তারিখটা মনে রাখার মতো—০৪.০৪.৩০০৪।
সত্যিই কি মনে রাখার মতো? নাকি মনে এ জন্যই আছে যে চারদিকে তারিখটা নিয়ে একটা আজব উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমনকি বিজ্ঞাপনও। এই তারিখের ঠিক দুপুরে নাকি দেখা যাবে নীল আকাশ।
তা আকাশ আবার কবে নীল ছিল?
ছিল নাকি। অনেক আগে। নীল আকাশ আর নীল সমুদ্রের ছবি কয়েকটা দেখেছে রু। দেখা যায় না, এত নির্মম। কেমন ফকফকা ধরনের, ফালতুমার্কা এক নীল। দেখলেই গা গোলায় খুব। রুয়ের অবশ্য এমনিতেও আকাশের দিকে তাকালে গা গুলিয়ে ওঠে। গত বছর কয়বার সে আকাশ দেখেছে, গুনতে পারবে। সর্বোচ্চ তিনবার। তিনবারই হয়েছে মেজাজ খারাপ।
আকাশ মানে তো আসলে জঙ্গল। এই যন্ত্র ওই যন্ত্র একেবারে গায়ে গা লাগিয়ে জমাট হয়ে থমকে আছে। নিচের দিকে তাকিয়ে আছে কটোমটো। একুশ শতকের বিজ্ঞানীরা যেমন পৃথিবীর উপগ্রহকে সম্ভাবনাহীন বাতিল মাল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, রু-ও এই আকাশকে বাতিল মাল মনে করে। তার দিকে তাকিয়ে কোনো লাভ নেই। অথচ আয়রনি হলো, সেই আকাশ দেখতেই রুকে বের হতে হচ্ছে। ০৪.০৪.৩০০৪–এর দুপুর ১২টায় পৃথিবীর সবাই আকাশের দিকে তাকাবে, একসঙ্গে, শহরের সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে। ঘোষণা এসেছে। ইউনিয়নের এটাই ইচ্ছা।
রুয়ের মাঝেমধ্যেই ইচ্ছা করে ইউনিয়নের ঘোষণাগুলো উপেক্ষা করতে। কিন্তু সে জানে, প্রতিবারের মতো এবারও সে ব্যাপারটা ঘটাতে পারবে না। অনেকের মতো সে–ও উপস্থিত থাকবে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে।
একুশ শতকের বিজ্ঞানীরা যেমন পৃথিবীর উপগ্রহকে সম্ভাবনাহীন বাতিল মাল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, রু-ও এই আকাশকে বাতিল মাল মনে করে। তার দিকে তাকিয়ে কোনো লাভ নেই।
রাতে ঘুম হয়নি মাফির।
অনেক দিন থেকেই হয় না আসলে। তাতে ক্লান্তি আসে না কোনো। প্লে জোনে সারা রাত কাটিয়ে সকালে দিব্যি লেকচার নিতে পারে টিচারদের। কিন্তু কাল রাতটা অদ্ভুত উত্তেজনায় কেটেছে তার। আকাশের ব্যাপারটা সে জেনেছিল আগেই…ওই যে বিজ্ঞাপনের নানান হিড়িক…কিন্তু গত রাতে সারভাইভাল গেম খেলতে খেলতে তার মনে এল কিছু একটা। যা তার ভেতরে অস্বস্তি, এমনকি বাড়তি উত্তেজনাও তৈরি করেছে।
জিনিসটা কী?
একটা বাক্য। বাক্যই বলা যায়।
‘নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন!’
অদ্ভুত বাক্য বলাই যায় এটাকে। তার মাথার ভেতরে কীভাবে যে এল, মাফি জানে না। তবে আসার পর থেকেই তাকে ঘিরে ধরেছে অস্থিরতা। এমন একটা বাক্য, যার কোনো মানে নেই, অন্তত মাফির কাছে নেই। অথচ গানের লুপের মতো মাথার মধ্যে ঘুরে যাচ্ছে, ঘুরে যাচ্ছে, ঘুরে যাচ্ছে।
কেন?
পারসোনাল রোবটকে বাক্যটা দিয়েছিল মাফি। জিজ্ঞাসা করেছিল, এটার অর্থ কী! রোবট তার চৌকসই বলা যায়। ফটাফট উত্তর দিয়েছে—নিথর অর্থ যা স্থির। নীল একটা রং। এর ফলে বাক্যটির অর্থ দাঁড়ায়, স্থির নীলের মধ্যে জীবন জমে গেছে।
মাফি বেরিয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না, রোবট তাকে সত্যি সত্যিই সাবধান করেছে। কারণ, তারই তথ্য ফাঁসের কারণে বিপদে পড়তে যাচ্ছে মাফি এবং হয়তো আরও অনেকে।
মাফি আবার জিজ্ঞাসা করে, তাহলে এটার অর্থ কী দাঁড়াল?
অনেকক্ষণ চুপ থেকে রোবটটা বলে, আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত নই।
সকালে একটা ক্যাপসুল নেয় মাফি। সারা দিনের প্রোটিন ও অন্যান্য খাদ্যপুষ্টির জন্য এই ক্যাপসুলই যথেষ্ট। যেদিন অনেক ইচ্ছা করে, কোনো এক ধরনের তাজা খাবার সে অর্ডার করে। তবে তাতে প্রচুর ক্রেডিট চলে যায়। এর ফলে বিশেষ কোনো দিন বা উৎসবেই শুধু তার পাকস্থলী সত্যিকারের কিছু পায়। আজ কি বিশেষ একটা দিন? আজ সত্যিকারের কিছু খাবে সে?
মনে হয় না। আকাশ দেখা কীই-বা এমন কিছু?
বেরোনোর সময় তাই প্রতিবারের মতো বলে ওঠে, হেই বট, যাচ্ছি…
রোবটটি ধাতব স্বরে কেশে ওঠার মতো শব্দ করে। তারপরই বলে ওঠে, সাবধান মাফি!
মাফি বেরিয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না, রোবট তাকে সত্যি সত্যিই সাবধান করেছে। কারণ, তারই তথ্য ফাঁসের কারণে বিপদে পড়তে যাচ্ছে মাফি এবং হয়তো আরও অনেকে।
সকালে একটা ক্যাপসুল নেয় মাফি। সারা দিনের প্রোটিন ও অন্যান্য খাদ্যপুষ্টির জন্য এই ক্যাপসুলই যথেষ্ট। যেদিন অনেক ইচ্ছা করে, কোনো এক ধরনের তাজা খাবার সে অর্ডার করে।
সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড।
শহরের মাঝখানে বিশাল জমায়েত।
জায়গাটা এমনিতেও শূন্য হয়ে ছিল এত দিন। আজ কিছু ত্রিমাত্রিক সজ্জায় সাজানো হয়েছে শুধু। লোকজন এর মধ্যে আসতে শুরু করেছে। রুয়ের মনে হচ্ছে, অনেক চেষ্টার পরও বিষয়টাকে খুব বেশি উৎসবমুখর করা যায়নি আসলে। শহরবাসীর মধ্যে আনন্দের চেয়ে বিরক্তি বেশি। হাঁটার গতি মন্থর তাদের। বেশির ভাগের মাথাই নিচু হয়ে আছে…বোঝা যাচ্ছে, আর্টিফিশিয়াল ফ্রেন্ডের সঙ্গে কথা বলছে। নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত সবাই। এর মধ্যে আকাশ দেখে কে?
তবে এসবের মধ্যেও যে কজন উৎসাহী, তাদের মধ্যে মাফি একজন। দূর থেকে তাকে দেখেই চিনতে পারে রু। একটা সময় দুজন ইতিহাসবিষয়ক সেমিনারে যুক্ত হয়েছিল। সেখানেই পরিচয়। তবে ঘটনা সে পর্যন্তই। তাদের আর দেখা হয়নি। এমনকি দু–একটা কথাও। রু ভাবে, মাফি এক দারুণ তরুণ। ভাবতেই রুয়ের মধ্যে কিছু একটা প্রবাহিত হয়। তার ভাবতে ভালো লাগে, পার্টনার হিসেবেও মাফি আসলে চমৎকার হবে। এগিয়ে যায় রু।
হেই মাফি, কেমন আছ?
কিছু মনে কোরো না। তোমাকে আমি চিনতে পারছি না।
সিরিয়াসলি? ওকে…বাদ দাও। আসি!

রু মেজাজ খারাপ করে চলে যাচ্ছিল, মাফি সঙ্গে সঙ্গে হেসে ওঠে, তুমি রু! আগেই চিনেছি। একটু নাটক করলাম। সরি!
নাটক খুব বাজে হয়েছে।
তুমি এখানে কী করছ? আমার তো মনে হয় আকাশের ব্যাপারে তোমার কোনো আগ্রহ নেই।
তোমার কী মনে হয়, এখানে যারা এসেছে, তাদের
খুব আগ্রহ?
এখনো রেগে আছ নাকি?
শোনো, সেন্ট্রাল ইউনিয়ন যদি না বলত, এখানে এক পার্সেন্ট মানুষও আসত না, বুঝেছ?
বুঝেছি। তবে আমি আকাশ দেখতে চাই। ওই সব জঙ্গল জঙ্গল যন্ত্রের ওপারে কী আছে…জানতে আগ্রহ হয় আমার!
ইয়াক! তুমি জানো, ওই দিকটা নীল! আজব ধরনের নীল। একদম নিথর নীল!
কী বললে?
আজব ধরনের নীল।
উমহুম…তারপর…নিথর…
নিথর নীল!
এই বাক্য তুমি কোথায় পেলে?
মানে কী? মানুষ বাক্য কীভাবে পায়? শব্দ দিয়ে তৈরি করে, তা–ই না?
এই বাক্যটা আমিও…
রুয়ের মনে হচ্ছে, অনেক চেষ্টার পরও বিষয়টাকে খুব বেশি উৎসবমুখর করা যায়নি আসলে। শহরবাসীর মধ্যে আনন্দের চেয়ে বিরক্তি বেশি। হাঁটার গতি মন্থর তাদের।
কথা শেষ করতে পারে না মাফি, ধাতব অ্যানাউন্স শুরু হয়—এই সুন্দর একটি দুপুরে বিশেষ ধরনের তারিখে আপনারা সবাই যে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে উপস্থিত হয়েছেন, এ জন্য সবাইকে জানাই ধন্যবাদ! আমরা আশা করছি, ৩০ মিনিটের মধ্যে শহরের সবাই এসে উপস্থিত হবে এখানে। তারপরই আমরা দেখব আমাদের গ্রহের আকাশ।
রু বলে, ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত না?
কোন ব্যাপারটা?
এই যে একটু জোর করে সবাইকে আকাশ দেখানো হচ্ছে।
সেন্ট্রালে যারা থাকে, তারা সবকিছুই খুব হিসাবমতো করে। এখানেও নিশ্চয় তাদের কোনো হিসাব আছে!
তুমি কেমন? হিসাবি?
মাফি তাকায় রুয়ের দিকে। হাসে। বলে, আমরা সবাই হিসাবি। হিসাবি না হলে আমরা কেউ সারভাইভ করতে পারব না। তা–ই না?
আমি অত হিসাবি নই।
এটা আর কাউকে বোলো না। সেন্ট্রাল বেহিসাবি মানুষদের পছন্দ করে না।
জানি, এ জন্যই শুধু তোমাকে বললাম।
সিক্রেট কাউকে বলতে নেই। এমন তো না আমি তোমার পার্টনার…যে তোমার কিছু সিক্রেট জমিয়ে রাখব নিজের ভেতরে।
রু হাসে। মাফি বলে, আরে, হাসছ কেন?
রু বলে, এমনি!
রু আবারও হাসতে শুরু করে। মাফির ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগে। এ–ও অদ্ভুত লাগে যে রুয়ের হাসিটা মিষ্টি। কালচে থোক চুলের মধ্যে ডিমের মতো মুখ রুয়ের। চামড়া একটু ফ্যাকাশে। তার মধ্যে হাসিটা উজ্জ্বল। ভীষণ উজ্জ্বল।
কথা শেষ করতে পারে না মাফি, ধাতব অ্যানাউন্স শুরু হয়—এই সুন্দর একটি দুপুরে বিশেষ ধরনের তারিখে আপনারা সবাই যে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে উপস্থিত হয়েছেন, এ জন্য সবাইকে জানাই ধন্যবাদ!
মাফির রোবটটা কম দামি, মাফিকে ইনফরমেশন সরবরাহই তার কাজ। নিজে অ্যানালাইসিস করে কিছু জিনিস সে তৈরি করতে পারে ঠিকই, কিন্তু অনেক তথ্য একসঙ্গে অ্যানালাইসিস করার ক্ষমতা তার নেই। নেই বলেই সে নিশ্চিত নয়, শহরের সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে কী হতে যাচ্ছে! তার মনে হচ্ছে, সেখানে খুব খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ‘ঘটলে ঘটবে’ এমন একটা ভাব সে করতে পারে, পারারই কথা রোবট হিসেবে। কিন্তু মাফি যখন থেকে তার ডেটাবেজে ‘নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন’
বাক্যটা ঢুকিয়েছে, তার ভেতরে কোনো একটা ঝামেলা হয়েছে। সে কিছুক্ষণ পরপর সেন্ট্রাল গ্রাউন্ড নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ছে। ঠিক না জেনেও রোবট একটা কাজ করেছে একটু আগে—সেন্ট্রাল ডেটাবেজে ঢুকে পড়েছে, সেখানে পেয়েছে দুর্দান্ত কিছু তথ্য। তথ্যগুলো মিলিয়ে ফেললে আগামী ৩০ মিনিটের মধ্যে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে কী হতে যাচ্ছে, তা সে জানতে পারবে। কিন্তু তথ্যগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে সে কাজ করে উঠতে পারছে না। তার তত শক্তি নেই। তার ডেটাবেজে বারবার ‘নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন’ বাক্যটা ঘুরছে। রোবট হিসেবে তার বিপন্ন বোধ করার কথা নয়, কিন্তু সে যেন তেমনই একটা ঘোরের ভেতর পড়তে যাচ্ছে!
তথ্যগুলো মিলিয়ে ফেললে আগামী ৩০ মিনিটের মধ্যে সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে কী হতে যাচ্ছে, তা সে জানতে পারবে। কিন্তু তথ্যগুলো একসঙ্গে মিলিয়ে সে কাজ করে উঠতে পারছে না। তার তত শক্তি নেই।
শহর ভেঙে পড়েছে এখন, এমনই বলা যায়।
সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে ফাঁকা জায়গা নেই বললেই চলে। রু বলে, এখানেই আমার সমস্যা। মানুষের এত ভিড় আমি নিতে পারি না।
আমিও না, মাফি বলে। তারপর হাসে। বলে, চলো, পালিয়ে যাই এখান থেকে।
লোভনীয় প্রস্তাব। কিন্তু ইউনিয়ন জেনে যাবে যে আমরা তাদের ডাকে সাড়া দিইনি। তুমি তো হিসাবি…তুমি ইউনিয়নের অবাধ্য হবে না, আমি জানি।

রুয়ের কথা ঠিক। মাফি এতটা বেহিসাবি হবে না কখনো। ঘোষণা শুরু হয় ত্রিমাত্রিক পর্দায়—আমরা চূড়ান্ত সময়ে এসে হাজির হয়েছি। আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। তারপরই শুরু হবে কাউন্টডাউন। আর কাউন্টডাউন শেষে সরে যাবে আকাশের অন্ধকার। আমরা দেখব তা, যা আমাদের পূর্বসূরিরা অনেক অনেক বছর আগে দেখেছিল খোলা চোখে, খালি চোখে। আমরা দেখব নীল আকাশ!
মাফির মনের মধ্যে আবার সেই বাক্যটা লাফিয়ে ওঠে—নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন!
আর ঠিক তখনই মাফির ওয়াচফোনে আসে ছোট্ট একটা মেসেজ—পালাও!
রুয়ের কথা ঠিক। মাফি এতটা বেহিসাবি হবে না কখনো। ঘোষণা শুরু হয় ত্রিমাত্রিক পর্দায়—আমরা চূড়ান্ত সময়ে এসে হাজির হয়েছি। আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। তারপরই শুরু হবে কাউন্টডাউন।
মেসেজটা তার রোবট পাঠিয়েছে। লোকজনের আওয়াজে মাফি মেসেজটা খেয়াল করে না। ওদিকে কাউন্টডাউন শুরু হয়—১০…৯…৮…
একসঙ্গে সবাই মিলে কাউন্টডাউন করছে। মাফি কিংবা রু—কেউই অবশ্য সুর মেলাচ্ছে না। রুয়ের দৃষ্টি দূরের ভবনগুলোতে। কোনো কারণ ছাড়াই তার মনে হচ্ছে, সেই জায়গায় কিছু একটা ঘটছে।
...৭...৬...৫…
রু দেখে, ভবনগুলোর ওপর জমতে শুরু করেছে ইউনিয়নের বাহিনী। তাদের মাথায় ক্যাপ, হাতে লেজার অস্ত্র। রু নিজের মতো করে বলে, ছাদগুলোতে কী হচ্ছে?
মাফির ওয়াচফোনটা এবার চিৎকার করে ওঠে। মাফি তাকায়। দেখে রোবটটা জরুরি ভিত্তিতে কল করেছে তাকে।
...৪...৩...২…
মাফি রোবটের সঙ্গে যুক্ত হয়। রোবটটা ধাতব গলায় বলে ওঠে—পালাও মাফি, পালাও। সেন্ট্রাল গ্রাউন্ডে আকাশ দেখা একটা স্ক্যাম। ইউনিয়নরা শহরের অবাধ্য মানুষগুলোকে একসঙ্গে করেছে…যেন একবারে মেরে ফেলতে পারে…
...১...০…বুমমমমমম!
একসঙ্গে সবাই মিলে কাউন্টডাউন করছে। মাফি কিংবা রু—কেউই অবশ্য সুর মেলাচ্ছে না। রুয়ের দৃষ্টি দূরের ভবনগুলোতে। কোনো কারণ ছাড়াই তার মনে হচ্ছে, সেই জায়গায় কিছু একটা ঘটছে।
আকাশের আবর্জনা সরে যায়। কিন্তু নীল দেখা যায় না। সেখানে অতিকায় একটা যান। ভাসছে শূন্যে। একমুহূর্তই দেখা যায় শুধু সেটাকে। পরক্ষণেই সেটার পুরো শরীর থেকে আগুন ঝরতে শুরু করে। মাফি তার আগেই রুয়ের হাত ধরে টান দিয়েছে। একটু আগে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল তারা, সেই জায়গাটা পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। মাফি ছুটতেই রু দেখে, ভবনগুলোর ছাদ থেকে লেজার অস্ত্র চালানো হচ্ছে। চারপাশে মানুষগুলো মরছে পিঁপড়ার মতো। রু জাপটে ধরে মাফিকে। বলে, আমরা মারা যাচ্ছি, মাফি।
মাফি বলে, নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন! নিথর নীলের ভেতর জমছে জীবন!
কী বলছ এটা?
মাফি আর কিছু বলে না…শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রুকে।
পেছনে কিছু একটা ভয়ংকরভাবে বিস্ফোরিত হয়।
তিনটা স্পার্কের পর নিথর হয়ে যায় মাফির রোবট। সে একটি শেষ মেসেজ পাঠিয়েছে সেন্ট্রাল ডেটাবেজে। সেখানে লেখা—মানুষের চেয়ে ভয়ংকর কোনো প্রাণী এই পৃথিবীতে কখনো জন্মেনি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মুঠোফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রের (ডিজিটাল ডিভাইস) আসক্তি থেকে শিশু-কিশোরদের মাঠমুখী করতে ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করেছে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতি। আজ শুক্রবার সকালে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর পার্কে এ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়।কল্যাণ সমিতির সূত্রে জানা গেছে, এই ক্যাম্পে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় ২০০ শিশু-কিশোর অংশ নিচ্ছে। এসব শিশু-কিশোরের বয়স ৮ থেকে ১৪ বছর। আগামী তিন মাস প্রতি শুক্র ও শনিবার এই ক্যাম্প চলবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি শরীফ সান্টু বলেন, ফুটবল কেবল একটা খেলা নয়, এটি একটি ভালোবাসার নাম। ফুটবল খেলার মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি বন্ধুত্ব বাড়ে, একতাবদ্ধ হতে শেখে এবং পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিশুদের মাঠমুখী করতে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুষ্ঠু ও সুন্দর পথে ফিরিয়ে আনতে দেশের যাঁর যেখানে সুযোগ আছে, তাঁদের এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।আগামী তিন মাস প্রতি শুক্র ও শনিবার এই ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চলবেকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন বলেন, শিশু-কিশোরদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলারও প্রয়োজন রয়েছে। তাদের মাঠমুখী করতে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।সোসাইটির ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মনজুর হোসেন খান বলেন, শিশু-কিশোরদের মাঠে ফিরিয়ে আনাই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে তারা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দলগত সহযোগিতার মতো গুণাবলি অর্জন করতে পারবে।তিন মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাহিদ মান্না। তাঁকে সহযোগিতা করছেন আরও তিনজন সহকারী কোচ। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পটির স্পনসর হিসেবে রয়েছে ইউনিমার্ট।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোসাইটির সহসভাপতি মফিজ সরকার, পরিবেশ সম্পাদক খালেদুর রহমান, নির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা কবিরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলমসহ সোসাইটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, সেক্টরের বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন বছরের এক শিশুকে মৃত ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসকসহ হাসপাতালের চারজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল আটটার দিকে মিরপুর উপজেলার নওদাপাড়া এলাকার সাব্বির আহমেদের ছেলে রাফি (৩) পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়লে কেউ একজন বলে ওঠেন—শিশু নড়ে উঠেছে। এরপরই শিশুর স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটিকে মৃত ঘোষণার পর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্বজন ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে হাসপাতালের ১১ নম্বর কক্ষসহ (চিকিৎসকের কক্ষ) হাসপাতালের বিভিন্ন অংশের কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করেন।এ সময় চিকিৎসক জান্নাতুল রিয়া, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আবদুস সামাদ, জরুরি বিভাগের কর্মী বিজয় ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে মিরপুর থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।চিকিৎসক জান্নাতুল রিয়া বলেন, জরুরি বিভাগে শিশুটিকে আনার পরপরই তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, পানিতে ডুবে যাওয়ার পর শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হঠাৎ করে শিশুটির স্বজনেরা উত্তেজিত হয়ে ভাঙচুর শুরু করেন।মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পীযূষ কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি সিভিল সার্জন ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার পরও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়নি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।তবে শিশুটির বাবা সাব্বির আহমেদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন চিকিৎসক একবার শিশুটির বুক পরীক্ষা করে কক্ষে চলে যান। এরপর ২০ থেকে ২৫ মিনিট কোনো চিকিৎসক তাঁদের কিছু জানাননি। পরে আরেকজন চিকিৎসক এসে শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। এ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে কক্ষের কাচ ভেঙে যায়। তবে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনেরা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং কর্তব্যরত চিকিৎসককে হেনস্তা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা চলে যান। পরে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।ঘটনার পর হাসপাতালে যান মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম আলী।
রাজধানীতে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ‘একশোতে একশো’ বিশেষ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ১৮ সেপ্টেম্বর হটস্পটগুলোতে ওয়াসার মিটার বাক্স, পরিত্যক্ত টায়ার ও পাত্রে কিলবিল করা এডিসের লার্ভা ধ্বংস করা হয়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে—