“আপনি কি কখনো ভেবেছেন, ২০৩৫ সালে আমরা কেমন প্রযুক্তি ব্যবহার করব?”
মোবাইল, ইন্টারনেট, আর চ্যাটজিপিটির যুগে দাঁড়িয়ে আমরা হয়তো ভাবতেও পারি না—আগামী ১০ বছরেই আমাদের জীবন কেমন পাল্টে যেতে পারে! প্রযুক্তির গতি এখন এতটাই দ্রুত, এক সময় যে জিনিসগুলো ছিল কল্পবিজ্ঞান, এখন তা বাস্তব।
গত দশকে আমরা পেয়েছি স্মার্টফোন, ফাইভজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), এবং আরও অনেক নতুনত্ব। কিন্তু এই পরিবর্তন তো কেবল শুরু! ২০৩৫ সাল নাগাদ আমাদের চারপাশে থাকতে পারে রোবটিক সহকারী, কৃত্রিম চিকিৎসক, উড়ন্ত গাড়ি কিংবা এমন প্রযুক্তি, যা আমাদের চিন্তাও পড়ে ফেলতে পারবে!
এই ব্লগে আমরা গভীরভাবে জানবো—
ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আমাদের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে,
স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির উন্নয়ন কেমন হতে পারে,
ভবিষ্যতের ইন্টারনেট, যেমন 6G বা স্পেস-ভিত্তিক সংযোগ কেমন হতে পারে,
এবং সেই সঙ্গে প্রযুক্তির অন্ধকার দিক—যেমন গোপনীয়তার ঝুঁকি ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ।
চলুন, প্রযুক্তির টাইম মেশিনে চড়ে একটু এগিয়ে যাই—দেখে আসি আগামী ১০ বছরে আমাদের জীবনটা প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কেমন হতে পারে।
এক সময় “রোবট মানুষ” ছিল কেবল সিনেমার বিষয়। কিন্তু এখন? AI মানেই আমাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। আমরা চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলি, Copilot দিয়ে কোড বা কনটেন্ট লিখি, আর Midjourney বা DALL·E দিয়ে ছবি বানাই—সবই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তি!
২০৩৫ সালে এই প্রযুক্তিগুলো শুধু আপডেট নয়, পুরোপুরি রূপান্তরিত হবে। ভবিষ্যতের AI হবে আরও স্বাধীন, মানবিক ও সিদ্ধান্তগ্রহণে সক্ষম। কল্পনা করুন, আপনি অসুস্থ—ডাক্তার না, AI আপনাকে স্ক্যান করে রোগ ধরবে, ওষুধ সাজেস্ট করবে, এমনকি আপনার স্বাস্থ্যগত প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে আগেই আপনাকে সতর্ক করবে। অথবা আপনার ব্যবসার সিদ্ধান্ত—কোন পণ্য বিক্রি হবে, কোথায় বিনিয়োগ করবেন—AI আপনাকে অপশন দেখিয়ে দিবে, বিশ্লেষণ করে জানাবে সম্ভাব্য ফলাফল।
তবে সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে কিছু ভয়ের জায়গাও।
🔸 গোপনীয়তা: আমাদের কথাবার্তা, অভ্যাস, চিন্তাধারা—সব AI শিখছে। এগুলোর সঠিক ব্যবহারে আইন না থাকলে ঝুঁকি বাড়বে।
🔸 চাকরি হারানোর আশঙ্কা: সহজ, রিপিটেটিভ কাজগুলো দ্রুত অটোমেটেড হয়ে যাবে। ফলে অনেক পেশাই বিলুপ্তির পথে যেতে পারে।
অন্যদিকে, AI নতুন সুযোগও সৃষ্টি করবে—নতুন ধরনের চাকরি, দক্ষতা, উদ্যোক্তা হওয়ার পথ খুলে যাবে।
সব মিলিয়ে, AI আমাদের ভবিষ্যতের চালক হতে চলেছে—প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই যাত্রায় প্রস্তুত?
আগামী ১০ বছরে চিকিৎসা খাতের চেহারা একেবারে বদলে যাবে—এটা কেবল ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বাস্তবতার পথে যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। কল্পনা করুন, আপনি আর হাসপাতালে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকবেন না। বরং ঘরে বসেই ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে দেখা, রিপোর্ট শেয়ার, প্রেসক্রিপশন—সবই হবে অনলাইনে। এটিই টেলিমেডিসিন, যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, এমনকি বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে।
এর পাশাপাশি রোবটিক সার্জারি হয়ে উঠছে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির অঙ্গ। রোবট-সহায়তায় শল্যচিকিৎসা আরও নিখুঁত, নিরাপদ এবং কম কষ্টদায়ক হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে জটিল অপারেশনও হয়তো ডাক্তার দূরে বসে নিয়ন্ত্রণ করবেন, আর সার্জারি করবে একটি AI-চালিত রোবট।
আর আছে wearable health devices—যেমন স্মার্ট ঘড়ি, ফিটনেস ব্যান্ড, কিংবা রক্তচাপ/রক্তে অক্সিজেন মাপার গ্যাজেট। এগুলো শুধু তথ্য দেখায় না, রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করে। কেউ যদি অনিয়মিত হার্টবিট বা ব্লাড সুগারের ঝুঁকিতে থাকেন, AI ডেটা বিশ্লেষণ করে আগেই সতর্ক করে দিতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—AI-চালিত রোগ নির্ণয়। শুধু এক্স-রে বা ব্লাড রিপোর্ট না, AI এখন কান্সার, হার্ট ডিজিজ, এমনকি মানসিক সমস্যাও আগেভাগে শনাক্ত করতে পারছে।
বাংলাদেশে যদিও প্রযুক্তি-নির্ভর স্বাস্থ্যসেবা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে সম্ভাবনা বিশাল।
গ্রামীণ এলাকায় যেখানে ডাক্তার নেই, সেখানে টেলিমেডিসিন হতে পারে বড় সমাধান।
প্রযুক্তির মাধ্যমে শহর-গ্রামের চিকিৎসা ব্যবধান কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য খাতে AI যদি সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, তাহলে চিকিৎসার মান যেমন বাড়বে, খরচও অনেক কমবে।
স্বাস্থ্যসেবায় এই বিপ্লব যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়—২০২৫ নয়, ২০৩৫ সালেই আমরা আরও সুস্থ, সচেতন এবং প্রযুক্তি-নির্ভর একটি জাতিতে রূপ নিতে পারি।
আগামী ১০ বছরে “স্কুলে গিয়ে পড়া” বা “অফিসে গিয়ে চাকরি করা”—এই ধারণাগুলো ধীরে ধীরে বদলে যাবে। প্রযুক্তির গতিতে শিক্ষা এবং চাকরির পদ্ধতি যেমন বদলাবে, তেমনি বদলাবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও মানসিকতা।
আজ যেখানে Zoom বা Google Meet-এ ক্লাস হয়, ভবিষ্যতে হয়তো মেটাভার্সে ভার্চুয়াল স্কুল বা ভার্সিটি হবে। ছাত্ররা ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে (VR) প্রবেশ করে বাস্তবের মতো ক্লাসরুম, ল্যাব, লাইব্রেরি ঘুরে বেড়াবে। বিষয়ভিত্তিক 3D এক্সপেরিয়েন্স দিয়ে শেখা হবে আরও ইন্টারঅ্যাকটিভ, জীবন্ত এবং আকর্ষণীয়।
শুধু শহরের ছেলেমেয়ে নয়, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীও ইন্টারনেট আর একটি VR ডিভাইস দিয়েই বিশ্বমানের শিক্ষা পেতে পারে।
আগামী দিনে অফিসে বসে ৯টা–৫টার চাকরি হয়তো কমে আসবে। তার বদলে ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট ওয়ার্ক আর প্রজেক্টভিত্তিক কাজ জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।
একই সঙ্গে অটোমেশন অনেক সাধারণ কাজ করে ফেলবে—যেমন ডেটা এন্ট্রি, অ্যাকাউন্টিং, এমনকি কাস্টমার সার্ভিসও। ফলে অনেক প্রচলিত চাকরি হয়তো থাকবে না, আবার নতুন ধরনের কাজের সুযোগও তৈরি হবে।
২০৩৫ সালের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে চাই—
ডিজিটাল দক্ষতা: যেমন কোডিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন
AI ও অটোমেশন বোঝার ক্ষমতা
সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem Solving), ক্রিটিক্যাল থিংকিং
কমিউনিকেশন স্কিল – কারণ বিশ্ব এখন একটি বড় ভার্চুয়াল টিমের মতো
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এটাই সোনালী সময়—যদি তারা এখনই ভবিষ্যতের স্কিল শিখতে শুরু করে। কারণ আগামী ১০ বছরেই বদলে যাবে কাজ শেখা, কাজ পাওয়া এবং কাজ করার ধরন।
আমরা যখন 4G পেলাম, তখন ইন্টারনেটে ভিডিও দেখা বা লাইভ স্ট্রিম করা সহজ হলো। 5G আসতেই স্মার্ট সিটি, স্মার্ট গাড়ি আর IoT (Internet of Things)-এর বাস্তব রূপ দেখা গেল।
কিন্তু 6G?
এটা কেবল গতি নয়, বরং সম্পূর্ণ এক নতুন যুগের সংযোগ ব্যবস্থা—যা আমাদের “বাস্তব” ও “ভার্চুয়াল” জীবনকে একসাথে বেঁধে ফেলবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, 6G ইন্টারনেট হবে 5G-এর তুলনায় প্রায় ৫০ গুণ দ্রুত! এর ডেটা ট্রান্সফার স্পিড হতে পারে প্রতি সেকেন্ডে ১ টেরাবিট পর্যন্ত।
অর্থাৎ, আপনি পুরো Netflix ডেটাবেস মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই ডাউনলোড করতে পারবেন!
6G এর মাধ্যমে আমাদের ডিভাইসগুলো শুধু যুক্ত থাকবে না, একে অপরকে বুঝতে পারবে
স্মার্ট হোম, স্মার্ট গাড়ি, স্মার্ট শহর—সবকিছুর মধ্যে থাকবে “সচেতন” যোগাযোগ
মেটাভার্স, হোলোগ্রাফিক কলিং, ভার্চুয়াল টেলিপ্রেজেন্স বাস্তব হয়ে উঠবে
কৃষি, চিকিৎসা ও পরিবহন খাতেও রিয়েল-টাইম কমিউনিকেশন সহজ হবে
Elon Musk-এর Starlink, Amazon-এর Project Kuiper, বা ভারতের BharatNet—সবাই এখন সেটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট নিয়ে কাজ করছে।
ভবিষ্যতে আমাদের ইন্টারনেট আর মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভর করবে না, বরং উপগ্রহ থেকে সরাসরি সংযোগ পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশে এখনো পুরোপুরি 5G পৌঁছায়নি। তবে এর মানে এই নয় যে আমরা পিছিয়ে আছি।
যদি এখনই অবকাঠামো, রিসার্চ, আর টেক শিক্ষায় বিনিয়োগ শুরু হয়, তাহলে 6G যুগে বাংলাদেশও প্রযুক্তি-নির্ভর জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে নিজের জায়গা করে নিতে পারবে।
6G হলো ভবিষ্যতের “ডিজিটাল অক্সিজেন”—যা শুধু দ্রুত নয়, বুদ্ধিমান সংযোগ দেবে। এটি আমাদের কাজের ধরন, যোগাযোগের মাধ্যম, এমনকি আমাদের চিন্তাভাবনার পথও বদলে দেবে।
প্রযুক্তি মানেই শুধু যন্ত্র নয়, প্রযুক্তি এখন হয়ে উঠছে পরিবেশ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, জ্বালানির অপচয়—এই সব সমস্যার সমাধানে আমরা আজ তাকিয়ে আছি টেকসই প্রযুক্তির দিকে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে, আর প্রাকৃতিক সম্পদ কমছে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি তাই ফোকাস করছে সোলার, উইন্ড, হাইব্রিড সিস্টেমে।
বিদ্যুৎ বাঁচাতে স্মার্ট গ্রিড, এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ডিভাইস, এমনকি নিজে নিজে চার্জ হওয়া IoT ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাবে।
আপনি কি জানেন? ভবিষ্যতের ঘর (smart home) এমন হবে যেখানে—
বাতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে যখন কেউ থাকবে না
ঘরের তাপমাত্রা নিজের থেকেই নিয়ন্ত্রিত হবে
সৌর শক্তি দিয়ে ফ্রিজ, টিভি চালু থাকবে
স্মার্ট সিটি কনসেপ্টের মূল ভিত্তি হলো কম দূষণ, কম খরচ, বেশি কার্যকারিতা।
পরিবেশবান্ধব ভবন (green buildings), স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের নগর হবে টেকসই আর বসবাসযোগ্য।
বিশ্ব এখন Climate Tech নিয়ে দারুণ আগ্রহী। যেমন:
AI দিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও নিখুঁতভাবে করা
সেন্সর দিয়ে নদীর পানি বা বায়ুদূষণ নিরীক্ষণ
Vertical farming বা urban agriculture প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরেই সবজি উৎপাদন
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় শিকার। তাই এখানে টেকসই প্রযুক্তির প্রয়োজন আরও বেশি।
ঘরে ঘরে সোলার প্যানেল
স্মার্ট কৃষি (sensor-based irrigation, কৃষি ড্রোন)
পরিবেশবান্ধব পরিবহন (ইলেকট্রিক বাইক, বাস)
সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগ যদি একসাথে চলে, তাহলে টেকসই প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা আর উন্নয়ন—দুটোই সম্ভব।
প্রযুক্তি হয়তো আমাদের দূষণের কারণ ছিল একসময়, কিন্তু এখন সেই প্রযুক্তিই হতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। প্রশ্ন শুধু একটাই—আমরা কি তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শিখেছি?
প্রযুক্তির যতো উন্নতি, তার সঙ্গে নিয়ে আসে কিছু ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ। আজকের এই ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা আর মানবিক মূল্যবোধ ঝুঁকির মুখে পড়ছে—যা আমাদের সবাইকে ভাবতে বাধ্য করে, প্রযুক্তি কি সত্যিই আমাদের বন্ধু নাকি নিয়ন্ত্রক?
আমরা প্রতিদিন যত ডিভাইস ব্যবহার করি, সেগুলো আমাদের তথ্য সংগ্রহ করছে।
ফোন, কম্পিউটার, স্মার্ট ঘড়ি—সবই ব্যবহারকারীর আচরণ, লোকেশন, কথা বলা, এমনকি চিন্তা পর্যন্ত ট্র্যাক করতে পারে।
বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এই তথ্য ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন, পণ্যের কাস্টমাইজেশন করে, কিন্তু কখনো কখনো এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার আক্রমণও হয়ে দাঁড়ায়।
ডিপফেক (Deepfake) ভিডিও, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা বাড়ছে।
কিছু প্রযুক্তি যেমন AI আর অটোমেশন, মানুষের কাজ সহজ করছে, কিন্তু এর সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক ব্যবহার না হলে এটি বিপদের কারণ হতে পারে।
চাকরি হারানো: অটোমেশনের কারণে অনেক মানুষের কাজ চলে যেতে পারে, যা সামাজিক সমস্যা বাড়াবে।
মনুষ্যত্বের অবমূল্যায়ন: যখন রোবট বা AI সিদ্ধান্ত নেবে, তখন মানবিক সিদ্ধান্তের জটিলতা হারিয়ে যেতে পারে।
বায়াস (Bias): AI-র ট্রেনিং ডেটায় যদি পক্ষপাত থাকে, তবে তা বৈষম্যের সৃষ্টি করতে পারে।
প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতা ও নৈতিকতার চেয়ে বেশি জরুরি আর কিছু নেই।
ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদের নিজস্ব তথ্য সুরক্ষায় সচেতন হতে হবে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের উচিত নীতি প্রণয়ন করে সঠিক নিয়ন্ত্রণ রাখা।
প্রযুক্তিকে মানবতার সেবায় ব্যবহার করতে হবে, যেন এটি মানুষের কল্যাণে কাজ করে।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনে বিপ্লব এনেছে, কিন্তু এই বিপ্লব যদি সঠিক পথে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তাহলে সেটা মানবিক সংকট ও গোপনীয়তার আক্রমণে পরিণত হতে পারে। আমরা সবাইকে উচিত এই প্রযুক্তিকে সচেতন ও নৈতিকভাবে ব্যবহার করা।
আমরা এমন এক সময়ের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে প্রযুক্তি শুধু আমাদের জীবনকে সহজ করবে না—বরং পুনর্গঠন করে ফেলবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, 6G নেটওয়ার্ক, রোবটিক চিকিৎসা, মেটাভার্স শিক্ষা—এসব শুনতে হয়তো এখনো কল্পনার মতো, কিন্তু আগামী ১০ বছরেই এই কল্পনা বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে।
তবে এই রোমাঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে আছে চ্যালেঞ্জ—গোপনীয়তা, কর্মসংস্থান, তথ্য নিরাপত্তা, এবং মানবিক মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলো। তাই ভবিষ্যতের জন্য কেবল প্রযুক্তি জানলেই হবে না, চাই সচেতন ব্যবহার, নৈতিক চিন্তা, আর নতুন দক্ষতায় নিজেকে গড়ে তোলা।
আমরা সবাই এই রূপান্তরের অংশ। এখন প্রশ্ন হলো—
“আপনি কী ভাবছেন? আগামী ১০ বছর আপনি কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন?”
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সুতার টান, চুমকি, পুঁতি আর পাথরের নিপুণ সমন্বয়ে কাপড়ে ফুটে ওঠে বাহারি নকশা। একেকটি নকশার পেছনে থাকে কারিগরের ধৈর্য, দক্ষতা ও দীর্ঘ সময়ের শ্রম। সাধারণ কাপড়কে জমকালো করে তুলতে হাতে হাতে চলছে কারচুপির কাজ। শাড়ি, লেহেঙ্গা, কুর্তি, থ্রিপিসসহ বিভিন্ন পোশাকে করা হচ্ছে এসব কারুকাজ। উৎসব-পার্বণ ও বিয়ের অনুষ্ঠানে জমকালো পোশাকের চাহিদা বাড়লে ব্যস্ততা বাড়ে কারচুপির কারিগরদেরও। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এমনই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা।লাল কাপড়ে সুতার ফোঁড়, চুমকি ও পাথর বসিয়ে নকশা ফুটিয়ে তুলছেন কারিগরেরা।কাপড়ে নকশা আঁকার পর তা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত কারিগরেরাকারচুপির প্রতিটি কাজের পেছনে থাকে কারিগরের ধৈর্য, দক্ষতা ও দীর্ঘ সময়ের শ্রমহাতে হাতে তৈরি হচ্ছে বাহারি কারচুপির কাজসুতার সঙ্গে চুমকি ও পাথর বসিয়ে কাপড়ে তৈরি করা হচ্ছে সূক্ষ্ম নকশাসোনালি চুমকি ও পুঁতি দিয়ে কারচুপির কাজ করছেন কারিগরনিপুণ হাতে কাপড়ে ফুটিয়ে তুলছেন সূক্ষ্ম নকশাএকই কাপড়ে পাশাপাশি বসে কারচুপির কাজ করছেন দুই কারিগরকারচুপির কাজে ব্যবহৃত নানা রঙের সুতা সাজানো রয়েছে তাকজুড়ে। এসব সুতা দিয়েই কাপড়ে ফুটে ওঠে নানা নকশা
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত গ্রিন জেনেসিস উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে উৎসাহিত করা।জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জাতীয় পরিবেশ উৎসব ‘গ্রিন জেনেসিস ২০২৬’ শেষে হয়েছে। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাঁদের নতুন ধারণা, উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরার জন্য একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশসচেতন প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির আউটরিচ টিমের আয়োজনে এই উৎসবে ছিল বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা। এসবের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ নিয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানও উপস্থাপন করেন।আয়োজকেরা জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী এ আয়োজনে নিবন্ধন করেন। ১২টি বিভাগে জমা পড়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি আবেদন। দেশের প্রায় ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৮৮টি ক্লাব এবং বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।উৎসবের প্রথম দিন শুরু হয় ‘আ লেটার টু নেচার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির উদ্দেশে নিজেদের ভাবনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরে চিঠি লেখেন। প্রকৃতির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে তাঁদের চিন্তাভাবনা উঠে আসে এই পর্বে।‘ইকো ডিকোড’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অঝরা ইসলাম এবং আবদুল্লাহ ইসলাম (টিম ‘গো বিগ গ্রিনস’)। তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরাদ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্লাইমেট সায়েন্স অলিম্পিয়াড’ এবং ‘ক্লাইমেট ওরেটরি’। জলবায়ুবিজ্ঞান, পরিবেশগত পরিবর্তন এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান যাচাই করা হয় অলিম্পিয়াডে। অন্যদিকে ক্লাইমেট ওরেটরিতে তরুণেরা জলবায়ু ও পরিবেশবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য উপস্থাপন করে নিজেদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় ‘গ্রিন জেনেসিস ইনস্পিরেশন’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশন। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিথ্রিইআর পরিচালক গোলাম রব্বানী। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট লাইফের প্রধান তাহসিনা রহমান শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।এদিন আরও অনুষ্ঠিত হয় এনভায়রনমেন্টাল প্রজেক্ট ডিসপ্লে, ইকো ডিকোড প্রবলেম-সলভিং চ্যালেঞ্জ, পোস্টার ডিজাইন, ওয়াল ম্যাগাজিন, ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী, এআই আর্ট, এনভায়রনমেন্টাল রিল, গ্রিন জার্নালিজমসহ বিভিন্ন সেগমেন্ট। অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই সমাধান, গবেষণা, সৃজনশীল যোগাযোগ এবং পরিবেশবিষয়ক গল্প বলার নতুন নতুন ধারণা উপস্থাপন করেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে তরুণেরা শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেই থেমে থাকেননি, তাঁরা এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও কাজ করেছেন।উৎসবজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য পাঁচটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালাগুলো পরিচালনা করেন সিথ্রিইআরের ডিরেক্টর গোলাম রব্বানী, অফিস অব কমিউনিকেশনসের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার, প্রথম আলোর ডিজিটাল কনটেন্ট লিড ও লেখক খায়রুল বাবুই, সিথ্রিইআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর শারমিন নাহার এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অ্যালামনাই সৃজন বণিক। এসব কর্মশালায় পরিবেশবিষয়ক যোগাযোগ, গবেষণা, সাংবাদিকতা, জনসচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর ও সৃজনশীল উপস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়।উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত। পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং সচেতনতার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। আর সেই যাত্রায় তরুণেরাই সবচেয়ে বড় শক্তি।’ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন আউটরিচ টিমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দীপ্তি সরকার। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার, সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।চার দিনব্যাপী তারুণ্যের এই উৎসবে সহযোগী ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং ইয়ুথ ফর আ গ্রিন আর্থ (ওয়াইজিই)। সহ–আয়োজক ছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, এনভায়রনমেন্টাল ক্লাব, কমিউনিটি সার্ভিস ক্লাব এবং ন্যাচারাল সায়েন্স ক্লাব। পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এসিআই মোটরস। ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে ছিল প্রথম আলো ডটকম।
দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসা শুরুর আগ্রহ বিগত কয়েক বছরে চোখে পড়ার মতোভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে স্টার্টআপ খাতে প্রযুক্তি, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাভিত্তিক উদ্যোগগুলো এখন তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার, যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। এই বৃদ্ধির পেছনে উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা, সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কাজ করেছে। তরুণদের চোখে সম্ভাবনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থী রায়হান মৃধা সম্প্রতি “EduTrack” নামে একটি এডটেক স্টার্টআপ চালু করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চেয়েছি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ ও ইন্টারেক্টিভ লার্নিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে। শুরুতে ঝুঁকি ছিল, তবে এখন মাসে ১০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী পাচ্ছি।” এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বা সদ্য পাস করা তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং কর্মসংস্থান তৈরি করছেন। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোও এখন বাংলাদেশি স্টার্টআপে অর্থ ঢালতে আগ্রহী। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ১২টি স্টার্টআপ প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং পেয়েছে। উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ সহায়তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘BD Venture’–এর নির্বাহী পরিচালক নাজমুল হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের ধারণা অনেক সময় আন্তর্জাতিক মানের হয়, শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও পুঁজি। এখন সেই সুযোগ ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে।” সরকারি উদ্যোগ ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ নামে আইসিটি বিভাগের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি উদ্যোগে প্রাথমিক অর্থায়ন করেছে। একইসঙ্গে রয়েছে উদ্যোক্তা হাব, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরির সুযোগ।