অননুমোদনহীন অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে গুগল প্লে স্টোরসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে এসব অনুমোদনহীন ঋণদাতা অ্যাপস অপসারণ ও সেবা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় কিছু অননুমোদিত অ্যাপ চড়া সুদে ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার নামে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করছে। সাধারণ গ্রাহকদের অজান্তেই অ্যাপগুলো মোবাইলের কনট্যাক্ট লিস্ট, খুদে বার্তা, ছবি, ভিডিওসহ নানা সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশাধিকার করছে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে গ্রাহকদের ব্ল্যাকমেল, হুমকি ও ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল ও হয়রানি করা হচ্ছে।
চিঠিতে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইন, ২০২৪-এর ১৫(২) ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া কোনো প্ল্যাটফর্মে তহবিল সংগ্রহ, ঋণ দেওয়া, কিংবা অর্থ লেনদেন সম্পূর্ণ বেআইনি। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে পরিচালিত ঋণ প্রদান কার্যক্রম একই আইনের ৩৭(১) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে স্পষ্ট জানিয়েছে, অনুমোদিত ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এ ধরনের অ্যাপকে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে সেবা দেয়, তবে সেগুলোকে অপরাধের সহায়ক চ্যানেল বা সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। তাই এসব অ্যাপে অবিলম্বে পেমেন্ট ও লেনদেন বন্ধ করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩১ অ্যাপ চিহ্নিত
এর আগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) অননুমোদিত অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে জনগণকে সতর্ক করেছিল। ডেটা চুরি ও অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্তত ৩১টি অবৈধ অ্যাপ চিহ্নিত করে বিএফআইইউ। বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের মধ্যে রয়েছে সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথী লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, টাকা ক্যাশ লোন, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
ব্যাংকগুলোকে অবিলম্বে এসব অ্যাপের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৩ আগষ্ট প্রথম আলোতে ‘মুঠোফোনে ঋণের ভয়ংকর ফাঁদ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পর থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গ্রাহকদের কাছে আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণ উপকরণ আরও সহজে পৌঁছে দিতে ভাইয়া গ্রুপের সঙ্গে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে আকিজবশির গ্রুপ। গতকাল বুধবার ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আকিজ সিরামিকস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (সেলস) মোহাম্মদ আশরাফুল হক এবং ভাইয়া হাউজিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) দেওয়ান মশিউর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্মারকে স্বাক্ষর করেন।আকিজবশির গ্রুপের ‘এবিজি রয়েল ক্লাব’ লয়্যালটি প্রোগ্রামের আওতাধীন অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভাইয়া গ্রুপের গ্রাহকদের এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। এর আওতায় রয়েছে আকিজবশির গ্রুপের প্রিমিয়াম টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, ফসেট, গ্লাস, বোর্ড ও ডোরসহ আধুনিক নির্মাণের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণ।চুক্তির আওতায় ভাইয়া গ্রুপের গ্রাহকেরা আকিজবশির গ্রুপের প্রিমিয়াম এম্পোরিয়াম ‘সিলেকশনস’-এর বনানী ও বাংলামোটর শাখায় বিশেষ ছাড় ও সেবা পাবেন। একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মোটরসাইকেলের ভেঁপু বা হর্নের শব্দমাত্রায় নতুন নিয়মে জটিলতায় পড়েছে দেশের মোটরসাইকেল খাত। আমদানি নীতিমালায় নতুন নিয়ম যুক্ত করার ফলে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের কয়েকটি চালান বন্দরে আটকা পড়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এ দুই বা তিন চাকার হালকা যানের হর্নের সর্বোচ্চ অনুমোদিত শব্দমাত্রা ৮৫ ডেসিবেল নির্ধারণ করেছে সরকার। মাঝারি যানের জন্য ৯০ ডেসিবেল এবং ভারী যানের জন্য ১০০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে।বিধিমালাটি গত বছর ২৪ নভেম্বর জারি করা হয়। দেশে শব্দদূষণ ঠেকানোর জন্য পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র।অবশ্য গত ২৪ আগস্ট জারি করা আমদানি নীতি আদেশে (২০২৬–২৯) আমদানি–নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালায় নির্ধারিত মাত্রার বাইরে থাকা হর্ন রয়েছে। এরপরই বন্দরে সমস্যায় পড়তে শুরু করেন মোটরসাইকেল আমদানিকারকেরা। তাঁরা বলছেন, যন্ত্রাংশের আমদানি আটকে গেলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ আশেকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে সর্বোচ্চ ৮৫ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নতুন নিয়মের কারণে মোটরসাইকেল আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।দেশে ১০টির মতো কোম্পানি মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদন করে। যন্ত্রাংশের বেশির ভাগ আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ মোটরসাইকেল এসেম্বলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার রায় গতকাল মঙ্গলবার পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টুকে দেওয়া এক চিঠিতে বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালায় নির্ধারিত মানমাত্রা পুননির্ধারণ করা প্রয়োজন। তা না হলে বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ রপ্তানি করার ক্ষেত্রে আকস্মিক সমস্যা ও জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটবে।মন্ত্রীকে দেওয়া চিঠি সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগারে ২০২২ সালের ১৬ মার্চ বিভিন্ন কোম্পানির ১৩টি মডেলের মোটরসাইকেলের হর্নের শব্দমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সাত মিটার দূরত্বে হর্নের শব্দমাত্রা পাওয়া যায় সর্বনিম্ন ৮৪ দশমিক ৮ ও সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ২ ডেসিবেল। আর শূন্য দশমিক ৫ মিটার দূরত্বে শব্দমাত্রা ছিল ১০১ দশমিক ১ থেকে ১১৬ ডেসিবেল।মোটরসাইকেল বিপণনকারীরা বলছেন, ভারতে মোটরযানে হর্নের শব্দমাত্রা ৯৩ ডেসিবেল থেকে ১১২ ডেসিবেল পর্যন্ত নির্ধারণ করা রয়েছে। থাইল্যান্ডে তা ৯৩ থেকে ১১২ ডেসিবেল।জাপানের ইয়ামাহা ব্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস প্রথম আলোকে বলেন, জাপানের মতো উন্নত দেশ বুঝেশুনেই শব্দমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা মেনে একটি গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি। তিনি বলেন, দেশের শব্দদূষণের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা হাইড্রোলিক হর্ন। সেটা মোটরসাইকেলে কমই ব্যবহার করা হয়। হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধ করা জরুরি।সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, কোনো শিল্পের ক্ষেত্রে নীতিমালা ঘন ঘন পরিবর্তন করা উচিত নয়। এতে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হন।
বিদেশে পাচার করা সম্পদের মধ্যে আদালত কর্তৃক অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) বা সংযুক্ত (অ্যাটাচমেন্ট) হিসাব থেকে সরকারের শুল্ক ও কর আদায়ে করণীয় নির্ধারণে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কমিটিকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি। আরও পড়ুন পাচার করা অর্থ ফেরাতে সরকারের অগ্রাধিকার: অর্থমন্ত্রী এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালককে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির কর্মপরিধিতে বলা হয়েছে, বিদেশে পাচার করা সম্পদের মধ্যে আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) বা সংযুক্ত (অ্যাটাচমেন্ট) হিসাব থেকে সরকারের শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করবে কমিটি। সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থাকে নিয়ে গঠিত এ কমিটিতে আইন, কর, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ, আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং অপরাধ তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা এতে সই করেছেন। এমএএস/এমএমকে