ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে সোমবার সন্ধ্যার অগ্নিকাণ্ড শুধু আগুনের ভয়াবহতাই সামনে আনেনি, প্রশ্ন তুলেছে হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও। আটতলা ভবনটির পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিই বিভিন্ন তলায় গ্রিল দিয়ে বন্ধ করে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে আগুনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর রোগী ও স্বজনদের বড় একটি অংশ নিচে নামার জন্য একটি সিঁড়ির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।
হুড়োহুড়ি করে নামার সময় রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে পড়ে যান, কেউ কেউ আহত হন। কয়েকজনের প্রাণও যায় পদদলিত হয়ে। আগুনের ঘটনায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি, মৃত্যুর কারণ এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা এখন তদন্তের বিষয়।
তবে ঘটনার পরদিন সরেজমিনে দেখা গেছে, যে সিঁড়িগুলো জরুরি মুহূর্তে বিকল্প বের হওয়ার পথ হিসেবে ব্যবহার করা যেত, সেগুলোর কয়েকটির গেটে এখনো তালা ঝুলছে।

মঙ্গলবার সকাল সাতটা থেকে নয়টা পর্যন্ত হাসপাতালের নতুন ভবনে অবস্থান করে রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চারটি সিঁড়ি বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস বলছে, নিরাপত্তার কারণে দুটি সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুই পক্ষের বক্তব্যে এই ব্যবধানও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে, আসলে ভবনের কতগুলো সিঁড়ি নিয়মিতভাবে বন্ধ রাখা হতো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সেগুলো ব্যবহারের ব্যবস্থা কেন ছিল না।
সরেজমিনে দেখা যায়, আটতলা নতুন ভবনের বিভিন্ন তলায় চারটি সিঁড়ির প্রবেশপথে গ্রিলের গেট রয়েছে। কয়েকটি গেটে ঝুলছে তালা। কোনো কোনো তালা ও গেটে মরিচা জমেছে। আগের দিনের আতঙ্কের চিহ্নও স্পষ্ট। কোথাও গেটের অংশ ভাঙা, কোথাও তালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। আগুনের সময় রোগী ও স্বজনরা নিজেদের বাঁচাতে এসব গেট ও তালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আটতলা নতুন ভবনে সাতটি লিফট ও পাঁচটি সিঁড়ি রয়েছে। লিফটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের। পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে একটি নিয়মিত ব্যবহারের জন্য খোলা রাখা হতো। অন্য চারটি সিঁড়ির বিভিন্ন তলার প্রবেশপথে গ্রিল লাগিয়ে তালাবদ্ধ রাখা হতো।
সোমবার সন্ধ্যায় ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুনের সূত্রপাতের পর ধোঁয়া ও আগুনের আতঙ্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী ও স্বজনরা তখন নিচে নামার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিকল্প সিঁড়িগুলোর গেট বন্ধ থাকায় অনেকেই একটি সিঁড়ির দিকে ছুটে যান।
হৃদ্রোগ বিভাগের দায়িত্বে থাকা এক নার্স মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে বলেন, একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে রোগীরা হতাহত হয়েছেন। সব সিঁড়ি খোলা থাকলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। তবে কী কারণে সিঁড়িগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
ঘটনার সময় হাসপাতালের ভেতরে থাকা রোগী ও স্বজনদের বর্ণনাতেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে।

ময়মনসিংহ নগরের চর ঈশ্বরদিয়া গ্রামের জোবেদা খাতুন গত রোববার হৃদ্রোগ বিভাগে ভর্তি হন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি হাসপাতালের করিডোরে ছিলেন। তার ভাষ্য, আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবনের ভেতরে থাকা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সিঁড়ির গেট তালাবদ্ধ থাকায় অনেকে আটকা পড়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েন।
জোবেদা খাতুন বলেন, আগুন দেখে মনে হচ্ছিল কেউ বাঁচবে না। সবাই দৌড়াদৌড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে গেট ও তালা ভেঙে মানুষ বের হন। গেটগুলো আগে থেকেই খোলা থাকলে তাদের কষ্ট অনেক কম হতো।
হাসপাতালের ছয়তলার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু বিভাগে ভাতিজিকে নিয়ে ভর্তি ছিলেন তারাকান্দার মনির হোসেন। তার চোখের সামনেই তৈরি হয় আতঙ্কের পরিস্থিতি।
মনির হোসেন বলেন, আতঙ্কিত মানুষ বিভিন্ন দিক দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করছিলেন। সিঁড়িতে ভাঙা বেড, বেডশিটসহ বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকায় অনেকে আহত হন। একজনের ওপর আরেকজন পড়ে যাচ্ছিলেন। শিশুদের নিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল।
তার প্রশ্ন একটি হাসপাতালের সিঁড়ি তালাবদ্ধ থাকবে কেন? তার ভাষায়, প্রত্যেক ওয়ার্ডের কাছেই সিঁড়ি ছিল। সেগুলো খোলা থাকলে রোগী ও স্বজনরা যার যার কাছের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যেতে পারতেন।
ভালুকার পাঁচগাঁও গ্রামের রাজিয়া খাতুন তার নাতনিকে নিয়ে হাসপাতালের অষ্টম তলার হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তারাও নিচে নামতে পারেননি।
রাজিয়া খাতুন জানান, আগুন লাগার পর শিশুদের নিয়ে তারা একটি কক্ষের এক কোণে সরে যান। আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় পুরো জায়গা অন্ধকার হয়ে যায়। নিচে নামার সুযোগ না থাকায় নিরাপত্তাকর্মীসহ কয়েকজন তাদের এক জায়গায় জড়ো করে রাখেন। সেখানে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন মানুষ ছিলেন।
তার ভাষ্য, আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে অনেকে বমি করছিলেন, কারও মাথা ঘুরছিল। শিশুদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর তাদের আবার ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা এসে রোগীদের দেখেন এবং যাদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তাদের চিকিৎসা দেন।
এই বর্ণনাগুলো থেকে স্পষ্ট, আগুনের সময় শুধু আগুন বা ধোঁয়াই আতঙ্কের কারণ ছিল না। ভবনের ভেতর থেকে দ্রুত বের হওয়ার পথ নিয়ে অনিশ্চয়তাও আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, বন্ধ সিঁড়িগুলো নিরাপত্তার কারণেই বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, নতুন ভবনে পাঁচটি সিঁড়ি ও সাতটি লিফট রয়েছে। সাতটি লিফটের মধ্যে একটি বিকল ছিল এবং সেটি মেরামতের কাজ চলছিল। ওই লিফটের কন্ট্রোল রুমেই আগুন লাগে।
তিনি জানান, নতুন ভবনের পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে একটি দিয়ে নিয়মিত মানুষ চলাচল করেন। অন্য সিঁড়িগুলো সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। নিরাপত্তার কারণে সেগুলো বন্ধ রাখা হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর সিঁড়িগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, হাসপাতালের মতো একটি ভবনে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বিকল্প সিঁড়িগুলো যদি স্বাভাবিক সময়ে তালাবদ্ধ থাকে, তাহলে আগুন, ধোঁয়া, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগের সময় রোগী ও স্বজনেরা সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করবেন।
বিশেষ করে হাসপাতালের রোগীদের বড় অংশই এমন মানুষ, যাদের দ্রুত হাঁটা বা দৌড়ানোর সক্ষমতা নেই। কেউ শয্যাশায়ী, কেউ সদ্য অস্ত্রোপচার করা রোগী, কেউ শিশু, কেউ বয়স্ক। তাদের সঙ্গে থাকেন স্বজনরা। এমন পরিস্থিতিতে একটি সরু বা সীমিত সিঁড়ির ওপর শত শত মানুষের চাপ তৈরি হলে পদদলিত হওয়ার ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। সোমবারের ঘটনাতেও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে রোগী ও স্বজনরা জানিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী মঙ্গলবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে বলেন, লিফটে আগুন লাগলে লিফট হলের মাধ্যমে বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ও আগুনের ঝিলিক দেখা যায়। এতে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের সব সিঁড়ি খোলা থাকলে রোগী ও স্বজনরা সহজে নিচে নামতে পারতেন। তবে নিরাপত্তার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুটি সিঁড়ি বন্ধ রেখেছিল।
ফায়ার সার্ভিসের এই বক্তব্যের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চারটি সিঁড়ি বন্ধ থাকার স্বীকারোক্তির পার্থক্যটি তাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জরুরি নির্গমন ব্যবস্থায় কয়টি সিঁড়ি ব্যবহারযোগ্য ছিল, কয়টি বন্ধ ছিল এবং কোনগুলো কেন বন্ধ ছিল, এসব প্রশ্ন তদন্তের অংশ হওয়া প্রয়োজন।
পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা হুড়োহুড়ি হয়েছিল। তবে সবার প্রচেষ্টায় বড় ধরনের বিপর্যয় হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কেও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, লিফটের কন্ট্রোল বোর্ড ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অংশে আগুনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত তাপের কারণে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লিফটের কেবলের মধ্যে আগুন লেগে তা ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে আগুনের বিস্তার ঘটতে পারে।
অন্যদিকে হাসপাতালের লিফটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় ১১ নম্বর লিফটটি সচল ছিল না। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেটি বন্ধ ছিল।
এখানেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় সামনে এসেছে। লিফট বন্ধ থাকলেও তার বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ ছিল না।
অর্ণব বিশ্বাস বলেন, লিফট বন্ধ থাকলেও এর বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ থাকে না। ফলে লিফট বন্ধ থাকার পরও কন্ট্রোল রুমের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলোতে বিদ্যুৎ-সংযোগ সচল ছিল। আগুন লাগার কারণ নির্ধারণে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি জানান, লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। এরপর বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণের পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমনপথ, সিঁড়ি বন্ধ রাখা, লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসা জরুরি।
কারণ একটি হাসপাতালে নিরাপত্তা শুধু আগুন নেভানোর ব্যবস্থা থাকলেই নিশ্চিত হয় না। আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনরা কোন পথ দিয়ে বের হবেন, সেই পথ সবসময় ব্যবহারযোগ্য রাখা হয়েছে কি না, জরুরি দরজা ও সিঁড়িতে কোনো প্রতিবন্ধকতা আছে কি না, কর্মীরা নিয়মিত মহড়া পেয়েছেন কি না, এসবও অগ্নিনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে পাঁচটি সিঁড়ি থাকার পরও যদি জরুরি সময়ে রোগী ও স্বজনদের একটি সিঁড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে ভবনটির জরুরি নির্গমন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে তদন্তের মাধ্যমে যদি প্রমাণিত হয় যে তালাবদ্ধ সিঁড়িগুলো জরুরি সময়ে ব্যবহারযোগ্য রাখার প্রয়োজন ছিল, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা পরিবর্তন করা জরুরি। আর যদি নিরাপত্তার কারণে কোনো সিঁড়ি বন্ধ রাখতেই হয়, তাহলে জরুরি পরিস্থিতিতে সেগুলো কীভাবে দ্রুত খুলে দেওয়া হবে, তার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।
হাসপাতালের মতো জনবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের প্রস্তুতি কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না। নিয়মিত মহড়া, জরুরি নির্গমনপথের পরীক্ষা, তালা ও গেটের কার্যকারিতা যাচাই, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম পরীক্ষা এবং রোগী সরিয়ে নেওয়ার বাস্তব পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
সোমবারের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দুটি। প্রথমত, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো। দ্বিতীয়ত, আগুন লাগার পর মানুষ কেন নিরাপদ ও বিকল্প পথে দ্রুত বের হতে পারলেন না।
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেবে তদন্ত। কিন্তু দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঘটনাস্থলের চিত্রই অনেক কিছু বলে দিচ্ছে। চারটি সিঁড়ির বিভিন্ন তলায় তালা, ভাঙা গেট, মরিচা ধরা গ্রিল এবং আতঙ্কের মধ্যে রোগী ও স্বজনদের একটি পথ দিয়ে নামার চেষ্টা সেই ব্যবস্থার দুর্বলতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
এখন তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই জরুরি নির্গমন পথগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করছেন রোগী ও স্বজনরা। কারণ আগুনের ঘটনা হয়তো হঠাৎ আসে, কিন্তু নিরাপদে বের হওয়ার প্রস্তুতি আগে থেকেই নিশ্চিত করা যায়। সোমবারের ঘটনা সেই প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
এফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামের এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রশিদ মিয়া মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে। আরও পড়ুন নিজের ১২ বছরের মেয়েকে ছয়মাস ধরে ধর্ষণ, বাবা আটক টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার রোকুনুজ্জামান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। এসময় রশিদ মিয়া কৌশলে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে রশিদ মিয়া ভিকটিমের কন্যাসন্তানের জৈবিক বাবা বলে তথ্য আসে। আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসআর/জেআইএম
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গত রোববার ‘ম্যানচেস্টার ডার্বি’তে ম্যানচেস্টার সিটির জয়সূচক গোলটি ছিল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ‘ভুল সিদ্ধান্তে’র ফসল। সিটি স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের গোলটি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত যেভাবে নেওয়া হয়, সেটা রেফারিদের সংস্থা প্রফেশনাল গেম অফিশিয়ালস লিমিটেডের (প্রো রেফ) বিচারে ভুল। সে জন্য এ সপ্তাহে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সেই ম্যাচের ভিএআর রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।হল্যান্ডের গোলের বিল্ডআপের সময় সিটি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের অফসাইড পজিশন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আর্জেন্টাইন তারকার ‘অবস্থানের কারণে খেলায় কী প্রভাব পড়তে পারে’, ভিএআর তা ‘অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে’ বলে মনে প্রিমিয়ার লিগে রেফারিদের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘প্রো রেফ’। তাদের মতে, মাঠের রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্নিরীক্ষার (অনফিল্ড রিভিউ) পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল ভিএআর রেফারির।হালান্ডের গোলে ম্যাচটি জেতে সিটি। এই গোল নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়কিন্তু ভিডিওতে মুহূর্তটি পর্যালোচনার পর সহকারী রেফারি ব্লেক অ্যানট্রোবাসকে সঙ্গে নিয়ে সিটির গোল বহাল রাখেন ভিএআর রেফারি ম্যাট ডোনহিউ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, এ ভুলের কারণে আন্তর্জাতিক বিরতির আগপর্যন্ত ভিএআর রেফারি ম্যাট ডোনহিউকে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রো রেফের প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা হাওয়ার্ড ওয়েব। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে সপ্তাহ পার করার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিদের (ভিএআর) ভুলের কারণে আরও বেশি চাপের মুখে পড়েছে ‘প্রো রেফ’।হলান্ডের গোল নিয়ে ভুল স্বীকার করল রেফারিদের সংস্থা২০১৪ সালে ইএফএলে সহকারী রেফারিদের তালিকায় উন্নীত হওয়ার পর ২০২৪ সালের মে মাসে প্রিমিয়ার লিগে রেফারি হিসেবে অভিষেক হয় ডোনহিউর। দুই বছর ধরে তাঁকে নিয়মিতভাবেই ভিএআর রেফারির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছিল। অ্যানট্রোবাসকেও এ সপ্তাহে কোনো ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জানতে পেরেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ১০ অক্টোবরের আগে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না ডোনহিউ ও অ্যানট্রোবাস।Wayne Rooney doesn't hold back in his analysis of Man City's goal at Old Trafford. pic.twitter.com/xFz5UZ5DmE— Match of the Day (@BBCMOTD) September 13, 2026 ২০২৩ সালে টটেনহাম হটস্পারের বিপক্ষে লিভারপুলের একটি গোল ভুলভাবে বাতিল করেন রেফারি ড্যারেন ইংল্যান্ড। তারপর ম্যানচেস্টার ডার্বির এ ভুলকে ‘প্রো রেফ’ সংস্থার জন্য সবচেয়ে বাজে সপ্তাহ বলে মনে করছেন রেফারি–মহলে ভেতরকার কিছু সূত্র। দ্য টাইমস আরও জানায়, ডোনহিউকে হয়তো কিছুদিন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এর আগে ড্যারেন ইংল্যান্ডের ভুলের পর তাঁর ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জানতে পেরেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে চলতি সপ্তাহের খেলার পর আন্তর্জাতিক বিরতি থাকায় এই দুজন আগামী ১০ অক্টোবরের আগে প্রিমিয়ার লিগের কোনো ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
হামের উপসর্গে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৬ জন মারা গেছে। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সোমবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৯৩৬ জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১০০ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৩৬ জন। দেশের ইতিহাসে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত এই পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।হামে মারা যাওয়া ৫১% শিশুর টিকার বয়স হয়নিস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজকের প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৭৭। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ২০ হাজার ২০১ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। আর হামের উপসর্গে যে ছয়জন মারা গেছে, তাদের চারজন ঢাকা বিভাগের, একজন সিলেট ও একজন চট্টগ্রাম বিভাগের।হামে মৃত্যু হাজার পার, নজিরবিহীন বলছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরাপ্রায় ৮ বছর ধরে মৃত্যু তো দূরে থাক, হামে সংক্রমণের সংখ্যা ৪০০–র বেশি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে হাম দূরীকরণের লক্ষ্য ছিল। আর এ বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে হাম নির্মূলের সনদ পাওয়া যেত। কিন্তু এবার একেবারে উল্টো হয়ে গেল পরিস্থিতি।যে হাম ভুলে যাওয়া অসুখে পরিণত হয়েছিল, তা আজ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দেওয়ার কাজে চরম অবহেলাকে এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা।চলতি বছরের শুরু থেকে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও সে বিষয়ে নজর দেওয়া হয়নি। মার্চ থেকে হাম ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করে। কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল থেকে মে মাসজুড়ে চলে গণটিকাদান। কিন্তু সে সময়ও প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পড়ে যায়।হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫% অপুষ্টির শিকার