২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৩১ কোটির বেশি পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে পুরোদমে। কাজ পাওয়া ছাপাখানায় কাগজ দিচ্ছেন কাগজকল মালিকরা। তাতে করা হচ্ছে মুদ্রণ। নিয়ম অনুযায়ী- মুদ্রণের আগে কাগজকল থেকে আসা কাগজের মান ল্যাবে (পরীক্ষাগার) পরীক্ষা করা হয়। কাগজ মানে উত্তীর্ণ হলে তাতে ছাপার অনুমোদন দেওয়া হয়।
অথচ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই ছাপার এ কাগজ পরীক্ষায় ঘটছে ভয়াবহ কারসাজি। নিম্নমানের কাগজও পেয়ে যাচ্ছে অনুমোদন। কোনো ল্যাব (পরীক্ষাগার) টেস্ট ছাড়াই ঘুসের বিনিময়ে নিম্নমানের কাগজের অনুমোদন দিচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ভাড়া করা নামসর্বস্ব একটি ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান।
টেন্ডারের মাধ্যমে ৫২ লাখ টাকায় তদারকির কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি’। এ বছর মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম শ্রেণি ও ইবতেদায়ির ২১ কোটি ২৮ লাখেরও বেশি পাঠ্যবই ছাপা ও কাগজ তদারকির দায়িত্ব পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বই ছাপাতে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। অথচ কাগজ পরীক্ষার দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবের অধিকাংশ মেশিন নষ্ট। নেই স্থায়ী কোনো কেমিস্টও (কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ)।
অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি বড় ছাপাখানার মালিক যোগসাজশ করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে ছাপাখানাগুলো এ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হাজার হাজার টন নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছে। এমনকি কাগজকলগুলোর কেমিস্টরাই (বিশেষজ্ঞ) এসে স্বতন্ত্র তদারককারী এ প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে কাগজ পরীক্ষা করে ছাড়পত্র বানিয়ে নিচ্ছেন। অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে নিম্নমানের কাগজ। তাতেই চলছে বই ছাপা।

পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। কাজ পাওয়ার জন্য ধার করা মেশিন এনে ল্যাবে রেখেছিল। কাজ পাওয়ার পর সেই মেশিন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি এনসিটিবির নজরেও এসেছে। তদন্ত করে প্রমাণ মিললে প্রয়োজনে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার কথা ভাবছে এনসিটিবি।
পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপার মান ঠিক রাখতে প্রতি বছর স্বতন্ত্র ইন্সপেকশন (তদারকি) প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। টেন্ডারের মাধ্যমে এ নিয়োগ করা হয়। এবার চতুর্থ দরদাতা হিসেবে ইন্সপেকশনের কাজ পেয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি।
টেন্ডার মূল্যায়ন চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির অফিস, ল্যাব, কতজন কেমিস্ট ও কর্মচারী আছে, তা সরেজমিনে যাচাই করে এনসিটিবি। এবারও তা করা হয়েছে। কিন্তু ওই সময় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল তার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে মেশিন ধার করে ল্যাবে রেখেছিলেন। পাশাপাশি খণ্ডকালীন একজন কেমিস্টকে (বিশেষজ্ঞ) দেখানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টেন্ডারের কাজ পাওয়ার পর মেশিনগুলো ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির ল্যাব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। আনা হয় পুরোনো ও নিম্নমানের কিছু মেশিন। এখন নেই কোনো কেমিস্টও।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ বেলাল নিজেই এ ঘটনা স্বীকার করেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘মেশিনগুলো আমার ছোট ভাইয়ের ছিল। রাগারাগি হওয়ায় ভাই মেশিনগুলো নিয়ে গেছে।’
মতিঝিলের সিটি সেন্টারের ২৫ তলায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিডি সার্ভিসেসের অফিস। সেখানে গত ১০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসে দুজন কর্মকর্তা ও একজন পিয়ন। তারা কম্পিউটারে একের পর এক ছাপাখানার কাগজের মানের প্রতিবেদন তৈরি করছেন। অথচ সেগুলোর কোনো পরীক্ষা করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে
অনুমাননির্ভরভাবে কাগজের ওজন (জিএসএম), ব্রাইটনেস (উজ্জ্বলতা), বার্স্টিং ফ্যাক্টর (ফেটে যাওয়া প্রতিরোধক), অপাসিটি (চোখে দেখতে স্বস্তিদায়ক), বাল্ক (কাগজের পুরুত্ব), গ্লোস (চকচকে) ও স্টিফনেস (বেঁকে যাওয়া প্রতিরোধক) বসিয়ে দিচ্ছেন। অথচ পাশেই থাকা কাচঘেরা ল্যাব বা পরীক্ষাগারে কেউ নেই। নামসর্বস্ব কিছু মেশিন পড়ে আছে। কোনো বিশেষজ্ঞ নেই। পরীক্ষার আয়োজনও নেই।
কিছুক্ষণ পরই অফিসে আসেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল। কেমিস্ট না থাকা ও ল্যাব অচল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শেখ বেলাল বলেন, ‘আমার কেমিস্ট আছে। তিনি এখন বাইরে।’

কেমিস্ট কখন আসবেন-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই। তবে টানা দুই ঘণ্টা তার অফিসে বসে থেকেও কেমিস্টের দেখা মেলেনি। একপর্যায়ে শেখ বেলালকে তার ল্যাবের মেশিনগুলো সচল কি না তা দেখাতে বলা হলে তিনি কাগজের জিএসএম মাপার মেশিনে পরীক্ষা করে দেখান। সেখানে একই কাগজ রাখার পর একবার ৬২ জিএসএম, আবার ৭২ জিএসএম দেখাতে থাকে। এতে মেশিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে শেখ বেলাল নিজেই বলেন, ‘হয়তো এখন মেশিনের মাথায় গন্ডগোল হয়েছে।’
বাকি মেশিনগুলো কেমিস্ট ছাড়া সচল করা যাবে না বলেও দাবি করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ল্যাবে থাকা ছয়টি মেশিনের মধ্যে তিনটিই নষ্ট। বইয়ের মলাটে ব্যবহৃত আর্ট কার্ডের শক্তি পরীক্ষা করা হয় স্টিফনেস মেশিনে। ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডির এ মেশিনটি শুরু থেকেই নষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই স্টিফনেসের ল্যাব রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
একইভাবে কোপ টেস্টার মেশিন দিয়ে কাগজের পানি শোষণের সক্ষমতা এবং বাস্টিং ফ্যাক্টর মেশিন দিয়ে কাগজের ছেঁড়ার প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এ দুটি মেশিনও অকেজো। ল্যাবের এমন বেহাল দশার ছবি ও কাগজ পরিমাপে অসামঞ্জস্যতার ভিডিও জাগো নিউজের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভিসেস বিডি নামের এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু নিজের অফিসের ল্যাবেই অচল মেশিন রেখেছে, তা নয়। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে বসানো মিনি ল্যাবেও ভুয়া মেশিন দিয়ে প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কাজ পাওয়ার চুক্তির শর্ত অনুযায়ী- পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অফিসে সব মেশিন দিয়ে একটি মিনি ল্যাব তৈরি করে দিতে হয়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি যে ল্যাব বসিয়ে দিয়েছে, তাতে ব্রাইটনেস মাপার মেশিন না দিয়ে হোয়াইটনেস মাপার মেশিন দিয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে হোয়াইটনেস মেশিনে ব্রাইটনেস মেশিনের নাম-কাজসহ বিস্তারিত তথ্যের লেবেল লাগিয়ে দেওয়া হয়। অথচ এ দুটি মেশিনের কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কাগজ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞরা (কেমিস্ট) জানান, ব্রাইটনেস ও হোয়াইটনেস পরীক্ষার মেশিন আলাদা। ব্রাইটনেস হলো- কাগজ নির্দিষ্ট আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে কতটা আলো প্রতিফলিত করে তার পরিমাপ। আর হোয়াইটনেস হলো- কাগজ কতটা সাদা তা পরিমাপ করে। কিন্তু এনসিটিবি এবার সাদা কাগজে বই ছাপাচ্ছে না। ফলে হোয়াইটনেস মেশিন দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।
বই ছাপার কাগজ সরবরাহে দেশীয় কাগজকলগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্রেশ পেপার মিল। এবারও ছাপাখানাগুলোতে কাগজ দিচ্ছে ফ্রেশ। অথচ এ কাগজল কলে চাকরি করা একজনকে খণ্ডকালীন কেমিস্ট নিয়োগ করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। ওই কেমিস্টের নাম আব্দুল্লাহ আল শাকিল।

এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কেমিস্ট শাকিল বিনা বেতনে কাজ করছে। মূলত ফ্রেশ পেপার মিলের পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, ফ্রেশের দেওয়া কাগজই আবার তৃতীয়পক্ষের হয়ে ফ্রেশে চাকরি করা শাকিল বৈধতা দিচ্ছেন। এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত।’
বিষয়টি নিয়ে কেমিস্ট আব্দুল্লাহ আল শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি ওখানে (ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি) চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। কিন্তু চাকরি তো করি না।’
কিন্তু তার নাম ও মোবাইল নম্বরসহ একটি তালিকা এনসিটিবিতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের মালিক তাকে কেমিস্ট দাবি করেছেন, বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডির মালিক শেখ বেলাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘শাকিল যে ফ্রেশের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, তা জানতাম না। জানলে তাকে নিতাম না।’
এবার ৩১ কোটি বই ছাপাচ্ছে এনসিটিবি। এতে কাগজ প্রয়োজন হচ্ছে ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তার মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ২১ কোটির বেশি বই ছাপাতে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন কাগজ লাগবে। এ কাগজের মান যাচাই করছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি। এরই মধ্যে নামকাওয়াস্তে পরীক্ষা করে প্রায় তিন হাজার টন কাগজ অনুমোদন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।- অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা, চেয়ারম্যান, এনসিটিবি
অভিযোগ রয়েছে, কাগজকল ও ছাপাখানা মালিকরা যোগসাজশ করে টেন্ডারে যে মানের কাগজে বই ছাপার কথা বলা হয়েছে, তার থেকে নিম্নমানের কাগজ দিচ্ছে। এ অনিয়ম ধরার দায়িত্ব ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু টনপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা করে ঘুস নিয়ে নিম্নমানের কাগজও ছাড় করিয়ে বৈধতা দিচ্ছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি।
সম্প্রতি দোয়েল প্রিন্টার্স, বর্ণশিখা প্রিন্টার্স, ইস্টার্ন প্রিন্টার্স অফিসে বসে ছাপাখানা মালিক ও কাগজকল মালিকদের সঙ্গে দফারফা হয়। ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন ছাপাখানা মালিক জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জাগো নিউজকে জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডিকে শুরুতে টনপ্রতি এক হাজার টাকা এবং মাঝামাঝি সময়ে টনপ্রতি দুই হাজার টাকা দিতে হবে। কারণ ছাপার শুরুর দিকে খারাপ কাগজ তুলনামূলক কম দেওয়া হয়। মাঝামাঝি ও শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে খারাপ কাগজ বেশি চালিয়ে দেওয়া হয়। সেজন্য দুই সময়ে দুই রকম রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঘুসগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিক শেখ বেলাল বলেন, ‘এ অভিযোগ একেবারে মিথ্যা।’ কিন্তু পরক্ষণে তিনি একাধিক বড় ছাপাখানা মালিককে এ প্রতিবেদকের সামনে বসে মোবাইলে কল করে সহযোগিতা চান। সংবাদ যেন প্রকাশিত না হওয়া, তার জন্য তদবির করতে অনুরোধও করেন।
বিনামূল্যে পাঠ্যবই ছাপানোর সিন্ডিকেট দীর্ঘদিনের। কাগজকল, ছাপাখানা ও ইন্সপেকশন (তদারককারী) প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করেই প্রতি বছর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এ কাজ করে। নিম্নমানের কাগজে বই ছাপিয়ে দিয়ে বিরাট অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।
দীর্ঘদিন ছাপাখানা ব্যবসায়ে জড়িত বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে কাজ করলে বইয়ের মান ভালো হয়। কিন্তু কখনই তা করে না। কারণ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের কাগজ ও ছাপার কাজ ইন্সপেকশনে যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়, তারাও ছাপাখানা মালিকদের হয়ে কাজ করে।’
তোফায়েল খানের ভাষ্য, ‘কয়েকটি ছাপাখানা মালিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবির কর্মকর্তাদের পেছনে টাকা ঢেলে পছন্দের ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়। এ সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র ভাঙতে না পারলে পাঠ্যবইয়ের কাগজ ও ছাপানোর মান কখনই ঠিক হবে না।’
এ বছর এনসিটিবির বই ছাপার কাজ করছে ১১৪টি ছাপাখানা। ছাপাখানাগুলো বই ছাপার আগে যে কাগজ এনে রাখে, তা থেকে দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে (র্যানডম) কাগজ সংগ্রহ করে আনে ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। পরে তা ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। টেন্ডারে যে বিষয়গুলো এবং তার প্যারামিটার ঠিক করে দেওয়া হয়েছে, তা কাগজে আছে কি না সেটি ল্যাবে পরীক্ষা করে এনসিটিবিকে প্রতিবেদন দেয় ইন্সপেকশন প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ছাপাখানাগুলোকে নির্দিষ্ট কাগজ অনুমোদন এবং বই ছাপা শুরু করতে নির্দেশনা দেয় এনসিটিবি।
পাঠ্যবই ছাপার কাজে কাগজ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাগজের ওজন, পুরুত্ব, উজ্জ্বলতা, চোখে সহনীয়, ছেঁড়া প্রতিরোধক, পানি শোষণ ক্ষমতাসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করা হয়। কারণ শিক্ষার্থীরা এক বছর এ বই পড়ে। শিশুদের চোখের ক্ষতি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বই যেন সহজেই ছিঁড়ে না যায়; ছাপা যেন উঠে না যায় এবং পানি বা তরল পড়লে যেন টিস্যু পেপারের মতো গলে ছিঁড়ে না পড়ে, সে কারণে কাগজ পরীক্ষা করে তারপর বই ছাপানো হয়।
বই ছাপার কাজ আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে হবে। বই ছাপাতে হলে কাগজের অনুমোদন করানোর নিয়ম রয়েছে। এ কারণে এখন হুট করেই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করলে বিপাকে পড়বে এনসিটিবি।
তারপরও অভিযোগগুলোকে ‘গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির (ইন্ডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন বিডি) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই একের পর এক অভিযোগ পাচ্ছি। এখন যেটা শুনলাম, সেটি খুবই গুরুতর অভিযোগ। এমন তথ্য আমার জানা ছিল না। এ নিয়ে তদন্ত করবো। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে ইন্সপেকশনের কাজ থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখা হবে।’
এএএইচ/ইএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কেউ তখন ছিলেন গোলরক্ষার শেষ প্রহরী, কেউ মাঝমাঠের কারিগর, কেউ আবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ানো ফরোয়ার্ড। তাদের পায়ের জাদু আর সম্মিলিত লড়াইয়ে ২০১০ সালে ঢাকার মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ান গেমস ফুটবলের স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল হক। পনেরো-ষোলো বছর আগের সেই সাফল্যের পর অনেক কিছুই বদলে গেছে। মাঠের সেই তরুণরা এখন জীবনের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়ে। আর অধিনায়ক আমিনুল হক এখন শুধু সাবেক ফুটবলার নন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্বে থাকা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। পুরো ক্রীড়াঙ্গনেরই অধিনায়ক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বর্ণজয়ী দলের অনেক সতীর্থের সঙ্গেই বিচ্ছিন্নভাবে দেখা হয়েছে তার। কখনো কাজের ব্যস্ততায়, কখনো কোনো অনুষ্ঠানে। কিন্তু ২০১০-এর সেই দলটিকে একসঙ্গে নিয়ে বসা হয়নি। এবার সেই সুযোগই তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক ছাদের নিচে বসছেন সেই স্বর্ণজয়ী দলের সদস্যরা। আনুষ্ঠানিকভাবে আয়োজনটির নাম ‘মতবিনিময়’। তবে এটি যে শুধু আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা বলাই যায়। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া সতীর্থদের মধ্যে জমবে পুরোনো দিনের গল্প, স্মৃতিচারণ আর আড্ডা। স্থানটিও যেন এই মিলনমেলার আবেগকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামের গা ঘেঁষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সভাকক্ষে বসবেন আমিনুল হক ও তার সাবেক সতীর্থরা। যে মাঠের সবুজ ঘাসে একদিন স্বর্ণজয়ের উল্লাসে মেতেছিলেন তারা। তার পাশেই ফিরবে সেই সোনালি দিনের স্মৃতি। মামুনুল ইসলাম, জাহিদ হাসান এমিলি, ওয়ালি ফয়সাল, জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, এনামুল হক, আতিকুর রহমান মিশুসহ দলের অনেক পরিচিত মুখ থাকবেন এই আয়োজনে। একসময় যারা একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিয়েছেন, একই লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন, আজ তারা কেউ সাবেক খেলোয়াড়, কেউ সংগঠক, কেউ কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। কিংবা কেউ ব্যবসায়। ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডুতে প্রথমবার দক্ষিণ এশিয়ান গেমস ফুটবলে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১০ সালে ঢাকায় সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি। ঘরের মাঠে স্বর্ণজয়ের সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল হক। জাতীয় দলের গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে যিনি অসংখ্যবার বাংলাদেশকে রক্ষা করেছেন, আজ তিনিই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে। তাই আজকের ‘মতবিনিময়’ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সভা নয়; এটি হতে যাচ্ছে একটি প্রজন্মের ফুটবল-স্মৃতির পুনর্মিলন। হয়তো আলোচনার ফাঁকে উঠবে সেই ফাইনালের গল্প, ফিরে আসবে গোলের মুহূর্ত, ড্রেসিংরুমের হাসি-ঠাট্টা। আর স্বর্ণজয়ী সেই দলের অধিনায়ককে ঘিরে সতীর্থদের আড্ডায় কিছু সময়ের জন্য হলেও ফিরে আসবে ২০১০-এর সেই সোনালি দুপুর। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ দল গোলরক্ষক: আমিনুল হক, মাজহারুল ইসলাম হিমেল। রক্ষণভাগ: মামুন মিয়া, আরিফুল ইসলাম, নাসিরুল ইসলাম নাসির, আতিকুর রহমান মিশু, মিন্টু শেখ, ওয়ালি ফয়সাল, রেজাউল করিম। মিডফিল্ড: মামুনুল ইসলাম, ইমতিয়াজ সুলতান জিতু, জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, শাকিল আহমেদ, জাহিদ হোসেন, আব্দুল বাতেন মজুমদার কোমল, মো. ইউসুফ। আক্রমণভাগ: মিঠুন চৌধুরী, তৌহিদুল আলম সবুজ, মোহাম্মদ এনামুল হক, জাহিদ হাসান এমিলি। কোচ: জোরান জর্জেভিচ (সার্বিয়া)। আরআই/আইএন
ভাষা কেবল ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও মৌলিক পরিচয়ের ধারক ও বাহক। মানুষের চিন্তা, চেতনা এবং স্বকীয়তা ভাষার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পায়। এই আদর্শে মাতৃভাষা ও ভাষার গুরুত্ব সংরক্ষণের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের ‘গ্লোবাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স সোসাইটি’ (GMLLS)। এই সংগঠনের উদ্যোগে ৬ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার নিউ ওয়েস্টমিনস্টারের কুইন্সবোরো কমিউনিটি সেন্টারের মুক্তমঞ্চে বার্ষিক ‘মাতৃভাষা উৎসব ২০২৬’ সফলভাবে উদ্যাপিত হয়েছে। গ্লোবাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স সোসাইটি ভ্যাঙ্কুভারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল মতিন। ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বরত মাইকেল দীপায়ন মিত্র ও হাসান মামুন এবং জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত শফিউল আজম। প্রেসিডেন্ট আব্দুল মতিন এই সংগঠনের সঙ্গে বিভিন্ন পদে প্রায় ১৪ বছর ধরে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।চলতি বছরে তাঁদের এই উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই আমাদের পরিচয়।’ বিশ্বজুড়ে মাতৃভাষার প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণের অঙ্গীকার নিয়ে আয়োজিত এই উৎসবে বিশিষ্ট সমাজসেবক, লেখক, কবি, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী এবং কানাডার বিভিন্ন জাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।উদ্বোধনী পর্ব কানাডার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা হয়। এরপর ফার্স্ট নেশনসের (কানাডার আদিবাসী) শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করে দেশীয় ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ভাষাশহীদ এবং বিশ্বের যেসব মানুষ মাতৃভাষা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন ও সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের স্মরণে ৩০ সেকেন্ডের নীরবতা পালন করা হয়।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.comফেডারেল সংসদ সদস্য জেইক সাওয়াটস্কি (Jake Sawatzky) দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও উৎসবের মূল অতিথি হিসেবে একটি বিশেষ বার্তা পাঠান। তিনি মাতৃভাষা সংরক্ষণের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান ও সাধুবাদ জানান। তাঁর বার্তা পাঠ করে শোনান শফিউল আজম।কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বসবাসরত বিশিষ্ট বাঙালি লেখক ও কবিরা এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সাহিত্যিক ও সংবাদকর্মী ফারজানা নাজ শম্পা তাঁর অনূদিত বই থেকে কানাডিয়ান কবি জর্জ এলিয়টের ইংরেজি কবিতার এবং বাংলা আবৃত্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বিভিন্ন ভাষার সৌন্দর্যকে অলংকারের সঙ্গে তুলনা এবং কানাডার সাহিত্য অনুবাদের প্রয়োজনীতা ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ৭০টির বেশি ভাষা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এই সংগঠনের দীর্ঘদিনের সহযোগী কবি শাহানা আক্তার মহুয়া তাঁর বক্তব্যে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে আমাদের স্বতন্ত্র পরিচয় গঠন করে, তা তুলে ধরেন।জিএমএলএলএসের সভাপতি আবদুল মতিন তাঁর বক্তব্যে মনে করিয়ে দেন যে মাতৃভাষা রক্ষার লড়াই শুরু হওয়া উচিত নিজের ঘর থেকেই। অভিভাবকেরা যেন প্রতিদিনের পারিবারিক জীবনে সন্তানদের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলেন, সেই আহ্বান জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা হলো শিকড় ও বংশানুক্রমিক ঐতিহ্যের মূল সেতু; এটি হারিয়ে গেলে নিজের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।এ ছাড়া ড. মতিন ইউনেসকোতে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাবক প্রয়াত রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামের অনন্য অবদানের কথা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তাঁদের ঐতিহাসিক প্রচেষ্টাতেই ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।বহুমুখী সংস্কৃতি ও পারস্পরিক মেলবন্ধনের আবহে এই উৎসবটির সফল আয়োজনের পেছনে ছিল GMLLS নির্বাহী কমিটির নিরলস পরিশ্রম ও চমৎকার দলগত প্রচেষ্টা।এই বর্ণিল আয়োজনে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানো হয় হাসান মামুন, মাইকেল মিত্র, শফিউল আজমসহ নির্বাহী কমিটির সব সদস্যকে, যাঁদের পরিকল্পনা ও সুসমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় কানাডার Multiculturalism বা বহুমাত্রিক সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে, যা এককথায় ছিল চিত্তাকর্ষক।বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার শিল্পীদের তাঁদের স্বকীয় সংস্কৃতির আবহে বর্ণিল নৃত্য পরিবেশনা সার্বিক অনুষ্ঠানে উচ্চতর মাত্রা যোগ করে তা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সেদিনের সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় এই অপূর্ব মেলবন্ধন প্রমাণ করে কীভাবে ভাষা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।সভাপতি ড. আব্দুল মতিন ফুলের শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সহ–আহ্বায়ক সর্বজন শ্রদ্ধেয় আব্দুস সালামের হাতে।অনুষ্ঠানের সমাপ্তি বক্তব্যে সভাপতি ড. আবদুল মতিন এবং ভ্যাঙ্কুভারে জিভিবিসিএর (GVBCA) সভাপতি এম এইচ লিটন, ল্যাডোনা উইকসের (Ladonna Wiks) নেতৃত্বে উপস্থিত ফার্স্ট নেশনস টিম, কারিগরি ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ দল, স্বেচ্ছাসেবী এবং আগত দর্শক-শ্রোতাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।২০২৬ সালের এই মাতৃভাষা উৎসব কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি বিশেষ মুহূর্ত যে ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, তা বহন করে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও অস্তিত্ব।
বছরে একটি করে বিসিএস পরীক্ষা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের রোডম্যাপ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং একই মাসে ৫১তম সাধারণ বিসিএসের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য কমিশন প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্ত এই প্রক্রিয়ায় নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের মনে এখন একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আসছে বিসিএসটি সাধারণ হবে, নাকি চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস?বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) চলছে। এটি দ্রুত শেষ করে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করতে চায় পিএসসি। সেই হিসাব ধরেই একই সময়ে সাধারণ ক্যাডারের নতুন বিসিএস হিসেবে ৫১তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সরকারি হাসপাতালে শূন্য পদে জনবল বাড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন ও ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জনসহ ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের চাহিদাপত্র ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সরকারের কাছ থেকে পেয়েছে পিএসসি। পিএসসি সূত্র নিশ্চিত করেছে, চিঠি পাওয়ার পর এই বিশেষ বিসিএসের প্রাথমিক দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২ লাখ টাকার আইটি স্কলারশিপ, ডিগ্রি যা-ই হোক আবেদনের আছে সুযোগএকই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সামনে আসায় আগামী বিসিএস নিয়ে ক্যাডারপ্রত্যাশীদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ বিসিএসের চাহিদাপত্র আগে প্রস্তুত হয়ে গেলে সেটি সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি ঠেলে আগে চলে আসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। যে পরীক্ষাটির বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশিত হবে, নম্বর গণনার নিয়ম অনুযায়ী সেটিই ৫১তম বিসিএস হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা।বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, দুই বিসিএসের কোনটির বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশিত হবে—সাধারণ না বিশেষ, সে বিষয়ে এখনো কমিশনের থেকে সিদ্ধান্ত হয়নি। চাহিদাপত্র ও প্রাথমিক দাপ্তরিক সব কাজ শেষ করে কমিশনের বোর্ড মিটিংয়ে এটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। সেই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর যে বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে আগে জারি হবে, সেটিকেই ৫১তম বিসিএস হিসেবে অভিহিত করা হবে।বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় চাকরি, পদ ১৪২ বিশেষ বিসিএসের সুবিধা হলো এতে লিখিত পরীক্ষার দীর্ঘ জটিলতা থাকে না। কেবল প্রিলিমিনারি ও ভাইভার মাধ্যমে তুলনামূলক কম সময়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে হাজার হাজার ক্যাডারপ্রত্যাশী সাধারণ বিসিএসের জন্য নভেম্বরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। কমিশন এখন কোনটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগে সামনে আনবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ৫১তম বিসিএসের পরিচয়।