সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, ১৭ সেপ্টেম্বর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আখতার আহমেদ।
এর আগে গতকাল সোমবার সাত দফায় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। আজ সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনগুলোতে দেখেছেন, নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে ইসির কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর এ বক্তব্যের কিছু সময় পর নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, গতকালই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। সাংবাদিকদের কৌতূহলের কারণে তিনি বিষয়টি স্পস্ট করছেন।
ইসি সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে, এটি নিশ্চিত। তবে নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে দুই দিন ধরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল একটি টেন্টেটিভ (প্রাথমিক) সময়সূচি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ধাপ রিজার্ভ রাখা হয়েছে। তবে এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের পর স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের মন্তব্যের বিষয়ে কোনো পাল্টা মন্তব্য করতে রাজি হননি ইসি সচিব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘উনি যেটা বলেছেন, সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।’
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর প্রয়োজনীয় ইনপুট পাওয়ার ভিত্তিতে কমিশনই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।
সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আলোচনা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া। কার সঙ্গে কখন, কীভাবে আলোচনা হয়েছে, এ বিষয়ে এ মুহূর্তে বাড়তি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি নন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি-না, তা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি-না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া হবে। এছাড়া তদন্তের সময় অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এলে সেটিও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। তিনি একই সঙ্গে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। এর আগে অগ্নিকাণ্ডের পর ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে প্রচারিত ওই তথ্য সঠিক নয়। প্রশাসনের যাচাইয়ে মৃতদের তালিকায় থাকা একজনকে জীবিত পাওয়া যায়। এছাড়া তালিকাভুক্ত আরও দুজন স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। তাদের হাসপাতালে আনার সময়ই মৃত্যু হয়েছিল বলে জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতংক তৈরি হয়। দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির কারণে কয়েকজন আহত হন। তবে পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসও একই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরও পড়ুন মমেকে আগুন: ‘পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি’ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক আতংক দেখা দেয়। এসময় দ্রুত নিচে নামার চেষ্টায় কয়েকজন আহত হন। প্রাথমিকভাবে লিফটের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি-না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। হোসাইন সুলভ/এসআর/এএসএম
হারুন আল-রশিদ ছিলেন আব্বাসীয় খিলাফতের পঞ্চম খলিফা। তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তিনি ১৭ মার্চ ৭৬৩ অথবা ফেব্রুয়ারি ৭৬৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪ মার্চ ৮০৯ সালে মারা যান। হারুন আল-রশিদ ৭৮৬ থেকে ৮০৯ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তাঁর শাসনকালকে ইসলামের স্বর্ণযুগের শীর্ষ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সমৃদ্ধি ঘটে। তাঁর শাসনামলে ইসলামি শিল্প ও সংগীতও উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হয়। হারুন আল-রশিদের শাসনামলে ‘বায়তুল হিকমা’ বা জ্ঞানগৃহের মতো বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিভিন্ন ধর্মের—যেমন খ্রিষ্টান, ইহুদি, মুসলিম ও জরথুস্ত্রবাদী—শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জ্ঞানী, কবি, গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদরা একত্রিত হতেন। সম্ভবত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর চার খলিফার পর আর কোনো মুসলিম শাসকই বিখ্যাত আব্বাসীয় খলিফা হারুন আল-রশিদের মতো এত ব্যাপক প্রশংসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারেননি। শুরুর জীবন হারুন বর্তমান ইরানের তেহরান প্রদেশের অন্তর্গত তৎকালীন জিবাল অঞ্চলের রে শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আব্বাসীয় খিলাফতের তৃতীয় খলিফা আল-মাহদির (৭৭৫-৭৮৫) ছেলে। তাঁর মা ছিলেন আল-খায়জুরান, ইয়েমেনের সাবেক দাসি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী। স্বামী, মা ও ছেলেদের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর ব্যাপক প্রভাব ছিল। খলিফা হওয়ার আগে ৭৮০ ও ৭৮২ সালে হারুন আব্বাসীয় খিলাফতের ঐতিহ্যগত শত্রু পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে নামমাত্র নেতৃত্ব দেন। সে সময় সাম্রাজ্যটি সম্রাজ্ঞী এথেন্সের আইরিনের অধীনে ছিল। দ্বিতীয় অভিযানটি ছিল অত্যন্ত বড় পরিসরের এবং তা কনস্টান্টিনোপলের এশীয় উপকণ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। খলিফা হিসেবে হারুন ৭৮৬ সালে বিশের কোঠার শুরুর দিকে হারুন খলিফা হন। তাঁর সিংহাসনে আরোহণের দিন তাঁর ছেলে আল-মামুন জন্মগ্রহণ করেন এবং কিছুদিন পর আল-আমিনের জন্ম হয়। আল-আমিন ছিলেন আল-মানসুরের নাতনি জুবাইদার সন্তান। ফলে তাঁর মা পারস্যের নারী হওয়ায় আল-মামুনের তুলনায় আল-আমিন উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান। হারুন তাঁর শাসনামলের শুরুতেই অত্যন্ত দক্ষ কয়েকজন মন্ত্রী নিয়োগ করেন। তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে সরকার পরিচালনা করেন। ফলে জনগণের জীবনযাত্রার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। হারুন আল-রশিদের শাসনামলেই বাগদাদ তাঁর সময়ের অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ শহরে পরিণত হয়। অনেক শাসক খলিফাকে কর বা উপঢৌকন দিতেন। এসব অর্থ স্থাপত্য, শিল্পকলা এবং রাজদরবারের বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করা হতো। ৭৯৬ সালে হারুন তাঁর রাজদরবার ও সরকার ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যাঞ্চলের রাক্কায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তিনি তাঁর শাসনামলের ১২ বছর কাটান। এ সময়ে মাত্র একবার অল্প সময়ের জন্য বাগদাদে ফিরে যান। রাক্কায় রাজধানী স্থানান্তরের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। এটি বাইজেন্টাইন সীমান্তের কাছে ছিল। ইউফ্রেটিস নদীপথে বাগদাদ, বালিখ নদীপথে উত্তরের অঞ্চল এবং পালমিরা হয়ে দামেস্কের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ছিল উন্নত। নতুন সাম্রাজ্যিক কেন্দ্রের প্রয়োজন মেটাতে সেখানে কৃষিকাজও সমৃদ্ধ ছিল। রাক্কা থেকে সিরিয়া ও মধ্য ইউফ্রেটিস অঞ্চলের যে কোনো বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ ছিল। আরও পড়ুন ইমাম আবু হানিফার (রা.) প্রখর প্রজ্ঞার দুই ঝলক আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানি তাঁর কবিতার সংকলনে হারুনের দরবারের জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের বর্ণনা দিয়েছেন। রাক্কায় বারমাকিদরা সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরিচালনা করতেন। সেখানেই হারুনের দুই উত্তরাধিকারী আল-আমিন ও আল-মামুন বেড়ে ওঠেন। পুরো সাম্রাজ্যের প্রশাসন পরিচালনার জন্য হারুন তাঁর পরামর্শদাতা ও দীর্ঘদিনের সহযোগী ইয়াহইয়া বিন খালিদ বিন বারমাকের ওপর নির্ভর করতেন। হারুন তাঁকে পূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতাসহ উজির বা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। ১৭ বছর ধরে ইয়াহইয়া ও তাঁর ছেলেরা হারুনের বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। হারুন ৭৯৩, ৭৯৫, ৭৯৭, ৮০২ ও সর্বশেষ ৮০৩ সালে কয়েকবার মক্কায় হজ পালন করেন। ঐতিহাসিক তাবারি তাঁর শাসনামলের বিবরণ শেষ করতে গিয়ে উল্লেখ করেন, হারুন আল-রশিদ মারা যাওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৯০ কোটি বা তার কিছু বেশি দিরহাম ছিল। উপদেষ্টা হিসেবে হারুন ৭৮৯ সালে তাঁর মা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সাম্রাজ্য পরিচালনায় হারুন তাঁর মায়ের ইচ্ছা ও প্রভাব দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তাঁর উজির বা প্রধানমন্ত্রী ইয়াহইয়া বারমাকি, ইয়াহইয়ার ছেলেরা—বিশেষ করে জাফর ইবনে ইয়াহইয়া এবং অন্যান্য বারমাকিরা সাধারণত প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতেন। আল-রশিদের শাসনামলে আব্বাসীয় খলিফার দরবারে পারসিকদের অবস্থান সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বারমাকিদরা ছিল পারস্যের বালখ অঞ্চলের একটি পরিবার। তাদের বংশের ইতিহাস বারমাক নামে একজন বংশানুক্রমিক বৌদ্ধ পুরোহিত পর্যন্ত পৌঁছায়। বালখ বিজয়ের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আল-মাহদির আমলে অত্যন্ত ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন। ইয়াহইয়া হারুনকে খিলাফত লাভে সহায়তা করেছিলেন। তিনি ও তাঁর ছেলেরা ৭৯৮ সাল পর্যন্ত হারুনের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। ওই বছর খলিফা তাঁদের কারাগারে পাঠান এবং তাঁদের জমিজমা বাজেয়াপ্ত করেন। ঐতিহাসিক মুহাম্মদ ইবনে জারির আল-তাবারি এই ঘটনা ৮০৩ সালে সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং এর কারণ হিসেবে বিভিন্ন বিবরণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল—অনুমতি ছাড়া ইয়াহইয়ার খলিফার সামনে প্রবেশ, মুহাম্মদ ইবনে আল-লাইথের বিরোধিতা এবং জাফরের এমন একজন ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া, যাকে হারুন কারাবন্দি করেছিলেন। তবে বারমাকিদদের পতনের সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ ছিল এমন কিছু আচরণ, যা হারুন অসম্মানজনক মনে করেছিলেন। যেমন- অনুমতি ছাড়া তাঁর দরবারে প্রবেশ করা এবং খলিফার সঙ্গে পরামর্শ না করে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ইয়াহইয়া বারমাকির পর আল-ফাদল ইবনে আল-রাবি হারুনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। আরও পড়ুন নবীবংশের ইলমরত্ন সাইয়্যেদা নাফিসা (রহ.) হারুনের কূটনীতি ঐতিহাসিক আইনহার্ড ও নটকার দ্য স্ট্যামারার হারুন ও শার্লেমানের দরবারের মধ্যে দূত বিনিময়ের কথা উল্লেখ করেছেন। খ্রিষ্টানদের পবিত্র ভূমিতে প্রবেশাধিকার এবং উপহার বিনিময় নিয়েও তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। নটকারের বর্ণনা অনুযায়ী, শার্লেমান হারুনকে স্পেনের ঘোড়া, রঙিন ফ্রিসিয়ান চাদর ও শিকারি কুকুর পাঠিয়েছিলেন। ৮০২ সালে হারুন শার্লেমানকে উপহার হিসেবে রেশম, পিতলের মোমবাতিদান, সুগন্ধি, বালসাম, হাতির দাঁতের তৈরি দাবার ঘুঁটি, বিভিন্ন রঙের পর্দাযুক্ত বিশাল তাঁবু, আবুল-আব্বাস নামের একটি হাতি এবং একটি জলঘড়ি পাঠান। জলঘড়িটি ব্রোঞ্জের বল একটি পাত্রে ফেলে ঘণ্টা নির্দেশ করত। একই সঙ্গে প্রতি ঘণ্টায় ছোট দরজা খুলে যান্ত্রিক অশ্বারোহী সৈন্য বেরিয়ে আসত এবং দরজা আবার বন্ধ হয়ে যেত। পশ্চিম ইউরোপে এসব উপহার ছিল নজিরবিহীন এবং এগুলো ক্যারোলিঞ্জীয় শিল্পকলায় প্রভাব ফেলতে পারে। ৮০২ সালে বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী আইরিন ক্ষমতাচ্যুত হলে নাইকিফোরোস প্রথম সম্রাট হন। তিনি হারুনকে কর দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, এতদিন আইরিনেরই কর পাওয়ার কথা ছিল। এতে হারুন ক্ষুব্ধ হন। তিনি রোমান সম্রাটের চিঠির পেছনে একটি বার্তা লিখে পাঠান। এশিয়া মাইনরে কয়েকটি সামরিক অভিযানের পর নাইকিফোরোসকে অপমানজনক শর্তে একটি চুক্তিতে সম্মত হতে হয়। হারুন চীনের তাং রাজবংশের সঙ্গেও একটি জোট গড়ে তোলেন। তিনি চীনে দূত পাঠিয়েছিলেন। তাং রাজবংশের নথিতে তাঁকে ‘আ-লুন’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য ছিল তিব্বতীয়দের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। হারুন আল-রশিদের মৃত্যু রাফি ইবনে আল-লাইথের নেতৃত্বে সামরকন্দে একটি বড় বিদ্রোহ শুরু হলে হারুন আল-রশিদকে খোরাসানে যেতে হয়। তিনি প্রথমে আলি বিন ইসা বিন মাহানকে পদচ্যুত ও গ্রেফতার করেন। কিন্তু বিদ্রোহ অব্যাহত থাকে। খোরাসানে পৌঁছানোর পর হারুন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তুসের কাছে সানাবাদ গ্রামে অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যান। তাঁকে খোরাসানের আব্বাসীয় গভর্নর হামিদ ইবনে কাহতাবার গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদ দার আল-ইমারায় সমাহিত করা হয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনার কারণে পরে দার আল-ইমারা ‘হারুনিয়্যাহর সমাধি’ নামে পরিচিত হয়। পরে ইমাম আল-রিদার শাহাদাতের কারণে ৮১৮ সালে স্থানটি ‘মাশহাদ’ বা ‘শাহাদাতের স্থান’ নামে পরিচিতি লাভ করে। আরও পড়ুন ফিকহ ও হাদিসের জীবন্ত বিশ্বকোষ ইমাম শা’বি (রহ.) উত্তরাধিকার হারুন আল-রশিদ তাঁর সাম্রাজ্য মূলত দুই ছেলে আল-আমিন ও আল-মামুনের মধ্যে ভাগ করে দেন। পরে তৃতীয় ছেলে আল-কাসিমকেও উত্তরাধিকার তালিকায় যুক্ত করা হয়। খুব দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাম্রাজ্য ভাগ করে দিয়ে হারুন আসলে দুই পক্ষকে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের এমন পর্যাপ্ত সম্পদ দিয়েছিলেন, যার ফলে তারা একে অপরের থেকে স্বাধীনভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। হারুন আল-রশিদের মৃত্যুর পর তাঁর দুই ছেলে আল-আমিন ও আল-মামুনের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধ পুরো খিলাফতজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ও সংঘাত সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত ৮২৭ সালে আল-মামুনের চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, অ্যালকেট্রন। এসইউ
সময়টা ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেটের। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে দলটি। সিরিজ হারের পরই স্কোয়াড থেকে ছেঁটে ফেলা হয় ৭ ক্রিকেটার ও দুই কোচকে। সেখান থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে জবাব দিয়েছেন সালমান আলী আগা। এবার সেই পথ বেছে নিলেন টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজমও। চলমান প্রেসিডেন্ট’স ট্রফি গ্রেড-১-এ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের হয়ে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে খেলবেন তিনি। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ফর্ম ফেরাতে ৭ বছর পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) বাবর নিজেই অনুরোধ করেছিলেন চলমান টুর্নামেন্টে কোনো একটি স্কোয়াডে তাকে যেন অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর টেস্টে কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি বাবর। সবশেষ সেঞ্চুরিটি করাচিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ১৬১ রানের ইনিংসে সেই টেস্টটি ড্র করে পাকিস্তান। এরপর থেকে টেস্টে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ৩০.৪৩। এই সময়ে ৩৯ ইনিংসে তিনি করেছেন মাত্র আটটি ফিফটি, যার চারটিই এসেছে সর্বশেষ পাঁচ টেস্টে। গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে অপরাজিত ৮৮ রান করেছিলেন বাবর। সেটিই ছিল সর্বশেষ সেঞ্চুরির পর তার সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অনুপস্থিত ছিলেন বাবর। সর্বশেষ ২০১৯ সালে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। এবার অবশ্য বাবরের সঙ্গে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেছেন আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সালমান আলী আগা। বাবরের সংযোজন ওজিডিসিএলের জন্যও বড় শক্তি হতে যাচ্ছে। চলতি প্রেসিডেন্ট’স ট্রফিতে দলটি প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান টেলিভিশনের বিপক্ষে চাপে রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ম্যাচে তৃতীয় দিনের শেষে ফলোঅনে পড়ে তিন উইকেট হারিয়ে ১৩২ রানে পিছিয়ে ছিল তারা। আইএন