লাইফস্টাইল

নীল দহন
নীল দহন

টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা
ফরমাল পোশাকে গ্ল্যামারাস দেখালেন কিয়ারা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা  এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়
ঘুম ঠিক না হলে কী হয়? জানুন সুস্থ থাকার সহজ উপায়

ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
বন্ধুতা, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা: কীভাবে সামলাবেন ব্যস্ত জীবনে

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা।   ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন।   শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।”   কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে।   বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।

জানিফ হাসান জুন ২৮, ২০২৫ 0
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?
শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব?

শহুরে জীবনে গ্রিন লাইফস্টাইল: চাইলেই কি সম্ভব? শহর মানেই ব্যস্ততা, কংক্রিটের জঙ্গল, দূষিত বাতাস, এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দ। এই যান্ত্রিক পরিবেশে বসবাস করা মানুষ প্রতিদিন একটু সবুজ, একটু প্রশান্তি খোঁজে। তাই ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ বা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ধারণা শহরের মানুষদের মাঝেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই শহুরে বাস্তবতায় আমরা কি সত্যিই গ্রিন লাইফস্টাইল মেনে চলতে পারি? গ্রিন লাইফস্টাইল মানে শুধু গাছ লাগানো নয়। এটি একটি সামগ্রিক জীবনধারা, যেখানে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থানের চেষ্টা থাকে। যেমন—প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জিনিস ব্যবহার করা, গাছ লাগানো, অর্গানিক খাবার খাওয়া, কম দূষণ হয় এমন বাহনে চলাচল করা, বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয় করা, এমনকি নিজস্ব ছাদে সবজি চাষ করাও এর অংশ হতে পারে। কিন্তু শহরে এই সবকিছু কি সহজে করা যায়? উত্তরটা একদম সরল নয়। শহরের বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় জায়গার অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফ্ল্যাটে থাকলে ছাদে বাগান করা যায় না, রান্নার সময় প্লাস্টিক প্যাকেট এড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে কারণ বাজারে সহজলভ্য জিনিসপত্রের বেশিরভাগই প্লাস্টিক মোড়ানো। তাছাড়া, ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে সময় বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশার কথা হলো, ইচ্ছা থাকলে উপায় বের করা যায়। শহুরে জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বদলেই শুরু করা যায় সবুজ যাত্রা। যেমন ধরুন, কেউ যদি বাজারের ব্যাগ হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করেন, বা পানির বোতল বারবার রিফিল করেন, তবুও তিনি পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখছেন। অফিসে যাওয়ার সময় যদি বাস বা সাইকেল ব্যবহার করা যায়, তাহলেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমে। অনেক শহরেই এখন কমিউনিটি গার্ডেন, ছাদ কৃষি, সোলার প্যানেল স্থাপন, কিংবা জিরো ওয়েস্ট মুভমেন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরেও অনেকে নিজেদের ব্যালকনিতে টব বসিয়ে ছোট পরিসরে সবজি ফলাচ্ছেন, কেউ আবার সোলার লাইট ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছেন। তবে এই চর্চা টেকসই করতে হলে প্রয়োজন নীতিনির্ধারকদের সহায়তা। শহরের পরিকল্পনায় আরও বেশি সবুজ এলাকা, হাঁটার রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, এবং রিসাইক্লিং ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি জরুরি। সরকার যদি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ভর্তুকি দেয় বা সচেতনতা বাড়ায়, তাহলে মানুষ আরও সহজে গ্রিন লাইফস্টাইল গ্রহণ করতে পারবে। শহুরে জীবন যতই ব্যস্ত হোক না কেন, যদি সচেতনতা থাকে এবং ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ‘গ্রিন লাইফস্টাইল’ একেবারেই অসম্ভব নয়। বরং, এটি হতে পারে একটি শান্ত, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই জীবনের সূচনা। আমাদের সবারই উচিত নিজ নিজ জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, পরিবেশবান্ধব পন্থায় জীবনযাপন করার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃতি বাঁচলেই আমরা বাঁচব—এই সত্যটা আজ আরও বাস্তব হয়ে উঠেছে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
নতুন প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাস: ফাস্টফুড বনাম পুষ্টিকর খাবার

সময় বদলেছে, বদলে গেছে আমাদের খাবারের অভ্যাসও। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে এখন খাবার মানেই যেন ফাস্টফুড—বার্গার, পিজ্জা, ফ্রাইড চিকেন, নুডলস বা কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস। হেঁসেলে মায়ের রান্না করা ভাত-ডাল-সবজি কিংবা ফলমূলের প্রতি আগ্রহ অনেক কমে গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের মূল কারণ প্রযুক্তি ও জীবনের গতি। স্মার্টফোনে স্ক্রল করতে করতে খাবারের অর্ডার দেওয়াটা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস কিংবা বন্ধুদের আড্ডা—সবখানেই ফাস্টফুড এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।   ফাস্টফুডের কড়চা ফাস্টফুড খেতে যতটা আকর্ষণীয়, এর স্বাস্থ্যঝুঁকি ততটাই ভয়ের বিষয়। অতিরিক্ত তেল, চিনি ও প্রিজারভেটিভ থাকায় এসব খাবার নিয়মিত খেলে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।   নিউট্রিশনিস্ট ডা. সাদিয়া রহমান বলেন, “নতুন প্রজন্মকে শুধু ফাস্টফুড থেকে বিরত রাখতে বললে হবে না, তাদেরকে স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। খাবার যে শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়, বরং সুস্থ থাকার জন্য—এই বার্তাটা পৌঁছাতে হবে।”   পুষ্টিকর খাবার কি হার মানছে?   দেশি ফলমূল, ডাল, শাকসবজি, ডিম, দুধ—এসবই আমাদের খাবারের ঐতিহ্য। কিন্তু অনেক তরুণ এখন এসবকে 'বোরিং' মনে করেন। অথচ ঠিকমতো রান্না বা পরিবেশন করলে পুষ্টিকর খাবারও হতে পারে সুস্বাদু ও আকর্ষণীয়।   শিশুদের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে অভিভাবকদের ভূমিকাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি না হলে শিশুরাও সহজেই ফাস্টফুডের প্রতি ঝুঁকে পড়ে।   সমাধান কী হতে পারে?   ১. স্কুলে পুষ্টি শিক্ষা চালু করা। ২. মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচার। ৩. হোমমেড ফাস্টফুডের বিকল্প শেখানো। ৪. পরিবারে নিয়মিত ফল ও সবজি রাখা। ৫. সাপ্তাহিক ফাস্টফুড 'ডে' নির্ধারণ করে মাত্রা বজায় রাখা।   খাদ্য শুধু স্বাদের জন্য নয়, বরং শরীর ও মনের বিকাশের জন্য। নতুন প্রজন্ম যদি এখনই নিজেদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে সচেতন না হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

তাসনিম ফারাহ জুন ২৬, ২০২৫ 0
স্মার্টফোন আসক্তি বনাম মানসিক স্বাস্থ্য
স্মার্টফোন আসক্তি বনাম মানসিক স্বাস্থ্য: কিশোর-কিশোরীদের জন্য করণীয়

বর্তমান যুগে স্মার্টফোন কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়—এটি বিনোদন, শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ, এমনকি আত্মপ্রকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু যখন এই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে আসক্তি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনে।   📉 কীভাবে স্মার্টফোন আসক্তি ক্ষতি করছে কিশোরদের?   ১. ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের সময় হ্রাস করে এবং মানসিক অবসাদ তৈরি করে। ২. মনোযোগ কমে যাওয়া: পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ৩. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: ভার্চুয়াল জগতে ডুবে গিয়ে বাস্তব সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়। 4. নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক অনুভূতি: সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের 'পারফেক্ট' জীবন দেখে হীনমন্যতা জন্ম নেয়। ৫. উদ্বেগ ও অবসাদ: প্রতি মিনিটে নোটিফিকেশন চেক করা, প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে।   ✅ কিশোর-কিশোরীদের জন্য করণীয়   ১. ডিজিটাল ডিটক্স পরিকল্পনা করুন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ফোন ছাড়া থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া বা হাঁটতে যাওয়া হতে পারে বিকল্প। ২. স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করুন স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে দৈনিক স্ক্রিন টাইম সীমাবদ্ধ করে দেওয়া যায়। ৩. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সচেতনতা সব কিছু শেয়ার না করা, অনলাইন নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা, এবং আত্মমর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। ৪. শখ ও সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিন ড্রইং, গান, লেখালেখি, খেলাধুলা বা কোনো নতুন দক্ষতা অর্জন স্মার্টফোনের বিকল্প হতে পারে। ৫. মাইন্ডফুলনেস ও মেডিটেশন অনুশীলন করুন মনের প্রশান্তি ও স্ট্রেস কমাতে ধ্যান বা মাইন্ডফুলনেস কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ৬. অভিভাবকদের সহযোগিতা জরুরি অভিভাবকদের উচিত কিশোরদের ফোন ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা, কিন্তু নজরদারির চেয়ে বন্ধুর মতো আচরণ করা আরও কার্যকর।   🧠 মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন কেন গুরুত্বপূর্ণ? কিশোর বয়সে মানসিক স্বাস্থ্য সবচেয়ে নাজুক থাকে। এই সময়টাই হলো আত্মপরিচয়ের গঠনকাল। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারে, তৈরি করতে পারে বিচ্ছিন্নতা ও আত্মহীনতা। তাই প্রযুক্তিকে বন্ধুর মতো ব্যবহার করলেও, সেটির দাস না হওয়াই শ্রেয়।   ✨ উপসংহার স্মার্টফোন আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, ভারসাম্য এবং বিকল্প অভ্যাস। কিশোরদের উচিত নিজেকে ভালোবাসা শেখা, বাস্তব জগতে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করা, আর স্মার্টফোনকে যেন "সহায়ক", কিন্তু "শাসক" না বানানো।

News জুন ২৫, ২০২৫ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?
জাতীয়

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0