জাতীয়

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অভিবাসন ব্যয় কমানোর দাবি

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অভিবাসন ব্যয় কমানোর দাবি
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অভিবাসন ব্যয় কমানোর দাবি

প্রবাসী শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাঁদের স্বার্থরক্ষায় রাষ্ট্রের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় একটি চক্র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধের দাবিও জানান তাঁরা।

আজ সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি: ফের সিন্ডিকেট! অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়! বাড়তি ফি ও অর্থ পাচারের ফাঁদে অসহায় বিদেশগামী নাগরিক’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এ আলোচনার আয়োজন করে।

আলোচনায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বলেন, প্রবাসীরা বছরে প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। এ অর্থ না এলে দেশের অর্থনীতির অবস্থা কী হতো, তা ভাবা দরকার। অথচ যাঁরা এ অর্থ পাঠান, তাঁদের জীবনযাপন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা নেই।

প্রবাসীদের জন্য দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোকে আরও জনবান্ধব হতে হবে বলে মনে করেন আবু আহমেদ। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসী শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ ধনী পরিবারের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার খরচ মেটাতে দেশ থেকে চলে যায়। এ ক্ষেত্রে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অর্থ নেওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে আইন করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

শ্রমিক পাঠানোর ব্যবসা করতে হলে তাঁদের ঘামের অর্থ থেকে কতটুকু নেওয়া ন্যায্য, তা বিবেচনা করতে হবে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক শ্রমিক বিদেশে গিয়ে কয়েক বছরেও ঋণের টাকা তুলতে পারেন না। শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে এ পরিস্থিতি থেকে তাঁদের মুক্ত করতে হবে, বলেন আসাদুজ্জামান রিপন।

সরকার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে লাইসেন্স দেয়। তাহলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি কাজের সুযোগ দেওয়া হবে না কেন, সেই প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্টসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা না করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সক্ষম সব এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়া উচিত।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাষ্ট্র শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে না দেখে পণ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের কারণে পুরো শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আলোচনায় এবি পার্টির পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটকে বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ না দিয়ে যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়া। সরকারনির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের বাইরে কোনো অর্থ নেওয়া বন্ধ করা এবং সব লেনদেন ব্যাংক বা অনুমোদিত ডিজিটাল মাধ্যমে করা।

এ ছাড়া দালাল, সাব-এজেন্ট ও ডিজিটাল মধ্যস্থতাকারীদের নিবন্ধন, নজরদারি ও জবাবদিহির আওতায় আনা। রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কতজন কর্মী পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে—এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনা। প্রতারণা কিংবা হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে এজেন্সির বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিল, কালো তালিকাভুক্তি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সম্মতি ছাড়াই কমিটিতে নাম, যুবলীগ থেকে ৮ নেতার পদত্যাগ
সম্মতি ছাড়াই কমিটিতে নাম, যুবলীগ থেকে ৮ নেতার পদত্যাগ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা ও পৌর কমিটি থেকে আটজন পদত্যাগ করেছেন। সম্মতি ছাড়া কমিটির তালিকায় নাম রাখার কারণ দেখিয়ে তারা পদত্যাগ করেন। এরআগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। পদত্যাগকারীরা লিখিত পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির নেতাদের কাছে পাঠিয়েছেন। পদত্যাগকারীরা হচ্ছেন গাংনী উপজেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মজিরুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার পাশা, সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আলিম, সাবেক যুবলীগ নেতা আশিকুর রহমান আকাশ, আলমগীর বিশ্বাস রাহেল, লিখন উদ্দিন ও মাঝারুল ইসলাম। সোমবার ৭১ সদস্যবিশিষ্টি এই কমিটিতে সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেনের ছোট ছেলে অ্যাডভোকেট হুমায়ন কবিরকে সভাপতি এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের গাংনী উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটিতে মজিরুল ইসলাম, আনোয়ার পাশা ও আব্দুল আলিমকেসহ সভাপতি, আশিকুর রহমান আকাশকে সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং আলগমীর বিশ্বাস রাহেল, লিখন ও মাঝহারুলকে সদস্য রাখা হয়। আরও পড়ুন কুমিল্লায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা পদত্যাগকারীরা তাদের আবেদনে বলেছেন, কমিটিতে নাম রাখার বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। তাদের সম্মতি ছাড়াই কমিটিতে নাম রাখা হয়েছে। এ কারণে তারা পদত্যাগ করছেন। কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত ও পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চেয়ে যুবলীগের মেহেরপুর জেলা আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান লিটন ও যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো মাধ্যমেই তাদের পাওয়া যায়নি। তবে মাহফুজুর রহমান লিটন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আসিফ ইকবাল/এসআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সভাপতি শেখ হাসিনার পর সাধারণ সম্পাদক কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের রায়

সভাপতি শেখ হাসিনার পর সাধারণ সম্পাদক কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের রায়

রাজশাহীতে বেকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজশাহীতে বেকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ভ্রমণনীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন

ভ্রমণনীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন

হলি ক্রস কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বিকেলে
হলি ক্রস কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বিকেলে

রাজধানীর হলি ক্রস কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সময় জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় এ ফল প্রকাশ করা হবে। দুপুরে কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে সিলেকশন টেস্টের ফলাফল আজ বিকেল ৩টার পর কলেজের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। এর আগের ঘোষণা অনুযায়ী- আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার পর কলেজের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও নোটিশ বোর্ডে ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে তা দুই ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন নটর ডেম কলেজে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এদিকে, ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আজ বিকেল ৪টা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মধ্যে অনলাইনে বিকাশের মাধ্যমে ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি ফি জমা না দিলে ভর্তির সুযোগ বাতিল বলে গণ্য হবে। হলি ক্রসে আসন কত হলি ক্রস কলেজে এবার বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮০টি, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮০টি এবং মানবিক বিভাগে ২৯০টি আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে মোট ১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি–সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য কলেজের ওয়েবসাইট www.hcc.edu.bd ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারিত তারিখ ও সময় পরিবর্তন হলে সেখানেই তা জানানো হবে। বিবাহিতদের ভর্তি নয় হলি ক্রস কলেজ জিপিএ ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু শর্ত দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হলি ক্রসে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে বিবাহিত ছাত্রীদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই। সেশন (২০২৬-২৭) চলাকালে কোনো শিক্ষার্থী বিয়ে করলে তাকেও টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক ক্লাসে উপস্থিতি; কলেজ নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান; শরীরচর্চা ও সহ-পাঠ্যক্রম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। কলেজে মোবাইল ফোন আনা ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এসব বিষয়ে আপত্তি থাকলে আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এএএইচ/এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
সিপিএলে পা রেখেই সফল মিরাজ, সাকিব–তামিমরা সেখানে কী করেছেন

সিপিএলে পা রেখেই সফল মিরাজ, সাকিব–তামিমরা সেখানে কী করেছেন

জোহা হলের শিক্ষার্থীকে রাতভর হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

জোহা হলের শিক্ষার্থীকে রাতভর হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

ফেসবুকে যেসব কনটেন্ট দিলেই ব্যান হতে পারেন

ফেসবুকে যেসব কনটেন্ট দিলেই ব্যান হতে পারেন

‘তোর পাওয়ার আর ২৮ দিন আছে, তোরে পিটাইয়া বের করব’—হল ভিপিকে ছাত্রদল নেতা
‘তোর পাওয়ার আর ২৮ দিন আছে, তোরে পিটাইয়া বের করব’—হল ভিপিকে ছাত্রদল নেতা

‘তোর পাওয়ার গুনে গুনে আর ২৮ দিন আছে, ২৮ দিন পরে তোরে হল থেকে পিটাইয়া বের করব, আমি নাসিম যদি এই হলে থাকি।’—এভাবেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল সংসদের সহসভাপতিকে (ভিপি) হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। হুমকির একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীশ দীপঙ্কর হলে এই ঘটনা ঘটে। ওই হলের ছাত্র সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে এই হুমকি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে হলের এক আবাসিক শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রিপুল চাকমা ও শেখ নাসিম উদ্দিন দুজনই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে এক তরুণ ব্যাগ নিয়ে হলে আসেন। রিপুল চাকমা ওই তরুণের কাছে পরিচয় জানতে চান। তখন ওই তরুণ বলেন, তিনি হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠেছেন। তখন অবৈধভাবে হলে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে অভিযোগ এনে বিষয়টি হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক নূরে আলমের কাছে জানান। এরপর শিক্ষক নূরে আলম হলের কক্ষটি পরিদর্শনে যান। তাঁর সঙ্গে রিপুল চাকমা এবং কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।৩১৩ নম্বর কক্ষটিতেই থাকেন ছাত্রদল নেতা শেখ নাসিম উদ্দিন। হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক কক্ষটিতে নতুন করে কাউকে তোলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে রিপুল চাকমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শেখ নাসিম উদ্দিন। একপর্যায়ে রিপুল চাকমাকে হল থেকে পিটিয়ে বের করার হুমকি দেন।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিম উদ্দিনরিপুল চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি আবাসিক শিক্ষকের সামনেই ঘটেছে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে নাসিম আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসেন। উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা তাঁকে সরিয়ে দেন। ঘটনার ভিডিও আমার কাছে আছে।’ তিনি বলেন, ‘পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য এবং চাকসু নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আমাদের এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়।’জানতে চাইলে শেখ নাসিম উদ্দিন দাবি করেন রিপুল চাকমা তাঁকে গালাগাল করেছেন। এ ছাড়া ভিপির ক্ষমতা দেখিয়ে হলের গেটে তালা দেওয়ার কথা বলায় তিনি রিপুলের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তবে হলের গেটে তালা লাগানোর কথা বলা এবং গালাগালের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিপুল চাকমা।শেখ নাসিম উদ্দিন বলেন, ‘কয়েকজন জুনিয়র আমার কক্ষে ঘুরতে এসেছিল। এরপর অবৈধভাবে হলে শিক্ষার্থী তুলছি—এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে রিপুল হলের আবাসিক শিক্ষককে ডেকে নিয়ে আসেন। আগেও রিপুল একাধিকবার একই কাজ করেছেন। যদিও কোনোবারই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এবারও ভিপি পরিচয়ে ক্ষমতা দেখাতে আসায় তাঁর সঙ্গে আমার কিছুটা কথা-কাটাকাটি হয়েছে।’অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রাধ্যক্ষ ও সহযোগী অধ্যাপক এ জি এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মূলত হলের আবাসিক শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর সেখানে ছিলেন। তাঁরা বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। এটি দুটি পক্ষের ভুল-বোঝাবুঝির ঘটনা। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কামরুল হোসেন বলেন, ‘একটি কক্ষে অবৈধভাবে কোনো শিক্ষার্থী উঠেছেন, হল সংসদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে হল প্রশাসন অভিযান চালায়। তবে সেখানে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। পরে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘কারও কোনো অভিযোগ থাকলে, লিখিতভাবে দিতে বলেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘কেউ যদি দলের পরিচয়ে শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজ করে থাকে এবং সেটি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ঘুমের মধ্যেই ছোবল দিল সাপ, প্রাণ গেল শিশুর

ঘুমের মধ্যেই ছোবল দিল সাপ, প্রাণ গেল শিশুর

যানজটে আটকে ফায়ার সার্ভিস, অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল দোকান-যানবাহন

যানজটে আটকে ফায়ার সার্ভিস, অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল দোকান-যানবাহন

পাঞ্জাবি-শেরোয়ানি বিক্রেতার ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

পাঞ্জাবি-শেরোয়ানি বিক্রেতার ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

0 Comments