জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির একটি বসতঘরের মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মরিয়ম (৭)। সে চরলোটাবর এলাকার বাহাদুরের মেয়ে। মরিয়ম ওই এলাকার সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাড়ির মালিক জামিনুরকে আটকের পর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জামিনুরের বসতঘর থেকে মাটিচাপা অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় মরিয়ম। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, আশপাশের এলাকা ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে শনিবার রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, বিদ্যালয়ের পাশের একটি বসতঘরের মাটির নিচে কিছু চাপা দেওয়া রয়েছে। এরপর সেখানে খোঁজ নিয়ে মরিয়মের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মাটি সরিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। কীভাবে মরিয়ম ওই বাড়িতে গেল, তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, ‘শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে থানায় আনা হয়। পরে জড়িত থাকার অভিযোগে বাড়ির মালিক জামিনুরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।’
হৃদয় আহম্মেদ/এসজেডএইচ/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের গুণগতমান ভালো হয়। উৎপাদন খরচ কম হয়, শ্রমিক কম লাগে। কৃষি উপকরণ কম লাগে, কাজ নির্ভুল হয়, সময় কম লাগে, ঝুঁকি কম ও উৎপাদন বেশি হয়। কৃষির প্রায় সব ক্ষেত্রে এআই প্রয়োগ সম্ভব। যেমন- এআই তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস জেনে ফসলের বীজ বপন বা চারা উৎপাদন বা চারা রোপণের সময় নির্ধারণ করে দেয়। এআই সঠিক দূরত্বে ও গভীরতায় বীজ বপন বা চারা রোপণ করে। এআই ফসল ও আগাছা চিহ্নিত করে আগাছা দমন করতে পারে। এআই বীজ ফসলের জমি থেকে অন্য জাতের ফসলের গাছ তুলতে পারে। এআই ফসলের রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করতে পারে ও দমনের উপায় জানিয়ে দেয়। যাতে সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। কীটনাশক ৬০ শতাংশ ব্যবহার কমানো সম্ভব। এআই মাটির তথ্য বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত মাটি অনুযায়ী ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় সার সুপারিশ ও প্রয়োগ করতে পারে। ফলে সারের ব্যবহার, খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এআই মাটির প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারে। বিভিন্ন ফসলে সঠিক সময়ে উপযুক্ত সেচ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারে। ফলে পানির ব্যবহার, খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এআই ফুল কবে ফুটবে, ফল কবে পাকবে, কত ফল, ফসল পাওয়া যাবে সেই তথ্য দেয়। ফসল কর্তন, সংগ্রহ, মাড়াই, ঝাড়াই, শুকানো, বস্তায় ভরার কাজগুলো করতে পারে। এআই বিভিন্ন বাজারের কৃষিপণ্যের দাম জানাতে পারে। ফলে কৃষকেরা উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সেন্সর গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির স্বাস্থ্য, তাপমাত্রা, পরিবেশ ও আচরণ ট্র্যাক করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে এগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সেন্সর মৎস্য খামারের পানির গুণাগুণ, তাপমাত্রা, পিএইচ, ঘোলাত্ব ও পরিবেশ এবং মাছের স্বাস্থ্য, ঘনত্ব ও বৃদ্ধি পর্যায় অনুযায়ী আচরণ ট্র্যাক করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে এগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম। এআই কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সহায়তা করে। গবেষণার জমিতে বা গবেষণাগারে পরীক্ষণ সেট করা, তদারকি করা, ডাটা সংগ্রহ করা, ডাটা বিশ্লেষণ করা, রিভিউ সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ দক্ষতার সাথে করতে পারে। আরও পড়ুন রবিশস্য হিসেবে চিয়া বীজ চাষ করবেন যেভাবে এআই কৃষি সম্প্রসারণে সহায়তা করে, যেমন- নতুন উদ্ভাবিত জাত, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, পণ্য, কৃষি তথ্য প্রচার করতে পারে। এআই বন্যা, খরা, ঝড়, বৃষ্টিপাত, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির পূর্বাভাস দিতে পারে। জমি চাষ, মাটি শোধনও সেচের পরামর্শ দেয়, ফসলের সার্বিক মনিটরিং করে- মাটির পুষ্টি, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, পিএইচ, লবণাক্ততা জানাতে পারে। ফসলের রোগ ও পোকামাকড় জানা এবং তার সমাধান দেওয়া এবং এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের বাজারদর জানা যায়। কৃষিতে এআই প্রযুক্তি সম্বলিত ড্রোন অর্থাৎ ড্রোনের সঙ্গে এআই কাস্টমাইজ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সমন্বয় করলে ড্রোন একবার ফসলের ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে ওই এলাকার যে সার্বিক অবস্থা জানাতে পারে। বাংলাদেশে কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এআই কাজে লাগিয়ে মাঠের তদারকি করতে পারে, যেমন- ফসলের উৎপাদন জানা, ফসলের সার্বিক মনিটরিং করা, মাটির পুষ্টি, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, পিএইচ, লবণাক্ততা জানা, ফসলের পুষ্টির অভাব জানা, ফসলের রোগ ও পোকামাকড় জানা এবং কীটনাশক স্প্রে করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষির ক্ষতিগ্রস্ত ইমেজ প্রসেসিং, বিগ ডাটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে পারে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বাজারে কৃষিপণ্যের দাম যাচাই-বাছাই করা, চাহিদা জোগান, আমদানি রপ্তানি ক্ষেত্রে আইওটি, বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমিতে আইওটি, বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রয়োগের ওপর প্রশিক্ষণ দিতে পারে। কৃষি তথ্য সার্ভিসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে কৃষি কল সেন্টারে সেবা দেওয়া ও তথ্য প্রচার করার সুযোগ আছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়ে উঠেছে শিক্ষা এবং আধুনিক কৃষি ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনার অংশ। তারই ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে মোবাইল অ্যাপ বের করেছে। এই অ্যাপ দিয়ে কৃষকেরা কৃষির বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ধানের রোগবালাই চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে ‘রাইস সলিউশন’ (সেন্সরভিত্তিক ধানের বালাইব্যবস্থাপনা) নামের একটি মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধন করেছে। যা ধানের ক্ষেত থেকেই আক্রান্ত ধান গাছের ছবি দেখে রোগ চিহ্নিত করতে সক্ষম। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে ‘ই-ভিলেজ’ নামক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পে সেন্সরের মাধ্যমে ফসলি জমির মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানা যায়। আরও পড়ুন সম্ভাবনাময় ভোজ্যতেল পেরিলা চাষ করবেন যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে কৃষিতে সব উন্নয়ন করা সম্ভব। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কৃষি একটি উজ্জ্বল ক্ষেত্র। এরই মধ্যে অনেক দেশ কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছে। নেদারল্যান্ডের অ্যাগ্রোকেয়ারস কৃষিকাজে ব্যবহারযোগ্য এআই চালিত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো তাদের নিউট্রিয়েন্ট স্ক্যানার। যন্ত্রটি জমির মাটি নমুনা হিসেবে নিয়ে তাতে কোন কোন উপাদানের ঘাটতি আছে তা জানিয়ে দিতে পারে। এতে কৃষক আগে থেকেই তার জমি চাষের জন্য যথাযথ সার দিয়ে প্রস্তুত করতে পারবেন। জার্মানের পিটের বানানো অ্যাপ্লিকেশনটি মাটির পুষ্টি ঘাটতি শনাক্ত করার পাশাপাশি জমিতে ফসলের কী কী রোগ হতে পারে, এসব তথ্য ব্যবহার করে সেই জমি এবং শস্যের জন্য উপযুক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের উপদেশ দিতে পারে। এ জন্য কৃষককে শুধু তার ফসলের কয়েকটি ছবি তুলে দিলেই হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাকি কাজ নিজে থেকেই করে দেবে অ্যাপ্লিকেশনটি। ভারতের ইন্টেলো ল্যাবস নামের আরেকটি স্টার্টআপ কম্পিউটার ভিশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফল বা সবজির অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারে। এতে বাজারজাত করার সময় ফল ও সবজির পচনজনিত অপচয় কমানো যায়। চ্যাটজিপিটির মতো কৃষিসংক্রান্ত চ্যাটবটেও হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। মাইক্রোসফটের ফার্মভাইবস.বট এমনই একটি চ্যাটবট। এর কাজ হলো কৃষকদের ফসল, জমি ও আবহাওয়া বিবেচনা করে ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ এবং উপদেশ দেওয়া। আফ্রিকার প্রায় পাঁচ লাখ কৃষক এরই মধ্যে এটি ব্যবহার করে সুফলও পাচ্ছেন। আমাদের দেশের কৃষকেরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন। এসইউ
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড ম্যানেজার’ পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে আবেদন শুরু হয়েছে, চলবে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রার্থীকে অবশ্যই বিবিএ/এমবিএ অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। এক নজরে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ তথ্যের ধরন বিবরণ প্রতিষ্ঠানের নাম ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি পদের নাম গ্লোবাল ব্র্যান্ড ম্যানেজার পদসংখ্যা ১ জন চাকরির ধরন বেসরকারি, ফুল টাইম প্রার্থীর ধরন নারী-পুরুষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবিএ/এমবিএ অথবা স্নাতকোত্তর (মার্কেটিং) অভিজ্ঞতা ৫ বছর বেতন ও অন্যান্য সুবিধা আলোচনা সাপেক্ষে বয়সসীমা ২৮-৩৮ বছর সূত্র বিডিজবস ডটকম আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ তারিখ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে কর্মস্থল: ঢাকা জেলায় কাজ করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক। আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। আরও পড়ুন৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, আবেদন ফি ৫৬ টাকাএইচএসসি পাসে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফি ৫৬ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
প্রথমবার মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে অস্ত্রটি কী ধরনের, এর সক্ষমতা কী এবং কখন এটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক বলেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে মহাকাশ কক্ষপথে এই অস্ত্র মোতায়েন প্রয়োজন ছিল। আরও পড়ুন ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য হচ্ছে কানাডা? তার কথায়, মহাকাশে পরিবর্তনশীল হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। মহাকাশে বাড়ছে সামরিক প্রতিযোগিতা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা আগেও জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মহাকাশ কর্মসূচির কথা উঠে এসেছে। এই দুই দেশ ভবিষ্যৎ সংঘাতে মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা ও সেগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা তৈরি করছে বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। স্যাটেলাইট এখন সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মহাকাশে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করার সক্ষমতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট আছে? ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশের ভূমিকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে তাদের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকৃতি সেই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট করেননি মেইঙ্ক। তবে তার বক্তব্যে মহাকাশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ক্ষেত্র হিসেবেও দেখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। মহাকাশে অস্ত্র নিয়ে ১৯৬৭ সালের চুক্তি ১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে ওই চুক্তিতে অন্য ধরনের মহাকাশ অস্ত্রের বিষয়ে একই ধরনের বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা নেই। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ প্রধান শক্তিগুলো মহাকাশে বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট শনাক্ত করা, যোগাযোগে বাধা দেওয়া এবং সেগুলো অকার্যকর করার প্রযুক্তিও রয়েছে। ফলে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। আরও পড়ুন ঝুঁকিতে তেল বাণিজ্য / যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে? আক্রমণাত্মক ভূমিকায় মার্কিন স্পেস ফোর্স মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে মার্কিন স্পেস ফোর্স। ৭০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে নতুন শাখা। ২০১৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মার্কিন স্পেস ফোর্সের মূল দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ও নজরদারিতে ব্যবহৃত শত শত মার্কিন স্যাটেলাইটসহ মহাকাশে থাকা দেশটির সম্পদ সুরক্ষা করা। তবে গত বছর ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে স্পেস ফোর্সের প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপরও জোর দেওয়া হয়। স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের আওতায় প্রতিপক্ষের সক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটানো, তা দুর্বল করা এবং প্রয়োজন হলে ধ্বংস করার মতো কার্যক্রমও থাকতে পারে। এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। রাশিয়া ও চীনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ মহাকাশে রাশিয়া ও চীনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন নয়। ফেব্রুয়ারির শুরুতে জানা যায়, দুটি রুশ স্যাটেলাইট সম্ভবত ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর অন্তত এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে। এসব হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দারা স্যাটেলাইটে আদান-প্রদান করা সংবেদনশীল তথ্য পড়তে পেরেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি তাত্ত্বিকভাবে এসব স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে, যা অন্য স্যাটেলাইটে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে। রাশিয়া তখন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। চীনের মহাকাশ সক্ষমতাও বাড়ছে মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাকাশ ও ‘কাউন্টারস্পেস’ সক্ষমতা তৈরি ও পরিচালনা করছে। অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে যুদ্ধের একটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে বলে দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্য একটি নির্ণায়ক বিষয় হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বিবিসিকেএএ/