দরজায় কড়া নাড়ছে পর্যটন মৌসুম। ফেলে আসা বছরগুলোতে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশে পর্যটন মৌসুম। তবে গত বছর থেকে কক্সবাজারে বর্ষাতেও উল্লেখযোগ্য পর্যটক উপস্থিতি বেড়েছে। যার ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান।
খোলার দিনগুলোতে পর্যটক-দর্শনার্থীর আনাগোনা কম থাকলেও সাপ্তাহিক বা অন্য বন্ধের দিনগুলোতে লোকারণ্য হয়ে উঠছে কক্সবাজার সৈকত ও আশপাশ। পর্যটন মাস সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই শুক্র এবং শনিবার পর্যটকে মুখর হয় দরিয়ানগর কক্সবাজার। এ পরিস্থিতি দেখে আগামী মৌসুমটা জমজমাট যাবে, সেই আশা করছেন পর্যটন বোদ্ধারা।

সৈকতে পর্যটক নিরাপত্তায় কাজ করা সী সেইফ লাইফগার্ডের সিনিয়র কর্মী মুহাম্মদ ওসমান বলেন, পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজার সৈকতের তিন পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। এখন সিগন্যাল চলছে। উত্তাল সগারের ঢেউ ঝাউবনের কিনারা ছুঁয়ে পড়ছে। তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার শঙ্কাও। কিন্তু এ বৈরী আবহাওয়ার মাঝেই ছুটির দিনে বিপুল পর্যটকের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে বেলাভূমি। সৃষ্টি হওয়া গর্ত এলাকায় ঝুঁকি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক লাইফগার্ড কর্মীরা। মাইকিংয়ের পাশাপাশি গর্তপূর্ণ স্থান থেকে পর্যটকদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, উত্তাল ঢেউয়ে নোনাজলের সান্নিধ্যে ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা। কেউ মেতেছেন সমুদ্রস্নানে, কেউ টিউবে গা ভাসিয়ে উপভোগ করছেন ঢেউয়ের দোল। আবার সাগরের গভীরতার রোমাঞ্চ পেতে অনেকেই জেড স্কিতে ছুটছেন। তবে উচ্ছ্বাস যেন বেশি শিশু-কিশোরদের মাঝেই।
ফেনীর মহিপাল থেকে আসা শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে বন্ধুরা মিলে কক্সবাজার এসেছি। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে সমুদ্রের আবহ এত সুন্দর হয়, না দেখলে বুঝতাম না। ঢেউয়ের সঙ্গে গোসল করে অনেক মজা করেছি।
ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আরিফা জান্নাত বলেন, শুক্রবার সকালে কক্সবাজার পৌঁছে বৃষ্টির কবলে পড়ি। মনটা খারাপ ছিল। কিন্তু বিকেল হতেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলেও বৃষ্টি আর বাগড়া দেয়নি। সবাই মিলে মেরিন ড্রাইভসহ নানা জায়গায় ঘুরেছি। অনেক আনন্দের স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরবো।
হোটেল সী নাইটের ব্যবস্থাপক শফিক ফরাজী বলেন, এবারের বর্ষায় প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটক ছিল কক্সবাজারে। বন্ধের দিনগুলোতে এ উপস্থিতি উল্লেখ করার মতো। সেপ্টেম্বর শুরুর প্রথম সপ্তাহে মৌসুমের আবহ ছিল কক্সবাজার সৈকতজুড়ে। এবারের পর্যটন মৌসুম পরিচ্ছন্ন ও জমজমাট যাবে সেই আশা করছি সবাই।
হোটেল-মোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা রিয়াদ ইফতেখার বলেন, কক্সবাজারকে দেশের পর্যটন রাজধানী হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু আমাদের অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই বাজে হচ্ছে। সড়কের অনেক জায়গায় হাঁটুসমান, কোথাও তারও বেশি পানি জমে যায়। বৃষ্টি চলমান থাকলে পানির অবস্থান বাড়ে, বৃষ্টি থামলে- এটি নেমে যেতে ঘণ্টা দেড়েক অপেক্ষা করতে হয়। এসব বিষয় পর্যটকদের বিতৃষ্ণা দেয়।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, পর্যটন এলাকা হিসেবে আমাদের কামনা থাকে পুরো বছরই পর্যটকের আনাগোনা থাকুক। চলতি বছর বর্ষাতেও কক্সবাজারে পর্যটকের উপস্থিতি আমাদের আশান্বিত করেছে। তবে সৈকতের কয়েকটি পয়েন্টে ভারী বৃষ্টিতে অসংখ্য গর্ত হয়েছে। সৈকত এলাকা গুছিয়ে রাখা সম্ভব হলে কক্সবাজারের প্রতি পর্যটক আকর্ষণ বাড়ানো যায়। সৈকতের এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে যাতায়াত সহজতর করতে সড়কগুলো পরিচ্ছন্ন করাও দরকার। দেশের সম্পদ হিসেবে কক্সবাজারকে এগিয়ে নিতে সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয় সূত্র মতে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে ১৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। যা বর্ষার শেষ মৌসুমে জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। বৈরী আবহাওয়া এখনো থামেনি। উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের নদীবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩নং সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, প্রতিদিনই কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। মাঝে মাঝে ভারী বর্ষণ হয়। এ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন থাকতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগের মতো আবহাওয়ার পরিস্থিতি সঠিক বলা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, পর্যটন বিকাশমান একটি শিল্প। কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে দেশে পর্যটন বিকাশ দ্রুত ঘটছে। তবে অতীতে নানা ঘটন-অঘটনের মাঝে সারাবছর পর্যটন স্পটগুলো লোকারণ্য হয়ে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানা মেগা প্রকল্প কক্সবাজারকে অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলছে। সেখানে পর্যটনও দ্রুত সমৃদ্ধ হবে বলে আমরা আশাবাদী। গত বছর থেকে বর্ষাতেও পর্যটক উপস্থিতি সেই সমৃদ্ধির দিকে নিচ্ছে বলা চলে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বর্ষায় নিয়মিত পর্যটক উপস্থিতি এবং ছুটির দিনে বাড়তি চাপ পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশাবাদী করেছে। আমাদের প্রত্যাশা, এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই জমে উঠবে কক্সবাজারের পর্যটন মৌসুম।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, নব্বই দশক থেকেই পর্যটনে হাজার লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে উদ্যোক্তারা। কিন্তু বিনিয়োগের বিপরীতে আয় উল্লেখ করার মতো ছিল না। শুরু থেকেই কক্সবাজারে শীতকাল নির্ভরশীল পর্যটন। তাই বর্ষা-শরৎ বিদায় নিয়ে সেপ্টেম্বরে হেমন্তের শীতল হাওয়া বইতে শুরু করলেই পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে আশা জাগে। কিন্তু চলতি বছরের বর্ষা-শরতেও পর্যটকের উপস্থিতি কমবেশি ছিল। সাধারণত বৃহস্পতি-শুক্র-শনিবার ছিল হোটেলে অতিথিদের চাপ। অন্য দিনগুলোতেও তুলনামূলক পর্যটন থাকায় এবার আগেভাগেই সিজন শুরুর প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। সারাবছর পর্যটন সমান্তরাল থাকলে উদ্যোক্তারা অতীতের ক্ষতি পোষাতে পারবেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আজমল হোসেন বলেন, কাগজে-কলমে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটন মৌসুম গণ্য হলেও আমাদের দৃষ্টি সারাবছরই কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম। সেই হিসাবেই আমরা সমুদ্রের সান্নিধ্যে আসা ভ্রমণপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই প্রথম ও মুখ্য কাজ হিসেবে নিই। যেহেতু মৌসুম শুরু হচ্ছে, আমরা আরও পরিশীলিত হচ্ছি। বৈরী আবহাওয়ায় বিচের কিছু জায়গায় গর্ত হয়েছিল। এখন আবার তা মিলিয়ে গেছে। আমাদের বিচ বাইক, জেটস্কি, ওয়াচ টাওয়ার, পুলিশ বক্স সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বেলাভূমির কবিতা চত্বর ও শৈবাল পয়েন্টে পর্যটকরা হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে স্থায়ী পুলিশ বক্স বসানোর কথা উল্লেখ করে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সামনের দিনে অতীতের চেয়ে আরও গোছালো টুরিস্ট পুলিশ পাবেন পর্যটকরা, এটি আশা করা যায়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, পর্যটন জোনের সুগন্ধা-লাবণী-কলাতলী পয়েন্টে লোকসমাগম একটু বেশি হয়। তবে সব পয়েন্টে পর্যটক উপস্থিতি চিন্তা করে তথ্যকেন্দ্র সচল রয়েছে। পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অতীতের মতো নিয়মিত মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে সমুদ্রের সান্নিধ্যে এসে কারো জীবন যেন বিষাদময় না হয় সেদিকে খেলাল রাখতে ভ্রমণ পিয়াসীদের অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সমুদ্রের যে অংশে লাল পতাকা উড্ডয়ন থাকে সেখানে গোসল না করা উত্তম। লাইফগার্ড ও বিচ কর্মীদের নির্দেশনা মেনে ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা করা সচেতনতার পরিচয় বহন করে। নিরাপদ পর্যটনের জন্য স্ব স্ব সচেতনতা অতীত জরুরি।
এফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, অতীশ দীপঙ্কর হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে হল প্রশাসনের এক শিক্ষক ও হল সংসদের কয়েকজন সদস্য ওই কক্ষ পরিদর্শন করেন। তবে কক্ষে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেখানে যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাছিম উদ্দিন তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘চাকসুর মেয়াদ গুনে গুনে ২৮ দিন আছে, এরপর পিটিয়ে বের করে দেবো।’ এ বিষয়ে রিপুল চাকমা বলেন, ‘কয়েকটি জিনিসপত্র নিয়ে একজন শিক্ষার্থী হলে এসে ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠেছে বলে জানায়। পরে স্যারসহ আমরা সেখানে যাই। একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। এই রুম নিয়ে আগে থেকেই ঝামেলা রয়েছে।’ তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাছিম উদ্দিনের দাবি, রিপুল চাকমা তাকে গালি দেওয়ার পর তিনি ওই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের রুম নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিতে পারিস না এ কথা বলার পর সে বলে, এটা তার অধিকার। আমাকে গালি দিলে আমি তখন তাকে হুমকি দিই। আমি হুমকি দিয়েছি, তবে আমাকে গালি দেওয়ার পর।’ এ বিষয়ে হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমি ৩১৩ নম্বর রুমে যাই। রুমে যারা থাকে তারা জানায়, অবৈধ কেউ নেই, তারা অতিথি ছিল। এরপর কথা কাটাকাটি হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম বলেন, অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী থাকার একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হলের একটি কক্ষে অভিযান চালানো হয়। তবে অবৈধ শিক্ষার্থী থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে যা হয়েছে অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এফএ
কিছু দিন ক্যালেন্ডারের পাতায় শুধুই একটি তারিখ নয়; সময় পেরিয়ে সেগুলো হয়ে ওঠে জীবনের স্মরণীয় অধ্যায়। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তেমনই একটি দিন- যেদিন মেক্সিকো সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘ওহটলি অ্যাওয়ার্ড’ এর তালিকায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। মেক্সিকোর নাগরিকদের সেবা, সহযোগিতা এবং দেশটির সংস্কৃতি প্রচারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ওই বছর এ সম্মাননা পান মিশরে দীর্ঘদিন কর্মরত বাংলাদেশি ও দেশটির জাগো নিউজ প্রতিনিধি আফছার হোসাইন। ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মেক্সিকোর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কায়রোতে মেক্সিকান দূতাবাসের বাগানে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মিশরে নিয়োজিত মেক্সিকোর তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জোসে অক্টাভিও ট্রিপ ‘ওহটলি অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দিয়েছিলেন আফছার হোসাইন এর হাতে। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মেক্সিকান নাগরিকদের সেবা ও সহযোগিতা এবং মেক্সিকান সংস্কৃতি প্রচারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আফছার হোসাইনকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। সে সময়ের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এশিয়া মহাদেশ থেকে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি এই সম্মাননা লাভ করেন। আফছার হোসাইন জানান, কায়রোতে মেক্সিকান দূতাবাসের বাগানে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানের কথা মনে পড়লে আজও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। চোখের সামনে ভেসে ওঠে কূটনীতিক, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতি এবং সম্মাননা গ্রহণের সেই বিশেষ মুহূর্ত। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সে সময় অনুষ্ঠানটি সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিশরে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মনিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মেক্সিকান কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। আরও পড়ুন মালদ্বীপের ফুভাহমুলাহ্ দ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনস্যুলার ক্যাম্প তিনি আরও জানান, একজন বাংলাদেশি হিসেবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলের এমন একটি আয়োজনে মেক্সিকো সরকারের এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা গ্রহণ ছিল আমার জন্য এক আনন্দ, আবেগ ও গর্বের মুহূর্ত। আফছার হোসাইন, ১৯৯৫ সালে মেক্সিকোর দূতাবাসে চাকরির সুবাদে বাংলাদেশ থেকে মিশরে যান। নীলনদের তীরে শুরু হওয়া সেই প্রবাসজীবন দেখতে দেখতে পেরিয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়। দীর্ঘ এই সময়ে মিশরকে আপন করে নেওয়ার পাশাপাশি কাজের সূত্রে মেক্সিকোর মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে গড়ে ওঠে আমার গভীর সম্পর্ক। দায়িত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মেক্সিকান কমিউনিটি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তৈরি হয় পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বললেন আফছার হোসাইন। তার ভাষায়, ‘ওহটলি অ্যাওয়ার্ড’ সেই দীর্ঘ পথচলারই একটি স্বীকৃতি। ১৯৯৬ সাল থেকে মেক্সিকো সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেক্সিকোর জনগণ, সংস্কৃতি ও স্বার্থের জন্য বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের এ সম্মাননা দিয়ে আসছে। দীর্ঘ মনোনয়ন ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। ২০২০ সালে সেই সম্মাননার তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়া তাই শুধু একজন বাংলাদেশির ব্যক্তিগত অর্জন ছিল না; প্রবাসের মাটিতে দেশের জন্যও তা হয়ে উঠেছিল গর্বের একটি মুহূর্ত। আফছার হোসাইনের হাতে যখন সম্মাননাটি তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন ব্যক্তিগত আনন্দকে ছাপিয়ে তার মনে তৈরি হয়েছিল অন্যরকম এক অনুভূতি—তিনি একজন বাংলাদেশি এবং তার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম। মেক্সিকো সরকারের এই সম্মাননা পাওয়ার খবর সে সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। ‘মেক্সিকোর শীর্ষ বেসামরিক সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি’—এমন শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারেন আফছার হোসাইনের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা। দেশের গণমাধ্যমে নিজের অর্জনের খবর প্রকাশিত হওয়াও তার কাছে ছিল বিশেষ আনন্দের। কারণ প্রবাসে একজন বাংলাদেশির সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত গর্বের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের পরিচয় ও মর্যাদাও। ছয় বছর পর সেই দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আফছার হোসাইন আরও বলেন, জীবনের কোনো অর্জনই একদিনে আসে না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ, নিষ্ঠা, মানুষের ভালোবাসা, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং অসংখ্য মানুষের দোয়া। যারা তার সেই বিশেষ দিনে পাশে ছিলেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এই অর্জনের খবর তুলে ধরেছিলেন—তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এমআরএম
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য ছড়ালেও বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আগুনের পর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, আতঙ্কে সিঁড়িতে হুড়োহুড়ির সময় পড়ে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আরও পড়ুন ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬ আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এসময় হুড়োহুড়ি ও ভিড়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছয়জন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর জানান, ‘ছয়জন পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘হাসপাতালের রেজিস্ট্রার, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক-নার্স, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ছয়জনের পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর তালিকায় থাকা একজনকে জীবিত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।’ তিনি জানান, তালিকায় থাকা বাকি চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা গেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে নিহত দুজনের স্বজনরা দাবি করেছেন, আগুনের পর আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহত কুলসুম আক্তার (৩৫) তারাকান্দা উপজেলার বালিখা এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তার ১২ বছর বয়সি ছেলে স্বাধীন মমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল। স্বজনদের ভাষ্য, আগুন লাগার পর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কুলসুম সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এসময় হুড়োহুড়ির মধ্যে তিনি পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। অপর নিহত শাহজাহান মনির (৪৫) ফুলপুর উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি যক্ষ্মার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার ছেলে পলাশ মোল্লার দাবি, আগুনের সময় সিঁড়ি দিয়ে নামার পথে পেছন থেকে ধাক্কা লেগে তার বাবা পড়ে যান। এসময় তার মা ও খালাও আহত হন। পরে শাহজাহানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে হাসপাতালের তালিকায় জাহানারা আক্তার নামে একজনকে মৃত দেখানো হলেও তিনি জীবিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ। তিনি জানান, জাহানারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের সিঁড়ি ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির মধ্যে একটি বন্ধ থাকায় আগুনের সময় রোগী ও স্বজনদের একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। এতে সেখানে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয় এবং আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে সিঁড়ি বন্ধ রাখা যৌক্তিক ছিল কি না এবং এতে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। আগুনের পর ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়া এবং পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা নাকচ করার ঘটনায় পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রশাসন বলছে, পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দুজনের স্বজন সরাসরি দাবি করছেন, আগুনের সময় সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি ও পড়ে যাওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। হোসাইন সুলভ/এফএ