প্রথম আলো বন্ধুসভা ও অল ব্রডকাস্টার্স কমিউনিটির (এবিসি) যৌথ উদ্যোগে অনলাইনে চলছে উপস্থাপনাবিষয়ক বিশেষ কর্মশালা। ‘প্রেজেন্টেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শিরোনামে কর্মশালার দ্বিতীয় সেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৬ সেপ্টেম্বর। এতে ‘ভ্লগিং ও উপস্থাপনা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন বাপকা বেটার প্রতিষ্ঠাতা শুভাশিস ভৌমিক। এই লেখা তাঁর বক্তব্যের প্রতিলিপি। সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি।
আমার কাছে কনটেন্ট তৈরি হলো কোনো আইডিয়া, গল্প, তথ্য, অভিজ্ঞতা বা অনুভূতিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। আপনি মানুষকে হাসাতে পারেন, সেটা এন্টারটেইনমেন্ট। শেখাতে পারেন, ইনফোটেইনমেন্ট। আপনার চিন্তা বা ভাষার মাধ্যমে কাউকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন, সেটা মোটিভেশনাল কনটেন্ট। বাস্তব জীবনের সঙ্গে কোনো বিষয়কে রিলেট করাতে পারেন, সেটা লাইফস্টাইল কনটেন্ট।
আবার মানুষকে কোনো বিষয় অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে, কমেন্ট করতে বা কোনো অ্যাকশনে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। কোনো পণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কেউ সেটি কিনে ফেললে সেটাও একধরনের মার্কেটিং কনটেন্ট।
অর্থাৎ কনটেন্ট আপনাকে কিছু অনুভব করায়, ভাবায় এবং কখনো কোনো অ্যাকশন নিতে বাধ্য করে। এটাই কনটেন্ট ক্রিয়েশন।
সংক্ষেপে বললে, কনটেন্ট হলো মনোযোগ আকর্ষণ + বিশ্বাস + ইনফ্লুয়েন্স + প্রভাব।
তবে শুধু মনোযোগ আকর্ষণ করলেই হবে না। মনোযোগ কখনোই বিশ্বাসে রূপান্তরিত হবে না, যদি আপনি পারসোনাল ব্র্যান্ডিং তৈরি করতে না পারেন। সেই জায়গাটা অর্জন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, আপনার কনটেন্ট দর্শকের মধ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।
কনটেন্ট তৈরির আগে সমস্যাটা বুঝুন
প্রতিটি কনটেন্ট তৈরির আগে প্রথমেই বুঝতে হবে সমস্যাটা কী। আপনি কোন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইছেন এবং দর্শক আসলে কোন সমস্যাটিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন, সেটা বুঝতে হবে। এরপর সেই সমস্যাকে কেন্দ্র করে কনসেপ্ট তৈরি করতে হবে।
তারপর আসে স্ক্রিপ্ট লেখা। সমস্যাটি কীভাবে আরও সহজভাবে বোঝানো যায়, কীভাবে গল্পের মতো করে উপস্থাপন করা যায়, সেটা ভাবতে হবে।
সবশেষে আসে এক্সিকিউশন। এক্সিকিউশনে নতুনত্ব কীভাবে আনা যায়, কোথায় গিয়ে শুট করব, কীভাবে কথা বলব, কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করব, আমার পোশাক কী হবে, আমার পজিশন কী হবে—এসব নিয়েও কল্পনা করতে হবে।
কনটেন্ট আইডিয়া কোথা থেকে আসবে
কনটেন্টের আইডিয়া আসতে পারে মানুষের বাস্তব সমস্যা ও অভিজ্ঞতা থেকে। যেমন—
• মানুষের কোনো একটি সমস্যার সমাধান দিতে পারেন।
• মানুষ সাধারণত যে ভুলগুলো করে, সেগুলো ধরিয়ে দিতে পারেন।
• দুটি বিষয়ের মধ্যে তুলনা করতে পারেন। এ ধরনের ভিডিও সব সময়ই জনপ্রিয় হয়।
• মানুষের কোনো ভুল ধারণা ভাঙতে পারেন।
• কোনো বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন।
• কাজের পর্দার পেছনের গল্প দেখাতে পারেন।
• কেস স্টাডি বা বাস্তব কোনো উদাহরণ বিশ্লেষণ করতে পারেন।
• কোনো বিষয় ধাপে ধাপে শেখাতে বা দেখাতে পারেন। মানুষ এ ধরনের কনটেন্ট খুব পছন্দ করে।
• চলমান ট্রেন্ড বা কোনো আলোচিত বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তবে সেটি যেন আপনার ব্যক্তিত্ব ও কনটেন্টের সঙ্গে মানানসই হয়।
• কোনো বই পড়ে বা লেখা পড়ে কিছু শিখে থাকলে সেই শিক্ষাও শেয়ার করতে পারেন।
তবে ট্রেন্ড দেখেই হুট করে কোনো বিষয়ে কনটেন্ট শুরু করা ঠিক নয়। ধরুন, একটি রাজনৈতিক বিষয় ট্রেন্ডে আছে। আপনি হুট করে সেই বিষয় নিয়ে কনটেন্ট শুরু করলেন। হয়তো সাময়িকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারবেন। মনে হতে পারে, এটাই বুঝি আপনার নতুন জনরা। কিন্তু সেই জনরায় বিশ্বাস, ইনফ্লুয়েন্স ও প্রভাব তৈরি করতে হলে অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়। তাই ট্রেন্ডের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিত্ব ও কনটেন্টের সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
কনটেন্ট পিলার নির্ধারণ করুন
আমার মতে, কনটেন্টের চারটি পিলার হওয়া উচিত—
১. এডুকেট: নতুন কিছু শেখানো
২. ইন্সপায়ার: মানুষকে অনুপ্রাণিত করা
৩. এন্টারটেইনমেন্ট: বিনোদন দেওয়া
৪. প্রোডাক্ট/সার্ভিস: আপনার পণ্য বা সার্ভিসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
কনটেন্ট পিলার তৈরি করার আগে নিজেকে চারটি প্রশ্ন করতে হবে—
১. আমার অডিয়েন্স কী জানতে চায়?
২. আমি কোন বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানি?
৩. কোন বিষয়ের চাহিদা বেশি?
৪. আমার কনটেন্টের মাধ্যমে আমি কী অর্জন করতে চাই?
এ প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার কনটেন্টের দিক নির্ধারণে সাহায্য করবে।
আপনার অডিয়েন্সকে বুঝুন
কনটেন্ট তৈরির আগে জানতে হবে, আপনি কার জন্য কনটেন্ট বানাচ্ছেন। আপনার প্রোফাইল কেমন? আপনাকে কারা দেখে? কোন বয়সী মানুষ আপনার কনটেন্ট দেখে? তারা কোন ধরনের কনসেপ্ট পছন্দ করে? কারা আসলে আপনার অডিয়েন্স, সেটা কি কখনো বিশ্লেষণ করেছেন?
বাংলাদেশে দেখবেন, বেশির ভাগ ফলোয়ার থাকে ১৮-২৪ বছর বয়সী। এই বয়সীরা বেশির ভাগ সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো। আমার কনটেন্টের প্রায় ৭৫ শতাংশ ফলোয়ার ২৫ বছরের বেশি বয়সী।
কোন বিভাগ ও কোন দেশ থেকে মানুষ আপনার কনটেন্ট দেখছে, কেন দেখছে, সেটাও বুঝতে হবে।
মানুষ কেন আপনার কনটেন্ট সেভ করবে
কোনো কনটেন্ট তৈরির আগে এটাও ভাবতে হবে, মানুষ কেন আপনার কনটেন্টটি সেভ করে রাখবে। মানুষ সাধারণত কোনো কনটেন্ট সেভ করে রাখে, যদি—
• পরে কাজে লাগবে মনে করে;
• কোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়;
• চেকলিস্ট দেওয়া থাকে;
• স্টেপ-বাই-স্টেপ গাইড থাকে;
• ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
সুতরাং কনটেন্ট তৈরির আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেন মানুষ আমার কনটেন্টটা সেভ করে রাখবে? এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উপস্থাপনায় ব্যক্তিত্ব ও গল্পের সংযোগ
ব্যক্তিত্ব এবং গল্পের সংযোগ কীভাবে করাবেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রেই বিষয়টি প্রযোজ্য।
আপনি যা নন, সেটা যদি উপস্থাপন করতে যান, দর্শকেরা তার সঙ্গে কানেক্ট করতে পারবে না। আপনি ফেক হলে মানুষ কানেক্ট করবে না। হয়তো সামান্য সময়ের জন্য সুবিধা পেতে পারেন, কিন্তু সব সময় পারবেন না। আপনার শক্তির জায়গা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
আমার ও আমার ছেলের জার্নিটা শুরু হয়েছিল গান দিয়ে। এরপর বুঝতে চেষ্টা করেছিলাম, আমাদের শক্তির জায়গাটা কোথায়। আমার কাছে মনে হয়েছে, গান আমরা গাই ঠিকই, তবে সেটা আমাদের সবচেয়ে শক্তির জায়গা নয়।
ওইটা যখন বুঝতে পারলাম, তখন দেখলাম, আমার ছেলের শক্তির জায়গা লেখা। সে খুব ভালো লেখে। ওকে সেভাবেই গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি, যাতে ওর লেখার হাতটা ভালো হয়। ও স্কুল থেকেই গল্প লেখা শুরু করেছিল। আর আমার শক্তির জায়গা হচ্ছে সহজে গল্প বলা।
এভাবে নিজের শক্তির জায়গাটা বুঝে কনটেন্টের ধরন নির্ধারণ করা যায়।
একটি কনটেন্ট কীভাবে পরিকল্পনা করবেন
আমি যখন কনটেন্টটা স্ক্রিপ্ট করি, চিন্তা করি, তখন ১৪টি জিনিস মাথায় রাখি। সব সময় মাথায় রাখি, এই কনটেন্ট বানানোর আগে টপিকটা কী?
প্রতিটি কনটেন্ট বানানোর আগে নিজেকে প্রশ্ন করি—এই কনটেন্ট থেকে আমার দর্শকেরা নতুন কী পাবে? নতুন কোনো ভ্যালু পাবে কি না?
ভ্যালু দিতে গেলে একজন এক্সপার্টের ক্যামিও রাখা যেতে পারে। একজন কোচকে ভিডিওতে রাখতে পারেন। পাশাপাশি প্রথম তিন সেকেন্ডের অংশে কিছু মোশন রাখা যায়। কাট-শট ও অ্যাঙ্গেলও দর্শককে আটকে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিটি পয়েন্টের সময় কোনো না কোনো অঙ্গভঙ্গি বা অ্যাকটিভিটি করার চেষ্টা করা যায়।
বিজ্ঞাপন বা ব্র্যান্ড কনটেন্টেও বিশ্বাসযোগ্যতা জরুরি
আপনাদের প্রথমে যে ভিডিওটা দেখালাম, আমি কিন্তু শুরুতেই ব্র্যান্ডের নাম বলিনি। শুধু কনটেন্টের জন্য নয়, সত্যি সত্যিই আমি তার আগের ৩ মাসে ১০ কেজি ওজন কমিয়েছি।
পাশাপাশি আমি কিন্তু বলিনি যে আপনি ওই পণ্যটা কিনুন। কেবল বলেছি, যাচাই করে দেখতে পারেন। এটা ভালো অপশন হতে পারে। তার আগে আমি দেখিয়েছি, আন্তর্জাতিক রেফারেন্স কী। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলাম, সেটাও বলেছিলাম।
অর্থাৎ কোনো পণ্য বা সার্ভিস নিয়ে কথা বললেও নিজের অভিজ্ঞতা, তথ্য ও রেফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হবে।
সহজ ও শ্রোতাবান্ধব ভাষায় কথা বলুন
চেষ্টা করি, যতটা সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়। শ্রোতাবান্ধব ভাষায়। আমি মোটিভেশনাল বক্তব্য দিতে চাইনি। আমি আমার অনুভূতি শেয়ার করতে চেয়েছি।
কনটেন্টে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার জন্য ভাষা সহজ হওয়া জরুরি। আপনার বক্তব্য যেন দর্শকের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
গল্পকে কতভাবে বলা যায়
একটি গল্পকে কত ভিন্ন অ্যাঙ্গেল দিয়ে চিন্তা করে করা যায়, এটা মজার। একই বিষয়কে আপনি তথ্য হিসেবে বলতে পারেন, নিজের অভিজ্ঞতা হিসেবে বলতে পারেন, গল্পের মাধ্যমে বলতে পারেন, সমস্যা ও সমাধানের কাঠামোয় বলতে পারেন কিংবা বিনোদনের মাধ্যমে বলতে পারেন।
তাই শুধু বিষয় নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়। একটি বিষয়কে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে উপস্থাপন করবেন, সেটিও কনটেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কোন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট দেবেন
কনটেন্ট তৈরি করার পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, কোন প্ল্যাটফর্মে সেটি প্রকাশ করবেন? ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, নাকি ইউটিউব?
এ নিয়ে অনেকে কনফিউজড হয়ে যায়। অনেকে মনে করে, সব প্ল্যাটফর্মের জন্যই কনটেন্ট বানাতে হবে। হয়তো করা উচিত। তবে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব ধরন ও দর্শক আছে।
যে ব্যক্তি ট্রাভেল কনটেন্ট বানায়, যার ভিডিওর দৈর্ঘ্য ও ধরন একরকম, তার জন্য হয়তো ইউটিউব পারফেক্ট।
আমি যেহেতু সমস্যা সমাধান, ব্যবসায়িক টপিক, জটিল কোনো বিষয় ও ইনফোটেইনমেন্ট নিয়ে কনটেন্ট বানাই, আমার কাছে মনে হয়েছে, এগুলোর জন্য ফেসবুক সঠিক প্ল্যাটফর্ম।
আমি ব্যক্তিগতভাবে ইনস্টাগ্রামে খুব একটা অ্যাকটিভ নই। ইউটিউবেও খুব একটা অ্যাকটিভ নই। তবে ফেসবুক পেজে একটা রিদম ফলো করে গেছি। কনটেন্ট প্রকাশে ধারাবাহিক থাকার চেষ্টা করেছি। মাসে ৭-৮টি কনটেন্ট প্রকাশ করে যাচ্ছি।
আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রতিটি কনটেন্টের জন্য ব্রিদিং স্পেস থাকা উচিত। কনটেন্ট মানুষের কাছে পৌঁছানোর পর সেটি উপলব্ধি করারও একটা ব্যাপার আছে।
একই কনটেন্ট সব প্ল্যাটফর্মে নয়
যেটা ফেসবুকের জন্য বানাবেন, সেটা কিন্তু লিংকডইনের জন্য নয়। ইউটিউবের জন্য যে ক্যাপশন লিখবেন, সেটা কিন্তু ফেসবুকের জন্য নয়। এগুলো জানতে হবে, ধাপে ধাপে শিখতে হবে।
ভিডিওর রেশিওটাও গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউবের জন্য যেটা বানাই—১৬:৯ রেশিও, সেটা ফেসবুকে দিলে সব সময় ভালো কাজ না–ও করতে পারে। আবার ফেসবুকের জন্য বানানো ৪:৫ রেশিওর কনটেন্ট ইউটিউবের জন্য উপযুক্ত নয়।
তবে ফেসবুকের জন্য বানালে সেটা ইনস্টাগ্রামে একই রকম দেওয়া যায়, টিকটকেও চালানো যায়।
আবার এখন ১:১ রেশিওর কনটেন্টও ট্রেন্ডি। এই রেশিওতে কনটেন্ট বানালে অনেক জায়গায় প্রকাশ করা সম্ভব।
সুতরাং শুরুতেই ভাবতে হবে, আমি আসলে কনটেন্টটা কীভাবে বানাব এবং কোথায় প্রকাশ করব?
কনটেন্ট প্রকাশের সময় ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ
কনটেন্ট প্রকাশ করার পর সেটার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে হবে। দেখতে হবে—
• এক মিনিটের ভিউ কেমন হচ্ছে;
• তিন সেকেন্ডের ভিউ কেমন হচ্ছে;
• ওভারঅল ওয়াচটাইম কেমন;
• মানুষ রিলস বেশি দেখছে, নাকি স্টোরি;
• ফটো বেশি দেখছে কি না;
• থাম্বনেইলসহ ও থাম্বনেইল ছাড়া কোন ধরনের কনটেন্ট ভালো কাজ করছে।
এই অ্যানালাইসিস গুরুত্বপূর্ণ। কোন সময়ে মানুষ মূলত আপনার কনটেন্ট দেখছে, সেটাও বিশ্লেষণ করতে হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কখন পোস্ট করছেন। আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিক টাইম থাকে। তবে নিজের অডিয়েন্সের ডেটা বিশ্লেষণ করে সময় নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কনটেন্ট তৈরিতে কী ধরনের ডিভাইস লাগবে
আমার পরামর্শ থাকবে, শুরুটা স্মার্টফোন দিয়ে করা উচিত। পাশাপাশি ভালো মাইক্রোফোন গুরুত্বপূর্ণ। ইনডোরে শুট করলে লাইটিং গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ভালো একটি ট্রাইপড বা গিম্বল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ভালো কনটেন্ট শুরু হয় আইডিয়া দিয়ে, ইকুইপমেন্ট দিয়ে নয়।
কনটেন্ট থেকে কীভাবে আয় আসে
একটি কনটেন্ট একেকজনকে একেক জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। আমাকে এক জায়গায় নিয়ে গেছে। শুরু করেছিলাম একভাবে, এক থট প্রসেস নিয়ে; পরে চলে গেছি আরেক জায়গায়।
কনটেন্টের যাত্রাটা হতে পারে—
কনটেন্ট → মনোযোগ আকর্ষণ → বিশ্বাস → স্বীকৃতি → পারসোনাল ব্র্যান্ড → সুযোগ → আয়
অর্থাৎ সুযোগগুলো আপনাকে অনেকভাবে আয়ের উৎস এনে দিতে পারে। তাই আয়ের জন্য শুরুতেই দৌড়ানো যাবে না। প্রতিটি ধাপ পার হলে আয় আপনা–আপনিই আসা শুরু করবে। সব ধাপ পার হওয়ার পর আপনি বিভিন্নভাবে আয় করতে পারেন। যেমন—
• ব্র্যান্ড ডিল;
• অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং;
• কমিউনিটির সঙ্গে কাজ;
• ইভেন্টে কথা বলা;
• ওয়েবিনারে কথা বলা;
• পডকাস্টে অংশ নেওয়া;
• কনসালটিং;
• ডিজিটাল কোর্স;
• ওয়ার্কশপ;
• নিজের ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল পণ্য লঞ্চ;
• নিজের দক্ষতা অনুযায়ী সার্ভিস বা সেবা দেওয়া।
অর্থাৎ কনটেন্ট নিজেই শুধু আয়ের মাধ্যম নয়; ভালো কনটেন্ট থেকে তৈরি হওয়া বিশ্বাস, পরিচিতি ও সুযোগও আয়ের বিভিন্ন পথ তৈরি করতে পারে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গণসংগীতের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নানা তথ্য সংরক্ষণ করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও গবেষক দিনু বিল্লাহ। তাঁর লেখা গণসংগীতের ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ ‘মিলিত প্রাণের কলরব’ নিয়ে আলোচনা ও তাঁকে স্মরণ করে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি স্মরণ অনুষ্ঠান। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বইটি শুধু গণসংগীতের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও মানুষের অংশগ্রহণেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল।শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ঢাকা থিয়েটার ও অনন্যা প্রকাশনীর যৌথ আয়োজনে এ স্মরণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক, নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ, গণসংগীত–গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইম রানা এবং দিনু বিল্লাহর জীবনসঙ্গী মাহবুবা খানম। সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ।নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মিলিত প্রাণের কলরব শুধু গণসংগীতের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কোন গান কখন, কোথায় ও কীভাবে তৈরি ও পরিবেশিত হয়েছে, তার পাশাপাশি দিনু নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও যুক্ত করেছেন। ফলে হারিয়ে যাওয়া অনেক শিল্পী, সুরকার ও গানের তথ্য বইটিতে উঠে এসেছে।’নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘দিনু বিল্লাহকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না, অনেককেই পাওয়া যাবে না। তবে সেই সময় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা দরকার। এ বইকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের জন্য আরও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। সেই গবেষণার মধ্য দিয়ে তৎকালীন মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’দিনু বিল্লাহকে স্মরণ করে মফিদুল হক বলেন, ষাটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে যে সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠেছিল, দিনু বিল্লাহ তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘দিনু ছিলেন স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্বের মানুষ। হাসিখুশি, সদালাপী দিনু খুব সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। দিনু ছিলেন সংগীত অন্তপ্রাণ। একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ছিল। অনেক গুণী মানুষের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার ফলে তাঁর অভিজ্ঞতার পরিসরও ছিল বিস্তৃত। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দিনুর জীবন ও লেখায় নানাভাবে ছাপ ফেলেছে।’দিনু বিল্লাহর স্ত্রী মাহবুবা খানম যখন কথা বলছিলেন, তখন চারপাশে শোকের আবহ তৈরি হয়। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি স্মরণ করেন স্বামীর সঙ্গে কাটানো নানা সময়ের কথা। তিনি বলেন, ‘শিশু থেকে বৃদ্ধ—যেকোনো বয়সের মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারতেন দিনু।’ মুক্তিযুদ্ধ দিনু বিল্লাহর অন্যতম চিন্তার কেন্দ্র ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ তাঁর মধ্যে গভীরভাবে গেঁথে ছিল।পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে এদিন আরও উপস্থিত ছিলেন দিনু বিল্লাহর বোন, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী শিমূল ইউসুফ। ভাইয়ের সঙ্গে স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য মিষ্টি (দিনু বিল্লাহকে এ নামেই ডাকতেন শিমূল) যা করেছে, এই জীবনে সেই ঋণ আমি শোধ করতে পারব না। ছোটবেলায় তাঁর সাইকেলে চড়ে ছায়ানট, টেলিভিশন সেন্টার, রেডিওসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যেতাম। তাঁর হাত ধরেই বহু গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল আমার।’২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট কানাডায় মৃত্যু হয় দিনু বিল্লাহর। মৃত্যুর আগে দেহদান করে যান তিনি। ভাইয়ের এ দেহদান প্রসঙ্গে শিমূল ইউসুফ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে যারা হাঁটছেন, তাদের সঙ্গে একটু বুক মেলাতে ইচ্ছা করে। আমার ভাই তো তাদের অংশ হয়ে আছে।’গণসংগীত–গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইম রানা গণসংগীতের বিকাশ ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দিনু বিল্লাহর গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর গবেষণাকর্ম গণসংগীতের বিভিন্ন পর্যায়, গান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।দিনু বিল্লাহ ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। নাট্যচর্চার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘কাকা বাবুর টয় হাউজ’, ‘টয় হাউজ থেকে ১৯৭১: মৃত্যু ছায়াসঙ্গী’। এ ছাড়া শহীদ আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘সুরের বরপুত্র’।আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে গণসংগীত পরিবেশন করে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী।
রাজধানীর কদমতলীতে একটি বাসা থেকে ইয়ানূর বেগম (২৫) নামের এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তালাবদ্ধ কক্ষের খাটের নিচ থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই ইয়ানূরের স্বামী জুয়েল পলাতক।নিহত ইয়ানূর পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। তিনি কদমতলীর ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন।পরিবারের বরাত দিয়ে কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন নাহার জানান, প্রায় তিন মাস আগে নিজেদের পছন্দে পালিয়ে বিয়ে করেন জুয়েল ও ইয়ানূর। জুয়েল পেশায় বাসের সুপারভাইজার। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। বিষয়টি রাতেই মুঠোফোনে নিজের মাকে জানিয়েছিলেন ইয়ানূর।শুক্রবার সকালে ইয়ানূরকে একাধিকবার ফোন দিয়েও না পেয়ে তাঁর বাসায় যান ছোট ভাই ইমাম হোসেন। সেখানে গিয়ে তিনি কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। একপর্যায়ে সন্দেহ হলে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি। পরে খোঁজাখুঁজির পর খাটের নিচে বোনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।কামরুন নাহার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ইয়ানূরকে হত্যা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইয়ানূরের আগে বিয়ে হয়েছিল। আগের স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ওই সংসারে তাঁর পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ছেলেটি নানা-নানির কাছে থাকে।
লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার জঙ্গলে একটি বাচ্চা বিড়াল খুঁজে পেয়েছিলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। শরীরে ছোপ ছোপ দাগ। আকৃতি পোষা বিড়ালের মতোই। ওই ব্যক্তি ভেবেছিলেন, এটি হয়তো পোষা বিড়াল। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন, এটির আচরণ বাসাবাড়ির সাধারণ বিড়ালের মতো নয়। পরে সেটির স্থান হয় প্রাণীদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। ওই আশ্রয়কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ছিলেন বলিভিয়ার বিজ্ঞানী নোগালেস-আসারুনস। তাঁর চোখে পড়ে বিড়ালটি। বুঝতে পারেন, এটি একটি বন্য বিড়াল। শুরু করেন সেটি নিয়ে পরীক্ষা। যোগ দেন অন্য গবেষকেরাও। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, এটি নতুন এক প্রজাতির বন্য বিড়াল। আর আশ্রয়কেন্দ্রে ওই বিড়ালের বাইরে এ প্রজাতির অন্য কোনো বিড়াল কখনো দেখা যায়নি।বিড়ালটি নিয়ে গবেষণা গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানী নোগালেস এই গবেষণাপত্রের একজন সহলেখক। গবেষণাপত্রে বন্য বিড়ালের নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম উল্লেখ করা হয়েছে লেপার্ডাস টিলকায়ো। আর বন্য বিড়ালটিকে ডাকা হচ্ছে ‘টাইগ্রিনো’ নামে। সেটির বয়স ১০ বছর। এখন সেটি লম্বায় ১৮ ইঞ্চি, ওজন প্রায় দেড় কেজি।গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বলিভিয়ার ইউঙ্গাস অঞ্চল থেকে বন্য বিড়ালটি উদ্ধার করা হয়। এটি ঘন বনে ঢাকা একটি পাহাড়ি অঞ্চল। এই বনভূমি মেঘে ঢাকা থাকে এবং বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকে। বিজ্ঞানী নোগালেস বলেন, বন্য বিড়ালের এই প্রজাতি রাতে বেশি সক্রিয় থাকে বলে মনে হচ্ছে। আর বিড়ালটির মল থেকে ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। সেগুলো হয়তো এটির খাবার।বন্য বিড়াল ও পোষা বিড়াল—দুটোই ফেলিডাই নামের জৈবিক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবারে রয়েছে বাঘ, সিংহ, চিতা থেকে শুরু করে সব ধরনের বিড়ালজাতীয় প্রাণী। এত দিন ফেলিডাই পরিবারে ৪১ প্রজাতির বিড়ালজাতীয় প্রাণী ছিল। বন্য বিড়ালের নতুন প্রজাতিসহ এখন হলো ৪২টি। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, সব মিলিয়ে বিড়ালের ৪৪টি বা তার বেশি প্রজাতি থাকতে পারে।