ধর্ম ও জীবন

শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে?
শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন: শেষ বৈঠকে দুইবার দরুদ পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে? উত্তর: নামাজের শেষ বৈঠকে দরুদ দুইবার পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। তবে দরুদ একবার পড়াই নিয়ম। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা যাবে না। ভুলে হলে অসুবিধা নেই। বৈঠক বা হাঁটুগেড়ে বসা নামাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নামাজের প্রতি দুই রাকাত পর বৈঠক করতে হয়। দুই রাকাতবিশিষ্ট নামাজের শেষে বৈঠক করা ফরজ, চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের প্রথম দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ওয়াজিব এবং শেষের বৈঠক ফরজ। নামাজের প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া সুন্নত। আরও পড়ুন অপ্রয়োজনে গলা খাঁকারি দিলে কি নামাজ ভেঙে যাবে? চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুআকক্কাদা নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পরে আর কিছু পড়া যায় না। কেউ যদি ভুল করে এ সব নামাজের প্রথম বৈঠকে দরুদ বা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। তবে চার রাকাতবিশিষ্ট নফল নামাজের প্রথম বৈঠকে দরুদ শরিফ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া যায়; বরং ফকিহরা চার রাকাতবিশিষ্ট নফল নামাজের প্রথব বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ ও দুআয়ে মাসুরা পড়া উত্তম বলেছেন। তাই কেউ যদি নফল নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ইচ্ছাকৃত বা ভুল করে দরুদ বা দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে ফেলে, তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। অর্থ ও উচ্চারণসহ দরুদে ইবরাহিমি اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা বারাকতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম-মাজিদ। অর্থ: হে আল্লাহ! উম্মি নবি মুহাম্মাদের ওপর এবং মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিমের ওপর এবং ইবরাহিমের পরিবারের ওপর। উম্মি নবি মুহাম্মাদ ও তার পরিবারকে বরকত দান করুন, যেমন ইবরাহিম ও তার পরিবারকে বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। (সুনানে দারাকুতনি) আরও পড়ুন শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেলে কসর নামাজ পড়তে হবে? ওএফএফ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
যত হাসি তত কান্না বলেছেন রামসন্না, কে ছিলেন এই ‘রামসন্না’?
যত হাসি তত কান্না বলেছেন রামসন্না, কে ছিলেন এই ‘রামসন্না’?

‘যত হাসি তত কান্না, বলে গেছে রাম সন্না’ বাংলা ভাষায় বহুল পরিচিত একটি প্রবাদ। কারো জীবনে যখন অতিরিক্ত আনন্দ আসে, তখন বয়স্করা অনেক সময় সতর্ক করে বলেন, ‘বেশি হাসতে নেই, যত হাসি তত কান্না।’ কথাটির মধ্যে রয়েছে জীবনের সুখ-দুঃখের ওঠানামার একটি সহজ দর্শন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই রাম সন্না আসলে কে? সত্যিই কি এমন কোনো ব্যক্তি ছিলেন, যিনি এই কথা বলে গিয়েছিলেন? রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত পরিচয় হলো তিনি ছিলেন রামশংকর শর্মা। তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। রামশংকর শর্মা নামে এমন একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন এবং তার জীবনী ‘আত্মচরিত’ নামে একটি বই লিখেছিলেন এমন একটি কাহিনি বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় গোয়েন্দা উপন্যাসে পাওয়া যায়। কিন্তু স্বাধীন ঐতিহাসিক সূত্রে এই ব্যক্তির জীবন ও প্রবাদটির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ সহজে পাওয়া যায় না। আরও পড়ুন নেতারও ছাড় নেই, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ঠান্ডা পানিতে চুবানো হয়! রাম সন্নাকে নিয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত গল্পটি পাওয়া যায় কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের কর্নেল সিরিজের ‘বলে গেছেন রাম সন্না’ বইয়ে। সেখানে কর্নেল নীলাদ্রি সরকার রাম সন্নার পরিচয় হিসেবে ‘রামশংকর শর্মা’ নামটি উল্লেখ করেন। বইয়ের কাহিনি অনুযায়ী, রামশংকর অল্প বয়সে বাড়ি ছেড়ে জাহাজে সি-বয়ের চাকরি নেন। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। জীবনের শেষদিকে নদিয়ার একটি গ্রামে ফিরে এসে নিজের পৈতৃক ভিটায় বড় বাড়ি তৈরি করেন। সেই কাহিনিতে আরও বলা হয়েছে, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় রামশংকর গোপনে বিদ্রোহীদের অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। এ কারণে ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে তার বিচার হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়। ফাঁসির সেলে থাকার সময় তিনি নিজের জীবনী ‘আত্মচরিত’ লিখেছিলেন বলেও উপন্যাসে উল্লেখ রয়েছে। পরে তার ভাই শ্যামশংকর সরকারের অনুমতি নিয়ে বইটি প্রকাশ করেন। শুনতে অনেকটা ইতিহাসের গল্পের মতো হলেও সমস্যা হলো, এই তথ্যগুলোর বড় অংশই পাওয়া যায় কথাসাহিত্যের ভেতরে। ফলে উপন্যাসে বর্ণিত ঘটনাগুলোকে সরাসরি ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। এমনকি রাম সন্নার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে যেসব লেখালেখি হয়েছে, সেখানেও এই তথ্যের নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আরও পড়ুন ৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে তাহলে প্রবাদটি এলো কীভাবে? এখানেও নিশ্চিত ইতিহাসের বদলে লোকমুখে প্রচলিত ভাষার বিবর্তনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। বাংলার লোকজ প্রবাদে কোনো একটি কথা অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে প্রচলিত হয়ে যায়। সেই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় সময়ের সঙ্গে অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। ‘রাম সন্না’ও তেমন কোনো লোকচরিত্র বা প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়ে থাকতে পারেন। প্রবাদটির মূল বক্তব্য অবশ্য বেশ পরিষ্কার। জীবনে যেমন আনন্দ আছে, তেমনি দুঃখও আছে। অতিরিক্ত আনন্দের পর হতাশা আসতে পারে, সুখের সময়ের পর কঠিন সময়ও আসতে পারে। তাই কথাটি মূলত মানুষকে জীবনের উত্থান-পতন সম্পর্কে সচেতন করে। অর্থাৎ ‘যত হাসি তত কান্না’ কথাটি আক্ষরিক অর্থে যতবার হাসা হবে, ঠিক ততবার কাঁদতে হবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক বা গাণিতিক নিয়ম নয়। এটি জীবনের ভারসাম্য ও অনিশ্চয়তার একটি রূপক ব্যাখ্যা। বাংলা সাহিত্যেও এই প্রবাদের ব্যবহার বেশ পুরোনো ও পরিচিত। হুমায়ূন আহমেদের ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে ‘যত হাসি তত কান্না, কহে গেল রাম সন্না’ এই ছন্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রবাদটি শুধু মুখে মুখে নয়, বাংলা কথাসাহিত্যের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছে। আহসান হাবীবও তার একটি বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘যত হাসি তত কান্না বলে গেছে রাম সন্না’। বইটির নামের মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, রাম সন্না নামটি বাংলা সংস্কৃতিতে কতটা পরিচিত একটি প্রবাদপ্রতিম চরিত্রে পরিণত হয়েছে। তবে তিনিও রাম সন্নার নিশ্চিত ঐতিহাসিক জীবনী তুলে ধরেছেন এমন প্রমাণ নেই। আরেকটি মজার বিষয় হলো, ‘রাম সন্না’ নামটি নিয়েও ভিন্নতা দেখা যায়। কোথাও ‘রাম সন্না’, কোথাও ‘রাম সন্যা’, আবার কোথাও রামশংকর শর্মার সঙ্গে নামটি যুক্ত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুখে মুখে চলতে চলতে প্রবাদের শব্দ ও চরিত্রের পরিচয়েও পরিবর্তন এসেছে। আরও পড়ুন সিলেটের আছে নিজস্ব বর্ণমালা, ঐতিহ্য ফিরছে সাইনবোর্ডে তবে এই প্রবাদের জনপ্রিয়তার আসল কারণ সম্ভবত রাম সন্নার পরিচয় নয়, বরং কথাটির সহজ জীবনদর্শন। মানুষ আনন্দের সময় যেমন ভবিষ্যৎ ভুলে যায়, তেমনি দুঃখের সময়ও মনে হয় এই পরিস্থিতি বুঝি আর শেষ হবে না। ‘যত হাসি তত কান্না’ সেই দুই অবস্থার মাঝখানে দাঁড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় জীবন কখনো একই রকম থাকে না। তাই রাম সন্না সত্যিই ইতিহাসের কোনো ব্যক্তি ছিলেন, নাকি লোককথা ও সাহিত্যের হাত ধরে তৈরি হওয়া এক প্রবাদপ্রতিম চরিত্র তার নিশ্চিত উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। রামশংকর শর্মা সম্পর্কিত কাহিনির উল্লেখ থাকলেও সেটিকে ঐতিহাসিক সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করার মতো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার পরিচয় যতই অস্পষ্ট হোক, বাংলা ভাষার প্রবাদে রাম সন্না বেশ পরিচিত। আর তার নামে চালু হওয়া একটি ছোট্ট বাক্য আজও বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয় জীবনে যেমন হাসি আছে, তেমনি কান্নাও আছে। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ, সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি
আজ পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ, সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি

  আজ মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক পবিত্র স্থান পবিত্র কাবা শরিফ বার্ষিক ধৌতকরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে সুশোভিত হবে। এ উপলক্ষে দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সাধারণ কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ও কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত যত্ন, শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হবে, যা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরিফের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও কাবা শরিফ ধৌতকরণ কার্যক্রম সুপরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে প্রস্তুতি পর্বে সকল প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ধৌতকরণ ও সুগন্ধিকরণের জন্য বিশেষ মিশ্রণ প্রস্তুত করা হয়। এ মিশ্রণে ব্যবহার করা হয় ১৫ লিটার পবিত্র জমজমের পানি, ১৫ লিটার তাইফের গোলাপ পানি, ১৫ লিটার গোলাপ তেল এবং ১০০ মিলিলিটার উৎকৃষ্ট মানের উদ (আগর) তেল। এ ছাড়া ধৌতকরণ চলাকালে কাবার গিলাফ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে দরজার আবরণের নিচের অংশ সতর্কতার সঙ্গে উপরে তুলে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় মূল ধৌতকরণ পর্ব। বিশেষভাবে প্রস্তুত করা কাপড়ের সাহায্যে জমজমের পানি ও তাইফের গোলাপ পানির মিশ্রণ দিয়ে কাবা শরিফের অভ্যন্তরের দেয়াল, স্তম্ভ এবং মেঝে ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়। সবশেষে সুগন্ধিকরণ ও ধূপন পর্ব। এ সময় কাবা শরিফের ভেতরের দেয়াল ও কোণাগুলো উৎকৃষ্ট মানের উদ তেল ও আম্বর দিয়ে সুগন্ধিত করা হয়। পরে মনোমুগ্ধকর সুগন্ধি ও ধূপের সুবাসে কাবার অভ্যন্তর ভরে ওঠে। এই আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রতিবছর মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে নতুন আবেগ ও ভালোবাসার সঞ্চার করে। দুই পবিত্র মসজিদের সাধারণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণ ও সরঞ্জাম আগেভাগেই সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশুদ্ধতা, নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করেই সম্পন্ন করা হবে কাবা শরিফ ধৌতকরণের এই আধ্যাত্মিক আয়োজন

News জুন ৩০, ২০২৬ 0
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ বাংলাদেশি
হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ বাংলাদেশি

  পবিত্র হজ পালন শেষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ৬৪ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। এ বছর হজ করতে গিয়ে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। বুধবার (২৪ জুন) হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। হজ অফিস জানায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এদিকে চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ৮৮০ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

News জুন ২৪, ২০২৬ 0
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

Top week

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?
জাতীয়

লোহিত সাগরে হুথির আধিপত্যে ইরানের লাভ কোথায়?

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0