জাইনীন চৌধুরী করিম। নামটির সঙ্গে ঢালিউডের পরিচয় হয়েছে কয়েক মাস হলো। এই মুহূর্তে ইতালির ভেনিস থেকে কানাডার টরন্টো হয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন—প্রথম সারির আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোয় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। এই সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বললেন জিনাত শারমিন–এর সঙ্গে। জানালেন ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমায় যুক্ত হওয়া, দীর্ঘদিন প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা, ভেনিসের অভিজ্ঞতাসহ নানান কিছু।
আপনার সম্পর্কে তো আমরা প্রায় কিছুই জানি না। এদিকে ভেনিসে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে অংশ নিয়ে ও ইনডিপেনডেন্ট ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ডস বাগিয়ে ইতিহাস গড়ে ফেললেন। প্রথমে আপনার সম্পর্কে বলুন।
আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। আমার মা জাতিসংঘে কূটনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেন। ২০০৮ সালে মায়ের চাকরিসূত্রে আমরা মিয়ানমারে চলে যাই। তারপর আবার ২০১৩ সালে ফিলিপাইনে।
এরপর আমি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসি। ম্যাসাচুসেটসে স্মিথ কলেজে ভর্তি হই। সেখানে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রির জন্য আমার মেজর ছিল ইংরেজি সাহিত্য আর মাইনর ছিল ফিল্ম স্টাডিজ।
আমি বরাবরই সিনেমা খুব ভালোবাসি। সিনেমা নিয়ে পড়তাম, লিখতাম। লেখালিখির সুবাদে আমি স্মিথ কলেজ থেকে অনেক পুরস্কার পেয়েছি।
আমাদের স্মিথ কলেজের ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের যিনি চেয়ারপারসন, জেন মালকোভস্কি, উনি আমাকে খুবই স্নেহ করেন। উনিই আমাকে রুবাইয়াত হোসেনের কনটাক্ট দেন (রুবাইয়াত হোসেনও স্মিথ কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন)।
আমার মা এখন দিল্লিতে কাজ করেন। ফলে আমি এখন ঢাকা-দিল্লি-নিউইয়র্ক করছি আরকি!
আপনি ঢাকায় এলেন কবে? কী কাজে এলেন?

আমি তো আসলে ঢাকারই মেয়ে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, সবকিছু শেষে ঢাকা আমার ফিরে আসার জায়গা। সেভাবেই ২০২৩ সালে পড়াশোনা শেষে ফিরলাম।
আমি বাংলাদেশের আর্ট, সিনেমা বুঝতে; এগুলো নিয়ে কাজ করতে খুবই আগ্রহী। এটাই তো আমার দেশ, আমার ঘরবাড়ি, আমার সবকিছু।
যখন দেশ ছাড়ি, তখন বয়স ছিল ১০ বছর। ভাবলাম, কয়েক বছর থাকব। কিছু কাজ করব। সেই সময় রুবাইয়াত আপুর সঙ্গে পরিচয় হলো। বাংলাদেশি সিনেমায় ‘মেল গেজ’ (পুরুষ দৃষ্টি) নিয়ে একটা পেপার লেখার কাজ নিয়ে আলাপ হলো শুরুতে।
ব্রিটিশ নারীবাদী সিনেমা তাত্ত্বিক লরা মালভি হলিউডের বা পশ্চিমা সিনেমার আলোকে মেল গেজকে ব্যাখ্যা করেছেন। আমরা সেটাকে বাংলাদেশি সিনেমার আলোকে ব্যাখ্যা করতে চাইছিলাম।
আমরা লেখা শুরু করলাম। তখন রুবাইয়াত আপু বলছিলেন, তাঁর পরবর্তী প্রজেক্টে মেল গেজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তখন আমি নানান কিছু নিয়ে কাজ করছিলাম। কারণ, ঠিক কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
সিনেমা নিয়ে পড়াশোনার জন্য নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির টিশ স্কুল অব দ্য আর্টসে আবেদন করছিলাম। ক্লাস শুরু হলো। কিছুকাল ব্লাস্টের (বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট) সঙ্গে কাজ করলাম। তখন আমি আবার মানবাধিকার আইন নিয়েও কাজ করতে চাইছিলাম।
ভাবছিলাম, এক বছর কাজ করে আবার আইন নিয়ে পড়তে চলে যাব। তখন রুবাইয়াত আপু জানতে চাইলেন, আমি তাঁর প্রজেক্টে সহকারী হিসেবে কাজ করতে চাই কি না। হাতে সময় ছিল। আগে থেকেই লেখালিখির চর্চা ছিল। আমি চিত্রনাট্যের দলে যুক্ত হয়ে গেলাম। আগে কখনো কোনো সিনেমার সেট দেখিনি। তাই খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম।
প্রোডাকশনের নতুন কেউ এলে আমিই মূলত স্ক্রিপ্ট পড়ে শোনাতাম। এরপর রুবাইয়াত আপু একদিন আমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি লিড কাস্টের জন্য অডিশন দিতে চাই কি না।
আমার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘নাআআ!’ নিজেকে সামলে নিয়ে দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘আচ্ছা, একটু ভেবে জানাই।’ ঘণ্টা তিনেক পর জানালাম, অডিশন দিতে চাই।
এর মধ্যে আমার মা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলি। তাঁরা আমাকে বোঝায়, এটা আমার জন্য বড় সুযোগ।

রুবাইয়াত হোসেনের মাথায় তো এই চরিত্রের জন্য শুরুতে অন্য কেউ ছিলেন?
হ্যাঁ, হ্যাঁ। খুবই শক্তিশালী গুণী অভিনেত্রী। তিনিও দেশের বাইরে সেটলড।
বাংলাদেশি?
হ্যাঁ, অবশ্যই। এটা তো একেবারেই ঢাকার গল্প, বাংলাদেশের গল্প।

আপনার অডিশনের প্রক্রিয়া কেমন ছিল?
খুবই দীর্ঘ আর জটিল প্রক্রিয়া। আরও অনেকেই কিন্তু এই চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন। মূল অডিশনের পরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দৃশ্যের ভিডিও করে পাঠাতে হতো।
এরপর মাসের পর মাস চুপচাপ বসে ছিলাম। কোনো আপডেট নেই। ভাবলাম, বোধ হয় আমি চরিত্রটা আর পাব না। অন্য কিছুতে মন দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। একদিন পরিচালক ফোন করে জানালেন, আমি নির্বাচিত হয়েছি!

আপনি তো এই সিনেমার তিনটি অংশে কাজ করেছেন। প্রি-প্রোডাকশনে চিত্রনাট্যে কাজ করেছেন। চরিত্রটা গড়ে তুলেছেন। তারপর মূল চরিত্র হিসেবে অভিনয় করেছেন। এরপর ভেনিসে দর্শকসারিতে বসে সিনেমাটি দেখলেন। এই তিনটি ‘পয়েন্ট অব ভিউ’ থেকে সিনেমাটিকে কীভাবে দেখলেন?
যখন চিত্রনাট্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন কাজটা আমার জন্য অনেক সহজ ছিল। আমি মূলত একাডেমিক জায়গা থেকে চিত্রনাট্যকে তৈরি করার ক্ষেত্রে ইনপুট দিচ্ছিলাম।
আমরা মহড়া যখন শুরু করলাম, তখন বুঝতে পারলাম, অভিনয় ব্যাপারটা কত সূক্ষ্ম, কত জটিল। যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই, ক্যামেরা সবকিছু বুঝে যায়, ধরে ফেলে; সূক্ষাতিসূক্ষ্ম ব্যাপারস্যাপারও।
ফলে ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে গেলেই ধরা! ঠিক ঠিক ওই চরিত্রটাই হয়ে উঠতে হবে। ব্যাপারটা আসলে এর চেয়েও জটিল।
ধরুন, একটা দৃশ্য, মেয়েটা একা একা বেডরুমে একটা কিছু করছে; কিন্তু রুমে তো আসলে আরও ৫–৭ জন আছে। আলো পড়ে আছে ঠিক মুখের ওপর। পরিচালক আমার ওপর ভরসা করেছেন। ভীষণ ঝুঁকি নিয়ে বাজি ধরেছেন। আমি তাই আমার শরীর, মন ও মননে ওই চরিত্রটা হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি।
আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। বিশেষ করে আমার সহশিল্পী শিমু…রিকিতা নিন্দিনী শিমু, আমরা প্রথম দিন থেকেই একসঙ্গে মহড়া করেছি। তিনি ব্রিলিয়ান্ট ব্রিলিয়ান্ট অভিনয়শিল্পী।
আর তৃতীয়ত, যখন দর্শক হিসেবে দেখেছি, সেটা আমার জন্য খুবই আবেগের ছিল। নিজের শরীর থেকে বের হয়ে নিজেকে দেখার (আউট অব বডি এক্সপেরিয়েন্স) মতো একটা ব্যাপার। এত বড় পর্দায় নিজেকে দেখছি, নিজের চিত্রনাট্যটা দেখছি, একটা একটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা।
কেবল যে নিজেকে দেখছি তা-ই নয়, আমাদের সিনেমাটোগ্রাফার যে কী ভালো কাজ করেছেন; সাউন্ড, লাইট, এডিটিং, সহশিল্পীদের কাজ…সব মিলিয়ে সিনেমা যখন শেষ হলো, আমার চোখে পানি। নিজেকে সামলে নিয়ে স্টেজে উঠলাম, প্রশ্নোত্তর পর্বে কথা বললাম। আর সবাই কী যে সুন্দর করে সিনেমাটাকে গ্রহণ করেছেন!
প্রিমিয়ার শেষে যেখানেই গেছি, অন্য যেকোনো স্ক্রিনিংয়ে বা লবিতে অথবা কার্পেটে বা বাইরে…সবাই আমাকে চিনেছে। অন্তত তিনজন আমাকে জানিয়েছে এই বিভাগে আমাদের সিনেমাটাই তার কাছে সবচেয়ে সেরা বলে মনে হয়েছে।

আপনার কাছে সৌন্দর্যের কী মানে?
একটা মানুষের অকৃত্রিমতা। মানে আমি যেমন, নিজেকে সেভাবেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ক্যারি করাই আমার কাছে সৌন্দর্য।
নিজের দুর্বলতা ও নিজের শক্তি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা আর সেটাকে সুন্দর করে বয়ে নিয়ে বেড়ানো। এর সঙ্গে কারও চেহারা, গায়ের রং, জাতীয়তা বা অন্য কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই।
আপনার কাছে নারীবাদের সংজ্ঞা কী?
জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতি, দেশ, লিঙ্গ বা অন্য যেকোনো কিছু–নির্বিশেষে নিজের জীবনের ওপর নিজের অধিকার থাকা, এটাই মৌলিক ব্যাপার।

টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (টিফ) যাচ্ছেন?
না। খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমার ফিল্ম স্কুল শুরু হয়ে গেছে। আমি তখন ইতালির ভিসা নিচ্ছিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিলাম। এসব তো অনেক পেপারওয়ার্ক। সময়মতো কানাডার ভিসার কাজও করতে পারিনি। সময় পাইনি আসলে। আমাদের দল থেকে সম্ভবত রুবাইয়াত আপু আর শিমু যাচ্ছেন।

‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমাটি একটি বাক্যে কী বলতে চায়?
কেবল ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ই নয়, রুবাইয়াত হোসেনের কোনো সিনেমা সম্পর্কেই এক বা দুই লাইনে বলা যায় না। কারণ, সিনেমাগুলো এত সোজাসাপটা নয়। একটা সিনেমার অনেক স্তর থাকে। সেসব আবার একটার সঙ্গে আরেকটা জড়িয়ে-পেঁচিয়ে থাকে।
খুব সহজে অল্প কথায় বলতে গেলে, এই সিনেমা সৌন্দর্যের প্রচলিত সংজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে গড়তে চায়। মানে সিনড্রেলার সেই রূপকথার গল্পটাকেই ভেঙে নতুন ভাষায় বলে। যেখানে সমাজের লেন্স দিয়ে বা বাইরের চোখে যেটা ‘ফেইরি টেল’, সেটাই মূল চরিত্রের ভেতরে ‘গোস্ট স্টোরি’ হয়ে চলতে থাকে।
বাইরে থেকে দেখলে, মেয়েটার ‘সো কলড খুব ভালো’ বিয়ে হচ্ছে। সবাই বাহবা দিচ্ছে; কিন্তু এদিকে মেয়েটার ভেতরে ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। মানে সমাজের মাপকাঠিতে তাঁর জীবন একদম ‘পারফেক্ট’; কিন্তু তাঁর নিজের জন্য সেটা একটা হরর ব্যাপার।

আপনার ভেনিসের ওয়ার্ডরোব নিয়ে কথা বলি। প্রিমিয়ারে তো আপনারা সবাই জামদানি পরেছেন। আপনার কলাপাতারঙা শাড়ির সঙ্গে টপে গোলাপির ওই শেডটা একটা আরেকটাকে এত কমপ্লিমেন্ট করেছে! সঙ্গে আবার স্নিকার্স…
হ্যাঁ। আমরা সবাই আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম, জামদানি পরব। আমাদের সবার জামদানি তৈরি করেছে দেশি ফ্যাশন হাউস ‘নব’।
আমরা সবাই বাংলাদেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ডকে তুলে ধরতে চেয়েছি। এটা নিজেদের সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে, ছড়িয়ে দিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের সিনেমার বিয়ের শাড়িটিও ‘নব’ তৈরি করেছে। ওরা অসম্ভব সুন্দর নকশার হালকা কিন্তু জমকালো জামদানি তৈরি করে। আমি কিন্তু শাড়ির টপের সঙ্গে বো-টাই পরেছিলাম। আর স্নিকার্সও পরেছিলাম। কারণ, ফ্যাশনের ভেতর দিয়ে তো আমি নিজেকেও প্রকাশ করছি।
আমার স্টাইলিংয়ের আলাদা দল ছিল, আমরা সবাই মিলেই শাড়ি আর টপের ওই কম্বিনেশনটা বাছাই করেছিলাম। আমি খুবই রঙিন মানুষ। রং আমার খুব পছন্দ।
ব্যাকড্রপে সমুদ্র থাকলে, লালগালিচা থাকলে—এসব বিবেচনায় রেখে কেমন লাগবে, এসব ভেবেই পোশাক ও রং বাছাই করা।

প্রাডার ককটেল পার্টিতে পরেছেন বারগেন্ডি রঙের স্লিট প্লিটেড স্কার্ট আর করসেট টপ। র্যাপ স্কার্টের ভাঁজগুলো আর ফিনিশিংও এত নিঁখুত। এটা কার করা?
হ্যাঁ। কী সুন্দর, না? এই ডিজাইনারের নাম মৌরিন জহির। উনার ফ্যাশন হাউসের নাম ‘মায়া ঢাকা’।
আমি মৌরিনকে বলেছিলাম, আমার জন্য এমন একটা কিছু বানাতে, যেটাতে বাংলাদেশ আর পশ্চিমার একটা মেলবন্ধন থাকে। আমি যেমনটা। তো টপটায় ডালিম আর কৃষ্ণচূড়া ফুলের মোটিফে এম্ব্রয়ডারি করা।
আর করসেট টপটার সাইডগুলায় নকশি সেলাই। প্রাডা ফাউন্ডেশন এ বছর থেকেই সিনেমায় অনুদান দেওয়া শুরু করেছে।
আমাদের সিনেমাটাই প্রথম সিনেমা হিসেবে পোস্ট-প্রোডাকশনে সেই ফান্ড পায়। প্রাডা আমাদের সিনেমাটাকে (অন্যতম প্রযোজক হিসেবে প্রাডারও সিনেমা) উদযাপন করার জন্য প্রিমিয়ার শেষে সুন্দর একটা ককটেল পার্টির আয়োজন করে।
এই স্কার্ট-টপের সঙ্গে জুতা নিয়ে আমার স্টাইলিং টিমের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। শেষে আমি যে রংচঙা জুতাটা পরতে চেয়েছি, সেটাই পরেছি।

আলাপের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিওতে আপনাকে বড় বড় ফুল-ফুল থ্রিডি মোটিফে নকশি সেলাইয়ের কালো জাম্পস্যুটে দেখলাম। ওটা তো দেখেই মনে হচ্ছে পরে খুব আরাম…
একদম। ওটা ভেনিসে আমার ফাইনাল লুক ছিল। বানিয়েছেন ‘সিজ বাই এসএস’–এর সামাহা সুবাহ।

এরপর? সামনে কী করতে চলেছেন?
আমি অভিনয়টা তো করতেই চাই; কিন্তু যে ধরনের সিনেমায় অভিনয় করতে চাই, যেমন নারীবাদী, আর্ট হাউসের সিনেমা—এই ধরনের কাজ তো খুবই কম হয়। তাই ভাবলাম, যদি এই ধরনের সিনেমায় কাজ করতে চাই, তাহলে নিজেকেই বানাতে হবে।
তাই এখন সিনেমা পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করছি। ভবিষ্যতে সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা, পরিচালনা ও অভিনয়ের ইচ্ছা আছে।

ধন্যবাদ, এত ব্যস্ততার মধ্যেও অনেকটা সময় দেওয়ার জন্য।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আমি এই সাক্ষাৎকারে ভেতর দিয়ে কেবল আরেকটা কথা বলতে চাই। সেটা হলো, এখনো আমি সাক্ষাৎকারে অনেকটুকু ইংরেজিতে কথা বলি। বাংলাটা ভালোভাবে শেখার চেষ্টা করছি। বাংলা সাহিত্য পড়ছি। গান, পডকাস্ট শুনছি।
বাংলা তো খুবই মিষ্টি, সুন্দর একটা ভাষা। আমার মাতৃভাষা। আশা করছি, যখন সিনেমা মুক্তির সময় বাংলাদেশে যাব, তখন আরও সুন্দর করে বাংলায় কথা বলব। এখনকার মতো ক্ষমাপ্রার্থী।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বামপন্থি নেতৃত্বের হাতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি। কয়েক বছর আগেও দেশটিতে ছিল তীব্র খাদ্য ও জ্বালানি সংকট, চারদিকে ছিল হাহাকার। আজ সেখানে স্বস্তি ফিরছে। খাদের কিনারা থেকে এই পথ পরিবর্তন মোটেও সহজ ছিল না শ্রীলঙ্কার জন্য। বিশেষ করে, একজন বামপন্থি নেতার হাত ধরে দেশটির এই অর্থনৈতিক পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকের সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচির ফলেই শ্রীলঙ্কা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে। অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও দেউলিয়া হওয়ার অন্ধকার অধ্যায় শ্রীলঙ্কার এই সংকটের শুরু হয়েছিল ভুল সরকারি নীতি ও বৈদেশিক ঋণের পর্বতসম বোঝার কারণে। ২০১৯ সালের ট্যাক্স কাট, করোনা মহামারি এবং পর্যটন খাতের বিপর্যয় দেশটিকে চরম সংকটে ফেলে দেয়। কৃষিতে হঠাৎ রাসায়নিক সার নিষিদ্ধ করার মতো নীতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় শেষ হয়ে যায়। তাতে জ্বালানি আমদানির অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। দেশজুড়ে দেখা দেয় খাদ্য ও ওষুধের সংকট। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায় ৭০ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকত না। পেট্রল ও ডিজেলের জন্য মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হতো। একপর্যায়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। ৫১ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয় তারা। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসে প্রথম সার্বভৌম ঋণখেলাপি। গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক সংকট চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র গণ-অসন্তোষ, যা ইতিহাসে ‘আরাগলায়া’ বা গণ-সংগ্রাম নামে পরিচিত। বিক্ষুব্ধ জনতা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের বাসভবনে চড়াও হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। এরপর রাজনৈতিক এক সমঝোতার মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেইলআউট প্যাকেজ সচল করার চেষ্টা করেন। তবে তার কঠোর কর নীতি এবং ব্যয় সংকোচন সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে। জনগণের মধ্যে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি চরম অনাস্থা তৈরি হয়। দুর্নীতিমুক্ত ও গণমুখী এক নতুন নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে ওঠে। বামপন্থিদের নাটকীয় উত্থান ঠিক এই রাজনৈতিক ও সামাজিক শূন্যতার মধ্যে উত্থান ঘটে ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ারের (এনপিপি) বামপন্থি নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকের। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, রাজনৈতিক অভিজাতদের বিশেষ সুবিধা কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অনুরাকে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পান তিনি। পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় তার জোট। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, একজন মার্ক্সবাদী নেতা ক্ষমতায় আসলে হয়তো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এমনকি আইএমএফের সঙ্গে চুক্তিও বাতিল হতে পারে বলে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু অনুরা দিশানায়েকে প্রমাণ করেছেন, তিনি ভাবাদর্শের চেয়ে বাস্তবমুখী অর্থনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি ক্ষমতায় এসেই আইএমএফের কর্মসূচির মৌলিক শর্তগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ঘোষণা দেন। তবে একই সঙ্গে এতে যুক্ত করেন নিজস্ব সংস্কার এজেন্ডা। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচি অনুরা দিশানায়েকের বামপন্থি সরকার কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। রাজস্ব প্রশাসন শক্তিশালী করা, ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কার, কর আদায় বাড়ানো এবং দুর্নীতি কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে বেশ কিছু করছাড় দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গাড়ি আমদানি ফের চালু করার সঙ্গে ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে লঙ্কান সরকার। অবৈধ ব্যবসা এবং কালোবাজারি চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান দেশে আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে সাহায্য করছে। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। চা বাগান কর্মীদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সময়, বিদেশি ঋণ পুনর্গঠন প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুফল এখনো সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব চিত্র বর্তমান সময়ে এসে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। একসময়ের আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় অবদান রাখছে পর্যটন খাতের অভাবনীয় পুনরুত্থান এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আইএমএফের হিসাবে, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার পাঁচ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চের শেষে দেশটির সরকারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। রাজস্ব আদায়ও শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি ২ হাজার ৫৫৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন রুপি রাজস্ব সংগ্রহ করে, যা তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ঋণ পুনর্গঠন এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির ঋণ পরিস্থিতিও আগের তুলনায় টেকসই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব বাড়ানো এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে জনগণের ওপর কর ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ রয়েছে। দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্যের প্রভাবও পুরোপুরি কাটেনি। তাছাড়া, আইএমএফের সর্বশেষ মূল্যায়ন বলছে, ২০২৬ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় তিন শতাংশে নেমে আসতে পারে। তেলের চড়া দাম, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং পর্যটন আয়ে সম্ভাব্য ধাক্কা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ পুনরুদ্ধারের পথ এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবু সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি অন্য জায়গায়। দেউলিয়া হয়ে যাওয়া একটি দেশ এখন আবার প্রবৃদ্ধির পথে। রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। ঋণ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়েছে। আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন একজন নেতা, যার রাজনৈতিক পরিচয়ের শিকড় বামপন্থি ও মার্কসবাদী রাজনীতিতে। এক নতুন শ্রীলঙ্কার বার্তা অনুরা কুমারা দিশানায়েকে বিশ্বকে দেখিয়েছেন, কেবল পুঁজিবাদী বা সমাজতান্ত্রিক তত্ত্বের অন্ধ অনুসরণ নয়, বরং সুশাসন ও বাস্তববাদী নীতিমালার মাধ্যমেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। সংকটকে শক্তিতে রূপান্তর করে কীভাবে দুর্নীতি দূর করা যায় এবং অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায়, শ্রীলঙ্কা এখন তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য শ্রীলঙ্কার এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এক বড় ধরনের অনুপ্রেরণা। সূত্র: রয়টার্স, এপি, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ, আইএমএফকেএএ/
মিমের জীবনে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে? এমন প্রশ্নের উত্তর অভিনেত্রী নিজেই দিয়েছেন। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিমের কাছে সেই মানুষটি তার সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে প্রিয় এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গী। বিশেষ এই মানুষটিকে ঘিরে মিমের ভালোবাসার প্রকাশও মাঝেমধ্যে দেখা যায় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। অভিনয়ের ব্যস্ততার বাইরে ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন মিম। বিশেষ করে ভ্রমণ, অবসর কিংবা কাছের মানুষদের সঙ্গে কাটানো সময়ের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। এবারও তেমনই এক বিশেষ দিনে প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। মিমের সেই প্রিয় মানুষ আর কেউ নন, তার স্বামী ও ব্যাংকার সনি পোদ্দার। আজ সনি পোদ্দারের জন্মদিন। বিশেষ দিনটিতে স্বামীর সঙ্গে তোলা বেশ কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ভালোবাসামাখা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মিম। মিম লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন আমার প্রিয় মানুষ। সনি পোদ্দার, আজও তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে প্রিয় ভ্রমণসঙ্গী, আর প্রিয় সবকিছু। তোমার সঙ্গে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ভাগ করে নিতে ভালো লাগে। তোমাকে পাশে নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই।’ দীর্ঘ আট বছরের প্রেমের পর ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি সনি পোদ্দারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মিম। বিয়ের পরও স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের নানা সুন্দর মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। এদিকে, ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন মিম। সম্প্রতি শেষ করেছেন নতুন সিনেমা ‘জীবন অপেরা’র শুটিং। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আলভী আহমেদ। যদিও প্রযোজনা বা পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনো সিনেমাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, মিম নিজেই শুটিং শেষ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এমআই/এলআইএ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সঙ্গে প্রতিশোধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সরকার এ রায়কে স্বাগত জানায় এবং তারা সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আদালতের মৃত্যুদণ্ডের আদেশের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকারের কিছু বলার নেই। এই মামলায় নিশ্চিতভাবেই আমাদের যারা প্রসিকিউশন টিম আছেন, তারা কাজ করছেন।’ ‘আমরা জনগণ। সুতরাং আমরা যেটা দেখতে চাই, অনেকে বলেন, ফাঁসির রায় দেখে আমরা ভীষণ খুশি হয়ে গেছি। কারও ফাঁসির রায় দেখে ভীষণ খুশি হওয়ার চেয়ে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছি কি না,’ যোগ করেন তিনি। অভিযুক্তরা দেশে থাকলে তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে অবস্থান তুলে ধরতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘তারা যেহেতু ছিলেন না, থাকলে আরও ভালো হতো, তারা এগুলো কনটেস্ট করতেন। সেটার ভিত্তিতে আমরা বিশ্বাস করি বা ধারণা করি যে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া সম্ভব।’ তিনি জানান, এসব শাস্তিকে সরকার স্বাগত জানায়। তবে এর সঙ্গে প্রতিশোধস্পৃহার কোনো সম্পর্ক নেই। ‘আমরা আমাদের সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে বলেছিলাম- আমরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। সেটা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, আমরা সেটা দেখতে চাই,’ বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। আরও পড়ুন মানবতাবিরোধী অপরাধ / ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় সরকারের হস্তক্ষেপ নেই গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার করের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ এবং এ নিয়ে করা রিটের প্রসঙ্গেও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি আদালতের এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তিনি জানান, কর মওকুফের বিষয়ে আদালতের রায় কী হয়েছিল এবং কেন তা তখন কার্যকর হয়নি এ নিয়ে কিছুটা ভুল ধারণা ছিল। এখন বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অনেকের সামনে এসেছে। আদালতের রায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ওই কর দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, তারা নিজেরাই বাদী হয়ে এই কর দিতে চাননি। সরকারের এখানে আসলে কিছু করার নেই। কারণ এখন যে মামলা, তার গতিতে চলবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আপিল বিভাগে যেতে পারে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে না পারলে কর পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা অন্য কারও প্রতি সরকারের অনুরাগ বা বিরাগের প্রশ্ন নেই বলেও স্পষ্ট করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এটি বিচার বিভাগের ব্যাপার। আমরা বিশ্বাস করি এবং আপনারা অনেক ক্ষেত্রেই দেখবেন যে, বিচার বিভাগ তার স্বাধীনভাবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা, সেটা তারা করছেন।’ আরও পড়ুন রায় বহাল / ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে মালয়েশিয়া নির্ধারিত ২৫ এজেন্সির বিষয়ে সরকারের ক্ষমতা নেই সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া-সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেটে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ২৫টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের হাতে নেই। মালয়েশিয়া সরকারই এই সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে। ‘এই যে ২৫ সংখ্যাটা আছে, এটা সিলেক্ট করার কোনো ক্ষমতা আমাদের সরকারের নেই। এটা আসলে মালয়েশিয়ান সরকার ডিসাইড করে। এখন এটা দিয়ে কোনো সমস্যা থাকবে কি না, কতটুকু হবে, সেটা অনেকখানি আমাদের হাতে নেই,’ বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ যতটা সম্ভব নিশ্চিত করতে ওই ২৫ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্যদের সহযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, আলোচনার মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অন্যদের যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ থেকেও অন্তত একটি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আশা করি, যারা ২৫ প্রতিষ্ঠান আছেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝবেন যে, আগের রেজিম নেই এবং এই সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হবে। আমরা একটা বেটার রেজাল্ট আশা করছি। এমএএস/একিউএফ