পর্দায় খল চরিত্রে এমনভাবে নিজেকে মেলে ধরেছিলেন যে, একসময় দর্শক বাস্তবের সাদেক বাচ্চু আর পর্দার খলনায়ককে আলাদা করতে পারেননি। এমনকি দুর্দান্ত অভিনয়ে চরিত্র বাস্তবের মতো ফুটিয়ে তোলার কারণে একপর্যায়ে দর্শকের কাছ থেকে বাদামের খোসা ও পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছিল তার সঙ্গে।
মঞ্চ থেকে বেতার, টেলিভিশন হয়ে চলচ্চিত্র; সব মাধ্যমেই নিজের অভিনয় প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন সাদেক বাচ্চু। তবে চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পর্দায় তার নেতিবাচক চরিত্র দেখে দর্শক যেমন তাকে নিন্দা করেছেন, তেমনি অভিনয়ের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে ভালোবাসাও দিয়েছেন।
আজ গুণী এই অভিনেতার ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবস। ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সাদেক বাচ্চু। তার চলে যাওয়ার পরও বাংলা চলচ্চিত্রে তার অভিনীত অসংখ্য চরিত্র দর্শকের মনে অমলিন হয়ে আছে।
সাদেক বাচ্চুর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়। তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুরে। তার আসল নাম মাহবুব আহমেদ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগে চাকরি করলেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে যান। ২০১৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন।
অভিনয়ের শুরুটা ষাটের দশকেই। ১৯৭২ সালের দিকে ‘গণনাট্য পরিষদ’ থিয়েটারে যুক্ত হন তিনি। সেখানে অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক রচনা ও নির্দেশনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। এরপর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। প্রযোজক আব্দুল্লাহ ইউসুফ ইমামের ‘প্রথম অঙ্গীকার’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে পথচলা শুরু করেন তিনি।
এরপর অসংখ্য নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন সাদেক বাচ্চু। তবে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৮৫ সালে ‘রামের সুমতি’ সিনেমার মাধ্যমে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নায়কের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। পরে ধীরে ধীরে খল চরিত্রে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেন।
বিশেষ করে ‘চাঁদনী’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। এরপর থেকে নেতিবাচক চরিত্রে তার উপস্থিতি যেন হয়ে ওঠে দর্শকের কাছে আলাদা এক আকর্ষণ। তার অভিনীত চরিত্রগুলো এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠত যে, পর্দার বাইরে সেই চরিত্রের রেশও দর্শকের মনে থেকে যেত।
অভিনেতা নিজেই একটি অভিজ্ঞতার গল্প জানিয়ে বলেছিলেন, একটি সিরিয়ালে রাজাকারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সাদেক বাচ্চু। দর্শকমহলে তুমুল আলোচিত নাটকের এক দৃশ্যে একজনকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন সাদেক বাচ্চু। সেই পর্ব প্রচারের পরদিন বোনকে আনতে ট্রেনে জামালপুর গিয়েছিলেন তিনি। স্টেশনে তাকে দেখে দর্শকরা বাদামের খোসা ছুড়ে মারেন, কেউবা আবার পাথর ছুড়তে থাকেন। সেই যাত্রায় কোনোমতে সেখান থেকে আসতে পেরেছিলেন তিনি।
চরিত্রকে এতটাই বিশ্বাসযোগ্য করে তোলাই ছিল সাদেক বাচ্চুর অভিনয়ের বড় সাফল্য।
সাদেক বাচ্চুর উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’, ‘জীবন নদীর তীরে’, ‘জোর করে ভালোবাসা হয় না’, ‘তোমার মাঝে আমি’, ‘ঢাকা টু বোম্বে’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘এক জবান’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘বধূবরণ’, ‘ময়দান’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রিয়জন’ ও ‘সুজন সখী’।
খল চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এই অভিনেতা।
জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অভিনয়কে ভালোবেসেছেন সাদেক বাচ্চু। পর্দায় তার খল চরিত্র দেখে দর্শক কখনো ক্ষুব্ধ হয়েছেন, কখনো তাকে ঘৃণা করেছেন, আবার কখনো সেই অভিনয়েই মুগ্ধ হয়েছেন।
এলআইএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে একসময় কম আলোচনা হয়নি। প্রেমের গুঞ্জন থেকে শুরু করে বিচ্ছেদ- দীর্ঘ সময় পরও এই দুই তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দর্শকের আগ্রহের কমতি নেই। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন দেব। আরও পড়ুন দুই মাসেই ভেঙে গেল ১১৪ বছরের রেকর্ড, সবার সেরা এখন ‘দ্য ওডিসি’ দুর্গাপূজায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেব ও শুভশ্রী অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’। সিনেমাটির প্রচার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে বলে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন দেব। সম্প্রতি কলকাতায় একটি স্যালোনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন অভিনেতা। দেব জানান, শুভশ্রীর সঙ্গে এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও তিনি ভয় পান। কারণ তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেই সেটিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। দেব বলেন, একসময় শুভশ্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এখন তারা বন্ধু। কিন্তু প্রকাশ্যে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও সেটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়ে যায়। এমনকি কোনো অনুষ্ঠানে শুভশ্রীকে স্বাভাবিকভাবে আলিঙ্গন করলেও সেটি নিয়েও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দেবের ভাষ্য, এসব কারণেই ‘দেশু ৭’-এর প্রচারে তারা সেভাবে একসঙ্গে বের হচ্ছেন না। কারণ প্রচারে গেলেই সিনেমার গল্প, নির্মাণ বা অভিনয়ের বদলে তাদের সম্পর্ক, বিচ্ছেদ কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। অভিনেতা বলেন, তারা প্রচারে বের হলেই বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অথচ কেউ ‘দেশু ৭’ নিয়ে কথা বলছে না। সিনেমাটিতে তিনি যে নতুন ধরনের নির্মাণভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, সেটিও আলোচনায় আসছে না। এমনকি দীর্ঘদিন পর কোনো বাংলা সিনেমার শুটিং লাদাখে হয়েছে, সেই বিষয়টিও আলোচনায় আসছে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। বড় বাজেটের ‘দেশু ৭’ সিনেমায় দেবের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন শুভশ্রী। সিনেমাটির টিজার প্রকাশের পর থেকেই এর অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দেব-শুভশ্রীর রোমান্টিক দৃশ্যও। দেব জানান, শুধু শুভশ্রীকে নিয়ে কয়েক দিনের শুটিং করেই চাইলে একাধিক সিনেমা তৈরি করা সম্ভব ছিল। এতে ব্যবসায়িক সাফল্যও আসত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে ‘ধূমকেতু’র পর দর্শক যেভাবে দেব-শুভশ্রীকে দেখতে চেয়েছেন, সেই প্রত্যাশা মাথায় রেখেই ‘দেশু ৭’ নির্মাণ করেছেন তিনি। আরও পড়ুন মোশাররফ করিমের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে চান? জানুন কীভাবে সিনেমাটিতে দেব ও শুভশ্রী ছাড়াও অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রজতাভ দত্ত, অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক ও লোকনাথ দে। দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই সিনেমাটির টিকিট বিক্রিতে দর্শকের আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে। এলআইএ
ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বাঁধনের বাবা প্রকৌশলী আমিনুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হামলার ঘটনার পর ইতালির পুলিশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাঁধন বলেন, আমাকে ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তারা সবসময় লবিতে থাকতো। আমি যে জায়গায় যেতাম সেই জায়গাই সঙ্গে সঙ্গে যেত। ৮ তারিখে আমি পুলিশ ফাইল করেছি। ওই জায়গার পুলিশ আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ সাহায্য করেছে। আরও পড়ুন ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ বাঁধনের দৃঢ় ঘোষণা, ‘কেস ফাইল না করে ভেনিস ছাড়ছি না’ তিনি আরও বলেন, যারা আক্রমণ করছে; তারা নিজেরাই সমস্যার মধ্যে পড়ছে। যারা আক্রমণ করছে তারা মনে করছে যে পার পেয়ে যাবেন। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছেন। এমন না যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, অথবা পানি মেরেছে। আমার গায়ে হাত তুলেছে তারা। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। তারা তাদের জায়গা অনিরাপদ করছে; আমাদের না। দলকানা না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, আপনার পরিবার সাফার করবে। কিন্তু দলের যে বড় বড় নেতারা আছেন, যারা আপনাদের অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে উসকে দিচ্ছে আপনাদের। তাদের জীবন কিন্তু আপনাদের না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনারা বাংলাদেশে টাকা পাঠান। আপনারা এগুলো আর প্লিজ কইরেন না। আরও পড়ুন ভেনিসে কঠিন অভিজ্ঞতার পর বাঁধনের আবেগঘন বার্তা ভেনিসে হামলার শিকার বাঁধন, সেই সিনেমার ঐতিহাসিক জয় এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন বলে জানান বাঁধন। পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও জানান এই অভিনেত্রী। গত সপ্তাহে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।’ দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি সেখানে জিতে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডসের প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো পুরস্কার। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে জানান বাঁধন। তার অভিযোগ, তাকে পানি, কোমলপানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার হাত থেকে মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিলেন। আরও পড়ুন সংস্কৃতিমন্ত্রী / অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাঁধনের আরও অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনার পর বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবাদ ও সমর্থনের বার্তা এসেছে। এমআই/এমএমএআর
ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ার পর এবার কনসার্ট নিয়ে নতুন চমক দিলেন পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ‘অরা ওয়ার্ল্ড ট্যুর’র অনুষ্ঠান চলাকালীনই নিজের পরবর্তী স্টেডিয়াম শোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগামী ২১ নভেম্বর ২০২৬ ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কনসার্ট করবেন দিলজিৎ। শনিবার ওয়েম্বলির মঞ্চে প্রায় ৯০ হাজার দর্শকের সামনে পারফর্ম করার পরই ভারতীয় অনুরাগীদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন তিনি। ১২ সেপ্টেম্বর ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে পারফর্ম করেন দিলজিৎ। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথম পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী হিসেবে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে হেডলাইন শো করার নজির গড়েছেন তিনি। পাঞ্জাবি গান, র্যাপ ও হিপ-হপের মিশেলে তার পরিবেশনা মুগ্ধ করে দর্শকদের। আরও পড়ুন জেমসের সঙ্গে দেখা হতেই পা ছুঁয়ে সালাম রূপমের ওয়েম্বলির মঞ্চ থেকেই ভারতের পরবর্তী কনসার্টের ঘোষণা দিয়ে দিলজিৎ জানান, এবার তিনি হাজির হবেন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। ভারতের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত এই ভেন্যুতে তার কনসার্ট ঘিরে এরই মধ্যে অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই ২০২৫ সালে ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের আলোচিত কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলজিৎ বলেন, ‘ভারতের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে কোল্ডপ্লে এরই মধ্যে নিজেদের অনুষ্ঠান সফল করেছে। এবার সেখানে আমার মতো পাঞ্জাবি শিল্পীরও অনুষ্ঠান হোক।’ ওয়েম্বলিতে বিপুল দর্শকের সামনে পারফর্ম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন দিলজিৎ। এবার দেশের মাটিতে আরও বড় পরিসরে দর্শকদের সামনে গান পরিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। পাঞ্জাবি সংগীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়মিত পারফর্ম করে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে বড় একটি শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরি করেছেন তিনি। আরও পড়ুন রুমি কারিমকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য, বললেন ‘হিরো আলমই ভালো ছিল’ ওয়েম্বলির পর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কনসার্টের ঘোষণা দিলজিতের ক্যারিয়ারে আরও একটি বড় সংযোজন হতে যাচ্ছে। এখন এই আয়োজনের জন্য অপেক্ষায় তার ভারতীয় অনুরাগীরা। এমএমএফ