জাতীয়

নজরুলের জয়গান: সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাংলাদেশ-রাশিয়া মেলবন্ধনের অনন্য সন্ধ্যা

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
নজরুলের জয়গান: সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাংলাদেশ-রাশিয়া মেলবন্ধনের অনন্য সন্ধ্যা
নজরুলের জয়গান: সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাংলাদেশ-রাশিয়া মেলবন্ধনের অনন্য সন্ধ্যা

১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, কবিতা, সংগীত ও চিরন্তন সৃষ্টিকে স্মরণ করে ঢাকার রাশিয়ান হাউস এবং ভারতের কলকাতায় ‘ছায়ানট’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হল বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকার রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকসান্দ্রা এ খলেভনয় কাজী নজরুল ইসলামকে এমন এক কালজয়ী কবি হিসেবে অভিহিত করেন, যাঁর রচনা ধর্ম, শ্রেণি, ভাষা, ভূগোল ও সময়ের সীমানা অতিক্রম করে সাম্য, স্বাধীনতা, প্রেম, মানবিকতা ও আশার কথা বলে। নজরুলের সাহিত্যকর্মের সঙ্গে রাশিয়ান ও সোভিয়েত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় সাহিত্যের মূল সুর স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সাহস ও মানবমর্যাদা।

নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নজরুলের ওপর সোভিয়েত ও রাশিয়ান সাহিত্যের প্রভাব নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা। মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছায়ানটের (কলকাতা) সভাপতি ও নজরুল–গবেষক সোমঋতা মল্লিক।

একই সাথে রাশিয়ান হাউসের ‘রাশিয়ান ভাষা কোর্স’-এর শিক্ষার্থীরা রাশিয়ান ভাষায় নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করে বাংলাদেশের জাতীয় কবির সৃষ্টিকে ভিন্ন এক ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলেন। ভারতের কলকাতায় ‘ছায়ানট’-এর সংস্কৃতিবিষয়ক ভিডিও পরিবেশনায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় নজরুলের নির্বাচিত কবিতা উপস্থাপন করা হয়। কাজী নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী, মধুমিতা বসু, নিবেদিতা নাগ তহবিলদার ও ইন্দ্রাণী লাহিড়ীর কণ্ঠে নজরুলের কবিতার ভিডিও উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। নবনীতা লাহিড়ী ও সুপ্রীতি চক্রবর্তীর কণ্ঠে ইংরেজি ভাষায় কবিতা শোনানো হয়।

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং এমজিআইএমও (MGIMO) বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়ান গ্র্যাজুয়েট—যাঁরা বাংলা ভাষা শিখেছেন, তাঁদের এবং বর্তমানে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যৌথ ভিডিও পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

মনোরম এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয় নজরুলসংগীত ও নৃত্য। ‘মেঘের ডমরু ঘন বাজে’ ও ‘এই রাঙা মাটির পথে লো’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশনা করেন প্রমিতা বর্মণ।

পাশাপাশি ‘সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস’-এর শিশুশিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল একটি চমৎকার দলগত নৃত্য।

‘বর্তমান বিশ্বে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক আলোচনা করেন দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল। নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন আবরার খান রিদম। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন আঙ্গিকের চারটি নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন সোমঋতা মল্লিক। তাঁর কণ্ঠে ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব’ গানটি অন্য মাত্রা পায়। অনুষ্ঠানে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে রাশিয়া ও ভারতের সাংস্কৃতিক সংযোগকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে তুলে ধরে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর
কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন গাজী সালাউদ্দিন তানভীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেফতার গাজী সালাউদ্দিন তানভীর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও তানভীরের আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কারামুক্তির পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তানভীরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তার আইনজীবী। গাজী সালাউদ্দিন তানভীর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব। পুলিশ জানায়, গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মনিপুরী পাড়া থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তানভীরকে গ্রেফতার করে। একই দিন তাকে বগুড়া আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরও পড়ুন পুরো সিস্টেম কিনে ফেলার জন্য কয়েক কোটি টাকাই যথেষ্ট: আসিফ মাহমুদ পরবর্তী সময়ে বগুড়া জেলা কারাগারে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তানভীরের শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে জামিন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার আবেদন করে আসামিপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নির্দেশের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি উচ্চ আদালতে পৌঁছায়। পরে আসামিপক্ষের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তানভীরের এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। আসামিপক্ষের আইনজীবী ইজাজ আল ওয়াসী বলেন, গাজী সালাউদ্দিন তানভীর প্যানিক ডিজঅর্ডার, তীব্র মাথাব্যথা ও সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে গত ১৫ আগস্ট কারাগারে তিনি ব্রেন স্ট্রোক করেন। তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি চিকিৎসার তাগিদে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এলবি/এসআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
স্ত্রীর মৃত্যুর শোক না কাটতেই পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ছেলের

স্ত্রীর মৃত্যুর শোক না কাটতেই পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল ছেলের

জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, ডিসেম্বর পর্যন্ত সংকট হবে না

জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক, ডিসেম্বর পর্যন্ত সংকট হবে না

হেনস্থার অভিযোগ অস্বীকার, রাবিতে শিক্ষার্থীকে ‘গুপ্তচর’ বলল ছাত্রদল

হেনস্থার অভিযোগ অস্বীকার, রাবিতে শিক্ষার্থীকে ‘গুপ্তচর’ বলল ছাত্রদল

মির্জা শামারুহ নেই, মনোনয়ন ফরম নিলেন মির্জা ফয়সল
মির্জা শামারুহ নেই, মনোনয়ন ফরম নিলেন মির্জা ফয়সল

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিনসহ তিনজন বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। অন্যরা হলেন ওবায়দুল্লাহ্ মাসুদ ও সুলতানুল ফেরদৌস চৌধুরী (নম্র)। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। কাল ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির (মনোনয়ন বোর্ড) সভায় চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তাঁর আসনটি শূন্য হয়। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী তিনজনের মধ্যে মির্জা ফয়সল আমিন বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ওবায়দুল্লাহ্ মাসুদ ও সুলতানুল ফেরদৌস চৌধুরী দু’জনেই জেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর মধ্যে ওবায়দুল্লাহ্ মাসুদ সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি ও জিএসও ছিলেন। আর সুলতানুল ফেরদৌস ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি একসময় ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে তাঁর উত্তরসূরি কে হচ্ছেন— সে আলোচনা চলছিল। এই ক্ষেত্রে ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিনের পাশাপাশি মির্জা ফখরুল ইসলামের বড় মেয়ে মির্জা শামারুহের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছিল। তবে মির্জা পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য আসেনি। মির্জা শামারুহ দলীয় মনোনয়ন ফরম নেননি।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমায় দেশের ঋণমান বাড়াল মুডিস

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমায় দেশের ঋণমান বাড়াল মুডিস

এনআইডি না থাকা ক্রীড়াবিদদের হাতে চেক তুলে দিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী

এনআইডি না থাকা ক্রীড়াবিদদের হাতে চেক তুলে দিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন

0 Comments