জাতীয়

মোদী কি ট্রাম্পকে সরিয়ে শি জিনপিং-পুতিনের হাত ধরেছেন?

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
মোদী কি ট্রাম্পকে সরিয়ে শি জিনপিং-পুতিনের হাত ধরেছেন?
মোদী কি ট্রাম্পকে সরিয়ে শি জিনপিং-পুতিনের হাত ধরেছেন?

দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ছে। ট্রাম্প বিভিন্ন সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করলেও সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপে দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই চীন, রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে মোদীর সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একাধিক যোগাযোগ ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

তাহলে কি ট্রাম্পকে দূরে সরিয়ে পুতিন-শি জিনপিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন মোদী? নাকি ভারত তার পুরোনো ‘ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি’ই ধরে রাখছে?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেন দূরত্ব বাড়ছে?

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ ভারতীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো।

অবৈধ ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর সময় তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ভারতে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিষয়টি মোদী সরকারের জন্যও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

এরপর ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপও দুই দেশের সম্পর্কে চাপ বাড়ায়। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর তুলনামূলক বেশি শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। নয়াদিল্লি অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন>
রাশিয়া-চীন জোট আরও শক্তিশালী, ‘দুর্বল’ যুক্তরাষ্ট্র কী করবে?
মোদী-শি জিনপিং বৈঠক: সীমান্ত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্ব

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধেও মতবিরোধ

ভারত ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত থামাতে ট্রাম্প মধ্যস্থতার দাবি করেছেন। পাকিস্তান শুরু থেকেই বলে আসছে, ট্রাম্পের মধ্যস্থতার কারণেই যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে।

তবে ভারত এই দাবি স্বীকার করেনি। ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার যুদ্ধ বন্ধে নিজের ভূমিকার কথা বলেছেন। এ বিষয়টি মোদী ও ট্রাম্পের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরেকটি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকলেও সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নানা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।

দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সফর, সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু এবং বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সাত বছর পর ভারতে সফরে এসেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে তার সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী।

সীমান্ত বিরোধ মেটাতে একসঙ্গে কাজ করবে ভারত-চীন

মোদী-শি বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই নেতা সীমান্ত বিরোধের একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।

মোদী সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

দুই দেশ সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়িক ও পরিবহন যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি, সরবরাহব্যবস্থা এবং দুই দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

শি জিনপিং বলেন, দুই দেশের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তারা একে অপরের শক্তি থেকে শিখতে এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারে। তার মতে, চীন-ভারত সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত।

রাশিয়ার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনেছে। এতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্রিকস সম্মেলনেও মোদীর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যোগাযোগ ছিল উল্লেখযোগ্য। পুতিন বলেন, ব্রিকস একটি নতুন ও আরও ন্যায্য বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে।

ইরানের সঙ্গেও বাড়ছে যোগাযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সংঘাত ও যুদ্ধের মধ্যেও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখেছে ভারত।

ব্রিকস বিজনেস ফোরামে মোদীকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের হাত ধরে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। দুই নেতার হাসিমুখে হাত ধরে হাঁটার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।

এই ছবি ভারত-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি ভারতের বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থানকেও তুলে ধরে। কারণ একদিকে ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারত, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গেও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে।

ব্রিকসে মোদীর বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের বার্তা

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে মোদী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্রিকসের শক্তি হলো এর বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা।

মোদী আরও বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে শুধু আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হিসেবে রাখলেই হবে না; বিশ্ব পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তাদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন>
রাশিয়া-চীন জোট আরও শক্তিশালী, ‘দুর্বল’ যুক্তরাষ্ট্র কী করবে?
মোদী-শি জিনপিং বৈঠক: সীমান্ত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গুরুত্ব

তার মতে, এমন একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে প্রতিটি দেশের কথা বলার সুযোগ থাকবে এবং প্রতিটি সদস্যের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাতিসংঘ সংস্কারের রোডম্যাপের প্রস্তাব

বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলনের আগেই একটি রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন মোদী। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তাহলে কি ট্রাম্পকে ছেড়ে দিচ্ছেন মোদী?

চীন, রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ দেখে এমন প্রশ্ন উঠলেও বিষয়টি সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে চীন-রাশিয়ার দিকে যাওয়া’ হিসেবে দেখার সুযোগ এখনই নেই।

ভারত চীন, রাশিয়া ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। অর্থাৎ কোনো একটি পক্ষের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলই অনুসরণ করছে নয়াদিল্লি।

বিশ্ব রাজনীতিতে যখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইরানকে ঘিরে বিভাজন বাড়ছে, তখন ভারতের লক্ষ্য হতে পারে নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা।

সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, এনডিটিভি

এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মেট্রোরেলের তারে কাপড়, ৪০ মিনিট মতিঝিল-উত্তরা রুটে যাত্রী পরিবহন বন্ধ
মেট্রোরেলের তারে কাপড়, ৪০ মিনিট মতিঝিল-উত্তরা রুটে যাত্রী পরিবহন বন্ধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় মেট্রোরেলের লাইনের তারে কাপড় পড়ায় প্রায় ৪০ মিনিট মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। তবে এ সময় উত্তরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। আরও পড়ুন গাবতলী থেকে হাতিরঝিলের নিচ দিয়ে দাশেরকান্দি যাবে মেট্রোরেল মেট্রো চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান ডিএমটিসিএল সূত্র এসব তথ্য জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, কাপড়টি লাইন থেকে সরানোর পর লাইনের মেকানিক্যাল বিষয়গুলো চেক করা হয়। পরে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে উভয় রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিন্তু মেট্রোরেলের তারের ওপর পড়া ওই কাপড় কীভাবে কোথা থেকে আসলো তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এমএমএ/এমএমকে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সিলেটে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট বিএনপির একাংশের

সিলেটে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট বিএনপির একাংশের

পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৩৫ বছর বয়সেও সরকারি চাকরি

পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৩৫ বছর বয়সেও সরকারি চাকরি

ঢাবির ‘কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণের বক্তব্য নিয়ে জিএস ফরহাদের প্রশ্ন

ঢাবির ‘কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণের বক্তব্য নিয়ে জিএস ফরহাদের প্রশ্ন

হাতকড়াসহ আ.লীগ নেতা পালানোর ঘটনায় মামলা, ওসি ক্লোজড
হাতকড়াসহ আ.লীগ নেতা পালানোর ঘটনায় মামলা, ওসি ক্লোজড

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়া পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে শোকজও করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানার এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। রেনু মিয়া ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে। মামলার এজাহারে নাম থাকা আসামিরা হলেন- ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রেনু মিয়া (৪৮), মনির হোসেন, সজিব মিয়া, মো. তারেক, তাহমুদা বেগম, রাবিয়া বেগম, তামান্না বেগম, পাখি বেগম, সামিকা বেগম, সেলিনা বেগম, সুফিয়া বেগম, ইতি আক্তার (২৩), সাদিয়া (২০), আকলিমা আক্তার (২৬) ও রত্না (৩০)। আরও পড়ুন হাতকড়াসহ পালানো আ’লীগ নেতা ৮ ঘণ্টা পর আটক পুলিশ সূত্র জানায়, পরে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াসহ গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দুই হাতে হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেন। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। ঘটনার পর রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মাধবদী এলাকায় তাকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। এদিকে রেনু মিয়াকে গ্রেফতারের পর তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের মধ্যে ইতি আক্তার, সাদিয়া, আকলিমা আক্তার ও রত্নাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। অন্য তিন নারীর বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় এসআই শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তারা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দিনকে ক্লোজড করা হয়েছে। হাতকড়াসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে শোকজও করা হয়েছে। এসকে রাসেল/এসজেডএইচ/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে যা বললো ভারত

তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে যা বললো ভারত

সেলুনে কাটাচ্ছিলেন চুল, হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি, চাপাতি দিয়ে কোপ

সেলুনে কাটাচ্ছিলেন চুল, হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি, চাপাতি দিয়ে কোপ

জুলাই শহীদের তালিকা থেকে শাহিদুল আলমের গেজেট বাতিল

জুলাই শহীদের তালিকা থেকে শাহিদুল আলমের গেজেট বাতিল

২০০৩ সাফ, ২০১০ এসএ গেমস স্বর্ণজয়ী দলের জন্য আসছে বড় পুরস্কারের ঘোষণা!
২০০৩ সাফ, ২০১০ এসএ গেমস স্বর্ণজয়ী দলের জন্য আসছে বড় পুরস্কারের ঘোষণা!

খেলাপ্রেমী মাত্রই জানেন, বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলকিপারও। আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০১০ সালে ঢাকায় হওয়া এসএ গেমস ফুটবলে এই আমিনুল হকের নেতৃত্বেই ভারতকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। আজ ১৫ সেপ্টেম্বর সেই এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী সতীর্থ ফুটবলারদের সাথে অনেকটা সময় কাটালেন সেই সাফল্যের মিশনের অধিনায়ক ও আজকের ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনের পাঁচতলায় সেই সতীর্থ ফুটবলারদের পাশে পেয়ে খুব প্রাণোচ্ছল আর হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেল আমিনুল হককে। হাসিমুখে ১৬ বছর আগের সহযোদ্ধাদের বরণ করে নেয়া ক্রীড়ামন্ত্রী আগামীতে ২০০৩ সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১০ সালের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী ফুটবল দলকে একটা ভালো কিছু উপহার দেয়ার কথা ভাবছেন। আজ মঙ্গলবার এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের একাধিক সদস্য ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে পুরস্কার, সম্মাননা ও স্মারক চাইলে আমিনুল হক বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানাবো। অবশ্যই আমিও চাই আমাদের ফুটবলে দুটি স্বর্ণালী সাফল্য উপহার দেয়া দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে।’ তবে কী দেয়া যায়? তাৎক্ষণিকভাবে তা না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে কথা বলে তারপর ঘোষণার কথা বলেন আমিনুল হক। বলে রাখা ভালো, এখন যিনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া), সেই জাহিদ পারভেজও ওই এস এ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য। দেশের ফুটবল ইতিহাসের দুই বড় তারকা মামুনুল হক আর জাহিদ হাসান এমিলি জানিয়ে দিলেন, জাহিদ পারভেজ ভাই-ই আমাদের (সেই ২০১০-এর এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের) ফুটবলারদের প্রিয় বড় ভাই ‘ক্যাপ্টেন’ এবং বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ভাইয়ের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের দুজনই অগ্রজপ্রতিম ফুটবলার জাহিদ পারভেজকে ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে অনেক কর্মব্যস্ততার মাঝেও এক সময়ের সতীর্থ ফুটবলারদের সাথে বসে সাফল্যের সেই সোনালী দিনের স্মৃতিচারণ করা ও সেই ফুটবল দলকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানানোয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেও দ্বিধা ছিল না মামুনুল ও এমিলির। দেশের ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘আমরা অনেক ধরেই চাচ্ছিলাম আমাদের এসএ গেমসে স্বর্ণবিজয়ী দলের অধিনায়ক, ক্যাপ্টেন ও অগ্রজপ্রতিম আমিনুল ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে। অবশেষে জাহিদ পারভেজ ভাইয়ের উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় সেটা বাস্তব রূপ পেয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এজন্য আনন্দিত।’ ১৬ বছর আগে ঢাকা এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ের পেছনে বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভূমিকার কথা জানিয়ে এমিলি বলেন, ‘প্রথম কথা হলো আমাদের জাল ছিল নিশ্ছিদ্র। আমরা প্রতিপক্ষের জালে ৪ গোল করলেও একটি গোলও হজম করিনি। আমিনুল ভাই গোলপোস্ট আগলে রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। পাশাপাশি আমাদের ক্যাপ্টেন। গাইড। তার নির্দেশনা আমাদের সাফল্য ত্বরান্বিত করেছে।’ বর্তমান ক্রীড়া মন্ত্রীকে ওয়েল ডিসিপ্লিন্ড আখ্যা দিয়ে এমিলি বলেন, ‘আমিনুল ভাই বরাবরই খুব সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তার ওই সুশৃঙ্খলতা আমাদের সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা পুরো দল ডিসিপ্লিন্ড হয়ে উঠেছিলাম। নিজ রক্ষণদুর্গ ও গোলপোস্ট আগলে রাখার পাশাপাশি আমিনুল ভাই আমাদের পুরো দলের ভালো খেলার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। এবং বলতে পারেন, আমাদের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ের অন্যতম রূপকারই ছিলেন আমিনুল ভাই।’ ‘সেই ২০১০ সালের এস এ গেমসের স্বর্ণবিজয়ী দলের অধিনায়ক আজ দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী, এটা অনেক ভালো লাগার। তা জানিয়ে এমিলি বলেন, আমরা আমিনুল ভাইয়ের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গী হতে চাই। তিনি যদি কোনো কাজে আমাদের ডাকেন, সেটা শুধু যে ফুটবলেই তা নয়। ক্রীড়া উন্নয়নের যে কোনো কর্মকাণ্ডে আমরা আমিনুল ভাইয়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।’ এক সময়ের সৃজনশীল, সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার ও ২০১০ সালের এসএ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের অপরিহার্য সদস্য মামুনুল হক বলেন, ‘জাহিদ ভাই (জাহিদ পারভেজ) ও আমিনুল ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’ ‘আমাদের সবার সঙ্গে আমিনুল ভাইয়ের সৌজন্য সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়ায় জাহিদ ভাইকে ধন্যবাদ। আর অনেক কর্মব্যস্ততার মধ্যেও আমিনুল ভাই যে আমাদের সময় দিয়েছেন, আমাদের সাথে সময় কাটিয়েছেন, আমরা আবার সেই হারানো দিনে ফিরে যেতে পেরেছি, সেটা অনেক ভালো লাগার।’ এমিলির সাথে সুর মিলিয়ে মামুনুলও বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই আমিনুল ভাইয়ের সান্নিধ্য পেয়ে এসেছি। আজ আবার পেলাম তাকে একসঙ্গে। খুব কাছে। এক সাথে।’ অতীত স্মৃতি টেনে মামুনুল বলেন, ‘আমিনুল ভাই মাঠ ও মাঠের বাইরেও জেনুইন লিডার। বড় ভাই। আমার নিজের সহ অনেকেরই ব্যক্তি জীবনের অনেক না পাওয়া, কষ্ট-বেদনাও তিনি শেয়ার করতেন। আমাদের কাছে থেকেছেন। আমার নিজের জীবনে ক্রাইসিস পিরিয়ডে অন্তত বার দুয়েক আমিনুল ভাই আমার পাশে থেকে হেল্প করেছেন। আমার পার্সোনাল প্রবলেম মিটিয়ে দিয়েছেন।’ ‘একইভাবে মাঠেও তিনি ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক। গোলকিপার হিসেবে তিনি ছিলেন দারুণ দক্ষ। তার দল পরিচালনা, সবাইকে ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা ছিল দারুণ। নিজে সুশৃঙ্খল থেকে আমাদের সবাইকে ডিসিপ্লিনের মধ্যে থাকতে অগ্রণীর ভূমিকা পালন করেছেন। আমিনুল ভাইয়ের যোগ্য নেতৃত্বেই আসলে আমরা এসএ গেমস ফুটবলে সাফল্য পেয়েছিলাম।’ খেলোয়াড়ী জীবনে আমিনুলের সতীর্থ ও সহযোদ্ধা মামুনুলের আশা, আগামী দিনগুলোয়ও তিনি এবং তারা সবাই ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের পাশে থেকে দেশের ফুটবল ও ক্রীড়া উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন। ২০১০ সালের এস এ গেমস ফুটবলে স্বর্ণবিজয়ী দলের সদস্যদের মধ্যে আজ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাথে সাক্ষাতে অন্যদের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন মাজহারুল হিমেল, আতিকুল মিশু, ওয়ালি ফয়সাল, জাহিদ পারভেজ, মামুন মিয়া, নাসিরুল ইসলাম নাসিম, মিন্টু শেখ, রেজাউল করিম, মামুনুল ইসলাম, ইমতিয়াজ সুলতান জিতু, এনামুল হক, শাকিল হক, জাহিদ হাসান এমিলি ও জাহিদ হোসেন। এআরবি/এমএমআর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসি: সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামীপন্থিদের মৌন প্রতিবাদ

কাদেরসহ ৭ জনের ফাঁসি: সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামীপন্থিদের মৌন প্রতিবাদ

একটা গুমের অভিযোগ এসেছে, সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে: বাগেরহাটে আইনমন্ত্রী

একটা গুমের অভিযোগ এসেছে, সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত চলছে: বাগেরহাটে আইনমন্ত্রী

বিএনপি সরকারের দুর্নীতির কারণে ছয় মাসের মাথায় জনগণ বিদ্যুৎ পায় না

বিএনপি সরকারের দুর্নীতির কারণে ছয় মাসের মাথায় জনগণ বিদ্যুৎ পায় না

0 Comments