জাতীয়

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সেই বিবৃতি ২০১৬ সালে স্বাক্ষর হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো: আইনমন্ত্রী

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সেই বিবৃতি ২০১৬ সালে স্বাক্ষর হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো: আইনমন্ত্রী
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সেই বিবৃতি ২০১৬ সালে স্বাক্ষর হলে জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো: আইনমন্ত্রী

২০১৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব দলের ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে একটি বিবৃতির খসড়া তৈরি করতে অনুরোধ করেছিলেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাককে। সেই বিবৃতির কথা উঠে এসেছে আবদুর রাজ্জাকের বইয়ে। বইটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট (বিবৃতির খসড়া) করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। রাজ্জাক সাহেবের সেই স্টেটমেন্ট ২০১৬ সালে যদি স্বাক্ষর করা হতো, জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো।’

আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়। বইটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী ছিলেন সমাপনী বক্তা। আবদুর রাজ্জাকের দুই ছেলের পাশাপাশি তাঁর শুভানুধ্যায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অনেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে আদর্শগতভাবে কখনো এক কাতারে ছিলাম না। কিন্তু রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। আইন অঙ্গনে যখন আমি তাঁর জুনিয়র সহকর্মী ছিলাম, যেকোনো আদালতে মামলা করতে গেলে আমি তাঁর পাশে আস্তে করে বসতাম অথবা তিনি আস্তে করে পাশে এসে বসতেন। বিশেষ করে যখন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে যাচ্ছে, সেই সময় রাজ্জাক সাহেবের গাইডেন্স (নির্দেশনা) আমার কাছে ছিল আলোর দিশারির মতো, পথ দেখানোর মতো। রাজ্জাক সাহেব স্বপ্ন দেখতেন ও দেখাতেন। তাঁর বইটা পড়ে আমার মনে হয়েছে, প্রতিক্রিয়াশীলতার বৃত্ত ভেঙে জামায়াতকে একটি প্রগতিশীল ইসলামি দলে রূপান্তর করার জন্য যে নিরন্তর স্বপ্ন ও প্রচেষ্টা তিনি দেখতেন, এ বই তারই বহিঃপ্রকাশ।’

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘ওপর থেকে ইসলামি শাসন কায়েম করে চাপিয়ে দেওয়া হবে, সেটিকে তিনি (আবদুর রাজ্জাক) ভ্রান্ত নীতি বলে মনে করতেন। বরং সমাজ থেকে ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে একটি রাষ্ট্র গঠিত ও পরিচালিত হোক, সেটাই প্রকৃত ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের সঠিক পথ—তাঁর বইয়ে এ বিষয় এসেছে। ...বইটি আমার কাছে সাহিত্য মনে হয়নি, গবেষণাধর্মীও মনে হয়নি। বইটিকে জীবন্ত একজন মানুষের এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে। রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তাঁর জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তাঁর জীবনদর্শন যেভাবে ছিল—এ বই তার একটা সত্যিকারের প্রতিফলন।’

জামায়াতের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা এ অনুষ্ঠানে থাকবেন—সে প্রত্যাশা ছিল উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে উপস্থিত হতে না পারাটা তাঁদের দৈন্য, ব্যর্থতা, সংকীর্ণতা ও সীমাবদ্ধতা। উপস্থিত হয়ে তাঁরা রাজ্জাক সাহেবের বইয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারতেন। কারণ, এটা গণতন্ত্র। আপনি রাজ্জাক সাহেবের সব কথার সঙ্গে একমত হবেন পার্টির ফোরামে, এটা যেমন সত্যি নয়; আবার তাঁর সমালোচনাকে গ্রহণ করতে পারবেন না, এটাও সঠিক নয়।’

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, আবদুর রাজ্জাক একাত্তর নিয়ে যে মূল্যায়ন করেছেন, সে বিষয়ে তিনি জাতির কাছে একটা স্টেটমেন্ট করার কথা বলেছিলেন। রাজ্জাক সাহেবের সেই স্টেটমেন্ট ২০১৬ সালে যদি স্বাক্ষর করা হতো, জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো। জামায়াত কিন্তু ওই প্রশ্নই মেনে নিয়েছে। ওই স্টেটমেন্টের আলোকেই জামায়াতের আজকের অবস্থান।

বর্তমান জাতীয় সংসদে সংশোধিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন পাসের ঘটনা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যারা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তৎকালীন আল বদর, তৎকালীন রাজাকার, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী—এই তৎকালীন শব্দটা আগে ছিল না। আমরা আমাদের সংশোধনী এনেছি তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল-বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী পার্টি— এদের বিরুদ্ধে যারা বিরোধিতা করেছেন, সংগ্রাম করেছেন দেশ স্বাধীনের জন্য, তাঁরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা। দাবি ছিল জামায়াতের নামটা ওখান থেকে বাদ দেওয়ার জন্য। আমরা বললাম, ঐতিহাসিক সত্যটাকে আমরা তো অস্বীকার করতে পারব না। আলোচনার একপর্যায়ে এসে ওখানে শুধু লেখা হলো তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন নেজামে ইসলাম।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংসদে যখন এই আইনটা প্লেসড হলো, আপনারা জানেন যে সংসদে আইন পাস করতে গেলে হ্যাঁ এবং না ভোট দিতে হয়। জামায়াতে ইসলামী এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এই সংশোধনীর ক্ষেত্রে কোনো না ভোট দেয়নি।’

জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা। ১৮ সেপ্টেম্বর লেকশোর হোটেল, গুলশান

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে “না” ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই ভূমিকাকে কনসিড (স্বীকার) করল। এখানেই রাজ্জাক সাহেবের দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। এখানেই রাজ্জাক সাহেব অনন্য। এখানে রাজ্জাক সাহেব একটি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এক ধাপ এগিয়ে দিয়ে গেছেন।’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে থাকলেও ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক স্বমহিমায় একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘রাজ্জাক সাহেব নিজেকে এমন একটি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যে কারণে তিনি এখনো প্রাসঙ্গিক। রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে যখন শেষ কথা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমার শেষ ইচ্ছা পূরণ করেন, বাংলাদেশের মাটিতে আমার যেন দাফন হয়। জুলাই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আল্লাহ রাজ্জাক সাহেবের সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। আল্লাহ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন। তাঁর এ বই আমাদের সবার অবশ্যপাঠ্য হয়ে উঠুক, যারা বিশেষ করে রাজনীতি করি তাদের জন্য।’

ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইটির মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়। আইনমন্ত্রী ছাড়াও বইটির ওপর আলোচনায় অংশ নেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ ও ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বিকল্প পরিবহন উপেক্ষিত: আইপিডি
মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, বিকল্প পরিবহন উপেক্ষিত: আইপিডি

মেট্রোরেল প্রকল্পে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার অভাবে ব্যয় বেড়েছে বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, মেট্রোরেলের পাশাপাশি বাস, বিআরটি, কমিউটার রেল, পথচারীবান্ধব ব্যবস্থা ও অন্যান্য গণপরিবহনে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। প্রকল্প অনুমোদনের আগে উপযোগিতা, লাভ-ক্ষতি ও বিকল্প পরিবহনব্যবস্থার সম্ভাবনা যথাযথভাবে বিশ্লেষণেরও দাবি জানিয়েছে তারা। শুক্রবার ‘মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় এ কথা বলা হয়। আইপিডির আয়োজনে অনুষ্ঠানে পরিবহন পরিকল্পনাবিদ, নগর–পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, মেট্রোরেলের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে যোগাযোগব্যবস্থার অন্যান্য সম্ভাবনা পিছিয়ে পড়েছে। ২০০৫ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) বাস, বিআরটি ও পথচারীবান্ধব ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। বরং প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিনটি মেট্রোরেলের প্রায় ৬০ কিলোমিটার নেটওয়ার্কের কথা থাকলেও সংশোধিত পরিকল্পনায় ছয়টি মেট্রোরেলের ১৪০ কিলোমিটারের বেশি নেটওয়ার্কের প্রস্তাব করা হয়েছে।আইপিডির তথ্য অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। বিপরীতে এমআরটি লাইন-১-এ ৩ হাজার ৬৬১ কোটি এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)-এ ৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, প্রকল্পগুলোর ব্যয়ের এই পার্থক্য প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।পরিবহন পরিকল্পনাবিশেষজ্ঞ মুনতাসীর মামুন বলেন, মেট্রোর পাশাপাশি কার্যকর বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। বর্তমানে প্রায় ১ শতাংশ ট্রিপ মেট্রোর মাধ্যমে হচ্ছে। ভবিষ্যতে সব পরিকল্পিত মেট্রোরেল বাস্তবায়িত হলেও সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ট্রিপ বহন করা সম্ভব হতে পারে। ফলে বাকি যাত্রীদের জন্য কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বড় প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় যৌক্তিক ও ন্যায্য কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের কথাও বলেন তিনি।এ ছাড়া আলোচকেরা কমলাপুর-এয়ারপোর্ট-জয়দেবপুর রেলপথকে কমিউটার ট্রেনের জন্য ব্যবহার, বিআরটি ও বাস রুট রেশনালাইজেশন, মেট্রোর সঙ্গে পথচারী ও অন্যান্য গণপরিবহনের সমন্বয় এবং প্রকল্পের জীবনচক্র ব্যয় প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।আইপিডি মেট্রোরেল প্রকল্পে উন্মুক্ত দরপত্র, স্বাধীনভাবে ব্যয় যাচাই, ২০-৩০ বছরের পরিচালন ব্যয় ও ঋণের কিস্তির হিসাব প্রকাশ এবং প্রকল্পের প্রতিটি প্যাকেজের দরপত্র ও ব্যয়ের তথ্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে।

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
বলিভিয়ার জঙ্গলে নতুন প্রজাতির বন্য বিড়াল, জীবিত সদস্য একটিই

বলিভিয়ার জঙ্গলে নতুন প্রজাতির বন্য বিড়াল, জীবিত সদস্য একটিই

তপু বর্মণকে ছাড়াই আসিয়ান কাপের দল ঘোষণা বাফুফের

তপু বর্মণকে ছাড়াই আসিয়ান কাপের দল ঘোষণা বাফুফের

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যে কাফরুলে বাসে আগুন

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের মধ্যে কাফরুলে বাসে আগুন

রাকিবুলের অডিও: তদন্ত, তবে তিনি কোথায়?
রাকিবুলের অডিও: তদন্ত, তবে তিনি কোথায়?

সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তিন সদস্যের কমিটি তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া রাকিবুলকে গতকাল রাতে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি; ব্যক্তিগত ফোনও বন্ধ।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
‘অশ্লীলতা মনে হয়নি’, ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’র বিতর্কিত ঝরনার দৃশ্য নিয়ে মন্দাকিনী

‘অশ্লীলতা মনে হয়নি’, ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’র বিতর্কিত ঝরনার দৃশ্য নিয়ে মন্দাকিনী

ভবনে টাইলস লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাইভোল্টেজের তারে এক ঘণ্টা ঝুলছিল মিস্ত্রির লাশ

ভবনে টাইলস লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হাইভোল্টেজের তারে এক ঘণ্টা ঝুলছিল মিস্ত্রির লাশ

ব্যালন ডি’অর নিয়ে ইয়ামাল কি কেইনকে খোঁচা দিলেন

ব্যালন ডি’অর নিয়ে ইয়ামাল কি কেইনকে খোঁচা দিলেন

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি ২৬% বেড়েছে, ইইউতে বেড়েছে ৯%
যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি ২৬% বেড়েছে, ইইউতে বেড়েছে ৯%

দেশে তীব্র জ্বালানিসংকটের মধ্যেও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমার পর আগস্টে তা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে ইইউতে গত জুলাইয়ে আড়াই শতাংশ কমার পর আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশ।তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, গত মাসে গ্যাস-বিদ্যুৎসংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তারপরও ক্রেতাদের ধরে রাখতে অনেক কারখানামালিক বাড়তি খরচ করে হলেও সময়মতো পণ্য রপ্তানি করেছেন। এতে বড় দুই বাজারে রপ্তানি বেড়েছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, বড় দুই বাজারে ভালো করায় গত মাসে মোট ৩৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত (জুলাই-আগস্ট) মোট ৫৫০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ।যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ২৫%আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৮১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ রপ্তানি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি।ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি।যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ৭ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে।মোহাম্মদ হাতেম, সভাপতি, বিকেএমইএইপিবির তথ্যের সঙ্গে অটেক্সা ও ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখানের পার্থক্য থাকে। ফলে এক মাস পর দুই সংস্থা থেকে তথ্য পাওয়া গেলে প্রকৃত রপ্তানি কত হয়েছে, সেটা বোঝা যাবেদেশীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, গত বছর পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের চাহিদা কমছে। চীনের ক্রয়াদেশ পাওয়া দ্রুত কমলেও তার বড় অংশ চলে যাচ্ছে ভিয়েতনামে। কিছু অংশ পাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। বাংলাদেশে আসছে তুলনামূলক কম। কারণ, চীন থেকে সরে আসা ক্রয়াদেশের বড় অংশই কৃত্রিম তন্তুর বা ম্যানমেইড পোশাক, যেখানে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলনামূলক কম। পাশাপাশি দীর্ঘ লিড টাইমের কারণে ফাস্ট ফ্যাশনের ক্রয়াদেশেও বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে সব দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আইন অনুযায়ী ১৫০ দিনের জন্য এ শুল্ক আরোপ করা যায়, যার মেয়াদ গত মাসে শেষ হয়েছে।জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে কার্যকর না করার অভিযোগে জুলাই মাসে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর ১০ ও সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে প্রতিযোগী কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্কহার কম। এতে সামনের দিনে বাজারটিতে সম্ভাবনা দেখছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকেরা।ইইউর বাজারেও প্রবৃদ্ধিইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশ ১৫৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ রপ্তানি ৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেশি।এর আগে জুলাইয়ে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছিল। ওই মাসে রপ্তানি হয়েছিল ১৯৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম।চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩৪৯ কোটি ডলারের। এ রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইইউর বাজারে ১৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়, যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কম।ইউরোস্টাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি পঞ্জিকা বছর ২০২৬ সালের প্রথম ৭ মাস জানুয়ারি-জুলাইয়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক।জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইপিবির তথ্যের সঙ্গে অটেক্সা ও ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখানের পার্থক্য থাকে। ফলে এক মাস পর দুই সংস্থা থেকে তথ্য পাওয়া গেলে প্রকৃত রপ্তানি কত হয়েছে, সেটা বোঝা যাবে। গত মাসে গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও বাড়তি ব্যয় করে হলেও সময়মতো রপ্তানি করেছেন আমাদের উদ্যোক্তারা।’মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, দুই দিন ধরে কারখানায় গ্যাসের চাপ সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। এটা অব্যাহত থাকলে রপ্তানি বাড়বে। কারণ, তখন ক্রেতারা ক্রয়াদেশ দিয়ে ভরসা পাবেন।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জায়গা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নয়: রুহুল কুদ্দুস কাজল

অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের জায়গা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নয়: রুহুল কুদ্দুস কাজল

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম

সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ, চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা

সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ, চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা

0 Comments