বিনা মূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর ঠিকাদারি কাজের একটি বড় অংশ ভাগাভাগি করার অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারেরা সরকারের প্রাক্কলিত দর আগেই জেনে গিয়েছিলেন এবং সে অনুযায়ী তাঁরা কিছুটা কম–বেশি করে দর দাখিল করে কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন।
মাঝপথে প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। শুরুতে সরকার একটি প্রাক্কলিত দর ঠিক করেছিল, তা ফাঁস হয়ে যায় এবং ফাঁস হওয়া দর দেখে ঠিকাদারেরা তা বৃদ্ধির জন্য চাপ দেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সেটি মেনে নিয়ে প্রাক্কলিত দর বাড়িয়ে দেয়। পরে ঠিকাদারেরা সমঝোতা করে দরপত্র দাখিল করে কাজ ভাগাভাগি করেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাক্কলিত মূল্য বৃদ্ধি ও কাজ ভাগাভাগির ফলে শুধু মাধ্যমিকের বই ছাপাতে বাড়তি ব্যয় হবে ২৫২ কোটি টাকা।
দর ফাঁস হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এনসিটিবির একজন সদস্য। অন্যদিকে সরকারি খাতে ক্রয়বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাক্কলিত দর ঠিকাদারদের জানার কথা নয়। মাঝপথে দর বাড়ানো নিয়ম অনুযায়ী হয়নি; আর প্রতিযোগিতা কম হলে সরকারের কাজের ব্যয় বেড়ে যায় এবং গুণগত মান খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাক্কলিত মূল্য বৃদ্ধি ও কাজ ভাগাভাগির ফলে শুধু মাধ্যমিকের বই ছাপাতে বাড়তি ব্যয় হবে ২৫২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ মুদ্রণশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান প্রথম আলোকে বলেন, এবার অনিয়মের কারণে সরকারের খরচ অনেক বাড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘মনে হয়েছে, এবার আমার কাজ করার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ নেই, তাই অংশ নিইনি।’
সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দেয়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বই ছাপানোর ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠত। কোনো কোনো বছর বইয়ের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
২০২৭ সালের জন্য ছাপানো হবে প্রায় ৩১ কোটি বই। মাধ্যমিকের বইয়ের সংখ্যা ২২ কোটির বেশি, বাকিগুলো প্রাথমিকের। বই ছাপার এ কাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। সরকারের লক্ষ্য, বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া। এ জন্য নভেম্বরের মধ্যে জেলা ও উপজেলায় বই পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
এবার বই ছাপার প্রক্রিয়া শুরু হয় এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারীর সময়ে। শুরুতে বাজার যাচাই করে প্রাথমিক স্তরের বইয়ের জন্য প্রতি ফর্মা কাগজের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত গড় দর ধরা হয়েছিল ৩ টাকা ২৬ পয়সা। মাধ্যমিক স্তরের জন্য ধরা হয়েছিল ২ টাকা ৮৫ পয়সা।
এই দর অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার দরপত্র ৩ ও ৪ জুন ইলেকট্রনিক দরপত্রব্যবস্থায় (ইজিপি) ‘লাইভ’ (অনলাইনে আবেদনের সুযোগ দেওয়া) করা হয়। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র ‘লাইভ’ করা হয় ৭ ও ৯ জুন।
এনসিটিবি ও মুদ্রণশিল্পের মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, কাগজের যে দর প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তা এ পর্যায়ে এসে ফাঁস হয়ে যায়।
প্রাক্কলিত দর ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেন এনসিটিবির সদস্য আবু নাসের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বই ছাপার কাজে সাত-আটটি কমিটি রয়েছে। কোনো পর্যায় থেকে তথ্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এটা এনসিটিবির দুর্বলতা বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এনসিটিবি ও মুদ্রণশিল্পের মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, কাগজের যে দর প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তা এ পর্যায়ে এসে ফাঁস হয়ে যায়।
কাগজের প্রাক্কলিত দর ছিল গতবারের কাছাকাছি। ঠিকাদারেরা দেখলেন, এই দরে দরপত্র জমা দিয়ে কাজ পেলে মুনাফা কম হবে; তবে সরকারের সাশ্রয় হবে। এ পর্যায়ে ছাপাখানার মালিকদের একটি অংশ একজোট হয়ে প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন।
দেশের সরকারি ক্রয়ে প্রাক্কলিত দর ঠিক করা হয় সংশ্লিষ্ট সংস্থার কমিটির মাধ্যমে। কোনো ঠিকাদার প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি দর দাখিল করলে তিনি প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ে যান। এ কারণে প্রাক্কলিত দর জানতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠিকাদারেরা সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের ঘুষ দিয়ে প্রাক্কলিত দর জানার ব্যবস্থা করেন।
এনসিটিবির ৪২৩তম বোর্ড সভার নথিতে বলা হয়েছে, মুদ্রণশিল্পের ৭৫ জন মালিক প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্কলিত দর পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড। তবে এই প্রাক্কলিত দর ঠিকাদারদের জানার কথা নয়।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপাতে কাগজের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৫ লাখ রিম (এক হাজার ফর্মায় এক রিম)। হিসাব করে দেখা যায়, কাগজের প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর ফলে সরকারের প্রায় ২৫০ কোটি টাকার বেশি খরচ বাড়তে পারে।
সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এনসিটিবির চেয়ারম্যান পদে মাহবুবুল হক পাটোয়ারীর জায়গায় গত ৮ জুন নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর নাম মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর দরপত্রের প্রক্রিয়া চলাকালেই প্রাক্কলিত দর পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
ফখরুল মাওলা ১১ সেপ্টেম্বর মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, কাগজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পরিবহন খরচ বাড়ায় এবার প্রাক্কলিত দর বাড়ানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইন ভঙ্গ হয়নি। তিনি আরও বলেন, সমঝোতা করে দরপত্রে অংশ নিলে প্রতিযোগিতা কমতে পারে। তবে এটি পুরোপুরি এনসিটিবির নিয়ন্ত্রণে নয়।
এনসিটিবির সদস্য আবু নাসেরও দাবি করেন, দরপত্র ‘লাইভ’ হওয়ার পর দর পুনর্নির্ধারণ আইনের লঙ্ঘন নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানত।
মন্ত্রণালয় আসলেই জানত কি না, তা জানতে শিক্ষাসচিব আবদুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর কার্যালয়ে গেলে প্রশ্ন শোনার পর তিনি আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দরপত্রের প্রক্রিয়ার মধ্যে এভাবে প্রাক্কলিত দর বাড়ানো যায় কি না, জানতে চাইলে সরকারি ক্রয় বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) সাবেক মহাপরিচালক ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দরপত্র আহ্বানের পর প্রাক্কলিত দর পরিবর্তনের সুযোগ নেই। পরিবর্তন করতে হলে বাতিল করে নতুন দরপত্র ডাকতে হবে।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপানোর প্রতি ফর্মার গড় কার্যাদেশের দর ছিল ২ টাকা ৩১ পয়সা। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য তা বেড়ে হয়েছে ৩ টাকা ৩২ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ফর্মায় দর বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপাতে কাগজের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৫ লাখ রিম (এক হাজার ফর্মায় এক রিম)। হিসাব করে দেখা যায়, কাগজের প্রাক্কলিত দর বাড়ানোর ফলে সরকারের প্রায় ২৫০ কোটি টাকার বেশি খরচ বাড়তে পারে।
প্রাথমিক স্তরেও দর বেড়েছে। ২০২৬ সালে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির বইয়ের প্রতি ফর্মার গড় কার্যাদেশের দর ছিল ৩ টাকা ৪৪ পয়সা। ২০২৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৩ টাকা ৫৪ পয়সা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মূলত মাধ্যমিকের বই থেকেই বাড়তি টাকা নেওয়ার কৌশল সাজানো হয়েছে।
বই ছাপার কাজ চলছে ভাগে ভাগে। দরপত্র হয়েছে ৭০০টির বেশি। ৪৮৫টি দরপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৩১টিতে দরদাতা ছিলেন একজন করে। তিনিই কাজ পেয়েছেন। কোথাও আবার একই মালিকের একাধিক প্রতিষ্ঠান একই দরপত্রে অংশ নিয়েছে।
কোনো কোনো দরপত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনেছে; কিন্তু জমা দিয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। যেমন সপ্তম শ্রেণির ৭১৪ নম্বর দরপত্রে ১৪টি প্রতিষ্ঠান কিনেছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর জমা দেয় একটি প্রতিষ্ঠান, ‘লেটার এন কালার লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই কাজ পেয়েছে।
দরপত্রের নথিতে একই মালিকের একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। যেমন ষষ্ঠ শ্রেণির ৬৬৯ নম্বর দরপত্রে প্রমা প্রিন্টিং, সীমান্ত প্রেস এবং ব্রাইট প্রিন্টিং কাছাকাছি দর জমা দেয়। এই তিন প্রতিষ্ঠান একই মালিকের। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই লটে প্রতিযোগিতা করেনি।
তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এস এম মোহসীন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা সত্তা রয়েছে। তাই কাজের মানে সমস্যা হবে না।
দরপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন ১৬ জুন মুদ্রণশিল্পের মালিকদের মধ্যে দর নিয়ে আলাপ হয় হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে। সেই আলাপের স্ক্রিনশট দেখিয়ে একটি সূত্র বলছে, কোন শ্রেণিতে কত দর দিতে হবে, তা আগে বলে দিয়েছেন সমঝোতায় অংশ নেওয়া মালিকেরা।
এনসিটিবির বই ছাপার কাজের একটি বড় অংশ পেয়েছে অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস ও কর্ণফুলী প্রিন্টার্স। অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেসের মালিক হাসানুজ্জামান রুবেল। কর্ণফুলী প্রিন্টার্সের মালিক কাউছারুজ্জামান রবিন। তাঁরা আপন ভাই। সূত্রের দাবি, তাঁরাই সমঝোতা করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে ৭ সেপ্টেম্বর হাসানুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। প্রশ্ন শুনে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাঠ্যবই মুদ্রণে অনিয়মের অভিযোগে গতবার সাতটি প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করেছিল এনসিটিবি। তবে নতুন চেয়ারম্যান ফখরুল মাওলা দায়িত্ব নেওয়ার পর দরপত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার কথা বলে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। তার মধ্যে অন্তত দুটি প্রতিষ্ঠান এবার কাজ পেয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো বর্ণমালা প্রেস এবং সোহাগী প্রিন্টিং প্রেস। এদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের বই সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এনসিটিবির বই ছাপার দরপত্রে প্রাক্কলিত দর প্রেসের মালিকদের আগে থেকে জানার সুযোগ তৈরি হওয়া বড় ধরনের দুর্বলতা। তথ্য কীভাবে বাইরে গেল, তা অনুসন্ধান করে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিনের ‘ওপেন সিক্রেট’। কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর ছয় জায়গায় ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার কাফরুল থানার সামনে ফাঁকা বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরে রামপুরায় বিটিভি ভবনের দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।আজ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাসটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।আবুল বাসার প্রথম আলোকে বলেন, থানা–সংলগ্ন এলাকায় একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার ঘটনা শুনেছেন তিনি। ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।এর আগে আজ দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকসহ রাজধানীর ছয় স্থানে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় এলাকায় বিস্ফোরণে এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। কে বা কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ।যাত্রাবাড়ী থানা–পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে কাছের এলাকা যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামের একজন অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উড়ালসড়ক থেকে এসব ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে থানার প্রধান ফটকের সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কোথা থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তাঁরা। কে বা কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সেটি তাঁরা তদন্ত করে দেখছেন।এর আগে দুপুর থেকে রাজধানীর আরও পাঁচটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। আগারগাঁও ছাড়া বাকি স্থানগুলোতে উড়ালসড়কের ওপর থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের কিছু ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশ বলছে, কিছুদিন ধরেই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে আসছেন। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতা–কর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাঁরা গুলশান ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গুলশানে মিছিলের পর রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা বলেও উল্লেখ করেন। এমন পরিস্থিতিতে ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ও ওসিকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর আজও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।এ ছাড়া গত মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের এখনো এক মাসের বেশি বাকি। কিন্তু এ নিয়ে রোমাঞ্চটা যেন এবার একটু আগেভাগেই টের পাওয়া যাচ্ছে। ব্যালন ডি’অর পাওয়ার দৌড়ে থাকা ফুটবলাররাই তা একরকম উসকে দিচ্ছেন। কেউ বলছেন আমিই প্রাপ্য, কেউ আবার সরাসরি তা না বললেও গত মৌসুমে তাঁর গোলের সংখ্যা দেখতে বলছেন।স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামালও মনে করেন, ব্যালন ডি’অরটা প্রাপ্য তাঁর। এক সাক্ষাৎকারে বলা তাঁর কথায় অনেকে তো খুঁজে পাচ্ছেন ইংল্যান্ড তারকা হ্যারি কেইনের জন্য খোঁচাও। ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা কেইনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ব্যালন ডি’অর পাওয়ার ব্যাপারে আপনার ভাবনা কী?গত মৌসুমে বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা মনে করিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যালন ডি’অর তো আর আমার হাতে নেই, এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ভোটদাতাদের ওপর...৭৩ গোলই সব বলে দিচ্ছে।’এদিকে সাবেক ফুটবলার হোর্হে ভালদানোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ব্যালন ডি’অর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের পাওয়া উচিত, এমন কারও নয় যে ৮০ গোল করেছে। কারণ, আপনি ৮০ গোল করলে তার জন্য গোলদাতার আলাদা পুরস্কার পাবেন। এ দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, যেটা মানুষ বোঝে না।’বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইনইয়ামাল সরাসরি কারও নাম না বললেও তাঁর এই কথাতেই কেইনকে খোঁচা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। মোভিস্টারে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় তিনিই, ধারাভাষ্যকার হিসেবে যাঁর খেলা দেখার সময় আপনি আনন্দ পাবেন এবং যাকে দেখে আপনার মনে হবে এই খেলোয়াড়টা অন্যদের চেয়ে আলাদা।’রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং পিএসজি তারকা উসমান দেম্বেলের পাশাপাশি কেইন ও ইয়ামালকেও এবার ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদার মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইয়ামাল ও এমবাপ্পে সম্প্রতি নিজেরাই তাঁদের ব্যালন ডি’অর পাওয়া উচিত, এমন কথা বলে আলোচনায় এসেছেন।ইয়ামাল এই সাক্ষাৎকারেও বলেছেন, ‘এমবাপ্পে এবং আমি—আমরা দুজনই বিশ্বের সেরা, তবে আমার মনে হয় এ বছর এটা আমারই প্রাপ্য। আমার কাছে বিষয়টি একদম পরিষ্কার, আর যারা খেলা দেখে, তারা সবাই তা জানে।’গত বছর ইয়ামাল বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জিতেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট আছে তাঁর। তবে ফুটবলের সেরা এই ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে বড় সম্বল হতে যাচ্ছে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়।ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কেইনের ‘৭৩ গোলই সব বলে দিচ্ছে’
কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় সার না পেয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…