প্রযুক্তি

গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে?

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে?
গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে?

অপরিচিত রাস্তায় যাওয়ার সময় গুগল ম্যাপস খুলে গন্তব্যের ঠিকানা লিখলেই সামনে ভেসে ওঠে রাস্তার অবস্থা। কোথাও সবুজ, কোথাও হলুদ, আবার কোথাও গাঢ় লাল রঙে দেখা যায় রাস্তা। লাল মানেই ধীরগতি বা যানজট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাস্তার প্রতিটি গাড়িকে ক্যামেরায় না দেখেও গুগল ম্যাপস কীভাবে এত দ্রুত বুঝে ফেলে কোথায় জ্যাম তৈরি হয়েছে? এর পেছনে রয়েছে বিপুল পরিমাণ লোকেশন ডাটা, পুরোনো ট্র্যাফিকের হিসাব, ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বিত বিশ্লেষণ।

আপনার ফোনই দেয় গুরুত্বপূর্ণ সংকেত

গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা বুঝতে স্মার্টফোনের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো রাস্তায় একসঙ্গে অনেক ফোন থাকা অবস্থায় যদি সেগুলোর গতিবিধি স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর হয়ে যায়, তাহলে গুগল বুঝতে পারে ওই অংশে যান চলাচল কমে এসেছে।

ধরা যাক, কোনো সড়কে সাধারণত গাড়ি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল ওই এলাকার একাধিক ডিভাইসের চলাচল অনেক ধীর। তখন সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সিস্টেমটি অনুমান করতে পারে যে রাস্তাটিতে যানজট তৈরি হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে গুগল প্রতিটি গাড়িকে আলাদাভাবে নজরদারি করছে। বরং অনেক ডিভাইস থেকে পাওয়া সম্মিলিত তথ্য ব্যবহার করে একটি রাস্তার সামগ্রিক গতির চিত্র তৈরি করা হয়।

আরও পড়ুন

গুগল ম্যাপে ঠিকানা খুঁজে পাওয়া আরও সহজ

শুধু বর্তমান তথ্য নয়, পুরোনো হিসাবও কাজে লাগে

গুগল ম্যাপসের ট্র্যাফিক অনুমান কেবল ওই মুহূর্তের তথ্যের ওপর নির্ভর করে না। কোনো রাস্তা কোন দিন, কোন সময়ে সাধারণত ব্যস্ত থাকে, সেটিও হিসাবের মধ্যে থাকে। যেমন, কর্মদিবসের সকালে অফিসগামী মানুষের চাপে একটি সড়কে নিয়মিত যানজট তৈরি হতে পারে। আবার বিকেল বা সন্ধ্যায় একই রাস্তায় গাড়ির চাপ বাড়তে পারে। অতীতের এসব প্রবণতার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তথ্য মিলিয়ে সম্ভাব্য ভ্রমণ সময় অনুমান করে গুগল। এই কারণেই আপনি রাস্তায় পৌঁছানোর আগেই ম্যাপস অনেক সময় জানিয়ে দিতে পারে, কোন পথে যেতে কত সময় লাগতে পারে।

ব্যবহারকারীর রিপোর্টও গুরুত্বপূর্ণ

দুর্ঘটনা, রাস্তা বন্ধ, নির্মাণকাজ বা অন্য কোনো আকস্মিক ঘটনার কারণে হঠাৎ যানজট তৈরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতি বুঝতে ব্যবহারকারীদের দেওয়া রিপোর্টও কাজে লাগে। কিছু ক্ষেত্রে ট্র্যাফিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও পাওয়া তথ্য সিস্টেমের বিশ্লেষণে যুক্ত হতে পারে। তবে কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত লাইভ ডাটা না থাকলে ট্র্যাফিকের পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে কম নির্ভুল হতে পারে।

আরও পড়ুন

গুগল ম্যাপসের ৭ ফিচার, যা বেশিরভাগ মানুষ ব্যবহারই করেন না

লাল রাস্তা মানেই কি শতভাগ নিশ্চিত জ্যাম?

না। ম্যাপের রং আসলে একটি অনুমানভিত্তিক ট্র্যাফিক চিত্র। পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে কিংবা হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে বাস্তব অবস্থা এবং ম্যাপের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য হতে পারে। অর্থাৎ গুগল ম্যাপসের রঙিন রাস্তা কোনো স্যাটেলাইট ক্যামেরায় তোলা লাইভ দৃশ্য নয়। বরং অসংখ্য ডাটা, ঐতিহাসিক ট্র্যাফিকের ধরন এবং আধুনিক অ্যালগরিদমের বিশ্লেষণ থেকে তৈরি একটি সম্ভাব্য চিত্র।

আপনি যখন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা বেছে নেন, তখন পর্দায় কয়েকটি রঙের রেখা দেখা গেলেও এর পেছনে কাজ করে বিশাল এক ডাটা-নির্ভর ব্যবস্থা। সেই কারণেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গুগল ম্যাপস জানিয়ে দিতে পারে কোন পথে গেলে সময় বাঁচতে পারে আর কোথায় হয়তো অপেক্ষা করতে হবে।

কেএসকে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

প্রযুক্তি

View more
সুতা-চুমকিতে কারচুপির কারুকাজ
সুতা-চুমকিতে কারচুপির কারুকাজ

সুতার টান, চুমকি, পুঁতি আর পাথরের নিপুণ সমন্বয়ে কাপড়ে ফুটে ওঠে বাহারি নকশা। একেকটি নকশার পেছনে থাকে কারিগরের ধৈর্য, দক্ষতা ও দীর্ঘ সময়ের শ্রম। সাধারণ কাপড়কে জমকালো করে তুলতে হাতে হাতে চলছে কারচুপির কাজ। শাড়ি, লেহেঙ্গা, কুর্তি, থ্রিপিসসহ বিভিন্ন পোশাকে করা হচ্ছে এসব কারুকাজ। উৎসব-পার্বণ ও বিয়ের অনুষ্ঠানে জমকালো পোশাকের চাহিদা বাড়লে ব্যস্ততা বাড়ে কারচুপির কারিগরদেরও। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এমনই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা।লাল কাপড়ে সুতার ফোঁড়, চুমকি ও পাথর বসিয়ে নকশা ফুটিয়ে তুলছেন কারিগরেরা।কাপড়ে নকশা আঁকার পর তা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত কারিগরেরাকারচুপির প্রতিটি কাজের পেছনে থাকে কারিগরের ধৈর্য, দক্ষতা ও দীর্ঘ সময়ের শ্রমহাতে হাতে তৈরি হচ্ছে বাহারি কারচুপির কাজসুতার সঙ্গে চুমকি ও পাথর বসিয়ে কাপড়ে তৈরি করা হচ্ছে সূক্ষ্ম নকশাসোনালি চুমকি ও পুঁতি দিয়ে কারচুপির কাজ করছেন কারিগরনিপুণ হাতে কাপড়ে ফুটিয়ে তুলছেন সূক্ষ্ম নকশাএকই কাপড়ে পাশাপাশি বসে কারচুপির কাজ করছেন দুই কারিগরকারচুপির কাজে ব্যবহৃত নানা রঙের সুতা সাজানো রয়েছে তাকজুড়ে। এসব সুতা দিয়েই কাপড়ে ফুটে ওঠে নানা নকশা

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান ঢাকার ডিসির

‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে বিশ্ববাজারে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান ঢাকার ডিসির

সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ কেন

সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ কেন

গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে?

গুগল ম্যাপ আগে থেকেই কীভাবে ট্র্যাফিক জ্যাম বুঝে ফেলে?

পরিবেশসচেতন প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে শেষ হলো ‘গ্রিন জেনেসিস’ উৎসব
পরিবেশসচেতন প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে শেষ হলো ‘গ্রিন জেনেসিস’ উৎসব

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত গ্রিন জেনেসিস উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে উৎসাহিত করা।জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জাতীয় পরিবেশ উৎসব ‘গ্রিন জেনেসিস ২০২৬’ শেষে হয়েছে। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের নতুন ধারণা, উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরার জন্য একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশসচেতন প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আউটরিচ টিমের আয়োজনে এই উৎসবে ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা। এসবের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানও উপস্থাপন করেন।আয়োজকেরা জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী এ আয়োজনে নিবন্ধন করেন। ১২টি বিভাগে জমা পড়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আবেদন। দেশের প্রায় ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৮৮টি ক্লাব এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।উৎসবের প্রথম দিন শুরু হয় ‘আ লেটার টু নেচার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির উদ্দেশে নিজেদের ভাবনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরে চিঠি লেখেন। প্রকৃতির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা উঠে আসে এই পর্বে।‘ইকো ডিকোড’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অঝরা ইসলাম এবং আবদুল্লাহ ইসলাম (টিম ‘গো বিগ গ্রিনস’)। তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরাদ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্লাইমেট সায়েন্স অলিম্পিয়াড’ এবং ‘ক্লাইমেট ওরেটরি’। জলবায়ুবিজ্ঞান, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয় অলিম্পিয়াডে। অন্যদিকে ক্লাইমেট ওরেটরিতে তরুণেরা জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য উপস্থাপন করে নিজেদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘গ্রিন জেনেসিস ইনস্পিরেশন’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশন। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআর পরিচালক গোলাম রব্বানী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট লাইফের প্রধান তাহসিনা রহমান শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।এদিন আরও অনুষ্ঠিত হয় এনভায়রনমেন্টাল প্রজেক্ট ডিসপ্লে, ইকো ডিকোড প্রবলেম-সলভিং চ্যালেঞ্জ, পোস্টার ডিজাইন, ওয়াল ম্যাগাজিন, ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, এআই আর্ট, এনভায়রনমেন্টাল রিল, গ্রিন জার্নালিজমসহ বিভিন্ন সেগমেন্ট। অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই সমাধান, গবেষণা, সৃজনশীল যোগাযোগ এবং পরিবেশবিষয়ক গল্প বলার নতুন নতুন ধারণা উপস্থাপন করেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে তরুণেরা শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেই থেমে থাকেননি, তাঁরা এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও কাজ করেছেন।উৎসবজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পাঁচটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাগুলো পরিচালনা করেন সিথ্রিইআরের ডিরেক্টর গোলাম রব্বানী, অফিস অব কমিউনিকেশনসের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, প্রথম আলোর ডিজিটাল কনটেন্ট লিড ও লেখক খায়রুল বাবুই, সিথ্রিইআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শারমিন নাহার এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই সৃজন বণিক। এসব কর্মশালায় পরিবেশবিষয়ক যোগাযোগ, গবেষণা, সাংবাদিকতা, জনসচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর ও সৃজনশীল উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়।উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত। পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং সচেতনতার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। আর সেই যাত্রায় তরুণেরাই সবচেয়ে বড় শক্তি।’ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন আউটরিচ টিমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দীপ্তি সরকার। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।চার দিনব্যাপী তারুণ্যের এই উৎসবে সহযোগী ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং ইয়ুথ ফর আ গ্রিন আর্থ (ওয়াইজিই)। সহ–আয়োজক ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, এনভায়রনমেন্টাল ক্লাব, কমিউনিটি সার্ভিস ক্লাব এবং ন্যাচারাল সায়েন্স ক্লাব। পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এসিআই মোটরস। ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে ছিল প্রথম আলো ডটকম।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান: বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিপদের আশঙ্কা: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক

স্কুলে চালু হচ্ছে রোবটিক্স শিক্ষা, প্রস্তুত বিশেষ পাঠ্যক্রম

স্টার্টআপে ঝুঁকছে তরুণ উদ্যোক্তারা, বাড়ছে বিনিয়োগের সুযোগ

দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা শুরুর আগ্রহ বিগত কয়েক বছরে চোখে পড়ার মতোভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্টার্টআপ খাতে প্রযুক্তি, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাভিত্তিক উদ্যোগগুলো এখন তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার, যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির পেছনে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কাজ করেছে।   তরুণদের চোখে সম্ভাবনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী রায়হান মৃধা সম্প্রতি “EduTrack” নামে একটি এডটেক স্টার্টআপ চালু করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ ও ইন্টারেক্টিভ লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে। শুরুতে ঝুঁকি ছিল, তবে এখন মাসে ১০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী পাচ্ছি।” এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বা সদ্য পাস করা তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং কর্মসংস্থান তৈরি করছেন।   বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোও এখন বাংলাদেশি স্টার্টআপে অর্থ ঢালতে আগ্রহী। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ১২টি স্টার্টআপ প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং পেয়েছে। উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সহায়তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘BD Venture’–এর নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের ধারণা অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানের হয়, শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও পুঁজি। এখন সেই সুযোগ ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে।”   সরকারি উদ্যোগ ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ নামে আইসিটি বিভাগের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি উদ্যোগে প্রাথমিক অর্থায়ন করেছে। একইসঙ্গে রয়েছে উদ্যোক্তা হাব, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরির সুযোগ।

জানিফ হাসান জুন ৫, ২০২৫ 0

এআই প্রযুক্তি: কি কাজ হারাবে মানুষ, আর কোন কাজে হবে সহায়ক?

AI আসছে, চাকরি যাচ্ছে? বাস্তবতা ও ভয়ের মাঝে সত্যটা কোথায়

প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ

প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ: কেমন হতে পারে আগামী ১০ বছর?

0 Comments