বাংলাদেশ সরকারের ওয়েব পোর্টাল জাতীয় তথ্য বাতায়নের মধ্যে থাকা কোনো ওয়েবসাইটের কোথাও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জীবনবৃত্তান্ত নেই। সংশ্লিষ্ট সাইটগুলোতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর নাম ও ছবি থাকলেও ‘বিস্তারিত’–এ ক্লিক করলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারও জীবনবৃত্তান্ত নেই। কয়েকজনের জীবনবৃত্তান্ত আছে বাংলায়, কয়েকজনের ইংরেজিতে। আজ মঙ্গলবার ও গতকাল সোমবার সরকারের ৫৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ের সাইটগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ।
প্রতিটি সরকারি সাইটের কারিগরি সহয়তায় আছে এটুআই (অ্যাস্পায়ার টু ইনফরমেশন), ক্যাবিনেট ডিভিশন (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ), আইসিটি বিভাগ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি (বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল), আইসিটি অধিদপ্তর ও বেসিস।
৫৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সব সাইটই একটি ধাঁচে তৈরি। এর মধ্যে নোটিশ বোর্ড সব সাইটেই হালনাগাদ হয়। অনেক সাইটে চলমান ও সমাপ্ত প্রকল্পের তালিকা আছে। অনেক সাইটে প্রকল্প মেন্যুটিই নেই। আবার কিছু মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের’ তালিকা আছে। প্রকল্প অননুমোদিত হলে নতুন হয় কী করে? এ ধরনের ভাষাগত সমস্যা প্রায় সব সাইটেই আছে।
জাতীয় তথ্য বাতায়নের মূল পৃষ্ঠা বা হোমে ৫৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ক্লিক করলে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকা বর্ণানুক্রমিক নয়, বা গুরুত্ব অনুসারে সাজানো হয়নি। শুরুতে ১ ও ২ নম্বরে আছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এরপর ৩ নম্বরে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও ৪ নম্বরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৫ নম্বরে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ৬ নম্বরে প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন অর্থ ১৯ নম্বরে, পররাষ্ট্র ২০ নম্বরে, স্বরাষ্ট্র ২২ নম্বরে। এই তালিকাটা বর্ণানুক্রমিক বা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনুসারে সাজানো উচিত।
জাতীয় তথ্য বাতায়ন থেকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ক্লিক করলে বঙ্গভবনের ওয়েবসাইট আসে। এখানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্বাগত জানিয়ে একটি লেখা ও তাঁর কর্মকাণ্ডের কিছু ছবি থাকলেও জীবনবৃত্তান্ত নেই। লেখার ওপরে ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ লেখা আছে। এরপর ‘বিস্তারিত’ হাইপার লিংক থাকলেও সেখানে ক্লিক করে তাঁর ছবি পাওয়া যায়, কিন্তু কোনো জীবনবৃত্তান্ত নেই। যদিও এখানে লেখা আছে ‘কনটেন্ট: জীবনবৃত্তান্ত’। সাবমেনু ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির পারিবারিক সদস্যবৃন্দ’–এও কোনো তথ্য নেই।
বঙ্গভবন ডটগভ ডটবিডি ওয়েবসাইটের মধ্যে আরও দুটি ওয়েবসাইট আছে। ‘আপন বিভাগ’ ও ‘জন বিভাগ’। এই দুই বিভাগের কোনোটাতেই রাষ্ট্রপতির জীবনবৃত্তান্ত খুঁজে পাওয়া গেল না। ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণ’ মেন্যুতে দেখা যায় সবার ওপরে হালনাগাদ করা ভাষণটি ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখের। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের বিষয়টি শুধু লেখা আছে। অথচ মো. আবদুল হামিদের পর আরও একজন রাষ্ট্রপতি (মো. সাহাবুদ্দিন) হয়েছিলেন। জনবিভাগের সচিবের নাম ও ছবি থাকলেও জীবনবৃত্তান্ত নেই।
বঙ্গভবন ডটগভ ডটবিডির আপন বিভাগের ওয়েবসাইটে ডান দিকে রাষ্ট্রপতির নাম ও ছবি থাকলেও জীবনী নেই। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের নাম, ছবি ও বিস্তারিত থাকলেও কোনো হাইপারলিঙ্ক নেই। ‘রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, আপন বিভাগ, বঙ্গভবনের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম’ শিরোনামে একটা লেখা আছে। এতে উল্লেখ আছে রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম কী, সে তালিকা।

কোন কর্মকর্তা কবে থেকে কবে ছুটি নিচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন সেসব তথ্য নিয়ে হালনাগাদ করা ‘নোটিশ বোর্ড’ থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো জীবনবৃত্তান্ত নেই। এমনকি তাঁর নামের নিচে ‘বিস্তারিত’ হাইপারলিঙ্কও নেই। ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ’ মেনুতে ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ’ ও ‘অন্যান্য ভাষণ’ দুটি সাবমেনুর একটিও কাজ করে না। তবে ‘প্রধানমন্ত্রীর বাণী’ মেনুতে বিভিন্ন দিবসে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বাণীগুলো আছে, ‘বিবৃতি’ নেই। আছে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবি।
জাতীয় তথ্য বাতায়নে ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইট থাকলেও সেগুলো অসম্পূর্ণ। সব সাইটেই নোটিশ বোর্ড নিয়মিত হালনাগাদ হয়। সবার ওপরে নোটিশ বোর্ড দৃষ্টিকটু লাগে। তবে বেশির ভাগ সাইটে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সচিবের জীবনবৃত্তান্ত নেই।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ওয়েবসাইটের ডান দিকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও নাম থাকলেও জীবনবৃত্তান্ত নেই। উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের নাম ও ছবি থাকলেও জীবনবৃত্তান্ত নেই। তবে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের জীবনবৃত্তান্ত আছে ইংরেজিতে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও প্রধানমন্ত্রীর বিস্তারিত তথ্য নেই। তবে সচিবের জীবনবৃত্তান্ত আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু। তাঁর নাম ও ছবির নিচে বিস্তারিত–এ ক্লিক করলে জীবনবৃত্তান্ত নেই। অবাক করার বিষয় হলো তাঁর বিস্তারিত পেজের ওয়েব ঠিকানায় সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের নাম লেখা আছে। এখানে প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জীবনবৃত্তান্তও নেই। এই সাইট ‘চলমান প্রকল্প’–এ কোনো তথ্য নেই।
কৃষি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন (সচিবের জীবনী নেই), সড়ক পরিবহন ও সেতু (প্রতিমন্ত্রীর জীবনী নেই), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, শিক্ষা (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে, সচিবের নেই), পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত থাকলেও প্রতিমন্ত্রীর নেই), অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), পররাষ্ট্র (মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), স্বরাষ্ট্র, আইন বিচার ও সংসদ, ভূমি, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), নৌপরিবহন (প্রতিমন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত নেই), মহিলা ও শিশুবিষয়ক (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত নেই), পানিসম্পদ (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত থাকলেও প্রতিমন্ত্রীর নেই), মুক্তিযুদ্ধ (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত থাকলেও প্রতিমন্ত্রীর নেই), রেলপথ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (মন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে থাকলেও উপদেষ্টার নেই) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মন্ত্রীদের জীবনবৃত্তান্ত আছে।
বাণিজ্য (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), সংস্কৃতি (মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জীবনবৃত্তান্ত নেই), প্রতিরক্ষা (প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবের জীবনবৃত্তান্ত নেই), খাদ্য (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত আছে), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে মন্ত্রী ও প্রতমন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত আছে, তবে সচিবের নেই), পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন (প্রতিমন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত নেই), জনপ্রশাসন (শুধু সিনিয়র সচিবের জীবনবৃত্তান্ত আছে), মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, শিল্প, তথ্য ও সম্প্রচার, বস্ত্র ও পাট, শ্রম ও কর্মসংস্থান, স্থানীয় সরকার বিভাগ (প্রতিমন্ত্রীর জীবনবৃত্তান্ত আছে), পরিকল্পনা, ধর্ম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত ইংরেজিতে), সমাজকল্যাণ, যুব ও ক্রীড়া (সচিবের জীবনবৃত্তান্ত আছে) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের জীবনবৃত্তান্ত নেই।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৯ সেপ্টেম্বর এক পরিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে। তারপরও জাতীয় তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইটগুলোতে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দগুলো রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সাইটে বীরশ্রেষ্ঠদের তালিকা থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাইটে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আছে। অনেক ওয়েবসাইটেই প্রকল্পের তথ্য হালনাগাদ হয়নি। সরকার গঠনের সাত মাস পরও সরকারি ওয়েব পোর্টাল জাতীয় তথ্য বাতায়ন একরকমের অবেহলিত অবস্থায় রয়েছে, তা দেখে বোঝা যায়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়ার জন্য বিসিবিকে মেইল দিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জাগো নিউজকে এটি নিশ্চিত করেছেন। বিস্তারিত আসছে... এসকেডি/এমএমআর
কোমলমতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা, আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা বিকশিত করতে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যকর প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেন জুবাইদা রহমান। পরে মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি। শিশুরাই আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এখানে এসে একটি কথাই মনে পড়ছে, সেটা হলো—যেকোনো আকাঙ্ক্ষার জন্য মুক্ত আকাশই শেষ সীমানা। শিশু–কিশোররা আকাশচুম্বী আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে। কারণ, আজকের শিশু আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ।’শিশুদের উৎকর্ষ সাধনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও পরবর্তী সময় কন্যাশিশুদের জন্য বিনা মূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘এই শিশুদের উৎকর্ষ সাধনের জন্যই স্থাপিত হয়েছিল শিশু একাডেমি। পরবর্তী সময় কন্যাশিশুদের উচ্চতর স্তরে লেখাপড়া অবৈতনিক করা হয়। নতুন কুঁড়ির মতো সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলাবিষয়ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুর জীবন অগণিত আকাশচুম্বী ভাবনায় ভরপুর। শুধু চায় সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থা, তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বন্দোবস্ত ও সবুজ খোলা মাঠে প্রকৃতির মধ্যে খেলাধুলা, বিচরণের সুযোগ, যেকোনো ব্যাধির চিকিৎসার নিশ্চয়তা আমাদের সবার সৃষ্টি করতে হবে। যেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়, উপজেলায়, ৫৯৯টি ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯০টি গ্রামের কোনো শিশু–কিশোর অবহেলায় ঝরে না পড়ে। প্রত্যেক শিশু যেন তার অভিভাবক ও পরিবারের কাছে সুরক্ষিত থাকে।’শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেলে শিশুরা তাদের অসীম প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। দলগতভাবে যেকোনো সাফল্য অর্জন ও খেলাধুলার মানসিকতা তাদের পরবর্তী সময় দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শক্তি ও মনোবল জোগাবে।’জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শিশুরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রিয় ও মূল্যবান সম্পদ। তাদের সবার মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্ন—নীল আকাশে ডানা মেলে উড়বে। তাদের ইচ্ছা—আকাশচুম্বী মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’জুবাইদা রহমান আরও বলেন, ‘শিশুরা আজ প্রমাণ করেছে—সবাই মিলে একসঙ্গে কিছু সার্থক করার পরিচয়। যেটি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত জরুরি। এই শিক্ষায় তাদের পরবর্তী সময় সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার মনোবল ও শক্তি জোগাবে। তোমরাই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে।’অনুষ্ঠানে নারীদের ক্ষমতায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির (বাফওয়া) ভূমিকা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৫১ শতাংশ নারী জনসংখ্যার উন্নয়নে বাফওয়ার এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও হস্তশিল্পের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অভিনব। তিনি গোল্ডেন ঈগল স্কুলের ছাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানান এবং তাদের সম্ভাবনার শীর্ষে পৌঁছানোর শুভকামনা জানান।বক্তব্যের আগে জুবাইদা রহমান ব্লু স্কাই স্কুল পরিদর্শন শেষে স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও ‘বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারি’র শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা জুবাইদা রহমানের সামনে গান, নৃত্য, ফ্যাশন শোসহ নানা পারফরম্যান্সে অংশ নেয়। এ সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও থেরাপির সুবিধা প্রদানসহ নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বাফওয়ার মানবিক উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান।পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জুবাইদা রহমানের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করে ব্লু স্কাই স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা।বাংলাদেশ বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি ও আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের পক্ষ থেকে জুবাইদা রহমানের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক ও বিশেষ উপহার হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি ছবি তুলে দেওয়া হয়।পরে বাফওয়া কর্মসূচি ও ব্লু স্কাই স্কুলের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি ও আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাবের সভানেত্রী সালেহা খান। আরও বক্তব্য দেন ব্লু স্কাই স্কুলের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (পিএসসি)।অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনীর প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভানেত্রীরা, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশার শাখার প্রতিনিধিরা ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তখন গভীর রাত। সড়কের তিন রাস্তার মোড়ে সাদা কাপড়ের (কাফনের কাপড়) পুটলি রাখা। তার পাশে জ্বলছে মোমবাতি। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এমন ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুটলিটি দেখতে পেয়ে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুটলিটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নেয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ-ফিলিপনগর সড়কের মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ স’মিল পাড়ার স’মিল সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সড়কের ওপর সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটি পুটলি পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। কাপড়ের গায়ে রক্তের মতো লাল দাগ ছিল। পুটলির ভেতরে সিঁদুর, একটি পুতুল ও মাটির তৈরি কিছু জিনিসপত্র ছিল বলে জানান তারা। পুটলিটির পাশে একটি মোমবাতিও জ্বলছিল। গভীর রাতে এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা হুসাইন আহম্মেদ বলেন, ‘রাতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তার মোড়ে দেখি একটি সাদা পুটলিকে ঘিরে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। পরে পুলিশ এসে পুটলিটি সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় আতংক তৈরি হয়।’ আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, ‘হয়তো কেউ কালোজাদু করে এসব রেখে যেতে পারে। তবে ঘটনা দেখে অনেকেই রাতে ভয় পেয়েছেন।’ পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুটলিটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়। তবে কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এসব জিনিস সেখানে রেখে গেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, কেউ আতংক তৈরি করতে এমনটি করে থাকতে পারেন। কালোজাদু বা কুফরিও হতে পারে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুটলিটি সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’ আল-মামুন সাগর/এসআর/জেআইএম