জাতীয়

স্বপ্নের দামে স্বর্গসুখ

RIPOTER NEWS সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
স্বপ্নের দামে স্বর্গসুখ
স্বপ্নের দামে স্বর্গসুখ

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। যা হয়তো আপনি আজীবন কল্পনা করেছেন, স্বপ্নে দেখেছেন, কখনো জেগে থেকেও চোখ বন্ধ করে অনুভব করতে চেয়েছেন, সেই স্বর্গের মতো সুখী জীবনটি যদি একদিন হঠাৎ আপনার দরজায় এসে দাঁড়ায়? ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, চারপাশটা ঠিক আগের মতোই আছে, অথচ আপনার ভেতরটা বদলে গেছে।

বুকের ওপর জমে থাকা অদৃশ্য পাথরটি নেই, মাথার ভেতর ঘুরপাক খাওয়া দুশ্চিন্তাগুলো নেই, গতকালের কষ্টগুলো যেন অনেক দূরের কোনো গল্প। জানালার বাইরে তাকিয়ে মনে হলো, পৃথিবীটা এত সুন্দর ছিল, অথচ এতদিন আপনি তা দেখতে পাননি।

কীভাবে সম্ভব? কোথায় যাবেন? কী চাইবেন? চলুন, আজ কিছুক্ষণের জন্য বাস্তবতার হিসাবটা পাশে রেখে অনুভূতির এক ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ি। এখানে আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করবে না, আপনার কত টাকা আছে, কী হারিয়েছেন, কোথায় ব্যর্থ হয়েছেন, কিংবা জীবনে কতবার কেঁদেছেন। এখানে শুধু একটি প্রশ্ন, আপনি কী চান?

বলুন, কী চাই? এক কাপ চা? নাকি গাঢ় সুগন্ধের কফি? অথবা এমন কোনো অমৃতের স্বাদ, যার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো পানীয়ের তুলনা চলে না? আপনি যা চাইবেন, তাই যেন আপনার সামনে হাজির। চায়ের কাপটি হাতে নিতেই তার সঙ্গে মিশে যাবে ভোরের মাটির গন্ধ, দূরের পাখির ডাক আর এমন এক প্রশান্তি, যার কথা আপনি হয়তো বহুদিন ভুলে গেছেন। কফি চাইলে তার গন্ধে যেন পাহাড়ি সকালের উষ্ণতা। আর যদি সেই অমৃত চান, এক চুমুকেই মনে হবে, এতদিন যে স্বাদের খোঁজে ছিলেন, সেটি হয়তো আপনার জিভে নয়, আপনার স্মৃতির কোনো অচেনা কোণে লুকিয়ে ছিল।

কোথায় যাচ্ছি, এখনই জানতে চাইবেন না। শুধু আমার সঙ্গে কয়েক পা হাঁটুন। চারপাশে অন্ধকার। এত গভীর অন্ধকার যে নিজের হাতটিও ঠিকমতো দেখা যায় না। কিন্তু ভয় পাবেন না। দূরে কোথাও অদ্ভুত এক আলো দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, ঘন জঙ্গলের বুক চিরে কেউ যেন একটি পথ রেখে দিয়েছে। বাতাসে অচেনা ফুলের গন্ধ। কোথাও অদৃশ্য কোনো পাখি ডাকছে। পাতার ওপর শিশির জমে আছে। পায়ের নিচে নরম মাটি। যত এগিয়ে যাচ্ছেন, আলোটা তত পরিষ্কার হচ্ছে।

আর হঠাৎ…

জঙ্গল শেষ।

আপনার সামনে খুলে গেল এমন এক দৃশ্য, যা হয়তো পৃথিবীর কোনো ছবিতেও পুরোপুরি আঁকা সম্ভব নয়। দূরে বরফে ঢাকা পাহাড়, তার নিচে নীলাভ হ্রদ। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে সরু জলপ্রপাত। আকাশে ভোরের প্রথম আলো। চারপাশে এমন নিস্তব্ধতা, যেখানে নিজের হৃদস্পন্দনও শোনা যায়। আপনি থেমে গেলেন। আমি শুধু বললাম, “কেমন লাগছে?” আপনি হয়তো কোনো উত্তর দিতে পারবেন না। কারণ এমন সৌন্দর্যের সামনে ভাষা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়।

আপনি যদি বলেন, “আমি সমুদ্র দেখতে চাই।” চোখ ফেরাতেই পাহাড়ের জায়গায় দেখা যাবে অসীম নীল সমুদ্র। ঢেউ এসে আপনার পায়ের কাছে ভেঙে পড়ছে। নরম বালুর ওপর আপনি খালি পায়ে হাঁটছেন। বাতাসে লবণের গন্ধ, দূরে সূর্য ধীরে ধীরে জলের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে।

আপনি যদি বলেন, “না, আমি পাহাড়েই থাকতে চাই।” তাহলে আবার ফিরে আসবে সেই পাহাড়। কুয়াশা নেমে আসবে উপত্যকায়। দূরে কোনো কাঠের ঘর থেকে ধোঁয়া উঠবে। মনে হবে, পৃথিবীর সব ব্যস্ততা থেকে আপনি বহু দূরে চলে এসেছেন।

আর যদি বলেন, “আমি শুধু একটু শান্তি চাই।” তাহলে এবার কোনো দৃশ্য বদলাবে না। শুধু চারপাশের সব শব্দ ধীরে ধীরে থেমে যাবে।

আপনি বুঝতেও পারবেন না কখন এই ভ্রমণটি আপনাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গা থেকে আপনার নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর দিকে নিয়ে গেছে। হঠাৎ মনে পড়বে সেই মানুষটির কথা, যাকে আপনি বহুদিন আগে হারিয়েছেন। সে হয়তো আপনার বাবা, মা, কোনো প্রিয় বন্ধু, কিংবা এমন কেউ, যার সঙ্গে আর কোনোদিন কথা বলা সম্ভব হয়নি। আপনি তাকিয়ে দেখবেন, সে আপনার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। আপনি তার হাত ধরবেন। কিছু বলার প্রয়োজন হবে না। হয়তো চোখের জলই অনেক কথা বলে দেবে।

এখানে সময়ের কোনো দেয়াল নেই। অতীত আর বর্তমানের মাঝেও কোনো দরজা নেই। আপনি চাইলে ফিরে যেতে পারেন আপনার শৈশবে, সেই বয়সে যখন একটি বিকেলই ছিল আনন্দের জন্য যথেষ্ট। মাঠের ওপর দিয়ে দৌড়াবেন, বৃষ্টিতে ভিজবেন, কাদায় পা ডোবাবেন, কোনো কারণ ছাড়াই হাসবেন। তখন বুঝতে পারবেন, সুখ কখনো খুব বড় কোনো জিনিস ছিল না। আমরা বড় হতে হতে তাকে জটিল করে ফেলেছি।

এখানে আপনার কোনো দুঃস্বপ্ন নেই। আছে স্বপ্ন। কোনো ভয় নেই। আছে কৌতূহল। কোনো অভিযোগ নেই। আছে কৃতজ্ঞতা। আর কোনো তাড়া নেই। আপনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকার মতো যথেষ্ট সময় আছে।

কিন্তু একটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে। এই পৃথিবীতে আপনি যত বেশি কিছু চাইবেন, তত বেশি কিছু আপনার সামনে আসবে না। বরং ধীরে ধীরে আপনি বুঝতে শুরু করবেন, আপনার আসল চাওয়া কত সামান্য। হয়তো আপনি আর প্রাসাদ চাইছেন না, শুধু এমন একটি ঘর চাইছেন যেখানে সন্ধ্যায় ফিরে এসে শান্তিতে বসতে পারেন। কোটি টাকা চাইছেন না, শুধু এমন কিছু মানুষ চাইছেন যারা আপনাকে ভালোবাসে। দীর্ঘ জীবন চাইছেন না, শুধু বেঁচে থাকা প্রতিটি দিনকে অর্থপূর্ণ করতে চাইছেন।

হঠাৎ আপনি খেয়াল করবেন, আপনার পাশে যে মানুষটি এতক্ষণ চুপচাপ বসে ছিল, সে আপনাকে বলছে, “তুমি এতদিন সুখ খুঁজতে কোথায় কোথায় গেলে? সুখ তো তোমার কাছেই ছিল।” আপনি অবাক হয়ে তাকাবেন। সে হাসবে। “তুমি শুধু দেখতে পাওনি।”

হয়তো তখনই আপনার মনে হবে, এই জায়গাটি কোথাও বাইরে নয়। কোনো দূর দেশের পাহাড়ে নয়, কোনো বিলাসবহুল দ্বীপে নয়, কোনো রাজপ্রাসাদেও নয়। এই জায়গাটি আপনার নিজের ভেতরেই ছিল। শুধু দুঃস্বপ্ন, দুশ্চিন্তা, অভিমান, ভয় আর না-পাওয়ার হিসাব এত বেশি জায়গা দখল করে রেখেছিল যে, সেখানে সুখের জন্য একটু জায়গাও অবশিষ্ট ছিল না।

তাই আজ, যখন মনটা খুব ক্লান্ত হয়ে যাবে, যখন পৃথিবীটাকে অসহ্য মনে হবে, যখন মনে হবে কেউ আপনাকে বুঝছে না, তখন একটু থামুন। চোখ বন্ধ করুন। গভীরভাবে শ্বাস নিন। নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমি আসলে কী চাই?” তারপর উত্তরটির দিকে হাঁটতে শুরু করুন।

আরও পড়ুন

প্রবাসে বাংলাদেশের গর্ব হয়ে ওঠার সেই স্মরণীয় দিন

হয়তো আপনি কোথাও যাবেন না। আপনার ঘরেই থাকবেন। আপনার চায়ের কাপটিও আগের মতোই থাকবে। জানালার বাইরের পৃথিবীও বদলাবে না। কিন্তু আপনি যদি নিজের ভেতরের দরজাটা একটু খুলে দেন, তাহলে দেখবেন, সেই দরজার ওপাশে একটি ছোট্ট পৃথিবী অপেক্ষা করছে, যেখানে আপনি আবার স্বপ্ন দেখতে পারেন।

সেই পৃথিবীর প্রবেশমূল্য কত? কিছুই না। শুধু একটু সময়, একটু কল্পনা, আর নিজের প্রতি একটু মমতা।

হয়তো এখানেই আমাদের এই স্বপ্নের ভ্রমণ থেকে ফিরে এসে একটু থামা দরকার। কারণ মানুষের জীবনে এমন সময় আসতেই পারে, যখন চারপাশের সব দরজা একে একে বন্ধ হয়ে যায়। প্রিয় মানুষকে হারাতে হয়, নিজের ওপর বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যায়, দীর্ঘদিনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়, ভবিষ্যৎ অন্ধকার মনে হয়। তখন মনে হতে পারে, আর কোনো পথ নেই।

কিন্তু ইতিহাস আমাদের অন্য একটি কথা বলে। ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখি, রাসুলুল্লাহ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনেও এমন এক গভীর দুঃসময় এসেছিল। মক্কার সেই কঠিন সময়ে তিনি হারিয়েছিলেন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.)-কে, হারিয়েছিলেন তাঁর চাচা আবু তালিবকে, যিনি তাঁকে দীর্ঘদিন রক্ষা ও সমর্থন করেছিলেন। এরপর তায়েফে গিয়েও তিনি প্রত্যাখ্যাত ও নির্যাতিত হন। সেই সময়টিকে ইসলামী ঐতিহ্যে ‘আমুল হুযন’, অর্থাৎ দুঃখের বছর, বলা হয়।

আর সেই গভীর সংকটের সময়ের পরই আসে ইসরা ও মিরাজের সেই মহান রাত, যে রাতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর প্রিয় নবী (সা.)-কে মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং সেখান থেকে আসমানের উচ্চতম স্তরে নিয়ে যান। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এই অসাধারণ যাত্রার মধ্যেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের বিধানও দেওয়া হয়।

এখানে আমাদের জন্য একটি গভীর শিক্ষা আছে। মিরাজ আমাদের জন্য পুনরাবৃত্তি করার মতো কোনো ঘটনা নয়, কারণ এটি ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশেষ মুজিজা। কিন্তু মিরাজের আগে যে অন্ধকার সময় এসেছিল, তার পরেও আল্লাহর পক্ষ থেকে যে আলো এসেছিল, সেই শিক্ষাটি আমাদের সবার জন্য।

অন্ধকার মানেই পথ শেষ হয়ে গেছে, তা নয়। কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতের পরেই মানুষের সামনে নতুন ভোরের দরজা খুলে যায়। যে দরজাটি আজ বন্ধ মনে হচ্ছে, তার ওপারে হয়তো এমন একটি পথ অপেক্ষা করছে, যার কথা আপনি এখনো কল্পনাও করতে পারছেন না।

তাই দুঃস্বপ্নকে সত্যি বলে মেনে নেবেন না। দুশ্চিন্তাকে ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী ভাববেন না। আজকের ব্যর্থতাকে জীবনের শেষ অধ্যায় মনে করবেন না।

একটু থামুন। নিজের ভেতরে ফিরে তাকান। প্রার্থনায় দাঁড়ান। আশা ধরে রাখুন। আপনার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যান। আর মনে রাখুন, কষ্টের সময়টি আপনার পুরো জীবন নয়, এটি আপনার জীবনের একটি অধ্যায় মাত্র।

হয়তো আপনার মিরাজ হবে না। আমারও হবে না। কিন্তু আপনার জীবনে এমন একটি সকাল আসতেই পারে, যেদিন ঘুম থেকে উঠে আপনি দেখবেন, যে জীবনটাকে একসময় অসহ্য মনে হয়েছিল, সেই জীবনেই আবার আলো ফিরে এসেছে।

আর তখন হয়তো আপনি পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলবেন, “সেদিন আমি ভেবেছিলাম সব শেষ। অথচ সেদিনই হয়তো আমার নতুন পথের শুরু হয়েছিল।”

তাই চলুন, স্বপ্ন দেখা বন্ধ না করি। কারণ কখনো কখনো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে শুধু তার আজকের বাস্তবতা নয়, আগামী দিনের একটি সুন্দর সম্ভাবনার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নের দরজাটি হয়তো এখনো খোলা আছে। শুধু আপনাকেই সেখানে পৌঁছানোর জন্য আরেকটু পথ হাঁটতে হবে।

রহমান মৃধা
গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
ই-মেইল: rahman.mridha@gmail.com

এমআরএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

হাসপাতালে খালেদা আক্তার কল্পনা

অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনাকে।

জাতীয়

View more
খুলনায় সন্ত্রাসীদের টার্গেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা   
খুলনায় সন্ত্রাসীদের টার্গেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা  

খুলনা নগরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পড়েছে। গত ১৭ দিনের ব্যবধানে চাঁদার দাবিতে তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময়ের মধ্যে প্রকাশ্যে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসককে অস্ত্র দিয়ে হুমকিও প্রদর্শন করে তারা। এ ছাড়া বন্ধ রয়েছে একটি ওষুধ বিক্রয় প্রতিষ্ঠান। একের পর এক হামলা-ভাঙচুরেও মুখ খুলছে না কেউ। সবার মধ্যেই এক ধরনের জুজুর ভয় কাজ করছে।

RIPOTER NEWS নভেম্বর ৯, ২০২৬ 0
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ

বুড়িমারী এক্সপ্রেস চালুর প্রশ্নে সাংবাদিককে ‘তুমি বেশি কথা বলো’ বললেন ত্রাণমন্ত্রী

বুড়িমারী এক্সপ্রেস চালুর প্রশ্নে সাংবাদিককে ‘তুমি বেশি কথা বলো’ বললেন ত্রাণমন্ত্রী

সরকারি আবাসনে নির্ধারিত সময়ে ভাড়াটে না সরানোয় ৫ তদন্ত কমিটি

সরকারি আবাসনে নির্ধারিত সময়ে ভাড়াটে না সরানোয় ৫ তদন্ত কমিটি

চুরির সন্দেহে ডেকে নিয়ে পিটুনি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
চুরির সন্দেহে ডেকে নিয়ে পিটুনি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চোর সন্দেহে পিটুনিতে গুরুতর আহত ফারুক (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

RIPOTER NEWS নভেম্বর ৯, ২০২৬ 0
কুমিল্লায় এমপি হীরার গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর

কুমিল্লায় এমপি হীরার গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর

নতুন পররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী

নতুন পররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী

পিরোজপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম

পিরোজপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম

এবার পল্লবী থানায় ককটেল বিস্ফোরণে এসআরবি সদস্য আহত
এবার পল্লবী থানায় ককটেল বিস্ফোরণে এসআরবি সদস্য আহত

রাজধানীর পল্লবী থানা প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) এক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

RIPOTER NEWS নভেম্বর ৯, ২০২৬ 0
রাজস্থলী সদর হাসপাতালে দুদকের অভিযানে মিলেছে অনিয়মের প্রমাণ

রাজস্থলী সদর হাসপাতালে দুদকের অভিযানে মিলেছে অনিয়মের প্রমাণ

বরগুনার বিসিক শিল্পনগরীতে তৈরি হচ্ছিল নকল ইঞ্জিন অয়েল

বরগুনার বিসিক শিল্পনগরীতে তৈরি হচ্ছিল নকল ইঞ্জিন অয়েল

জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যস্ত হাওর, পুষ্টিহীনতায় শৈশব

জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যস্ত হাওর, পুষ্টিহীনতায় শৈশব

0 Comments