জাতীয়

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায়

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায়
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে চাকরি পাওয়ার সহজ উপায়

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান রোধ এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সর্বপ্রাচীন আধাসামরিক বাহিনী। প্রতি বছর ২০ ডিসেম্বর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিবস উদযাপিত হয়। ২০১৬ সালে এই বাহিনীতে সর্বপ্রথম নারী সৈনিক যুক্ত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিজিবি পরিচালিত হয়। শারীরিক ফিটনেস এবং কিছু যোগ্যতা থাকলে আপনিও পেতে পারেন বিজিবিতে সিপাহী (জিডি) পদে চাকরির সুযোগ। শারীরিক ফিটনেস, যোগ্যতা, বিজিবিতে চাকরির সুযোগ-সুবিধাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মূল কাজ কী?

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মূল কাজ হলো বাংলাদেশের সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ করা। শান্তি ও যুদ্ধকালীন সময়ে বিজিবির প্রধান দায়িত্বগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • সীমান্ত পাহারা: বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা।
  • অপরাধ দমন: সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক পাচার এবং নারী ও শিশু পাচার রোধ করা।
  • আইনশৃঙ্খলা রক্ষা: দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যে কোনো সংকটে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করা।
  • যুদ্ধকালীন ভূমিকা: যুদ্ধ বা জাতীয় সংকটের সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আধা-সামরিক বাহিনী হিসেবে কাজ করা।
  • অন্যান্য দায়িত্ব: সরকার কর্তৃক সময় সময় অর্পিত অন্য যে কোনো দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করা।

এছাড়াও শান্তিকালীন সময়ে দূরবর্তী ও বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে সরকারি কর্তৃত্ব বজায় রাখা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে প্রশাসনকে সহায়তা করা বিজিবির অন্যতম নিয়মিত কর্তব্য। 

আরও পড়ুন

সেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সিপাহী (জিডি) পদে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রধান প্রধান যোগ্যতা

বিজিবির নির্বাচন প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়

১. প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা
২. লিখিত পরীক্ষা
৩. চূড়ান্ত মেডিকেল পরীক্ষা
৪. মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) 

বিজিবিতে সিপাহী (জিডি) পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সিপাহী (জিডি) পদে নিয়োগের জন্য প্রথমে শারীরিক ও প্রারম্ভিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এরপর লিখিত পরীক্ষা এবং সর্বশেষ ব্যবহারিক ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা নেওয়া হয়।

শারীরিক ও প্রারম্ভিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা

সিপাহী (জিডি) পদের জন্য মাঠ পর্যায়ে শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার ধাপগুলো বিস্তারিত দেওয়া হলো:-

  • দৌড়: নির্দিষ্ট দূরত্বের দৌড় (সাধারণত ১০০ মিটার এবং ১৬০০ মিটার বা নির্ধারিত সময়ে দীর্ঘ দৌড়)।
  • লাফ ও পুশ-আপ: হাই জাম্প, লং জাম্প এবং পুশ-আপ বা শারীরিক কসরত।
  • শারীরিক মাপ: উচ্চতা, ওজন এবং বুকের মাপ সঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা হয়।
  • নক-নি: দুই হাঁটু একে অপরের সাথে লেগে যায় কিনা (নক-নি সমস্যা)।
  • ফ্ল্যাট ফুট: পায়ের তলা সম্পূর্ণ সমান বা চেপ্টা কি না।
  • অন্যান্য শারীরিক ত্রুটি: হাত বা আঙুল কাটা, বাঁকা বা অতিরিক্ত আঙুল এবং বাহু বা পায়ে বড় কোনো ক্ষত বা হাড়ের সমস্যা আছে কি না।

ইন্দ্রিয় ও বিশেষ পরীক্ষা

  • দৃষ্টিশক্তি: সাধারণত ৬/৬ দৃষ্টিশক্তি প্রয়োজন হয়। দূরের ও কাছের লেখা পড়া এবং চোখ ট্যারা আছে কি না তা দেখা হয়।
  • বর্ণান্ধতা: রঙ চেনার ক্ষমতা ঠিক আছে কি না (ইশিহারা চার্ট দিয়ে পরীক্ষা করা হয়)।
  • শ্রবণশক্তি: কানে কম শোনার সমস্যা বা কানে পুঁজ/পানি পড়ার মতো কোনো রোগ আছে কি না।
  • দাঁত: মাড়ির সুস্থতা এবং চর্বণ উপযোগী পর্যাপ্ত দাঁত আছে কি না।

শারীরিক উচ্চতা:

পুরুষ প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা

  • উচ্চতা: সাধারণ ও অন্যান্য পদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (১.৬৮ মিটার); ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৬৩ মিটার)।
  • বুক: সাধারণ প্রার্থীদের স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি এবং স্ফীত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি।
  • ওজন: সাধারণ পুরুষ প্রার্থীদের জন্য কমপক্ষে ৪৯.৮৯৫ কেজি (১১০ পাউন্ড) এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রার্থীদের জন্য ৪৭.১৭৩ কেজি (১০৪ পাউন্ড)

নারী প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা

  • উচ্চতা: সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৫৭৪ মিটার); ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট (১.৫২৪ মিটার)।
  • বুক: বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি।
  • ওজন: কমপক্ষে ৪৭.১৭৩ কেজি (১০৪ পাউন্ড) বা প্রার্থীর উচ্চতা অনুযায়ী উপযুক্ত শারীরিক ওজন।

অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:

  • বয়সসীমা: নারী-পুরুষ উভয় প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত নয়)।
আরও পড়ুন

নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

 

বিজিবিতে সিপাহী (জিডি) পদে নিয়োগ পেতে লিখিত পরীক্ষা

বিজিবিতে নিয়োগ পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ সিপাহী (জিডি)। এই পদে আবেদনের জন্য পুরুষ ও মহিলা উভয় প্রার্থীকেই এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ-৩ এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ-২.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।

লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহী (জিডি) পদে লিখিত পরীক্ষা সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান—এই চারটি বিষয়ের ওপর মোট ১০০ নম্বরের হয়ে থাকে। পরীক্ষার প্রশ্ন সাধারণত এসএসএসসি বা সমমান স্তরের হয়ে থাকে। এই চারটি বিষয়ে এসএসসির সিলেবাস অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত প্রস্তুতি নিতে হবে।

বাংলা (২৫ নম্বর)

ব্যাকরণ: কারক-বিভক্তি, সমাস, সন্ধি, প্রত্যয়, উপসর্গ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ, শুদ্ধ বানান ও বাক্য সংকোচন।

সাহিত্য ও রচনা: অনুচ্ছেদ লিখন বা ছোট আকারে ভাবসম্প্রসারণ/সারসংক্ষেপ।

ইংরেজি (২৫ নম্বর)

গ্রামার: পার্টস অফ স্পিচ, টেনস, সাবজেক্ট- ভার্ব এগ্রিমেন্ট, প্রিপজিশন, ভয়েস চেঞ্জ, ন্যারেশন।

ভোকাবুলারি অ্যান্ড কম্পোসিশন: অ্যাপ্রোপ্রিয়েট ওয়ার্ড, সিনোনিম-এন্টোনিম, কারেকশন, ট্রান্সলেশন (বাংলা টু ইংলিশ অ্যান্ড ইংলিশ টু বাংলা) এবং সিম্পল প্যারাগ্রাফ রাইটিং।

গণিত (২৫ নম্বর)

পাটিগণিত: ঐকিক নিয়ম, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদকষা (সরল সুদ), অনুপাত-সমানুপাত, গড়, কাজ ও সময়।

বীজগণিত: উৎপাদক নির্ণয়, সূচক ও লগারিদম, মান নির্ণয় এবং সাধারণ সমীকরণ।

জ্যামিতি: রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্ত সম্পর্কিত সাধারণ ধারণা, পিথাগোরাসের উপপাদ্য এবং ক্ষেত্রফল ও পরিসীমা নির্ণয়।

সাধারণ জ্ঞান (২৫ নম্বর)

বাংলাদেশ বিষয়াবলি: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহাসিক স্থান ও ভাষা আন্দোলন, সংবিধানের প্রাথমিক ধারণা, ভৌগোলিক পরিচিতি ও বাংলাদেশের অর্জন।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর রাজধানী, মুদ্রা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনাবলি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও সাধারণ তথ্য। 

চূড়ান্ত মেডিকেল পরীক্ষা 

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিভিন্ন ল্যাব টেস্টের (রক্ত, প্রস্রাব, এক্স-রে ইত্যাদি) মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কোনো জটিল রোগ আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।

আরও পড়ুন

আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে

মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা

মেডিকেল টেস্টে সফল প্রার্থীরা ভাইভা বোর্ডে মুখোমুখি হন। এখানে প্রার্থীর বাচনভঙ্গি, মানসিক দক্ষতা, দেশপ্রেম ও সাধারণ বুদ্ধিমত্তা যাচাই করা হয়। সকল ধাপের নম্বর যোগ করে চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়।

মৌখিক পরীক্ষায় মূলত প্রার্থীর সাধারণ জ্ঞান, মানসিক দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা এবং ব্যক্তিত্ব যাচাই করা হয়। এই পরীক্ষার মূল দিকগুলো হলো:

  • ব্যক্তিগত পরিচিতি: নিজের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরিবার এবং নিজ জেলা সম্পর্কে ধারণা।
  • সাধারণ জ্ঞান ও বিজিবি সম্পর্কিত: বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, জাতীয় বিষয়াবলি এবং বিজিবির ইতিহাস, দায়িত্ব, বর্তমান মহাপরিচালক ও সদর দপ্তর সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞান।
  • সংশ্লিষ্ট বিষয়: বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাধারণ কথোপকথন বা ছোট প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দক্ষতা।
  • মানসিক সক্ষমতা: উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। 

বিজিবিতে সিপাহী (জিডি) পদে নিয়োগের সময় যা যা সঙ্গে আনতে হয়

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহী (জিডি) পদে নিয়োগ বা মাঠ পরীক্ষার সময় (প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য ধাপে) যেসব কাগজপত্র ও জিনিসপত্র সঙ্গে রাখতে হয়:

মূল প্রবেশপত্র ও ফরম

অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা বিজিবি প্রদত্ত প্রবেশপত্র (অ্যাডমিন কার্ড)।
বিজিবির ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে পূরণকৃত প্রার্থীদের তথ্যাদির ফরম।

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ

  • এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার মূল সনদপত্র বা প্রভিশনাল সার্টিফিকেট এবং নম্বরপত্র (মার্কশিট)।
  • সংশ্লিষ্ট স্কুল/কলেজের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত প্রশংসাপত্র (যেটিতে জন্মতারিখ ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ থাকতে হবে)।

ব্যক্তিগত ও অন্যান্য সনদ

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ।
  • ইউপি চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র/ওয়ার্ড কমিশনারের দেওয়া স্থায়ী নাগরিকত্ব সনদ ও চারিত্রিক সনদ।
  • অবিবাহিত সনদপত্র (চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত)।
  • অভিভাবকের অনুমতিপত্র বা সম্মতিপত্র।

ছবি ও অন্যান্য

  • সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ বা নির্দিষ্ট ল্যাব প্রিন্ট করা রঙিন ছবি (সাধারণত ১১ কপি সত্যায়িত ও অসত্যায়িত ছবি লাগে)।
  • প্রথম শ্রেণির কার্মকর্তার স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। পরীক্ষার মাঠে কলম, পেন্সিল ও ক্লিপবোর্ড সঙ্গে রাখা ভালো।
আরও পড়ুন

শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর গবেষণার ১০টি মৌলিক ধাপ

বিজিবিতে সিপাহী (জিডি) পদে নিয়োগ পরীক্ষার স্থান

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সিপাহী (জিডি) পদে নিয়োগ পরীক্ষার নির্দিষ্ট স্থান, তারিখ ও সময় আগে থেকে সুনির্দিষ্ট থাকে না। বরং প্রার্থীদের আবেদন সম্পন্ন করার পর তা পরবর্তীতে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।

  • পরীক্ষার স্থান: আপনি যে জেলা থেকে আবেদন করবেন, সেই জেলার নির্ধারিত বিজিবি ব্যাটালিয়ন বা নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
  • প্রবেশপত্র ও নোটিশ: পরীক্ষার ভেন্যু এবং তারিখ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে এবং বিজিবি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

বিজিবিতে সিপাহী (জিডি) পদে চাকরির সুযোগ-সুবিধা ও ক্যারিয়ার

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সিপাহী (জিডি) পদে জাতীয় বেতন স্কেলের পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাসস্থান, রেশন, সীমান্ত ভাতা, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়।

চাকরির সুযোগ-সুবিধা

  • বেতন স্কেল: ৯,০০০ – ২১,০০০ টাকা (গ্রেড-১৭)।
  • রেশন: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুষ্টিকর খাদ্য বা রেশন সুবিধা।
  • বাসস্থান ও বাড়িভাড়া: নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাসস্থান অথবা নীতিমালা অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা।
  • চিকিৎসা সুবিধা: সদস্য ও তাদের পরিবারর জন্য ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ সেবা।
  • পোশাক-পরিচ্ছদ: চাকরির প্রয়োজনে ইউনিফর্ম ও অন্যান্য পোশাক বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
  • অন্যান্য ভাতা: চাকরির নীতিমালা অনুযায়ী ঝুঁকি ভাতা, উৎসব বোনাস ও অন্যান্য সরকারি ভাতা।
  • জাতিসংঘ শান্তি মিশন: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো বিজিবি সদস্যদেরও জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে; যা অর্থনৈতিক ও পেশাগতভাবে অত্যন্ত লাভজনক।
  • পদোন্নতি: যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সিপাহী থেকে ল্যান্স নায়েক, নায়েক, হাবিলদার, নায়েব সুবেদার এবং সুবেদার মেজর পর্যন্ত পদোন্নতির চমৎকার সুযোগ রয়েছে।
  • সন্তানদের শিক্ষা: বিজিবি পরিচালিত স্বনামধন্য স্কুল ও কলেজে সন্তানদের পড়াশোনার বিশেষ কোটা ও সুবিধা।

বিজিবিতে সিপাহী (জিডি) পদে কী কী সমস্যা থাকলে চাকরি হয় না?

প্রতিরক্ষা বা আধা-সামরিক বাহিনীতে শারীরিক সুস্থতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহী (জিডি) পদে শারীরিক, মেডিকেল ও অন্যান্য যোগ্যতার মাপকাঠিতে কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা বা ত্রুটি থাকলে প্রার্থীরা অযোগ্য বিবেচিত হন।

শারীরিক ও মাপের সমস্যা

  • উচ্চতা কম থাকা: সাধারণ পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং নারী প্রার্থীদের ৫ ফুট ২ ইঞ্চির কম হলে। (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পুরুষ ও নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতার শিথিলতা রয়েছে)।
  • ওজন কম বা বেশি হওয়া: নির্ধারিত উচ্চতার অনুরূপ শরীরের ওজন আদর্শ মাত্রা থেকে কম বা বেশি হলে।
  • বুকের মাপ কম হওয়া: পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি এবং প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চির কম হলে।

স্বাস্থ্য ও মেডিকেল সমস্যা

  • দৃষ্টিশক্তি ও চোখের সমস্যা: চোখে কম দেখা, কালার অন্ধত্ব, টেরাচোখ বা চোখের অন্য কোনো বড় জটিল রোগ থাকলে। সাধারণত দূরের দৃষ্টি ৬/৬ হতে হয়।
  • পা ও হাঁটুর সমস্যা: হাত বা পা কাটা/ভাঙা অথবা বাঁকা হাড়, চ্যাপ্টা পা কিংবা হাঁটু একত্রে লেগে যাওয়া সমস্যা থাকলে।
  • হাতের সমস্যা: হাত কাঁপা, কনুই অতিরিক্ত বাঁকা হওয়া অথবা আঙুলে কোনো ত্রুটি থাকলে।
  • দাঁতের সমস্যা: মাড়ি ও দাঁতের মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর অবস্থা বা ফ্রন্টাল দাঁতের বড় ধরনের ত্রুটি থাকলে।
  • শ্রবণ সমস্যা: কানে কম শোনা বা কানের পর্দায় ছিদ্র ও পুঁজ পড়ার সমস্যা থাকলে।
  • জটিল রোগ: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাঁপানি, মৃগী রোগ অথবা বড় কোনো অভ্যন্তরীণ বা সংক্রামক রোগ (যেমন হেপাটাইটিস বা যক্ষ্মা) থাকা।
  • অন্যান্য: শরীরে অতিরিক্ত বা স্পষ্ট জন্মগত কাটা-ছেঁড়ার দাগ, শরীরের অপ্রয়োজনীয় স্থানে বড় কাটা দাগ বা ট্যাটু থাকলে।

অন্যান্য কারণ

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ৩ এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.৫০ না থাকলে।
  • আইনি সমস্যা: প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড বা আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলা থাকলে।
  • তথ্য গোপণ: স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা পুলিশ ভেরিফিকেশনে ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদান করলে।
  • বৈবাহিক অবস্থা: সিপাহী পদে আবেদনের সময় প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে। 
আরও পড়ুন

তরুণ বয়সেই গড়ে উঠুক ভবিষ্যতের ভিত্তি

বিজিবিতে সিপাহীদের (জিডি) ট্রেনিং

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নির্বাচিত সিপাহী (জিডি) বা রিক্রুটদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সাধারণত ২৪ সপ্তাহ অথবা প্রায় ৬ মাসব্যাপী হয়ে থাকে।

প্রশিক্ষণের স্থান ও বিবরণ

  • প্রশিক্ষণ কেন্দ্র: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে এই মৌলিক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়।
  • প্রশিক্ষণের মেয়াদ: সাধারণত ২৩ থেকে ২৪ সপ্তাহ ধরে অত্যন্ত কঠোর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শারীরিক ও কৌশলগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
  • অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ: সীমান্ত রক্ষা, অস্ত্র চালনা, ট্যাকটিকস বা যুদ্ধ কৌশল, শারীরিক কসরত, মানচিত্র পঠন (ম্যাপ রিডিং), বিজিবির আইন ও বিধিমালা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে হাতে-কলমে ও তাত্ত্বিক শিক্ষা দেওয়া হয়।
  • সমাপ্তি: কঠোর প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা শেষে শপথ গ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজের (প্যারেড) মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক সৈনিক জীবন শুরু হয়।

বিজিবিতে সিপাহী (জিডি) পদে আবেদন প্রক্রিয়া

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সিপাহী (জিডি) পদে আবেদনের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং অনলাইন ভিত্তিক।

বিজিবিতে সিপাহী (জিডি) পদে আবেদন করার ধাপসমূহ

  • ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে বিজিবির অফিসিয়াল নিয়োগ ওয়েবসাইটে জয়েন বর্ডার গার্ড প্রবেশ করতে হবে।
  • নিবন্ধন ও ফরম পূরণ: ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট লিংকে ক্লিক করে আবেদন ফরমটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে।
  • স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার: আবেদনের সময় অবশ্যই প্রার্থীর নিজস্ব পৈতৃক স্থায়ী ঠিকানা (নিজ জেলা) ব্যবহার করতে হবে। কোনো ভাড়া বাসা বা অস্থায়ী ঠিকানাকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
  • ইউজার আইডি সংগ্রহ: আবেদনপত্রটি সফলভাবে সাবমিট বা জমা দেওয়ার পর প্রার্থী একটি ইউজার আইডি পাবেন। এই আইডি এবং পাসওয়ার্ডটি ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করতে হবে।
  • আবেদন ফি প্রদান: টেলিটক প্রিপেইড মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন ফি বাবদ ৫৬ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
  • অ্যাডমিন কার্ড/প্রবেশপত্র ডাউনলোড: আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলে পরীক্ষার পূর্বে অ্যাডমিন কার্ড/প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে।

বিশেষ সতর্কবার্তা: বিজিবি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই নিয়োগ সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন, তদবির বা দালালের খপ্পরে পড়লে চাকরি তো হবেই না, উল্টো ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে। তাই কোনো প্রতারকের ফাঁদে না পড়ে নিজের যোগ্যতার ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

দেশমাতৃকার টানে এবং বীরত্বের সাথে জীবন গড়তে বিজিবি তরুণদের জন্য এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। সঠিক প্রস্তুতি এবং শারীরিক ফিটনেস ধরে রাখতে পারলে চলমান ব্যাচেই যুক্ত হতে পারে আপনার নাম।

এমআইএইচ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মেট্রোরেলের তারে কাপড়, ৪০ মিনিট মতিঝিল-উত্তরা রুটে যাত্রী পরিবহন বন্ধ
মেট্রোরেলের তারে কাপড়, ৪০ মিনিট মতিঝিল-উত্তরা রুটে যাত্রী পরিবহন বন্ধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় মেট্রোরেলের লাইনের তারে কাপড় পড়ায় প্রায় ৪০ মিনিট মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। তবে এ সময় উত্তরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। আরও পড়ুন গাবতলী থেকে হাতিরঝিলের নিচ দিয়ে দাশেরকান্দি যাবে মেট্রোরেল মেট্রো চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএল সূত্র এসব তথ্য জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, কাপড়টি লাইন থেকে সরানোর পর লাইনের মেকানিক্যাল বিষয়গুলো চেক করা হয়। পরে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে উভয় রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিন্তু মেট্রোরেলের তারের ওপর পড়া ওই কাপড় কীভাবে কোথা থেকে আসলো তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এমএমএ/এমএমকে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সিলেটে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট বিএনপির একাংশের

সিলেটে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট বিএনপির একাংশের

পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৩৫ বছর বয়সেও সরকারি চাকরি

পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৩৫ বছর বয়সেও সরকারি চাকরি

ঢাবির ‘কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণের বক্তব্য নিয়ে জিএস ফরহাদের প্রশ্ন

ঢাবির ‘কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণের বক্তব্য নিয়ে জিএস ফরহাদের প্রশ্ন

হাতকড়াসহ আ.লীগ নেতা পালানোর ঘটনায় মামলা, ওসি ক্লোজড
হাতকড়াসহ আ.লীগ নেতা পালানোর ঘটনায় মামলা, ওসি ক্লোজড

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়া পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে শোকজও করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানার এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। রেনু মিয়া ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে। মামলার এজাহারে নাম থাকা আসামিরা হলেন- ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রেনু মিয়া (৪৮), মনির হোসেন, সজিব মিয়া, মো. তারেক, তাহমুদা বেগম, রাবিয়া বেগম, তামান্না বেগম, পাখি বেগম, সামিকা বেগম, সেলিনা বেগম, সুফিয়া বেগম, ইতি আক্তার (২৩), সাদিয়া (২০), আকলিমা আক্তার (২৬) ও রত্না (৩০)। আরও পড়ুন হাতকড়াসহ পালানো আ’লীগ নেতা ৮ ঘণ্টা পর আটক পুলিশ সূত্র জানায়, পরে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াসহ গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দুই হাতে হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেন। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। ঘটনার পর রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মাধবদী এলাকায় তাকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। এদিকে রেনু মিয়াকে গ্রেফতারের পর তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের মধ্যে ইতি আক্তার, সাদিয়া, আকলিমা আক্তার ও রত্নাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। অন্য তিন নারীর বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় এসআই শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তারা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। হাতকড়াসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে শোকজও করা হয়েছে। এসকে রাসেল/এসজেডএইচ/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে যা বললো ভারত

তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে যা বললো ভারত

সেলুনে কাটাচ্ছিলেন চুল, হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি, চাপাতি দিয়ে কোপ

সেলুনে কাটাচ্ছিলেন চুল, হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি, চাপাতি দিয়ে কোপ

জুলাই শহীদের তালিকা থেকে শাহিদুল আলমের গেজেট বাতিল

জুলাই শহীদের তালিকা থেকে শাহিদুল আলমের গেজেট বাতিল

২০০৩ সাফ, ২০১০ এসএ গেমস স্বর্ণজয়ী দলের জন্য আসছে বড় পুরস্কারের ঘোষণা!
২০০৩ সাফ, ২০১০ এসএ গেমস স্বর্ণজয়ী দলের জন্য আসছে বড় পুরস্কারের ঘোষণা!

খেলাপ্রেমী মাত্রই জানেন, বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলকিপারও। আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০১০ সালে ঢাকায় হওয়া এসএ গেমস ফুটবলে এই আমিনুল হকের নেতৃত্বেই ভারতকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর সেই এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী সতীর্থ ফুটবলারদের সাথে অনেকটা সময় কাটালেন সেই সাফল্যের মিশনের অধিনায়ক ও আজকের ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনের পাঁচতলায় সেই সতীর্থ ফুটবলারদের পাশে পেয়ে খুব প্রাণোচ্ছল আর হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেল আমিনুল হককে। হাসিমুখে ১৬ বছর আগের সহযোদ্ধাদের বরণ করে নেয়া ক্রীড়ামন্ত্রী আগামীতে ২০০৩ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১০ সালের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী ফুটবল দলকে একটা ভালো কিছু উপহার দেয়ার কথা ভাবছেন। আজ মঙ্গলবার এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের একাধিক সদস্য ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে পুরস্কার, সম্মাননা ও স্মারক চাইলে আমিনুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানাবো। অবশ্যই আমিও চাই আমাদের ফুটবলে দুটি স্বর্ণালী সাফল্য উপহার দেয়া দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে।’ তবে কী দেয়া যায়? তাৎক্ষণিকভাবে তা না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে কথা বলে তারপর ঘোষণার কথা বলেন আমিনুল হক। বলে রাখা ভালো, এখন যিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া), সেই জাহিদ পারভেজও ওই এস এ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য। দেশের ফুটবল ইতিহাসের দুই বড় তারকা মামুনুল হক আর জাহিদ হাসান এমিলি জানিয়ে দিলেন, জাহিদ পারভেজ ভাই-ই আমাদের (সেই ২০১০-এর এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের) ফুটবলারদের প্রিয় বড় ভাই ‘ক্যাপ্টেন’ এবং বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ভাইয়ের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের দুজনই অগ্রজপ্রতিম ফুটবলার জাহিদ পারভেজকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে অনেক কর্মব্যস্ততার মাঝেও এক সময়ের সতীর্থ ফুটবলারদের সাথে বসে সাফল্যের সেই সোনালী দিনের স্মৃতিচারণ করা ও সেই ফুটবল দলকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানোয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও দ্বিধা ছিল না মামুনুল ও এমিলির। দেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘আমরা অনেক ধরেই চাচ্ছিলাম আমাদের এসএ গেমসে স্বর্ণবিজয়ী দলের অধিনায়ক, ক্যাপ্টেন ও অগ্রজপ্রতিম আমিনুল ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে। অবশেষে জাহিদ পারভেজ ভাইয়ের উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় সেটা বাস্তব রূপ পেয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এজন্য আনন্দিত।’ ১৬ বছর আগে ঢাকা এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ের পেছনে বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভূমিকার কথা জানিয়ে এমিলি বলেন, ‘প্রথম কথা হলো আমাদের জাল ছিল নিশ্ছিদ্র। আমরা প্রতিপক্ষের জালে ৪ গোল করলেও একটি গোলও হজম করিনি। আমিনুল ভাই গোলপোস্ট আগলে রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। পাশাপাশি আমাদের ক্যাপ্টেন। গাইড। তার নির্দেশনা আমাদের সাফল্য ত্বরান্বিত করেছে।’ বর্তমান ক্রীড়া মন্ত্রীকে ওয়েল ডিসিপ্লিন্ড আখ্যা দিয়ে এমিলি বলেন, ‘আমিনুল ভাই বরাবরই খুব সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তার ওই সুশৃঙ্খলতা আমাদের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা পুরো দল ডিসিপ্লিন্ড হয়ে উঠেছিলাম। নিজ রক্ষণদুর্গ ও গোলপোস্ট আগলে রাখার পাশাপাশি আমিনুল ভাই আমাদের পুরো দলের ভালো খেলার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। এবং বলতে পারেন, আমাদের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ের অন্যতম রূপকারই ছিলেন আমিনুল ভাই।’ ‘সেই ২০১০ সালের এস এ গেমসের স্বর্ণবিজয়ী দলের অধিনায়ক আজ দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী, এটা অনেক ভালো লাগার। তা জানিয়ে এমিলি বলেন, আমরা আমিনুল ভাইয়ের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গী হতে চাই। তিনি যদি কোনো কাজে আমাদের ডাকেন, সেটা শুধু যে ফুটবলেই তা নয়। ক্রীড়া উন্নয়নের যে কোনো কর্মকাণ্ডে আমরা আমিনুল ভাইয়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।’ এক সময়ের সৃজনশীল, সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার ও ২০১০ সালের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের অপরিহার্য সদস্য মামুনুল হক বলেন, ‘জাহিদ ভাই (জাহিদ পারভেজ) ও আমিনুল ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’ ‘আমাদের সবার সঙ্গে আমিনুল ভাইয়ের সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়ায় জাহিদ ভাইকে ধন্যবাদ। আর অনেক কর্মব্যস্ততার মধ্যেও আমিনুল ভাই যে আমাদের সময় দিয়েছেন, আমাদের সাথে সময় কাটিয়েছেন, আমরা আবার সেই হারানো দিনে ফিরে যেতে পেরেছি, সেটা অনেক ভালো লাগার।’ এমিলির সাথে সুর মিলিয়ে মামুনুলও বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই আমিনুল ভাইয়ের সান্নিধ্য পেয়ে এসেছি। আজ আবার পেলাম তাকে একসঙ্গে। খুব কাছে। এক সাথে।’ অতীত স্মৃতি টেনে মামুনুল বলেন, ‘আমিনুল ভাই মাঠ ও মাঠের বাইরেও জেনুইন লিডার। বড় ভাই। আমার নিজের সহ অনেকেরই ব্যক্তি জীবনের অনেক না পাওয়া, কষ্ট-বেদনাও তিনি শেয়ার করতেন। আমাদের কাছে থেকেছেন। আমার নিজের জীবনে ক্রাইসিস পিরিয়ডে অন্তত বার দুয়েক আমিনুল ভাই আমার পাশে থেকে হেল্প করেছেন। আমার পার্সোনাল প্রবলেম মিটিয়ে দিয়েছেন।’ ‘একইভাবে মাঠেও তিনি ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক। গোলকিপার হিসেবে তিনি ছিলেন দারুণ দক্ষ। তার দল পরিচালনা, সবাইকে ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা ছিল দারুণ। নিজে সুশৃঙ্খল থেকে আমাদের সবাইকে ডিসিপ্লিনের মধ্যে থাকতে অগ্রণীর ভূমিকা পালন করেছেন। আমিনুল ভাইয়ের যোগ্য নেতৃত্বেই আসলে আমরা এসএ গেমস ফুটবলে সাফল্য পেয়েছিলাম।’ খেলোয়াড়ী জীবনে আমিনুলের সতীর্থ ও সহযোদ্ধা মামুনুলের আশা, আগামী দিনগুলোয়ও তিনি এবং তারা সবাই ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের পাশে থেকে দেশের ফুটবল ও ক্রীড়া উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। ২০১০ সালের এস এ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের সদস্যদের মধ্যে আজ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাথে সাক্ষাতে অন্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন মাজহারুল হিমেল, আতিকুল মিশু, ওয়ালি ফয়সাল, জাহিদ পারভেজ, মামুন মিয়া, নাসিরুল ইসলাম নাসিম, মিন্টু শেখ, রেজাউল করিম, মামুনুল ইসলাম, ইমতিয়াজ সুলতান জিতু, এনামুল হক, শাকিল হক, জাহিদ হাসান এমিলি ও জাহিদ হোসেন। এআরবি/এমএমআর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসি: সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামীপন্থিদের মৌন প্রতিবাদ

কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসি: সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামীপন্থিদের মৌন প্রতিবাদ

একটা গুমের অভিযোগ এসেছে, সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে: বাগেরহাটে আইনমন্ত্রী

একটা গুমের অভিযোগ এসেছে, সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে: বাগেরহাটে আইনমন্ত্রী

বিএনপি সরকারের দুর্নীতির কারণে ছয় মাসের মাথায় জনগণ বিদ্যুৎ পায় না

বিএনপি সরকারের দুর্নীতির কারণে ছয় মাসের মাথায় জনগণ বিদ্যুৎ পায় না

0 Comments