বিনোদন

আপনি কোন ধরনের পারফেকশনিস্ট? মিলিয়ে নিন

জানিফ হাসান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
আপনি কোন ধরনের পারফেকশনিস্ট? মিলিয়ে নিন
আপনি কোন ধরনের পারফেকশনিস্ট? মিলিয়ে নিন

কাজটা একদম নিখুঁত না হওয়া পর্যন্ত আপনার শান্তি নেই? ছোট একটা ভুল নিয়েও বারবার ভাবেন? অন্যরা আপনার প্রত্যাশামতো কাজ না করলে বিরক্ত হন? নাকি সব সময় মনে হয়, অন্যরা আপনাকে কীভাবে দেখছে? এসবের সঙ্গে যদি নিজের মিল খুঁজে পান, তাহলে আপনি হয়তো পারফেকশনিজমের কোনো একটি ধরনে ভুগছেন।

পারফেকশনিজম হলো নিজের বা অন্যের জন্য অত্যন্ত উঁচু মানদণ্ড ঠিক করে তা নিখুঁতভাবে পূরণ করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা

পারফেকশনিজম কী?

পারফেকশনিজম হলো নিজের বা অন্যের জন্য অত্যন্ত উঁচু মানদণ্ড ঠিক করে তা নিখুঁতভাবে পূরণ করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা। সমস্যা হয় তখন, যখন কোনো কাজ বা অর্জনই যথেষ্ট মনে হয় না, সামান্য ভুলও বড় ব্যর্থতা বলে মনে হয় কিংবা নিজের মূল্যবোধকে সাফল্য ও অন্যের স্বীকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা শুরু হয়।

মনে রাখবেন, পারফেকশনিজম কোনো মানসিক রোগ নয়। তবে এটি অতিরিক্ত মাত্রায় গেলে উদ্বেগ, আত্ম-অসন্তুষ্টি, মানসিক চাপ ও বার্নআউটের মতো সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ‘সাইকোলজিক্যাল বুলেটিন’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নিজেকে পারফেকশনিস্ট বলে মনে করা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্য। যেন নিখুঁত হওয়াটা অনেকের কাছেই ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

পারফেকশনিজমের রকমফের

সব পারফেকশনিজম এক রকম নয়। মনোবিজ্ঞানীরা সাধারণত এটিকে তিন ধরনের প্রবণতায় ভাগ করেন—

১. সেলফ-ওরিয়েন্টেড

২. আদার-ওরিয়েন্টেড

৩. সোশ্যালি-প্রেসক্রাইবড পারফেকশনিজম

১. নিজের প্রতি কঠোর: সেলফ-ওরিয়েন্টেড পারফেকশনিজম

সেলফ-ওরিয়েন্টেড পারফেকশনিস্টরা নিজের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেন

এ ধরনের মানুষ নিজের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইনভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র ‘থ্রাইভওয়ার্কস’-এর থেরাপিস্ট এমিলি সিমোনিয়ানের মতে, নিজের প্রতি অতিরিক্ত কঠোরতা, ক্লান্তি এবং নিজের অর্জনকে কখনোই যথেষ্ট মনে না হওয়া—এসব এর লক্ষণ।

এ ধরনের মানুষ প্রচুর কাজ করেও নিজেকে বোঝান যে তাঁর অর্জন যথেষ্ট নয়। ফলে সাফল্য উদ্‌যাপনের পরিবর্তে তাঁরা অতৃপ্তি ও ক্লান্তিতে ভোগেন। কী অর্জন করেছেন, তার চেয়ে কী অর্জন করতে পারেননি, সেদিকেই মনোযোগ বেশি থাকে। একটি সাফল্য পাওয়ার পরই তাঁরা আরও বড় সাফল্যের দিকে ছুটতে শুরু করেন।

মুক্তির উপায়

একটু জিরিয়ে নিন। ‘স্লো লিভিং’-এ মনোযোগ দিন। ছোট ছোট মুহূর্ত উপভোগ করুন। সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য রাখুন। নিজের প্রতিও সহানুভূতিশীল হোন।

২. অন্যদের প্রতি প্রত্যাশা: আদার-ওরিয়েন্টেড পারফেকশনিজম

আদার-ওরিয়েন্টেড পারফেকশনিস্টরা আশপাশের মানুষকে নিজের ঠিক করে দেওয়া মানদণ্ডে মাপতে চান

এ ধরনটির সঙ্গে আমাদের অনেকেরই পরিচয় আছে। কর্মক্ষেত্রে, পরিবারে কিংবা স্কুল-কলেজে এর মুখোমুখি হয়েছেন নিশ্চয়ই।

এ ধরনের মানুষ আশপাশের মানুষকে নিজের ঠিক করে দেওয়া মানদণ্ডে মাপতে চান। মনে করেন, অমুকের তমুকের মতো হওয়া উচিত। অন্যরা তাঁর প্রত্যাশামতো আচরণ না করলে তিনি বিরক্ত হন, তাঁদের বিচার করেন। এতে একসময় সম্পর্কের মধ্যে বিষাক্ত ও বিচারমূলক পরিবেশ তৈরি হতে পারে, যা দুই পক্ষের জন্যই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তোলে।

‘থ্রাইভওয়ার্কস’-এর থেরাপিস্ট এমিলি সিমোনিয়ান বলেন, অন্যদের কাছ থেকেও নিজের মতো পেশাদারত্ব ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রত্যাশা করা এ ধরনের পারফেকশনিজমের একটি উদাহরণ। এতে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মুক্তির উপায়

একবার ভাবুন, কেন অন্য কেউ আপনার মনের মতো হবে? সে তার মতোই হবে। সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। কেউ আপনার প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে তাঁর জায়গায় নিজেকে কল্পনা করে দেখুন। হয়তো তিনি ক্লান্ত, হয়তো আপনার মতো গোছানো নন, আর সেটাই স্বাভাবিক। কাছের মানুষদের ভালো দিকগুলোর দিকে মনোযোগ দিন। কৃতজ্ঞতার তালিকাও তৈরি করতে পারেন।

৩. অন্যের চোখে ভালো থাকা: সোশ্যালি-প্রেসক্রাইবড পারফেকশনিজম

সোশ্যালি-প্রেসক্রাইবড পারফেকশনিস্টরা সব সময় ভাবেন, অন্যরা তাঁকে নিয়ে কী ভাবছে। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ও কাজ করে

এটি আদার-ওরিয়েন্টেড পারফেকশনিজমের প্রায় বিপরীত। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সব সময় ভাবেন, অন্যরা তাঁকে নিয়ে কী ভাবছে। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ও কাজ করে।

সিমোনিয়ানের ভাষায়, অন্যরা কী ভাবছে, তা নিয়ে কিছুটা চিন্তা করা স্বাভাবিক। কিন্তু পারফেকশনিজম যখন এই উদ্বেগকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়, তখন সমস্যা তৈরি হয়। স্মার্ট, নিয়ন্ত্রিত বা আকর্ষণীয় দেখানো কিংবা অন্যের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার তাগিদ এতটাই তীব্র হয়ে উঠতে পারে যে তা আত্মমর্যাদা ও আত্মমূল্যবোধকে প্রভাবিত করে।

মুক্তির উপায়

সব সময় অন্যের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা না করে নিজের মূল্যবোধ ও পছন্দের দিকে মনোযোগ দিন। মনে রাখতে হবে, সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। নিজের ভুল ও সীমাবদ্ধতাকে মেনে নেওয়ার অভ্যাস করুন।

নিজের ধরনটা চিনুন

আপনি কি নিজের ওপর অসম্ভব রকমের প্রত্যাশা চাপিয়ে দিচ্ছেন? নাকি অন্যদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কিছু প্রত্যাশা করছেন? অথবা সব সময় ভাবছেন, অন্যরা আপনাকে কীভাবে দেখছে?

তিন ধরনের পারফেকশনিজমই আলাদা আলাদা জায়গা থেকে জন্ম নেয়। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় গেলে ফলাফল প্রায় একই—ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা, নিজের প্রতি অসন্তুষ্টি এবং শেষ পর্যন্ত বার্নআউট।

দিন শেষে ঘুমাতে যাওয়ার পরও মনে হতে পারে, আরও কিছু করা দরকার ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠেও নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত মনে না–ও হতে পারে।

তাই প্রথম কাজ হলো নিজের প্রবণতাটা চেনা। আপনি কি নিজের ওপর অসম্ভব রকমের প্রত্যাশা চাপিয়ে দিচ্ছেন? নাকি অন্যদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কিছু প্রত্যাশা করছেন? অথবা সব সময় ভাবছেন, অন্যরা আপনাকে কীভাবে দেখছে?

কারণটা বুঝতে পারলে সেটি বদলানোর পথও সহজ হয়। আর যদি এই প্রবণতা আপনার দৈনন্দিন জীবন, সম্পর্ক বা মানসিক সুস্থতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে শুরু করে, প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সাহায্য নিন।

সূত্র: হাফপোস্ট

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

বিনোদন

View more
শুভশ্রীর সঙ্গে আজকাল কথা বলতেও ভয় পান দেব, জানালেন কারণ
শুভশ্রীর সঙ্গে আজকাল কথা বলতেও ভয় পান দেব, জানালেন কারণ

দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে একসময় কম আলোচনা হয়নি। প্রেমের গুঞ্জন থেকে শুরু করে বিচ্ছেদ- দীর্ঘ সময় পরও এই দুই তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে দর্শকের আগ্রহের কমতি নেই। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুলেছেন দেব। আরও পড়ুন দুই মাসেই ভেঙে গেল ১১৪ বছরের রেকর্ড, সবার সেরা এখন ‘দ্য ওডিসি’ দুর্গাপূজায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেব ও শুভশ্রী অভিনীত নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’। সিনেমাটির প্রচার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা থাকলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে বলে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন দেব। সম্প্রতি কলকাতায় একটি স্যালোনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন অভিনেতা। দেব জানান, শুভশ্রীর সঙ্গে এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও তিনি ভয় পান। কারণ তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেলেই সেটিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। দেব বলেন, একসময় শুভশ্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এখন তারা বন্ধু। কিন্তু প্রকাশ্যে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও সেটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়ে যায়। এমনকি কোনো অনুষ্ঠানে শুভশ্রীকে স্বাভাবিকভাবে আলিঙ্গন করলেও সেটি নিয়েও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দেবের ভাষ্য, এসব কারণেই ‘দেশু ৭’-এর প্রচারে তারা সেভাবে একসঙ্গে বের হচ্ছেন না। কারণ প্রচারে গেলেই সিনেমার গল্প, নির্মাণ বা অভিনয়ের বদলে তাদের সম্পর্ক, বিচ্ছেদ কিংবা বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে। অভিনেতা বলেন, তারা প্রচারে বের হলেই বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অথচ কেউ ‘দেশু ৭’ নিয়ে কথা বলছে না। সিনেমাটিতে তিনি যে নতুন ধরনের নির্মাণভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, সেটিও আলোচনায় আসছে না। এমনকি দীর্ঘদিন পর কোনো বাংলা সিনেমার শুটিং লাদাখে হয়েছে, সেই বিষয়টিও আলোচনায় আসছে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি। বড় বাজেটের ‘দেশু ৭’ সিনেমায় দেবের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন শুভশ্রী। সিনেমাটির টিজার প্রকাশের পর থেকেই এর অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে দর্শকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে দেব-শুভশ্রীর রোমান্টিক দৃশ্যও। দেব জানান, শুধু শুভশ্রীকে নিয়ে কয়েক দিনের শুটিং করেই চাইলে একাধিক সিনেমা তৈরি করা সম্ভব ছিল। এতে ব্যবসায়িক সাফল্যও আসত। কিন্তু সে পথে না গিয়ে ‘ধূমকেতু’র পর দর্শক যেভাবে দেব-শুভশ্রীকে দেখতে চেয়েছেন, সেই প্রত্যাশা মাথায় রেখেই ‘দেশু ৭’ নির্মাণ করেছেন তিনি। আরও পড়ুন মোশাররফ করিমের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে চান? জানুন কীভাবে সিনেমাটিতে দেব ও শুভশ্রী ছাড়াও অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রজতাভ দত্ত, অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক ও লোকনাথ দে। দুর্গাপূজায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই সিনেমাটির টিকিট বিক্রিতে দর্শকের আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে।   এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে রেলস্টেশনে কেন পাথর ছুড়ে মেরেছিল দর্শক?

অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে রেলস্টেশনে কেন পাথর ছুড়ে মেরেছিল দর্শক?

আইফোন ১৮ কিনতে কিডনি বিক্রি! ভাইরাল এআই ছবি বানাবেন যেভাবে

আইফোন ১৮ কিনতে কিডনি বিক্রি! ভাইরাল এআই ছবি বানাবেন যেভাবে

ইতালিতে হামলা, এবার নিজের সিনেমার টিমের বিরুদ্ধেই অভিযোগ বাঁধনের

ইতালিতে হামলা, এবার নিজের সিনেমার টিমের বিরুদ্ধেই অভিযোগ বাঁধনের

বিমানবন্দরে নেমে যা বললেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
বিমানবন্দরে নেমে যা বললেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব থেকে দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বাঁধনের বাবা প্রকৌশলী আমিনুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হামলার ঘটনার পর ইতালির পুলিশের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাঁধন বলেন, আমাকে ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তারা সবসময় লবিতে থাকতো। আমি যে জায়গায় যেতাম সেই জায়গাই সঙ্গে সঙ্গে যেত। ৮ তারিখে আমি পুলিশ ফাইল করেছি। ওই জায়গার পুলিশ আমাকে যথেষ্ট পরিমাণ সাহায্য করেছে। আরও পড়ুন ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ বাঁধনের দৃঢ় ঘোষণা, ‘কেস ফাইল না করে ভেনিস ছাড়ছি না’ তিনি আরও বলেন, যারা আক্রমণ করছে; তারা নিজেরাই সমস্যার মধ্যে পড়ছে। যারা আক্রমণ করছে তারা মনে করছে যে পার পেয়ে যাবেন। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছেন। এমন না যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, অথবা পানি মেরেছে। আমার গায়ে হাত তুলেছে তারা। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। তারা তাদের জায়গা অনিরাপদ করছে; আমাদের না। দলকানা না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাঁধন বলেন, আপনার পরিবার সাফার করবে। কিন্তু দলের যে বড় বড় নেতারা আছেন, যারা আপনাদের অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে উসকে দিচ্ছে আপনাদের। তাদের জীবন কিন্তু আপনাদের না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আপনারা বাংলাদেশে টাকা পাঠান। আপনারা এগুলো আর প্লিজ কইরেন না। আরও পড়ুন ভেনিসে কঠিন অভিজ্ঞতার পর বাঁধনের আবেগঘন বার্তা ভেনিসে হামলার শিকার বাঁধন, সেই সিনেমার ঐতিহাসিক জয় এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা করেন বলে জানান বাঁধন। পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইতালি সরকারের সহযোগিতার কথাও জানান এই অভিনেত্রী। গত সপ্তাহে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।’ দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি সেখানে জিতে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডসের প্রেমিও বিসাতো দ’ওরো পুরস্কার। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রিমিয়ারের পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে জানান বাঁধন। তার অভিযোগ, তাকে পানি, কোমলপানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার হাত থেকে মুঠোফোনও ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় তার ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিলেন। আরও পড়ুন সংস্কৃতিমন্ত্রী / অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাঁধনের আরও অভিযোগ, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনার পর বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের অনেক শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবাদ ও সমর্থনের বার্তা এসেছে। এমআই/এমএমএআর

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
আপনি কোন ধরনের পারফেকশনিস্ট? মিলিয়ে নিন

আপনি কোন ধরনের পারফেকশনিস্ট? মিলিয়ে নিন

থাই-হাই স্লিট গাউনে নেটপাড়ায় ঝড় তুললেন ঋতাভরী

থাই-হাই স্লিট গাউনে নেটপাড়ায় ঝড় তুললেন ঋতাভরী

দেবকে বাড়ি ভাড়া দিতে চাননি কেউ, কারণ জানালেন অভিনেতা

দেবকে বাড়ি ভাড়া দিতে চাননি কেউ, কারণ জানালেন অভিনেতা

কনসার্ট নিয়ে নতুন চমক দিলেন দিলজিৎ
কনসার্ট নিয়ে নতুন চমক দিলেন দিলজিৎ

ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ার পর এবার কনসার্ট নিয়ে নতুন চমক দিলেন পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ। লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ‘অরা ওয়ার্ল্ড ট্যুর’র অনুষ্ঠান চলাকালীনই নিজের পরবর্তী স্টেডিয়াম শোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আগামী ২১ নভেম্বর ২০২৬ ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কনসার্ট করবেন দিলজিৎ। শনিবার ওয়েম্বলির মঞ্চে প্রায় ৯০ হাজার দর্শকের সামনে পারফর্ম করার পরই ভারতীয় অনুরাগীদের উদ্দেশে এই ঘোষণা দেন তিনি। ১২ সেপ্টেম্বর ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে পারফর্ম করেন দিলজিৎ। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথম পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী হিসেবে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে হেডলাইন শো করার নজির গড়েছেন তিনি। পাঞ্জাবি গান, র‍্যাপ ও হিপ-হপের মিশেলে তার পরিবেশনা মুগ্ধ করে দর্শকদের। আরও পড়ুন জেমসের সঙ্গে দেখা হতেই পা ছুঁয়ে সালাম রূপমের ওয়েম্বলির মঞ্চ থেকেই ভারতের পরবর্তী কনসার্টের ঘোষণা দিয়ে দিলজিৎ জানান, এবার তিনি হাজির হবেন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। ভারতের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত এই ভেন্যুতে তার কনসার্ট ঘিরে এরই মধ্যে অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই ২০২৫ সালে ব্রিটিশ ব্যান্ড কোল্ডপ্লের আলোচিত কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলজিৎ বলেন, ‘ভারতের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে কোল্ডপ্লে এরই মধ্যে নিজেদের অনুষ্ঠান সফল করেছে। এবার সেখানে আমার মতো পাঞ্জাবি শিল্পীরও অনুষ্ঠান হোক।’ ওয়েম্বলিতে বিপুল দর্শকের সামনে পারফর্ম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন দিলজিৎ। এবার দেশের মাটিতে আরও বড় পরিসরে দর্শকদের সামনে গান পরিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। পাঞ্জাবি সংগীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়মিত পারফর্ম করে এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে বড় একটি শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরি করেছেন তিনি। আরও পড়ুন রুমি কারিমকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য, বললেন ‘হিরো আলমই ভালো ছিল’ ওয়েম্বলির পর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে কনসার্টের ঘোষণা দিলজিতের ক্যারিয়ারে আরও একটি বড় সংযোজন হতে যাচ্ছে। এখন এই আয়োজনের জন্য অপেক্ষায় তার ভারতীয় অনুরাগীরা। এমএমএফ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
শুধু প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ–সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে এবার রিট

শুধু প্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ–সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে এবার রিট

নতুন পরিচয়ে আসছেন সামিনা চৌধুরী

নতুন পরিচয়ে আসছেন সামিনা চৌধুরী

হেমা মালিনীর আগে যে পাকিস্তানি মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন ধর্মেন্দ্র

হেমা মালিনীর আগে যে পাকিস্তানি মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন ধর্মেন্দ্র

0 Comments