পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের কাগজিটোলার একটি বাড়ি থেকে গত ১৬ জানুয়ারি ২৫ বছর বয়সী মো. নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনদের সন্দেহ থাকায় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। আট মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছে পুলিশ। তাই নয়নের মৃত্যুর কারণ কী, তা নিশ্চিত হওয়া তো দূরের কথা, অপমৃত্যুর মামলাটির তদন্তও শেষ করতে পারছে না পুলিশ।
নয়নের মতো সারা দেশে হাজারো মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত আটকে আছে ময়নাতদন্ত, ভিসেরা, ডিএনএ প্রতিবেদন ও চিকিৎসা সনদের অপেক্ষায়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিবেদন না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৭৪৭টি মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত আটকে আছে।
এসব মামলার মধ্যে ৮ হাজার ২৩৯টিতে চিকিৎসা সনদ, ৬ হাজার ৬১৩টিতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ৬২৯টিতে ডিএনএ প্রতিবেদন ও ২৬৬টিতে ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদন না পাওয়ায় ১৫ হাজার ৭৪৭টি মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত আটকে আছে। এসব মামলার মধ্যে ৮ হাজার ২৩৯টিতে চিকিৎসা সনদ, ৬ হাজার ৬১৩টিতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ৬২৯টিতে ডিএনএ প্রতিবেদন ও ২৬৬টিতে ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্ত ও চিকিৎসা–সংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাসময়ে না পাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না। এতে মামলার জট তৈরি হয়েছে।
আট মাসেও জানা যায়নি নয়নের মৃত্যুর কারণ
সূত্রাপুরের কাগজিটোলার একটি বাড়ি থেকে নয়নের মরদেহ উদ্ধারের পর সূত্রাপুর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লোকমান হোসেন।
এসআই লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় আট মাস আগে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে নয়নের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছিল। পরে প্রতিবেদন নিতে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে গেলে জানানো হয়, প্রতিবেদন এখনো প্রস্তুত হয়নি। আরও সময় লাগবে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়ায় মামলার তদন্ত শেষ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন এই তদন্ত কর্মকর্তা।
ঝুলন্ত মরদেহ, পরিবারের সন্দেহ হত্যা
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ২১ বছর বয়সী গৃহবধূ হালিমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনাটিও একই জায়গায় আটকে আছে।
উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া থেকে ১০ মে হালিমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরিবারের অভিযোগ, হালিমাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিহত হালিমার বড় ভাই নঈম উদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হালিমার স্বামী তাঁদের বাবার মুঠোফোনে ফোন করে জানান, হালিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁরা দ্রুত গিয়ে দেখেন, শোবার ঘরের ছাদের সঙ্গে মরদেহ ঝুলছে এবং পা মাটিতে স্পর্শ করা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর হালিমার সঙ্গে মিজানুরের বিয়ে হয়। তাঁদের দেড় বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে। স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া–বিবাদ হতো। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সালিসও হয়েছিল। ঘটনার পর হালিমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন গা ঢাকা দিয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ময়নাতদন্ত ও তদন্তে যদি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অপমৃত্যুর মামলার প্রতিবেদন তৈরি করতে পুলিশের জন্য সহজ হয়। আর ময়নাতদন্ত বা তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এখনো হালিমার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তাই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, তদন্তও শেষ করা যাচ্ছে না।
অপমৃত্যুর মামলা যেভাবে হত্যা মামলা হয়
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক, আকস্মিক বা সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থল বা প্রাথমিক তদন্তে সরাসরি হত্যা মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে সাধারণত অপমৃত্যুর মামলা করা হয়।
গলায় ফাঁস, বিষপান, ভবন বা উঁচু স্থান থেকে পড়ে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, আগুনে পুড়ে মৃত্যু, সড়ক বা রেল দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারসহ বিভিন্ন ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ময়নাতদন্ত ও তদন্তে যদি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অপমৃত্যুর মামলার প্রতিবেদন তৈরি করতে পুলিশের জন্য সহজ হয়। আর ময়নাতদন্ত বা তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনেক ক্ষেত্রেই তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি। সেটি না পাওয়া পর্যন্ত অনেক মামলায় পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হয় না বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
ঢাকায় ঝুলে আছে ১ হাজার ৩৫৬ মামলা
রাজধানীতে এই সমস্যার চিত্র আরও স্পষ্ট। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন না পাওয়ায় ১ হাজার ৩৫৬টি অপমৃত্যু মামলার তদন্ত শেষ করা যায়নি।
এর মধ্যে ২০২৩ সালে দুটি, ২০২৪ সালে ৭১টি, ২০২৫ সালে ৪৫০টি ও ২০২৬ সালে ৮৩৩টি মামলা রয়েছে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) মো. ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া অপমৃত্যুর মামলার তদন্ত শেষ করা যাচ্ছে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী অনেক মামলাই পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
ফারুক হোসেন আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেতে যত দেরি হবে, মামলার সাক্ষ্য–প্রমাণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তত বাড়বে। এতে বাদী বা ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে পুলিশের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে। তদন্তেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।
ডিএমপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অনেক মামলার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাজহারুল শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে তথ্যগত ভুলসহ যৌক্তিক কারণে কোনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আটকে আছে কি না, তা দেখা হবে। এরপর ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হত্যা মামলা হলেও অজানা মৃত্যুর কারণ
রাজধানীর ধানমন্ডির ১১ নম্বর সড়কের একটি ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ২ মে আল মুকাব্বির ইসলাম ওরফে অর্ণবের (৩২) রহস্যজনক মৃত্যু হয়। প্রথমে এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে তাঁর মা হালিমা খাতুনের করা মামলাটি আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে ধানমন্ডি থানা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মুকাব্বিরের প্রয়াত বাবা রফিকুল ইসলাম ভূঞার রেখে যাওয়া শতকোটি টাকার সম্পত্তি দখলের জন্য তাঁর চাচা, চাচিসহ ১২ জন তাঁকে হত্যা করেছেন।
তবে এখনো মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমদাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মুকাব্বিরের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিন মাস পর বদলে গেল মামলার ধরন
২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসা থেকে একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা কোহিনূর বেগমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তাঁর মৃত্যু হয়। শুরুতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হয়েছিল।
তিন মাস পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
পুলিশের চিঠি, তবু কমছে না জট
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত, ভিসেরা, ডিএনএ প্রতিবেদন ও চিকিৎসা সনদ পেতে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছেও একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে।
একটি আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন থানায় হওয়া মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও জখমি চিকিৎসা সনদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন কোন মামলায় এসব প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি, তার তালিকাও সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি–ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়ম আছে, পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যাবে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রতিবেদন ওই পুলিশ সদস্যের হাতে তুলে দিতে হবে। কিন্তু সেটা চালু না থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশের শীর্ষস্থানীয় এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাসের পর মাস ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তৈরি না হওয়ায় মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যায়। এতে মামলাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে বিচার বিলম্বিত হয়। সাক্ষীরাও উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।
এত প্রতিবেদন আটকে থাকার কথা নয়
দেশের ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের সংগঠন দ্য মেডিকোলিগ্যাল সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাক রহিম (স্বপন) প্রথম আলোকে বলেন, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মরদেহের ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালীর রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রতিবেদন পেতে দেরি হলে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরিতেও কিছুটা সময় লাগে।
তবে এত বিপুলসংখ্যক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আটকে থাকার কথা নয় বলে মনে করেন মোস্তাক রহিম। দেশে ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞের সংকট আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মোস্তাক রহিম বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত তৈরি করে পুলিশ বিভাগে পাঠানোর উদ্যোগ নেবে মেডিকোলিগ্যাল সোসাইটি বাংলাদেশ।
প্রতিবেদন পেতে নির্দিষ্ট সময়সীমা চায় পুলিশ
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, অপমৃত্যুর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে থানাগুলোয় ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকবে। ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য চিকিৎসা–সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর যেহেতু অনেক মামলার তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করে, তাই প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা প্রয়োজন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, হাসপাতাল ও পুলিশের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় এবং প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ার পর তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা গেলে দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যু ও অপমৃত্যুর মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর ছয় জায়গায় ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের পর এবার কাফরুল থানার সামনে ফাঁকা বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরে রামপুরায় বিটিভি ভবনের দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।আজ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বাসটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ডিএমপির মিরপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।আবুল বাসার প্রথম আলোকে বলেন, থানা–সংলগ্ন এলাকায় একটি ফাঁকা বাসে আগুন লাগার ঘটনা শুনেছেন তিনি। ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। গিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।এর আগে আজ দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকসহ রাজধানীর ছয় স্থানে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় এলাকায় বিস্ফোরণে এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। কে বা কারা এসব বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পুলিশ।যাত্রাবাড়ী থানা–পুলিশ সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে কাছের এলাকা যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আরও তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ইবাদুর রহমান নামের একজন অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। উড়ালসড়ক থেকে এসব ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমে থানার প্রধান ফটকের সামনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কোথা থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তাঁরা। কে বা কারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সেটি তাঁরা তদন্ত করে দেখছেন।এর আগে দুপুর থেকে রাজধানীর আরও পাঁচটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগের সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে দুটি, সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে আগারগাঁওয়ে বেতার ভবনের সামনে, সাড়ে ছয়টার দিকে মহাখালী এলাকায়, রাত আটটার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এবং নয়টার দিকে মগবাজার মোড়ে একটি করে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। আগারগাঁও ছাড়া বাকি স্থানগুলোতে উড়ালসড়কের ওপর থেকে নিচে ককটেল ছোড়া হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের কিছু ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশ বলছে, কিছুদিন ধরেই শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে আসছেন। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতা–কর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাঁরা গুলশান ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়লে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।গুলশানে মিছিলের পর রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা বলেও উল্লেখ করেন। এমন পরিস্থিতিতে ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার ও ওসিকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর আজও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।এ ছাড়া গত মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এর কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের এখনো এক মাসের বেশি বাকি। কিন্তু এ নিয়ে রোমাঞ্চটা যেন এবার একটু আগেভাগেই টের পাওয়া যাচ্ছে। ব্যালন ডি’অর পাওয়ার দৌড়ে থাকা ফুটবলাররাই তা একরকম উসকে দিচ্ছেন। কেউ বলছেন আমিই প্রাপ্য, কেউ আবার সরাসরি তা না বললেও গত মৌসুমে তাঁর গোলের সংখ্যা দেখতে বলছেন।স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামালও মনে করেন, ব্যালন ডি’অরটা প্রাপ্য তাঁর। এক সাক্ষাৎকারে বলা তাঁর কথায় অনেকে তো খুঁজে পাচ্ছেন ইংল্যান্ড তারকা হ্যারি কেইনের জন্য খোঁচাও। ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা কেইনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ব্যালন ডি’অর পাওয়ার ব্যাপারে আপনার ভাবনা কী?গত মৌসুমে বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা মনে করিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ব্যালন ডি’অর তো আর আমার হাতে নেই, এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে ভোটদাতাদের ওপর...৭৩ গোলই সব বলে দিচ্ছে।’এদিকে সাবেক ফুটবলার হোর্হে ভালদানোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ব্যালন ডি’অর বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের পাওয়া উচিত, এমন কারও নয় যে ৮০ গোল করেছে। কারণ, আপনি ৮০ গোল করলে তার জন্য গোলদাতার আলাদা পুরস্কার পাবেন। এ দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, যেটা মানুষ বোঝে না।’বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইনইয়ামাল সরাসরি কারও নাম না বললেও তাঁর এই কথাতেই কেইনকে খোঁচা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। মোভিস্টারে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় তিনিই, ধারাভাষ্যকার হিসেবে যাঁর খেলা দেখার সময় আপনি আনন্দ পাবেন এবং যাকে দেখে আপনার মনে হবে এই খেলোয়াড়টা অন্যদের চেয়ে আলাদা।’রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং পিএসজি তারকা উসমান দেম্বেলের পাশাপাশি কেইন ও ইয়ামালকেও এবার ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদার মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইয়ামাল ও এমবাপ্পে সম্প্রতি নিজেরাই তাঁদের ব্যালন ডি’অর পাওয়া উচিত, এমন কথা বলে আলোচনায় এসেছেন।ইয়ামাল এই সাক্ষাৎকারেও বলেছেন, ‘এমবাপ্পে এবং আমি—আমরা দুজনই বিশ্বের সেরা, তবে আমার মনে হয় এ বছর এটা আমারই প্রাপ্য। আমার কাছে বিষয়টি একদম পরিষ্কার, আর যারা খেলা দেখে, তারা সবাই তা জানে।’গত বছর ইয়ামাল বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জিতেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট আছে তাঁর। তবে ফুটবলের সেরা এই ব্যক্তিগত পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে তাঁর সবচেয়ে বড় সম্বল হতে যাচ্ছে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়।ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কেইনের ‘৭৩ গোলই সব বলে দিচ্ছে’
কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় সার না পেয়ে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে গুদামে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…