খেলাধুলা

মেয়েদের ফুটবলের কারণে পালিচড়া গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মেয়েদের ফুটবলের কারণে পালিচড়া গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত
মেয়েদের ফুটবলের কারণে পালিচড়া গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত

রংপুর শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের গ্রাম পালিচড়া। এই গ্রামের পরিচিতি এখন দেশজুড়ে। এর কারণ, শুধু মেয়েদের ফুটবল। দেশের ভেতরে দেড় দশক ধরে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য পেয়ে আসছে এই গ্রামের মেয়েরা। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবেও নিয়মিত ফুটবল খেলে তারা। ২০২২ সালের সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল পালিচড়ার মেয়েদের।

পালিচড়া গ্রামে মেয়েদের ফুটবলকে উৎসাহিত করতে চার বছর আগে সরকারি উদোগে ছোট্ট একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। এই স্টেডিয়াম দিনে দিনে রংপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েদের ফুটবলচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে মাঠে সাফল্য এলেও নিয়মিত অনুশীলন করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। স্টেডিয়ামের জন্য সরকার কোনো বরাদ্দ দেয় না।

ফুটবলের প্রশিক্ষণে আসা কিশোরীদের খাবারের ব্যবস্থাও নেই। প্রশিক্ষণেও উন্নত সরঞ্জাম থাকে না। আবার স্টেডিয়ামের মাঠেরও বেহাল। নিরাপত্তার সমস্যাও রয়েছে।
পালিচড়া গ্রামে পাশাপাশি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পালিচড়া এম এন উচ্চবিদ্যালয় ও মজিদা খাতুন কলেজ। এই দুই প্রতিষ্ঠানের দুটি মাঠের জায়গায় ২০২২ সালে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এতে ব্যয় হয় প্রায় পৌনে ছয় কোটি টাকা। স্টেডিয়ামটি পরিচালনার দায়িত্বে আছে রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা। তবে সংস্থার পক্ষ থেকে স্টেডিয়ামটি দেখভালের মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে পালিচড়া গ্রামের সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবকে।

এই স্টেডিয়াম থেকেই উঠে আসা কিশোরীরা জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছে। গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে মেয়েদের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর অঞ্চল। এরপর গত আগস্টে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত জেএফএ (জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল টুর্নামেন্টেও শিরোপা জিতেছে রংপুর জেলার কিশোরীরা। পরপর দুটি শিরোপাজয়ী রংপুর দলের প্রথম একাদশের আটজনই পালিচড়া গ্রামের।

রংপুরের সাবেক কৃতী ফুটবলার নিয়ামুল আতিকুর রহমান বলেন, পালিচড়ার মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবেও দেশের জন্য স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে তারা বহুদূর এগিয়ে যাবে।

গ্রাম থেকে জাতীয় পর্যায়ে

২০১১ সালে জাতীয়ভাবে আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয় পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রথম বছরই জাতীয় পর্যায়ে রানারআপ হয় দলটি। পরের বছর ২০১২ সালে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।

পালিচড়ার ফুটবল কন্যারা

এরপর পালিচড়ায় নারী ফুটবল নিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে। বদলাতে শুরু করে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। ২০১৬ সালে দেশের বাইরে তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল প্রতিযোগিতায় শেষ ম্যাচে ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। বিজয়ী দলে ছিলেন এই গ্রামেরই তিন নারী ফুটবলার—লাবনী আক্তার, আর্শিতা জাহান ও আঁখি আক্তার। ২০২২ সালে সাফজয়ী নারী ফুটবল দলে ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন পালিচড়ার মেয়ে সিরাত জাহান।

রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক কিশোরী পালিচড়া স্টেডিয়ামে এখন ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ২১ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলায়

পালিচড়ার মাঠ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছেন ১০ জন। এ ছাড়া ১২ জন নারী খেলোয়াড় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছেন। বাংলাদেশ উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগেও খেলেছেন এই গ্রামের মেয়েরা। জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

পালিচড়া স্টেডিয়ামে মেয়েদের ফুটবলের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন সাবেক ফুটবলার মিলন মিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে এই মাঠের অন্তত ১৫ জন খেলোয়াড় ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। এর মধ্যে আর্মি স্পোর্টস ক্লাবে খেলছেন জয়নব বিবি, সুলতানা আক্তার, বৃষ্টি আখতার, নাসরিন বেগম ও কাকলি সরেন। আইএম ১০ এফসি ক্লাবে খেলছেন শীলা আক্তার এবং ঢাকা ওয়ারিয়র্সে ইন্নিমা খানম ও হৈমন্তী শুক্লা খালকো। তাঁরা প্রতি মৌসুমে এক থেকে দেড় লাখ টাকা সম্মানী পান।
প্রশিক্ষক মিলন মিয়া বলেন, খেলোয়াড়দের জন্য জিমনেসিয়াম, পুষ্টিকর খাবার, উন্নত প্রশিক্ষণ ও ভালো মাঠ প্রয়োজন। এসব সমস্যা নিয়ে প্রায় এক মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানতে চাইলে রংপুর সদরের ইউএনও লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মেয়ে ফুটবলারদের সমস্যাগুলো তিনি জেনেছেন। সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

সাফল্যের আড়ালে কষ্ট

রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক কিশোরী পালিচড়া স্টেডিয়ামে এখন ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তাদের বয়স ৮ থেকে ২০ বছর। এর মধ্যে ২৫ জন স্টেডিয়ামের ডরমিটরিতে থেকেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সেখানে বিদ্যুৎ–সংযোগ, পানি সরবরাহব্যবস্থা ও শৌচাগার আছে। তবে রান্নাঘরের ব্যবস্থা নেই। স্টেডিয়ামে ৫০ জনের থাকার মতো জায়গা রয়েছে। তবে বর্তমানে বেড (শয্যা) রয়েছে ২০টি।

প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ মিলন মিয়া। আবাসিক প্রশিক্ষণার্থীদের থাকা–খাওয়ার খরচ নিজ উদ্যোগে বহন করেন তিনি। রান্না হয় তাঁর বাড়িতেই।

যত্নহীন এবড়োখেবড়ো পড়ে আছে মাঠ। একটু বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। ২১ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়া স্টেডিয়ামে

কিশোরীদের খাবার বাবদ অর্থ কিংবা প্রশিক্ষক মিলন মিয়াকে সরকারিভাবে কোনো বেতন দেওয়া হয় না। স্টেডিয়ামের অনুকূলে মাসিক কিংবা বার্ষিক সরকারি কোনো বরাদ্দও নেই। এ কারণে গত দুই বছরে স্টেডিয়ামের ৬৫ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়েছে। আবার সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে স্টেডিয়ামজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। বিকল্প আলোর ব্যবস্থা নেই। দিনভর অনুশীলনের পর লোডশেডিংয়ের কারণে গরমে ঘুমাতেও কষ্ট হয় কিশোরীদের। অনুশীলন শেষে স্বস্তির গোসলেরও নিশ্চয়তা নেই। রোদে ট্যাংকের পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, আবার শীতকালে গরম পানির ব্যবস্থা থাকে না। স্টেডিয়ামে কোনো ব্যায়ামাগার বা জিমনেসিয়ামও নেই।

প্রশিক্ষণরত কিশোরীদের খাবারের সংকটও নিত্যসঙ্গী। পালিচড়ার ফুটবলার সিনহা আয়াত বলে, ‘কোচ মিলন মিয়ার বাড়িতে যা জোটে, তাই খেয়েই থাকতে হয়। তিনি নিজের টাকায় আমাদের খাওয়ান। খেলার সরঞ্জামেরও অভাব।’

এই স্টেডিয়ামের মাঠের চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনীও যথেষ্ট উঁচু নয়। ফলে বাইরে থেকে সহজেই মাঠে ঢুকে পড়া যায়। প্রশিক্ষণের সময় এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে।

সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পালিচড়ার মেয়েরা আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য শামীম খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে পালিচড়ার ৪ জন মেয়ে জাতীয় দলের হয়ে জাপানে (এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে) খেলতে গেছে। সমস্যা হচ্ছে স্টেডিয়াম এবং খেলোয়াড়দের দিকে কেউ তাকায় না। পালিচড়া স্টেডিয়ামে সমস্যা অনেক। সেখানে প্রশিক্ষণ নেওয়া মেয়েরা বেশির ভাগ গরিব ঘরের সন্তান। পুষ্টিকর খাবার পায় না। তাদের জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার আসলে তেমন কিছু করারও নেই।

নিরাপত্তাহীন মাঠ, চোটের ঝুঁকি

খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্টেডিয়ামের মাঠটা সমান নয়, উঁচু-নিচু। অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইতিমধ্যে কয়েকজন এমন সমস্যার মুখোমুখিও হয়েছে।

এই স্টেডিয়ামের মাঠের চারপাশের নিরাপত্তাবেষ্টনীও যথেষ্ট উঁচু নয়। ফলে বাইরে থেকে সহজেই মাঠে ঢুকে পড়া যায়। প্রশিক্ষণের সময় এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। এতে নারী ফুটবলারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অনুশীলনের পরিবেশও নষ্ট হয়।

মাঠের মধ্যে চড়ে বেড়ায় গবাদিপশু। ২১ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়া স্টেডিয়ামে

সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের খেলোয়াড় ঐশী আক্তার বলে, মাঠের সীমানাপ্রাচীর নিচু হওয়ায় বাইরের ছেলেরা অনেক সময় ভেতরে ঢুকে পড়ে।

বরাদ্দের অভাবে স্টেডিয়ামের নানা সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না বলে জানান রংপুর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানা। তিনি ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোকে বলেন, স্টেডিয়ামটি দেখভাল করার জন্য স্থানীয় সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবকে মৌখিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় একজন নৈশপ্রহরী রয়েছেন। তাঁর মাসিক বেতন–ভাতা জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে দেওয়া হয়। স্টেডিয়ামে অনেক সমস্যা আছে। এসব নিয়ে আলোচনাও হয়; কিন্তু সমাধান করা যাচ্ছে না।

রংপুর সদরের শ্যামপুর পুটিমারী গ্রামের মেয়ে ইন্নিমা খানম জাতীয় ফুটসাল দলে খেলেছেন। জাতীয় ফুটবল লিগেও খেলেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পালিচড়া স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেই জাতীয় দলসহ বিভিন্ন লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছি। মিলন ভাইয়া (কোচ) নিজের জমিতে শাকসবজি লাগিয়ে নিজ খরচে আমাদের খাবার দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর সংসারেও অভাব রয়েছে। আমাদের দিকে কেউ ফিরে তাকায় না। খেলায় ভালো করলে বাহবা পাই—এতটুকুই।’

২০২২ সালে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এতে ব্যয় হয় প্রায় পৌনে ছয় কোটি টাকা। ২১ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়া স্টেডিয়ামে

এ বছর নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মেয়েদের ফুটবলে ‘ফাইনাল-সেরা’ হয়েছে পালিচড়া স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ নেওয়া কিশোরী স্মৃতি কিসকু। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চক কৃষ্ণপুর গ্রামে। প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলার সময় এই কিশোরী বারবার একটি কথাই বলেছে, স্টেডিয়ামে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো খুব দরকার।

দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনা কিশোরী ফুটবলারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর কথা বললেন পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিনও। আরও বললেন, পালিচড়ার মেয়েদের সাফল্যের গল্প যেন থেমে না যায়।

নারী ফুটবলারদের সাফল্যে অজপাড়াগাঁয় স্টেডিয়াম
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

খেলাধুলা

View more
শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের
শেলটনকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের মুকুট জভেরেভের

নিজের টেনিস কেরিয়ারের সম্ভবত সেরা বছর কাটালেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। ফরাসি ওপেনের পর এবার ইউএস ওপেনও জিতলেন তিনি। টুর্নামেন্ট খেলতে নামতে পারেননি ইয়ানিক সিনার। চোট সারিয়ে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়েন কার্লোস আলকারাজ। প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যান নোভাক জকোভিচ। সেই সুযোগ কাজে লাগালেন জভেরেভ। ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটনকে চার সেটের লড়াইয়ে (৬-৩, ৭-৬, ৫-৭, ৬-২) হারালেন জার্মান তারকা। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন জভেরেভ। চলতি বছর ফরাসি ওপেন জিতেছেন আলেকজান্ডার জভেরেভ। উইম্বলডনের ফাইনালে উঠেছেন। বছরের শেষটা করলেন ইউএস ওপেন জিতে। পুরুষদের ১ নম্বর হিসাবেই বছর শেষ করবেন এই জার্মান তারকা। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে শুধু শেলটন নন, ২৪ হাজার দর্শকের সিংহভাগের বিরুদ্ধে খেলতে হল জভেরেভকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘরের ছেলে শেলটনকে সমর্থন করে গেলেন দর্শকেরা। তাতে লাভ হলো না। একমাত্র তৃতীয় সেটের শেষ দিক ছাড়া শেলটনের খেলায় সেই ঝাঁঝ দেখা গেল না। প্রথম গেমেই শেলটনের সার্ভিস ভাঙেন জভেরেভ। সেই থেকে শুরু। একবার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভাঙার পর সেই সেটে আর তাকে থামানো যায়নি। আরও এক বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সহজেই প্রথম সেট নিজের নামে করেন জভেরেভ। শেলটন বাঁ-হাতি। সাধারণত বাঁ-হাতিদের সামনে ডানহাতিরা একটু হলেও সমস্যায় পড়েন। কিন্তু শেলটন প্রথমবার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনাল খেলছিলেন। ফলে কিছুটা হলেও চাপে ছিলেন। সেখানেই নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন জভেরেভ। বেশ কয়েকটি লম্বা র‌্যালি হল। শেলটন অপেক্ষা করছিলেন, জভেরেভ কখন ভুল করেন। কিন্তু খুব একটা ভুল করলেন না জার্মান তারকা। দ্বিতীয় সেটে দুই খেলোয়াড়ই নিজের নিজের সার্ভিস ধরে রাখলেন। ফলে ফয়সালা হল টাইব্রেকারে। সেখানে শেলটনকে উড়িয়ে দিলেন জভেরেভ। তৃতীয় সেটও টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু দ্বাদশ গেমে জভেরেভের সার্ভিস ভাঙেন শেলটন। ওই একবারই জভেরেভের সার্ভিস খারাপ দেখাল। জোড়া ডাবল ফল্টের খেসারত দিতে হল তাকে। তৃতীয় সেটে ফেরার পর মনে হচ্ছিল, শেলটন খেলা পঞ্চম সেট পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু চতুর্থ সেটে আবার নিজের জাত চেনালেন জভেরেভ। দু’বার শেলটনের সার্ভিস ভেঙে সেট ও সেই সঙ্গে ম্যাচ নিজের নামে করলেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে যাওয়ার পর ডমিনিক টিয়েমের কাছে শেষ তিন সেটে হেরে ম্যাচ হারতে হয়েছিল জভেরেভকে। এবার আর সেটা হতে দিলেন না তিনি। ১৯৮৯ সালে বরিস বেকারের পর দ্বিতীয় জার্মান তারকা হিসাবে এই ট্রফি তুললেন জভেরেভ। মাত্র চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন জভেরেভ। খেলার মাঝে দেখা যাচ্ছিল, বারবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করছেন। কখনও চকলেট খাচ্ছেন। কখনও কোনও পানীয়। এত বছর ধরে এই রোগ সামলে পেশাদার টেনিসে সফল হওয়ার কৃতিত্ব নিজের মাকে দিয়েছেন তিনি। খেলা শেষে জভেরেভ বলেন, ‘চার বছর বয়সে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসক বলেছিল, পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা আমার কম। কিন্তু আমার পাশে আমার মা ছিল। আমাকে সব সময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। আমার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি যা হয়েছি, তার কৃতিত্ব পুরোটাই মায়ের।’ খেলা শেষে শেলটনের প্রেমিকা ট্রিনিটি রডম্যানেরও মন জয় করেছেন জভেরেভ। পেশাদার ফুটবলার ট্রিনিটি নিজের ম্যাচ ছেড়ে শেলটনের ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলেন। খেলা শেষে শেলটনের কথা শুনে কেঁদে ফেলেন তিনি। তা দেখে জভেরেভ বলেন, ‘ট্রিনিটি, আমার মনে হয় তোমার আজ খেলা ছিল। তাই না? সেই ম্যাচ ছেড়ে তুমি আমাদের খেলা দেখতে এসেছ। তুমি আমার কাছে পয়া’- এ কথা শুনে ট্রিনিটি হেসে ফেলেন। আইএইচএস/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারলো বাংলাদেশ

একাদশে নেই ঋতুপর্ণা, ১২ মিনিটে ৩ গোল হজম বাংলাদেশের

একাদশে নেই ঋতুপর্ণা, ১২ মিনিটে ৩ গোল হজম বাংলাদেশের

পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করছি: আমিনুল হক

পদকের জন্য লড়াই করতে ক্রীড়াবিদ তৈরি করছি: আমিনুল হক

সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন
সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচ—সবাই তুর্কি লিগে ছুটছেন কেন

মোহাম্মদ সালাহর গন্তব্য নিয়ে জল্পনাকল্পনার শেষ ছিল না। কেউ ভেবেছিলেন সৌদি আরব, কেউ আবার আমেরিকা। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল মোহাম্মদ সালাহ নিজের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছে তুরস্কের ক্লাব ত্রাবজোনস্পোর। নামটা অপরিচিত লাগছে? তুরস্কের লিগেও ক্লাবটা কিন্তু জনপ্রিয়তায় শীর্ষে নেই, এমনকি শীর্ষ তিনেও নেই। তবু সালাহকে তারা বরণ করে নিয়েছে জমকালো আয়োজনে। সালাহর আগমন ত্রাবজোনস্পোর সমর্থকদের কাছে যেন ছেলের বহুদিন পর ঘরে ফেরার গল্প।শুধু সালাহ নন, বেলজিয়ান তারকা রোমেলু লুকাকু দীর্ঘ ইউরোপিয়ান ক্যারিয়ার ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ফেনারবাচে। দুসান ভ্লাহোভিচও জুভেন্টাস ছেড়ে এই মৌসুমে যোগ দিয়েছেন বেসিকতাসে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পাঁচ লিগ ছেড়ে গালাতাসারাইতে আছেন ভিক্টর ওশিমেন। গত কয়েক মৌসুম ধরেই খেলোয়াড়দের বিমান ভিড়ছিল সৌদি আরব আর আমেরিকায়। সেই বিমান এবার গন্তব্য বদলে পৌঁছে গিয়েছে তুরস্কে। হঠাৎ এই রদবদলের কারণ কী?লুকাকুর জন্য মধ্যরাতে বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিল হাজারো মানুষ।যত দিন যাচ্ছে, তুরস্কে ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এই মৌসুমেই ইউরোপের শীর্ষ লিগ ছেড়ে তুরস্কে পাড়ি দিয়েছেন ম্যাসন গ্রিনউড, নাথান আকে, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ড, আলেকজান্ডার নুবেলের মতো তারকা। সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচের কথা তো বললামই। শুধু যে বয়সের ভারে নুয়ে পরা তারকারা যোগ দিচ্ছেন, তা কিন্তু নয়। বরং তরুণ তারকারাও সৌদি-আমেরিকা ছেড়ে বেছে নিচ্ছেন তুরস্ক? কিন্তু কেন?ইউরোপিয়ান ফুটবলের ছোঁয়াসৌদি থেকে আমেরিকা—টাকার ঝনঝনানির পেছনে ছুটতে গেলেই বের হয়ে যেতে হচ্ছে ইউরোপ থেকে। ইউরোপিয়ান ফুটবল ছেড়ে যখনই ভিন্ন মহাদেশে পাড়ি দিচ্ছেন ফুটবলাররা, একেবারেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাচ্ছেন। মেসি-রোনালদোর পাঁড় ভক্ত না হলে হয়তো কোনো দিন এমএলএস বা সৌদি লিগের ম্যাচ খুলেও দেখা হয়নি নিশ্চয়। তুর্কি লিগ কিন্তু তেমন নয়। এই লিগের খেলা নিয়মিত দেখা না হলেও তাদের নিয়মিতই দেখা যাবে ইউরোপের বড় মঞ্চে। চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগে প্রতি মৌসুমেই চমক দেখায় তুর্কি দলগুলো। এতে করে দর্শকদের চোখের আড়ালে যাওয়ার সুযোগ একেবারেই নেই। সালাহর জন্য বিমানবন্দরে প্রস্তুত ছিল ব্যানার। রাত তখন দেড়টা।১৭ বছর পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছে ফেনারবাচ। ফলে লুকাকু-আসেনসিওদের দেখা যাবে ইউরোপের সেরা মঞ্চে। ইউরোপিয়ান বলয়ে থাকায় বাকি দলগুলোও চাইলে নজর রাখতে পারবে খেলোয়াড়দের দিকে। ফলে ভবিষ্যৎ দলবদলের ক্ষেত্রেও একটা সুবিধা পাবেন খেলোয়াড়েরা।দর্শকদের উন্মাদনা:সালাহ, লুকাকু, ভ্লাহোভিচের ছবিগুলো দেখেছ? এখনো কিন্তু ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়নি দর্শকদের সঙ্গে। তাঁরা মাত্র বিমানবন্দরে নেমেছেন দলের সঙ্গে যোগ দিতে। এর মধ্যেই দর্শকদের চিৎকারে কান পাতা দায়। দর্শকেরা বিমানবন্দরে হাজির হয়েছেন শুধু খেলোয়াড়কে বরণ করে নিতে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলোয়াড়দের হাতে জার্সি তুলে দেওয়ার দিনও এত দর্শক আসেন না। শীর্ষ তারকা ছাড়া দর্শকদের এমন উন্মাদনা দেখার সাক্ষী হন না কেউ। এমন সমর্থন পেতে কে না চায়?মোহাম্মদ সালাহকে বরণ করার জন্য বিমানবন্দর থেকে মাঠ পর্যন্ত ছিল দর্শকদের ঢল। এমনকি মাঠে তাঁকে নিয়ে আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন সালাহ নিজেও। ফোন বের করে দর্শকদের স্বাগত আয়োজন ভিডিও করেছেন নিজ হাতে। সালাহকে যেন ঘরের ছেলে হিসেবেই বরণ করে নিয়েছে তুরস্ক।সালাহকে স্বাগত জানাতে ত্রাবজোনস্পোরের বিশাল আয়োজন।এ তো গেল বরণ করার কথা। মাঠের উন্মাদনাতেই তুর্কি লিগ ছাড়িয়ে যায় শীর্ষ পাঁচ লিগকে। অন্যান্য লিগে যেমন দেখা যায়, বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ না হলে দর্শকদের আগ্রহও থাকে কম। কিন্তু তুর্কি লিগ তেমন নয়। প্রতিটি ম্যাচই যেন দর্শকদের কাছে একেকটি উৎসব। ফ্লেয়ার, ব্যানার নিয়ে হাজির হন মাঠে। নিজেদের খেলোয়াড়দের সমর্থন দিতে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই কারও। ফুটবলের প্রতি তাদের প্যাশন নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো সাহস নেই কারও।টাকার ঝনঝনানিএবার আসা যাক টাকার প্রশ্নে। সৌদি ও আমেরিকান লিগ টাকার বান্ডিল দেখিয়েই যেন বড় বড় খেলোয়াড়ের হাত করে নিচ্ছে। তুর্কি লিগ কিন্তু সেদিক দিয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই। হ্যাঁ, সৌদি আর আমেরিকার মতো টাকার বস্তা নিয়ে হাজির হতে পারেনি তারা। কিন্তু খেলোয়াড়দের চুক্তির ব্যাপারে তারা এমন কিছু পন্থার আশ্রয় নিয়েছে, যাতে করে খেলোয়াড়দেরই লাভ বেশি।মোহাম্মদ সালাহর কথাই ধরো। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বেতন তো পাবেনই। সঙ্গে তাঁর নামে যত জার্সি বিক্রি হবে, তাঁর অফিসিয়াল খেলনা থেকে শুরু করে যা কিছু বিক্রি হবে, সবকিছু থেকে একটা বড় অংশ পাবেন তিনি। ত্রাবজোনস্পোরের হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে সালাহর জার্সি বিক্রি করে তাঁর দেওয়া বেতনের বড় একটা অংশ উঠে গেছে তাদের। তাহলে বোঝো, বাকি খেলোয়াড়দের লাভের পরিমাণটা ঠিক কত?তুর্কি লিগের প্রতি তাই এই মৌসুমে খেলোয়াড়দের আগ্রহটাও তাই দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর বড় বড় খেলোয়াড়ের দেখাদেখি স্পনসর, দর্শকেরাও লুফে নিচ্ছেন তুর্কি লিগের খেলা। সব মিলিয়ে এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগার পাশাপাশি তুর্কি লিগেও আলাদা করে নজর রাখতে হতে পারে তোমাদের।

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা

এশিয়ান গেমস ফুটবলে শুরুতেই উত্তর কোরিয়া–পরীক্ষা

‘এবারের ব্যালন ডি’অর আমার প্রাপ্য’- দাবি ইয়ামালের

‘এবারের ব্যালন ডি’অর আমার প্রাপ্য’- দাবি ইয়ামালের

নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, জানাল বিসিসিআই

নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, জানাল বিসিসিআই

বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত
বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারত

অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত নারী দল। তবে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারতীয় নারী দল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী দলের কোচ আমোল মজুমদার। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন ভারতের নারী দলের কোচ। আমোল মজুমদার বলেন, ‘আমরা ট্রফি সম্পর্কে কিছুই জানি না। ট্রফি কবে পাবো তাও জানি না।’ দলের সিদ্ধান্তেই কি ট্রফি গ্রহণ না করা, নাকি বোর্ডের সিদ্ধান্তে? এমন প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন ভারতের কোচ। তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। খেলোয়াড়েরা সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থান বিসিসিআই নিয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং এই অবস্থানের পাশেই আছি।’ সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, বারবার এমনভাবে ট্রফি গ্রহণ থেকে বিরত থাকাটা ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিপন্থী কি না। তবে সেই প্রশ্নের ইয়ত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন আমোল মজুমদার। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে ভারত। কিন্তু পুরস্কার বিতরণীর সময় ভারতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে আসেননি। রানার্সআপ শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু অবশ্য এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে রানার্সআপের পুরস্কারের অর্থের চেক গ্রহণ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে গত বছরের পুরুষদের এশিয়া কাপ ফাইনালের মিল রয়েছে। সেবার নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারত। পরে সাইকিয়া বলেছিলেন, নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তানের ‘প্রধান নেতাদের একজন’ হওয়ায় তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে চায়নি ভারতীয় দল। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মেয়েদের ফুটবলের কারণে পালিচড়া গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত

মেয়েদের ফুটবলের কারণে পালিচড়া গ্রাম এখন দেশজুড়ে পরিচিত

এক হাজার গোলের মাইফলক: কোথায় দাঁড়িয়ে মেসি এবং রোনালদো

এক হাজার গোলের মাইফলক: কোথায় দাঁড়িয়ে মেসি এবং রোনালদো

বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে সালমান আগার ট্রিপল সেঞ্চুরি

বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে সালমান আগার ট্রিপল সেঞ্চুরি

0 Comments