটি ব্রোঞ্জপদক। সিনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের এখনো দেখা হয়নি। অর্থাৎ নতুন এক পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমার ৫৫তম—বাংলাদেশের চেয়ে ৫২ ধাপ এগিয়ে। শক্তির বিচারে তারাও পিছিয়ে থাকার মতো দল নয়। তবে এ ম্যাচটিই বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলকভাবে একটু আশার জায়গা তৈরি করছে।কারণ, তিন গ্রুপ প্রতিপক্ষের মধ্যে একমাত্র মিয়ানমারের বিপক্ষেই বাংলাদেশের মেয়েদের একাধিকবার খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এখন পর্যন্ত দুবার মুখোমুখি হয়ে একবার জিতেছেও বাংলাদেশ। আর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এবারই প্রথম সিনিয়র পর্যায়ে দেখা হবে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তো গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে ৫–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ।সেই হিসাবেই হয়তো মিয়ানমার ম্যাচটিকে মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে কোচ বাটলারও জানেন, শুধু অতীতের একটি জয় দিয়ে বর্তমানের ম্যাচ জেতা যায় না। বরং প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই শেষ ম্যাচে ভালো করার চেষ্টার কথা বললেন তিনি, ‘আমাদের দেশে তো মেয়েদের নিয়মিত কোনো লিগই নেই! তাই এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের বড় কোনো ফলাফলের প্রত্যাশা না করে বাস্তববাদী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতিবাচক ও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিতে চাই। দেখা যাক, প্রথম দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে কতটা কাজে দেয়।’বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জটা অবশ্য শুধু প্রতিপক্ষের শক্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও ধাক্কা খেয়েছে দল। ফর্মে থাকা ডিফেন্ডার নবীরণ খাতুন চোটের কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। তবে স্বস্তির খবর, নবীরণ ছাড়া স্কোয়াডে আর কারও চোটের সমস্যা নেই।সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পথটা মোটেও সহজ নয়। তবে কঠিন পথ বলেই হয়তো এই যাত্রার আলাদা মূল্য আছে। বাংলাদেশ জানে, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী। জানে, ব্যবধানও অনেক। তবু সেই কঠিনকেই ভালোবেসে মাঠে নামতে প্রস্তুত তারা।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
‘এবারের ব্যালন ডি’অর আমার প্রাপ্য’- দাবি ইয়ামালের
‘এবারের ব্যালন ডি’অর আমার প্রাপ্য’- দাবি ইয়ামালের

বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে দারুণ একটি সফল বছর কাটানোর পর লামিনে ইয়ামাল মনে করেন, ব্যালন ডি’অরের যোগ্য দাবিদার তিনি। ১৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ তারকা আরও বলেছেন, তিনি ও রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে বর্তমান সময়ের দুই সেরা খেলোয়াড় বিশ্বের। মভিস্টারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে লামিন ইয়ামাল বলেন, ‘আমার কাছে এমবাপে আর আমি, আমরাই বিশ্বের সেরা দুই খেলোয়াড়। সত্যি বলতে, বিশ্বের সেরা হিসেবে হয়তো আমরা দুজনই আছি। আর এ বছর আমি এটি পাওয়ার যোগ্য, কারণ আমি যা যা জিতেছি।’ গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতানোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ইয়ামাল। এপর যুক্তরাষ্ট্রে, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা জয়েও রেখেছেন অসামান্য ভূমিকা। লা লিগা জয়ের পর বিশ্বকাপও জেতায় ইয়ামাল এবারের ব্যালন ডি’অরের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হয়ে উঠেছেন। অন্যদিকে ব্যালন ডি’অরের দাবিতে এমবাপের পক্ষেও রয়েছে শক্ত যুক্তি। গত মৌসুমে লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দুই প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ফরাসি তারকা। তবে দলীয় সাফল্যের দিক থেকে পিছিয়ে এমবাপে। গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। ফ্রান্সও বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থানেই শেষ করেছে। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, জানাল বিসিসিআই
নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, জানাল বিসিসিআই

টানা দুই বছর এশিয়া কাপ জিতে ট্রফি নেয়নি ভারত। গত সেপ্টেম্বরে পুরুষ দল আর এই সেপ্টেম্বরে নারী দল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি না নেওয়ার একটাই দৃশ্যমান কারণ—মহসিন নাকভিকে প্রত্যাখ্যান। এশিয়া কাপের মঞ্চে নাকভির পরিচয় তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রেসিডেন্ট। তাঁর কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন, সেটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগে থেকেই উত্তেজনাময়, যা আরও অবনতির দিকে যায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর। এরপর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করলে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে, যার প্রভাবে ক্রিকেটে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলানো এড়িয়ে যেতে শুরু করে ভারত। গত বছর ছেলেদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি সূর্যকুমার যাদবদের দল। এবার যার পুনরাবৃত্তি করেছেন হারমানপ্রীত কৌররা।বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়াফাইনালের পর বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে বিসিসিআই সচিব বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি এবং নাকভির ভূমিকার কারণে তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে চায়নি ভারত, ‘পেহেলগামের ঘটনার পর আমাদের পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর আমাদের নাগরিকদের কাছ থেকে চাপ ছিল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, তাদের সঙ্গে ক্রিকেটও খেলা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের সরকারের নীতি হলো, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে আমাদের প্রতিটি দেশের বিপক্ষেই খেলতে হবে। আমরা সেই নীতি অনুসরণ করছি। সে কারণেই বিসিসিআই প্রতিটি দলের বিপক্ষে খেলার জন্য দল পাঠায়।’এশিয়া কাপ ফাইনালে আবারও নাটক, নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি চ্যাম্পিয়ন ভারততবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা মানেই সবকিছু মেনে নেওয়া নয় মনে করেন সাইকিয়া। তাঁর ভাষায়, ‘এর মানে এই নয় যে আমরা খেলব এবং আমাদের সামনে রাখা প্রতিটি শর্ত মেনে নেব। যে দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর তা আরও খারাপ হয়েছে, আমাদের অভিযান এখনো চলছে। তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা (নাকভি) আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে পারি না।’নাকভির হাত থেকে নিতে হবে বলে ভারতীয় দল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নেয়নিদুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপ ফাইনালের সময় রয়্যাল বক্সে ছিলেন সাইকিয়া। এ সময় তাঁকে বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লার সঙ্গে নাকভির পাশাপাশি বসতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সাইকিয়া বলেন, ‘এমন নয় যে আমরা কারও সঙ্গে দেখা করব না। টস থেকে ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি রয়্যাল বক্সে বসেছিলাম। ম্যাচের সময় যাঁরাই এসেছেন, সবার সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। শুক্লাজিও এসে আমার সঙ্গে বসেছিলেন। আপনি যাঁর কথা বলছেন (নাকভি), তিনিও এসে ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদের পাশে বসেছিলেন। এটা স্বাভাবিক রীতি, যখন কেউ আসেন, আমরা সবার সঙ্গে দেখা করি এবং কথা বলি।’বিসিসিআই চেয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দলের ট্রফি এসিসি সহসভাপতির হাত থেকে দেওয়া হোক। কিন্তু নাকভি তাতে রাজি হননি। তবে এ নিয়ে আক্ষেপ নেই বলে দাবি ভারতীয় বোর্ড সচিবের, ‘আজকের পরিস্থিতিও আমরা সমাধান করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। তবে এ নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ নেই। আমাদের উদ্দেশ্য কে ট্রফি তুলে দেবে, সেটিকে কেন্দ্র করে ছিল না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভারতীয় দল যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ম্যাচ জেতে। আমরা সেটিতে সফল হয়েছি।’দুবাইয়ের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টম নারী এশিয়া কাপ জেতে ভারত।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত
বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত

অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত নারী দল। তবে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারতীয় নারী দল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী দলের কোচ আমোল মজুমদার। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন ভারতের নারী দলের কোচ। আমোল মজুমদার বলেন, ‘আমরা ট্রফি সম্পর্কে কিছুই জানি না। ট্রফি কবে পাবো তাও জানি না।’ দলের সিদ্ধান্তেই কি ট্রফি গ্রহণ না করা, নাকি বোর্ডের সিদ্ধান্তে? এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন ভারতের কোচ। তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। খেলোয়াড়েরা সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থান বিসিসিআই নিয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং এই অবস্থানের পাশেই আছি।’ সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, বারবার এমনভাবে ট্রফি গ্রহণ থেকে বিরত থাকাটা ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিপন্থী কি না। তবে সেই প্রশ্নের ইয়ত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন আমোল মজুমদার। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে ভারত। কিন্তু পুরস্কার বিতরণীর সময় ভারতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে আসেননি। রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু অবশ্য এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে রানার্সআপের পুরস্কারের অর্থের চেক গ্রহণ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে গত বছরের পুরুষদের এশিয়া কাপ ফাইনালের মিল রয়েছে। সেবার নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারত। পরে সাইকিয়া বলেছিলেন, নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তানের ‘প্রধান নেতাদের একজন’ হওয়ায় তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে চায়নি ভারতীয় দল। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মেয়েদের ফুটবলের কারণে পালিচড়া গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত
মেয়েদের ফুটবলের কারণে পালিচড়া গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত

রংপুর শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের গ্রাম পালিচড়া। এই গ্রামের পরিচিতি এখন দেশজুড়ে। এর কারণ, শুধু মেয়েদের ফুটবল। দেশের ভেতরে দেড় দশক ধরে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য পেয়ে আসছে এই গ্রামের মেয়েরা। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবেও নিয়মিত ফুটবল খেলে তারা। ২০২২ সালের সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল পালিচড়ার মেয়েদের।পালিচড়া গ্রামে মেয়েদের ফুটবলকে উৎসাহিত করতে চার বছর আগে সরকারি উদোগে ছোট্ট একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। এই স্টেডিয়াম দিনে দিনে রংপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েদের ফুটবলচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে মাঠে সাফল্য এলেও নিয়মিত অনুশীলন করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। স্টেডিয়ামের জন্য সরকার কোনো বরাদ্দ দেয় না।ফুটবলের প্রশিক্ষণে আসা কিশোরীদের খাবারের ব্যবস্থাও নেই। প্রশিক্ষণেও উন্নত সরঞ্জাম থাকে না। আবার স্টেডিয়ামের মাঠেরও বেহাল। নিরাপত্তার সমস্যাও রয়েছে। পালিচড়া গ্রামে পাশাপাশি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পালিচড়া এম এন উচ্চবিদ্যালয় ও মজিদা খাতুন কলেজ। এই দুই প্রতিষ্ঠানের দুটি মাঠের জায়গায় ২০২২ সালে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এতে ব্যয় হয় প্রায় পৌনে ছয় কোটি টাকা। স্টেডিয়ামটি পরিচালনার দায়িত্বে আছে রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা। তবে সংস্থার পক্ষ থেকে স্টেডিয়ামটি দেখভালের মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে পালিচড়া গ্রামের সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবকে।এই স্টেডিয়াম থেকেই উঠে আসা কিশোরীরা জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছে। গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে মেয়েদের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর অঞ্চল। এরপর গত আগস্টে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত জেএফএ (জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল টুর্নামেন্টেও শিরোপা জিতেছে রংপুর জেলার কিশোরীরা। পরপর দুটি শিরোপাজয়ী রংপুর দলের প্রথম একাদশের আটজনই পালিচড়া গ্রামের।রংপুরের সাবেক কৃতী ফুটবলার নিয়ামুল আতিকুর রহমান বলেন, পালিচড়ার মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবেও দেশের জন্য স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে তারা বহুদূর এগিয়ে যাবে।গ্রাম থেকে জাতীয় পর্যায়ে২০১১ সালে জাতীয়ভাবে আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয় পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রথম বছরই জাতীয় পর্যায়ে রানারআপ হয় দলটি। পরের বছর ২০১২ সালে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।পালিচড়ার ফুটবল কন্যারাএরপর পালিচড়ায় নারী ফুটবল নিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে। বদলাতে শুরু করে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। ২০১৬ সালে দেশের বাইরে তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল প্রতিযোগিতায় শেষ ম্যাচে ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। বিজয়ী দলে ছিলেন এই গ্রামেরই তিন নারী ফুটবলার—লাবনী আক্তার, আর্শিতা জাহান ও আঁখি আক্তার। ২০২২ সালে সাফজয়ী নারী ফুটবল দলে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন পালিচড়ার মেয়ে সিরাত জাহান।রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক কিশোরী পালিচড়া স্টেডিয়ামে এখন ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ২১ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলায়পালিচড়ার মাঠ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছেন ১০ জন। এ ছাড়া ১২ জন নারী খেলোয়াড় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছেন। বাংলাদেশ উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগেও খেলেছেন এই গ্রামের মেয়েরা। জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।পালিচড়া স্টেডিয়ামে মেয়েদের ফুটবলের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন সাবেক ফুটবলার মিলন মিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে এই মাঠের অন্তত ১৫ জন খেলোয়াড় ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। এর মধ্যে আর্মি স্পোর্টস ক্লাবে খেলছেন জয়নব বিবি, সুলতানা আক্তার, বৃষ্টি আখতার, নাসরিন বেগম ও কাকলি সরেন। আইএম ১০ এফসি ক্লাবে খেলছেন শীলা আক্তার এবং ঢাকা ওয়ারিয়র্সে ইন্নিমা খানম ও হৈমন্তী শুক্লা খালকো। তাঁরা প্রতি মৌসুমে এক থেকে দেড় লাখ টাকা সম্মানী পান।প্রশিক্ষক মিলন মিয়া বলেন, খেলোয়াড়দের জন্য জিমনেসিয়াম, পুষ্টিকর খাবার, উন্নত প্রশিক্ষণ ও ভালো মাঠ প্রয়োজন। এসব সমস্যা নিয়ে প্রায় এক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।জানতে চাইলে রংপুর সদরের ইউএনও লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মেয়ে ফুটবলারদের সমস্যাগুলো তিনি জেনেছেন। সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।সাফল্যের আড়ালে কষ্টরংপুরের বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক কিশোরী পালিচড়া স্টেডিয়ামে এখন ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তাদের বয়স ৮ থেকে ২০ বছর। এর মধ্যে ২৫ জন স্টেডিয়ামের ডরমিটরিতে থেকেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সেখানে বিদ্যুৎ–সংযোগ, পানি সরবরাহব্যবস্থা ও শৌচাগার আছে। তবে রান্নাঘরের ব্যবস্থা নেই। স্টেডিয়ামে ৫০ জনের থাকার মতো জায়গা রয়েছে। তবে বর্তমানে বেড (শয্যা) রয়েছে ২০টি।প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ মিলন মিয়া। আবাসিক প্রশিক্ষণার্থীদের থাকা–খাওয়ার খরচ নিজ উদ্যোগে বহন করেন তিনি। রান্না হয় তাঁর বাড়িতেই।যত্নহীন এবড়োখেবড়ো পড়ে আছে মাঠ। একটু বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। ২১ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়া স্টেডিয়ামেকিশোরীদের খাবার বাবদ অর্থ কিংবা প্রশিক্ষক মিলন মিয়াকে সরকারিভাবে কোনো বেতন দেওয়া হয় না। স্টেডিয়ামের অনুকূলে মাসিক কিংবা বার্ষিক সরকারি কোনো বরাদ্দও নেই। এ কারণে গত দুই বছরে স্টেডিয়ামের ৬৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়েছে। আবার সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে স্টেডিয়ামজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। বিকল্প আলোর ব্যবস্থা নেই। দিনভর অনুশীলনের পর লোডশেডিংয়ের কারণে গরমে ঘুমাতেও কষ্ট হয় কিশোরীদের। অনুশীলন শেষে স্বস্তির গোসলেরও নিশ্চয়তা নেই। রোদে ট্যাংকের পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, আবার শীতকালে গরম পানির ব্যবস্থা থাকে না। স্টেডিয়ামে কোনো ব্যায়ামাগার বা জিমনেসিয়ামও নেই।প্রশিক্ষণরত কিশোরীদের খাবারের সংকটও নিত্যসঙ্গী। পালিচড়ার ফুটবলার সিনহা আয়াত বলে, ‘কোচ মিলন মিয়ার বাড়িতে যা জোটে, তাই খেয়েই থাকতে হয়। তিনি নিজের টাকায় আমাদের খাওয়ান। খেলার সরঞ্জামেরও অভাব।’এই স্টেডিয়ামের মাঠের চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনীও যথেষ্ট উঁচু নয়। ফলে বাইরে থেকে সহজেই মাঠে ঢুকে পড়া যায়। প্রশিক্ষণের সময় এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পালিচড়ার মেয়েরা আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য শামীম খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে পালিচড়ার ৪ জন মেয়ে জাতীয় দলের হয়ে জাপানে (এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে) খেলতে গেছে। সমস্যা হচ্ছে স্টেডিয়াম এবং খেলোয়াড়দের দিকে কেউ তাকায় না। পালিচড়া স্টেডিয়ামে সমস্যা অনেক। সেখানে প্রশিক্ষণ নেওয়া মেয়েরা বেশির ভাগ গরিব ঘরের সন্তান। পুষ্টিকর খাবার পায় না। তাদের জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার আসলে তেমন কিছু করারও নেই।নিরাপত্তাহীন মাঠ, চোটের ঝুঁকিখেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্টেডিয়ামের মাঠটা সমান নয়, উঁচু-নিচু। অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইতিমধ্যে কয়েকজন এমন সমস্যার মুখোমুখিও হয়েছে।এই স্টেডিয়ামের মাঠের চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনীও যথেষ্ট উঁচু নয়। ফলে বাইরে থেকে সহজেই মাঠে ঢুকে পড়া যায়। প্রশিক্ষণের সময় এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এতে নারী ফুটবলারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অনুশীলনের পরিবেশও নষ্ট হয়।মাঠের মধ্যে চড়ে বেড়ায় গবাদিপশু। ২১ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়া স্টেডিয়ামেসদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড় ঐশী আক্তার বলে, মাঠের সীমানাপ্রাচীর নিচু হওয়ায় বাইরের ছেলেরা অনেক সময় ভেতরে ঢুকে পড়ে।বরাদ্দের অভাবে স্টেডিয়ামের নানা সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না বলে জানান রংপুর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানা। তিনি ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, স্টেডিয়ামটি দেখভাল করার জন্য স্থানীয় সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবকে মৌখিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় একজন নৈশপ্রহরী রয়েছেন। তাঁর মাসিক বেতন–ভাতা জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে দেওয়া হয়। স্টেডিয়ামে অনেক সমস্যা আছে। এসব নিয়ে আলোচনাও হয়; কিন্তু সমাধান করা যাচ্ছে না।রংপুর সদরের শ্যামপুর পুটিমারী গ্রামের মেয়ে ইন্নিমা খানম জাতীয় ফুটসাল দলে খেলেছেন। জাতীয় ফুটবল লিগেও খেলেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পালিচড়া স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেই জাতীয় দলসহ বিভিন্ন লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছি। মিলন ভাইয়া (কোচ) নিজের জমিতে শাকসবজি লাগিয়ে নিজ খরচে আমাদের খাবার দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর সংসারেও অভাব রয়েছে। আমাদের দিকে কেউ ফিরে তাকায় না। খেলায় ভালো করলে বাহবা পাই—এতটুকুই।’২০২২ সালে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এতে ব্যয় হয় প্রায় পৌনে ছয় কোটি টাকা। ২১ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়া স্টেডিয়ামেএ বছর নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মেয়েদের ফুটবলে ‘ফাইনাল-সেরা’ হয়েছে পালিচড়া স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ নেওয়া কিশোরী স্মৃতি কিসকু। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চক কৃষ্ণপুর গ্রামে। প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলার সময় এই কিশোরী বারবার একটি কথাই বলেছে, স্টেডিয়ামে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো খুব দরকার।দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনা কিশোরী ফুটবলারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা বললেন পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনও। আরও বললেন, পালিচড়ার মেয়েদের সাফল্যের গল্প যেন থেমে না যায়।নারী ফুটবলারদের সাফল্যে অজপাড়াগাঁয় স্টেডিয়াম

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
এক হাজার গোলের মাইফলক: কোথায় দাঁড়িয়ে মেসি এবং রোনালদো
এক হাজার গোলের মাইফলক: কোথায় দাঁড়িয়ে মেসি এবং রোনালদো

বয়স বাড়ছে, কিন্তু গোলের ক্ষুধা যেন কমছে না লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও ফুটবল মাঠে নিয়মিত আলো ছড়াচ্ছেন দুই মহাতারকা। একজন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মিয়ামির হয়ে, অন্যজন সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের জার্সিতে। চলতি সপ্তাহেও গোল করেছেন দু’জনই। তাতে মেসির ক্যারিয়ার গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯২৮, আর রোনালদো পৌঁছে গেছেন ৯৭৯ গোলে। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মাঠের বাইরেও মেসির ফুটবল-সাম্রাজ্য বিস্তৃত হচ্ছে। স্পেনে দ্বিতীয় একটি ক্লাবের মালিকানার পথে এগিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। সব মিলিয়ে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ক্যারিয়ারে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন অধ্যায়। গোলের সঙ্গে মেসির ক্লাব-সাম্রাজ্যও বাড়ছে ইন্টার মিয়ামির হয়ে চলতি সপ্তাহে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। প্রথমটি শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে, পরেরটি ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দল ন্যাশভিলের বিপক্ষে। শিকাগোর বিপক্ষে ম্যাচে মিয়ামি প্রথমে পিছিয়ে পড়ে। নতুন তারকা রবার্ট লেওয়ানডস্কির দুর্দান্ত ফিনিশে এগিয়ে যায় ফায়ার। দ্বিতীয়ার্ধে মিয়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি নিজে গোল করে নয়, তার নিখুঁত কর্নার থেকে ক্যাসেমিরো হেডে গোল করে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ন্যাশভিলের বিপক্ষের ম্যাচে অবশ্য মেসিই হয়ে ওঠেন মূল আকর্ষণ। শুরুতেই স্যাম সারিজের গোলে পিছিয়ে পড়ে মিয়ামি। এরপর শুরু হয় মেসির জাদু। প্রথমে মেসির ভেতরের দিকে বাঁকানো কর্নার থেকে রিড বেকার-হোয়াইটিং নিজেদের জালে বল পাঠান। আত্মঘাতী গোল হওয়ায় সেটি মেসির অ্যাসিস্ট হিসেবে অবশ্য যোগ হয়নি। এরপর নিজেই গোলের চেষ্টা করেন মেসি। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে পরের সুযোগ আর নষ্ট করেননি ৩৯ বছর বয়সী তারকা। রদ্রিগো ডি পলের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁকানো শটে বল পাঠান দূরের পোস্টের কোণে। মেসির সেই চিরচেনা ফিনিশে ম্যাচে সমতায় ফেরে মায়ামি। তবে মেসির গোলের পরও জয় এলো না। গোল করার পরও থামেননি মেসি। লুইস সুয়ারেজের একটি প্রচেষ্টার পর পাওয়া রিবাউন্ড থেকে শট নিয়ে পোস্টে আঘাত করেন তিনি। সেই আক্রমণের শুরুটাও হয়েছিল মেসির পাস থেকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জয়ের দারুণ সুযোগও পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সুয়ারেজের পাসে একেবারে একা গোলরক্ষকের সামনে চলে যান তিনি। গোলরক্ষক ব্রায়ান শভাকেকে কাটিয়েও ফেলেছিলেন মেসি। কিন্তু গোলমুখে তার শট অসাধারণভাবে ঠেকিয়ে দেন ন্যাশভিলের ডিফেন্ডার জেইসন পালাসিওস। গোললাইন থেকে সেই প্রতিরোধে নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় ন্যাশভিল। আর সেই সুযোগ নষ্ট করার খেসারতও দিতে হয়েছে মিয়ামিকে। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও গোল করেন সারিজ। ফলে ম্যাচ শেষ হয় ২-২ সমতায়। এই ড্রয়ের পর ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিয়ামি। শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে তারা নয় পয়েন্ট পিছিয়ে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা শার্লট এফসি ও নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে মায়ামি। ৯২৮ গোল মেসির ন্যাশভিলের বিপক্ষে গোলটি যোগ হয়েছে মেসির বিশাল গোলসংখ্যায়। চলতি সপ্তাহে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট যোগ করে তার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ৯২৮ গোল ও ৪২৩ অ্যাসিস্টে। বয়স ৩৯ ছুঁয়েও মেসির পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ফুটবলবিশ্বকে বিস্মিত করে চলেছে। গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের গোল করানো, সুযোগ তৈরি এবং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এখনো তিনি মিয়ামির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। এরই মধ্যে মাঠের বাইরেও নিজের ফুটবল-ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন মেসি। স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব এলদেনসে নেওয়ার পথে এগিয়েছেন তিনি। এর আগে বার্সেলোনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব কর্নেইয়ার মালিকানায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের পাশাপাশি স্প্যানিশ ফুটবলেও তার বিনিয়োগের পরিধি বাড়ছে। রোনালদোর ৯৭৯ মেসির মতোই চলতি সপ্তাহে গোল করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও। আল নাসরের হয়ে মঙ্গলবার আবহা এবং শনিবার আল খালিজের বিপক্ষে মাঠে নামেন পর্তুগিজ তারকা। আবহার বিপক্ষে শুরুতেই গোল করেন রোনালদো। অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েলের নেওয়া ভেতরের দিকে বাঁকানো কর্নারে উঁচুতে উঠে শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান তিনি। এরপর আরও কয়েকবার গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন রোনালদো। দ্রুত ঘুরে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার শট লাগে দূরের পোস্টে। পরে গোললাইন থেকেও তার আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ডোনোভান লিওন ও আবহার অধিনায়ক আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। আল নাসরের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন আবদুল্লাহ আল হামদান। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে ম্যাচটি জেতে আল নাসর। তবে সপ্তাহের দ্বিতীয় ম্যাচে আল খালিজের বিপক্ষে জয় পায়নি তারা। ওমর মাসকারেল ও আল হামদানের গোলের পর ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়। রোনালদো গোলের একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। বুদ্ধিদীপ্ত দৌড়ে মার্কারকে পেছনে ফেলে কাছ থেকে হেড নিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। গোলের মাইলফলকে রোনালদো এগিয়ে আল খালিজের বিপক্ষে গোল না পেলেও আবহার বিপক্ষে করা গোলটি রোনালদোর ক্যারিয়ার গোলসংখ্যায় যোগ হয়েছে। চলতি সপ্তাহ শেষে তার গোল এখন ৯৭৯টি। সঙ্গে আছে ২৬১টি অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে মেসির গোলসংখ্যা ৯২৮, অ্যাসিস্ট ৪২৩। অর্থাৎ মোট গোলের হিসাবে রোনালদো এখন মেসির চেয়ে ৫১ গোলে এগিয়ে। তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে মেসিই অনেক এগিয়ে। দুজনের বয়স, লিগ ও ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায় আলাদা হলেও ফুটবলবিশ্বে তাদের তুলনা এখনো শেষ হয়নি। বরং ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়েও গোল করে চলার কারণে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। আইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে সালমান আগার ট্রিপল সেঞ্চুরি
বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে সালমান আগার ট্রিপল সেঞ্চুরি

ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি হয়েছে পাকিস্তানের। দ্বিতীয় টেস্টের পর বাদ দেওয়া হয় ৭ ক্রিকেটারকে। সেই তালিকায় ছিলেন সালমান আলী আগা। বাদ পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছেন তিনি। আর ফিরেই ব্যাট হাতে দিয়েছেন দুর্দান্ত জবাব। প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১-এ কিংসমেন একাডেমির হয়ে মার্কহোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ম্যাচের শুরুতে ৭২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল কিংসমেন। সেখান থেকে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিনেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সালমান। মোহাম্মদ সুলেমানের সঙ্গে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৮৫ রানের জুটি। এরপর সেঞ্চুরিকে ডাবল এবং ডাবল সেঞ্চুরিকে ট্রিপলে রূপ দেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটার। এই ম্যাচের আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সালমানের সর্বোচ্চ রান ছিল ১৬৯। ফলে একই ইনিংসে প্রথম ডাবল ও ট্রিপল সেঞ্চুরি পাওয়াটা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন। ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন সালমান। কিন্তু হেডিংলিতে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে একাদশ থেকে বাদ পড়েন। এরপর তৃতীয় টেস্টের আগে সাত ক্রিকেটারের সঙ্গে তাকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে এমন ইনিংস যেন সালমানের নীরব জবাব। তার স্ত্রীও ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন, ‘মূল জায়গায় ফিরে যেতে কোনো সমস্যা নেই।’ সেই কথারই যেন বাস্তব প্রতিফলন ঘটালেন সালমান। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের ষষ্ঠ হোয়াইটওয়াশ, তিন ম্যাচের সিরিজে সেঞ্চুরি নেই একটিও
পাকিস্তানের ষষ্ঠ হোয়াইটওয়াশ, তিন ম্যাচের সিরিজে সেঞ্চুরি নেই একটিও

বার্মিংহামের এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজের তৃতীয় টেস্টেও হেরে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে পাকিস্তান। এই সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতা, রেকর্ডসংখ্যক ছক্কা ও বোলিংয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স- সব মিলিয়ে হয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগুলো দেখে নিন- ২: পাকিস্তানকে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করলো ইংল্যান্ড। এর আগে ২০২২ সালে পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ৬: গত চার বছরে দুই বা ততোধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ৬ বার। অর্থ্যাৎ, শেষ ১২ সিরিজের মধ্যে ছয়বারই হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা। ৮: তিন বা তার বেশি ম্যাচের টেস্ট সিরিজে কোনো ব্যাটারের সেঞ্চুরি না পাওয়ার ঘটনা এই ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজসহ অষ্টমবার। ইংল্যান্ডে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল মাত্র একবার- ১৮৮৮ সালে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। ২০: এই সিরিজে করা ফিফটির সংখ্যা। কোনো সেঞ্চুরি ছাড়া টেস্ট সিরিজে এটিই সর্বোচ্চ ফিফটি। এর মধ্যে বার্মিংহ্যাম টেস্টেই হয়েছে ১১টি ফিফটি, যা কোনো সেঞ্চুরি না থাকা টেস্টে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৮.৭৬: সিরিজে ২০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে অলি রবিনসনের বোলিং গড়। সিরিজে ২০ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে এটি ষষ্ঠ সেরা। রবিনসনের চেয়ে ভালো গড়ের পাঁচজনই ইংল্যান্ডের বোলার। সর্বশেষ এমন কীর্তি ছিল টনি লকের- ১৯৫৮ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪ উইকেট, গড় ৭.৪৭। ৪.৬৬: সিরিজে পাকিস্তানের প্রথম দুই উইকেটের জুটির গড়। ছয় ইনিংসে প্রথম দুই উইকেটে তারা যোগ করেছে মাত্র ৫৬ রান। অন্তত পাঁচ ইনিংসের কোনো টেস্ট সিরিজে প্রথম দুই উইকেটে এটি যে কোনো দলের সবচেয়ে বাজে গড়। ৩: ২০২৬ সালসহ ঘরের মাঠে জো রুটের সেঞ্চুরিবিহীন টেস্ট মৌসুমের সংখ্যা। এর আগে ২০১৯ ও ২০২০ সালেও ঘরের মাঠে সেঞ্চুরি পাননি তিনি। ২০২৬ সালে ছয় টেস্টে রুটের ব্যাটিং গড় ৩৩.৫০, যা এক বছরে তার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। সর্বনিম্ন ২৯.৮৩, ২০১৯ সালে। ৮: চলতি মৌসুমে ১১ ইনিংসে এলবিডব্লিউ হয়ে ৮ বার আউট হয়েছেন রুট। একটি টেস্ট মৌসুমে কোনো ব্যাটারের এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ। ৯: অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে রাজাউল্লাহর মারা ছক্কার সংখ্যা। টেস্ট অভিষেকে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় এটি যৌথভাবে সেরা। ২০০৮ সালে নেপিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই সংখ্যক ছক্কা মেরেছিলেন টিম সাউদি। ১: ইংল্যান্ডের মাটিতে কোনো টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার সংখ্যার হিসাবে রাজাউল্লাহর ৯টি ছক্কা যৌথভাবে প্রথম। ২০২৩ সালে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেন স্টোকসও ৯টি ছক্কা মেরেছিলেন। ৯: পাকিস্তানের কোনো ব্যাটারের এক টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার হিসাবে রাজাউল্লাহর সংখ্যা যৌথভাবে দ্বিতীয়। সবার ওপরে ওয়াসিম আকরাম- ১৯৯৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২টি ছক্কা মারেন তিনি। ৮: রাজাউল্লাহর ৯টি ছক্কার মধ্যে ৮টিই এসেছে পেসারদের বিপক্ষে। টেস্টের এক ইনিংসে পেস বোলারদের বিপক্ষে এর চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন শুধু নাথান অ্যাসল- ১০টি। ২০২৩ সালে লর্ডসে পেসারদের বিপক্ষে ৮টি ছক্কা মেরেছিলেন স্টোকসও। ১: টেস্ট অভিষেকেই ফিফটি ও চার উইকেট নেওয়া প্রথম পাকিস্তানি ক্রিকেটার রাজাউল্লাহ। সব মিলিয়ে টেস্ট অভিষেকে এই ডাবল করা ১৭তম ক্রিকেটার তিনি। এদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ; ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়ার সময় সাউদির বয়স ছিল ১৯ বছর। ২: বার্মিংহ্যাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম দুই উইকেটে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান মিলে যোগ করেছে মাত্র ২ রান। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম দুই উইকেটে যৌথভাবে এটিই সর্বনিম্ন রান। তবে দুই দলই এরপর তৃতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে, যা দুই বা তার কম রানে দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ পাঁচ জুটির মধ্যে রয়েছে। ১: টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস দুটি করে উইকেট নেন। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম দুই দলের ইনিংসের প্রথম ওভারেই একাধিক উইকেট পড়ল। ৪৪৯: প্রথম দুই উইকেট শূন্য রানে হারানোর পর পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে করা ৪৪৯ রান। এমন পরিস্থিতিতে কোনো দলের দ্বিতীয় ইনিংসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। রেকর্ডটি ভারতের- ১৯৮৩ সালে চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৫১/৮। আইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ফুটবল উন্মাদনায় ভাসল জামালপুর
ফুটবল উন্মাদনায় ভাসল জামালপুর

গ্যালারিতে তিলধারণের জায়গা নেই। মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত মানুষ। গোলের সুযোগ তৈরি হলেই একসঙ্গে উঠে আসে হাজারো কণ্ঠের চিৎকার, আর বল গোলপোস্টের দিকে যেতেই উল্লাসে কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। কেউ বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে, কেউ গ্যালারির রেলিং ধরে, আবার কেউ উঁচু জায়গায় উঠে খেলা দেখছেন।বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জামালপুর স্টেডিয়াম যেন পরিণত হয় মানুষের আবেগের এক বিশাল মিলনমেলায়। জামালপুর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে আসা দর্শকদের এ ঢল আর উন্মাদনাই বলে দিচ্ছিল—ফুটবল এখনো বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের আবেগের জায়গা।আজ রোববার দুপুর থেকেই জামালপুরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। বিকেলের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কমতেই ফুটবলপ্রেমীদের ঢল নামতে শুরু করে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়ামে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দুপুরের পর থেকেই দলে দলে মানুষ আসতে থাকেন ফাইনাল খেলা দেখতে। খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগেই ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। গ্যালারিতে আর জায়গা না পেয়ে অসংখ্য দর্শক মাঠের ভেতরে ঢুকে দাঁড়িয়ে খেলা দেখেন। ফুটবল খেলা দেখতে মানুষের এই উপচে পড়া ভিড় যেন বলে দিচ্ছিল—জামালপুরে ফুটবল এখনো মানুষের আবেগেরই আরেক নাম।মাঠ ছাপিয়ে ভিআইপি গ্যালারির ওপরে উঠে খেলা উপভোগ করেন দর্শকেরা। আজ বিকেলে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়ামেবিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফাইনাল খেলা শুরু হয় জেলার মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার মধ্যে। এ ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়, তখন ফুটবল ম্যাচের উত্তেজনা এবং নাটকীয়তা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। আর টাইব্রেকারে বল যখন জালে জড়াচ্ছিল, উল্লাসে কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। টাইব্রেকারে এই খেলায় সরিষাবাড়ী উপজেলা ৪-৩ গোলে বিজয়ী হয়েছে।মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকা থেকে খেলা দেখতে এসেছিলেন তরুণ মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ। দুই দলের খেলা ও দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে মুগ্ধ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দলের খেলাই আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে এর চেয়েও বেশি অভিভূত হয়েছি দর্শকদের দেখে। জামালপুরের কোনো মাঠে এর আগে এত মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখতে এসেছেন বলে আমার মনে পড়ে না। আজ আবার মনে করিয়ে দিল—ফুটবল মানুষের কতটা প্রিয় খেলা।’জামালপুর পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রাজু আহাম্মেদ বলেন, ‘আজ স্টেডিয়ামে এসে মনে হলো, জামালপুরে ফুটবলের সেই পুরোনো আবেগ এখনো হারিয়ে যায়নি। এত মানুষ শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে এসেছেন—এটাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। গোলের সুযোগ হলেই চারপাশ থেকে যে চিৎকার উঠছিল, মনে হচ্ছিল পুরো স্টেডিয়াম একসঙ্গে খেলাটার সঙ্গে মিশে গেছে। এমন দৃশ্য সত্যিই অনেক দিন পর দেখলাম।’দুই দলের খেলোয়াড়দের বল দখলের লড়াই। আজ বিকেলে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল হাকিম স্টেডিয়ামেজামালপুর শহরের বানিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা তুহিন মিয়া বলেন, ‘আজকের ম্যাচে একমুহূর্তের জন্যও চোখ সরানোর উপায় ছিল না। দুই দলই একের পর এক আক্রমণ করেছে। গোলের সুযোগ তৈরি হলেই গ্যালারিতে হাজারো মানুষ একসঙ্গে উঠে দাঁড়াচ্ছিলেন। মনে হচ্ছিল, মাঠের ২২ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে গ্যালারির হাজারো মানুষও যেন খেলাটার অংশ হয়ে গেছেন।’অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম আবদুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেন, প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই খেলার মধ্য দিয়ে জামালপুর জেলার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, ‘শুধু একটি ফুটবল ম্যাচকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক। এটি জামালপুরের ক্রীড়াঙ্গনের নতুন করে জেগে ওঠারও একটি শক্তিশালী বার্তা।’জেলা প্রশাসন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ২৩ আগস্ট থেকে জামালপুর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়। এতে জামালপুর সদর উপজেলা, জামালপুর পৌরসভা, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা, বকশীগঞ্জ উপজেলা, ইসলামপুর উপজেলা, মেলান্দহ উপজেলা, মাদারগঞ্জ উপজেলা ও সরিষাবাড়ী উপজেলা অংশ নেয়। আজ ফাইনাল ম্যাচ ছিল।চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ ও দর্শনা পৌরসভা একাদশের খেলোয়াড়দের মধ্যে বল দখলের লড়াইপুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার ও জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ।চুয়াডাঙ্গায় পৌরসভা একাদশ জয়ীচুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬। আজ বিকেলে চুয়াডাঙ্গা পুরাতন স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।খেলার নির্ধারিত সময়ে দুই সহোদর শাকিল ও মহিবুলের দেওয়া জোড়া গোলের সুবাদে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা একাদশ দর্শনা পৌরসভা একাদশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করে। এদিন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা দলের শাকিলকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ ঘোষণা করা হয়। আগামীকাল সোমবার বিকেলে একই মাঠে মুখোমুখি হবে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও জীবননগর উপজেলা একাদশ।বিকেল চারটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন ও কবুতর অবমুক্তকরণের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। পরে শাহ আলমের লেখা ও সুরে এবং হাসিবুল ইসলাম ও জান্নাতুল ফেরদৌস নেরিপার কণ্ঠে গাওয়া থিম সংয়ের সঙ্গে নৃত্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য ও ডিসপ্লে দর্শকদের হৃদয়ে জয় করে। নৃত্য পরিচালনা করেন জাহিদ হাসান ও সৌম্যজিতা শ্রুতি।খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাঠমুখী করা এবং মাদক, বাল্যবিবাহ ও উত্ত্যক্তের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির বার্তাও উঠে আসে এই আয়োজনে। আর মাঠে দর্শকদের উচ্ছ্বাস বলছে, চুয়াডাঙ্গায় ফুটবলের সেই পুরোনো উন্মাদনা এখনো অটুট।জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলি, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান, সিভিল সার্জন হাদী মো. জিয়াউদ্দিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. শরিফুজ্জামান। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্রের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক উজ জামান।জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই টুর্নামেন্টে জেলার চারটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভার দল অংশ নিচ্ছে। আয়োজকদের আশা, টুর্নামেন্টের মাধ্যমে জেলার ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে এবং তরুণদের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের লাল বলেরও কোচ হতে চান মাইক হেসন
পাকিস্তানের লাল বলেরও কোচ হতে চান মাইক হেসন

এজবাস্টন টেস্টে হারার পর পাকিস্তানের লাল বলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মাইক হেসন। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের সাদা বলের কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারার পর অন্তর্বর্তী কোচ হেসন জানান, পাকিস্তানের লাল বলের প্রতিভা তাকে আশাবাদী করছে। তৃতীয় টেস্ট শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসেই এই আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। মাইক হেসন বলেন, ‘অবশ্যই, আমি এ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। আমি টেস্ট ক্রিকেট ভালোবাসি। পাকিস্তানের ক্রিকেট ব্যবস্থায় যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলে আমরা সামনে এগোতে পারি। অবশ্যই এক-দুই ম্যাচে এর ফল পাওয়া যাবে না। তবে এমন কিছু দক্ষ ক্রিকেটার আছে, যাদের দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি আমি অবশ্যই বিবেচনা করবো।’ লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হারার পর সরফরাজ আহমেদকে কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করে পিসিবি। এরপরই লাল বলের কোচের অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পান তিনি। সপ্তাহ দুয়েকের কম সময় আগে এই দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। তখন হেসন জানিয়েছিলেন, তিনি কেবল অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের টেস্ট দলের স্থায়ী দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। টেস্ট দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই একই দায়িত্বের জন্য ইংল্যান্ডের সঙ্গে হেসনের যোগাযোগ হয়েছিল। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের উত্তরসূরি খুঁজতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছিল ইংল্যান্ড। তবে হেসনের ভাষ্য, সেই আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়েই থেমে যায়। শেষ পর্যন্ত স্টিফেন ফ্লেমিংকে দায়িত্ব দেয় ইংল্যান্ড। এর পর পাকিস্তানের হয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন হেসন। আগ্রহ প্রকাশ করলেও পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব তিনি নেবেন কি না, সেটি পুরোপুরি তার হাতে নেই। পিসিবি এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। হেসন বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কোনো চাকরির প্রস্তাব নিয়ে ভাবিইনি। দেশে ফেরার এক সপ্তাহ পরই এশিয়ান গেমস আছে। সাদা বলের ক্রিকেটে আপাতত সেটিই আমার মূল মনোযোগ। সময়টা এলে টেস্ট দল নিয়ে নিশ্চয়ই আলোচনা হবে। নির্বাচকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবো।’ ভবিষ্যতে কী হবে বা সেটি যাই হোক, এই সপ্তাহে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন পরিবেশে কিছু বিষয় নিয়ে সন্তুষ্ট হেসন। তিনি বলেন, ‘আমরা বার্মিংহামে পৌঁছানোর পর সবাই সামনে কী আছে, সেটি নিয়ে বেশ মনোযোগী ছিল। লর্ডসে যা ঘটেছিল, দলের কয়েকজন সম্ভবত আমার চেয়েও বেশি সময় ধরে সেটির মধ্য দিয়ে গেছে। আমার মনে হয়েছে, তারা বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই সামলে নিয়েছে।’ পাকিস্তানের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ নভেম্বরে। ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
সংখ্যা দিয়ে যদি দেখা হয় শেন ওয়ার্নকে
সংখ্যা দিয়ে যদি দেখা হয় শেন ওয়ার্নকে

পরিসংখ্যান দিয়ে কি আর শেন ওয়ার্নকে মাপা যায়? তবুও কিছু সংখ্যা জানিয়ে দেয়, কেন তিনি বাকি সবার চেয়ে আলাদা, কেন তিনি অনন্য।  ২০২২ সালে মাত্র ৫২ বছর বয়সে অন্যলোকে চলে যাওয়া ওয়ার্নের আজ জন্মদিন। এই উপলক্ষে সংখ্যার আয়নায় তাঁকে দেখলে কেমন হয়! ১০০১ : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়ার্নের মোট উইকেট। তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট শুধু মুত্তিয়া মুরালিধরনের (১৩৪৭)। ২০০৭ সালে সিডনিতে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টেই চার অঙ্কের এই জাদুকরি মাইলফলকে পৌঁছান ওয়ার্ন।৭০৮ : টেস্ট ক্রিকেটে ওয়ার্নের শিকার। এই সংস্করণে মুরালিধরনের (৮০০) পর যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ৬০০ ও ৭০০ উইকেটের চূড়ায় পা রেখেছিলেন তিনি।৩৭ : টেস্টে এক ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন ৩৭ বার। এখানেও তাঁর সামনে শুধু মুরালিধরন, যিনি ৬৭ বার ইনিংসের অর্ধেক ব্যাটসম্যানকে একাই ফিরিয়েছেন। পাশাপাশি ১০টি টেস্টে ম্যাচে ১০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে ওয়ার্নের।২১ : ব্যাটসম্যানকে ‘কট অ্যান্ড বোল্ড’ করে ফিরিয়েছেন ২১ বার। ড্যানিয়েল ভেট্টোরির সঙ্গে যৌথভাবে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। সামনে শুধু অনিল কুম্বলে ও মুরালিধরন (৩৫)।১৭৬১ : টেস্টে মেডেন ওভারের সংখ্যা। কোনো রান না দিয়ে ওভার শেষ করার তালিকায় টেস্ট ইতিহাসে তিনি দ্বিতীয়, শীর্ষে থাকা মুরালিধরনের মেডেন ১৭৯৪টি।লেগ স্পিনের ‘রকস্টার’ ওয়ার্ন, আর তাঁর চোখে সেরা ১১ ৮ : ২০০২ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের ১০০তম টেস্টে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। শততম টেস্টে ম্যাচ পরিসংখ্যানে যা দ্বিতীয় সেরা। রেকর্ডটি মুরালিধরনের, ২০০৬ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি নিয়েছিলেন ৯ উইকেট।১৯৫ : অ্যাশেজের ইতিহাসে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্লেন ম্যাকগ্রার (১৫৭) চেয়ে যা ৩৮টি বেশি। টেস্টে নির্দিষ্ট একটি দলের বিপক্ষেও এটি কোনো বোলারের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড।১৩৮ : টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে শিকার করেছেন ১৩৮ উইকেট। ম্যাচের শেষ ইনিংসে এত উইকেট নেই আর কারও, এমনকি মুরালিধরন (১০৬) বা সতীর্থ ম্যাকগ্রারও (১০৩) নয়। ১৯৯৪ সালে ব্রিসবেনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭১ রানে ৮ উইকেট নেওয়া ক্যারিয়ার সেরা বোলিংটিও এসেছিল ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে।১০২ : টেস্টে ১০২ বার ব্যাটসম্যানকে শূন্য রানে আউট করেছেন ওয়ার্ন। মুরালিধরনের সঙ্গে যৌথভাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বেশি ১০৪ বার শূন্য রানে ফিরিয়ে শীর্ষে ম্যাকগ্রা।সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পিনার শেন ওয়ার্ন মারা গেছেন ২০২২ সালে।৯৬ : ২০০৫ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে টেস্টে নিয়েছেন ৯৬ উইকেট, যা এক বছরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। ২০০৬ সালে ৯০ উইকেট নিয়ে দুইয়ে মুরালিধরন। ওয়ার্ন ভেঙেছিলেন ১৯৮১ সালে ডেনিস লিলির (৮৫) গড়া ২৪ বছরের পুরনো রেকর্ড।৪০ : ২০০৫ সালের ঐতিহাসিক অ্যাশেজে ৫ ম্যাচের সিরিজে ৪০ উইকেট নিয়েছিলেন ওয়ার্ন। একটি অ্যাশেজ সিরিজে কোনো বোলারের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট। ১৯৫৬ সালে ৪৯ উইকেট নিয়ে শীর্ষে জিম লেকার।১৪৪০ : টেস্টে ২০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছাতে সময় নিয়েছিলেন মাত্র ১৪৪০ দিন, যা দ্রুততম। ১৯৯২ সালের ২ জানুয়ারি অভিষেক হওয়ার পর ১৯৯৫ সালের ১১ ডিসেম্বরই ২০০ উইকেট ছোঁয়া হয়ে যায় ওয়ার্নের।২১৯৬ : দ্রুততম সময়ে ৩০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটিও তাঁর। ১৯৯৮ সালের ৫ জানুয়ারি এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তিনি সময় নেন ২১৯৬ দিন।এই শেন ওয়ার্নকে হয়তো আপনি চেনেন না ২৮ : ২৮ বছর ১১৪ দিন বয়সে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ওয়ার্ন। ৩০ জন ৩০০ উইকেট শিকারির মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ। সর্বকনিষ্ঠ ভারতের কপিল দেবের, যিনি ২৮তম জন্মদিনের পরদিনই এ কৃতিত্ব গড়েছিলেন।১২৫ : টেস্টে ফিল্ডার হিসেবে ক্যাচ নিয়েছেন ১২৫টি। ইয়ান বোথামের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৩০০ উইকেট ও ১০০ ক্যাচের জোড়া কীর্তি গড়েন তিনি। বোথামের ১২০ ক্যাচের বিপরীতে উইকেট ছিল ৩৮৩টি, যেখানে ওয়ার্নের ৭০৮ উইকেটের পাশে ১২৫ ক্যাচ।১৭ : টেস্টে ১৭ বার হয়েছেন ম্যাচসেরা। ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে যা যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। সামনে জ্যাক কালিস (২৩) ও মুরালিধরন (১৯)।৩১৫৪ : সেঞ্চুরি না করে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ড তাঁর। দুবার নব্বইয়ের ঘরে গিয়েও সেঞ্চুরির দেখা পাননি। ২০০১ সালে পার্থে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্যানিয়েল ভেটোরির বলে ৯৯ রানে আউট হন মার্ক রিচার্ডসনের ক্যাচে। আর ২০০৫ সালে ম্যানচেস্টারে সাইমন জোন্সের বলে ৯০ রানে তাঁকে ফেরান অ্যাশলি জাইলস।শেন ওয়ার্ন মানেই চনমনে কিছু ২৯৩ : ওয়ানডেতে উইকেটের সংখ্যা ২৯৩। অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে ব্রেট লি (৩৮০) ও গ্লেন ম্যাকগ্রার (৩৮১) পর যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।৩৭৩ : আট নম্বরে বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে টেস্টে মেরেছেন ৩৭৩টি বাউন্ডারি (৩৩৭টি চার ও ৩৬টি ছক্কা)। টেল এন্ডার হিসেবে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সামনে শুধু ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (৪৫৪ বাউন্ডারি)।৩৪ : টেস্টে ৩৪ বার ডাক (শূন্য রান) মেরেছেন ওয়ার্ন। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যা চতুর্থ সর্বোচ্চ। তাঁর ওপরে আছেন ম্যাকগ্রা (৩৫), ক্রিস মার্টিন (৩৬) ও কোর্টনি ওয়ালশ (৪৩)।৪ : ২০০৪ সালে পরপর ৪ ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন এই লেগ স্পিনার। ১২ মাসের ডোপিং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রত্যাবর্তন টেস্টেই প্রথম ইনিংসে ৫/১১৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৪৩।  ক্যান্ডিতে পরের টেস্টে আবার ৫/৬৫ ও ৫/৯০।প্রয়াত কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন।৪ : ১৯৯৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন ওয়ার্ন। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে যেকোনো স্পিনারের জন্য এটি সেরা বোলিং ফিগার। টুর্নামেন্টে ২০ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের জিওফ অ্যালটের সঙ্গে যৌথভাবে সেরা উইকেটশিকারিও ছিলেন তিনি।৩ : টেস্টে হ্যাটট্রিক করা ইতিহাসের তিন লেগ স্পিনারের একজন তিনি। ১৯৯৪ সালে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন ওয়ার্ন। বাকি দুজন জিম ম্যাথুজ (দুই বার) ও বাংলাদেশের অলক কাপালি।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
টানাপোড়েনের মাঝে চোটে জায়গা হারালেন আলভারেজ
টানাপোড়েনের মাঝে চোটে জায়গা হারালেন আলভারেজ

ট্রান্সফার উইন্ডোতে বন্ধ হয়ে গেলেও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদেই রয়ে গেছেন হুলিয়ান আলভারেজ। এখন আপাতত আর দল বদলের কোনো সম্ভাবনাই নেই। তবে অ্যাটলেটিকোতে আগের জায়গা পুনরুদ্ধারের করা এবং সমর্থকদের মন জয় করাই চ্যালেঞ্জ এখন আর্জেন্টাইন তারকার জন্য। এমন সময়ে আলভারেজ পড়লেন চোটে। ফলে রাখা হয়নি তাকে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াদে। এক বিবৃতিতে তার পেশির চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্লাব। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পেশির সমস্যার কারণে সান সেবাস্তিয়ান সফরে যেতে পারেননি হুলিয়ান। গতকাল অনুশীলনও করেননি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে এই ম্যাচ থেকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ সোসিয়েদাদের মাঠে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার ১টায় (এএম)। গত জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপের সময় অ্যাটলেটিকো ছাড়ার ইচ্ছা পোষণ করেন আলভারেজ। লক্ষ্য ছিল বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার। তাকে পেতে চেষ্টা চালায় ক্লাবটিও। কিন্তু মাদ্রিদের ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত তাকে কিছুতেই বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করতে রাজি হয়নি। তাকে বিক্রি না করায় বিশ্বকাপের পর নামেন অ্যাটলেটিকোর জার্সিতেই। লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে খেলতে নেমে ঘরের মাঠেই ক্লাবের সমর্থকদের থেকে তীব্র দুয়ো শোনেন আলভারেজ। এরপর টানা তিন দিন যোগ দেননি দলের অনুশীলনে। গত সপ্তাহে বিলবাওয়ের বিপক্ষে ৩১ মিনিট খেলেন আলভারেজ। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বলই ছোঁয়নি কেউ, তবু এক মিনিটেই গোল, ফুটবলে হাস্যকর আত্মঘাতী কাণ্ড!
বলই ছোঁয়নি কেউ, তবু এক মিনিটেই গোল, ফুটবলে হাস্যকর আত্মঘাতী কাণ্ড!

ফুটবলে গোল মানেই সাধারণত দারুণ কোনো আক্রমণ, নিখুঁত পাস, দুর্দান্ত শট কিংবা প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নেওয়া। কিন্তু কখনো কখনো এমন গোলও হয়, যা দেখে খেলোয়াড় থেকে দর্শক- সবারই চোখ কপালে ওঠে। ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলে ঘটে যাওয়া এমনই এক কাণ্ড এখন আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায়। ঘটনাটি বেশ পুরোনো। তবে সম্প্রতি সেই ভিডিও আবার ছড়িয়ে পড়েছে। আর ভিডিওটি দেখলে বোঝাই যায়, ফুটবলে কখনো কখনো গোল করার জন্য বল ছোঁয়ারও প্রয়োজন হয় না! ব্রাজিলের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্পোর্ত রেসিফে ও নভোরিজন্তিনো। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যায় নভোরিজন্তিনো। অবাক করার মতো বিষয় হলো, গোলটি করার সময় নভোরিজন্তিনোর কোনো খেলোয়াড় বলেই পা স্পর্ষ করেননি! সতীর্থকে পাস, আর সোজা জালে বল ম্যাচের শুরুতে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছিল স্পোর্ত রেসিফে। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে গোলরক্ষকের দিকে বল বাড়িয়ে দেন ডিফেন্ডার অ্যালিসন ক্যাসিয়ানো। উদ্দেশ্য ছিল খুবই স্বাভাবিক- গোলরক্ষক কাইকে ফ্রাঙ্কার কাছে বল দিয়ে দলীয় পজেশন ধরে রাখা। কিন্তু পাস দেওয়ার মুহূর্তে ক্যাসিয়ানো হয়তো কল্পনাও করেননি, তার এই সাধারণ ব্যাকপাসই মুহূর্তের মধ্যে দলের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে। গোলরক্ষক তখন নিজের জায়গায় ছিলেন না। ফলে তার দিকে আসা বল থামানোর কোনো সুযোগই পাননি তিনি। ক্যাসিয়ানোর দেওয়া বলটি গড়িয়ে সোজা ঢুকে যায় স্পোর্ত রেসিফের জালে। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ও বল স্পর্শ না করেই নভোরিজন্তিনো পেয়ে যায় ১-০ গোলের লিড! এমন গোল দেখে মাঠের খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়াও ছিল অবিশ্বাস্য। কারণ একটি সাধারণ ব্যাকপাস কিভাবে মুহূর্তের মধ্যে আত্মঘাতী গোলে পরিণত হতে পারে, সেটিই যেন চোখের সামনে দেখল সবাই। ভুলটা কার? গোলটির জন্য মূলত রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ও গোলরক্ষকের সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করা হয়েছে। ক্যাসিয়ানো যখন গোলরক্ষকের দিকে বল বাড়ান, তখন ফ্রাঙ্কা নিজের অবস্থান থেকে অনেকটা সামনে ছিলেন। ফলে বল তার নাগালের বাইরে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত গোলের দিকে গড়িয়ে যায়। Meanwhile in Brazil a team took the lead without even touching the ball pic.twitter.com/rJlab2tUY2 — Pulse Sports Nigeria (@PulseSportsNG) September 11, 2026 ফুটবলে গোলরক্ষকের অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনা তারই এক অদ্ভুত উদাহরণ। একটি পাস দেখতে যতটা নিরীহ, ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকা একজন গোলরক্ষকের কারণে সেটিই হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। আর এই গোলের বিশেষত্ব হলো- প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে হয়নি, কোনো শটও নিতে হয়নি। নিজেদের খেলোয়াড়ের একটি পাসই যথেষ্ট ছিল গোলের জন্য! ঘটনাটি এখন পুরোনো হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি আবার ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ফুটবলের অন্যতম অদ্ভুত ও বিব্রতকর গোল হিসেবে দেখছেন। আইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ছোটবেলার বন্ধুকে সান্তোসে পেয়ে উচ্ছ্বসিত নেইমার
ছোটবেলার বন্ধুকে সান্তোসে পেয়ে উচ্ছ্বসিত নেইমার

ছোটবেলার বন্ধুকেই শেষ বয়সে এসে সতীর্থ হিসেবে পেতে যাচ্ছেন নেইমার। সান্তোসে যোগ দিতে যাচ্ছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কৌতিনহো। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কৌতিনহোর ব্যাপারে ঘোষণা দেয়নি সন্তোস। যদিও ক্লাব সান্তোসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে পারলেন না নেইমার। বন্ধুর নতুন ঠিকানা যে সান্তোস- ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করে দিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। শুধু তাই নয়, ছোটবেলার বন্ধু ফিলিপে কৌতিনহোকে নতুন ক্লাবে স্বাগতও জানালেন তিনি। কৌতিনহোর সান্তোসে যোগ দেওয়ার খবরটি নেইমার নিজেই যেন ‘ফাঁস’ করে দিলেন। একটি ভিডিও পোস্ট করে বন্ধুকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আবেগঘন বার্তাও লিখেছেন ব্রাজিলের এই তারকা। ‘এটা যদি স্বপ্ন হয়, তাহলে আমি জেগে উঠতে চাই না’- কৌতিনহোকে স্বাগত জানিয়ে এমনই লিখেছেন নেইমার। দুই বন্ধুর সম্পর্ক অবশ্য আজকের নয়। কৈশোর থেকেই একে অপরকে চেনেন নেইমার ও কৌতিনহো। বয়সভিত্তিক ব্রাজিল দল থেকে শুরু করে পরে জাতীয় দলের সিনিয়র পর্যায়েও একসঙ্গে খেলেছেন তারা। তবে ক্লাব ফুটবলে এতদিন পর্যন্ত একই দলের জার্সিতে দেখা যায়নি দু’জনকে। এবার সেই অপেক্ষারও অবসান হতে যাচ্ছে। সান্তোসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই কৌতিনহোকে স্বাগত জানিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেন নেইমার। ভিডিওতে কৌতিনহোও বন্ধুকে ধন্যবাদ জানান। তার কথায় ইঙ্গিত মেলে, সান্তোসে আসার পেছনে নেইমারেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। অর্থাৎ শুধু একই ক্লাবে খেলার সুযোগ নয়, কৌতিনহোর সান্তোসে ফেরার পথ তৈরিতেও নেইমারের প্রভাব ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবার রূপ নিতে যাচ্ছে ক্লাব সতীর্থতায়। নেইমার ও কৌতিনহোর বন্ধুত্বের শুরু ব্রাজিলের যুব দলের সময় থেকে। বয়সভিত্তিক দলের হয়ে একসঙ্গে খেলার পর জাতীয় দলের জার্সিতেও তারা বহু ম্যাচে পাশাপাশি ছিলেন। কখনো কখনো ক্লাব ফুটবলে একে অপরের প্রতিপক্ষও হয়েছেন। কিন্তু একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে। ৩৪ বছর বয়সী কৌতিনহো সান্তোসে যোগ দিচ্ছেন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে। ভাস্কো দা গামার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর সান্তোসের সঙ্গে তার চুক্তির প্রক্রিয়া এগোয়। মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছেন তিনি। সান্তোসের সঙ্গে কৌতিনহোর চুক্তিটি স্বল্পমেয়াদি হওয়ার কথা। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরই ক্লাবের পক্ষ থেকে তার আগমনের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আনুষ্ঠানিকতার আগেই নেইমারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে খবরটি প্রকাশ্যে চলে আসে। বন্ধুর নতুন ক্লাবে আসার আনন্দ তাই আর ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। সান্তোসের ঘোষণা দেওয়ার আগেই তিনি নিজের মতো করে কৌতিনহোকে স্বাগত জানিয়ে দিলেন। আইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
দক্ষিণ কোরিয়ায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা
দক্ষিণ কোরিয়ায় এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা

  দক্ষিণ কোরিয়া সফর উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় খিম্পু শহরের খিম্পু ফরেন সাপোর্ট সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স, দক্ষিণ কোরিয়া। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ছাড়াও নানান শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ডায়াস্পোরা সদস্যদের এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখন প্রবাসীরা মুক্তির আশা জাগিয়ে রেখেছিল। গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের মতো জুলাই সনদ ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেও প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ববাসীকে অবহিত করতে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা করেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার অব্যাহত রাখতে এনসিপি কাজ করে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, কোরিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরা জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা চাই আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার পলিসিতেও তারা ভূমিকা রাখবে। আমি এসেছিলাম গোয়াংজু ডেমোক্রেসি ফোরামে। এখানে এসে কোরিয়ার অভ্যুত্থান ও গণতান্ত্রিক লড়াই দেখেছি। আগামীতে বাংলাদেশের লড়াই-সংগ্রামকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের মরদেহ বিনা মূল্যে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা, কোরিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দালালদের অপতৎপরতা রোধ, বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ এবং দেশে প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয়ে অধিক অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান তারা। অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য আয়মান রাহাত, এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স দক্ষিণ কোরিয়ার আহ্বায়ক আরিফুর রহমান ও সদস্য সচিব বাবুল মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

News মে ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?
জাতীয়

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0