বিদ্যালয়ে মুঠোফোন আনার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সঙ্গে করে মুঠোফোন আনে। পরে ফোনটি জব্দ করে হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেন এক শিক্ষক। গতকাল সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির একটি ভিডিওচিত্র গতকাল রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মুঠোফোন মাটিতে রেখে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভাঙছেন। এ সময় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে দেখছিল। ফোনটি ভাঙার সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ওই শিক্ষক বলেন, ‘নেক্সটে ফোন আনতে চাইলে এইটার কথা চিন্তা কইরো।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে ৯ সেপ্টেম্বর একটি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে চুল কাটার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে মুঠোফোন নিয়ে এলে সেটি বিনষ্ট করার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে নোটিশটি সব শিক্ষককে পড়ে শোনানো হয় এবং শিক্ষার্থীদেরও জানিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী রাখা এবং বিদ্যালয়ে মুঠোফোনের ব্যবহার বন্ধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর সেটি কার্যকর করতেই শরীফ হোসেন নামের এক শিক্ষক মুঠোফোনটি ভেঙে ফেলেন বলে জানা গেছে।
ফোন ভাঙা প্রসঙ্গে শিক্ষক শরীফ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ে মুঠোফোন আনা নিষেধ। এ বিষয়ে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর কাছে ফোন পাওয়া যায়। তাই নোটিশ অনুযায়ী ফোনটি প্রকাশ্যে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্য শিক্ষার্থীরা সতর্ক হয়।’
তবে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, শিক্ষক মুঠোফোনটি হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে ফেলে ঠিক করেননি। মুঠোফোনটি জব্দ করে অভিভাবকে বিষয়টি জানাতে পারতেন এবং সতর্ক করতে পারতেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কবিতা, সংগীত ও চিরন্তন সৃষ্টিকে স্মরণ করে ঢাকার রাশিয়ান হাউস এবং ভারতের কলকাতায় ‘ছায়ানট’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হল বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে। স্বাগত বক্তব্যে ঢাকার রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকসান্দ্রা এ খলেভনয় কাজী নজরুল ইসলামকে এমন এক কালজয়ী কবি হিসেবে অভিহিত করেন, যাঁর রচনা ধর্ম, শ্রেণি, ভাষা, ভূগোল ও সময়ের সীমানা অতিক্রম করে সাম্য, স্বাধীনতা, প্রেম, মানবিকতা ও আশার কথা বলে। নজরুলের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে রাশিয়ান ও সোভিয়েত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় সাহিত্যের মূল সুর স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সাহস ও মানবমর্যাদা।নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.comঅনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নজরুলের ওপর সোভিয়েত ও রাশিয়ান সাহিত্যের প্রভাব নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা। মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের (কলকাতা) সভাপতি ও নজরুল–গবেষক সোমঋতা মল্লিক।একই সাথে রাশিয়ান হাউসের ‘রাশিয়ান ভাষা কোর্স’-এর শিক্ষার্থীরা রাশিয়ান ভাষায় নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করে বাংলাদেশের জাতীয় কবির সৃষ্টিকে ভিন্ন এক ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলেন। ভারতের কলকাতায় ‘ছায়ানট’-এর সংস্কৃতিবিষয়ক ভিডিও পরিবেশনায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় নজরুলের নির্বাচিত কবিতা উপস্থাপন করা হয়। কাজী নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী, মধুমিতা বসু, নিবেদিতা নাগ তহবিলদার ও ইন্দ্রাণী লাহিড়ীর কণ্ঠে নজরুলের কবিতার ভিডিও উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। নবনীতা লাহিড়ী ও সুপ্রীতি চক্রবর্তীর কণ্ঠে ইংরেজি ভাষায় কবিতা শোনানো হয়।সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং এমজিআইএমও (MGIMO) বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়ান গ্র্যাজুয়েট—যাঁরা বাংলা ভাষা শিখেছেন, তাঁদের এবং বর্তমানে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যৌথ ভিডিও পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে আরও অর্থবহ করে তোলে।মনোরম এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয় নজরুলসংগীত ও নৃত্য। ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে’ ও ‘এই রাঙা মাটির পথে লো’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা করেন প্রমিতা বর্মণ।পাশাপাশি ‘সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস’-এর শিশুশিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল একটি চমৎকার দলগত নৃত্য।‘বর্তমান বিশ্বে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা করেন দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন আবরার খান রিদম। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন আঙ্গিকের চারটি নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন সোমঋতা মল্লিক। তাঁর কণ্ঠে ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব’ গানটি অন্য মাত্রা পায়। অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে রাশিয়া ও ভারতের সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে তুলে ধরে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিচার, আসামিরা ইচ্ছাকৃত পতালক থাকলে আইনের যে বিধান অনুযায়ী বিচার সম্পন্ন হয়, সে অনুযায়ী হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বিস্তারিত ভিডিওতে....
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে পরিচালিত পল্লী কর্মসংস্থান সহয়তা কর্মসূচি (ইরেসপো) পরিচালনার জন্য ৩টি পদে ১৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। খুলনা বিভাগের স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদনের সুযোগ পাবেন। এক নজরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬পদের বিবরণ আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ৯টা আবেদনের শেষ তারিখ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন পদ্ধতি: অফলাইনে চাকরির ধরন: অস্থায়ী প্রার্থীর ধরন: নারী - পুরুষ। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই খুলনা বিভাগের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কর্মস্থল: খুলনা বিভাগ বয়স: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সর্বনিন্ম ১৮ এবং সর্বোচ্চ ৩৫ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদন পাঠানোর ঠিকানা: যুগ্মপরিচালক, যুগ্মপরিচালকের কার্যালয়, বিআরডিবি, খুলনা বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভবন, ৯তলা (পূর্ব পাশ্বে), বয়রা, খুলনা-৯০০০। আবেদনপত্র সরকারি ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। আবেদনপত্রের খামের উপর অবশ্যই পদের নাম এবং মোবাইল নাম্বার উল্লেখ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদন ফি: ইরেসপো বিআরডিবি খুলনা ডিভিশন শিরোনামে জনতা ব্যাংক, নূরনগর শাখা, খুলনা এর অনুকূলে ১ নং পদের জন্য ২০০ টাকা এবং ২-৩ নং পদের জন্য ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট/এমআইসিআর পে-অর্ডার পাঠাতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে টাকা জমার রশিদ অবশ্যই পাঠাতে হবে। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ