যক্ষ্মা, এইচআইভি–এইডস ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি পুষ্টিসহায়তা দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের আওতায় এসব রোগীর মধ্যে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মাসে ৮২০ টাকা করে দেওয়া হবে। যক্ষ্মার রোগীরা ছয় মাস এবং এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা এক বছর এই সহায়তা পাবেন।
এই তিন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুষ্টি সহায়তায় মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৭ কোটি টাকা। ‘বাংলাদেশে যক্ষ্মা (টিবি), এইচআইভি–এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদারকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা গ্লোবাল ফান্ড দেবে ৮৭০ কোটি টাকা।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ লাখ যক্ষ্মারোগীকে শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা, এইচআইভি পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কম্পিউটার সফটওয়্যার, সেমিনার-সম্মেলন, পরামর্শক ও আউটসোর্সিংয়ের মতো খাতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, অপারেশন প্ল্যান কিংবা প্রকল্প, কোনোটি তিন বছরের জন্য; আবার কোনোটি পাঁচ বছরের জন্য। কিন্তু এ তিনটি রোগের একটি স্থায়ী সমাধান থাকা উচিত। সে জন্য প্রকল্প বা ওপি থেকে বের হয়ে এসে সরকারি বিদ্যমান চিকিৎসাসেবার সঙ্গে এ তিনটি সেবাকে কীভাবে একীভূত করা যায়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এটি করতে না পারলে দেখা গেল এ প্রজেক্টটি তিন বছর পর শেষ হয়ে গেল, নতুন প্রকল্প নিতে সময় লাগে। তখন রোগীর চিকিৎসাসেবা পেতে সমস্যা হয়।
যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও এইডস রোগীদের পুষ্টিকর খাবারের জন্য জনপ্রতি ৮২০ টাকা দেওয়ার উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন শুধু এইচআইভি এইডস রোগীদের পুষ্টিকর খাবারের জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়। তবে সমস্যা হচ্ছে মাসওয়ারি যাদের টাকা দেওয়া হবে, অতীত অভিজ্ঞতা দেখা যায় তাঁরা পুষ্টিকর খাবারের জন্য এই টাকা খরচ করেন না। অন্য খাতে এ টাকা খরচ করেন। তাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে পুষ্টিকর খাবারের জন্য দেওয়া টাকা যাতে এই খাতে খরচ হয়, সেটি নিশ্চিত করা।
প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা গ্লোবাল ফান্ড দেবে ৮৭০ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কেনার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ওষুধ ও টিকা কিনতে ব্যয় হবে ৯৫৯ কোটি টাকা। ল্যাবরেটরি উপকরণে ৮০ কোটি এবং চারটি লটে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী কিনতে ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ভবন ও স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালে।

প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য যক্ষ্মা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুহার কমানো। এর জন্য রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার সফটওয়্যার কিনতে ৫৬ কোটি টাকা, ভ্রমণে ১০ কোটি, সেমিনার ও কনফারেন্সে ৫৩ কোটি, পরামর্শক খাতে ৪১ কোটি, আউটসোর্সিংয়ে ১৫৮ কোটি এবং প্রশিক্ষণে ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে বর্তমানে এইচআইভিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৭০০। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসাধীন ৯ হাজার ৪০০ এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিকে ১ বছর ধরে মাসে ৮২০ টাকা করে পুষ্টিসহায়তা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে ১ হাজার ৮৯১ জন নতুন করে এইচআইভিতে সংক্রমিত হয়েছেন। এটি দেশে এক বছরে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের সর্বোচ্চ সংখ্যা। একই সময়ে এইডসে মারা গেছেন ২১৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে বর্তমানে এইচআইভিতে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৭০০। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসাধীন ৯ হাজার ৪০০ এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিকে এক বছর ধরে মাসে ৮২০ টাকা করে পুষ্টিসহায়তা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর দেশের ৬৪ জেলাতেই নতুন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে মুন্সিগঞ্জে। এরপর রয়েছে ফেনী, নড়াইল, নওগাঁ ও মাদারীপুর।
জনস্বাস্থ্যবিদ, চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসচেতনতা, যৌনতা নিয়ে ভুল ধারণা এবং সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার কারণে তরুণদের মধ্যে এইচআইভির সংক্রমণ বাড়ছে। অবিবাহিত কিশোর ও তরুণদের মধ্যেও এইচআইভি শনাক্তের হার বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এইডস) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে ২৩ জেলায় এইচআইভি পরীক্ষার সেবা রয়েছে। নতুন শনাক্তের প্রবণতা বাড়ায় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এ কারণে প্রতিটি জেলা সরকারি হাসপাতালে এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় সব জেলা হাসপাতালে এইচআইভির ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৮ জন যক্ষ্মারোগীকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর চিকিৎসাধীন ৮ লাখ ২৪ হাজার রোগীকে ছয় মাস ধরে পুষ্টিসহায়তা দেওয়া হবে।
প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যক্ষ্মা এখনো বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দেশটি বিশ্বের ৩০টি উচ্চ যক্ষ্মা ঝুঁকিপূর্ণ দেশের একটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গত বছরের বৈশ্বিক যক্ষ্মা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি লাখে আনুমানিক ২২১ জনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। প্রতিবছর এ রোগে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যক্ষ্মার সংক্রমণ এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে।
যক্ষ্মা শনাক্তে মলিকুলার ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহও প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওপি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে এই তিন রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ২ কোটি ৭২ লাখ। অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে আছে। দরিদ্র, প্রান্তিক, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এ রোগে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে।
প্রকল্পের নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া এখন মূলত এলাকাভিত্তিক রোগে পরিণত হয়েছে। গত বছর দেশের মোট ম্যালেরিয়া রোগীর প্রায় ৯০ শতাংশই শনাক্ত হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায়। এর মধ্যে বান্দরবানে ৪৯ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৩৬ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে।
২০২৯ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে প্রকল্পটিতে। ম্যালেরিয়া ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে বছরে আক্রান্তের হার একের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৮৩০ জনকে ১২ মাস ধরে মাসে ৮২০ টাকা করে পুষ্টিসহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে মশারি বিতরণও করা হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও এইডস নিয়ন্ত্রণের কর্মসূচি প্রায় ৩০ বছর ধরে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় পরিচালিত হয়ে আসছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব কর্মসূচি অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে পরিচালিত হতো।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওপি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে এই তিন রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমান সরকার ওপির পরিবর্তে প্রকল্পের মাধ্যমে যক্ষ্মা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরকারি রাজস্ব বা জিওবি অর্থায়নে এসব কর্মসূচি পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন কমিউনিটির সহযোগিতা নেওয়া হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে না জানিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করে অচেতন করার পর ২০ বছর ধরে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অপরাধ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যে ম্যানচেস্টারের মিনশুল স্ট্রিট ক্রাউন কোর্টে ওই ব্যক্তি একাধিক ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং ক্ষতির উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে কোনো পদার্থ প্রয়োগ করার অভিযোগসহ মোট ৬০টি অপরাধে নিজেকে দোষী বলে স্বীকার করেন। আইনি কারণে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। একই কারণে তার স্ত্রীর পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে। আদালতে শুনানির সময় ওই নারী পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে দর্শক সারিতে বসে পুরো কার্যক্রম দেখেন। আদালতে বারবার ‘দোষী’ স্বীকার ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি যখন একের পর এক অভিযোগের জবাবে নিজেকে দোষী বলে স্বীকার করছিলেন, তখন তাকে দৃশ্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা যায়। বিচারকের সামনে তিনি কয়েক ডজন অভিযোগে ‘দোষী’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। এর মধ্যে ছিল একাধিক ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নের উদ্দেশ্যে কোনো পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগ। একপর্যায়ে আদালতের বিচারক তাকে কাঠগড়ায় বসে পড়ার অনুমতি দেন। ওই ব্যক্তি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্ট এলাকার বাসিন্দা। কয়েক দশক ধরে তিনি ওই নারীর সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে নির্যাতনের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীর ওপর তার স্বামীর নির্যাতন শুরু হয়েছিল ২০০৪ সাল থেকে এবং তা প্রায় দুই দশক ধরে চলেছে। অন্যদিকে একই নারীর ওপর যৌন অপরাধের অভিযোগে আরও ১২ জন পুরুষের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। তারা প্রত্যেকেই গুরুতর একাধিক যৌন অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই ১২ জনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সময়কাল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। আরেকজন পুরুষ এর আগে ওই নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। বিচার শেষে হবে সাজা স্বামী যেসব অভিযোগ স্বীকার করেছেন, সেসব অপরাধের জন্য তার সাজা বিচার চলমান মামলার শেষ পর্যায়ে ঘোষণা করা হবে। একই নারীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা এসব অপরাধের বিচার যুক্তরাজ্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। মামলায় মূল অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সময়কাল প্রায় ২০ বছরজুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় ঘটনাটির ভয়াবহতাও সামনে এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি এমএসএম
আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কমল সোনার দাম। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) লেনদেনে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ২৮৭ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমেছে। এর আগের দিনও সোনার দামে বড় পতন হয়েছিল। সোমবার সোনার দাম নেমেছিল ৭ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে। অর্থাৎ প্রায় এক মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার সবচেয়ে কম দাম দেখা যাচ্ছে এখন। আরও পড়ুন বিশ্ববাজারের সঙ্গে বাংলাদেশে সোনার দামের পার্থক্য কত? যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও কমেছে। মঙ্গলবার মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়ায়। কেন কমছে সোনার দাম বাজারে সোনার ওপর চাপ তৈরির অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি। তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশায়। আরও পড়ুন সোনা কিনে লাভবান হওয়ার উপায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ববাজার। দুইদিনের বৈঠক শেষে আগামী বুধবার ফেড তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত জানাবে। বাজারে ধারণা, ফেড ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়াতে পারে। তাতে নীতিগত সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে যেতে পারে। সুদের হার বাড়লে সাধারণত সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ সোনা কোনো সুদ দেয় না। অন্যদিকে, সুদবাহী সম্পদে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারীরা সুদের আয় করতে পারেন। ফলে সুদের হার বাড়ার সময় সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। এ কারণেই সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা সোনার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আরও পড়ুন সোনা এখনই কিনবেন না অপেক্ষা করবেন? নজর রাখবেন যেদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে সোনার বাজারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল সূচকও চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এতে বাজারে সুদের হার নিয়ে আরও সতর্ক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দীর্ঘ সময় সুদের হার তুলনামূলক বেশি রাখতে হতে পারে। এমন আশঙ্কা তৈরি হলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। আরও পড়ুন ভরি-ক্যারেট-হলমার্ক / সোনা কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি বিশ্ববাজারে সোনার ভরি কত টাকা? প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮৭ দশমিক ৬৯ ডলার হলে প্রতি ভরি সোনার দাম আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৬০৭ দশমিক ৯১ মার্কিন ডলার প্রায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে (১ ডলার = ১২৩ টাকা ধরে) এর মূল্য দাঁড়ায় আনুমানিক ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ টাকা। (১ ট্রয় আউন্স = ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম; ১ ভরি = ১১ দশমিক ৬৬৩৮ গ্রাম) অর্থাৎ আন্তর্জাতিক স্পট দরে প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ টাকা প্রায়। সূত্র: রয়টার্সকেএএ/
কেমিক্যাল ও শিল্পখাতে স্বনির্ভরতার অঙ্গীকার নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের অন্যতম কেমিক্যাল ও শিল্পজাত কাঁচামাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অ্যানুয়াল পার্টনার সামিট ‘রেডমিন হরাইজন ২০২৬’। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ডিস্ট্রিবিউটররা অংশ নেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে। দ্রুত বর্ধনশীল ম্যানুফ্যাকচারার, সাপ্লায়ার ও ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমানের কেমিক্যাল, অ্যাডহেসিভ ও থিনার পণ্যের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও কমার্শিয়াল সলিউশন, প্রিন্টিং-প্যাকেজিং ইঙ্ক, হট মেল্ট গ্লু, হাইজিন গ্লু, টয়েজ, বেবি প্রোডাক্ট ও অ্যাগ্রো প্রোডাক্ট সরবরাহ করে। বাংলাদেশের কেমিক্যাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশন খাতকে আরও উন্নত, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখাও প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দেশীয়ভাবে মানসম্মত ও উদ্ভাবনী পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি-নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও কর্মসংস্থানমুখী শিল্পখাত গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম নুরুল আলম রেজভী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, পরিচালক রাইসা সিগমা হিমা, পরিচালক রিফাহ তাসনিয়া স্বর্ণা ও চিফ বিজনেস অফিসার মো. জহুরুল হকসহ সারা দেশ থেকে আসা ডিস্ট্রিবিউটররা অংশ নেন। এ সময় অতিথিদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী সাবরিনা এহসান পড়শী। এ বিষয়ে রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি বলেন, ‘রেডমিনের মূল চালিকাশক্তি হলো উদ্ভাবন ও গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন। আমাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট টিমের সহায়তায় উৎপাদনগত বিভিন্ন জটিলতার ক্ষেত্রে আমরা দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী সমাধান দিতে সক্ষম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আধুনিক জীবনমান নিশ্চিতের লক্ষ্যে আরও বুদ্ধিদীপ্ত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন রেডমিন। আমাদের বিশ্বাস, এই সামিটের মাধ্যমে আমরা বহুমুখী শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে শিল্পখাতে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবো।’ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে রেডমিন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এ আয়োজন, শিল্পখাতের উন্নয়ন এবং কেমিক্যাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ইএইচটি/এমএএইচ/