ক্লাস ছুটির পর অমৃতপুর মহাবিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক মোজাম্মেল স্যার সচরাচর রিকশায় চড়ে বাসায় ফিরেন। আজ তিনি কোনো রিকশা পাননি। রাস্তায় নেমে এদিক–ওদিক তাকিয়ে দেখলেন। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেন, কোনো খালি রিকশা যদি আসে। না রিকশা নেই। এই সময়ে যানবাহনগুলো খুবই ব্যস্ত থাকে। অফিসের কর্মচারী, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা উদ্ভ্রান্ত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। আজকের চিত্র অন্যদিনের মতো নয়। আজ রিকশা-যানবাহন অন্য দিনের কমই মনে হচ্ছে তাঁর কাছে। পুরোটা পথ আজ হেঁটেই যেতে হবে। বাসায় পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার ওপরে লাগবে তাঁর। আজ ছাতাও আনা হয়নি। এখনো চনমনে রোদ। তীব্র গরমে প্রকৃতি রুক্ষ হয়ে আছে। সাতপাঁচ ভেবে তিনি হাঁটা শুরু করেন।
প্রায় এক ঘণ্টার মতো হেঁটে একেবারে ঘেমে-নেয়ে বাসার মূল দরজার সামনে উপস্থিত হলেন মোজাম্মেল স্যার। দরজায় আঘাত করলেন তিনি। অনেকক্ষণ পর তাঁর ১২ বছর বয়সী কন্যা আম্বিয়া দরজা খুলে দিয়ে খাবারের ঘরের দিকে ছুটে গেল।
মোজাম্মেল স্যার জামা পাল্টে বসার ঘরে বসলেন। গলা ছেড়ে ডাকলেন, ‘মা আম্বিয়া …!’ কোনো সাড়া নেই।
স্যার আবার ডাকলেন, ‘মা আকলিমা …!’
এবারও সাড়া নেই।
তৃতীয় বার তিনি ডাকলেন, ‘বাবা মোজাফ্ফর …!’
একই অবস্থা এবারও।
স্যার তাঁর স্ত্রীকে ডাকলেন, ‘আম্বিয়া-আকলিমা-মোজাফফরের আম্মু, পরী বানু …!’
খাবারের ঘর থেকে আম্বিয়ার গলা শোনা গেল, ‘আমাদের আম্মু গোসল করে।’
মোজাম্মেল স্যার উঠে খাবারের ঘরের দিকে যান। তাঁর দুই চোখ কপালে উঠে গেল! তিনি তাঁর তিন সন্তানকে দেখে বললেন, ‘এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন? করছ কী তোমরা তিনজনে মিলে?’
স্যার দেখলেন আম্বিয়া, আকলিমা ও মোজাফফর হাতে মাছি মারার ব্যাট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সবার দৃষ্টি খাবার টেবিলে।
আম্বিয়া বলল, ‘আব্বু আমরা খাবার পাহারা দিচ্ছি!’
‘পাহারা? কেন?’ ১১ বছরের কন্যা আকলিমা বলল, ‘মাছি বসে, তা–ই!’
তার দুই বছরের ছোট মোজাফফর বলে, ‘ওরা খুব দুষ্টু আর চালাক!’
মোজাম্মেল স্যার ‘ও আচ্ছা। বুঝেছি। তোমরা সরে যাও। আমি ব্যবস্থা করছি।’
রান্নাঘর থেকে কয়েকটি থালা এনে টেবিলে রাখা খাবারের সব কয়টি পাত্র ঢেকে দিলেন। ‘এবার হয়েছে। যাও তোমরা’ বলে ড্রয়িং রুমের দিকে চলে গেলেন তিনি। এর মধ্যে তাঁর স্ত্রী পরী বানু স্নান সেরে খাবার ঘরে আসেন। ইত্যবসরে মোজাম্মেল স্যার স্নানঘরে প্রবেশ করেন।
পরী বানু দেখলেন তাঁর তিন সন্তান টেবিলের পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাদের হাতে মাছি মারার হাতিয়ার নেই। ‘খাবার কে ঢেকেছে?’ গলা চড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি।
‘আব্বু!’ মোজাফফর বলল।
‘তোদের আব্বু আমার চেয়ে বেশি শিক্ষিত হয়ে গেছে …!’ বলে পরী বানু খাবারের সব কটি পাত্র উন্মুক্ত করে দিলেন।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com
‘এই তোরা দেখ, মাছি আসে কি না। আসলেই মেরে ফেলবি। একটি মাছিও যেন খাবারে না বসে। বসলে খবর আছে কিন্তু…!’
এবার আম্বিয়া বলে, ‘আম্মু তুমি নাকি নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছ। আর আব্বু কলেজে অঙ্ক পড়ায়। পরী বানু কপালে দুই চোখ তুলে বললেন, ‘তা পড়াক! কিন্তু আমার চেয়ে বেশি শিক্ষিত হয়নি তোদের আব্বু। তাতে হয়েছেটা কী? আমি তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত। হ্যাঁ স্কুল-কলেজের শিক্ষার বিষয়টা অন্য জিনিস!’
‘কী ভাবে?’ আম্বিয়া মুখ টিপে হাসে।
‘এই ভাবে হাসছিস ক্যান? শুনিসনি উকিলের বাড়ির বিড়ালও ওকালতি জানে! আমি তো মাস্টারের বউ। তোদের মাস্টার আব্বুর চেয়ে বড় মাস্টার এই আমি! বুঝেছিস?’ সবার হাতে মাছি মারার ব্যাট তুলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই তোরা দাঁড়িয়ে থাক। আমি দেখি তোদের মাষ্টার আব্বু করছে কী।’
মোজাম্মেল স্যার এগিয়ে এলেন। এতক্ষণ বসার ঘরেই ছিলেন। তিনি হেসে বললেন, ‘আমাদের বাড়ির মাছিরাও জানে তুমি অনেক শিক্ষিত। তাই ওরাও শিক্ষিত হয়ে গেছে! একই সঙ্গে ওরা আরও বেশি চালাক হয়েছে! নতুন নতুন বুদ্ধি এঁটে ওরা তোমার খাবারে ভাগ বসায়।’ তিনি বললেন, ‘এবার আমরা সবাই একসঙ্গে খেতে পারি নিশ্চয়।’
আকলিমা বলল, ‘আব্বু, আম্মু বলেছ, সে নাকি তোমার চেয়ে বেশি শিক্ষিত!’
মোজাম্মেল স্যার চেয়ার টেনে বসলেন। তিনি বললেন, ‘আমি সব শুনেছি। এ কথা তোমাদের আম্মু সব সময়ই বলে। বাকি জীবন তাই বলে যাবে।’
মোজাফফর জিজ্ঞাসা করল, ‘তুমি কিছু বল না?’
‘কী বলব? ঠিকই তো বলে তোমাদের আম্মু।’ মোজাম্মেল স্যার নিজের থালায় ভাত নিয়ে যোগ করেন, ‘দুনিয়ার সব আম্মুরা আব্বুদের চেয়ে বেশি শিক্ষিতই হয়। তাই হতে হয় তাদের।’
পরী বানু খুশি হয়ে স্বামীর থালায় মাছের মাথাটা তুলে দেন। ‘না না পরী! তুমিই খাও ওটা। মাছের মাথা তোমারই খাওয়া দরকার।’ মোজাম্মেল স্যার মাছের মাথা বাটিতে রেখে বলেন, ‘তবে সবটুকু নয়। কিছু খেয়ে বাকিটা তিন সন্তানদের ভাগ করে দাও। আমাকে বাটির ওই ছোট টুকরাটা দিলেই খুশি হবো আমি। মাছের মাথা খাওয়া দরকার নেই আমার!’
‘তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।’ পরী বানু বলেন, ‘আমি ছোটো বেলায় যা করেছি, ওদের দিয়ে তা–ই করাই। তুমি মাস্টার মানুষ। আমি তোমার ছাত্রী। এক সময় ছাত্রছাত্রী তাদের মাস্টারের চেয়ে বেশি শিক্ষিত হয়ে ওঠে। আমার বেলায়ও তা–ই হয়েছে!’
আম্বিয়া তার আব্বুকে জিজ্ঞাসা করে, ‘আচ্ছা আব্বু, তুমি আমাদের এত শিক্ষিত আম্মুকে বিয়ে করেছ কী ভাবে?’ মুচকি হেসে হাত দিয়ে মুখ ঢাকে সে। অন্য দুই ভাই-বোন তার দিকে তাকিয়ে হাসে। আম্বিয়াকে দেখে তারাও হাত দিয়ে মুখ ঢাকে।
মোজাম্মেল স্যার হেসে বললেন, ‘সেটাই তো বিষয়! আমার আম্মু আর তোমার মায়ের আম্মু তাঁরা দুই বোন। অর্থাৎ তোমাদের দাদি ও নানি সম্পর্কে একই মায়ের সন্তান। তোমাদের নানি তাঁর মৃত্যুর আগে তাঁর বোন, অর্থাৎ তোমাদের দাদিকে বলেছিল, মোজাম্মেলের সঙ্গে যেন তাঁর মেয়ে পরী বানুর বিয়ে দেয়। আমার মা তোমাদের নানিকে কথা দিয়েছিলেন। সন্তানদের ছোটো রেখে তোমাদের নানা, অনেক আগে মারা যান। তাই তোমাদের বিধবা নানি তাঁর চার সন্তানকে ঠিক মতো লেখাপড়া করাতে পারেননি। তোমাদের একটাই মামা। পরিবারের বড় হলেও, তাঁর শরীর-স্বাস্থ্য তেমন ভালো ছিল না। তিনি অনেক কষ্টে তোমাদের মা ও দুই খালাদের বড় করেন। তবে তোমাদের আম্মুর চেহারা ছিল ঠিক পরীর মতোই! অন্য বোনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফর্সা ও সুন্দরী! তখন এলাকায় এক ‘পরী’ নামেই সবাই তাকে চিনত। বাস লেখাপড়া শেষ করে আমি তাকে বিয়ে করলাম! দেখেছো, এখনো কিন্তু কম নয় তোমাদের আম্মু!’
আকলিমা বলে, ‘হ্যাঁ আব্বু আমাদের আম্মু অনেক সুন্দর! তাঁর মতো সুন্দরী এখানে আর কেউ নেই!’ আম্বিয়া ও মোজাফফর সায় দেয়, ‘হ্যাঁ আম্মু অনেক সুন্দর!’
পরী বানুর মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ, কে এই পরী বানুকে দেখতে হবে না! দেখতে শুনতে আমি ছিলাম এলাকার সবার ওপরে! সে সময় অনেকেই এই পরীকে বিয়ে করতে পাগল হয়ে গিয়েছিল! দূরদূরান্ত থেকেও বহু সম্বন্ধ এসেছে! ঠিক কি না মাস্টার সাহেব?’
মোজাম্মেল স্যারের মুখে হাসি। তিনি বলেন, ‘তা ঠিক। তবে মানুষের চেহারার সৌন্দর্যের চেয়ে মনের সৌন্দর্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ পরী বানু দুই চোখ বড় করে বলেন, ‘কী আমার মন কি সুন্দর না?’
মোজাম্মেল স্যার বলেন, ‘আমি সেই কথা বলিনি পরী। আমি বলতে চেয়েছি সব মানুষের কথা। অনেক মানুষ আছে, তাদের স্বাস্থ্য-সৌন্দর্য নিয়ে বড়াই করে। অহংকারী হয়ে ওঠে। শুধু স্বাস্থ্য-সৌন্দর্য নিয়ে নয়। মানুষের ধন-সম্পত্তি, শিক্ষা-পদমর্যাদা নিয়েও তা করা উচিত নয়।’
আম্বিয়া বলল, ‘আম্মু তুমি আবার স্কুলে যাও। আগে এসএসসি পাস কর।’ আম্বিয়ার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আকলিমা বলে, ‘আম্মু তুমি কাল থেকেই আমাদের স্কুলে ভর্তি হয়ে যাও।’ মোজাফফর বলে, ‘আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে স্কুলে যাব শিক্ষা নিতে।’ আম্বিয়া যোগ করে, ‘আর আব্বু যাবে তাঁর কলেজে শিক্ষা দিতে!’ পরী বানু শব্দ করে হাসেন। ‘এই বয়সে আমি কি আবার পাঠশালায় যাব? মানুষে বলবে কী? শরমের কথা!’
মোজাম্মেল স্যার বললেন, ‘মানুষে ভালোই বলবে। এতে শরমের কী দেখছ তুমি? আমাদের সন্তানরা তো ঠিকই বলেছে! তুমি তাই কর। আমিও চাই তুমি আরও শিক্ষিত হও! এসএসসি কমপ্লিট করে আমার কলেজে ভর্তি হও! পরী বানু বললেন, ‘আচ্ছা! তবে সেই ব্যবস্থাই কর। সত্যি বলছি, আমারও ইচ্ছা, অন্তত এসএসসি পাস করি আগে …! আরও শিক্ষিত হয়ে উঠি আমি! এ যুগে এত কম শিক্ষা নিয়ে জীবন চালানো যায় না!’
মোজাম্মেল স্যার উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, ‘তা মিথ্যা বলনি। চাইলে এখনই তা করতে পারো। আজই শুরু কর তুমি। তোমার পড়াশোনার সব ব্যবস্থা আমি করে দেব। একে একে আমরা সবাই প্রাতিষ্ঠানিক এবং স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠব! অন্যদের মধ্যেও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেব! সত্যি এখন আমি নিজেকে খুবই সুখী ও গর্বিত মনে করছি। আজকের এই দিন আমাদের পরিবারের জন্য আলাদা আনন্দে মুখরিত এবং স্মরণীয় একটি দিন! তোমাদের জন্য আমার থাকবে আন্তরিক চেষ্টা, দোয়া-প্রার্থনা ও শুভকামনা! চল আমরা হাতে হাত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাই! মহান আল্লাহ্ আছেন আমাদের ওপরে!’
এ সময় মোজাম্মেল স্যারের পরিবারে অমিয় আনন্দের আলো সবাইকে উদ্ভাসিত করে তোলে। খাবার সামনে নিয়ে মোজাম্মেল স্যার, পরী বানু, আম্বিয়া, আকলিমা ও মোজাফফর পরস্পর এক সমান্তরালে নিজেদের কল্পনা করে সম্মোহিত হয়ে পড়ে। নীরবতা ভেঙে মোজাম্মেল স্যার বলেন, ‘আগে আমাদের খাবার খাই। আজই একসঙ্গে বসে, পরিকল্পনা করব।’ পরী বানু বললেন, ‘আজই কথা পাকা করতে হবে। ধন্যবাদ জানাই তোমাদের! নিশ্চয় আমরা এগিয়ে যাব!’ আম্মুর কথা শুনে বেশি খুশি হয় আম্বিয়া, আকলিমা ও মোজাফফর।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলায় সৌদি আরবে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফের বেসামরিক এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে এসব হামলা চালানো হয়। মঙ্গলবার ভোরে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি। আরও পড়ুন তেলের পথে যুদ্ধের আগুন, সবার নজর সৌদি আরবে আহত ১৩ জনের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত সামান্য থেকে মাঝারি মাত্রার বলে জানানো হয়েছে। জেদ্দাসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতা হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহরে সতর্কতা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আবহা, জেদ্দা, জাজান, তাইফ, ইয়ানবু ও আল-উলা। বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। আরও পড়ুন হুথিদের সঙ্গে সংঘাত / সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব? বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের বিবৃতিতে হুথিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ধারাবাহিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হুথিদের ‘উগ্রপন্থি মতাদর্শ ও উত্তেজনা বাড়ানোর নীতি’কে প্রকাশ করে। হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব এবং বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা সুরক্ষায় জোটের যৌথ বাহিনী দায়িত্বশীল ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানানো হয়েছে। আরও পড়ুন ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া আগের হামলায় আহত ৭০ জনের বেশি এর আগে, গত সপ্তাহে হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। শুক্রবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে কয়েক দফা ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে দেশটির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দেয়। উপসাগরীয় ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংগঠন ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে তারা। সূত্র: আরব নিউজকেএএ/
ক্রিকেট দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ভারত-আফগানিস্তানরাত ৮টাসনি স্পোর্টস ৫ প্রথম টি-টোয়েন্টি ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কারাত ১১টা ৩০ মিনিট সনি স্পোর্টস ১ ফুটবল লা লিগা ভায়েকানো-এসপানিওলরাত ১১টা টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাড এলচে-রিয়াল মাদ্রিদরাত ১টা ৩০ মিনিট টি স্পোর্টস ও ট্যাপম্যাড কারাবাও কাপ ইপসউইচ-আর্সেনালরাত ১টাফ্যানকোড লিভারপুল-টটেনহামরাত ১টাফ্যানকোড আইএন
মানুষের শরীরেরও একটা ভাষা আছে, যা বলে দেয় মানুষটি ঘুমিয়ে আছেন, পড়ে আছেন নাকি মারা গেছেন। কিন্তু গোপাল চন্দ্র দাসকে দেখে কিছুই বোঝার উপায় ছিল না। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে টানা রোদের মধ্যে সড়কের পাশে আধশোয়া হয়ে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। পায়ের কাছে কয়েক জোড়া ছেঁড়া স্যান্ডেল। পাশে জুতা পলিশের কালির কৌটা, ছোট-বড় কয়েকটি ব্রাশ। মাথার ওপর ছায়ার জন্য টাঙানো পলিথিনটিও বাতাসে উড়ে সরে গেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের কুমারপাড়া এলাকায় এমন অবস্থায় গোপালকে (৪৫) দেখা যায়। ঘণ্টাখানেক পরেও তাঁকে একই অবস্থায় দেখা যায়। সন্ধ্যার পর আবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, গোপাল নেই। তবে তাঁর জুতা মেরামত ও পলিশের সরঞ্জামগুলো আগের মতোই পড়ে আছে। পাশের চা–দোকানি মাজিদুল জানালেন, গোপাল সারা দিন ছেঁড়া জুতা মেরামত ও পলিশ করেন। এরপর মেরামত করা জুতা নিয়ে বের হন বিক্রির জন্য। সেদিনও এক জোড়া জুতা মেরামত করে বিক্রির জন্য বেরিয়েছিলেন।মাজিদুলের কাছে জানা গেল, পৈতৃক সূত্রেই চর্মকার গোপাল। রাজশাহী নগরের কুমারপাড়া মোড়ে আগে তাঁর (গোপালের) মামা বসতেন। মামা মারা যাওয়ার পর গোপাল সেখানে বসতেন। পরে তাঁকে সেখান থেকে তুলে দেওয়া হয়। এর পর থেকে তাঁর এক জায়গায় স্থির হয়ে বসার সুযোগ নেই। কখনো এখানে, কখনো সেখানে বসে কাজ করেন।প্রায় দুই মাস ধরে মাজিদুলের চায়ের দোকানের পাশে বসছেন গোপাল। মাজিদুল বললেন, ‘কাজকাম সে রকম হয় না। খুব কষ্টে আছে।’ নিজের দোকানের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কাজকাম সবারই মন্দা। বাজার চড়া। দিনকাল ভালো যাচ্ছে না।’এর মধ্যেই এক জোড়া জুতা হাতে গোপাল ফিরে এলেন। বোঝা গেল, জুতা বিক্রি করতে পারেননি। কথা বলতে এগিয়ে যেতেই তিনি এক জোড়া স্যান্ডেল এগিয়ে দিলেন, যেভাবে বিকল্প স্যান্ডেল পরিয়ে পায়ের জুতাজোড়া খুলে নিয়ে মেরামত বা পলিশ করে দেন। চটিজোড়া খুলে দিতেই ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করতে শুরু করলেন তিনি। কাজ করতে করতে নিজের জীবনের গল্প বলতে শুরু করলেন গোপাল।গোপাল চন্দ্র দাস, চর্মকারও দুঃখের ঘুম। খুব দুঃখ স্যার। দোকানডা লিয়্যা ভাইসে বেড়াচ্ছি। বাক্সের মধ্যে সব জিনিস তালা দিয়্যা থুইয়ে যাই। মাস দুয়েক আগে দোকানের সব মালামাল চুরি হয়্যা গেল। আবার কিনতে হলো। এখন সারা দিনে বাজার করার পয়সাডাও হয়নি।গোপালের বাবাও একই কাজ করতেন। বাবার হাত ধরেই ছোটবেলায় এই পেশায় আসেন তিনি। তাঁর মা–বাবা দুজনই অনেক বছর আগে মারা গেছেন। কাজের সূত্রে তাঁর বাবা কবে রাজশাহী শহরে এসেছিলেন, গোপালের তা মনে নেই। তাঁদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়।রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন গোপাল। মাসে বাড়িভাড়া দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা। দুই মেয়েই সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তাদের পড়াশোনার খরচও তাঁকেই জোগাতে হয়।দুপুরের রোদে ওভাবে পড়ে থেকে ঘুমাচ্ছিলেন কেন—জানতে চাইলে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে গোপাল বললেন, ‘ও দুঃখের ঘুম। খুব দুঃখ স্যার। দোকানডা লিয়্যা ভাইসে বেড়াচ্ছি। বাক্সের মধ্যে সব জিনিস তালা দিয়্যা থুইয়ে যাই। মাস দুয়েক আগে দোকানের সব মালামাল চুরি হয়্যা গেল। আবার কিনতে হলো। এখন সারা দিনে বাজার করার পয়সাডাও হয়নি। কী করব স্যার?’ বলতে বলতে পকেট থেকে দিনের রোজগার বের করে দেখালেন। ২০০ টাকার দুটি নোট, সঙ্গে কয়েকটি খুচরা টাকা। দুই হাত মেলে ধরলেন। হাত কাঁপছিল। চোখ ছলছল করছিল। বললেন, ‘এই দিয়্যা আজকের দিনে বাজার হয় স্যার!’এরই মধ্যে চটিজোড়া পলিশের কাজ প্রায় শেষ। চারপাশের বাড়তি কালিটুকু ন্যাকড়া দিয়ে মুছে দেওয়ার কাজ বাকি। গোপাল নিজের পরনের পরিষ্কার লুঙ্গির একাংশ দিয়ে খুব যত্নে চটির চারপাশ মুছতে শুরু করলেন। ন্যাকড়া নেই? পরিষ্কার লুঙ্গি দিয়ে মুছছেন কেন—জিজ্ঞেস করতেই গোপালের সরল উত্তর, ‘ন্যাকড়া ময়লা হইচে।’ গোপালের উত্তর শুনে মনে হলো, পেশাটা তাঁর জীবনের সঙ্গেই মিশে গেছে। বেঁচে থাকার জন্য যা দরকার, তিনি তা–ই করছেন।