অর্থনীতি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অঙ্গীকারনামা নিয়ে ক্ষোভ, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে সাময়িক ব্যবস্থা

জানিফ হাসান সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ 0
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অঙ্গীকারনামা নিয়ে ক্ষোভ, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে সাময়িক ব্যবস্থা
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অঙ্গীকারনামা নিয়ে ক্ষোভ, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে সাময়িক ব্যবস্থা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে এককালীন মূল আমানত তুলতে চাইলে গ্রাহকদের মুনাফা, সুদ বা অন্য আর্থিক সুবিধার দাবি ছাড়তে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেবেন না- এমন অঙ্গীকারনামাতেও সই করতে হচ্ছে তাদের। ফলে অনেক আমানতকারীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

অর্থনীতি

View more
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অঙ্গীকারনামা নিয়ে ক্ষোভ, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে সাময়িক ব্যবস্থা
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অঙ্গীকারনামা নিয়ে ক্ষোভ, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে সাময়িক ব্যবস্থা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে এককালীন মূল আমানত তুলতে চাইলে গ্রাহকদের মুনাফা, সুদ বা অন্য আর্থিক সুবিধার দাবি ছাড়তে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নেবেন না- এমন অঙ্গীকারনামাতেও সই করতে হচ্ছে তাদের। ফলে অনেক আমানতকারীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ 0
স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর ও ক্যাশলেস ডিজিটাল ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের বাংলা কিউআর ও ক্যাশলেস ডিজিটাল ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

বিশ্ববাজারে কমলেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম সেভাবে কমে না কেন?

বিশ্ববাজারে কমলেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম সেভাবে কমে না কেন?

আকিজবশির গ্রুপ ও ভাইয়া গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আকিজবশির গ্রুপ ও ভাইয়া গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ, করপোরেট মালিকানায় শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব প্রয়োজন
বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ, করপোরেট মালিকানায় শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব প্রয়োজন

বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে করপোরেট মালিকানার নতুন মডেল প্রয়োজন। এমন একটি মডেল নিতে হবে, যেখানে করপোরেট খাতের মালিকানায় শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব থাকবে। সমাজে মুষ্টিমেয় লোকের হাতে বিপুল পরিমাণে সম্পদ। বৈষম্য এখন আকাশচুম্বী, অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে। নীতিগত বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সৈয়দ হুমায়ুন কবীর স্মৃতি গবেষণা সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।দিনব্যাপী আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নামে শুধু লোকদেখানো কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা মালিকানার একটি অংশ এমন একটি ফাউন্ডেশনের জন্য নির্ধারণ করতে হবে, যা জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য স্থায়ী ও টেকসই অর্থের উৎস হিসেবে কাজ করবে। এই মডেলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সক্ষমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।সম্মেলনে ‘ন্যায্যতা, সক্ষমতা ও জীবনকুশলতা’ শিরোনামের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান। এ পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ জাভেদ চৌধুরী। সূচনা বক্তব্য দেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ফারুক সোবহান ও ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষণা উপদেষ্টা সাজেদা আমিন। অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক কৌশিক বসু।অধ্যাপক রেহমান সোবহান আরও বলেন, ‘সম্পদের মালিকানার অধিকারকে আরও বিস্তৃত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এমন একটি মডেল গ্রহণ করতে পারেন, যেখানে করপোরেট খাতের মালিকানায় তাদের শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব থাকবে এবং সমাজের আরও বিস্তৃত অংশের মানুষ মালিকানার সুযোগ পাবে। যত দিন না একাডেমিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে এগুলোর গুরুত্ব স্বীকৃত হয়, তত দিন আমরা একটি অসম ও অন্যায্য বিশ্বে বসবাস করতে থাকব, যেখানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষমতাই নয়, রাজনৈতিক ক্ষমতাও অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে।’বক্তব্যের শুরুতে সৈয়দ হুমায়ুন কবীরকে স্মরণ করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর সিপিডি প্রতিষ্ঠার অন্যতম অনুপ্রেরণাদাতা ছিলেন। তিনি দেখিয়েছেন, কোনো বিষয়ে একমত না হলেও তা নিয়ে সভ্যভাবে আলোচনা করা যায় এবং যুক্তির মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। তিনি ফাইজার ইনকরপোরেশনে (মার্কিন বহুজাতিক ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান) প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একই সময়ে তিনি মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। একপর্যায়ে তিনি রেনাটা (দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তত ও বিপণন প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠা করেন।হুমায়ুন কবীর যা করেছিলেন, তা একেবারেই নজিরবিহীন ছিল উল্লেখ করে রেহমান সোবহান বলেন, তিনি চাইলে রেনাটাকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করতে পারতেন। অথচ তিনি রেনাটাকে একটি ফাউন্ডেশনের নামে প্রতিষ্ঠা করেন, যে ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য ছিল জনকল্যাণ। এর মাধ্যমে তিনি করপোরেট পুঁজিবাদের কার্যকর একটি অনন্য মডেল তৈরি করেন। এই মডেলে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ব্যবসা করতে পারে, মুনাফা অর্জন করতে পারে এবং সেই মুনাফা একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এমন কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করতে পারে, যা লাখ লাখ বঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নত করে।প্রসঙ্গত সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের পরিবারের সদস্যরা সাজিদা ফাউন্ডেশনে সম্পৃক্ত। এই সংস্থা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে।‘সৈয়দ হুমায়ুন কবীর স্মৃতি গবেষণা সম্মেলন ২০২৬’-এর একটি পর্বের আলোচকেরা। আজ বৃহস্পতিবার বনানীর শেরাটন হোটেলে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বাংলাদেশে অনেক এনজিও আছে, যেগুলো দাতা সংস্থার অর্থায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাকও রয়েছে, যেগুলো আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু জনস্বার্থে কাজ করার জন্য এ ধরনের দেশীয় করপোরেট মালিকানা ও টেকসই অর্থায়নের মডেল খুব বেশি দেখা যায় না। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সক্ষমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। ইউরোপের অনেক দেশে, বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো, জার্মানি, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসে উচ্চমানের সরকারি শিক্ষা সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। এর ফলে সমাজের বঞ্চিত শ্রেণির সন্তানেরাও উচ্চমানের শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছে। কেউ প্রধানমন্ত্রী বা নোবেলজয়ী হয়েছেন। এটাই ছিল সক্ষমতাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির মূল বিষয়। সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাও এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সাজেদা ফাউন্ডেশন তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই ধারণা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এখানে তারা জোর দিয়েছে যে শুধু মানুষকে ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া এবং তাদের আয় করার সুযোগ বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন আরও অনেক বিষয় রয়েছে। যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বসবাসের পরিবেশ। ‘সৈয়দ হুমায়ুন কবীর স্মৃতি গবেষণা সম্মেলন ২০২৬’-এ উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান। আজ বৃহস্পতিবার বনানীর শেরাটন হোটেলে করপোরেট খাতের উদ্দেশ্যে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, যদি সত্যিই বঞ্চিত মানুষের জীবনমানের মৌলিক উন্নয়ন করতে চান, তাহলে শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) নামে কিছু লোকদেখানো কার্যক্রম করাই যথেষ্ট নয়; আপনার সামনে একটি কার্যকর মডেল রয়েছে। আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা মালিকানার একটি অংশ এমন একটি ফাউন্ডেশনের জন্য নির্ধারণ করতে পারেন, যা জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য স্থায়ী ও টেকসই অর্থের উৎস হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশে জনকল্যাণমূলক সেবা দেওয়া অধিকাংশ এনজিওকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে নিয়মিতভাবে দাতা সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে হয়। তাদের আয় ও কার্যক্রমের স্থায়িত্ব অনেকাংশে এই দাতা অর্থের ওপর নির্ভর করে। রেহমান সোবহান বলেন, সাজেদা মডেল এখানে একটি দেশীয় সমাধান তৈরি করেছে। একটি সফল করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে এবং সেই প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া সম্পদ জনকল্যাণমূলক সেবায় বিনিয়োগ করা হবে। সাজেদা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ উপকৃত হচ্ছে, এটা ছোট বিষয় নয়। একইভাবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রায় ৮০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং ব্র্যাকও বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে তার কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে। অধ্যাপক রেহমান সোবহান আরও বলেন, সম্পদের মালিকানার অধিকারকেও আরও বিস্তৃত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। কেউ রেনাটা মডেল ও সাজেদা মডেল ব্যবহার করতে পারেন। অথবা এমন একটি মডেল গ্রহণ করতে পারেন, যেখানে করপোরেট খাতের মালিকানায় তাদের শ্রমিকদেরও অংশীদারত্ব থাকবে এবং সমাজের আরও বিস্তৃত অংশের মানুষ মালিকানার সুযোগ পাবে। যত দিন না একাডেমিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে এগুলোর গুরুত্ব স্বীকৃত হয়, তত দিন আমরা একটি অসম ও অন্যায্য বিশ্বে বসবাস করতে থাকব। যেখানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষমতাই নয়, রাজনৈতিক ক্ষমতাও অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে। অধ্যাপক কৌশিক বসু বলেন, ‘সমাজের মুষ্টিমেয় লোকের হাতে বিপুল সম্পদ। বৈষম্য এখন আকাশ ছুঁতে যাচ্ছে। বৈষম্য অগ্রহণযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে। আমাদের সামনে নীতিগত বিকল্প কী আছে, তা নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব এমন এক সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার মতো পরিস্থিতি আমরা খুব কমই দেখেছি।’অধ্যাপক কৌশিক বসু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ঢাকায় সম্মেলনে বক্তব্য দেনদু-তিন সপ্তাহ ধরেই হঠাৎ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেন, ‘প্রচলিত শ্রমের চাহিদা কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ শ্রমের মাধ্যমে আয় করে জীবিকা নির্বাহ করে। ফলে আমরা এমন একটি চাপ বা সংকটের লক্ষণ দেখছি, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সংকট উত্তরণে জ্ঞান, নৈতিক চিন্তা, সামাজিক উদ্যোগ, গবেষণা ও সক্রিয়তা—এই বিষয়গুলোকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে হবে।’অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তা দেন সংবিধান প্রণেতা ও রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ‘নেতৃত্বের উদ্দেশ্য: সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ শিরোনামের প্যানেল আলোচনায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হন সংবিধান প্রণেতা ও রাজনীতিবিদ ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, সৈয়দ হুমায়ুন কবীর প্রতিষ্ঠিত ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান রেনাটা ৫১ শতাংশ শেয়ার সাজেদা ফাউন্ডেশনকে দান করেছে। এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। দান নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। রেনাটা ও সাজেদা ফাউন্ডেশন দুটোই বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান, যাদের সুশাসন রয়েছে। এই পর্বে আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার মান দিন দিন নেমে যাচ্ছে। শিক্ষার মান বাড়ানো জরুরি।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। আজ বৃহস্পতিবার বনানীর শেরাটন হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মানুষের কল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে টিআইবি প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও যুক্ত হন সৈয়দ হুমায়ুন কবীর। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার যে লক্ষ্য ছিল তাঁর, তা আজও অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।এই পর্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন সাজেদা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ফারুক সোবহান ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা শেহজাদ মুনিম। পর্বটি সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার বনানীর শেরাটন হোটেলে এরপর ‘আগামীর জন্য নির্মাণ: প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবন ও গুণগতমান’ শিরোনামের পর্বে অংশ নিয়ে মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রথমে মানুষের মধ্যে তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ আমাদের কাছে আসবে, সেই অপেক্ষা না করে আমরাই মানুষের কাছে গিয়েছি। যখন তালতলা বস্তি উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে, মাঠকর্মীরা তাঁদের কাছে যেতেন, কী ঘটেছে তা নথিবদ্ধ করতেন, প্রমাণ সংগ্রহ করতেন এবং তাঁরা কী ধরনের সহায়তা চান বা কী প্রয়োজন, তা বোঝার চেষ্টা করতেন।’অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইসিডিডিআরবির ইমেরিটাস বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী। আজ বৃহস্পতিবার বনানীর শেরাটন হোটেলে আইসিডিডিআরবির ইমেরিটাস বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী বলেন, ‘আমাদের দেশে অর্থের অভাব রয়েছে, বিজ্ঞানের বিষয়ে চিন্তার অভাব রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনারও ঘাটতি রয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষ উদ্ভাবন নিয়ে অনেক কথা বলে, কিন্তু অনেক সময় তারা আসলে কী নিয়ে কথা বলছে, সেটিই পরিষ্কার নয়।’ তিনি আরও বলেন, বহু বছর আগে তাঁরা পরীক্ষামূলকভাবে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ শুরু করেন। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে যাতে এই টিকা ব্যবহার করা সম্ভব হয়, সে বিষয়ে তিনি কাজ করেছেন। টিকা তৈরি করা এক বিষয়, কিন্তু কীভাবে সেই টিকাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে এবং কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।এ পর্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী ও রেনাটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এস কায়সার কবির। তিনি সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের ছেলে। এ পর্ব সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ফারাবী হাফিজ।সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী সাজেদা ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক সাজেদা হুমায়ুন কবির, দুই মেয়ে সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদা ফিজ্জা কবির এবং লিগ্যাল, সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইন্টেগ্রিটির জ্যেষ্ঠ পরিচালক সাজেদা ফারিসা কবির।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
অবৈধ ঋণ অ্যাপে লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

অবৈধ ঋণ অ্যাপে লেনদেন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

গাড়িঋণে সুদহার কমে ১০ শতাংশের নিচে

গাড়িঋণে সুদহার কমে ১০ শতাংশের নিচে

নতুন নিয়মের ফাঁদে মোটরসাইকেলের চালান আটকা

নতুন নিয়মের ফাঁদে মোটরসাইকেলের চালান আটকা

ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ
ব্রোকারেজ হাউস–মার্চেন্ট ব্যাংকে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ, মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রতিরোধ ইউনিট গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দেশের পুঁজিবাজারকে নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতে ট্রেড রাইট এন্টাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) হোল্ডার, স্টক ডিলার ও ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার, সিকিউরিটিজ কাস্টডিয়ান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেনামে বা ভুয়া নামে কোনো অবস্থাতেই পুঁজিবাজারে হিসাব খোলা বা সেবা দেওয়া যাবে না। গ্রাহকের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিতে ‘যথাযথ গ্রাহক পরিচিতি’ এবং ‘কাস্টমার ডিউ ডিলিজেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট বা জন্মসনদের মতো সরকারি ডেটাবেজ ব্যবহার করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএফআইইউর ই-কেওয়াইসি নীতিমালা মানতে হবে।প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বা কোম্পানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডার বা ২০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারী ব্যক্তি কে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি না পাওয়া যায়, তবে তাঁকে সেবা দেওয়া বন্ধ এবং প্রয়োজনে বিএফআইইউতে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট দাখিল করতে হবে।রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি, দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের গ্রাহকের ক্ষেত্রে তহবিলের উৎস অনুসন্ধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে সম্পর্ক স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পরও অন্তত এক বছর পর্যন্ত তাঁরা এই ক্যাটাগরিতে বিবেচিত হবেন।প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত ভিত্তিতে গ্রাহকদের লেনদেন পরিবীক্ষণ করতে হবে। কোনো লেনদেনে আর্থিক বা দৃশ্যমান বৈধ উদ্দেশ্য না থাকলে তা অবিলম্বে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হবে।জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোল্যুশন এবং বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ব্যক্তি ও সত্তার ওপর কড়া নজরদারি রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনো ব্যক্তির হিসাব পাওয়া গেলে অবিলম্বে লেনদেন বা পেমেন্ট স্থগিত করে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। এ ছাড়া গ্রাহকের হিসাবসংক্রান্ত যাবতীয় নথি ও লেনদেনের তথ্য হিসাব বন্ধ হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিজস্ব কৌশল ও নীতি প্রণয়ন করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় পরিপালন ইউনিট’ (সিসিইউ) গঠন করতে হবে এবং তাঁকে চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে মনোনীত করতে হবে। শাখা পর্যায়ে শাখা পরিপালন কর্মকর্তা নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার প্রধান কার্যালয় ও শাখা কর্মকর্তাদের নিয়ে ঝুঁকি পর্যালোচনা সভা করতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
রাজশাহীতে ৪৫০ কোটি টাকার পাট বাণিজ্যের সম্ভাবনা

রাজশাহীতে ৪৫০ কোটি টাকার পাট বাণিজ্যের সম্ভাবনা

ব্যাংক এমডিদের কাজের মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

ব্যাংক এমডিদের কাজের মূল্যায়ন হবে ১০০ নম্বরে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

পাচার করা সম্পদ থেকে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি

পাচার করা সম্পদ থেকে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি

0 Comments