হায়ার ডাইমেনশন! কখনো কি ভেবেছেন, ডাইমেনশন শুধু তিনটাই কেন হতে হবে; চতুর্থ, পঞ্চম বা আরও উচ্চতর মাত্রা কি সম্ভব নয়? ব্যাপারটা নিয়ে আগ্রহ কলেজ থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর জিনিসটা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবা শুরু করলাম। আজকে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃতিক সত্তাকে নিয়ে ডাইমেনশনাল ফিজিকসের অ্যাঙ্গেল থেকে কিছু ভাবনা শেয়ার করব।
প্রথমে বুঝতে হবে মাত্রা কী। মাত্রা হলো মুক্তভাবে চলাচল করার সক্ষমতা। বিন্দুর মাত্রা শূন্য। এর মানে হচ্ছে, আপনি বিন্দু হলে আপনি এ মহাবিশ্বে কোনো দিকেই চলাচল করতে পারবেন না। রেখার একটামাত্র মাত্রা আছে, তা হলো দৈর্ঘ্য। ধরুন, আপনি একটা রেখা বরাবর চলমান আছেন; আপনার সামনে হুট করে একটা লোক এসে দাঁড়িয়ে গেল। আপনি কী করবেন তখন? পাশ কাটিয়ে যাবেন? কিন্তু রেখার তো পাশ নেই, আছে শুধু দৈর্ঘ্য। অর্থাৎ, আপনি যদি কোনো হাইপোথেটিক্যাল ওয়ান–ডাইমেনশনাল উইনিভার্সে হাঁটতে থাকেন, তাহলে আপনার সামনে আসা একটামাত্র বাঁধা আপনাকে আজীবনের জন্য বন্দী করে ফেলবে। অর্থাৎ, ওয়ান–ডাইমেনশনাল উইনিভার্সে আপনি কোনো সমাজ বানাতে পারবেন না। আপনি সেখানে একা, সম্পূর্ণ একা!
এখন আসুন আরও একটি মাত্রা যোগ করে হাইপোথেটিক্যাল ফ্লাটল্যান্ডে প্রবেশ করি। এখানে সব চ্যাপটা প্রাণী বসবাস করে, যাদের শরীরের কোনো পুরুত্ব নেই; এমনকি তাদের মস্তিষ্কে জন্ম থেকে উচ্চতা বা পুরুত্বের কোনো ধারণা নেই। এখানে সমাজ তৈরি করা সম্ভব। তবে ফ্লাটল্যান্ডের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, আপনি যদি সেখানকার কোনো প্রাণীকে একটা বৃত্তাকার বলয় দ্বারা আটকে দেন, তাহলে তার পক্ষে ওই বলয় ভাঙা ছাড়া সেখান থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।
তবে আপনি কিন্তু খুব সহজেই বলয়টা ভাঙা ছাড়াই সেই চ্যাপটা প্রাণীকে বৃত্তাকার বলয় থেকে বের করে আনতে পারেন। কীভাবে বলুন তো? তাকে উচ্চতা বরাবর উঠিয়ে বলয় থেকে বের করে আনতে পারেন। কিন্তু যখন আপনি প্রাণীটাকে উচ্চতা বরাবর ওঠাবেন, তখন আর তার মস্তিষ্ক কাজ করবে না, সে বুঝতেও পারবে না যে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবার ধরুন, আপনি আপনার একটা আঙুলকে ফ্লাটল্যান্ড বরাবর ক্রমাগত ওপরে ওঠাচ্ছেন আর নিচে নামাচ্ছেন। ফ্লাটল্যান্ডে যেহেতু পুরুত্বের কোনো ধারণা নেই, তাই সেখানকার চ্যাপটা প্রাণীরা কখনোই আপনার পুরো আঙুল দেখতে পারবে না; বরং তারা দেখতে পাবে, একটা বৃত্তাকার প্রস্থচ্ছেদ বারবার দৃশ্যমান হচ্ছে, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে।
এটুকু যদি ঠিকঠাক বুঝে থাকেন, তাহলে বাকিটা বুঝতে আশা করি খুব বেশি কষ্ট হবে না। জিন-ভূত নিয়ে শোনেননি, এমন লোক মনে হয় পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না। এখন চিন্তা করে দেখুন, জিন যদি চার মাত্রার কোনো প্রাণী হয়, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়? সে চাইলেই কিন্তু হুট করে আমাদের সামনে দৃশ্যমান হতে পারবে। অর্থাৎ, তার চতুর্মাত্রিক শরীরের ত্রিমাত্রিক একটা ক্রস সেকশন বা ছায়া আমরা দেখতে পাব। আবার সে চাইলেই ওই হইপোথেটিক্যাল চতুর্থ মাত্রা বরাবর উঠে গিয়ে ভোজবাজির মতো গায়েব হয়ে যেতে পারবে।
আবার গ্রামে অনেক সময় শোনা যায়, অমুক ব্যক্তিকে জিন নিয়ে গেছে, আর খুঁজে পাওয়া যায়নি, অথবা অনেক বছর পর খুঁজে পাওয়া গেছে। অথচ ওই ব্যক্তি মনে করতে পারে, এতগুলো বছর সে কোথায় ছিল। ব্যাপারটা অনেকটা দ্বিমাত্রিক কোনো প্রাণীকে উচ্চতা বরাবর ওঠানো বা ত্রিমাত্রিক দুনিয়ায় নিয়ে আসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আবার জিনরা সাধারণত দেয়াল বা দরজা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করতে পারে বলা হয়। ত্রিমাত্রিক কোনো প্রাণী যেমন চাইলেই উচ্চতা বরাবর উঠে কোনো দ্বিমাত্রিক বলয়কে ভাঙা ছাড়াই অতিক্রম করতে পারে, একইভাবে চতুর্মাত্রিক জিনরাও হয়তো সেই হইপোথেটিক্যাল চতুর্থ মাত্রা বরাবর উঠেই ত্রিমাত্রিক বাধা তথা দেয়াল বা দরজা অতিক্রম করতে পারে।
শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
* মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফের বেসামরিক এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এসব হামলা চালানো হয়। মঙ্গলবার ভোরে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি। আরও পড়ুন তেলের পথে যুদ্ধের আগুন, সবার নজর সৌদি আরবে আহত ১৩ জনের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রার বলে জানানো হয়েছে। জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে সতর্কতা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবহা, জেদ্দা, জাজান, তাইফ, ইয়ানবু ও আল-উলা। বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। আরও পড়ুন হুথিদের সঙ্গে সংঘাত / সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব? বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের বিবৃতিতে হুথিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হুথিদের ‘উগ্রপন্থি মতাদর্শ ও উত্তেজনা বাড়ানোর নীতি’কে প্রকাশ করে। হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব এবং বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা সুরক্ষায় জোটের যৌথ বাহিনী দায়িত্বশীল ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া আগের হামলায় আহত ৭০ জনের বেশি এর আগে, গত সপ্তাহে হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। শুক্রবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে কয়েক দফা ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়। উপসাগরীয় ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে তারা। সূত্র: আরব নিউজকেএএ/
ক্রিকেট দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ভারত-আফগানিস্তানরাত ৮টাসনি স্পোর্টস ৫ প্রথম টি-টোয়েন্টি ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কারাত ১১টা ৩০ মিনিট সনি স্পোর্টস ১ ফুটবল লা লিগা ভায়েকানো-এসপানিওলরাত ১১টা টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাড এলচে-রিয়াল মাদ্রিদরাত ১টা ৩০ মিনিট টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাড কারাবাও কাপ ইপসউইচ-আর্সেনালরাত ১টাফ্যানকোড লিভারপুল-টটেনহামরাত ১টাফ্যানকোড আইএন
মানুষের শরীরেরও একটা ভাষা আছে, যা বলে দেয় মানুষটি ঘুমিয়ে আছেন, পড়ে আছেন নাকি মারা গেছেন। কিন্তু গোপাল চন্দ্র দাসকে দেখে কিছুই বোঝার উপায় ছিল না। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে টানা রোদের মধ্যে সড়কের পাশে আধশোয়া হয়ে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। পায়ের কাছে কয়েক জোড়া ছেঁড়া স্যান্ডেল। পাশে জুতা পলিশের কালির কৌটা, ছোট-বড় কয়েকটি ব্রাশ। মাথার ওপর ছায়ার জন্য টাঙানো পলিথিনটিও বাতাসে উড়ে সরে গেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের কুমারপাড়া এলাকায় এমন অবস্থায় গোপালকে (৪৫) দেখা যায়। ঘণ্টাখানেক পরেও তাঁকে একই অবস্থায় দেখা যায়। সন্ধ্যার পর আবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, গোপাল নেই। তবে তাঁর জুতা মেরামত ও পলিশের সরঞ্জামগুলো আগের মতোই পড়ে আছে। পাশের চা–দোকানি মাজিদুল জানালেন, গোপাল সারা দিন ছেঁড়া জুতা মেরামত ও পলিশ করেন। এরপর মেরামত করা জুতা নিয়ে বের হন বিক্রির জন্য। সেদিনও এক জোড়া জুতা মেরামত করে বিক্রির জন্য বেরিয়েছিলেন।মাজিদুলের কাছে জানা গেল, পৈতৃক সূত্রেই চর্মকার গোপাল। রাজশাহী নগরের কুমারপাড়া মোড়ে আগে তাঁর (গোপালের) মামা বসতেন। মামা মারা যাওয়ার পর গোপাল সেখানে বসতেন। পরে তাঁকে সেখান থেকে তুলে দেওয়া হয়। এর পর থেকে তাঁর এক জায়গায় স্থির হয়ে বসার সুযোগ নেই। কখনো এখানে, কখনো সেখানে বসে কাজ করেন।প্রায় দুই মাস ধরে মাজিদুলের চায়ের দোকানের পাশে বসছেন গোপাল। মাজিদুল বললেন, ‘কাজকাম সে রকম হয় না। খুব কষ্টে আছে।’ নিজের দোকানের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কাজকাম সবারই মন্দা। বাজার চড়া। দিনকাল ভালো যাচ্ছে না।’এর মধ্যেই এক জোড়া জুতা হাতে গোপাল ফিরে এলেন। বোঝা গেল, জুতা বিক্রি করতে পারেননি। কথা বলতে এগিয়ে যেতেই তিনি এক জোড়া স্যান্ডেল এগিয়ে দিলেন, যেভাবে বিকল্প স্যান্ডেল পরিয়ে পায়ের জুতাজোড়া খুলে নিয়ে মেরামত বা পলিশ করে দেন। চটিজোড়া খুলে দিতেই ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করতে শুরু করলেন তিনি। কাজ করতে করতে নিজের জীবনের গল্প বলতে শুরু করলেন গোপাল।গোপাল চন্দ্র দাস, চর্মকারও দুঃখের ঘুম। খুব দুঃখ স্যার। দোকানডা লিয়্যা ভাইসে বেড়াচ্ছি। বাক্সের মধ্যে সব জিনিস তালা দিয়্যা থুইয়ে যাই। মাস দুয়েক আগে দোকানের সব মালামাল চুরি হয়্যা গেল। আবার কিনতে হলো। এখন সারা দিনে বাজার করার পয়সাডাও হয়নি।গোপালের বাবাও একই কাজ করতেন। বাবার হাত ধরেই ছোটবেলায় এই পেশায় আসেন তিনি। তাঁর মা–বাবা দুজনই অনেক বছর আগে মারা গেছেন। কাজের সূত্রে তাঁর বাবা কবে রাজশাহী শহরে এসেছিলেন, গোপালের তা মনে নেই। তাঁদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়।রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন গোপাল। মাসে বাড়িভাড়া দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা। দুই মেয়েই সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তাদের পড়াশোনার খরচও তাঁকেই জোগাতে হয়।দুপুরের রোদে ওভাবে পড়ে থেকে ঘুমাচ্ছিলেন কেন—জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে গোপাল বললেন, ‘ও দুঃখের ঘুম। খুব দুঃখ স্যার। দোকানডা লিয়্যা ভাইসে বেড়াচ্ছি। বাক্সের মধ্যে সব জিনিস তালা দিয়্যা থুইয়ে যাই। মাস দুয়েক আগে দোকানের সব মালামাল চুরি হয়্যা গেল। আবার কিনতে হলো। এখন সারা দিনে বাজার করার পয়সাডাও হয়নি। কী করব স্যার?’ বলতে বলতে পকেট থেকে দিনের রোজগার বের করে দেখালেন। ২০০ টাকার দুটি নোট, সঙ্গে কয়েকটি খুচরা টাকা। দুই হাত মেলে ধরলেন। হাত কাঁপছিল। চোখ ছলছল করছিল। বললেন, ‘এই দিয়্যা আজকের দিনে বাজার হয় স্যার!’এরই মধ্যে চটিজোড়া পলিশের কাজ প্রায় শেষ। চারপাশের বাড়তি কালিটুকু ন্যাকড়া দিয়ে মুছে দেওয়ার কাজ বাকি। গোপাল নিজের পরনের পরিষ্কার লুঙ্গির একাংশ দিয়ে খুব যত্নে চটির চারপাশ মুছতে শুরু করলেন। ন্যাকড়া নেই? পরিষ্কার লুঙ্গি দিয়ে মুছছেন কেন—জিজ্ঞেস করতেই গোপালের সরল উত্তর, ‘ন্যাকড়া ময়লা হইচে।’ গোপালের উত্তর শুনে মনে হলো, পেশাটা তাঁর জীবনের সঙ্গেই মিশে গেছে। বেঁচে থাকার জন্য যা দরকার, তিনি তা–ই করছেন।