প্রতিবছর ২০-২২ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু শুধু পুরোনো কয়েকটি খাতের ওপর আর কত দিন? নতুন কাজ, ব্যবসা আর ডলার আনার রাস্তা খুঁজতে হবে। সেই রাস্তার একটি হতে পারে সিলভার ইকোনমি। সিলভার ইকোনমি কী? চীন, জাপান, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে কীভাবে এই অর্থনীতি কাজ করছে, তা নিয়ে লিখেছেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার
বিশ্ব এখন অনিশ্চিত সময় পার করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের টানাটানির সঙ্গে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। ২০২৫ সালে আইইউ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রোলান্ড ব্রান্ডটিয়েন তাঁর ইকোস অব দ্য নাইনটিন থার্টিজ: আ সায়েন্টিফিক কমপারেটিভ অ্যানালাইসিস অব প্রি-ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু ডায়নামিকস অ্যান্ড কনটেমপোরারি জিওপলিটিকস গবেষণাপত্রে বর্তমান সময়ের সঙ্গে ১৯৩০-এর দশকের কিছু মিল দেখিয়েছেন। ২৪ মার্চ ২০২৬-এ ওয়্যার্ড ম্যাগাজিনের ‘টেক সাপোর্ট’ প্রশ্নোত্তরে সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বলেন, পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ‘অস্বস্তিকর রকম কাছাকাছি’। তবে বড় যুদ্ধ হবেই—এটা নিশ্চিত নয়।
এই বদলে যাওয়া বিশ্বে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রতিবছর ২০-২২ লাখের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের ‘স্কিলিং আপ বাংলাদেশের ইয়ুথ ফর আ চেঞ্জিং জব মার্কেট’ এবং আইএলওর ২০২১ সালের ‘আ বুস্ট টু স্কিলস ট্রেনিং ইন বাংলাদেশ’—দুই লেখাতেই প্রায় একই হিসাব এসেছে।
তাহলে এত মানুষের কাজ আসবে কোথা থেকে? তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয়, চামড়া—এগুলো থাকবে। কিন্তু শুধু পুরোনো কয়েকটি খাতের ওপর আর কত দিন? নতুন কাজ, ব্যবসা আর ডলার আনার রাস্তা খুঁজতে হবে। সেই রাস্তার একটি হতে পারে সিলভার ইকোনমি।
নামটা শুনতে কঠিন, কিন্তু বিষয়টা সহজ। ধরুন, একজন মানুষের বয়স ৭০ বছর। তাঁর ডাক্তার, ওষুধ, নার্স বা কেয়ারগিভার লাগতে পারে। হাঁটার জন্য হুইলচেয়ার কিংবা নিরাপদে চলাফেরার ব্যবস্থাও দরকার হতে পারে।
কিন্তু তিনি শুধু রোগী নন। তিনি খাবার কেনেন, ব্যাংকে টাকা রাখেন, বিমা করেন, বেড়াতে যান, মোবাইল বা স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে এসব চাহিদা ঘিরে যে পণ্য, সেবা, প্রযুক্তি আর ব্যবসা গড়ে ওঠে, সহজ কথায় সেটাই সিলভার ইকোনমি।
এর মানে শুধু নার্স বা কেয়ারগিভার নয়। হোম কেয়ার, হাসপাতাল, রিহ্যাবিলিটেশন, বয়স্কদের উপযোগী বাড়ি, বিমা, পেনশন, পর্যটন, পরিবহন, হুইলচেয়ার, মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি, টেলিমেডিসিন, স্মার্ট হোম, পড়ে গেলে খবর দেওয়ার সেন্সর, এমনকি এআই দিয়ে স্বাস্থ্য দেখাশোনা ও কেয়ার রোবটও এর অংশ।
কারণটা সোজা—মানুষ বেশি দিন বাঁচছে, কিন্তু অনেক দেশে সন্তান হচ্ছে কম। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪’ বলছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে একজন নারী গড়ে ২ দশমিক ১টির কম সন্তান জন্ম দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মানুষের আয়ুও দীর্ঘ হচ্ছে। ফলে একদিকে মানুষ দীর্ঘ জীবন পাচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম তুলনামূলক ছোট হচ্ছে। তাই তাঁদের দেখাশোনা এবং অর্থনীতির কাজ চালানোর লোক পাওয়া অনেক দেশে কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইউরোপিয়ান কমিশনের ২০২১ সালে প্রকাশিত গবেষণা ‘গ্রিন পেপার অন এজিং’ বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতি পাঁচজনের প্রায় একজনের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। ২০৭০ সালের দিকে তা প্রায় প্রতি তিনজনে একজন হতে পারে। তখন একজন ৬৫ বছরের বেশি মানুষের বিপরীতে কাজ করার বয়সী মানুষ থাকবে দুজনের কম।
এর সঙ্গে আছে ‘বেবি বুমার’ প্রজন্ম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ, আমেরিকাসহ অনেক দেশে একসঙ্গে অনেক শিশুর জন্ম হয়েছিল। সেই প্রজন্ম এখন অবসরের বয়সে পৌঁছাচ্ছে। জার্মানির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা ডেস্টাটিস বলছে, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে তাঁদের বড় অংশ চাকরির বাজার ছাড়বেন। অথচ জায়গা পূরণের মতো নতুন প্রজন্ম তুলনামূলক ছোট।
তাই একদিকে সেবা নেওয়ার মানুষ বাড়ছে, অন্যদিকে তা দেওয়ার লোক পাওয়া কঠিন হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিবহন, বিমা ও প্রযুক্তিতে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২৬ আগস্ট ২০২৬-এর ‘হাউ এজিং কনজ্যুমারস আর রিশেপিং দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ লেখায় ওয়ার্ল্ড ডেটা ল্যাবের তথ্য দিয়ে বলেছে, বয়সী মানুষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি পণ্য ও সেবার বিশ্ববাজার এখন প্রায় ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি বছরে প্রায় ৭ শতাংশ হারে বড় হচ্ছে। একই সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ১৫ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। অথচ ২০২৬ সালে মোট ভোক্তা খরচের প্রায় ২৭ শতাংশ বা ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার তাঁদের হাত থেকে আসবে।
দুটো হিসাব আবার এক নয়। ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার হলো ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মোট কেনাকাটা ও খরচ। আর ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার হলো তাঁদের বিশেষ চাহিদা ঘিরে তৈরি পণ্য ও সেবার বাজার। অর্থাৎ তাঁরা শুধু চিকিৎসা বা পরিচর্যা নেওয়ার মানুষ নন; বড় এক ক্রেতাগোষ্ঠীও।
ইউরোপিয়ান কমিশনের ২০২১ সালের ‘সিলভার ইকোনমি’ পেজে এর আকার প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ইউরো বলা হয়েছে। আবার কমিশনের ‘ইউরোপিয়ান কেয়ার স্ট্র্যাটেজি’ বলছে, বর্তমান দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ধরে রাখতেই ২০৫০ সালের মধ্যে আরও ১৬ লাখের বেশি কর্মী যোগ করতে হবে।
জার্মানিতে ২০৪৯ সালে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার কেয়ার কর্মী দরকার হতে পারে। ডেস্টাটিসের ২০২৪ সালের হিসাবে, তারপরও ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৯০ হাজার লোকের ঘাটতি থাকতে পারে।
আমেরিকায় ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস বা বিএলএস-এর প্রক্ষেপণেও হোম হেলথ ও পার্সোনাল কেয়ার এইড পেশায় প্রতিবছর কয়েক লাখ কাজের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। এর সবই নতুন পদ নয়; অবসর, চাকরি ছাড়া ও নতুন কাজ মিলিয়ে এই সংখ্যা।
জাপানের মিনিস্ট্রি অব হেলথ, লেবার অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার ২০২৪ সালে জানিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার কেয়ার কর্মী ছিলেন। ২০২৬ সালে লাগবে প্রায় ২৪ লাখ, আর ২০৪০ সালে ২৭ লাখ ২০ হাজার। অর্থাৎ আরও প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার জন লাগবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট–কেডিআইয়ের গবেষক জংহিউন কওন ২০২৬ সালের ‘এল্ডারকেয়ার ওয়ার্কফোর্স: প্রজেকশনস অ্যান্ড পলিসি ইমপ্লিকেশনস’ গবেষণায় দেখিয়েছেন, এখনকার কাজের চাপ একই রাখতে ২০৩৩ সালে আরও প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার, আর ২০৪৩ সালে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার কর্মী লাগতে পারে। কেডিআই বিদেশি কর্মী আনার পথ সহজ করার পাশাপাশি কেয়ার রোবট ব্যবহারের কথাও বলছে।
এই পরিবর্তন দেখে বিভিন্ন দেশ শুধু কর্মীর ঘাটতি মেটানোর কথা ভাবছে না; নতুন ব্যবসাও ধরতে চাইছে। সবচেয়ে ভালো উদাহরণ চীন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে চীনের স্টেট কাউন্সিল ‘ডেভেলপিং দ্য সিলভার ইকোনমি অ্যান্ড ইমপ্রুভিং দ্য ওয়েল-বিয়িং অব দ্য এলডারলি’ নামে একটি জাতীয় নীতিপত্র প্রকাশ করে। সেখানে সিলভার ইকোনমিকে বড় সম্ভাবনার শিল্প হিসেবে দেখা হয়েছে।
চীন কী করতে চাইছে, সেটাই আসলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা বয়স্কদের উপযোগী পোশাক ও জুতা, খাবার, স্মার্ট হোম, স্মার্ট ঘড়ি ও পরিধানযোগ্য যন্ত্র, কেয়ার রোবট, স্মার্ট হুইলচেয়ার, পুনর্বাসন সরঞ্জাম তৈরির কথা বলছে। এর সঙ্গে বিমা ও আর্থিক সেবা, হোটেল-মোটেল এবং প্রবীণবান্ধব পর্যটনও রয়েছে। অর্থাৎ এখানে শুধু চাকরি নয়—কারখানা আছে, প্রযুক্তি আছে, রপ্তানি আছে, পর্যটন আছে, নতুন ধরনের সেবাও আছে।
অন্যদিকে ভারত প্রশিক্ষিত জেরিয়াট্রিক কেয়ারগিভার তৈরির জন্য সরকারি কর্মসূচি নিয়েছে। দেশটির মিনিস্ট্রি অব সোশ্যাল জাস্টিস অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্টের ‘ট্রেনিং অব জেরিয়াট্রিক কেয়ারগিভার্স’ কর্মসূচির উদ্দেশ্যই হলো বাড়তে থাকা চাহিদার বিপরীতে পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতি কমানো।
কেউ দক্ষ মানুষ তৈরি করছে, কেউ নতুন পণ্য বানাচ্ছে, কেউ প্রযুক্তিতে ঢুকছে, কেউ পর্যটন ও সেবা গড়ে তুলছে। অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতি ধরার রাস্তা একটাই নয়। মানুষ পাঠানো তার একটি পথ; পণ্য, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সেবা নিয়ে ঢোকাও আরেকটি বড় পথ।
ফিলিপাইনও অনেক আগে থেকেই জাপানের সঙ্গে ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট ব্যবহার করে নার্স ও কেয়ারগিভার তৈরি ও পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। সেখানে শুধু প্রশিক্ষণ নয়; জাপানি ভাষা শেখানো এবং গন্তব্য দেশের পেশাগত পরীক্ষার জন্যও কর্মীদের প্রস্তুত করা হয়।
এই উদাহরণগুলোর মধ্যে একটা মিল আছে। কেউ দক্ষ মানুষ তৈরি করছে, কেউ নতুন পণ্য বানাচ্ছে, কেউ প্রযুক্তিতে ঢুকছে, কেউ পর্যটন ও সেবা গড়ে তুলছে। অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এই অর্থনীতি ধরার রাস্তা একটাই নয়। মানুষ পাঠানো তার একটি পথ; পণ্য, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সেবা নিয়ে ঢোকাও আরেকটি বড় পথ।
বাংলাদেশকে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) আছে, নার্সিং শিক্ষা আছে, বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানও আছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–এনএসডিএর অধীনে বয়স্কদের কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণও হচ্ছে। সমস্যা হলো, এগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে; সিলভার ইকোনমিকে সামনে রেখে এক পরিকল্পনায় আনা হয়নি।
প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি জাতীয় টাস্কফোর্স। প্রবাসীকল্যাণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, শিল্প ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, এনএসডিএ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে বসাতে হবে। কোন দেশে কী ধরনের কর্মী, পণ্য ও সেবার চাহিদা আছে, সেটা দেখে একটি জাতীয় পরিকল্পনা করতে হবে।
নতুন প্রতিষ্ঠান বানানোরও দরকার নেই। বিদ্যমান কয়েকটি টিটিসিকে বিশেষায়িত কেয়ারগিভিং একাডেমিতে রূপান্তর করা যায়। সেখানে কেয়ারগিভিংয়ের সঙ্গে জাপানি, জার্মান, কোরীয়সহ প্রয়োজনীয় ভাষা ও গন্তব্য দেশের কাজের নিয়ম শেখাতে হবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব করে তাদের কারিকুলাম, প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মান যুক্ত করতে হবে, যাতে এখানকার সনদ বিদেশেও সহজে গ্রহণযোগ্য হয়।
ভালো প্রশিক্ষক ও ভাষাশিক্ষকের ঘাটতি আছে। রাতারাতি তা পূরণ হবে না। বিদেশে থাকা দক্ষ বাংলাদেশিদের অনলাইনে যুক্ত করা যেতে পারে। যাঁরা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা ও কাজের পরিবেশ জানেন, সরকার তাঁদের সম্মানী দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের ক্লাস নিতে পারে। এতে ভাষা শেখানোর পাশাপাশি বিদেশের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতাও দেশে আসবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানে জেরিয়াট্রিক কেয়ার, এল্ডার কেয়ার ম্যানেজমেন্ট ও রিহ্যাবিলিটেশনে অনার্স, মাস্টার্স, ডিপ্লোমা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের সুযোগ বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বাধা ও বিভিন্ন অংশীজনের স্বার্থে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো পুরোপুরি কাজে লাগছে না। প্রয়োজনীয় মান ও নিয়ন্ত্রণ রেখে এই সুযোগ উন্মুক্ত করার সময় এসেছে।
তবে পরিকল্পনাটা শুধু লোক পাঠানোয় আটকে থাকলে চলবে না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কারখানা, দক্ষতা ও বিদেশি ক্রেতার যোগাযোগ আগে থেকেই আছে। এগুলো কাজে লাগিয়ে বয়স্কদের উপযোগী পোশাক, বিশেষ জুতা ও ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরি করা যায়। পাশাপাশি ওষুধ, হালকা চিকিৎসা সরঞ্জাম, সহায়ক যন্ত্র, সফটওয়্যার ও ডিজিটাল সেবার বাজারও খুঁজতে হবে। প্রবীণবান্ধব পর্যটন, ওয়েলনেস ও রিহ্যাবিলিটেশন সেবার সুযোগও যাচাই করা যেতে পারে।
তাই কাজটা দুই পথে একসঙ্গে করতে হবে—আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানুষ তৈরি করে বিদেশে পাঠানো এবং বিদ্যমান শিল্পের শক্তি কাজে লাগিয়ে নতুন পণ্য ও সেবা নিয়ে এই বাজারে ঢোকা। সরকারের কাজ হবে দেশভিত্তিক চুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সনদের স্বীকৃতি, বিদেশি অংশীদার আনা এবং ব্যবসার পথ সহজ করা। অর্থাৎ সিলভার ইকোনমিকে শুধু শ্রমবাজার নয়; মানুষ, পণ্য ও সেবা মিলিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন শিকদার শিক্ষক ও গবেষক, রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়ার জন্য বিসিবিকে মেইল দিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জাগো নিউজকে এটি নিশ্চিত করেছেন। বিস্তারিত আসছে... এসকেডি/এমএমআর
কোমলমতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা, আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা বিকশিত করতে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেন জুবাইদা রহমান। পরে মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি। শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এখানে এসে একটি কথাই মনে পড়ছে, সেটা হলো—যেকোনো আকাঙ্ক্ষার জন্য মুক্ত আকাশই শেষ সীমানা। শিশু–কিশোররা আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে। কারণ, আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’শিশুদের উৎকর্ষ সাধনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও পরবর্তী সময় কন্যাশিশুদের জন্য বিনা মূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এই শিশুদের উৎকর্ষ সাধনের জন্যই স্থাপিত হয়েছিল শিশু একাডেমি। পরবর্তী সময় কন্যাশিশুদের উচ্চতর স্তরে লেখাপড়া অবৈতনিক করা হয়। নতুন কুঁড়ির মতো সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলাবিষয়ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুর জীবন অগণিত আকাশচুম্বী ভাবনায় ভরপুর। শুধু চায় সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থা, তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বন্দোবস্ত ও সবুজ খোলা মাঠে প্রকৃতির মধ্যে খেলাধুলা, বিচরণের সুযোগ, যেকোনো ব্যাধির চিকিৎসার নিশ্চয়তা আমাদের সবার সৃষ্টি করতে হবে। যেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়, উপজেলায়, ৫৯৯টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯০টি গ্রামের কোনো শিশু–কিশোর অবহেলায় ঝরে না পড়ে। প্রত্যেক শিশু যেন তার অভিভাবক ও পরিবারের কাছে সুরক্ষিত থাকে।’শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেলে শিশুরা তাদের অসীম প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। দলগতভাবে যেকোনো সাফল্য অর্জন ও খেলাধুলার মানসিকতা তাদের পরবর্তী সময় দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শক্তি ও মনোবল জোগাবে।’জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শিশুরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রিয় ও মূল্যবান সম্পদ। তাদের সবার মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্ন—নীল আকাশে ডানা মেলে উড়বে। তাদের ইচ্ছা—আকাশচুম্বী মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’জুবাইদা রহমান আরও বলেন, ‘শিশুরা আজ প্রমাণ করেছে—সবাই মিলে একসঙ্গে কিছু সার্থক করার পরিচয়। যেটি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জরুরি। এই শিক্ষায় তাদের পরবর্তী সময় সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মনোবল ও শক্তি জোগাবে। তোমরাই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে।’অনুষ্ঠানে নারীদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) ভূমিকা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৫১ শতাংশ নারী জনসংখ্যার উন্নয়নে বাফওয়ার এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্পের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অভিনব। তিনি গোল্ডেন ঈগল স্কুলের ছাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানান এবং তাদের সম্ভাবনার শীর্ষে পৌঁছানোর শুভকামনা জানান।বক্তব্যের আগে জুবাইদা রহমান ব্লু স্কাই স্কুল পরিদর্শন শেষে স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও ‘বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারি’র শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা জুবাইদা রহমানের সামনে গান, নৃত্য, ফ্যাশন শোসহ নানা পারফরম্যান্সে অংশ নেয়। এ সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও থেরাপির সুবিধা প্রদানসহ নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বাফওয়ার মানবিক উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান।পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করে ব্লু স্কাই স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা।বাংলাদেশ বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি ও আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের পক্ষ থেকে জুবাইদা রহমানের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও বিশেষ উপহার হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ছবি তুলে দেওয়া হয়।পরে বাফওয়া কর্মসূচি ও ব্লু স্কাই স্কুলের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি ও আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের সভানেত্রী সালেহা খান। আরও বক্তব্য দেন ব্লু স্কাই স্কুলের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (পিএসসি)।অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনীর প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভানেত্রীরা, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশার শাখার প্রতিনিধিরা ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তখন গভীর রাত। সড়কের তিন রাস্তার মোড়ে সাদা কাপড়ের (কাফনের কাপড়) পুটলি রাখা। তার পাশে জ্বলছে মোমবাতি। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুটলিটি দেখতে পেয়ে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুটলিটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ-ফিলিপনগর সড়কের মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ স’মিল পাড়ার স’মিল সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সড়কের ওপর সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটি পুটলি পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। কাপড়ের গায়ে রক্তের মতো লাল দাগ ছিল। পুটলির ভেতরে সিঁদুর, একটি পুতুল ও মাটির তৈরি কিছু জিনিসপত্র ছিল বলে জানান তারা। পুটলিটির পাশে একটি মোমবাতিও জ্বলছিল। গভীর রাতে এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা হুসাইন আহম্মেদ বলেন, ‘রাতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তার মোড়ে দেখি একটি সাদা পুটলিকে ঘিরে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। পরে পুলিশ এসে পুটলিটি সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় আতংক তৈরি হয়।’ আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, ‘হয়তো কেউ কালোজাদু করে এসব রেখে যেতে পারে। তবে ঘটনা দেখে অনেকেই রাতে ভয় পেয়েছেন।’ পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুটলিটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়। তবে কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব জিনিস সেখানে রেখে গেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, কেউ আতংক তৈরি করতে এমনটি করে থাকতে পারেন। কালোজাদু বা কুফরিও হতে পারে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুটলিটি সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’ আল-মামুন সাগর/এসআর/জেআইএম