ফ্যাসিস্টদেরও সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী থাকে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, একটি গান বা একটি কলি সমাজে বা রাষ্ট্রে সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে। একটি গান ও একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘একজন নেতার কথা বলছি’ শীর্ষক গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রিজভী বলেন, বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা...’, ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি...’-এ ধরনের একটি গান বা কলি সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে সমাজে বা রাষ্ট্রে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আসামে একটি গানের কারণে একজন শিল্পীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কারণ সেখানে কট্টরপন্থি সরকার ছিল। একটি গান, একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি অ্যাটম বোমার চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। যা স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মী বাহিনী যেই রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনে থাকবে না, সেই আন্দোলন কখনোই সফল হবে না। এটা হচ্ছে বড় বড় মনীষীদের কথা। প্রতিটি বৃহত্তর স্বাধীনতার সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক প্রতিটি বিপ্লবে মূল সৈনিক হচ্ছে সাংস্কৃতিক বাহিনী। সাংস্কৃতিক বাহিনী হচ্ছে প্রত্যেকটি আন্দোলনের অগ্রগামী, অগ্রসেনানী। তারা যদি সুসংগঠিত না থাকে, তাহলে আন্দোলন সফল হয় না। পৃথিবীর দেশে দেশে দেখা গেছে, ফ্যাসিস্টদেরও সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী থাকে। হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসকের অনেক বড় বড় সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী ছিল। কিন্তু শিল্পী হলেই যে মানবতাবাদী হবে, তা নয়। আরও পড়ুন গান ও শিল্পীর শক্তি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে: রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আজকে রোকেয়া প্রাচীরা শেখ হাসিনার গুণগান গাইছে এবং বহু চক্রান্তের মধ্যে তারা জড়িত হচ্ছে। এরইমধ্যে আপনারা দেখেছেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হলেই যে তার মন উদার ও মানবতাবাদী হবে, তা কিন্তু নয়। সেই ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, যার মধ্যে নজরুলের (জাতীয় কবি) গুণাবলি রয়েছে। নজরুলের গুণাবলি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য যার ভেতর আছে, সেই হবে প্রকৃত অর্থে শিল্পী। তিনি আরও বলেন, আহনাফ, মুগ্ধ, আবু সাঈদ-এদের যে মহিমান্বিত আত্মদান, তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরানো, সাদা শার্ট রক্তে লাল হওয়া, কিন্তু ওরা দেখেনি। তাদের চোখ দিয়ে তারা দেখেনি। ওরা কত বদ্ধ ও কত সঙ্কীর্ণ যে, একই দেশের মানুষ হয়ে তারা একটা ভয়ঙ্কর ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করেছে। জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবুর সভাপতিত্বে এবং জাসাসের সদস্য খালেদ এনাম মুন্নার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল, শাম্মী আক্তার এমপি ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন প্রমুখ। কেএইচ/এএমএ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্পিডবোট ও স্টিলের বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়াও এই ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় গ্রামের রায়হান ভূঁইয়ার ছেলে মো. দয়াল মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার বরারচর গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে সজীব মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে এক অসুস্থ রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়ে স্পিডবোটটি চাতলপাড় ফিরে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি স্টিলের বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দয়াল মিয়া ও সজীব মিয়া নামের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে এলে এরমধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে যায় পুলিশ। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। আবুল হাসনাত মো. রাফি/এএমএ
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা ও পুরস্কার পেয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিল তথ্যচিত্র ‘নাজা’। তবে উৎসবে সাফল্যের পর এবারই কঠিন চাপের মুখে পড়েছেন ছবিটির দুই নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন। সম্প্রতি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’র প্রদর্শনী ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ছবিটির প্রদর্শনী শেষে দর্শকেরা প্রায় ২৪ মিনিটের দীর্ঘ করতালি দেন, যা উৎসবটির ইতিহাসে দীর্ঘতম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ছবিটির নির্মাতারা তাদের কাজের জন্য বিশেষ জুরি পুরস্কারও পান। তবে ছবিটির বিষয়বস্তু নিয়ে ইসরায়েলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ‘নাজা’তে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড ও এর পেছনের ব্যবস্থাগুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে ছবিটির আনুষ্ঠানিক পরিচিতিতে বলা হয়েছে। ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার ছবিটিকে ‘চমকপ্রদ’ বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি নির্মাতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি এই দুই নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেবেন। মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, নির্মাতারা বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলবিরোধী মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নিজেদের দেশের ক্ষতি করছেন। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভেনিসে পুরস্কার গ্রহণের সময় ইউভাল আব্রাহাম বলেন, ছবিটি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের সমালোচনা করা তার জন্য সহজ নয়। তার দাবি, ছবিটি না দেখেই অনেকে এর সমালোচনা ও অস্বীকার করছেন। আব্রাহাম আরও বলেন, কোনো অপরাধ অস্বীকার করাই সেটিকে টিকে থাকতে সহায়তা করে। তাই ইসরায়েলি নাগরিকদের এই ছবি দেখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদেরও ছবিটি দেখার আহ্বান জানান নির্মাতা। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা পাওয়ার পর ‘নাজা’ এখন রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে। ছবিটির দুই নির্মাতাকে নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। এলআইএ
এই রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ এমন মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, একটা আনপপুলার অপিনিয়ন দেই। ১১ হাজার কোটি না, আমি যদি এর ১% অর্থাৎ ১১০ কোটি টাকারও দুর্নীতি করতাম তাহলে দুদক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানই আমার বিরুদ্ধে কিছু করতো না। এই করাপ্টেড রাষ্ট্রে পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ লেখেন, জায়গামতো সালামি আর গিফ্ট পাঠিয়ে দিলে হাজার হাজার অভিযোগও কখনো অনুসন্ধানের মুখ দেখতো না। মাঝেমধ্যে মনে হয় সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। শুধু টাকা থাকার কারণে এস আলমরা টিকে যায় রাষ্ট্রের লাখ কোটি টাকা লোপাট করেও। এনসিপির এই নেতা লেখেন, বড় বড় নেতার ছেলেদের সঙ্গে সমঝোতা করে বিসিবি ডিরেক্টর না বানানো, সমঝোতা করে ফ্যাসিবাদের আইকন খেলোয়াড়কে দেশে না আনা, জোর করে সিটি করপোরেশনে বসতে সহযোগিতা না করা, গণপ্রতিরক্ষা বাস্তবায়নে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু, ভারতীয় দূতাবাসসহ ডিপ্লোমেটিক এরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম ফেলানীর নামে নামকরণ করাসহ ভুড়ি ভুড়ি বোল্ড কাজ করার পরেও যে এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে বেঁচে আছি এটাই অনেক। আরও পড়ুন আসিফ মাহমুদ / বিদেশে ১ পয়সা বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেবো পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, আমি আমার নীতি, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণের প্রশ্নে কখনো মাথানত করিনাই। শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই সমঝোতা না করে বোল্ড পজিশন বা চ্যালেঞ্জ নেওয়াকে আমার ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। রাজনীতিতে কম্প্রোমাইজ করে চললে হয়তো অনেক ভালো থাকতে পারতাম, তবে বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকা লাগতো সারাজীবন। শেষে তিনি লেখেন, এমন বড় বড় ক্ষমতাবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রের সঙ্গে আপস করিনি যাদের কথা এই রাষ্ট্রের কেউই সহজে ফেলার সাহস করে না। এমনটা তো হওয়ারই ছিল। এএমএ
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক ও তাঁর ছেলে জিয়াউল হকের নামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর পাশাপাশি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ার কথাও বলেছে সংস্থাটি। এসব অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।সোমবার দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। দুদক সূত্র জানায়, রুহুল হকের নামে ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৮৬২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৩০ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ টাকা। এ ছাড়া তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ১১২ টাকা।সব মিলিয়ে রুহুল হকের নিট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ কোটি ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। এর বিপরীতে তাঁর নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। অর্থাৎ ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুদক।দুদক আরও জানায়, রুহুল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ৩৯টি হিসাবে ৬৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৯ টাকা জমা এবং ৫১ কোটি ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৮০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে হিসাবগুলোতে ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯৯ টাকা স্থিতি রয়েছে।দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব অর্থের বৈধ উৎসের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বারবার অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।এসব অভিযোগে রুহুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।ছেলের নামে সাড়ে ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদরুহুল হকের ছেলে জিয়াউল হকের নামেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের খোঁজ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। সংস্থাটি জানায়, জিয়াউলের নামে ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদ ১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৩ টাকা।জিয়াউল হকের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৪২ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ টাকা। ব্যয়সহ তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৮ টাকা। তাঁর নামে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ ৫ হাজার ৬৩৮ টাকা। এতে জিয়াউল হকের নামে ৮ কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়েছে দুদক।দুদকের তথ্যানুযায়ী, জিয়াউল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ১৫টি হিসাবে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৭ টাকা জমা এবং ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ১ হাজার ৪৭৬ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩৬১ টাকা স্থিতি রয়েছে।দুদকের অভিযোগ, জিয়াউল হকও এসব অর্থের বৈধ উৎসের তথ্য দিতে পারেননি। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেনদেনের স্তর তৈরি করে অর্থের উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে তুলে নিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও দুই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ সোমবার নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দেন।প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন নগর পুলিশের এলআইসি শাখার এসি শরীফুল আলম চৌধুরী, এএসআই বশির উদ্দিন এবং রেশন শাখার এএসআই মো. সুফিয়ান। এসি শরীফুলকে নগর পুলিশের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর দুই এএসআইকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার তদন্তে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পিএমও) মো. বদরুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪ সেপ্টেম্বর নগরের হালিশহর থানার কে-ব্লক এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল ও তাঁর বন্ধু মো. মনসুরকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, শাকিল অনলাইন জুয়ার এজেন্ট এবং তাঁর মুঠোফোনে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বাইন্যান্স ডলার রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় এলআইসি শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এসি শরীফুল তাঁর কক্ষে তাঁদের কাছে প্রথমে এক কোটি টাকা দাবি করেন। পরে দর-কষাকষির পর শাকিলের মুঠোফোনে থাকা সাড়ে ১২ হাজার বাইন্যান্স ডলার ও নগদ ১০ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।শাকিলের অভিযোগ, শুরুতেই তাঁর বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় সাড়ে ১০ হাজার ডলার অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। পরে সিটি ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা বাইন্যান্সের মাধ্যমে ডলারে রূপান্তর করে নেওয়া হয়। এ ছাড়া দামপাড়া পুলিশ লাইনের পাশে ব্র্যাক ব্যাংকের এটিএম বুথে নিয়ে তাঁকে দিয়ে আরও টাকা তোলানো হয়। আর্থিক মুঠোফোন সেবাদাতা অ্যাপের মাধ্যমেও নেওয়া হয় ৮০ হাজার টাকা।শাকিলের ভাষ্য, পরদিন আরও পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে তাঁর গাড়ি হস্তান্তর করা হয়। তবে তাঁর ১৪টি মুঠোফোন রেখে দেন এসি শরীফুল।আখতারুজ্জামান শাকিল প্রথম আলোকে বলেন, গেম খেলাকে জুয়া হিসেবে উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় তিনি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। মুঠোফোনে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও থাকায় তিনি আরও বেশি আতঙ্কিত ছিলেন। মুঠোফোনগুলো ফেরত পাওয়ার জন্য একটি আইফোন দেওয়ার দাবি করা হয়। তা না হলে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।শাকিলের খামার ও খাতুনগঞ্জে প্লাস্টিক দানার ব্যবসা রয়েছে। তিনি নিয়মিত মুঠোফোনে গেম খেলেন বলে জানান।চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এলআইসি শাখাটি অত্যন্ত গোপনীয়। অপরাধী শনাক্ত করা ও অপরাধ প্রতিরোধে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা এ শাখার কাজ। সিএমপি কার্যালয়ের নিচতলায় অবস্থিত শাখাটিতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির দরজা থাকায় অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নেই। এ শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাদের নিয়মিত কোনো অভিযানে যাওয়ারও সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নগর পুলিশ।
ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা প্রতারণার মামলায় দুই দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।রিমান্ড শেষে সোমবার হরিদাসকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন।ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।আদালত সূত্র জানায়, ফ্ল্যাট প্রতারণার এ মামলায় ১০ সেপ্টেম্বর আদালত হরিদাসের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। এর আগে গত ২৪ আগস্ট বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ও ওবায়দুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারণার মামলাটি করেন।মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে বাদী মাহবুবুর রহমানের কাছ থেকে ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।এর আগে গত ১২ জুলাই ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে হরিদাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে। ওই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার একটি মন্দির এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ওই মামলায় রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এর পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণা: গাইবান্ধার হরিদাস রিমান্ডে, কারাগারে ওবায়দুল
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যালেক্স গিবনির প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ প্রদর্শনের পর তুমুল আলোচনা। টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধারকে নির্মাতা দেখিয়েছেন ক্ষমতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক প্রভাবের এক অস্বস্তিকর প্রতিচ্ছবি হিসেবে। মাস্কের দাবি, ছবিটি মিথ্যা ও বিরক্তিকর; সমালোচকদের বড় অংশের চোখে আবার এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে নির্মম সিনেমাটিক পাঠ। একজন মানুষ। টেসলা, স্পেসএক্স, এক্স; একাধিক প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে। মহাকাশ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজনীতি; একুশ শতকের প্রযুক্তি ও ক্ষমতার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাতেই কোনো না কোনোভাবে চলে আসে ইলন মাস্কের নাম।ইলন মাস্ককে কেউ দেখেন ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে। কেউ মনে করেন, তিনি প্রচলিত নিয়ম ভেঙে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আবার সমালোচকদের চোখে মাস্ক এমন এক ধনকুবের, যার হাতে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অস্বাভাবিক কেন্দ্রীভবন গণতন্ত্রের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।এই দুই বিপরীত ছবির মধ্যখানে দাঁড়িয়েই নির্মিত হয়েছে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির ‘মাস্ক’। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনের পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। প্রায় চার ঘণ্টার এই তথ্যচিত্রে শুধু মাস্কের ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, তাঁর ব্যক্তিজীবন, রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতার ব্যবহার এবং নিজের তৈরি জন-ইমেজ; সবকিছুকে খতিয়ে দেখা হয়েছে।চার ঘণ্টায় কোন ‘মাস্ক’?ছবিটির শুরু মাস্কের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার দিনগুলো থেকে। ডটকম যুগে তাঁর উত্থান, জিপ২ ও পেপালে সাফল্য, এরপর টেসলা ও স্পেসএক্স—ক্রমে কীভাবে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যবসায়ীদের একজন হয়ে উঠলেন, তারই দীর্ঘ যাত্রা তুলে ধরেছেন গিবনি।কিন্তু প্রচলিত জীবনীচিত্রের মতো ‘সংগ্রাম থেকে সাফল্য’ দেখিয়ে থেমে যাননি নির্মাতা। বরং প্রশ্ন তুলেছেন, এত ক্ষমতা একজন মানুষের হাতে চলে গেলে তার পরিণতি কী হতে পারে?মাস্কের টুইটার কেনা, সেটির নাম বদলে এক্স করা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা, মার্কিন রাজনীতিতে তাঁর ক্রমবর্ধমান প্রভাব, সবই এসেছে ছবিতে। গিবনির দৃষ্টিতে মাস্কের গল্প তাই আর শুধু প্রযুক্তি উদ্যোক্তার গল্প নয়; এটি ক্ষমতা কীভাবে একজন ব্যক্তির হাতে জমা হতে পারে, সেই গল্পও।রয়টার্সকে গিবনি বলেছেন, ছবিটি বানানোর সময় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, মাস্কের প্রভাব নিয়ে অনেক মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মানুষদের মধ্যেও ছিল ভয়। ফলে ছবিটি যত এগিয়েছে, ততই গিবনির কাছে মাস্কের গল্প হয়ে উঠেছে ক্ষমতা ও তাঁর জবাবদিহির গল্প।সামনে নেই মাস্ক, আছে তাঁর ‘ডিজিটাল রূপ’তথ্যচিত্রটির সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো, মাস্ক নিজে ছবিতে সাক্ষাৎকার দেননি। ফলে তাঁর অনুপস্থিতি ঢাকতে গিবনি ব্যবহার করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটারনির্মিত চেহারা।স্ক্রিনে দেখা যায়, মাস্কের মতো দেখতে একটি ডিজিটাল চরিত্র। তার কণ্ঠও তৈরি করা হয়েছে মাস্কের আগের সাক্ষাৎকার ও প্রকাশ্য বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ নির্মাতা নতুন কোনো বক্তব্য মাস্কের মুখে বসাননি; বরং তাঁরই পুরোনো কথাগুলো নতুন প্রেক্ষাপটে হাজির করেছেন।ভেনিস উৎসবে নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনি। এএএফপি এই কৌশলকে কেউ বলেছেন সৃজনশীলভাবে অসাধারণ। দ্য হলিউড রিপোর্টারের ডেভিড রুনি এটিকে প্রশংসা করেছেন। কারণ, মাস্ক সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার করলেও তাঁর নিজের কথাকেই তাঁর বিরুদ্ধে একধরনের আয়না হিসেবে ব্যবহার করেছেন নির্মাতা।অন্যদিকে এই পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি তথ্যচিত্রে জীবিত ব্যক্তির কৃত্রিম অবতার ও কৃত্রিম কণ্ঠ ব্যবহার কতটা নৈতিক, সেই বিতর্কও তৈরি হয়েছে।ব্যক্তিজীবনের অন্ধকার অধ্যায়গিবনির ছবিতে মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের পাশাপাশি উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিজীবনও। প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক কথা বলেছেন তাঁদের সম্পর্ক, সন্তান এবং তাঁদের এক সন্তানের মৃত্যুকে ঘিরে অভিজ্ঞতা নিয়ে। ছবিতে তাঁর বয়ানের সঙ্গে মাস্কের নিজের বলা কথার পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে।মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারও ছবিতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, মাস্ক একসময় গৃহযুদ্ধের আগে ‘অনেক সন্তান’ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছিলেন। সেন্ট ক্লেয়ার আরও জানিয়েছেন, নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে চুপ থাকার বিনিময়ে তাঁকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপনীয়তা চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।ছবিটি মাস্কের সন্তানদের নিয়েও আলোচনা করে। তাঁর ব্যক্তিজীবনে একাধিক সম্পর্ক ও সন্তান জন্মের বিষয়টি কীভাবে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ধারণার সঙ্গে যুক্ত, সেটিও অনুসন্ধান করেছেন গিবনি।‘মাস্কা’–এর পোস্টার। আইএমডিবি ‘বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যবসায়ী?’গিবনির সবচেয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ সম্ভবত এখানেই। তিনি মাস্ককে শুধু ‘প্রতিভাবান প্রযুক্তিবিদ’ হিসেবে দেখেননি। তাঁর চোখে মাস্ক এমন একজন, যিনি মানুষের বিশ্বাস, প্রত্যাশা ও নিজের তৈরি গল্পকে ব্যবহার করে ক্ষমতা বাড়িয়েছেন।ভেনিসে ছবিটির প্রদর্শনের পর ভ্যারাইটি অভিহিত করেছে প্রযুক্তিনির্ভর মেধা, ক্ষমতার লালসা ও উদ্ভট বিভ্রমের এক তীক্ষ্ণ প্রতিকৃতি হিসেবে। আরেকটি গণমাধ্যম ডেডলাইন আরও কঠোর ভাষায় বলেছে, ছবিটি বিশ্বের অন্যতম ধনী মানুষকে নির্মমভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।ভালচারের রিভিউতেও ছবিটিকে অস্বস্তিকর ও ভীতিকর অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ছবিটি মাস্কের নিজের তৈরি জন-চরিত্রের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বয়ানকে পাশাপাশি রেখে এক ভিন্ন ছবি তৈরি করেছে।তবে ছবিটির প্রশংসা করলেও সব সমালোচক যে একমত, তা নয়। প্রায় চার ঘণ্টার দৈর্ঘ্য, বিপুল তথ্যের ভার এবং মাস্ককে নিয়ে ইতিমধ্যে পরিচিত বিতর্কগুলো আবার সামনে আনার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে কারও কাছে এটি অনুসন্ধানী ও জরুরি দলিল, কারও কাছে আবার দীর্ঘ এক অভিযোগপত্র।২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে করতালি! ভেনিসে রেকর্ড গড়ল গাজায় ইসরায়েলের অভিযান নিয়ে তথ্যচিত্রক্ষুব্ধ মাস্ক, আইনি ব্যবস্থার হুমকিছবিটি ভেনিসে প্রদর্শনের আগেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন মাস্ক। তিনি ছবিটিকে মিথ্যা ও একপেশে বলে আক্রমণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যের সারকথা—ছবিটি শুধু সত্য থেকে দূরে নয়, চার ঘণ্টা ধরে বিরক্তিকরও।এতেই শেষ নয়। মাস্কের আইনজীবীরা নির্মাতা ও ছবিটির পরিবেশকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তথ্যচিত্রে তাঁর সম্পর্কে মানহানিকর ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।গিবনি অবশ্য পিছু হটেননি। তাঁর বক্তব্য, ছবিটির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা হয়েছে এবং মুক্তির আগে আইনজীবীরাও ছবিটি খুঁটিয়ে দেখেছেন।মজার ব্যাপার হলো, গিবনি যখন ছবির কাজ শুরু করেন, তখন তিনি নিজেও মাস্কের প্রতি একধরনের মুগ্ধতা অনুভব করতেন। কিন্তু কাজ এগোতে থাকলে সেই মুগ্ধতা বদলে যায়। বিশেষ করে মাস্কের ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নির্মাতাকে ছবিটির পরিধি বাড়াতে বাধ্য করে। প্রথমে প্রায় দুই ঘণ্টার ছবি ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রায় চার ঘণ্টায় পৌঁছায়।‘মাস্ক’ আসলে মাস্কের চেয়েও বড় গল্পগিবনির ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হয়তো ইলন মাস্ক কী ধরনের মানুষ, তা নয়। বরং প্রশ্নটি হলো, একজন ব্যক্তির হাতে এত ক্ষমতা থাকা উচিত কি না।একদিকে ইলন মাস্কের হাতে মহাকাশে পৌঁছানোর প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ। অন্যদিকে রয়েছে বিপুল সম্পদ এবং রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা।গিবনির আশঙ্কা, এমন ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন গণতান্ত্রিক জবাবদিহিকে দুর্বল করতে পারে। ভেনিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি মাস্কের এই অবারিত প্রভাবকে বিশ্ব গণতন্ত্রের জন্য ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করতে চাইছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা বা সমঝোতায় যাওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহের পথ স্বাভাবিক রাখতে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে না, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র ইরান খুব দ্রুত এবং মরিয়া হয়ে (ওয়াশিংটনের সঙ্গে) একটি চুক্তি করতে চাইছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হবে কি না, তা আমিই নির্ধারণ করব। অবশ্য এই ধারণার বিষয়ে আমাদের অবস্থান উন্মুক্ত।’ট্রাম্প তাঁর পোস্টে আরও বলেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল পরিবহন নিরাপদ ও স্বাভাবিক রাখতে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করছে না, তারা মার্কিন প্রশাসনকে অর্থ পরিশোধ বা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্পএর আগে গত রোববার আয়ারল্যান্ড সফরে আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, এ বছরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সম্ভবত ইরান যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেই জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।হরমুজ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত, কূটনীতিতে হোঁচট
পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবিকে কেন্দ্র করে করা রিট খারিজ করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে ডিলিট (মুছে দেওয়া) করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আজ সোমবার এ আদেশ দেন। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি গ্রামীৃণ কল্যাণের চেয়ারম্যানও ছিলেন। এর আগে পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে ১০ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্ত বৈধতা পায়।হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণ দুটি আবেদন করে, যা আজ চেম্বার আদালতে ওঠে। আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।পরে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের না করা পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চাওয়া হয়েছিল। কেননা এই রায়ের ভিত্তিতে যাতে কোনো উদ্যোগ বা কার্যক্রম না নেওয়া হয়। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় বের না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে রাষ্ট্রপক্ষ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আইনজীবী আশ্বস্ত করেছেন। আদালত গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, যেহেতু হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি, তাই আমরা এখন হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে।’তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন চেম্বার আদালত। আবেদনকারী পক্ষকে হাইকোর্টের রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি গ্রহণের পর লিভ টু আপিল দায়ের করতে বলা হয়েছে।’পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল (অতিরিক্ত কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে) করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয় রায়ে।হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পৃথক লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনঃশুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় ঘোষণা করেন। পরে একই বছরের ২৯ আগস্ট তা প্রত্যাহার করে নেন একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) হবে।পাশাপাশি ওই মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। এই বেঞ্চ শুনানি শেষে ১০ সেপ্টেম্বর রুল ডিসচার্জ (রুল খারিজ) করে রায় ঘোষণা করেন।
ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে ছুটির দিনে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে শিক্ষাসফরের আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছিল।‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করছেন নৃত্যশিল্পীরা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্বে দেশের নয়টি নাট্যদল নয়টি নাটক মঞ্চস্থ করে। এর মধ্যে প্রাচ্যনাটের ‘কিনু কাহারের থেটার’, লোক নাট্যদল (বনানী)-এর ‘কঞ্জুস’, ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্য সেন’, বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটারের ‘আলেয়া’, আরণ্যক নাট্যদলের ‘কম্পানি’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমিনা সুন্দরী’, তীরন্দাজ রেপার্টরির ‘কণ্ঠনালীতে সূর্য’, দৃষ্টিপাত নাট্য দলের ‘সে এক স্বপ্নের রাত’ এবং বাংলাদেশ থিয়েটারের ‘সী-মোরগ’ উল্লেখযোগ্য।জাতীয় নাট্যশালায় সমাপনী আয়োজনে নৃত্যশিল্পীদের সমবেত নৃত্য পরিবেশনা। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকাসমাপনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব শুধু পরিচ্ছন্নতা ও কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা এবং ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, লালকুঠিসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সংস্কারকাজ চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির দিনে কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ ঐতিহাসিক স্থানে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ব্যবহারের জন্য ডিএসসিসির আওতাধীন মিলনায়তন ও কমিউনিটি সেন্টারে বিশেষ ছাড় দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ একটি নাটকের দৃশ্য। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকাপরে উৎসবে অংশ নেওয়া নাট্যদলগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ আগস্ট পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে উৎসবের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান।
সাংস্কৃতিক বাহিনী ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, একটি গান বা একটি কলি সমাজে বা রাষ্ট্রে সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে। একটি গান ও একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘একজন নেতার কথা বলছি’ শীর্ষক গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রিজভী বলেন, বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা...’, ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি...’-এ ধরনের একটি গান বা কলি সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে সমাজে বা রাষ্ট্রে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আসামে একটি গানের কারণে একজন শিল্পীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কারণ সেখানে কট্টরপন্থি সরকার ছিল। একটি গান, একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি অ্যাটম বোমার চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে। যা স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মী বাহিনী যেই রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনে থাকবে না, সেই আন্দোলন কখনোই সফল হবে না। এটা হচ্ছে বড় বড় মনীষীদের কথা। প্রতিটি বৃহত্তর স্বাধীনতার সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক প্রতিটি বিপ্লবে মূল সৈনিক হচ্ছে সাংস্কৃতিক বাহিনী। সাংস্কৃতিক বাহিনী হচ্ছে প্রত্যেকটি আন্দোলনের অগ্রগামী, অগ্রসেনানী। তারা যদি সুসংগঠিত না থাকে, তাহলে আন্দোলন সফল হয় না। পৃথিবীর দেশে দেশে দেখা গেছে, ফ্যাসিস্টদেরও সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী থাকে। হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসকের অনেক বড় বড় সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী ছিল। কিন্তু শিল্পী হলেই যে মানবতাবাদী হবে, তা নয়। আরও পড়ুন রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আজকে রোকেয়া প্রাচীরা শেখ হাসিনার গুণগান গাইছে এবং বহু চক্রান্তের মধ্যে তারা জড়িত হচ্ছে। এরইমধ্যে আপনারা দেখেছেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হলেই যে তার মন উদার ও মানবতাবাদী হবে, তা কিন্তু নয়। সেই ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, যার মধ্যে নজরুলের (জাতীয় কবি) গুণাবলি রয়েছে। নজরুলের গুণাবলি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য যার ভেতর আছে, সেই হবে প্রকৃত অর্থে শিল্পী। তিনি আরও বলেন, আহনাফ, মুগ্ধ, আবু সাঈদ-এদের যে মহিমান্বিত আত্মদান, তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরানো, সাদা শার্ট রক্তে লাল হওয়া, কিন্তু ওরা দেখেনি। তাদের চোখ দিয়ে তারা দেখেনি। ওরা কত বদ্ধ ও কত সঙ্কীর্ণ যে, একই দেশের মানুষ হয়ে তারা একটা ভয়ঙ্কর ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করেছে। জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবুর সভাপতিত্বে এবং জাসাসের সদস্য খালেদ এনাম মুন্নার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল, শাম্মী আক্তার এমপি ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন প্রমুখ। কেএইচ/এএমএ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মইন হোসেন রাজুর ব্যবহৃত ব্যাগ, রংতুলি, ডায়েরিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেছে তিন বাম ছাত্রসংগঠন। একই সঙ্গে ২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে সংগ্রহশালায় ‘বিকৃতভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা। আজ সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের পাদদেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) আয়োজিত মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করা হয়। পরে তারা ডাকসু ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সঙ্গে শহীদ মইন হোসেন রাজুর স্মৃতি জড়িত। তৎকালীন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিছিল করতে গিয়ে রাজু শহীদ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাজু শহীদ হওয়ার সময় তাঁর ব্যবহৃত ব্যাগ, রংতুলি ও ডায়েরি সংগ্রহশালায় ছিল। ডায়েরিতে তিনি প্রতিদিনের বিভিন্ন ঘটনা লিখতেন এবং কবিতা লিখতেন। কিন্তু বর্তমানে এসব উপকরণ সংগ্রহশালায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, সংগ্রহশালায় আগে কী কী উপকরণ, স্থিরচিত্র ও ঐতিহাসিক জিনিসপত্র ছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আগের তালিকা থেকে কোন উপকরণ যুক্ত হয়েছে এবং কোনগুলো সরানো হয়েছে, তারও তালিকা দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃত করে নতুন করে যেসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো অপসারণের দাবি জানান তিনি।২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের প্রসঙ্গে বাহাউদ্দীন শুভ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা ওই আন্দোলনকে সংগ্রহশালায় ‘মব ভায়োলেন্স’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় এক শিশুর মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবিকে ‘টোকাই’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, ডাকসুর ইতিহাস বাংলাদেশের জন্ম ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। এই ইতিহাসের স্মারক হিসেবে ডাকসুতে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, সংগ্রহশালা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে। জিন্নাহর যে ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে, সেটিতে তিনি ঢাকায় এসে ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে এই বাংলার একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ বলেছিলেন। তাঁর ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন এবং পরে ভাষা আন্দোলনের জন্ম হয়েছিল।মুক্তা বাড়ৈ আরও বলেন, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ওই আন্দোলনের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। সংগ্রহশালায় গণজাগরণ মঞ্চের ছবি ব্যবহার করে আন্দোলনটিকে ‘মব সন্ত্রাস’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।মানববন্ধন শেষে তিন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ডাকসু ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে ‘পাকিস্তানের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘জিন্নাহর ছবি কেন, ডাকসু জবাব দে’, ‘জিন্নাহর দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘রাজাকারের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে। অনুষদের ১৬টি বিভাগের কৃতী ৪৮ জন শিক্ষার্থী এবং সেরা গ্রন্থ ও গবেষণা নিবন্ধের জন্য দুজন শিক্ষক এই সম্মাননা পেয়েছেন। আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে বিকেলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম এবং জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পর্ব।প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলেই চলবে না; তাঁদের প্রশ্ন করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, যুক্তি দিয়ে বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাগরিকত্ববোধ, পেশাগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তৈরি করা।ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব সৃষ্টি করে বিশ্বজ্ঞানভান্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। উচ্চশিক্ষাকে কেবল সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহি ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই পুরস্কার শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। তবে স্বীকৃতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের দায়িত্বও আরও বেড়ে গেল। সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের আরও নিবিষ্টভাবে গবেষণা, অধ্যয়ন ও সাধনা করতে হবে।সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকেরা আন্তর্জাতিক মানের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, গবেষণার পরিবেশ আরও গতিশীল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতে গবেষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।সভাপতির বক্তব্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য কেবল তার অবকাঠামো বা অর্জনের পরিসংখ্যানে মাপা যায় না; বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার মেধাবী শিক্ষার্থীরা। তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে আমরা সব সময়ই জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ডিনস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের সেই মেধা ও একাডেমিক উৎকর্ষেরই একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।’অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ ও বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও অফিসপ্রধান সুজান ভাইজ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা: ২০২১ সাল (১৪ জন):ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক ও শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।২০২২ সাল (১৭ জন):সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান ও মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।২০২৩ সাল (১৭ জন):লুবাবা বিনতে হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ আর তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস এম সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম ও মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।
কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে আবু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর পলাতক। নিহত দুজন হলেন দড়ানীপাড়া গ্রামের জসীম উদ্দীনের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৭০) ও তাঁর ভাই বাচ্চু মিয়ার ছেলে মঞ্জুরুল আলম ওরফে টিটু (৩৫)। খালেদা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশ জানিয়েছে, মোস্তাফিজুর একাই বোন এবং ভাতিজাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জমিজমা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর তাঁর বড় বোন খালেদা আক্তারকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। খালেদা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে রক্ষা করতে ভাতিজা মঞ্জুরুল এগিয়ে আসেন। এ সময় মোস্তাফিজুর তাঁকেও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে দুজনকে উদ্ধার করে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মৃত মনু মিয়ার ছয় ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান সবার ছোট। জমি রেকর্ডের সময় তিনি পরিবারের জমি থেকে নিজের নামে সমবণ্টন থেকে অতিরিক্ত জমি রেকর্ড করিয়ে নেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে।বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরমান হোসেন বলেন, পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি তাঁদের কাছেও এসেছিল। তখন সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধের মীমাংসা হয়নি।স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানের কারণেই পরিবারটিতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তিনি স্থানীয় বিচার-সালিসও মানতেন না। আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই এলাকাবাসী কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যায় বোন ও ভাতিজাকে হত্যার পর মোস্তাফিজুর পালিয়ে যান।মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তাফিজুর একাই তাঁর বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে গেছেন।ওসি আরও বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহত দুজনের মরদেহ গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে আজ সোমবার সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাত পৌনে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন—এমন কোনো তথ্যের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাইনি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ থাকলে আমাকে দেখান, আমি যাচাই করে দেখব। আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেই তথ্যও সঠিক কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।’একটি টেলিভিশনে ছয়জন মারা যাওয়ার তথ্য প্রচার হওয়ার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে বলা উচিত নয়। আগে তথ্য নিশ্চিত হতে হবে। নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগের যে তালিকা আমাকে দেখানো হয়েছে, সেখানে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নেই। আমার কাছে আরও একটি তালিকা আছে, সেটিও যাচাই করে দেখব। মর্গের তথ্যও নেওয়া হয়েছে। তবে মর্গের তথ্যের সঙ্গে পাওয়া অন্য তথ্যের মিল নেই। সব তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই প্রকৃত সংখ্যা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। সোমবার রাত ১১টার দিকেএরপর রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন তালিকা যাচাই করছি এবং যাঁদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তবে এখনো আমাদের হাতে কোনো কনক্রিট এভিডেন্স (সুনির্দিষ্ট প্রমাণ) আসেনি।’ ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য কীভাবে এসেছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে শুনেছেন, আমরাও সেভাবেই শুনেছি। এখন সেই তথ্যই যাচাই করার জন্য সবাই সরেজমিনে এসে তদন্ত করছি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, আগুন ও ধোঁয়া দেখে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় কয়েকজন আহত হয়েছে।ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান। ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। ১০টি ইউনিট একসঙ্গে ঘটনাস্থলে আসে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে থাকা বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী আরও বলেন, লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগায় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুন বড় না হলেও ধোঁয়া দেখে মানুষের মধ্যে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। আজ সোমবার সন্ধ্যায়পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্পতৃক্ষের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়। হাসপাতালের নতুন ভবনে দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বের হওয়ার জন্য এবং বাইরে থেকে উদ্ধার কাজে আসার জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ভবনটির একটি সিঁড়ি খোলা ছিল। অন্য চারটি সিঁড়ি থাকলেও সেগুলো সবসময় তালা বন্ধ করে রাখা হয়।ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনির বাসিন্দা দুলাল মিয়া গত বুধবার স্ত্রী জোসনা বেগমকে নিয়ে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হন। দুলাল মিয়া বলেন, ‘সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে আমার দুই মেয়ে ও তিন নাতনি আহত হয়। তাঁদের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি স্ত্রীকে নিয়ে নিচে নামতে পারিনি। ভয়ের মধ্যেই মেঝেতে ছিলাম।’ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড থেকে ধোঁয়া, রোগী–স্বজনদের মধ্যে আতঙ্কফুলবাড়িয়ার সাথী বেগম বাবাকে আজ বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হন। হাসপাতালে বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে গেলে তিনি বলেন, আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনেরা নিচে নামতে পারছিলেন না। হাসপাতালের সিঁড়ি দিয়ে নামার কয়েকটি ফটক বন্ধ ছিল। একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অনেকে আহত হয়।রাত ১০ টার দিকে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার, রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বৈঠকে বসেন। সোয়া ১০টার দিকে তাঁরা বের হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি আজ সোমবারও সৌদির একটি বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। পাশাপাশি ইয়মেনের অভ্যন্তরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের গতকালের নির্ধারিত বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে যায়। বৈঠকটি ওমানে হওয়ার কথা ছিল। হুতিদের দাবি, সোমবার তারা সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এ হামলার লক্ষ্য ছিল বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার–ব্যবস্থা, রানওয়ে, গোলাবারুদের গুদামসহ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো। গতকাল রোববার সৌদি কর্তৃপক্ষ খামিস মুশাইতসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে অল্প সময়ের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। ওই দিন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল হুতিরা। তাদের ভাষ্যমতে, গত কয়েক দিনে ইয়েমেনে তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ৩০০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। এর জবাবে দেশটিতে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আজ জেদ্দায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আঞ্চলিক সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।কয়েক দিন আগে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প হুতিদের ওপর সরাসরি মার্কিন হামলায় রাজি হননি। তবে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্যসহ হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রও চাপে পড়েছে। সৌদি আরবের মিত্র হিসেবে দেশটিকে সহায়তা করতে চায় ওয়াশিংটন। তবে একই অঞ্চলে আরেকটি রণক্ষেত্রে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক ট্রাম্প প্রশাসন।সুলতান বারাকাত, অধ্যাপক, হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়, কাতারহরমুজ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় যেতে হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে।হুতিদের দখলে আরও দ্বীপযুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, হুতিরা লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ নামে আরও দুটি দ্বীপ দখল করে নিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দুটির অবস্থান বাব আল–মানদেব প্রণালি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তরে। সেখান থেকে সরকারি বাহিনীর সদস্যরা সরে যাওয়ার পর হুতিরা দ্বীপ দুটি দখল করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তারা একই অঞ্চলের বন্দরনগরী মোখার নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরের দিন শুক্রবার দখল করে বাব আল–মানদেবের ভেতরের মাইয়ুন দ্বীপ।বাব আল–মানদেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। অঞ্চলটিতে হরমুজ প্রণালির পর এটি দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। সৌদি আরবের তেল এশিয়ার বাজারে পাঠানো হয় মূলত এ পথ দিয়ে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় নৌপথটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।আল–জাজিরা জানায়, ইয়েমেনে সৌদি–সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুতিদের কাছ থেকে কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশের পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে সরকারি বাহিনী। গত রোববার ওই অঞ্চলে হুতিদের আক্রমণ প্রতিহত করার পর তারা এগিয়ে যায়। স্থল অভিযানের পাশাপাশি হুতিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালানো হচ্ছে।দুই পক্ষের লড়াই ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের মারিবে প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানে সামরিক ঘাঁটিসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাসকেন্দ্র রয়েছে।হরমুজ বৈঠক স্থগিতহরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানে আজ বৈঠকের সূচি নির্ধারিত ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেটি স্থগিত হয়ে যায়।সৌদি আরবের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত হয়েছে বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বৈঠক স্থগিতে ইয়েমেন পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে রিয়াদ। তবে একে ‘মিথ্যা অজুহাত’ বলে মন্তব্য করেন বাঘাই।ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদি অবশ্য বলেছেন, বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’।কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আল–জাজিরাকে বলেন, ‘হরমুজ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় যেতে হতে পারে।’ তাঁর মতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে।হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানে গতকাল বৈঠকের সূচি নির্ধারিত ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেটি স্থগিত হয়ে যায়।তেলের বাজারে চাপইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রভাব জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে গতকাল বাজার খোলার পর অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়।এর আগে হুতিদের অগ্রযাত্রার মধ্যে গত শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পাইপলাইনের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল সৌদি আরব। পাইপলাইনটি কয়েক দিনের মধ্য চালু না হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাতে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। তাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ লোহিত সাগরের পশ্চিম তীরের দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে।তাইজের কাছে সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন আয়েশা মুহাম্মদ। পার্শ্ববর্তী সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে পালিয়ে আসা এই বৃদ্ধা রয়টার্সকে বলেন, দুই মেয়ে ও তিন ছেলে তাঁর সঙ্গে আসতে পারেননি। তাঁরা খাবার ও পানি কিনতে বাজারেও যেতে পারছেন না। ঘরেই আটকা পড়ে আছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে বাংলাদেশে যাঁরা সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন, তাঁদের ব্যর্থতার কারণে জাতি যে পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল, সে পর্যায়ে যেতে পারেনি; বরং সমাজে অনেক বঞ্চনা ও হাহাকার, বিশৃঙ্খলা, বৈষম্য, অবিচার, দমন-পীড়ন, মানুষের সম্মান, সম্পদ এবং জীবনের উপর আঘাত অহরহ ঘটছে। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধে৵ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘তোমরা যদি এখন থেকে মেধা ও মনন এবং দক্ষতা ও নৈতিকতার সঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলতে পারো, যদি মানুষ ও আল্লাহকে ভালোবাসতে পারো, তাহলে তোমাদের দ্বারা আগামীর সুন্দর সমাজ আমরা প্রত্যাশা করি। তোমাদের মেধা বিকাশে রাষ্ট্রকে এবং আমরা যাঁরা রাজনীতি করি, তাঁদের দায়িত্ব নিতে হবে।’বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশ ও রাষ্ট্রকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সমাজে যে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও অসততার প্রতিযোগিতা চলছে, এর অবসান ঘটাতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের তৈরি হতে হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুর রহমান মূসা, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় স্থানীয় বাজারে ব্যস্ততার মাঝেই চোখে পড়বে দোকানগুলোর সামনের তাকেই সারি সারি সাজানো ‘স্নেক ওয়াইন’। নাম থেকেই আন্দাজ করা যায় এর বিশেষত্ব-বোতলে মদ বা অ্যালকোহলের মধ্যে থাকবে ছোট্ট একটি সাপ যার কারণে পানীয়টিতে একটি আলাদা স্বাদ ও গন্ধের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। শুনে গা শিউরে উঠলেও সত্যি সত্যিই এ স্বচ্ছ বোতলগুলোতে মদের ভেতর ভাইপার প্রজাতির সাপ (মৃত) প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। চমকপ্রদ এ পানীয়টি দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের ঘরে-বাইরে, অনুষ্ঠান, সরাইখানা-রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত হয়ে আসছে। চীনের রাজবংশগুলোর চিকিৎসালয়ে ওষুধ বা প্রতিশেধক হিসেবে ব্যবহৃত এই স্নেক ওয়াইন একসময় পরিণত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষের পছন্দের পানীয়তে এবং হয়ে উঠেছে তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বচ্ছ কাঁচের বোতলে আস্ত সাপ ডোবানো এই স্বচ্ছ অ্যালকোহল বা মদের প্রচলন চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঝু রাজবংশের সময়ে, ২ হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে। বর্তমানে এটি ভিয়েতনাম, লাওস, থাইল্যান্ড ও চীনের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। এটি কীভাবে তৈরি হয় টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাইস ওয়াইন বা উচ্চমানের শস্যদানা থেকে প্রস্তুতকৃত ওয়াইনে একটি সাপ ডুবিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়। কখনো কখনো মদের ভেতর বিছা, জিনসেং বা স্থানীয় লতাপাতাও দেওয়া থাকে। মদে থাকা ইথানল সাপের ভেতর থাকা টক্সিক প্রোটিনগুলোকে ভেঙে এর বিষের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে, মদটি পান করতে কোনো ঝুঁকি থাকে না। পুরো বোতল নিতে না চাইলে ছোট বিকল্প হিসেবে আকালে ছোট গ্লাসে সাপ টুকরো করে কেটে এর রক্তসহ মদে পরিবেশন করা হয়। ওষুধ হিসেবে ব্যবহার ট্রেডিশনাল চীনা ওষুধ হিসেবে এর ব্যবহার শুরু হয়। চীনা ওষুধ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা আগে থেকেই সাপকে একটি শরীর উষ্ণকারী ও আর্দ্রতাদূরকারী খাবার হিসেবে দেখে থাকেন। বাতের ব্যাথা, দীর্ঘস্থায়ী অবসন্নতা কমাতে ও রক্ত চলাচল বাড়াতে এ পানীয় বেশ উপকারী বলে প্রচলন রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এ অঞ্চলের বিভিন্ন রূপকথা বা উপকথায় এ পানীয়কে প্রাকৃতিক টনিক হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের বাইরে স্থানীয় মার্কেটগুলোতে স্নেক ওয়াইনকে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এখানকার বাসিন্দারা বাড়িতে কোনো মেহমান এলে তাকে এই স্নেক ওয়াইন পরিবেশন করে সম্মানিত বোধ করাতে পছন্দ করেন। আবার বিদেশিদের কাছে স্যুভেনির হিসেবে নিয়ে যেতে বিভিন্ন ছোট ছোট বোতলেও বিক্রি করা হয় এই বিশেষ ওয়াইন। এএমএ
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা মৌলভি ইউসুফ গরগিজ নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।ইরনার প্রতিবেদনে স্থানীয় এক গভর্নরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, নিহত মৌলভি গরগিজ ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী অপশক্তি ও জায়নবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয় ছিলেন’। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে নিহত এই সুন্নি আলেম দেশটির সরকারপন্থী ছিলেন।তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন