সরকার আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যে প্রশ্ন সামনে আসছে, তা হলো এত ব্যয়ের মেট্রোরেলে ভাড়া কত দাঁড়াবে? প্রকল্পগুলো থেকে যে আয় হবে, তা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হবে তো?
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গতকাল বুধবার ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি পর্যন্ত তিনটি পথে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়।
তিন প্রকল্পের মোট ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। মেট্রোরেলের আয় আসে ভাড়া থেকে। বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলতে হলে ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে অনেক বেশি। নইলে ঋণ পরিশোধের জন্য বিপুল ভর্তুকি দিতে হবে। সেটাও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে।
মেট্রোরেল আইন ২০১৫–এ গণপরিবহনটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘জনসাধারণকে স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহনসেবা প্রদান’। এই আইনের একটি ধারায় ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে মেট্রোরেল পরিচালনার ব্যয় এবং জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ্যের বিষয়গুলো বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।
এত ব্যয়ের মেট্রোরেলে ভাড়া কত দাঁড়াবে? প্রকল্পগুলো থেকে যে আয় হবে, তা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হবে তো?
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উত্তরা-মতিঝিল পথে মেট্রোরেলে যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়, তা আশপাশের দেশগুলোর মেট্রোরেলের ভাড়ার চেয়ে বেশি। সরকার তখন বলেছিল মেট্রোরেল ধনী ও গরিবের। তবে গরিবদের মেট্রোরেলে চড়তে দেখা যায় না।

বর্তমানে উত্তরা-মতিঝিল পথে চলাচলকারী মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ করলে ভাড়া গুনতে হয় ৯০ টাকা। দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। ঢাকার কোনো বাসেই এত ভাড়া নেই। মেট্রোরেলের সমান দূরত্বে বাসে ভ্রমণ করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৫০ টাকা। আর ঢাকার বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। অবশ্য মেট্রোরেল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি)। ঢাকার বেশির ভাগ বাসে এসি নেই।
দেখা যাচ্ছে, উন্নত গণপরিবহন হচ্ছে। তবে তা স্বল্প ব্যয়ের নয়। গণপরিবহনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়।
একনেকে গতকাল যে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার একটি নতুন। দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব সংশোধন করা হয়েছে। আড়াই লাখ কোটি টাকায় তিনটি প্রকল্পের আওতায় পাতাল ও উড়াল মিলে ৬৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল পথ নির্মাণ করা হবে।
তিন প্রকল্পের মোট ব্যয় আড়াই লাখ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। মেট্রোরেলের আয় আসে ভাড়া থেকে। বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলতে হলে ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে অনেক বেশি। নইলে ঋণ পরিশোধের জন্য বিপুল ভর্তুকি দিতে হবে। সেটাও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে।
তিন প্রকল্পে গড়ে কিলোমিটারপ্রতি মেট্রোরেল নির্মাণ ও ট্রেন চালুর জন্য ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। উত্তরা-মতিঝিল পথে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ১ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। তবে কয়েক দফা ব্যয় বাড়ে। এই পথটির পুরোটাই উড়ালপথে।
ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, জমি অধিগ্রহণ ও বেতন-ভাতা বাদ দিয়ে প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে ভারতে ব্যয় হয়েছে ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা।
জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার ঋণে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ দুটির ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অন্য প্রকল্পটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে। ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গতকালের একনেক বৈঠকে জাইকার ঋণের দুটি প্রকল্প (এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ উত্তর) আলোচ্যসূচিতে প্রথমে ছিল না। শুধু এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণে নেওয়া নতুন প্রকল্পটি (লাইন-৫ দক্ষিণ) অনুমোদন করার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবসংবলিত দুটি প্রকল্প যুক্ত করা হয়। কারণ, লাইন-৫ দক্ষিণের কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। এই প্রকল্প আগে অনুমোদন হলে বেশি ব্যয়ের প্রকল্প সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন উঠত। এ জন্য একসঙ্গে তিন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
বর্তমানে উত্তরা-মতিঝিল পথে চলাচলকারী মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভ্রমণ করলে ভাড়া গুনতে হয় ৯০ টাকা। দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। ঢাকার কোনো বাসেই এত ভাড়া নেই। মেট্রোরেলের সমান দূরত্বে বাসে ভ্রমণ করলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৫০ টাকা। আর ঢাকার বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। অবশ্য মেট্রোরেল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি)। ঢাকার বেশির ভাগ বাসে এসি নেই।
২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় মেট্রোরেলের চলাচল শুরু হয়। আয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) টিকিট বিক্রি থেকে অনিরীক্ষিত (প্রভিশনাল) উত্তরা-মতিঝিল পথে মেট্রোরেলের আয় ছিল ৪০০ কোটি টাকার মতো। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টিকিট বিক্রি করে আয় ছিল প্রায় ২৪৪ কোটি টাকা। ২০২২ সালে আংশিক চালুর পর ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ২২ কোটি টাকার বেশি।
সব মিলিয়ে মেট্রোরেলের যাত্রীভাড়া থেকে সর্বশেষ অর্থবছর পর্যন্ত আয় হয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকা। এর বাইরে দোকানভাড়া, বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য খাত থেকে বছরে ২০ কোটি টাকার মতো আয় হয়।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, শুধু বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খাতে গত অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। শুরুতে মেট্রোরেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রপাতির দরকার হলে তা প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদার বহন করত। গত জানুয়ারি থেকে ঠিকাদারের খরচ বহন করার সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয় নিজেদের করতে হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এই খাতে ব্যয় আরও বাড়বে।
সব মিলিয়ে মেট্রোরেলের যাত্রীভাড়া থেকে সর্বশেষ অর্থবছর পর্যন্ত আয় হয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকা। এর বাইরে দোকানভাড়া, বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য খাত থেকে বছরে ২০ কোটি টাকার মতো আয় হয়।
উত্তরা-কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে জাইকার কাছ থেকে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। এই ঋণ সুদ-আসলে প্রতিবছর দুটি কিস্তিতে আগামী ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের কিস্তির টাকার পরিমাণও বেড়ে যাবে।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, নির্মাণকালীন ১০ বছর পর্যন্ত জাইকার ঋণের মূল কিস্তি দিতে হয়নি, যা গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের জুন থেকে সীমিত আকারে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত কিস্তি হিসেবে ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করতে হবে। উত্তরা-মতিঝিল পথে এখন যে আয় হচ্ছে, তা দিয়ে কিস্তি পরিশোধ সম্ভব হবে না।
ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, জাপানের ঋণে বাস্তবায়নাধীন নতুন দুটি প্রকল্পের জন্য জাইকা থেকে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার মতো ঋণ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ৪০ বছরে এই ঋণ সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। অন্য মেট্রোরেল প্রকল্পটির জন্য এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিপুল ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিল। ব্যয় বাড়ানোর জন্য জাইকার সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছে। কিন্তু জাইকা দরপত্র ব্যবস্থা উন্মুক্ত করে কিংবা দর-কষাকষি করে ব্যয় কমানোর বিষয়ে রাজি হয়নি।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, জাইকার ঋণের এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যার ফলে জাপানি ঠিকাদারেরা বাড়তি সুবিধা পায়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, নকশা, দরপত্র প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়েও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। দরপত্রের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে জাইকার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা তৈরি করা কঠিন হচ্ছে।
দরপত্রের কারিগরি শর্ত প্রতিযোগিতা সীমিত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর একটি উদাহরণ এমআরটি লাইন-১-এর পাতালপথ নির্মাণে ‘ওয়ান-পাস জয়েন্ট’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা জাপানের নিজস্ব প্রযুক্তি।
সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিপুল ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিল। ব্যয় বাড়ানোর জন্য জাইকার সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়েছে। কিন্তু জাইকা দরপত্র ব্যবস্থা উন্মুক্ত করে কিংবা দর-কষাকষি করে ব্যয় কমানোর বিষয়ে রাজি হয়নি।
ঢাকার জন্য মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহন দরকার—এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও সরকার একমত। বাড়তি ব্যয়ের কারণে নতুন মেট্রোরেল নির্মাণ না করলে সরকার বদনামে পড়বে, এমনটাও আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। আগেই দেশে ঋণের বোঝা নিয়ে চলছে। এই বোঝার ভার আরও বেড়ে গেল। এখন দেশের মানুষ বহন করতে পারবে কীভাবে, সেটাই প্রশ্ন। তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে দেখা গেছে, উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের পথটি সবচেয়ে লাভজনক হবে। সেখানেই ব্যয় তোলা যাচ্ছে না।
এই অধ্যাপক আরও বলেন, জাইকা মেট্রোরেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ঠিকাদারও জাপানের, প্রযুক্তি তাদের, তদারকের দায়িত্বও জাপানের। তারা ঋণ দেয় জাপানি মুদ্রায় ইয়েনে। পণ্য কেনা হয় ওই দেশ থেকে। বাংলাদেশকে পরে ঋণ পরিশোধ করতে হয় ডলারে। এত দুর্বলতা রেখে প্রতিযোগিতামূলক দরে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা আরো জোরদার ও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি ফিক্সড-উইং (সাধারণ বিমান), রোটারি-উইং (হেলিকপ্টার) এবং চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরপেক্ষ সংস্থা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেটের প্রতিটি পূজামণ্ডপে আতশবাজি কিংবা দর্শনার্থী বা স্থানীয় মানুষের বিরক্তি বা উদ্বেগ সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।