জাতীয়

মমেকে আগুন: ‘পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি’

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
মমেকে আগুন: ‘পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি’
মমেকে আগুন: ‘পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য ছড়ালেও বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, আগুনের পর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, আতঙ্কে সিঁড়িতে হুড়োহুড়ির সময় পড়ে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে শিশুসহ নিহত ৬

আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এসময় হুড়োহুড়ি ও ভিড়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছয়জন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর জানান, ‘ছয়জন পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘হাসপাতালের রেজিস্ট্রার, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক-নার্স, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ছয়জনের পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর তালিকায় থাকা একজনকে জীবিত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।’

তিনি জানান, তালিকায় থাকা বাকি চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে তাদের স্বজনরা জানিয়েছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আগুনের ঘটনায় কেউ পদদলিত হয়ে মারা গেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে নিহত দুজনের স্বজনরা দাবি করেছেন, আগুনের পর আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হুড়োহুড়িতে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত কুলসুম আক্তার (৩৫) তারাকান্দা উপজেলার বালিখা এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। তার ১২ বছর বয়সি ছেলে স্বাধীন মমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল।

স্বজনদের ভাষ্য, আগুন লাগার পর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কুলসুম সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। এসময় হুড়োহুড়ির মধ্যে তিনি পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা দাবি করেছেন।

অপর নিহত শাহজাহান মনির (৪৫) ফুলপুর উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি যক্ষ্মার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

তার ছেলে পলাশ মোল্লার দাবি, আগুনের সময় সিঁড়ি দিয়ে নামার পথে পেছন থেকে ধাক্কা লেগে তার বাবা পড়ে যান। এসময় তার মা ও খালাও আহত হন। পরে শাহজাহানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে হাসপাতালের তালিকায় জাহানারা আক্তার নামে একজনকে মৃত দেখানো হলেও তিনি জীবিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ। তিনি জানান, জাহানারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের সিঁড়ি ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির মধ্যে একটি বন্ধ থাকায় আগুনের সময় রোগী ও স্বজনদের একটি সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। এতে সেখানে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয় এবং আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখার কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে সিঁড়ি বন্ধ রাখা যৌক্তিক ছিল কি না এবং এতে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আগুনের পর ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়া এবং পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা নাকচ করার ঘটনায় পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রশাসন বলছে, পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দুজনের স্বজন সরাসরি দাবি করছেন, আগুনের সময় সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি ও পড়ে যাওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

হোসাইন সুলভ/এফএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ভাঁজ করলেও ফোল্ডেবল ফোনের স্ক্রিন ভাঙে না কেন?
ভাঁজ করলেও ফোল্ডেবল ফোনের স্ক্রিন ভাঙে না কেন?

একটা স্মার্টফোনের স্ক্রিন মাঝখান থেকে ভাঁজ করে ফেলছেন, অথচ ডিসপ্লে দিব্যি কাজ করছে বিষয়টি অবাক করার মতোই। সাধারণ ফোনের কাচের স্ক্রিনে এমনটা করার চেষ্টা করলে মুহূর্তেই ফাটল ধরতে পারে। কিন্তু ফোল্ডেবল ফোনে বারবার স্ক্রিন খোলা ও বন্ধ করলেও সেটি কীভাবে টিকে থাকে? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ডিসপ্লের উপাদান, গঠন এবং বিশেষ হিঞ্জ প্রযুক্তিতে। বর্তমান সময়ের ফোল্ডেবল ফোনগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে প্রয়োজনের সময় ছোট আকারে ভাঁজ করে রাখা যায় এবং খুললে পাওয়া যায় তুলনামূলক বড় ডিসপ্লে। ফলে স্মার্টফোন ও ছোট ট্যাবলেটের সুবিধা একই ডিভাইসে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এমন একটি ডিসপ্লে তৈরি করা, যা নমনীয় হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য। ওএলইডি-ই কেন ফোল্ডেবল ফোনে বেশি ব্যবহার করা হয়? ফোল্ডেবল ফোনের ডিসপ্লেতে সাধারণত ওএলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর অন্যতম কারণ হলো ওএলইডি প্যানেলকে অত্যন্ত পাতলা এবং নমনীয় করে তৈরি করা সম্ভব। এলসিডি ডিসপ্লের মতো এর জন্য আলাদা ব্যাকলাইটের প্রয়োজন হয় না। ওএলইডি-এর প্রতিটি পিক্সেল নিজেই আলো তৈরি করতে পারে। ফলে ডিসপ্লের মোট স্তর তুলনামূলকভাবে পাতলা রাখা যায়। আর পাতলা ও নমনীয় গঠনই স্ক্রিনকে নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধে বাঁকানোর সুযোগ দেয়। আরও পড়ুন নতুন ফোল্ডেবল স্মার্টফোন আনছে স্যামসাং সাধারণ কাচের স্ক্রিন নয় ফোল্ডেবল ফোনের ডিসপ্লে নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো এটি বুঝি সাধারণ স্মার্টফোনের মতো পুরোপুরি কাচের তৈরি। বাস্তবে তা নয়। ডিসপ্লের ওপর বিশেষ নমনীয় কভার উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা স্ক্রিনকে দৈনন্দিন ব্যবহারের সময় সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এই নমনীয় স্তরের কারণে স্ক্রিন ভাঁজ করার সময় সাধারণ কাচের মতো সহজে ভেঙে যায় না। তবে ফোল্ডেবল স্ক্রিন যে একেবারেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এমন নয়। ধারালো বস্তু দিয়ে আঁচড়, অতিরিক্ত চাপ, আঘাত কিংবা ভুলভাবে ব্যবহারে ডিসপ্লে নষ্ট হতে পারে। স্ক্রিনের ভেতরে একাধিক স্তর ফোল্ডেবল ওএলইডি ডিসপ্লে আসলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তরের সমন্বয়ে তৈরি। এর মধ্যে থাকে সাবস্ট্রেট, টিএফটি, ওএলইডি এবং সুরক্ষামূলক কভার স্তর। সাবস্ট্রেট পুরো ডিসপ্লে কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। টিএফটি স্তর পিক্সেল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সংকেত পরিচালনা করে। ওএলইডি স্তরে থাকা পিক্সেলগুলো আলো তৈরি করে ছবি দেখায়। সবশেষে থাকা কভার স্তর ডিসপ্লের উপরের অংশকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এই স্তরগুলোর উপাদান ও গঠন এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়, যাতে ডিসপ্লে বাঁকানোর সময় অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়। আরও পড়ুন গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড: ৩ ভাঁজ করা ফোন আনলো স্যামসাং শুধু স্ক্রিন নয়, হিঞ্জও গুরুত্বপূর্ণ ফোনের ডিসপ্লে নমনীয় হলেই কিন্তু ফোল্ডেবল ফোন তৈরি করা যায় না। এর সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ফোনের হিঞ্জ বা কবজা ব্যবস্থা। ফোনের মাঝখানে থাকা এই মেকানিজম নির্দিষ্ট পথে দুই অংশকে ভাঁজ ও খোলার সুযোগ দেয়। ফলে স্ক্রিনকে ইচ্ছামতো মোচড়ানো হয় না; বরং নির্দিষ্টভাবে বাঁকানো হয়। ডিসপ্লের নমনীয় স্তর এবং হিঞ্জের নকশা একসঙ্গে কাজ করেই ফোল্ডেবল ফোনকে এই বিশেষ সুবিধা দেয়। তাহলে কি ফোল্ডেবল স্ক্রিন কখনো ভাঙবে না? একেবারেই তা নয়। ফোল্ডেবল ফোনের ডিসপ্লে সাধারণ ফোনের তুলনায় নমনীয় হলেও এটি অক্ষত রাখার জন্য ব্যবহারকারীকেও সতর্ক থাকতে হয়। বিশেষ করে স্ক্রিনে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, ধুলা-ময়লা জমতে দেওয়া বা ধারালো বস্তুর সংস্পর্শে আনা থেকে বিরত থাকা উচিত। অর্থাৎ, ফোল্ডেবল ফোনের স্ক্রিন ভাঁজ করেও টিকে থাকার রহস্য কোনো একক প্রযুক্তিতে নয়। নমনীয় ওএলইডি প্যানেল, একাধিক বিশেষ স্তর, সুরক্ষামূলক কভার এবং উন্নত হিঞ্জ প্রযুক্তি সবকিছুর সমন্বয়েই সম্ভব হয়েছে এই প্রযুক্তি। তাই ফোনের স্ক্রিন ভাঁজ হলেও তা সাধারণ কাচের মতো ভেঙে যায় না। কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ভোটের বাক্সের বাইরে গণতন্ত্রের জীবন

ভোটের বাক্সের বাইরে গণতন্ত্রের জীবন

টাকা না পেয়ে সন্তান নিয়ে উধাও মাদকাসক্ত বাবা

টাকা না পেয়ে সন্তান নিয়ে উধাও মাদকাসক্ত বাবা

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আজিজুল হক আটক

হুতি–সৌদির সংঘাতে ট্রাম্প কি নতুন বিপদে পড়ছেন
হুতি–সৌদির সংঘাতে ট্রাম্প কি নতুন বিপদে পড়ছেন

ইরান-সমর্থিত হুতিরা কয়েক দিন ধরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। গত শুক্রবার হুতিরা লোহিত সাগরে পুরো ইয়েমেন উপকূলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে। তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখার দখলও নেয়।ইয়েমেনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী বাব আল-মানদেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবিও করেছে এবং বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ববাজারে সরবরাহকৃত তেলের প্রায় এক–পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর এর বিকল্প বাণিজ্যিক পথ হিসেবে সামনে চলে আসে বাব আল-মানদেব। বিশেষ করে সৌদি আরবের জন্য ইরান যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে তেহরানের পক্ষে আবারও হুতিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজে হুতিদের হামলা বেড়েছে। সংকীর্ণ এই প্রণালি সমুদ্রপথে, বিশেষ করে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে মহাগুরুত্বপূর্ণ। আরব সাগর থেকে এডেন উপসাগর দিয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশ করতে হলে সরু এই প্রণালিই একমাত্র পথ।লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মানদেব ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। ইরানের সমর্থনে হুতিরা সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে কাবু করতে ইরানও হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।বিশ্লেষকেরা বলছেন, পশ্চিম দিকে হুতিদের অব্যাহত হামলার বিষয়টি ওয়াশিংটন হয়তো আর উপেক্ষা করতে পারবে না। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দ্বিতীয় অস্থিতিশীল ফ্রন্টটি বন্ধ করতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আরও বিস্তৃত একটি জোটের প্রয়োজন হতে পারে।হুতিরা সৌদি আরবে হামলা করছে কেনহুতি বিদ্রোহীরা সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে। লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে তারা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানির বাজার বারবার উল্টেপাল্টে দিয়েছে।‘হুতিরা মনে করছে, এটাই সেই সময়, যখন তারা নিজেদের দাবিগুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবে এবং সৌদি আরবের কাছ থেকে তাদের (হুতি) আগের দাবিদাওয়ার চেয়ে আরও বেশি সুবিধাজনক শর্ত আদায় এবং প্রতিপক্ষকে সেটা মেনে নিতে বাধ্য করতে পারবে।’ইয়েমেনে হুতিদের বড় ধরনের উত্থান ঘটে ২০১৪ সালে। সে বছর তারা রাজধানী সানা দখল করে। এর জেরে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু হয়, যার জেরে ইয়েমেনে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়। ইয়েমেনে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়।২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গাজায় হামাসের সমর্থনে বাব আল-মানদেবে চলাচল করা জাহাজে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গোষ্ঠীটি আবার আলোচনায় আসে।জাহাজ–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, অত্যাধুনিক ড্রোন ও বিস্ফোরকবোঝাই স্পিডবোটের সাহায্যে বড় আকারের নৌযানের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করার সক্ষমতা হুতিদের রয়েছে। তা ছাড়া সাগরের বুকে মাইন পেতে রেখে বাব আল-মানদেব প্রণালির স্বাভাবিক নৌ চলাচলকেও তারা প্রবলভাবে বিঘ্নিত করতে পারে।প্রথম আলো গ্রাফিকস২০২৫ সালে লোহিত সাগর যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে একটা উত্তেজনাকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষশক্তি’র অংশ হিসেবে সেবার হুতিরা আন্তর্জাতিক জাহাজে তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছিল।পরিস্থিতি মোকাবিলায় হুতিদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ নামে বড় সামরিক অভিযান শুরু করেন। এতে খরচ হয় প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার।আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিতে হুতিদের বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই ওয়াশিংটন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় তুলতে চাপ দিয়ে আসছিল।এ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, ড্রোন ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয় ও আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহারের পরও এ অভিযান কৌশলগত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। হুতিদের সামরিক সক্ষমতার ওপর এ অভিযানের তেমন কোনো প্রভাবই পড়েনি। অভিযানে ইয়েমেনে আট শতাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়েছিল।ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ও ইরানের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে হুতিরা যে সে সময়ে শুধু টিকে ছিল, তা নয়; বরং বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজের ওপর হামলা আরও বাড়িয়ে দেয়। হুতিদের এ আক্রমণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক আধিপত্যের ওপর বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। হুতিরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে। এমনকি মার্কিন যুদ্ধজাহাজও বারবার হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।লিন্ডসে নিউম্যান, চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলোএই হামলাগুলো নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান বৃহত্তর সংঘাতেরই অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ওই অভিযান শুরুর দুই মাসের মাথায় ওই বছরের ৬ মে ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে ইসরায়েলকে এড়িয়ে হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দেন। ওই এলাকা শান্ত হয়ে আসে।কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হলে তেহরানের পক্ষে আবারও হুতিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজে হুতিদের হামলা বেড়েছে। সংকীর্ণ এ প্রণালি সমুদ্রপথে, বিশেষ করে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে মহাগুরুত্বপূর্ণ। আরব সাগর থেকে এডেন উপসাগর দিয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশ করতে হলে সরু এ প্রণালিই একমাত্র পথ।হুতিরা বলেছে, ইরানের সমর্থনে তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোকে যুদ্ধে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।ইয়েমেনে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত এডমুন্ড ফিটন-ব্রাউন দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেছেন, হুতিরা যে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করবে, এতে কোনো সন্দেহ কখনোই ছিল না।ফিটন-ব্রাউন আরও বলেন, কয়েক মাস ধরে সমুদ্রে হামলা চালানোর পর হুতিরা হয়তো মনে করছে, সৌদি আরব তাদের যেসব হুমকি দিয়ে রেখেছে, বাস্তবে সেগুলো যাচাই করার সময় এসেছে। হয়তো তারা মনে করছে, সৌদি আরব লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তারা মনে করছে, ইরানিদের সামনে সৌদিরা নিজেদের দুর্বল ও ভীত হিসেবে তুলে ধরেছে।হুতিরা এ সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করেন সাবেক কূটনীতিক ফিটন–ব্রাউন। তিনি বলেন, ‘হুতিরা মনে করছে, এটাই সেই সময়, যখন তারা নিজেদের দাবিগুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবে এবং সৌদি আরবের কাছ থেকে তাদের (হুতি) আগের দাবিদাওয়ার চেয়ে আরও বেশি সুবিধাজনক শর্ত আদায় এবং প্রতিপক্ষকে সেটা মেনে নিতে বাধ্য করতে পারবে।’সৌদি আরব বহু বছর ধরে হুতিদের দমন করার চেষ্টা করে আসছে। ২০১৫ সাল থেকে গোষ্ঠীটিকে রাজধানী থেকে হটিয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।তবে এখন পর্যন্ত তারা লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ভয় দেখিয়ে ওই পথে চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা থেকে হুতিদের বিরত রাখতে পারেনি।হামলাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলছেগত মঙ্গলবার হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো। কিন্তু এতে বহু মানুষ হতাহত হন। বলা হচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটাই ছিল সৌদি আরবে সবচেয়ে বড় হামলা।চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো লিন্ডসে নিউম্যান বলেন, এই হামলাগুলো নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান বৃহত্তর সংঘাতেরই অংশ।দ্য ইনডিপেনডেন্টকে লিন্ডসে নিউম্যান বলেন, বড় একটি প্রশ্ন হলো, পুরো অঞ্চলে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কতটা প্রতিরোধক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে। হামাস ও হিজবুল্লাহর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা গেছে। কিন্তু নানা চেষ্টা সত্ত্বেও হুতিদের সামরিক শাখাকে ঠেকানো ‘আরও বেশি কঠিন হয়ে উঠছে’।আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিতে হুতিদের বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই ওয়াশিংটন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় তুলতে চাপ দিয়ে আসছিল।‘যুক্তরাষ্ট্র যদি লোহিত সাগরকে উপেক্ষা করে, হুতিদের কাছ থেকে সৌদি আরবের ওপর তৈরি হওয়া এই হুমকিকে উপেক্ষা করে, তাহলে সেটি আসলে পুরো বিষয়কে নিজেদের জন্যই আরও কঠিন করে তোলা হবে।’লিন্ডসে নিউম্যান বলেন, গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাবলি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে একটি সমাধান বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত অবসানের যেকোনো উদ্যোগের অংশ হতে হবে। তা না হলে এসব গোষ্ঠী আবার অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারবে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীল করে তুলতে সক্ষম হবে।এরপর কী হতে পারেসৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ হুতিদের হামলার নিন্দা করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি।’যদিও হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা আল-জওফ, আল-বায়দা, মারিব ও তাইজ প্রদেশে হামলা চালিয়েছে।এ নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরব সব সময় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকবে। তবে নিজেদের ও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এ রাষ্ট্র কখনোই পিছপা হবে না। নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আমরা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করব।’ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড হুতিদের ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা’ করার অঙ্গীকার করেছে।হেলিকপ্টার নিয়ে লোহিত সাগরে একটি জাহাজের পিছু নিয়েছে হুতিরা সৌদি আরবের বিশ্লেষক আলী শিহাবি হুতিদের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি সিএনএনকে বলেন, ‘সৌদি আরব বুঝতে পেরেছে, হুতিরা যুক্তিসংগত আচরণ করছে না। তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।’এ বিষয়ে ফিটন-ব্রাউন বলেন, সৌদি আরব পাল্টা লড়াই করতে প্রস্তুত বলেই তাঁর মনে হচ্ছে। হুতিদের আগ্রাসন ঠেকাতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় (মক্কা চুক্তি) তারা একটি নৌ জোট গঠন করেছে।যদিও এখনো আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ রিয়াদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। এদিকে ইয়েমেনে কারা শাসন করবে, তা নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।সর্বশেষ এ উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ সালমান ওয়াশিংটনে ফোন করে হুতিদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন বলে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে।ফিটন-ব্রাউন বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব চাইছে। তারা চায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত যে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত, যুক্তরাষ্ট্র তা স্বীকার করুক এবং সেখানে হস্তক্ষেপ করুক। কারণ, সৌদি আরব সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর রাখতে সক্ষম হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি লোহিত সাগরকে উপেক্ষা করে, হুতিদের কাছ থেকে সৌদি আরবের ওপর তৈরি হওয়া এই হুমকিকে উপেক্ষা করে, তাহলে সেটি আসলে পুরো বিষয়কে নিজেদের জন্যই আরও কঠিন করে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় মার্কিন নাগরিকেরা ক্ষুব্ধ। তবে আমার মনে হয়েছে, সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর করতে একটি জোট গড়ে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র খুব সামান্যই চেষ্টা করেছে।’হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্রট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে কড়া পদক্ষেপ নেন বা পারস্য উপসাগরে আকাশ, নৌ ও স্থলপথে বড় ধরনের কোনো অভিযান চালান, তবে সেটি শুরুতেই নস্যাৎ করা হুতিদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।হুতিরা তাদের নৌ সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরান যুদ্ধে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ চলাচলের পথকে রীতিমতো কণ্টকাকীর্ণ ও সময়সাপেক্ষ করে তুলতে পারবে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চাইলে অবশ্য সৌদি আরবের উপকূল ঘেঁষে লোহিত সাগরের উত্তরাঞ্চল থেকে নিজেদের অভিযান চালাতে পারে। তবে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওই এলাকা পর্যন্ত গিয়েও অনায়াস আঘাত হানতে সক্ষম। পাশাপাশি সৌদি উপকূল থেকে হরমুজ প্রণালির দূরত্ব এক হাজার কিলোমিটারের বেশি হওয়া মার্কিন বাহিনীর জন্য আরেক বড় বাধা।সম্প্রতি হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা ও এর অন্তর্নিহিত সতর্কবার্তার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য, লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমাবেশ প্রতিহত করা। ইরানের ওপর কোনো বড় হামলার আগে অথবা কড়া পাহারায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মার্কিন চেষ্টাকে আটকে দিতেই মূলত এ কৌশল নিয়েছে তারা।সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (মাঝে), তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান (বাঁয়ে) ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কথা বলছেন। ৭ আগস্ট ২০২৬, মক্কাযুক্তরাষ্ট্র অতীতে বহুবার হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে এবং আগামী দিনেও সেই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এরপরও ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলে হুতিদের এ অব্যাহত হামলা মার্কিন বাহিনীর সমরপ্রস্তুতি ও সেনাসমাবেশের গতি বেশ খানিকটা মন্থর করে দিতে পারবে।ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের কাছে হুতিবিরোধী ইয়েমেনি একটি সূত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছে। সেই সূত্রের ভাষ্যমতে, সংঘাতের পেছনের অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে সৌদি আরবের পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে বয়ে যাওয়া তেলের বিশাল পাইপলাইন (ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন)।ইরাক থেকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী পাইপলাইনের একটি অংশে হামলা চালানোর পর লোহিত সাগর দিয়ে নিজেদের তেল পরিবহনের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন শুক্রবার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। পাইপলাইনটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়। ইউরোপে জ্বালানি তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও এ পাইপলাইনের ভূমিকা অনেক।সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতিবর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় হুতিদের কড়া জবাব দিতে এবং নিজেদের রণতরি ঝুঁকিমুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে হুতিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করতে পারে ইসরায়েল। এর মধ্য দিয়ে পুরো যুদ্ধের মানচিত্রে খুলে যেতে পারে নতুন আরেকটি বিপজ্জনক রণাঙ্গন। কারণ, হুতি বিদ্রোহীদের শক্তিশালী করতে সম্প্রতি নিজেদের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসংক্রান্ত সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠিয়েছে ইরান।(দ্য ইনডিপেনডেন্ট, রয়টার্স, আল–জাজিরা থেকে অনুবাদ করেছেন শামিমা নাসরিন)

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও সামাজিক মেরুকরণের নতুন বাস্তবতা

প্রাতিষ্ঠানিক সংকট ও সামাজিক মেরুকরণের নতুন বাস্তবতা

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান

যে কারণে ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি হচ্ছে বাংলাদেশে

যে কারণে ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি হচ্ছে বাংলাদেশে

৬ বছর পর মঞ্চে ফিরে কাঁদলেন ‘টাইটানিক’ গায়িকা
৬ বছর পর মঞ্চে ফিরে কাঁদলেন ‘টাইটানিক’ গায়িকা

‘মাই হার্ট উইল গো অন’-বিশ্বখ্যাত ‘টাইটানিক’ সিনেমার এই গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন কানাডিয়ান পপ তারকা সেলিন ডিওন। দীর্ঘদিন ধরে বিরল ও জটিল এক স্নায়বিক রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। অসুস্থতার কারণে কয়েক বছর মঞ্চ থেকে দূরেও থাকতে হয়েছে তাকে। তবে সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে পূর্ণাঙ্গ কনসার্টে ফিরেছেন সেলিন ডিওন। ছয় বছর পর প্যারিসের মঞ্চে ফিরে আবেগ সামলাতে পারেননি ৫৮ বছর বয়সী এই সংগীতশিল্পী। দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে পরিবেশনা শেষে মঞ্চেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ কনসার্ট ভেন্যু প্যারিস লা ডিফেন্স অ্যারেনায় সেলিনের প্রত্যাবর্তন ঘিরে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। প্রায় ৩০ হাজার দর্শকের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ভেন্যু। গান শেষে দর্শকদের ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। আরও পড়ুন হেমা মালিনীর আগে যে পাকিস্তানি মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন ধর্মেন্দ্র মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগঘন কণ্ঠে সেলিন বলেন, ‘আমি একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কথা দিয়েছিলাম, আমি আবার মঞ্চে ফিরব। আজ আমি এখানে-আপনাদের জন্য এবং নিজের জন্য গাইছি। আপনারা আমাকে ভালোবেসেছিলেন বলেই আজ আমি এই জায়গায়।’ ২০২২ সালে সেলিন ডিওনের শরীরে ধরা পড়ে ‘স্টিফ পারসন সিন্ড্রোম’ নামের বিরল স্নায়বিক রোগ। এই রোগে শরীরের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং তীব্র খিঁচুনির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফলে তার স্বাভাবিক জীবনযাপনের পাশাপাশি গান গাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এক সাক্ষাৎকারে রোগটি তার কণ্ঠ ও শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছিল, সে বিষয়েও কথা বলেছিলেন সেলিন। তিনি জানিয়েছিলেন, অনেক সময় তার মনে হতো যেন কেউ গলা টিপে ধরেছে। স্বরযন্ত্রে তীব্র চাপ পড়ায় উঁচু কিংবা নিচু সুরে গান গাওয়াও কঠিন হয়ে গিয়েছিল। শুধু কণ্ঠ নয়, শরীরের বিভিন্ন অংশেও ভয়াবহ প্রভাব পড়েছিল। কখনো কখনো হাত-পায়ের আঙুল এমনভাবে শক্ত হয়ে যেত যে তা সোজা করাও সম্ভব হতো না। রোগের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে একবার তার বুকের পাঁজরও ভেঙে গিয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন এই শিল্পী। আরও পড়ুন কনসার্ট নিয়ে নতুন চমক দিলেন দিলজিৎ ২০২০ সালের পর কোনো পূর্ণাঙ্গ কনসার্টে দেখা যায়নি সেলিনকে। ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মঞ্চে ফিরেছিলেন তিনি। তবে এবার আর সংক্ষিপ্ত কোনো পরিবেশনা নয়, বড় পরিসরে কনসার্টে ফিরেছেন এই বিশ্বখ্যাত শিল্পী। প্যারিসে শুরু হয়েছে সেলিন ডিওনের টানা ২৬টি কনসার্ট। এই আয়োজন নতুন বছরের শুরু পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ অসুস্থতা তার শরীরকে ভীষণভাবে আঘাত করেছে। তবু গান ও মঞ্চের প্রতি ভালোবাসা থেকে সরে যাননি সেলিন। ছয় বছর পর প্যারিসের মঞ্চে তার প্রত্যাবর্তন এবং দর্শকদের উচ্ছ্বসিত ভালোবাসা যেন আবারও প্রমাণ করল-শারীরিক প্রতিকূলতাও এই কিংবদন্তি শিল্পীর গান থামিয়ে রাখতে পারেনি। এমএমএফ/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
পঞ্চগড়ে এবার যুবদল নেতার ওপর হামলা

পঞ্চগড়ে এবার যুবদল নেতার ওপর হামলা

আর্জেন্টাইন ক্লাবের ৮৭ বছরের রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিলো রোনালদোর আল নাসর

আর্জেন্টাইন ক্লাবের ৮৭ বছরের রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিলো রোনালদোর আল নাসর

এসি ১৬-তে চালিয়েও ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না? রিমোটের সেটিংস বদলান

এসি ১৬-তে চালিয়েও ঘর ঠান্ডা হচ্ছে না? রিমোটের সেটিংস বদলান

0 Comments