অর্থনীতি

ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

হোসেন মাঝি সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ
ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ, মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দেশের পুঁজিবাজারকে নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতে ট্রেড রাইট এন্টাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) হোল্ডার, স্টক ডিলার ও ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেনামে বা ভুয়া নামে কোনো অবস্থাতেই পুঁজিবাজারে হিসাব খোলা বা সেবা দেওয়া যাবে না। গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিতে ‘যথাযথ গ্রাহক পরিচিতি’ এবং ‘কাস্টমার ডিউ ডিলিজেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট বা জন্মসনদের মতো সরকারি ডেটাবেজ ব্যবহার করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএফআইইউর ই-কেওয়াইসি নীতিমালা মানতে হবে।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বা কোম্পানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার বা ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারী ব্যক্তি কে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি না পাওয়া যায়, তবে তাঁকে সেবা দেওয়া বন্ধ এবং প্রয়োজনে বিএফআইইউতে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।

রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের গ্রাহকের ক্ষেত্রে তহবিলের উৎস অনুসন্ধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে সম্পর্ক স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পরও অন্তত এক বছর পর্যন্ত তাঁরা এই ক্যাটাগরিতে বিবেচিত হবেন।

প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত ভিত্তিতে গ্রাহকদের লেনদেন পরিবীক্ষণ করতে হবে। কোনো লেনদেনে আর্থিক বা দৃশ্যমান বৈধ উদ্দেশ্য না থাকলে তা অবিলম্বে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হবে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোল্যুশন এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ব্যক্তি ও সত্তার ওপর কড়া নজরদারি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনো ব্যক্তির হিসাব পাওয়া গেলে অবিলম্বে লেনদেন বা পেমেন্ট স্থগিত করে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। এ ছাড়া গ্রাহকের হিসাবসংক্রান্ত যাবতীয় নথি ও লেনদেনের তথ্য হিসাব বন্ধ হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব কৌশল ও নীতি প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ (সিসিইউ) গঠন করতে হবে এবং তাঁকে চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে মনোনীত করতে হবে। শাখা পর্যায়ে শাখা পরিপালন কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার প্রধান কার্যালয় ও শাখা কর্মকর্তাদের নিয়ে ঝুঁকি পর্যালোচনা সভা করতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অর্থনীতি

View more
ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ
ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ, মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দেশের পুঁজিবাজারকে নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতে ট্রেড রাইট এন্টাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) হোল্ডার, স্টক ডিলার ও ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেনামে বা ভুয়া নামে কোনো অবস্থাতেই পুঁজিবাজারে হিসাব খোলা বা সেবা দেওয়া যাবে না। গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিতে ‘যথাযথ গ্রাহক পরিচিতি’ এবং ‘কাস্টমার ডিউ ডিলিজেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট বা জন্মসনদের মতো সরকারি ডেটাবেজ ব্যবহার করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএফআইইউর ই-কেওয়াইসি নীতিমালা মানতে হবে।প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বা কোম্পানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার বা ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারী ব্যক্তি কে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি না পাওয়া যায়, তবে তাঁকে সেবা দেওয়া বন্ধ এবং প্রয়োজনে বিএফআইইউতে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের গ্রাহকের ক্ষেত্রে তহবিলের উৎস অনুসন্ধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে সম্পর্ক স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পরও অন্তত এক বছর পর্যন্ত তাঁরা এই ক্যাটাগরিতে বিবেচিত হবেন।প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত ভিত্তিতে গ্রাহকদের লেনদেন পরিবীক্ষণ করতে হবে। কোনো লেনদেনে আর্থিক বা দৃশ্যমান বৈধ উদ্দেশ্য না থাকলে তা অবিলম্বে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হবে।জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোল্যুশন এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ব্যক্তি ও সত্তার ওপর কড়া নজরদারি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনো ব্যক্তির হিসাব পাওয়া গেলে অবিলম্বে লেনদেন বা পেমেন্ট স্থগিত করে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। এ ছাড়া গ্রাহকের হিসাবসংক্রান্ত যাবতীয় নথি ও লেনদেনের তথ্য হিসাব বন্ধ হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব কৌশল ও নীতি প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ (সিসিইউ) গঠন করতে হবে এবং তাঁকে চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে মনোনীত করতে হবে। শাখা পর্যায়ে শাখা পরিপালন কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার প্রধান কার্যালয় ও শাখা কর্মকর্তাদের নিয়ে ঝুঁকি পর্যালোচনা সভা করতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
রাজশাহীতে ৪৫০ কোটি টাকার পাট বাণিজ্যের সম্ভাবনা

রাজশাহীতে ৪৫০ কোটি টাকার পাট বাণিজ্যের সম্ভাবনা

ব্যাংক এমডিদের কাজের মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

ব্যাংক এমডিদের কাজের মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

পাচার করা সম্পদ থেকে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি

পাচার করা সম্পদ থেকে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি

সাগরতলে সোনা-রুপার বিশাল খনির সন্ধান
সাগরতলে সোনা-রুপার বিশাল খনির সন্ধান

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে সোনা ও রুপায় সমৃদ্ধ বিশাল একটি খনিজ ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। আবিষ্কৃত এই খনিজ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বেশ বড় বলে জানিয়েছেন তারা। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কয়েকটি চীনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ বৈজ্ঞানিক অভিযানে এই খনিজ ভাণ্ডারের সন্ধান পাওয়া যায়। আরও পড়ুন পড়তির দিকে সোনার দাম, কমছে রুপারও এক টন আকরিকে এক কেজির বেশি রুপা গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রতলের ওই হাইড্রোথার্মাল এলাকায় পাওয়া আকরিতে মূল্যবান ধাতুর ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সর্বোচ্চ মানের আকরিতে প্রতি টনে রুপার পরিমাণ এক কেজিরও বেশি। গবেষকেরা বলছেন, সেখানকার গড় ধাতব উপাদানের পরিমাণ স্থলভাগের সাধারণ খনিজ ভাণ্ডারের তুলনায়ও বেশি। সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ওশান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপপরিচালক ও প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি বলেন, বড় এই সমুদ্রতল খনন এলাকায় অত্যন্ত উচ্চমাত্রার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। আরও পড়ুন সোনার দাম কি আরও কমবে? জবাব মিলবে যে ৩ প্রশ্নে কীভাবে তৈরি হয় এই খনিজ সমুদ্রের তলদেশে ভূতাপীয় কার্যকলাপের কারণে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও খনিজসমৃদ্ধ পানি ফাটল বা ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে। এসব স্থানকে হাইড্রোথার্মাল ফিল্ড বলা হয়। এই উত্তপ্ত পানি যখন প্রায় হিমশীতল সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে আসে, তখন দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। এর ফলে পানিতে থাকা ধাতু সালফারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কঠিন সালফাইড খনিজ হিসেবে তলদেশে জমা হয়। এসব খনিজের মধ্যে সাধারণত তামা, দস্তা ও সিসা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে সোনা এবং রুপাও পাওয়া যায়। আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরিয়ে নিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো, কারণ কী? চীনের বড় সমুদ্র গবেষণা অভিযান এই অনুসন্ধান অভিযানে চীনের কিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি এবং সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও অংশ নেন। গত ১০ আগস্ট শেনঝেন থেকে গবেষণা অভিযানটি শুরু হয়। গবেষকেরা চীনের নিজস্ব নকশা ও প্রযুক্তিতে তৈরি বিশাল সমুদ্র গবেষণাজাহাজ ‘শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। গবেষকদের পাওয়া এই আবিষ্কার সমুদ্রতলের খনিজ সম্পদ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে সমুদ্রতল থেকে এসব মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত, পরিবেশগত ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

টানা দুই দফায় ভরিতে কত কমল স্বর্ণের দাম

টানা দুই দফায় ভরিতে কত কমল স্বর্ণের দাম

ডলারের দাম বাড়ছে: কী প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানিতে?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস, এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট প্রেক্ষাপটে এই নীতিমালা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। মুদ্রানীতিতে রেপো রেট আগের মতো ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সুদের হারও মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এতে ঋণের খরচ আগের মতোই থাকবে, যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর কিছুটা চাপ অব্যাহত থাকবে। এই নীতিমালায় মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল করে ৭ থেকে ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। যদিও আগের মুদ্রানীতিতে তা ৬ দশমিক ৫ শতাংশের আশপাশে রাখা হয়েছিল। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও বৈশ্বিক বাজারে খাদ্য, জ্বালানি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি তা কঠিন করে তুলছে। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাস্তবভিত্তিক বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। নতুন নীতিমালায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগে কিছুটা মন্থরতা থাকতে পারে, যদিও সরকারের বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে ব্যাংক খাতের সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশি মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যবস্থাপনা নির্ভর ভাসমান বিনিময় হার’ (managed floating exchange rate) নীতিতে অটল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করবে এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে উৎসাহ দেবে। রপ্তানিকারকদের জন্য প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, এবং রেমিট্যান্স উৎসাহে প্রবাসীদের ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনবিএফআই তথা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা সম্প্রসারণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোনো নতুন শাখা খোলার ক্ষেত্রে এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এতে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই মুদ্রানীতি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হলেও স্বল্পমেয়াদে কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। উচ্চ সুদের পরিবেশে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমে যেতে পারে, যা উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষায় স্বচ্ছতা, স্থিতিশীল নীতিমালা ও নিয়মিত তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত জরুরি। এই মুহূর্তে বাজারে প্রতিটি সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। মুদ্রানীতির বাস্তব প্রয়োগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় তদারকি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক গতি-প্রবাহ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?

স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?

0 Comments