বিনোদন

বারবার ট্রলের শিকার, এবার রাশমিকা নিজেই স্বীকার করলেন দুর্বলতার কথা

Jamil Saxona সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
বারবার ট্রলের শিকার, এবার রাশমিকা নিজেই স্বীকার করলেন দুর্বলতার কথা
বারবার ট্রলের শিকার, এবার রাশমিকা নিজেই স্বীকার করলেন দুর্বলতার কথা

তেলেগু, কন্নড়, তামিল কিংবা হিন্দি—একাধিক ভাষার ছবিতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে রাশমিকা মান্দানাকে। দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা থেকে বলিউড—কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন দ্রুত। ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে তৈরি করেছেন নানা অঞ্চলের দর্শকও। তবে সেই বহুভাষিক ক্যারিয়ারই মাঝেমধ্যে তাঁকে নিয়ে এসেছে সমালোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে বিভিন্ন ছবিতে তাঁর উচ্চারণ ও ভাষা বলার ধরন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম ট্রল হয়নি।

এবার সেই ট্রল নিয়েই মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনো একটি ভাষার বিশেষজ্ঞ নন; বরং নানা ভাষায় কাজ করতে করতে প্রতিটি ভাষার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আর সেটিই তিনি স্বাভাবিকভাবে দেখেন।

রাশমিকার মাতৃভাষা কোদাভা টাক। ভারতের কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে এই ভাষার প্রচলন থাকলেও এ ভাষায় কোনো বড় চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে অভিনয়ে আসার পর থেকেই তাঁকে অন্য ভাষায় কাজ করতে হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরু কন্নড় সিনেমা দিয়ে হলেও পরে তেলেগু ছবিতে জনপ্রিয়তা পান। এরপর হিন্দি সিনেমাতেও জায়গা করে নেন। তামিল ছবিতেও কাজ করেছেন।

রাশমিকা মান্দানা

এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে রাশমিকা বলেন, কোনো একটি ভাষাকে আঁকড়ে ধরে তাঁর ক্যারিয়ার তৈরি হয়নি; বরং কাজের সুযোগ এবং দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় নিয়ে গেছে।
রাশমিকার ভাষায়, তিনি সব ভাষাকেই নিজের ভাষা মনে করেন। ভিন্ন ভাষার দর্শকের সঙ্গে তাঁদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর কাছে এটি শুধু ভাষা শেখার বিষয় নয়, দর্শকের প্রতি সম্মান দেখানোরও একটি উপায়।

তবে উচ্চারণ নিয়ে যে সমালোচনা হয়, সেটি নিয়েও রাশমিকার অবস্থান বেশ পরিষ্কার। নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি কোনো ভাষাতেই ‘খুব ভালো’ নন। অনেক ভাষা জানেন, অনেক ভাষায় কাজ করেন, কিন্তু কোনো একটি ভাষায় নিজেকে বিশেষজ্ঞ দাবি করেন না।

এ কথার মধ্যেই যেন ট্রলের পাল্টাজবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যের সারকথা—একাধিক ভাষায় কাজ করতে গেলে প্রতিটি ভাষার উচ্চারণে শতভাগ নিখুঁত হওয়া সব সময় সম্ভব নয়; বরং চেষ্টা, শেখার আগ্রহ এবং দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির বিষয়টিই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

রাশমিকার ক্যারিয়ারও সেই কথারই প্রমাণ। ২০১৬ সালে কন্নড় ছবি দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক। এরপর তেলেগু সিনেমায় একের পর এক সফল ছবি তাঁকে দক্ষিণ ভারতের পরিচিত মুখ করে তোলে। ‘গীত গোবিন্দম’, ‘ডিয়ার কমরেড’, ‘সারিলেরু নিক্কেভারু’, ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’-এর মতো ছবির মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। পরে ‘গুডবাই’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক করেন। ‘অ্যানিমেল’ ছবির পর হিন্দি সিনেমাতেও তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।

রাশমিকা মান্দানা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

একাধিক ভাষার সিনেমায় কাজ করার কারণে রাশমিকাকে এখন ভারতের অন্যতম বহুভাষিক তারকা হিসেবেও দেখা হয়। তবে এই পরিচয়ের সঙ্গে এসেছে বাড়তি চাপও। একটি ভাষায় দর্শক যেভাবে অভিনেত্রীর কথা বলা শুনতে অভ্যস্ত, অন্য ভাষায় সেই একই অভিনেত্রীকে দেখলে উচ্চারণের সামান্য পার্থক্যও অনেকের চোখে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে সেই পার্থক্য থেকেই তৈরি হয় ট্রল। কোনো দৃশ্যের সংলাপ, উচ্চারণ কিংবা অভিব্যক্তি নিয়ে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে নানা মন্তব্য। রাশমিকার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অভিনেত্রী বলছেন, এসব নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে চান না তিনি।

রাশমিকার কাছে সিনেমা মূলত দলগত কাজ। একজন অভিনেতা নিজের চরিত্রে যতটা সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করেন, কিন্তু একটি ছবির চূড়ান্ত ফল তৈরি হয় পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, সংগীতশিল্পীসহ অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত পরিশ্রমে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে চলতে চান না তিনি।

বর্তমানে রাশমিকার হাতেও বেশ কিছু বড় কাজ। বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তাঁর নতুন ছবি নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। বিয়ের পর এই প্রথম জুটি হয়ে আসবেন তাঁরা। পাশাপাশি ‘মাইসা’ ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। এ ছাড়া এম এস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবনভিত্তিক একটি ছবির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন তিনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

বিনোদন

View more
'আমি আর আমার শাড়ি, দুজনেই যেন মায়ায় পোড়া', ভাবনার শাড়ির লুক মানেই একরাশ আবেদন
'আমি আর আমার শাড়ি, দুজনেই যেন মায়ায় পোড়া', ভাবনার শাড়ির লুক মানেই একরাশ আবেদন

অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার শাড়ির লুক মানেই একরাশ আবেদন। স্লিভলেস লুকের ছবি শেয়ার করেছেন তিনি সম্প্রতি। সাজপোশাকে আবেদনের সঙ্গে আছে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া। ক্যাপশনে ভাবনা লিখলেন, 'আমি আর আমার শাড়ি, দুজনেই যেন মায়ায় পোড়া'। সোনালি ব্লক করা মভ-সাদা সুতির শাড়ি পরেছেন ভাবনা সঙ্গে গোলাপি স্লিভলেস ভেলভেট ব্লাউজে আবেদন ছড়াচ্ছেন তিনি সফট গ্ল্যাম মেকওভারে ফলস ল্যাশ, লেন্স আর গোলাপি লিপটিন্ট নজর কাড়ছে সফট কার্লসে ছেড়ে রেছেন চেস্টনাট হাইলাইট করা চুল নাকফুলটি জ্বলজ্বল করছে পুরো লুকের মাঝে হাতে আছে সোনালি চেনের ঘড়ি হালকা রোদে ফুরফুরে স্নিগ্ধ লাগছেন এই লুকে ভাবনা। হাতে আংটি আর কানে ঝোলানো দুল দেখা যাচ্ছে। শাড়ি, ব্লাউজ আর সাজ মিলিয়ে বেশ নজর কেড়েছেন তিনি ছবি: ভাবনার ইন্সটাগ্রাম

News সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ 0
বারবার ট্রলের শিকার, এবার রাশমিকা নিজেই স্বীকার করলেন দুর্বলতার কথা

বারবার ট্রলের শিকার, এবার রাশমিকা নিজেই স্বীকার করলেন দুর্বলতার কথা

চেনা শোলাঙ্কির অচেনা স্টাইল,লেদার লুকে আবেদন ছড়ালেন বং সুন্দরী

চেনা শোলাঙ্কির অচেনা স্টাইল,লেদার লুকে আবেদন ছড়ালেন বং সুন্দরী

এল ম্যাগাজিনের কভার গার্ল থেকে গ্ল্যামার নিয়ে নতুন বিতর্কে দিশা পাটানি

এল ম্যাগাজিনের কভার গার্ল থেকে গ্ল্যামার নিয়ে নতুন বিতর্কে দিশা পাটানি

‘হুঙ্কার’ এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও
‘হুঙ্কার’ এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও

২০২৫ সালে ‘সাইয়ারা’র সাফল্যের পর প্রচারের আলো থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন অনীত পাড্ডা। সম্প্রতি ‘হুঙ্কার: দ্য রোর’ সিরিজের ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে তাঁকে পাওয়া গেল। সাইয়ারার পর এটিই তাঁর প্রথম প্রচার অনুষ্ঠান। গণমাধ্যমের মুখোমুখিও হলেন প্রথমবার। ফলে অনীতকে ঘিরে পাপারাজ্জি ও গণমাধ্যমকর্মীদের আগ্রহ ছিল বাড়তি। অনুষ্ঠানে অনীতের সঙ্গে ছিলেন ফাতিমা সানা শেখ, রঘুবীর যাদব, জোয়া হুসেন, মোহাম্মদ জিশান আয়ুব ও পরিচালক নিত্যা মেহরা। অনীতের কবিতা পাঠ দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। পরে সিরিজ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনান তিনি। হুঙ্কার–এর বিষয়বস্তুই অনীতকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে এলে কীভাবে অন্যের মতামতের চাপে তার অর্থ বদলে যেতে থাকে, সিরিজে সেই প্রশ্নই উঠে এসেছে। অনীত বলেন, ‘কেউ নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরলে খুব দ্রুত সেটি সবার আলোচনার বিষয় হয়ে যায়। চারপাশ থেকে শুনতে হয়—তোমার এটা করা উচিত ছিল, ওটা বলা উচিত ছিল। এত মতামতের মধ্যে একসময় মানুষ নিজের সত্য নিয়েও সংশয়ে পড়ে। আমার কাছে এটাই হুঙ্কার–এর মূল বিষয়।’সিরিজে অনীত ১৭ বছরের কিশোরী মীনু রাওয়াত। তার জীবনে ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। নিজেই যখন সেই অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারছে না, তখনই তাকে এ নিয়ে কথা বলতে হয়। চরিত্রটির বয়স অনীতের বাস্তব বয়স থেকে খুব বেশি দূরের নয়। তিনি বলেন, ‘অডিশনের সময় আমার বয়স ছিল ১৯, শুটিংয়ের সময় ২০। মীনুর বয়স ১৭। তাই চরিত্রটির বয়স আমার কাছে স্বাভাবিকভাবেই এসেছে। তবে সিরিজের বিষয়টি এত শক্তিশালী ও সংবেদনশীল যে আমার মতো কম বয়সী কারও পক্ষে পুরোটা বোঝা সহজ ছিল না।’চিত্রনাট্য পড়তে পড়তে মীনুর মানসিক টানাপোড়েনের সঙ্গেও নিজেকে মিলিয়ে ফেলেছিলেন অনীত। তাঁর ভাষায়, ‘একসময় আমারও মনে হচ্ছিল, আমি কি মিথ্যা বলছি? অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি এত জোরালো হয়ে উঠছিল যে নিজের সত্য নিয়েও প্রশ্ন জাগছিল।’অনীত পড্ডা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে মীনুকে শুধু তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা দিয়ে বিচার করতে চান না অনীত। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ঘটনার পর মেয়েটি কীভাবে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। অনীত বলেন, ‘মীনু অল্পবয়সী। তার মধ্যে অনেক জটিলতা আছে। তাকে সব সময় বোঝা সহজ নয়। এ কারণেই চরিত্রটি এত বাস্তব। তবে একটা জায়গায় সে একই রকম—কারও কাছে চুপ করে থাকবে না।’চরিত্রটির প্রস্তুতিতে কর্মশালাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দ্বিতীয় দিন অভিনয়ের শিক্ষক রচিত তাঁকে কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল, ‘আপনি কি ভুক্তভোগী?’ ‘আপনার কেমন লাগছে?’ অনীত জানান, তাঁর উত্তরগুলো এসেছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সেখানে ভয় ও রাগের পাশাপাশি ছিল অনিশ্চয়তা ও দৃঢ়তা। কর্মশালার সেই অভিজ্ঞতার ছাপও পরে সিরিজে জায়গা পেয়েছে।হঠাৎ তুমুল বিতর্কে ‘সাইয়ারা’ নায়িকা, আসলে কী হয়েছিলঅনীতের কাছে হুঙ্কার শুধু একটি ঘটনার গল্প নয়, এটি এক কিশোরীর দ্রুত বড় হয়ে ওঠার গল্পও। তাঁর কথায়, ‘মাত্র ১৭ বছরের একটি মেয়েকে খুব কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে সময়ের আগেই তাকে বড় ও পরিণত হয়ে উঠতে হয়।’বিরলা স্টুডিওস ও অ্যাপলজ এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে `হুঙ্কার: দ্য রোর' প্রযোজনা করেছে পার্পল পেবল পিকচার্স। সিরিজটির নির্বাহী প্রযোজক প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভিডিও বার্তা পাঠান তিনি।`হুঙ্কার: দ্য রোর' ২৫ সেপ্টেম্বর জিওহটস্টারে মুক্তি পাবে।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
এমির লালগালিচায় নজর কাড়লেন যেসব তারকা

এমির লালগালিচায় নজর কাড়লেন যেসব তারকা

শুভশ্রীর সঙ্গে আজকাল কথা বলতেও ভয় পান দেব, জানালেন কারণ

শুভশ্রীর সঙ্গে আজকাল কথা বলতেও ভয় পান দেব, জানালেন কারণ

অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে রেলস্টেশনে কেন পাথর ছুড়ে মেরেছিল দর্শক?

অভিনেতা সাদেক বাচ্চুকে রেলস্টেশনে কেন পাথর ছুড়ে মেরেছিল দর্শক?

0 Comments