আন্তর্জাতিক

নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসিসিকে আগেই জানিয়েছিল ভারত

জানিফ হাসান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসিসিকে আগেই জানিয়েছিল ভারত
নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসিসিকে আগেই জানিয়েছিল ভারত

মহসিন নাকভি ট্রফি তুলে দিলে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপে ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না—এ কথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে (এসিসি) আগেই জানিয়ে দিয়েছিল ভারত।

দুবাইয়ে গত রোববার মেয়েদের এশিয়া কাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি হারমানপ্রীত কৌরের দল। নাকভি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।

এ বিষয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, ‘আমরা এসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে এসিসি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি, পুরুষ ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রে যেটা করা হয়েছিল, একইভাবে ট্রফি দেওয়া হলে আমরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেব না। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি, তাই আমাদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।’

ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসেও একই সুরে কথা বলেন সাইকিয়া, ‘সবদিক বিবেচনায় আমরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতীয় দল ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না—সে কথা আমরা আগেই এসিসিকে জানিয়ে দিয়েছিলাম।’

এশিয়া কাপ ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় ভারতের ক্রিকেটাররা উপস্থিত হননি

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, ফাইনালের আগের দিনই ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জানিয়ে দিয়েছিল মহসিন নাকভি যদি পদক ও ট্রফি তুলে দেন, তবে ভারতীয় দল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না। বিসিসিআই চেয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দলের ট্রফি এসিসি সহসভাপতির হাত থেকে দেওয়া হোক।

এক বছর আগে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে ছেলেদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। তখনো এসিসির প্রধান হিসেবে পুরস্কার তুলে দিতে মঞ্চে যান নাকভি। কিন্তু সূর্যকুমার যাদবরা ট্রফি নিতে মঞ্চে যাননি।

ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্ক নতুন নয়। সেই আগুনে নতুন করে ঘি ঢালা হয় গত বছর এপ্রিলে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর। ভারত মনে করে, সেই হামলাকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে দুই দেশের মধ্যে যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছিল, তাতে মদদ ছিল নাকভির। এ কারণে তাঁর কাছ থেকে ছেলেদের সেই আসরের ট্রফি নেননি সূর্যকুমাররা। এবার মেয়েদের আসরেও একই ঘটনা দেখা গেল। সাইকিয়া এ নিয়ে এনডিটিভিকে বলেন, ‘(পুরস্কার বিতরণী) অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে আমরা পেহেলগামে হামলার শিকার মানুষদের প্রতি সম্মান জানিয়েছি।’

সাইকিয়া জানান, ছেলে ও মেয়েদের এশিয়া কাপের ট্রফি শিগগিরই ভারতে নিয়ে আসা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে দ্রুতই শুধু নারী এশিয়া কাপের ট্রফিই নয়, পুরুষ এশিয়া কাপের ট্রফিও পাব।’

পিসিবি ও এসিসি প্রধান মহসিন নাকভি

বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি অভিযোগ করেন, নাকভি প্রচলিত ঐতিহ্য মেনে চলছেন না। শুনুন সাইকিয়ার মুখেই, ‘বর্তমান আইসিসি সভাপতি যখন এসিসিতে ছিলেন, তখন বিজয়ী দলের কর্মকর্তার ট্রফি তুলে দেওয়ার প্রথাই ছিল স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু গত বছর থেকে তারা এই ঐতিহ্য মানছে না।’

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের জন্য বিসিসিআই এসিসির কাছে একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানান সাইকিয়া, ‘আমরা এই অনুরোধও করেছিলাম যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি সহসভাপতিকে দিয়ে করানো যেতে পারে। আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার; (এসিসি) চেয়ারম্যান এমন এক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যে দেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেই—বিশেষ করে পেহেলগাম ঘটনার পর। তাই আমরা তাঁর হাত থেকে কোনো ট্রফি নেব না।’

সাইকিয়া এরপর বলেন, ‘এসিসির সহসভাপতি খালিদ সাহেব যদি পুরস্কার বিতরণ করতেন, তবে আমরা অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম—আমরা এ পরামর্শও দিয়েছি। কিন্তু আমাদের পরামর্শ মানা হয়নি, তাই আমাদের সামনে অন্য কোনো পথও ছিল না।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

আন্তর্জাতিক

View more
নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসিসিকে আগেই জানিয়েছিল ভারত
নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসিসিকে আগেই জানিয়েছিল ভারত

মহসিন নাকভি ট্রফি তুলে দিলে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপে ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না—এ কথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে (এসিসি) আগেই জানিয়ে দিয়েছিল ভারত।দুবাইয়ে গত রোববার মেয়েদের এশিয়া কাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি হারমানপ্রীত কৌরের দল। নাকভি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।এ বিষয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, ‘আমরা এসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে এসিসি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি, পুরুষ ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রে যেটা করা হয়েছিল, একইভাবে ট্রফি দেওয়া হলে আমরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেব না। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি, তাই আমাদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।’ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসেও একই সুরে কথা বলেন সাইকিয়া, ‘সবদিক বিবেচনায় আমরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতীয় দল ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না—সে কথা আমরা আগেই এসিসিকে জানিয়ে দিয়েছিলাম।’ এশিয়া কাপ ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সময় ভারতের ক্রিকেটাররা উপস্থিত হননিসংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, ফাইনালের আগের দিনই ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জানিয়ে দিয়েছিল মহসিন নাকভি যদি পদক ও ট্রফি তুলে দেন, তবে ভারতীয় দল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না। বিসিসিআই চেয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দলের ট্রফি এসিসি সহসভাপতির হাত থেকে দেওয়া হোক।এক বছর আগে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে ছেলেদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। তখনো এসিসির প্রধান হিসেবে পুরস্কার তুলে দিতে মঞ্চে যান নাকভি। কিন্তু সূর্যকুমার যাদবরা ট্রফি নিতে মঞ্চে যাননি।নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, জানাল বিসিসিআইভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্ক নতুন নয়। সেই আগুনে নতুন করে ঘি ঢালা হয় গত বছর এপ্রিলে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর। ভারত মনে করে, সেই হামলাকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে দুই দেশের মধ্যে যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছিল, তাতে মদদ ছিল নাকভির। এ কারণে তাঁর কাছ থেকে ছেলেদের সেই আসরের ট্রফি নেননি সূর্যকুমাররা। এবার মেয়েদের আসরেও একই ঘটনা দেখা গেল। সাইকিয়া এ নিয়ে এনডিটিভিকে বলেন, ‘(পুরস্কার বিতরণী) অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে আমরা পেহেলগামে হামলার শিকার মানুষদের প্রতি সম্মান জানিয়েছি।’সাইকিয়া জানান, ছেলে ও মেয়েদের এশিয়া কাপের ট্রফি শিগগিরই ভারতে নিয়ে আসা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে দ্রুতই শুধু নারী এশিয়া কাপের ট্রফিই নয়, পুরুষ এশিয়া কাপের ট্রফিও পাব।’ পিসিবি ও এসিসি প্রধান মহসিন নাকভিবিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি অভিযোগ করেন, নাকভি প্রচলিত ঐতিহ্য মেনে চলছেন না। শুনুন সাইকিয়ার মুখেই, ‘বর্তমান আইসিসি সভাপতি যখন এসিসিতে ছিলেন, তখন বিজয়ী দলের কর্মকর্তার ট্রফি তুলে দেওয়ার প্রথাই ছিল স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু গত বছর থেকে তারা এই ঐতিহ্য মানছে না।’পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের জন্য বিসিসিআই এসিসির কাছে একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানান সাইকিয়া, ‘আমরা এই অনুরোধও করেছিলাম যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি সহসভাপতিকে দিয়ে করানো যেতে পারে। আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার; (এসিসি) চেয়ারম্যান এমন এক দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যে দেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নেই—বিশেষ করে পেহেলগাম ঘটনার পর। তাই আমরা তাঁর হাত থেকে কোনো ট্রফি নেব না।’সাইকিয়া এরপর বলেন, ‘এসিসির সহসভাপতি খালিদ সাহেব যদি পুরস্কার বিতরণ করতেন, তবে আমরা অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম—আমরা এ পরামর্শও দিয়েছি। কিন্তু আমাদের পরামর্শ মানা হয়নি, তাই আমাদের সামনে অন্য কোনো পথও ছিল না।’ভারতের ট্রফিগুলো নাকভি কোথায় রাখছেন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

ইরানকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় চীনের সহায়তার খবর উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন

ডায়ানার সেই ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ আবার নিলামে, দাম কত উঠবে জানুন

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান কীভাবে চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলারের পণ্য কিনছে

সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?
সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি আরব?

হুথিদের তুলনায় সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও বিপাকে রয়েছে সৌদি আরব। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা রিয়াদকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সৌদি আরব এখন বড় ধরনের যুদ্ধ চায় না। তবে হুথিদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী আচরণ দেশটিকে আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। ইয়েমেন ও ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, পরিস্থিতির সব ইঙ্গিতই সৌদির বড় ধরনের পাল্টা হামলার দিকে যাচ্ছে। তার মতে, কার্যত সৌদি আরবের হাতে এখন খুব বেশি বিকল্প নেই। আরও পড়ুন তেলের পথে যুদ্ধের আগুন, সবার নজর সৌদি আরবে বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই সম্প্রতি হুথিরা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে। একই সঙ্গে, তারা মোখা বন্দর শহরেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর মাধ্যমে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। বাব আল-মান্দেব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যপথগুলোর একটি। এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সৌদি আরবের ওপরও চাপ বেড়েছে। এর মধ্যেই ইরাক থেকে ড্রোন হামলার শিকার হয়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে। হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জন্য ইরানের দিকে আঙুল তুলেছেন। ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাকে সক্রিয় রয়েছে। আরও পড়ুন বাব আল-মান্দেবের নিয়ন্ত্রণ নিলো হুথিরা, লোহিত সাগরে নতুন সমীকরণ হরমুজ বন্ধ থাকায় পাইপলাইনের গুরুত্ব বেড়েছে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছিল। আগে এসব তেল পারস্য উপসাগরে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারে তোলা হতো। ফলে পাইপলাইনে হামলা সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। গত মাসের শুরুতেই সৌদি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরাকি মিলিশিয়া ও হুথিদের সমন্বিত একাধিক হামলার আশঙ্কা করছে রিয়াদ। আরও পড়ুন ড্রোন হামলায় বন্ধ সৌদির পাইপলাইন, তেল বাণিজ্যে শঙ্কার ছায়া সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থেকেও কেন বিপাকে সৌদি সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে সৌদি আরব হুথিদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। একদিকে বিপুল সম্পদের অধিকারী সৌদি আরবের আধুনিক ও সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে দরিদ্র ইয়েমেনের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। কিন্তু বাস্তবে হুথিদের দমন করা অত্যন্ত কঠিন প্রমাণিত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে গোষ্ঠীটি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধকৌশল উন্নত করেছে। গাজা যুদ্ধের পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তারা। পশ্চিমা দেশ ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের কাছে হুথিরা ইরানের একটি প্রক্সি বাহিনী হিসেবে পরিচিত হলেও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। আরও পড়ুন হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি? হুথিদের প্রধান দাবি কী হুথিদের দাবি, উত্তর ইয়েমেনের তাদের নিয়ন্ত্রিত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর সৌদি আরবের অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। এই অবরোধের মধ্যে অর্থনৈতিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ রয়েছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবার প্রধান নাসর আল-দিন আমের বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে তাদের গোষ্ঠী। তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা বাড়ানোর পথ থেকে তারা সরে আসবে না। আরও পড়ুন হুথির হাতে পেরিম দ্বীপ, বন্ধ হবে লোহিত সাগরও? ২০১৪ থেকেই ইয়েমেনে যুদ্ধ ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে দেশ ছাড়তে হয়। পরের বছর হুথিদের হটাতে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইরান হুথিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতে ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ, নাকচ করেন ট্রাম্প সর্বশক্তি দিয়ে হামলা করলে বড় ঝুঁকি বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের একটি পথ হলো হুথিদের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান চালানো। কিন্তু এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের বিশ্লেষক চিনজিয়া বিআঙ্কো মনে করেন, সৌদি আরব যদি সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধে নামে, তাহলে তা ইয়েমেনের দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের নতুন অধ্যায়ে পরিণত হতে পারে। আরও বড় আশঙ্কা হলো, সেই সংঘাতে ইরান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। তখন সংঘাতটি শুধু ইয়েমেনকেন্দ্রিক থাকবে না। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং তার মাধ্যমে রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৃহত্তর সংঘাতের অংশ হয়ে উঠতে পারে। আরও পড়ুন হাঁটা শেখার আগেই দৌড়ের পরীক্ষায় মক্কা চুক্তি! যুক্তরাষ্ট্র কি সৌদির পাশে দাঁড়াবে? সৌদি আরবের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কতটা সামরিক সহায়তা দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়াতে খুব একটা আগ্রহী নয়। হরমুজ প্রণালির সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি জটিল। ট্রাম্পও বলেছেন, হুথিরা চায় না যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই সংঘাতে জড়াক। তবে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা সহায়তা দিতে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। সৌদি সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাওয়াফ ওবায়েদ বলেছেন, রিয়াদের অনুরোধ মূলত মার্কিন বিমান হামলার জন্য ছিল না। তাদের চাওয়া ছিল গোয়েন্দা সহায়তা। আরও পড়ুন সৌদি আরবে একের পর এক হামলা, মক্কা চুক্তি কি এবার কার্যকর হবে? রাজনৈতিক সমাধানের পথও সংকুচিত সৌদি আরবের আরেকটি বিকল্প হলো রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা। কিন্তু সেই পথও এখন আগের তুলনায় অনেক কঠিন। গত কয়েক মাস ধরে রিয়াদ হুথি ও ইরানকে সতর্ক করে আসছে। বিভিন্ন সময় নিন্দা জানিয়েছে এবং কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাতে হুথিদের অগ্রযাত্রা থামেনি। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পরও তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা চালায়নি। বরং ইরাক সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে। বিশ্লেষক চিনজিয়া বিআঙ্কোর মতে, রাজনৈতিক সমাধানের সুযোগ সৌদি আরব প্রায় শেষ করে ফেলেছে। আরও পড়ুন তেল পাইপলাইনে হামলা, কী করবে সৌদি সমঝোতা হলে মূল্যও দিতে হবে হুথিদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো গেলেও সৌদি আরবকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। বিশ্লেষক আল-বাশার মতে, এমন সমঝোতা হলে হুথিদের প্রায় সব দাবিই মেনে নিতে হতে পারে। তার ভাষায়, সেটি হবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল আত্মসমর্পণের মতো। তবে অন্যদিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধেও সৌদি আরবের জন্য বড় ঝুঁকি রয়েছে। ইয়েমেনে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারে। সামনে কী করবে রিয়াদ সৌদি আরব কবে এবং কীভাবে পাল্টা পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সহায়তায় হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের সামরিক অভিযান এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে, এমনকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও, এই অভিযান আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একাধিক ফ্রন্টে বড় ধরনের চমকও দেখা যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া সরাসরি সর্বাত্মক যুদ্ধে যাবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ হুথিদের পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীরও হামলার মুখে রয়েছে সৌদি আরব। ফলে রিয়াদের সামনে এখন দুটি পথই কঠিন—যুদ্ধে গেলে বড় আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি, আর সমঝোতায় গেলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত বড় ছাড় দেওয়ার আশঙ্কা। সূত্র: সিএনএনকেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

হুথিদের সামরিক শক্তি কতটা, কেন তারা এত বড় হুমকি?

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য-শিক্ষায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে

পাকিস্তানের হামলায় নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে মোদি সরকার
পাকিস্তানের হামলায় নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে মোদি সরকার

  এবার পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় নিহত সেনাসদস্যদের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগেই ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেও বলেছে দলটি। সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময় পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ হতাহতের তথ্য নিয়ে দেশটির সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। মোদি সরকারের দাবি, একবছর আগের ওই সংঘাতে ভারতের ছয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঁচজন এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর একজন সদস্য রয়েছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের সেনাসদস্যবিষয়ক বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার অনূমা আচার্য অভিযোগ করেন, নিহত ছয় সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য গোপন করে সরকার তাদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মান থেকে বঞ্চিত করেছে। উইং কমান্ডার অনূমা আচার্য দাবি করেন, আগের সরকারগুলো দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো প্রতিটি সেনাসদস্যকে প্রকাশ্যে সম্মান জানিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, ‘মোদি সরকার সেনাবাহিনী ও সেনাসদস্যদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তারা বারবার দেশ ও সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’ কর্নেল রোহিত চৌধুরী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভোটের সময় সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে বলেছিলেন, কোনও সেনাসদস্য নিহত হননি। তখন বিজেপির সংসদ সদস্যরা হাততালি দিয়েছিলেন। রাজনাথ সিং দেশের সেনাবাহিনী ও সেনাসদস্যদের অপমান করেছেন। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।’ একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিহত সেনাসদস্যদের নাম প্রকাশ করতে সরকারের ১৩ মাস সময় লাগল কেন। কংগ্রেসের দাবি তুলে ধরে কর্নেল রোহিত চৌধুরী বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে বিশেষ অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ (ব্রিচ অব প্রিভিলেজ) আনার জন্য দলীয় নেতৃত্বকে অনুরোধ জানানো হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাত চলাকালে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত ছয় সেনাসদস্যের নাম এক বছরেরও বেশি সময় পর সম্প্রতি প্রকাশ করে ভারত। এর আগে ওই সংঘাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হতাহতের খবর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলেও, অপারেশন সিঁদুরে নিহত সেনাসদস্যদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ভারত সরকার।

News জুন ৩০, ২০২৬ 0
আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, আমিরাতকে হুঁশিয়ারি ইরানের

ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে, আমিরাতকে হুঁশিয়ারি ইরানের

বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে জাতিসংঘের জরুরি সতর্কবার্তা: জুলাইতে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ডের আশঙ্কা

0 Comments