জাতীয়

এক দিনের সফরে সিলেটে রাষ্ট্রপতি, মাজার জিয়ারতের পর যোগ দেবেন নাগরিক সংবর্ধনায়

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
এক দিনের সফরে সিলেটে রাষ্ট্রপতি, মাজার জিয়ারতের পর যোগ দেবেন নাগরিক সংবর্ধনায়
এক দিনের সফরে সিলেটে রাষ্ট্রপতি, মাজার জিয়ারতের পর যোগ দেবেন নাগরিক সংবর্ধনায়

এক দিনের সফরে সিলেটে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার তিনি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথমে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যান। এরপর আজ তিনি সিলেটে গেলেন।

রাষ্ট্রপতি দুপুরে হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করার জন্য তিনি রওনা দেন। এক দিনের এ সফরে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি বেলা সাড়ে তিনটায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ অনেকে আছেন। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্বাগত জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট সার্কিট হাউসে যাওয়ার সড়কের দুই পাশে সাধারণ মানুষ ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন হাতে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে আছেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির চলাচলের সব কটি সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচুরসংখ্যক সদস্য মোতায়েন আছেন। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে নগর ভবনের আশপাশসহ বিভিন্ন স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাজানো হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি সিলেটে পৌঁছান। পরে মোটরকেডে (মোটরগাড়ির বহর) তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে যাবেন। সার্কিট হাউসে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি প্রথমে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। পরে মাজার জিয়ারত শেষে সাময়িক বিশ্রাম নেবেন। বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনায় উপস্থিত হবেন তিনি। রাত আটটার দিকে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা আছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
৭ বছর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরছেন বাবর আজম
৭ বছর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরছেন বাবর আজম

সময়টা ভালো যাচ্ছে না পাকিস্তান ক্রিকেটের। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে দলটি। সিরিজ হারের পরই স্কোয়াড থেকে ছেঁটে ফেলা হয় ৭ ক্রিকেটার ও দুই কোচকে। সেখান থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে জবাব দিয়েছেন সালমান আলী আগা। এবার সেই পথ বেছে নিলেন টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজমও। চলমান প্রেসিডেন্ট’স ট্রফি গ্রেড-১-এ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের হয়ে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে খেলবেন তিনি। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে ফর্ম ফেরাতে ৭ বছর পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) বাবর নিজেই অনুরোধ করেছিলেন চলমান টুর্নামেন্টে কোনো একটি স্কোয়াডে তাকে যেন অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর টেস্টে কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি বাবর। সবশেষ সেঞ্চুরিটি করাচিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ১৬১ রানের ইনিংসে সেই টেস্টটি ড্র করে পাকিস্তান। এরপর থেকে টেস্টে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ৩০.৪৩। এই সময়ে ৩৯ ইনিংসে তিনি করেছেন মাত্র আটটি ফিফটি, যার চারটিই এসেছে সর্বশেষ পাঁচ টেস্টে। গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে অপরাজিত ৮৮ রান করেছিলেন বাবর। সেটিই ছিল সর্বশেষ সেঞ্চুরির পর তার সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অনুপস্থিত ছিলেন বাবর। সর্বশেষ ২০১৯ সালে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। এবার অবশ্য বাবরের সঙ্গে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেছেন আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সালমান আলী আগা। বাবরের সংযোজন ওজিডিসিএলের জন্যও বড় শক্তি হতে যাচ্ছে। চলতি প্রেসিডেন্ট’স ট্রফিতে দলটি প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান টেলিভিশনের বিপক্ষে চাপে রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ম্যাচে তৃতীয় দিনের শেষে ফলোঅনে পড়ে তিন উইকেট হারিয়ে ১৩২ রানে পিছিয়ে ছিল তারা। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রাজস্থানের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোরকমে ‘মুখরক্ষা’ বিজেপির

রাজস্থানের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনোরকমে ‘মুখরক্ষা’ বিজেপির

সম্মতি ছাড়াই কমিটিতে নাম, যুবলীগ থেকে ৮ নেতার পদত্যাগ

সম্মতি ছাড়াই কমিটিতে নাম, যুবলীগ থেকে ৮ নেতার পদত্যাগ

সভাপতি শেখ হাসিনার পর সাধারণ সম্পাদক কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের রায়

সভাপতি শেখ হাসিনার পর সাধারণ সম্পাদক কাদেরের মৃত্যুদণ্ডের রায়

রাজশাহীতে বেকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
রাজশাহীতে বেকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজশাহীর পবায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং পণ্যের লেবেলে অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের মনোগ্রাম ব্যবহার করায় একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, কাটাখালীর সমসাদীপুরে অবস্থিত আলিফ ট্রেডার্স বেকারি বিএসটিআইয়ের গুণগত মানসনদ ছাড়াই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিস্কুট, পাউরুটি ও কেক উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের লেবেলে অবৈধভাবে বিএসটিআইয়ের মনোগ্রাম ব্যবহার করছিল। একইসঙ্গে পণ্যের উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় তথ্যসম্বলিত লেবেলও ছিল না। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসা. ফারহানা হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। এ সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ভ্রমণনীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন

ভ্রমণনীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে চীন

হলি ক্রস কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বিকেলে

হলি ক্রস কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ বিকেলে

সিপিএলে পা রেখেই সফল মিরাজ, সাকিব–তামিমরা সেখানে কী করেছেন

সিপিএলে পা রেখেই সফল মিরাজ, সাকিব–তামিমরা সেখানে কী করেছেন

জোহা হলের শিক্ষার্থীকে রাতভর হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
জোহা হলের শিক্ষার্থীকে রাতভর হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে রাতভর হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুজ্জোহা হলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার মোবাইল ফোন চেক করে শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ খোঁজা হয় এবং তাকে ‘শিবিরের স্পাই’ আখ্যা দিয়ে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ, হেনস্তা ও মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে গভীর রাতে হলের প্রভোস্টের কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করার চেষ্টারও অভিযোগ করেছেন হলের ভিপি। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আসিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। এ কারণে হলে একটি সিটের জন্য প্রভোস্ট স্যারের কাছে কয়েকবার অনুরোধ করেছি। পরে গণরুমে ফাঁকা সিটের বিষয়ে জানতে গেলে আমাকে ছাত্রদলের হল সভাপতি ফুয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। তার সঙ্গে কথা বললে তিনি ছাত্রদল করতে হবে এবং ছাত্রদল করলেই সিট দেওয়া হবে বলে জানান। পরিবারের পরিস্থিতির কারণে আমিও সিটের আশায় ছাত্রদলের সঙ্গে প্রোগ্রাম করার বিষয়ে রাজি হই।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরে রাতে তার কক্ষে গেলে একটি গ্রুপে যুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে তিনি আমার মোবাইল ফোন নেন। এরপর ফোনের বিভিন্ন বিষয় চেক করে আমাকে শিবির করার এবং ‘শিবিরের স্পাই’ হিসেবে হলে আসার অভিযোগ করেন। আমি বিষয়টি অস্বীকার করে সিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করি। একপর্যায়ে তিনি আমাকে ধমক দেন এবং পরে ছাত্রদলের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে আসেন। তারা আমাকে টেনে গণরুমে নিয়ে যান এবং সেখানে আমার ওপর হাত তোলা ও মারধর করা হয়। জোহা হলের সেক্রেটারি সবুজ আহমেদও সেখানে ছিলেন এবং তিনিও আমাকে মারধর করেন।’ আসিফের অভিযোগ, ‘মারধরের পরও আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বারবার বলা হয়, আমি নাকি শিবিরের স্পাই হিসেবে সেখানে এসেছি। আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি মেরে ফেললেও কেউ কিছু করতে পারবে না এবং পুকুরে ফেলে দেওয়ার মতো কথাও বলা হয়। ছাত্রলীগের সময় কী হয়েছে, সেসব উদাহরণ দিয়েও আমাকে ভয় দেখানো হয়। এসব ঘটনায় আমি এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি যে প্রভোস্ট স্যারের সামনে থাকলেও কিছু বলতে পারিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ধারণ করা হয়। আমার কাছ দিয়ে বিভিন্ন কথা বলিয়ে ভিডিও করা হয়। এমনকি আমাকে দিয়ে লিখিয়েও নেওয়া হয় যে, আমি নাকি নেতা হতে চাই। এভাবে আমার কাছ থেকে একটি স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে।’ আসিফ বলেন, ‘আমি এখন খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো ভাবিনি। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, আমার বিভাগ ও শিক্ষকদের কাছে সহযোগিতা চাই। আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং আমি যেন নিরাপদে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারি।’ অভিযোগের বিষয়ে জোহা হল ছাত্রদল সভাপতি মেহেদী হাসান ফুয়াদ বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীকে আমি আগে থেকে সেভাবে চিনতাম না। রাকসু নির্বাচনের সময় সর্বোচ্চ এক-দুবার তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। তিনদিন আগে প্রভোস্টের রুমের সামনে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি আমাকে জানান, তিনি প্রায় তিন মাস ধরে অবৈধভাবে হলে ছিলেন এবং তার সিটটি নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন তার থাকার জায়গা নেই। তিনি কী করবেন, এ বিষয়ে জানতে চান। আমি তাকে প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে কথা বলতে বলি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় তিনি আমাকে বলেন, তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিএনপির এবং তাকে ছাত্রদলে নেওয়া হলে তিনি ছাত্রদল করবেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, ছাত্রদলে যোগ দিলেই যে সিট পাওয়া যাবে-এ কথা তাকে কে বলেছে? তখন তিনি চুপ হয়ে যান। আমি তাকে আরও বলি, তুমি তিন মাস ধরে অবৈধভাবে হলে ছিলে, তখন তো আমাদের কিছু বলোনি। তোমাকে অবৈধভাবে হলে রাখল কে। তখন সে জানায়, বিষয়টি সে এভাবে জানত না। কিন্তু তার ফোনের বিভিন্ন তথ্য ও নথি দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে, শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই তাকে ওই রুমে তিন মাস অবৈধভাবে রেখেছিল।’ ফুয়াদ আরও বলেন, ‘এরপর সে আমাকে তার বিষয়টি দেখার অনুরোধ করে। গতকাল সন্ধ্যার দিকে সে আবার আমাকে ফোন করে দেখা করতে চায়। আমি তখন বাইরে ছিলাম। রাত ১১টার দিকে তাকে আমার রুমে আসতে বলি। সে রুমে আসার পর আমি তার নিজের ফোনে ভিডিও ধারণ করি। সেখানে আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, তুমি যেহেতু ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত হতে চাচ্ছ, কিন্তু ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের সঙ্গেও তোমার যোগাযোগ ছিল বলে আমরা দেখতে পাচ্ছি। তুমি আমাদের সঙ্গে যোগ দিলে পরবর্তীতে শিবিরের সঙ্গে কোনো সমস্যা হবে কিনা। তখন সে শিবিরের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং তার পরিবারের সবাই বিএনপির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরপর তাকে আমাদের হলের ছাত্রদলের গ্রুপে যুক্ত করার জন্য তার ফোন হাতে নিই। তখন আসিফের ফোনে হল শিবিরের সভাপতি রাফসানের সঙ্গে কথোপকথন দেখতে পাই। ওই কথোপকথনে দেখা যায়, তাদের দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে। সেখানে রাফসান তাকে আমার সঙ্গে কথা বলার সময় রেকর্ড চালু রাখতে এবং প্রভোস্টের রুমে যাওয়ার আগে ও ভেতরে কথাবার্তা রেকর্ড করে তাদের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এমন তথ্যও আমি দেখতে পাই। হলের সেকশন অফিসারের রুমে গিয়েও নজরদারি করার বিষয়ে তার ফোনে তথ্য পাওয়া যায়।’ ফুয়াদ বলেন, ‘এসব তথ্য থেকে আমার মনে হয়েছে, ওই শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করে ছাত্রদলকে বিতর্কিত বা কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার ধারণা, শিবির তাকে একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জোহা হলে ছাত্রদলের সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।’ মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আরেকটি ভিডিও বার্তায় আমি তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছি, আমরা কি তোমাকে কোনো ধরনের মারধর করেছি? সে সেখানে স্পষ্টভাবে বলেছে- না, আমি কোনো মারধর করিনি। বরং সে আমার পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে এবং বলেছে, সে ভুল করেছে, এমনটা করা তার উচিত হয়নি। সে আমাকে এই যাত্রায় ক্ষমা করে দিতে অনুরোধ করেছে এবং পরবর্তীতে আমাদের সঙ্গে থাকার কথাও জানিয়েছে।’ এ বিষয়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘ওই ছেলে যখন হল সভাপতির রুমে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে, তখন হল ছাত্রদলের সভাপতি আমাকে ফোন করে জানতে চান, এখন কী করা উচিত। আমি তাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিই, কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন না ঘটে। যত রাতই হোক, তাকে হল প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আমি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিই, অন্যায়ের বিচার করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, তোমাদের নয়। কোনো ধরনের হয়রানি বা অপ্রীতিকর আচরণ ছাড়াই তাকে হল প্রশাসনের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করাই হবে দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয়। আর তারা সেটাই করেছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি এখনো বিষয়টি জানতে পারিনি। যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা নিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করেছে। সেখানে আমি উপস্থিত না থাকায় বক্তব্য দিতে পারছি না। প্রকৃত ঘটনা জেনে পরে জানাতে পারবো। মিরাজ হোসেন/কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ফেসবুকে যেসব কনটেন্ট দিলেই ব্যান হতে পারেন

ফেসবুকে যেসব কনটেন্ট দিলেই ব্যান হতে পারেন

‘তোর পাওয়ার আর ২৮ দিন আছে, তোরে পিটাইয়া বের করব’—হল ভিপিকে ছাত্রদল নেতা

‘তোর পাওয়ার আর ২৮ দিন আছে, তোরে পিটাইয়া বের করব’—হল ভিপিকে ছাত্রদল নেতা

ঘুমের মধ্যেই ছোবল দিল সাপ, প্রাণ গেল শিশুর

ঘুমের মধ্যেই ছোবল দিল সাপ, প্রাণ গেল শিশুর

0 Comments