বিউটি ট্রেন্ডে ভাইরাল এখন এমন এক ধরনের ফিলার, যার মূল উপাদান সংগ্রহ করা হয় মৃত মানুষের দেহ থেকে। নাম অ্যালোক্লে। রূপচর্চার এই অস্বস্তিকর উপকরণকে ঘিরে উঠছে নৈতিক অবস্থান ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা প্রশ্ন।
সৌন্দর্যচর্চায় শরীরের আকৃতি পরিবর্তনের জন্য নানা ধরনের পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। এবার আলোচনায় এসেছে এমন এক ধরনের ফিলার, যার মূল উপাদান সংগ্রহ করা হয় মৃত মানুষের দেহ থেকে। নাম অ্যালোক্লে। এটি কোনো ক্রিম বা সিরামের উপাদান নয়। শরীরের নির্দিষ্ট অংশে বাড়তি ভরাটভাব ও আকৃতি আনতে এটি ত্বকের নিচে সূঁচের মাধ্যমে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান টাইগার অ্যাসথেটিকস তৈরি করেছে অ্যালোক্লে। প্রচলিত অনেক ফিলারে ব্যবহৃত কৃত্রিম উপাদান হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের বদলে এতে ব্যবহার করা হয় দান করা মানবদেহের চর্বিযুক্ত টিস্যু। তবে মৃতদেহ থেকে সংগ্রহ করা টিস্যু সরাসরি মানুষের শরীরে দেওয়া হয় না। বেশ কয়েকটি ধাপে তা পরিশোধন, প্রক্রিয়াজাত ও জীবাণুমুক্ত করার পর তৈরি হয় ব্যবহারযোগ্য ফিলার।
মৃতদেহ থেকে ফিলার!
শুনতে অস্বাভাবিক লাগলেও অ্যালোক্লে তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত টিস্যু ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মৃত্যুর আগে যাঁরা টিস্যু দানের সম্মতি দিয়ে যান, তাঁদের দেহ থেকে প্রয়োজনীয় টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। দাতার চিকিৎসার ইতিহাস পরীক্ষা করা হয় এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগের পরীক্ষাও করা হয়।

এরপর শরীরের ত্বকের নিচের স্তর থেকে চর্বিযুক্ত টিস্যু সংগ্রহ করা হয়। এই টিস্যু সরাসরি অন্য মানুষের শরীরে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কারণ এতে দাতার কোষ, রক্ত ও বংশগত উপাদান থাকে। এগুলো অন্য মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা সেটিকে অপরিচিত বস্তু হিসেবে শনাক্ত করে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তাই বিশেষ প্রক্রিয়ায় দাতার জীবন্ত কোষ, রক্ত ও বংশগত উপাদান সরিয়ে ফেলা হয়। চর্বির তেলজাতীয় অংশও কমানো হয়। তবে টিস্যুর স্বাভাবিক ত্রিমাত্রিক কাঠামোটি ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। সবশেষে পুরো উপাদানটি জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
শরীরে এটি কীভাবে কাজ করে?
সহজভাবে বললে, অ্যালোক্লে শরীরে গিয়ে নতুন করে ‘জীবন্ত চর্বি’ হয়ে যায় না। বরং এটি অনেকটা একটি কাঠামো বা ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। শরীরে দেওয়ার পর এই কাঠামোর মধ্যে ধীরে ধীরে রোগীর নিজের কোষ ও রক্তনালি প্রবেশ করতে পারে। শরীর সেখানে নতুন টিস্যু ও কোলাজেন তৈরি করতে পারে। ফলে যে জায়গায় এটি দেওয়া হয়েছে, সেখানে ধীরে ধীরে বাড়তি ভরাটভাব ও আকৃতি তৈরি হতে পারে। এ কারণেই অ্যালোক্লেকে কাঠামোগত চর্বিযুক্ত টিস্যুর ফিলার বলা হয়।

কোথায় ব্যবহার করা হয়?
অ্যালোক্লে মূলত শরীরের আকৃতি ঠিক করতে ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। এর ঘনত্ব বেশি হওয়ায় মুখের সৌন্দর্যচর্চার তুলনায় শরীরের বিভিন্ন অংশে এটি বেশি ব্যবহৃত হয়।
কোমর ও নিতম্বের পাশের গর্ত: কোমর ও নিতম্বের মাঝামাঝি দুই পাশে থাকা স্বাভাবিক গর্ত কিছুটা ভরাট করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
নিতম্ব: নিতম্বের আকৃতি সামান্য পরিবর্তন বা ভরাটভাব বাড়াতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্তন: কিছু ক্ষেত্রে সামান্য আকৃতি পরিবর্তন বা দুই পাশের অসমতা ঠিক করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
শরীরের বিভিন্ন জায়গার অসমান অংশ: ত্বকে গর্ত বা আগের চর্বি অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর শরীরে থেকে যাওয়া অসমান জায়গা মসৃণ করার জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আকৃতি পরিবর্তন বা অসমতা ঠিক করার জন্য ব্যবহার করা হয়
প্রচলিত অস্ত্রোপচারের বিকল্প হিসেবে কেন আগ্রহ?
অ্যালোক্লে নিয়ে আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো এটি প্রচলিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চর্বি প্রতিস্থাপন পদ্ধতির তুলনায় কম অ্যাগ্রেসিভ প্রচার করা হচ্ছে।
নিজের চর্বি দিয়ে শরীরের কোনো অংশের আকৃতি পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে শরীরের অন্য অংশ থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চর্বি সংগ্রহ করতে হয়। এ জন্য চর্বি অপসারণের অস্ত্রোপচার এবং অনেক ক্ষেত্রে অচেতন করার ওষুধের প্রয়োজন হয়।
অ্যালোক্লের ক্ষেত্রে নিজের শরীর থেকে চর্বি সংগ্রহ করতে হয় না। ফলে চর্বি অপসারণের অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হয় না। এ কারণে যাঁদের শরীরে পর্যাপ্ত চর্বি নেই, তাঁদের মধ্যে এটি বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত জিএলপি-১ শ্রেণির ওষুধ ব্যবহারের পর শরীরের বিভিন্ন অংশে ভরাটভাব কমে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নৈতিক প্রশ্নও
অ্যালোক্লে নিয়ে আলোচনা শুধু সৌন্দর্যচর্চায় সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নৈতিক প্রশ্ন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, মানুষ যে টিস্যু দান করেন, সেটি কি পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্যবর্ধক পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা উচিত? সাধারণত টিস্যু বা অঙ্গ দানকে মানবিক ও কল্যাণমূলক কাজ হিসেবে দেখা হয়।

যেমন, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কারও জীবন বাঁচানো বা পোড়া রোগীর চিকিৎসায় দান করা ত্বক ব্যবহার করা। কিন্তু সেই দান করা টিস্যু যদি পরে হাজার হাজার ডলারের সৌন্দর্যবর্ধক পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে দাতার মূল উদ্দেশ্য এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হয় কি না—এ নিয়ে জীবনীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। আরেকটি প্রশ্ন সম্মতি নিয়ে। দাতা হয়তো তাঁর টিস্যু চিকিৎসা বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি কি জানতেন, সেই টিস্যু পরে নিতম্ব বা কোমর-নিতম্বের পাশের গর্ত ভরাট করার মতো সৌন্দর্যচর্চায় ব্যবহার হতে পারে?
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন
অ্যালোক্লে কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা আছে। যুক্তরাষ্ট্রে এটি মানব কোষ ও টিস্যু পণ্য হিসেবে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের একটি নির্দিষ্ট বিধির আওতায় নিয়ন্ত্রিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ কারণে কিছু ওষুধ, কৃত্রিম উপাদান বা চিকিৎসা সরঞ্জামের মতো বাজারে আসার আগে একই ধরনের কঠোর অনুমোদন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয় না।

ঝুঁকি কি একেবারেই নেই?
প্রচলিত অস্ত্রোপচারের তুলনায় কম আক্রমণাত্মক পদ্ধতি হিসেবে অ্যালোক্লের প্রচার হলেও এটিকে ঝুঁকিমুক্ত বলা যায় না। একটি সম্ভাব্য সমস্যা হলো চর্বিযুক্ত টিস্যু নষ্ট হয়ে যাওয়া। ইনজেকশন দেওয়ার পর টিস্যুর কোনো অংশে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হলে সেটি নষ্ট হয়ে শক্ত ও ব্যথাযুক্ত গুটি তৈরি করতে পারে। কখনো তা সূঁচের মাধ্যমে বের করে দেওয়া বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ইনজেকশনের জায়গায় পরে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ফিলারটি শরীরের ভেতরে সরে গিয়ে অসমভাবে বসতে পারে। এতে দুই পাশের আকৃতিতে পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
ফিলারটি যেন স্থান পরিবর্তন না করে, সে জন্য প্রক্রিয়ার পর কয়েক সপ্তাহ সরাসরি নিতম্বের ওপর বসা এড়িয়ে চলতে বলা হতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো দীর্ঘমেয়াদি তথ্যের সীমাবদ্ধতা। ছোট পরিসরে কিছু গবেষণা ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা থাকলেও শরীরের বড় অংশের আকৃতি পরিবর্তনে বহু বছর ধরে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা কেমন থাকে, সে বিষয়ে তথ্য এখনো সীমিত।
মৃত টিস্যু কি শরীরে জীবন্ত হয়ে যায়?
এখানেই বিষয়টি সবচেয়ে সহজভাবে বোঝা যায়। না, মৃত মানুষের দেহ থেকে নেওয়া টিস্যু শরীরে গিয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে না। বরং অ্যালোক্লের অবশিষ্ট কাঠামোটি অনেকটা একটি খালি কাঠামোর মতো কাজ করে। রোগীর নিজের কোষ ও রক্তনালি ধীরে ধীরে সেখানে প্রবেশ করতে পারে। এরপর শরীর নিজের টিস্যু ও কোলাজেন তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, ফিলারটির ধারণা শুধু জায়গাটি ভরাট করা নয়; বরং শরীরকে সেখানে নিজের টিস্যু তৈরির জন্য একটি কাঠামো দেওয়া।

নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনি এর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, কার্যকারিতা, দাতার সম্মতি এবং মানব টিস্যুর বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন আছে। তাই এ ধরনের সৌন্দর্যচর্চার পদ্ধতি নেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য উপকার, ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি।
সূত্র: টাইগার অ্যাসথেটিক্স, সিবিএস নিউজ
ছবি: ইন্সটাগ্রাম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চলতি সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন কম্পিউটারবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রসেসরসহ সব ধরনের কম্পিউটার যন্ত্রাংশের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে গত সপ্তাহের দামেই পছন্দের প্রযুক্তিপণ্য কিনতে পারছেন ক্রেতারা। ঢাকার একাধিক কম্পিউটারবাজার ঘুরে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম তুলে ধরা হলো।প্রসেসরইন্টেল: কোর আলট্রা ৯ ২৮৫কে ৫.৭০ গিগাহার্টজ (গি.হা.) ৬২ হাজার টাকা, কোর আই-৯ ৬.০০ গি.হা. ১৪ প্রজন্ম র্যাপ্টর লেক রিফ্রেশ ৫৬ হাজার টাকা, কোর আলট্রা ৭ ২৬৫কে (৫.৫ গি.হা.) ৩৫ হাজার টাকা, কোর আই-৭ ৫.৬০ গি.হা. ১৪ প্রজন্ম ৫০ হাজার টাকা, কোর আই-৭ ৫.৪০ গি.হা. ১৩ প্রজন্ম ৪৩ হাজার টাকা, কোর আলট্রা–৫ ২৪৫ কেএফ (৫.২ গি.হা.) ৩৮ হাজার টাকা, কোর আই–৫ (৫.৩০ গি.হা.) ১৪৬০০কেএফ ১৪ প্রজন্ম ৩৮ হাজার টাকা, কোর আই–৫ (৪.৬০ গি.হা.) ১৩ প্রজন্ম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং কোর আই–৩ (৪.৫০ গি.হা.) ১৩ প্রজন্ম ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।এএমডি: রাইজেন–৯ ৭৯৫০এক্স ৪.৫ গি.হা. ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা, রাইজেন–৭ ৫৭০০জি ৩.৮– ৪.৬ গি.হা. ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, রাইজেন–৫ ৫৬০০জি ৩.৬–৪.৬ গি.হা. ১৯ হাজার টাকা।মাদারবোর্ডএমএসআই: এ৫২০ এম–এ প্রো (ডিডিআর ৪) ৭ হাজার ২০০ টাকা, প্রো এইচ ৬১০ এম–ই (ডিডিআর ৪) ১০ হাজার টাকা, বি৪৫০ এম–এ প্রো ম্যাক্স ৮ হাজার ৫০০ টাকা, এইচ৮১০ এম–বি (ডিডিআর ৫) ১৬ হাজার ৭০০ টাকা, বি৬৫০ এম গেমিং ওয়াইফাই (ডিডিআর ৫) ১৯ হাজার টাকা, বি৭৬০ গেমিং প্লাস (ডিডিআর ৫) ২২ হাজার ৫০০ টাকা।আসুস: প্রাইম এইচ৬১০এম (ডিডিআর ৪) ১০ হাজার ৬০০ টাকা, টাফ গেমিং বি৫৫০এম প্লাস (ডিডিআর ৪) ১৮ হাজার ৯০০ টাকা, প্রাইম জেড৮৯০ প্লাস সিএসএম (ডিডিআর ৫) (ওয়াইফাই-৭) ৩৭ হাজার ৯০০ টাকা।গিগাবাইট: বি৭৬০এম (ডিডিআর ৫) ১৭ হাজার ২০০ টাকা, বি৪৫০এম কে এএমডি মাদারবোর্ড ৮ হাজার ৯০০ টাকা।র্যামকরজেয়ার: ভেনজিন্স এলপিএক্স ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ৮ জিবি ৮ হাজার ২০০ টাকা, ভেনজিন্স এলপিএক্স ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ১৬ জিবি ১৪ হাজার টাকা, ভেনজিন্স আরজিবি ১৬ জিবি (ডিডিআর ৫) ৫২০০ মেগাহার্টজ ৩২ হাজার টাকা।জিস্কিল: ট্রাইডেন্ট জেড আরজিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ ৮ জিবি (ডিডিআর ৪) ৮ হাজার টাকা, ফ্লেয়ার এক্স৫ ১৬ জিবি (ডিডিআর ৫) ৫৬০০ মেগাহার্জ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রাইডেন্ট জেড ৫ নিও আরজিবি ৩২ জিবি (ডিডিআর ৫) ৬০০০ মেগাহার্জ ৬৪ হাজার টাকা।কিংস্টন: ফিউরি ৮ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ৮ হাজার ৫০০ টাকা, ফিউরি ১৬ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ১৬ হাজার ৭০০ টাকা, ফিউরি আরজিবি ১৬ জিবি ৬০০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৫) ৩২ হাজার টাকা, আরজিবি ৩২ জিবি ৬০০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৫) ৬৪ হাজার টাকা।ওসিপিসি: এক্সটি ডাবল আই ১৬ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ১২ হাজার ৯০০ টাকা, এক্স৩ আরজিবি ৮ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ৭ হাজার ৯০০ টাকা, এক্সটি ডাবল আই ৮ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ৭ হাজার ২০০ টাকা।হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (এইচডিডি)সিগেট: বারাকুডা ৭২০০ আরপিএম সাটা ২ টে.বা. ১৭ হাজার ৩০০ টাকা, বারাকুডা ৪ টেরাবাইট ২৩ হাজার টাকা।তোশিবা: পি৩০০ ৭২০০ আরপিএম ২ টেরাবাইট ১৪ হাজার টাকা, এক্স৩০০ ৭২০০ আরপিএম ৪ টেরাবাইট ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি)স্যামসাং: ৯৯০ প্রো এনভিএমই ১ টেরাবাইট ৩২ হাজার ৫০০ টাকা, ৯৯০ প্রো এনভিএমই ২ টেরাবাইট ৫১ হাজার টাকা, ৪৮০ জিবি সাটা ৬জিবিপিএস ৫৫ হাজার টাকা।টিম: এমপি৩৩ ২৫৬ জিবি ৭ হাজার ৫০০ টাকা, সিএক্স২ সাটা ১ টেরাবাইট ১৭ হাজার টাকা, টি-ফোর্স সাটা ২৫৬ জিবি ৫ হাজার ৫০০ টাকা।করজেয়ার: এমপি৬০০ প্রো ১ টিবি ২৮ হাজার টাকা, এমপি৬০০ ৫০০ জিবি ১৪ হাজার ৫০০ টাকা।এইচপি: ইএক্স৯০০ ৫১২ জিবি ১২ হাজার টাকা, এস৭০০ প্রো ১২৮ জিবি ৩ হাজার টাকা, এফএক্স ৯০০ প্লাস ১ টেরাবাইট ২০ হাজার টাকা।ওসিপিসি: এক্সটিএল-২০০ ১ টিবি ১৬ হাজার টাকা, এক্সটিএল-২০০ ৫১২ জিবি ৯ হাজার টাকা, এক্সটিএল-২০০ ২৫৬ জিবি ৫ হাজার ৬০০ টাকা।বহনযোগ্য হার্ডডিস্কওয়েস্টার্ন ডিজিটাল: মাই পাসপোর্ট ১ টে.বা. ১০ হাজার ৯০০ টাকা, মাই পাসপোর্ট ২ টে.বা. ১৩ হাজার ৫০০ টাকা, মাই পাসপোর্ট ৪ টে.বা. ১৮ হাজার ৮০০ টাকা।ট্রান্সসেন্ড: স্টোরজেট ২৫এইচ৩ ১ টে.বা. ১৫ হাজার ৫০০ টাকা, টিএস২টিএসজে২৫সি৩এন ২ টে. বা. ১৯ হাজার টাকা, স্টোরজেট ২৫এইচ৩পি ৪ টে.বা. ৩২ হাজার ৩০০ টাকা।সিগেট: আইরন ওলফ প্রো ৮ টে.বা. ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা, স্কাইহক এআই ১৬ টে.বা. ৭০ হাজার টাকা।মনিটরআসুস: ভিওয়াই২৪৯এইচজিআর ২৪ ইঞ্চি ১৫ হাজার টাকা, ভিএ২৪৯এইচজি ২৪ ইঞ্চি ১৬ হাজার টাকা, টাফ গেমিং সিরিজ ৫ ভিজি২৫৯কিউ৫এ ২৪.৫ ইঞ্চি ২৫ হাজার টাকা।এইচপি: ১৯.৫ ইঞ্চি পি২০৪ভি ১৩ হাজার টাকা, ২২ ইঞ্চি এম২২এফ ১৬ হাজার টাকা, ২৪ ইঞ্চি এম২৪এফ ১৭ হাজার টাকা, এলিট ডিসপ্লে ই২৭ জি৫ ২৭ ইঞ্চি ২৭ হাজার টাকা।ডেল: ২২ ইঞ্চি এসই২২২২এইচ ১২ হাজার ৯০০ টাকা, প্রো ২৪ প্লাস পি২৪২৫এইচ ২৪ ইঞ্চি ৩০ হাজার ৫০০ টাকা।এমএসআই: প্রো এমপি২২৩ ২২ ইঞ্চি ১১ হাজার ২০০ টাকা, প্রো এমপি২২৫ ২২ ইঞ্চি ১২ হাজার ৮০০ টাকা, প্রো এমপি২৫১ ২৪.৫ ইঞ্চি ১৯ হাজার ৫০০ টাকা, ২৫৫এফ ২৫ ইঞ্চি ২০ হাজার ৫০০ টাকা।এলজি: ২৪এমএস৫৭০বি–বি ২৪ ইঞ্চি ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, ২২এমকে৬০০এম ২১.৫ ইঞ্চি ১৫ হাজার ৫০০ টাকা, আলট্রাফাইন ২৭ ইঞ্চি ৪০ হাজার টাকা, ৩২ইউ৬৩১এ-বি ৩২ ইঞ্চি।স্যামসাং: এলএস২৪ডি৩০০জিএডাব্লিউ ২৪ ইঞ্চি ১৭ টাকা, ওডিসি জি৫ ২৭ ইঞ্চি ৪৩ হাজার টাকা।গ্রাফিকস কার্ডগিগাবাইট: জিটি ১০৩০ ২ জিবি ১১ হাজার ৫০০ টাকা, আরটিএক্স ৩০৫০ উইন্ডফোর্স ওসি ভি২ ৬জিবি ৩০ হাজার টাকা এবং আরটিএক্স ৩০৫০ উইন্ডফোর্স ওসি ভি২ ৮ জিবি ৩৪ হাজার টাকা।আসুস: জিফোর্স জিটি ৭৩০ এনভিডিয়া (ডিডিআর ৫) ২জিবি ১৫ হাজার ৯০০ টাকা, ডুয়াল আরটিএক্স ৩০৫০ ৬ জিবি ৩৩ হাজার টাকা, ডুয়াল আরটিএক্স ৩০৫০ ভি২ ৮ জিবি ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।এমএসআই: জিফোর্স আরটিএক্স ৫০৮০ ১৬জি ইন্সপায়ার ৩এক্স ওসি প্লাস ১৬ জিবি ২ লাখ টাকা, আরটিএক্স ৩০৫০ ভেন্টাস ২এক্স ৬জি ওসি ৬জিবি ৩২ হাজার টাকা, আরটিএক্স ৩০৬০ ভেন্টাস ওসি ১২ জিবি ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা, আরটিএক্স ৪০৬০ ভেন্টাস ওসি ১৬ জিবি ৬৭ হাজার টাকা।ওসিপিসি: এনভিডিয়া জিটি ৭৩০ ৪ জিবি (ডিডিআর ৩) ৭ হাজার ৪০০ টাকা, আরটিএক্স ৫০৫০ ৮ জিবি (ডিডিআর ৬) এক্সই সাটা ৪৩ হাজার ৭০০ টাকা, আরটিএক্স ৩০৫০ ৮ জিবি (ডিডিআর ৬) এক্সই কালো ৩২ হাজার ২০০ টাকা।কি–বোর্ডলজিটেক: কে১২০ ৭৭০ টাকা, পেবল কিস ২ কে৩৮০এস মাল্টি ডিভাইস ব্লুটুথ ৪ হাজার টাকা, এমকে২৪০ ওয়্যারলেস ২ হাজার ৫০০ টাকা।এফোরটেক: কেআরএস–৮২ ৮৫০ টাকা, এফকে১১ ১ হাজার টাকা, এফজি১০১০ ওয়্যারলেস ২ হাজার টাকা।হ্যাভিট: কেবি২৭১ আলট্রা থিন ৫০০ টাকা, কেবি২৭৫এল গেমিং ৯২০ টাকা, কেবি৪৮৮এল গেমিং ১ হাজার ৫০ টাকা, কেবি ৪৮৭এল গেমিং ১ হাজার ৩৬০ টাকা।রয়েল ক্লুজ: আরকে৭১ ডুয়াল মোড গেমিং ৪ হাজার ৫০০ টাকা, আরকে ৮৪ ট্রাই মোড গেমিং ৫ হাজার ৭০০ টাকা।এক্সট্রিম: কেএম০৭জি মেকানিকাল ২ হাজার ৩০০ টাকা।প্রিন্টারএইচপি: স্মার্ট ট্যাঙ্ক ৫৮০ অল-ইন-ওয়ান কালার ইঙ্ক ১৯ হাজার ৩০০ টাকা, লেজার ১০০৮এ সিঙ্গেল ফাংশন ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।এপসন: ইকোট্যাঙ্ক এল৩২১০ ১৮ হাজার টাকা (রঙিন), ইকোট্যাঙ্ক এল৩২৫০ ২১ হাজার ২০০ টাকা (রঙিন)।ক্যানন: পিক্সমা জি১০১০ (রঙিন) ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইমেজক্লাস এলবিপি৬০৩০ লেজার প্রিন্টার (সাদা–কালো) ১৭ হাজার ৩০০ টাকা, ইমেজক্লাস এলবিপি৬০৩০ডব্লিউ লেজার প্রিন্টার (সাদা–কালো) ২০ হাজার টাকা।কেসিং১ হাজার টাকা থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা।ইউপিএসম্যাক্সগ্রিন: এমজি সিলভার (৬৫০ ভিএ) ৩ হাজার ৩০০ টাকা, এমজি–এলআই–ইএপি (১২০০ ভিএ) ৬ হাজার ৭৫০ টাকা।অ্যাপোলো: ১০৬৫ এ/১০৬৫ (৬৫০ ভিএ) ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১১২০এফ (১২০০ভিএ) ৬ হাজার ৬০০ টাকা ও ১২৪০ (২০০০ ভিএ) ১১ হাজার ৮০০ টাকা।ডিজিটাল এক্স: ৬৫০ ভিএ ৩ হাজার ২০০ টাকা, ৮৫০ ভিএ ৪ হাজার ১০০ টাকা।পাওয়ার গার্ড: ১২০০ ভিএ সিএস অফলাইন ৭ হাজার ৩০০ টাকা।অ্যান্টিভাইরাসক্যাসপারস্কি: ক্যাসপারস্কি স্ট্যান্ডার্ড ১ ব্যবহারকারী অ্যান্টিভাইরাস (১ বছর) ৬০০ টাকা, ক্যাসপারস্কি স্ট্যান্ডার্ড ৩ ব্যবহারকারী অ্যান্টিভাইরাস (১ বছর) ১ হাজার ২২৫ টাকা, ক্যাসপারস্কি টোটাল সিকিউরিটি ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ১ হাজার টাকা।ইসেট: এনওডি৩২ অ্যান্টিভাইরাস ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ৪৫০ টাকা, ইন্টারনেট সিকিউরিটি ১ ব্যবহারকারী (৩ বছর) ১ হাজার ১৫০ টাকা, স্মার্ট সিকিউরিটি প্রিমিয়াম ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ২ হাজার ২৫০ টাকা।বিটডিফেন্ডার: ইন্টারনেট সিকিউরিটি ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ৫৭৫ টাকা, টোটাল সিকিউরিটি ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ৮৫০ টাকা।প্যান্ডা: ডোম অ্যাডভান্স ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ৬০০ টাকা, ডোম অ্যাডভান্স ইন্টারনেট সিকিউরিটি ৩ ব্যবহারকারী (১ বছর) ১ হাজার ৩০০ টাকা।রাউটারটিপি–লিংক: টিএল–ডব্লিউআর৮৪০এন ৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিঙ্গেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ১ হাজার ৫০০ টাকা, আর্চার সি২০ এসি৭৫০ এমবিপিএস ইথারনেট ডুয়াল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ২ হাজার ৪০০ টাকা, আর্চার সি৬৪ ওয়্যারলেস অ্যান্ড ইথারনেট ডুয়াল–ব্যান্ড এসি১২০০ এমবিপিএস গিগাবিট ৩ হাজার ২০০ টাকা।ডি–লিংক: ডিআইআর–৬১৫ জেড১ ৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিঙ্গেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ১ হাজার ১০০ টাকা, ডিআইআর–৮৪১ এসি১২০০ এমবিপিএস গিগাবিট ডুয়াল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ২ হাজার ৫০০ টাকা।টেন্ডা: এফ৩ ৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিঙ্গেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ১ হাজার ৩০০ টাকা, এফ৬ এন৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিঙ্গেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ১ হাজার ৫০০ টাকা।আসুস: আরটি–এন১২+ ৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিঙ্গেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ২ হাজার ৩০০ টাকা, আরটি–এএক্স৫২ এএক্স১৮০০ এমবিপিএস গিগাবিট ডুয়াল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই৬ ৭ হাজার ৩০০ টাকা।এখানে শুধু যন্ত্রাংশের দাম দেওয়া হয়েছে। পুরো কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ সংযোজিত হবে। ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত যন্ত্রাংশের দামে হেরফের হতে পারে।
বিজ্ঞান কোনো অলৌকিক আদেশ বা স্থির পরম সত্য নয়। এটি প্রতিনিয়ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভুল প্রমাণ ও স্ব-সংশোধনের মাধ্যমে এগিয়ে চলা এক গতিশীল যাত্রা। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশ্বমানের ভ্যাকসিন ও জিনোম এডিটিংয়ের এই চরম উৎকর্ষের যুগে এসে মানবজাতি এক অভাবনীয় বৈপরীত্যের মুখোমুখি—একদিকে বিজ্ঞানের ঐতিহাসিক সাফল্য, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি দিন দিন ঘনীভূত হতে থাকা বিশ্বাসের সংকট।নেচার বিজ্ঞান সাময়িকীর সম্পাদকীয় ‘দ্য কমপ্লেক্স ট্রুথ অ্যাবাউট ট্রাস্ট ইন সায়েন্স’ এবং গবেষক এনচাংউই মুনুংয়ের পর্যবেক্ষণ এই সংকটটিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। মুনুং যথার্থই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক অভিজাততন্ত্রের ‘হাতির দাঁতের মিনার’ থেকে বের হয়ে বিজ্ঞান তখনই সফল হয়, যখন বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের শঙ্কা শোনেন, গবেষণায় সমাজকে যুক্ত করেন এবং বিজ্ঞানের ভেতরের অনিশ্চয়তাগুলো নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। ভুল তথ্য ও ভুয়া সংবাদের সয়লাবে যখন সাধারণ মানুষের মন থেকে বিজ্ঞানের ভিত্তি টলে যাচ্ছে, তখন এই দূরত্বের কারণ অনুসন্ধান করা কেবল অ্যাকাডেমিক বিলাসিতা নয়, বরং সমাজ রক্ষার তাগিদেই জরুরি।প্রশ্ন জাগে—বিজ্ঞানের প্রতি জন-আস্থা তৈরি হয় কীভাবে? বিজ্ঞানের সাফল্য কি কেবল ‘নিখুঁত ফলাফল’ উপস্থাপনের ওপর নির্ভর করে, নাকি অনুসন্ধান ও ভুল শুধরে নেওয়ার ‘স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার’ ওপর?এই প্রবন্ধে আমি আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের প্রতি গণমানুষের আস্থার জটিল সমীকরণ ও সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেছি। একই সঙ্গে, প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব ও গোপনীয়তার প্রাচীর ভেঙে উন্মুক্ত বিজ্ঞান, নাগরিক বিজ্ঞান ও সহজ বিজ্ঞান-যোগাযোগের মাধ্যমে বিজ্ঞানকে কীভাবে সাধারণ মানুষের বিশ্বস্ত ও স্বনির্ভর যৌথ সম্পদে রূপান্তর করা যায়—এখানে তারই এক সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রস্তাব করছি।বিজ্ঞানের চিরকালীন শিক্ষাবাস্তবে বিজ্ঞানের প্রতি গণমানুষের আস্থা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নয়, বরং তা সততার মাধ্যমে অর্জনের বিষয়।আস্থার সংকট: জ্ঞান-ঘাটতি মডেল বনাম প্রাতিষ্ঠানিক অধিকারঐতিহাসিকভাবে বৈজ্ঞানিক সমাজ প্রায়শই সাধারণ মানুষকে একটি জ্ঞান-ঘাটতি মডেলের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করে এসেছে। এই মডেল ধরে নেয় যে সাধারণ মানুষ বিজ্ঞান বোঝে না বলেই একে সন্দেহ করে; আর তাই কেবল একমুখী তথ্যের প্রবাহ চাপিয়ে দিলেই এই বিশ্বাসের সংকট দূর হয়ে যাবে। কিন্তু আধুনিক সমাজবিজ্ঞান ও বিজ্ঞান-যোগাযোগ প্রমাণ করেছে যে, এই ধারণা কেবল ভ্রান্তই নয়, বরং অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিজ্ঞান কোনো অলৌকিক আদেশ বা পরম ঐশ্বরিক বাণী নয় যে মানুষ তা চোখ বন্ধ করে মেনে নেবে।বাস্তবে বিজ্ঞানের প্রতি গণমানুষের আস্থা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নয়, বরং তা সততার মাধ্যমে অর্জনের বিষয়। এই আস্থা মূলত গড়ে ওঠে তিনটি মৌলিক স্তম্ভের ওপর—গবেষণার প্রক্রিয়া ও অর্থায়নের উৎস প্রকাশে শতভাগ স্বচ্ছতা, বিজ্ঞানের নিজস্ব সীমাবদ্ধতা ও অনিশ্চয়তাকে নির্দ্বিধায় স্বীকার করার বিনয় এবং সাধারণ মানুষকে কেবল নিষ্ক্রিয় সুবিধাভোগী না ভেবে গবেষণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার জনসম্পৃক্ততা। বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যখন নিজেদের ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে বলে দাবি করে, কিংবা এলিট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতর আবদ্ধ থেকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আবেগ, সংস্কৃতি বা শঙ্কাকে অবিজ্ঞান বলে উড়িয়ে দেয়, তখনই সমাজ থেকে বিজ্ঞানের দূরত্ব তৈরি হয়। এই প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্ছিন্নতাই মূলত সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের বীজ বুনে দেয় এবং ভুয়া তথ্য ও বিজ্ঞানবিরোধী মনোভাব বিস্তারে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।বিজ্ঞানচর্চা শখ নয়, অস্তিত্বের সংগ্রামগবেষক এনচাংউই মুনুং উল্লেখ করেছেন যে, গবেষণার প্রতিটি ধাপে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নগণ্য।প্রাতিষ্ঠানিক অভিজাততন্ত্র ও দূরত্বের রাজনীতিবিজ্ঞানচর্চা যখন কেবল নির্দিষ্ট গবেষণাগার, দামি জার্নাল এবং অ্যাকাডেমিক শব্দজালের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করে। এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিজাততন্ত্র বা এলিটিজম বিজ্ঞানের প্রধান শত্রু।গবেষক এনচাংউই মুনুং উল্লেখ করেছেন যে, গবেষণার প্রতিটি ধাপে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে তাত্ত্বিক আলোচনা হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ নগণ্য। যখন সাধারণ মানুষ বা স্থানীয় সম্প্রদায় বুঝতে পারে না যে একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার তাদের জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, কিংবা যখন তাদের মতামতকে আমলে নেওয়া হয় না, তখন বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।উদাহরণস্বরূপ, কৃষি বায়োটেকনোলজি বা জিনোম এডিটিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তির কথাই ধরা যাক। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো খাদ্যনিরাপত্তা অর্জনে বিপ্লব ঘটাতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ না পর্যন্ত কৃষকদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, স্থানীয় জ্ঞান এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক শঙ্কাগুলোকে গবেষণার পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রযুক্তি নিয়ে সংশয় থেকে যাবে। বিজ্ঞানকে অবশ্যই তার হাতির দাঁতের মিনার থেকে নেমে এসে সমাজের মাটির সাথে মিশতে হবে।শিশুদের মনে বিজ্ঞানের বিস্ময় সৃষ্টি করুনকোনো আবিষ্কারের কতটুকু আমরা নিশ্চিতভাবে জানি এবং কতটুকু এখনো অজানা, তা স্পষ্ট করে বলাটাই হলো প্রকৃত সততা, যা দীর্ঘমেয়াদে জন-আস্থা অর্জন করে।অনিশ্চয়তা: বিজ্ঞানের দুর্বলতা নয়, শক্তির প্রতীকজন-আস্থা হারানোর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো, বিজ্ঞান-যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়। রাজনীতি বা ধর্ম যেখানে প্রায়শই পরম ও চূড়ান্ত সত্যের দাবি করে, বিজ্ঞান সেখানে ভিন্ন। বিজ্ঞান বলে, ‘আমাদের বর্তমান প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এটিই সেরা সিদ্ধান্ত; তবে নতুন তথ্য এলে সিদ্ধান্ত পরিমার্জিত হতে পারে।’সাধারণ মানুষ প্রায়ই এই পরিবর্তনশীলতাকে বিজ্ঞানের ব্যর্থতা বা দ্বিধা হিসেবে ভুল বোঝে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় আমরা দেখেছি, মাস্ক পরা বা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে সময়ের সাথে সাথে বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা পরিবর্তিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা যখন নতুন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নীতি পরিবর্তন করেছেন, সাধারণ মানুষের একাংশ তখন ভেবেছে বিজ্ঞানীদের নিজেদেরই কোনো ঠিকঠিকানা নেই।এখানেই বিজ্ঞানের বস্তুনিষ্ঠতার মূল বার্তাটি পৌঁছাতে ব্যর্থতা দেখা যায়। এ পি জয়রামনের মতো বিজ্ঞান-যোগাযোগকারীরা যেমনটি উল্লেখ করেছেন, বিজ্ঞানের প্রতি আস্থা বিজ্ঞানের ফলাফলের অবিনশ্বরতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং তা দাঁড়িয়ে থাকে এর পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক, স্বচ্ছ এবং স্ব-সংশোধনকারী প্রক্রিয়ার ওপর।অনিশ্চয়তা বিজ্ঞানের ত্রুটি নয়। এটিই বিজ্ঞানের অগ্রগতির চালিকাশক্তি। বিজ্ঞান যদি সব উত্তর একবারে দিয়ে দিতে পারত, তবে নতুন অনুসন্ধানের কোনো প্রয়োজন থাকত না। বিজ্ঞানীদের উচিত সাধারণ মানুষের কাছে এই অনিশ্চয়তার গল্পটি সততার সাথে তুলে ধরা। কোনো আবিষ্কারের কতটুকু আমরা নিশ্চিতভাবে জানি এবং কতটুকু এখনো অজানা, তা স্পষ্ট করে বলাটাই হলো প্রকৃত সততা, যা দীর্ঘমেয়াদে জন-আস্থা অর্জন করে।প্রযুক্তির বয়ঃসন্ধিকাল এবং সভ্যতার অনিশ্চিত গন্তব্যঅনিশ্চয়তা বিজ্ঞানের ত্রুটি নয়। এটিই বিজ্ঞানের অগ্রগতির চালিকাশক্তি। বিজ্ঞান যদি সব উত্তর একবারে দিয়ে দিতে পারত, তবে নতুন অনুসন্ধানের কোনো প্রয়োজন থাকত না।উন্মুক্ত বিজ্ঞান ও তথ্যের অবাধ প্রবাহবিজ্ঞানের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে যখনই কোনো প্রাকৃতিক বা স্বাস্থ্যগত দুর্যোগ দেখা দিয়েছে, উন্মুক্ত বিজ্ঞান, উন্মুক্ত উপাত্ত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখিয়েছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে গমফসলে আকস্মিক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণের সময় আন্তর্জাতিক গবেষকেরা খোলাখুলি উপাত্ত শেয়ার করে জীবাণুর জিনোম বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং দ্রুত সমাধান এনেছিলেন। একইভাবে কোভিড-১৯ মহামারিতে বৈজ্ঞানিক তথ্যের অবাধ আদান-প্রদান বিশ্বজুড়ে দ্রুত প্রতিষেধক ও সমাধান উদ্ভাবনে সহায়ক হয়েছিল।চিরাচরিতভাবে গবেষণা পেওয়ালের পেছনে বন্দি রাখা এবং উপাত্ত গোপন করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা বিজ্ঞানকে করপোরেট বা শক্তিশালী দেশের স্বার্থের অনুগামী করে তুলেছিল। কিন্তু যখন গবেষণা ও তার উপাত্ত সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, তখন আন্তর্জাতিক স্তরে দ্রুত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি গবেষণার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। ডেটা প্রকাশ্যে এলে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য গবেষকেরা তা পুনরায় পরীক্ষা করতে পারেন। ফলে ভুয়া গবেষণা বা ডেটা ম্যানিপুলেশনের সুযোগ কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বাড়ে। উন্মুক্ত বিজ্ঞান প্রমাণ করে যে, বিজ্ঞান কোনো একক সংস্থা বা দেশের সম্পত্তি নয়—এটি সমগ্র মানবজাতির যৌথ সম্পদ।প্রাযুক্তিক বয়োঃসন্ধিতে প্রয়োজন সচেতনতাচিরাচরিতভাবে গবেষণা পেওয়ালের পেছনে বন্দি রাখা এবং উপাত্ত গোপন করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা বিজ্ঞানকে করপোরেট বা শক্তিশালী দেশের স্বার্থের অনুগামী করে তুলেছিল।ইনফোডেমিক, নাগরিক বিজ্ঞান ও মিডিয়ার ভূমিকাসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বর্তমান যুগে আমরা এক অভূতপূর্ব ইনফোডেমিক বা তথ্য-মহামারির মুখোমুখি, যেখানে মানুষের ভয় ও আবেগকে পুঁজি করে সত্যের চেয়ে ভুয়া খবর বা চক্রান্ত-তত্ত্ব অনেক বেশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই বৈরী পরিবেশে কেবল প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক প্রেস রিলিজ দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা অসম্ভব। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রথমত বিজ্ঞানীদের নিজেদের ভূমিকার পরিবর্তন আনতে হবে; জটিল বৈজ্ঞানিক শব্দজাল বা পরিভাষা এড়িয়ে সহজ রূপক ও রূপকল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞানের প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে। একই সাথে সিটিজেন সায়েন্স বা নাগরিক বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে কৃষি ও গণস্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও তরুণদের সরাসরি ডেটা সংগ্রহ ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে যুক্ত করতে হবে।একজন কৃষক যখন উপলব্ধি করেন যে তাঁর দেওয়া মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতেই বিজ্ঞানীরা নতুন রোগপ্রতিরোধক জাত বা র্যাপিড ডায়াগনস্টিক কিট উদ্ভাবন করছেন, তখন বিজ্ঞানকে তিনি আর দূরের বিষয় মনে করেন না; বরং এতে তাঁর ও সমাজের গভীর মালিকানাবোধ ও আস্থার জন্ম হয়। বিজ্ঞান ও সমাজের সেতুবন্ধনে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর উচিত স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত ফেলোশিপ, সায়েন্স কমিউনিকেশন ওয়ার্কশপ এবং মিডিয়া-মিট-সায়েন্টিস্ট সংলাপের আয়োজন করা। এর মাধ্যমে সাংবাদিকেরা জিনোম এডিটিং, বায়োটেকনোলজি কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো জটিল বিষয়গুলোকে প্রাঞ্জল ভাষায় জনগণের সামনে তুলে ধরার দক্ষতা অর্জন করবেন, যা সমাজে ভুল তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।বিজ্ঞানের সঙ্গে গড়তে হবে মানুষের সেতুবন্ধনসিটিজেন সায়েন্স বা নাগরিক বিজ্ঞানের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে কৃষি ও গণস্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষক, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও তরুণদের সরাসরি ডেটা সংগ্রহ ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে যুক্ত করতে হবে।নীতি, নৈতিকতা ও প্রথাগত কাঠামোর সংস্কারবিজ্ঞান কখনো শূন্যে বাস করে না; এটি নীতিনির্ধারণ ও সমাজের নৈতিকতার সাথে গভীরভাবে যুক্ত। নীতিনির্ধারকেরা যখন বিজ্ঞানের নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান কিংবা বিজ্ঞানীরা যখন করপোরেট স্বার্থে গবেষণার সত্যকে বাঁকিয়ে উপস্থাপন করেন, তখন জন-আস্থায় সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে। এই প্রেক্ষাপটে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বৈজ্ঞানিক যোগাযোগের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ মাত্রায় সততা ও স্বচ্ছ নৈতিক মানদণ্ড অক্ষুণ্ণ রাখা অপরিহার্য। কেবল গবেষণায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা অর্থায়নের উৎস প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানহীন ও ভুয়া জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করার অপসংস্কৃতি থেকেও বিজ্ঞানীদের কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে। ডেটা ম্যানিপুলেশন, প্লেজারিজম বা নৈতিক অনিয়মের কারণে বর্তমানে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রত্যাহারের ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। বিজ্ঞান যখন রাজনীতি, কায়েমি স্বার্থ ও অ্যাকাডেমিক অনৈতিকতা থেকে মুক্ত থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপন করতে পারে এবং বিজ্ঞানীরা যখন ভুল হলে তা প্রকাশ্যে স্বীকার করার সাহস ও পেশাদার সততা দেখান, তখনই সাধারণ মানুষ বিজ্ঞানকে মানবকল্যাণের বিশ্বস্ত পথপ্রদর্শক হিসেবে পুনর্মূল্যায়ন করে।প্রাচীন মিসরে বিজ্ঞানচর্চাকেবল গবেষণায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা অর্থায়নের উৎস প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানহীন ও ভুয়া জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করার অপসংস্কৃতি থেকেও বিজ্ঞানীদের কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।উপসংহার: আস্থার এক নতুন সামাজিক চুক্তিবিজ্ঞানের প্রতি গণমানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা কোনো ক্ষণিকের প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকল্প। নেচার সাময়িকীর সম্পাদকীয় এবং গবেষক এনচাংউই মুনুংয়ের বার্তাটি এখানে অত্যন্ত স্পষ্ট—বিজ্ঞানকে যদি সমাজে তার কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হয়, তাহলে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক হাতির দাঁতের মিনার ছেড়ে নম্র, উন্মুক্ত ও সমাজবান্ধব হতে হবে। সমাজের জন্য বিজ্ঞান—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে কেবল উচ্চমানের পেওয়ালযুক্ত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের সীমিত বৃত্তে আটকে না থেকে, সেই বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের বাস্তব সামাজিক প্রভাব ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই আজ সবচেয়ে বড় তাগিদ।এই রূপান্তর অর্জনে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত, বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ও গবেষণার যোগাযোগের ক্ষেত্রে সততা, সর্বোচ্চ নৈতিক মানদণ্ড ও শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মানসম্পন্ন প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা জরুরি। গবেষণাগারের গোপনীয়তা থেকে বিজ্ঞানকে বের করে উন্মুক্ত বিজ্ঞান ও নাগরিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে গণমানুষের বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করা সম্ভব হলে বিজ্ঞান আর দূরবর্তী কোনো এলিট সত্তা থাকবে না, বরং জনগণের স্বনির্ভর ও নির্ভরযোগ্য যৌথ সম্পদে পরিণত হবে। মূলত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার উন্মুক্ততা, সুসংহত নীতি-নৈতিকতা এবং গণমানুষের সাথে এই গভীর সামাজিক বন্ধনই ভবিষ্যতের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞানের ওপর মানুষের ভরসাকে চিরস্থায়ী করে রাখবে।লেখক: ডিন, গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদ; প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৮০ তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জোবায়ের মিয়া। এইবারের বিষয়টি ছিল—‘সন্তানের মন বোঝার উপায়।’ অনুষ্ঠানটি সাক্ষাৎকার আকারে তুলে ধরা হলো। উক্ত অনুষ্ঠানের আলোচনা থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।সন্তান যখন কোনো জটিল সামাজিক বা মানসিক সমস্যায় পড়ে, তখন অভিভাবক কীভাবে তার সঙ্গে কথা শুরু করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা.জোবায়ের মিয়া বলেন, ‘সন্তান যখন কোনো জটিল সামাজিক বা মানসিক সমস্যায় পড়ে তখন অভিভাবকদের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন, শুরুতেই কোনো বিচার করা বা দোষ দেওয়া যাবে না। সন্তান প্রথমে অস্বীকার করতে পারে। তখন একটু পজ দিয়ে মিষ্টি সুরে বলতে হবে— ‘তোমাকে তো কয়েক দিন ধরে একটু অন্যরকম দেখছি, তোমার কি মন খারাপ? কোনো আপত্তি না থাকলে আমার সঙ্গে শেয়ার করতে পারো।’ তাকে দিনে অন্তত ১০-১৫ মিনিট নিবিড় সময় দিলে এবং সে নিরাপদ বোধ করলে নিজের কষ্টের কথা কান্নাকাটি করে হলেও প্রকাশ করে দেবে।’