সুদানের পশ্চিম কর্দোফান রাজ্যে একটি সোনার খনিতে ধস নেমে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। ধসে খনির ভেতরে এখনও বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার পশ্চিম কর্দোফানের আল-নুহুদ শহরের কাছে আল-জারা সোনার খনিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কোরদোফান অবজারভেটরি নামে একটি পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী জানিয়েছে, পাশাপাশি থাকা কয়েকটি খনির সুড়ঙ্গ একসঙ্গে ধসে পড়ায় এই প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে খনিতে কাজ করা শ্রমিক।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হলেও সেখানে এখনো কোনো বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধসে পড়া মাটি ও বালু সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তবে আলগা ও বালুময় মাটির কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় অন্তত ৮২ জন নিহত এবং আরও ৫০ জন আহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা জানা যায়নি। সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেই উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া খনি শ্রমিক খাইর আল-সাইয়েদ জাবারা জানান, তিনি ও অন্য শ্রমিকেরা সারা রাত নিজেদের সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করেছেন। তবে তিনি বলেন, দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আর কতজন ভেতরে আটকা পড়ে আছেন, আমরা জানি না।
আরেক শ্রমিক আমিন সুলেইমান জানান, খনির সুড়ঙ্গগুলো খুব কাছাকাছি করে তৈরি করা হয়েছিল। ফলে একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার সময় পাশের সুড়ঙ্গগুলোও ধসে যায়।
স্থানীয় সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, খনিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় মৃতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে।
খার্তুমভিত্তিক চিকিৎসকদের সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, খনিতে এখনো উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, শ্রমিকদের জন্য খনিটিতে প্রয়োজনীয় মৌলিক নিরাপত্তাব্যবস্থারও ঘাটতি ছিল।
সুদানে ছোট ও অনানুষ্ঠানিক সোনার খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। এই দুর্ঘটনা আবারও এসব খনিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে সম্ভবত হিমবাহটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে সেটি ধসে গত মাসে নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। এ দুর্যোগ নিয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে।গবেষকেরা হিমবাহধসের আগে ওই অঞ্চলে অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া শনাক্ত করেছেন। হিমবাহটি ধসে পড়ার পর প্রায় ১১ কোটি ঘনমিটার তুষার ও বরফ নিচের উপত্যকায় নেমে আসে। এতে প্রায় নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ভাটির জনপদগুলোয় আঘাত হানে সেই বন্যা।লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, ‘হাজার হাজার মাইল দূরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে হওয়া নিঃসরণ যে সংকট তৈরি করেছে, নেপালের মানুষ জীবন দিয়ে তার মূল্য দিচ্ছেন।’ ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এ গবেষণা করেছে।অটো বলেন, ‘উষ্ণায়ন যখন পৃথিবীর ছাদকে অস্থিতিশীল করে তোলে, তখন স্থানীয় পর্যায়ে যত অভিযোজনই করা হোক, ভাটির ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব নয়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নিঃসরণ শূন্যে নামাতে আরও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী বছরগুলোয় এমন আরও দুর্যোগ অনিবার্যভাবে দেখতে হবে।’গত ২৬ আগস্ট লাংটাং লিরুং পর্বত থেকে ঝুলন্ত হিমবাহ ও শিলার একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এর আয়তন ছিল প্রায় দুই লাখ বর্গমিটার। এ দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ।হিমবাহ ও শিলার ওই অংশ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার নিচে পড়ে। এত তীব্র শক্তিতে সেটি উপত্যকার মাটিতে আঘাত করে যে কম্পনটি ভূমিকম্প হিসেবেও ধরা পড়ে। এতে বরফ গলে যায় এবং হিমশীতল বন্যার সৃষ্টি হয়। সেই বন্যা ঘণ্টায় ১৭৭ কিলোমিটারের বেশি গতিতে নদীপথে নেমে আসে।ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে। তিব্বতের গিরং অঞ্চলেপানি, বরফ, শিলা ও পলির ভয়াবহ স্রোত পরিবার, ঘরবাড়ি, জনপদ, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বেঁচে যাওয়া অনেক মানুষ আটকা পড়েন এবং অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘এত বড় শিলাধসের ঘটনা বিরল। আনুমানিক হিসাবে এক হাজার থেকে দশ হাজার বছরে এ আকারের একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, অভিযোজনের সীমাও ইতিমধ্যে স্পর্শ করা হচ্ছে।’অটো ও তাঁর দল এর আগে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন বা ডব্লিউডব্লিউএর অধীন যেসব গবেষণা করেছেন, এটি সেগুলোর চেয়ে আলাদা। ডব্লিউডব্লিউএ হলো ইম্পেরিয়াল কলেজ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জলবায়ুবিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ উদ্যোগ।আগের গবেষণাগুলোয় সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট আবহাওয়াজনিত ঘটনার সঙ্গে জলবায়ু বিপর্যয়ের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমনটি করা যায়নি।গবেষকেরা দেখেছেন, কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে এই দুর্যোগ ঘটিয়েছে। কয়েক দশক ধরে গ্রিনহাউস গ্যাসদূষণের কারণে বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হওয়ায় এসব কারণের প্রভাব আরও বেড়েছে।ইম্পেরিয়াল কলেজে চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন বেন ক্লার্ক। তিনি বলেন, ভয়াবহ ধসের আগে হিমবাহটির আশপাশে দীর্ঘ মেয়াদে যেসব পরিবর্তন ঘটেছিল, সেখানে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ছাপ’ স্পষ্ট।গবেষণার প্রধান তথ্য গবেষণায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।যে অঞ্চলে ধসটি ঘটেছে, সেখানে শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। শুধু জুলাই ও আগস্টে তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস।স্থানীয়ভাবে ২০২৬ সালের জুলাই ও আগস্ট ছিল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ দুই মাস। হিমবাহধসের আগের দিনগুলোয় তাপমাত্রা ৩০ বছরের গড়ের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।১৯৮০-এর দশক থেকে হিমালয়ে হিমাঙ্কের উচ্চতা প্রতি দশকে প্রায় ১০০ মিটার করে ওপরে উঠেছে। অর্থাৎ বরফ গলার মতো তাপমাত্রা এখন আরও উঁচু এলাকায় এবং বেশি সময় ধরে থাকছে। এতে স্থায়ীভাবে জমাট মাটি বা পারমাফ্রস্টে গঠিত পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে।উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে এরই মধ্যে হিমবাহটি উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে গেছে। ধসের স্থানটির চারপাশে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা বরফ সরে গেছে। পাশাপাশি বরফগলা পানিও জমেছে। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর হেলিকপ্টার থেকে দেখা যাচ্ছে কাদায় ঢেকে যাওয়া জনপদ। রসুয়া, নেপাল২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প পাহাড়ি ঢাল দুর্বল হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল। তবে আগস্টের দুর্যোগে ওই ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নিশ্চিত করা যায়নি।অটো, ক্লার্ক ও ডব্লিউডব্লিউএর গবেষক দল সরাসরি বলেনি যে জলবায়ু বিপর্যয়ই এ দুর্যোগের মূল কারণ। তাঁদের মতে, বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক কাঠামোকে অস্থিতিশীল করে তোলার একটি কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দেখাই বেশি যুক্তিসংগত।ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা দেখেছি, জলবায়ু পরিবর্তন উঁচু পাহাড়ি পরিবেশকে বদলে দিচ্ছে। এই ধসের সম্ভাব্য অনেক কারণের ওপরই এর প্রভাব পড়ছে।’বন্যায় হওয়া ধ্বংস মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা চেয়ে জাতিসংঘের ক্ষয়ক্ষতি তহবিলে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে নেপাল। এই তহবিল থেকে সহায়তা পেতে দুর্যোগটির সঙ্গে জলবায়ু সংকটের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়।নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল চীন ও ভারতের মতো বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে ‘জেগে ওঠার’ এবং এই দুর্যোগের যৌথ দায় স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন।ডব্লিউডব্লিউএর অংশ রেডক্রস রেড ক্রিসেন্ট ক্লাইমেট সেন্টারের জ্যেষ্ঠ কারিগরি উপদেষ্টা মাধব উপ্রেতি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার পথ তৈরি হতে পারে শুধু বিশ্বজুড়ে নিঃসরণ ব্যাপকভাবে কমানোর মাধ্যমে।মাধব উপ্রেতি আরও বলেন, ‘কল্পনাতীত মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি এ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতেও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। যে দেশটি এ সমস্যা তৈরিতে কার্যত কোনো ভূমিকা রাখেনি, তার এ পরিস্থিতি একটি বিষয় আরও স্পষ্ট করে, জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে তাদের সৃষ্টি না করা সংকট মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।’
মৃত এসব প্রাণীর কোনোটির শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে। আবার কোনোটির মুখে বা শরীরে জড়িয়ে ছিল মাছ ধরার জাল।তিমি ও ডলফিনের মতো স্তন্যপায়ী সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় একের পর এক মারা পড়ছে। মৃত ডলফিন ও তিমি ভেসে আসছে উপকূলে ও নদীর তীরে। সর্বশেষ গত রোববার একটি মৃত শুশুক বরগুনার বিষখালী নদীতে এবং ৯ সেপ্টেম্বর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি মৃত তিমি ভেসে আসে বরগুনার আন্ধারমানিক নদীর তীরে। মৃত এসব প্রাণীর কোনোটির শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে। আবার কোনোটির মুখে বা শরীরে জড়িয়ে ছিল মাছ ধরার জাল।ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, সর্বশেষ পাওয়া মৃত তিমিটি বেলিন প্রজাতির। এরা পানি ছেঁকে ক্রিল (খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী) ও প্ল্যাঙ্কটন (বিভিন্ন ধরনের জীবের সমষ্টি) খায়। দক্ষিণ উপকূলে একের পর এক তিমির মৃতদেহ ভেসে আসা সামুদ্রিক প্রতিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। মৃত্যুর কারণ জানতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা জরুরি।আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট বছরে শুধু কুয়াকাটা সৈকতেই ১৩৫টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে।আর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির হিসাবে, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। এ ছাড়া চলতি বছর কুয়াকাটা সৈকতে প্রায় ৬০ ফুট লম্বা চারটি তিমির মৃতদেহ পাওয়া গেছে।মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, ডলফিন গবেষকবিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ ইরাবতী ডলফিনের আবাস বাংলাদেশে। সুন্দরবনে ৪৫১টি এবং উপকূলে ৫ হাজার ৩৮০টি ইরাবতী ডলফিন রয়েছে। কক্সবাজার উপকূলেও গত দুই বছরে ১৪টির বেশি মৃত ডলফিন ও ১টি মৃত তিমি ভেসে এসেছে বলে বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্যে উল্লেখ করা হয়।সর্বশেষ বরগুনার বিষখালী নদীতে পাওয়া মৃত গাঙ্গেয় শুশুকটি প্রায় চার ফুট লম্বা। শুশুকটির মুখে ছোট ফাঁসের একটি জাল প্যাঁচানো ছিল।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডলফিন গবেষক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, বিষখালী, পায়রা ও বলেশ্বরের মোহনা গাঙ্গেয় শুশুক ও ইরাবতী ডলফিনের গুরুত্বপূর্ণ আবাস। তবে ছোট ফাঁসের অবৈধ জালের ব্যাপক ব্যবহার এসব আবাসকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। কয়েক বছর আগে তাঁরা এলাকাটিকে ডলফিনের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।আবদুল আজিজ আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ ইরাবতী ডলফিনের আবাস বাংলাদেশে। সুন্দরবনে ৪৫১টি এবং উপকূলে ৫ হাজার ৩৮০টি ইরাবতী ডলফিন রয়েছে। তবে একের পর এক ডলফিনের মৃত্যু উদ্বেগজনক, যা বাস্তুতন্ত্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি। এ জন্য এখনই সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।নদীর স্বাস্থ্যের সূচক শুশুকগঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার স্বাদু পানিতে বসবাসকারী গাঙ্গেয় শুশুক শুধু একটি প্রাণী নয়, নদীর সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। একসময় দেশের উপকূলীয় নদ-নদী এবং সুন্দরবনসংলগ্ন জলপথে অহরহ শুশুক দেখা যেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ নদীতেই শুশুকের দেখা পাওয়া যেত। কিন্তু গত এক-দুই দশকে এর বিস্তৃতি অনেকটাই কমে সুন্দরবন ও এর আশপাশের নদীগুলোয় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) গাঙ্গেয় শুশুককে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস, বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা, বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন বাস্তবায়নে বিদ্যমান আইনে যেসব দুর্বলতা ছিল, নতুন আইনে তা সংশোধন করা হয়েছে। নতুন আইনে বন বিভাগ, কাস্টমস, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ডকেও এই অপরাধ দমনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ আইন প্রয়োগে তাঁদের জনবলে ঘাটতি থাকলেও তাঁরা সাধ্যমতো কাজ করছেন।২০২৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ও বন বিভাগের বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ সমীক্ষায় দেখা যায়, দেশের মাত্র ১৪টি নদ-নদীতে গাঙ্গেয় শুশুকের উপস্থিতি রয়েছে। এ তথ্য দেশের নদীগুলোতে শুশুকের অস্তিত্বের সংকটের বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।ইরাবতী ডলফিনের বড় আশ্রয়স্থল বাংলাদেশযুক্তরাজ্যভিত্তিক বন্য প্রাণিবিষয়ক সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) পক্ষ থেকে ২০০৬ সালে প্রথম বাংলাদেশের ডলফিনের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ জরিপ করা হয়। এরপর একই সংস্থা থেকে আলাদাভাবে ইরাবতী ডলফিনের ওপর আরেকটি জরিপ করে তা একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করা হয়। এতে প্রথম বেরিয়ে আসে বাংলাদেশে ইরাবতী ডলফিনের সংখ্যা বিশ্বে সর্বোচ্চ, ৫ হাজার ৮০০টি।বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন–২০২৬ (সংশোধিত) অনুযায়ী, ডলফিন-তিমি হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। কারও বিরুদ্ধে এই অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।বন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইরাবতী ডলফিনের প্রজাতি বিশ্ব থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বিপন্ন হয়ে পড়া ইরাবতী ডলফিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল বাংলাদেশ। এর কারণ, এখানকার উপকূলীয় এলাকার নদীগুলোতে রয়েছে নোনা ও মিঠাপানির অনুকূল ভারসাম্য।বন বিভাগ জানায়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সুন্দরবনে পাঁচটি স্থানকে ডলফিনের অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে। এ ছাড়া অন্যান্য স্থান মিলিয়ে দেশে মোট নয়টি ডলফিনের অভয়াশ্রম রয়েছে।তিমি–ডলফিন রক্ষায় আইনবন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন–২০২৬ (সংশোধিত) অনুযায়ী, ডলফিন-তিমি হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। কারও বিরুদ্ধে এই অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ঢাকার আগারগাঁও প্রধান কার্যালয়ের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন বাস্তবায়নে বিদ্যমান আইনে যেসব দুর্বলতা ছিল, নতুন আইনে তা সংশোধন করা হয়েছে। নতুন আইনে বন বিভাগ, কাস্টমস, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ডকেও এই অপরাধ দমনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ আইন প্রয়োগে তাঁদের জনবলে ঘাটতি থাকলেও তাঁরা সাধ্যমতো কাজ করছেন।
সরকার আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যে প্রশ্ন সামনে আসছে, তা হলো এত ব্যয়ের মেট্রোরেলে ভাড়া কত দাঁড়াবে? প্রকল্পগুলো থেকে যে আয় হবে, তা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হবে তো?জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গতকাল বুধবার ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত তিনটি পথে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়।তিন প্রকল্পের মোট ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। মেট্রোরেলের আয় আসে ভাড়া থেকে। বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলতে হলে ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে অনেক বেশি। নইলে ঋণ পরিশোধের জন্য বিপুল ভর্তুকি দিতে হবে। সেটাও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে। মেট্রোরেল আইন ২০১৫–এ গণপরিবহনটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘জনসাধারণকে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহনসেবা প্রদান’। এই আইনের একটি ধারায় ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে মেট্রোরেল পরিচালনার ব্যয় এবং জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়গুলো বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।এত ব্যয়ের মেট্রোরেলে ভাড়া কত দাঁড়াবে? প্রকল্পগুলো থেকে যে আয় হবে, তা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হবে তো?জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উত্তরা-মতিঝিল পথে মেট্রোরেলে যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়, তা আশপাশের দেশগুলোর মেট্রোরেলের ভাড়ার চেয়ে বেশি। সরকার তখন বলেছিল মেট্রোরেল ধনী ও গরিবের। তবে গরিবদের মেট্রোরেলে চড়তে দেখা যায় না।মেট্রোরেল বর্তমানে উত্তরা-মতিঝিল পথে চলাচলকারী মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ করলে ভাড়া গুনতে হয় ৯০ টাকা। দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। ঢাকার কোনো বাসেই এত ভাড়া নেই। মেট্রোরেলের সমান দূরত্বে বাসে ভ্রমণ করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৫০ টাকা। আর ঢাকার বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। অবশ্য মেট্রোরেল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি)। ঢাকার বেশির ভাগ বাসে এসি নেই।দেখা যাচ্ছে, উন্নত গণপরিবহন হচ্ছে। তবে তা স্বল্প ব্যয়ের নয়। গণপরিবহনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়।একনেকে গতকাল যে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার একটি নতুন। দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব সংশোধন করা হয়েছে। আড়াই লাখ কোটি টাকায় তিনটি প্রকল্পের আওতায় পাতাল ও উড়াল মিলে ৬৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল পথ নির্মাণ করা হবে।তিন প্রকল্পের মোট ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। মেট্রোরেলের আয় আসে ভাড়া থেকে। বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলতে হলে ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে অনেক বেশি। নইলে ঋণ পরিশোধের জন্য বিপুল ভর্তুকি দিতে হবে। সেটাও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে।তিন প্রকল্পে গড়ে কিলোমিটারপ্রতি মেট্রোরেল নির্মাণ ও ট্রেন চালুর জন্য ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। উত্তরা-মতিঝিল পথে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ১ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। তবে কয়েক দফা ব্যয় বাড়ে। এই পথটির পুরোটাই উড়ালপথে।ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, জমি অধিগ্রহণ ও বেতন-ভাতা বাদ দিয়ে প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে ভারতে ব্যয় হয়েছে ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা।জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার ঋণে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ দুটির ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অন্য প্রকল্পটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে। ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা।সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গতকালের একনেক বৈঠকে জাইকার ঋণের দুটি প্রকল্প (এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ উত্তর) আলোচ্যসূচিতে প্রথমে ছিল না। শুধু এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণে নেওয়া নতুন প্রকল্পটি (লাইন-৫ দক্ষিণ) অনুমোদন করার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবসংবলিত দুটি প্রকল্প যুক্ত করা হয়। কারণ, লাইন-৫ দক্ষিণের কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। এই প্রকল্প আগে অনুমোদন হলে বেশি ব্যয়ের প্রকল্প সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এ জন্য একসঙ্গে তিন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।বর্তমানে উত্তরা-মতিঝিল পথে চলাচলকারী মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ করলে ভাড়া গুনতে হয় ৯০ টাকা। দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। ঢাকার কোনো বাসেই এত ভাড়া নেই। মেট্রোরেলের সমান দূরত্বে বাসে ভ্রমণ করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৫০ টাকা। আর ঢাকার বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। অবশ্য মেট্রোরেল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি)। ঢাকার বেশির ভাগ বাসে এসি নেই।আয় দিয়ে ঋণ পরিশোধ অসম্ভব২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় মেট্রোরেলের চলাচল শুরু হয়। আয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) টিকিট বিক্রি থেকে অনিরীক্ষিত (প্রভিশনাল) উত্তরা-মতিঝিল পথে মেট্রোরেলের আয় ছিল ৪০০ কোটি টাকার মতো। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টিকিট বিক্রি করে আয় ছিল প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালে আংশিক চালুর পর ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ২২ কোটি টাকার বেশি।সব মিলিয়ে মেট্রোরেলের যাত্রীভাড়া থেকে সর্বশেষ অর্থবছর পর্যন্ত আয় হয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকা। এর বাইরে দোকানভাড়া, বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য খাত থেকে বছরে ২০ কোটি টাকার মতো আয় হয়।কমলাপুর–বিমানবন্দর ও সাভার–ভাটারা পথে মেট্রোর ব্যয় দাঁড়াবে ২ লাখ কোটি টাকা, কী ভাবছে সরকার ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, শুধু বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে গত অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। শুরুতে মেট্রোরেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রপাতির দরকার হলে তা প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার বহন করত। গত জানুয়ারি থেকে ঠিকাদারের খরচ বহন করার সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় নিজেদের করতে হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এই খাতে ব্যয় আরও বাড়বে।সব মিলিয়ে মেট্রোরেলের যাত্রীভাড়া থেকে সর্বশেষ অর্থবছর পর্যন্ত আয় হয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকা। এর বাইরে দোকানভাড়া, বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য খাত থেকে বছরে ২০ কোটি টাকার মতো আয় হয়।উত্তরা-কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে জাইকার কাছ থেকে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এই ঋণ সুদ-আসলে প্রতিবছর দুটি কিস্তিতে আগামী ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের কিস্তির টাকার পরিমাণও বেড়ে যাবে।ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, নির্মাণকালীন ১০ বছর পর্যন্ত জাইকার ঋণের মূল কিস্তি দিতে হয়নি, যা গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের জুন থেকে সীমিত আকারে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত কিস্তি হিসেবে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করতে হবে। উত্তরা-মতিঝিল পথে এখন যে আয় হচ্ছে, তা দিয়ে কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হবে না।ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, জাপানের ঋণে বাস্তবায়নাধীন নতুন দুটি প্রকল্পের জন্য জাইকা থেকে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার মতো ঋণ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ৪০ বছরে এই ঋণ সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। অন্য মেট্রোরেল প্রকল্পটির জন্য এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হচ্ছে।সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিপুল ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিল। ব্যয় বাড়ানোর জন্য জাইকার সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছে। কিন্তু জাইকা দরপত্র ব্যবস্থা উন্মুক্ত করে কিংবা দর-কষাকষি করে ব্যয় কমানোর বিষয়ে রাজি হয়নি।ব্যয় কেন বাড়েসড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, জাইকার ঋণের এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যার ফলে জাপানি ঠিকাদারেরা বাড়তি সুবিধা পায়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা, দরপত্র প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়েও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। দরপত্রের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে জাইকার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা তৈরি করা কঠিন হচ্ছে।দরপত্রের কারিগরি শর্ত প্রতিযোগিতা সীমিত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর একটি উদাহরণ এমআরটি লাইন-১-এর পাতালপথ নির্মাণে ‘ওয়ান-পাস জয়েন্ট’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা জাপানের নিজস্ব প্রযুক্তি।ঢাকা মহানগরীতে ৮টি মেট্রোরেল, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে, ২১ পরিবহন হাবের পরিকল্পনাসরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিপুল ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিল। ব্যয় বাড়ানোর জন্য জাইকার সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছে। কিন্তু জাইকা দরপত্র ব্যবস্থা উন্মুক্ত করে কিংবা দর-কষাকষি করে ব্যয় কমানোর বিষয়ে রাজি হয়নি।বুয়েট পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। আগেই দেশে ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে। এই বোঝার ভার আরও বেড়ে গেল। এখন দেশের মানুষ বহন করতে পারবে কীভাবে, সেটাই প্রশ্ন।ঢাকার জন্য মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহন দরকার—এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও সরকার একমত। বাড়তি ব্যয়ের কারণে নতুন মেট্রোরেল নির্মাণ না করলে সরকার বদনামে পড়বে, এমনটাও আলোচনায় এসেছে।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। আগেই দেশে ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে। এই বোঝার ভার আরও বেড়ে গেল। এখন দেশের মানুষ বহন করতে পারবে কীভাবে, সেটাই প্রশ্ন। তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দেখা গেছে, উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের পথটি সবচেয়ে লাভজনক হবে। সেখানেই ব্যয় তোলা যাচ্ছে না।এই অধ্যাপক আরও বলেন, জাইকা মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ঠিকাদারও জাপানের, প্রযুক্তি তাদের, তদারকের দায়িত্বও জাপানের। তারা ঋণ দেয় জাপানি মুদ্রায় ইয়েনে। পণ্য কেনা হয় ওই দেশ থেকে। বাংলাদেশকে পরে ঋণ পরিশোধ করতে হয় ডলারে। এত দুর্বলতা রেখে প্রতিযোগিতামূলক দরে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।ঢাকায় আরও দুই রুটে মেট্রোরেল, ব্যয় দুই লাখ কোটি টাকার বেশি