জাতীয়

মন্দ ধারণার সুযোগ না দেওয়া: নবীজির জীবন থেকে একটি শিক্ষা

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
মন্দ ধারণার সুযোগ না দেওয়া: নবীজির জীবন থেকে একটি শিক্ষা
মন্দ ধারণার সুযোগ না দেওয়া: নবীজির জীবন থেকে একটি শিক্ষা

মানব মনস্তত্ত্বের এক অদ্ভুত প্রবণতা হলো অনুমাননির্ভরতা। অনেক সময় বাস্তব কোনো ভিত্তি বা স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই মানুষের মনে এমন কিছু অলীক ধারণা জন্ম নেয়, যা ধীরে ধীরে ব্যক্তির চিন্তাকে বিষাক্ত করে তোলে।

এই অমূলক ধারণা যখন কথায় কিংবা আচরণে প্রকাশ পায়, তখন পারিবারিক বন্ধন থেকে শুরু করে বৃহত্তর সামাজিক সৌহার্দ্য পর্যন্ত ভেঙে পড়ে।

ইসলাম তাই শুধু মানুষকে মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি; বরং এমন সব পরিস্থিতি ও আচরণ সচেতনভাবে এড়িয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছে, যা অন্যের মনে সামান্যতম সন্দেহের বীজ বপন করতে পারে।

ইসলাম তাই শুধু মানুষকে মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি; বরং এমন সব পরিস্থিতি ও আচরণ সচেতনভাবে এড়িয়ে চলার শিক্ষা দিয়েছে, যা অন্যের মনে সামান্যতম সন্দেহের বীজ বপন করতে পারে।

অর্থাৎ নিজের দিক থেকে শতভাগ নিষ্পাপ থাকার পাশাপাশি অন্যের চোখেও যেন নিজের কর্ম বা অবস্থান নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না জন্মে—সেই সামাজিক দূরদর্শিতা নিশ্চিত করাই হলো নবীজির জীবনাদর্শ।

সব ধারণাই নিষিদ্ধ নয়; কিন্তু প্রমাণহীন নেতিবাচক ধারণা মানুষকে অন্যায়ের দিকে ধাবিত করে। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো কল্পনার ওপর ভর না করে প্রত্যক্ষ সত্যের ওপর আস্থা রাখা

কোরআনের সতর্কবার্তা

মানুষের মন সামান্য কোনো ইঙ্গিতকে অতিরঞ্জিত করে অবচেতনভাবেই পূর্ণাঙ্গ একটি কাল্পনিক দৃশ্যপট তৈরি করে ফেলে। অথচ ধর্ম ও ন্যায়ের বিচারে নিছক ধারণা কখনো অকাট্য সত্যের বিকল্প হতে পারে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ–তাআলা মুমিনদের সতর্ক করে বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাকো; নিশ্চয়ই কিছু অনুমান সুস্পষ্ট পাপ। আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান কোরো না এবং পরস্পরের পেছনে গিবত বা পরনিন্দা কোরো না...।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)

এই আয়াতে মানুষের অন্তর্জগতের এক গভীর ব্যাধির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সব ধারণাই নিষিদ্ধ নয়; কিন্তু প্রমাণহীন নেতিবাচক ধারণা মানুষকে অন্যায়ের দিকে ধাবিত করে। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো কল্পনার ওপর ভর না করে প্রত্যক্ষ সত্যের ওপর আস্থা রাখা এবং অন্যের ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করা।

সংশয়ের পথ বন্ধে নবীজির দৃষ্টান্ত

অন্যের মন থেকে মন্দ ধারণার সামান্যতম সুযোগও কীভাবে প্রজ্ঞার সঙ্গে দূর করতে হয়, রাসুল (সা.)  নিজ আচরণের মাধ্যমে তার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।

একবার রাসুল (সা.)  মসজিদে নববিতে ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন। এক রাতে সাফিয়া (রা.) নবীজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। কিছুক্ষণ আলাপের পর যখন তিনি ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য উঠলেন, তখন নবীজি  তাঁকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য সঙ্গে বের হলেন। তাঁর বাসস্থান ছিল ওসামা ইবনে জায়েদের বাড়ির কাছে।

পথিমধ্যে আনসারদের দুজন সাহাবি পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নবীজিকে এক নারীর সঙ্গে দেখে দ্রুত কদম ফেলে চলে যেতে লাগলেন। রাসুল (সা.)  নিজেই ডেকে তাঁদের বললেন, ‘তোমরা ধীরে চলো, থামো, ইনি আমার স্ত্রী সাফিয়া।’

সাহাবিরা লজ্জিত হয়ে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ, হে আল্লাহর রাসুল! (আমরা কি আপনার ব্যাপারে কোনো মন্দ চিন্তা করতে পারি?)’

তখন নবীজি (সা.) মানবচরিত্রের এক চূড়ান্ত সত্য উন্মোচন করে বললেন, ‘নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের শিরা-উপশিরায় রক্তের মতো প্রবাহিত হয়। তাই আমি আশঙ্কা করলাম, সে হয়তো তোমাদের অন্তরে কোনো খারাপ ধারণা বা বিভ্রান্তি ঢুকিয়ে দিতে পারে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৮১)

এখানে প্রণিধানযোগ্য বিষয় হলো, নবীজি (সা.) সাহাবিদের ইমান নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননি; বরং মানুষের দুর্বল মনস্তত্ত্বে শয়তান যেন কোনো কুচিন্তা ঢোকানোর সুযোগ না পায়, সে জন্য তিনি নিজ থেকেই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিলেন। একটি ভুল ধারণা জন্ম নেওয়ার আগেই তার সম্ভাব্য উৎস নির্মূল করাই ছিল এই সুন্নাহর মূল শিক্ষা।

বৈধ বিষয়েও স্বচ্ছতা বজায় রাখা

নবীজির স্ত্রী হওয়ায় সাফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করা তাঁর জন্য স্বাভাবিক ছিল। তা সত্ত্বেও নবীজি (সা.) তাঁর পরিচয় সাহাবিদের সামনে পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

ইসলামি আইনশাস্ত্রে এই ঘটনা থেকে এক মৌলিক আদব প্রণীত হয়েছে। মুসলিম শরিফে এই হাদিসের ওপর একটি স্বতন্ত্র অনুচ্ছেদ রয়েছে যে ‘কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রী বা কোনো মাহরাম নারীর সঙ্গে নির্জন বা অস্পষ্ট স্থানে থাকলে এবং তা দেখে পথচারীদের মনে কোনো বিভ্রান্তি বা সন্দেহের অবকাশ থাকলে, তাৎক্ষণিক তার পরিচয় স্পষ্ট করে দেওয়া মোস্তাহাব।’ (শারহু সহিহ মুসলিম, নববি, ১৪/১৫৭)

অর্থাৎ এমন ক্ষেত্রেড ‘আমি তো সৎ আছি, মানুষ যা ভাবে ভাবুক’—এই উদাসীনতা সুন্নতের কথা নয়; বরং আত্মমর্যাদা রক্ষা এবং সমাজকে পাপাচারী চিন্তা থেকে নিরাপদ রাখতে নিজের আচরণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও ইমানের দাবি।

মন্দ ধারণার সামাজিক ক্ষতি

মানুষ বাহ্যিকভাবে যা দেখে, তার পেছনের সত্যটুকু তার অজানা থাকতে পারে। অথচ দৃশ্যমান খণ্ডিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে রায় দিয়ে দেওয়া বড় ধরনের নৈতিক অপরাধ।

রাসুল (সা.)  কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন, ‘তোমরা ভিত্তিহীন অনুমান থেকে বেঁচে থাকো; কেননা কুধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।’

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৬৪)

কোরআনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সুরা হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে তিনটি পাপকে ক্রমানুসারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে: মন্দ ধারণা, ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করা (তাজাসসুস) এবং গিবত।

কারণ, মন্দ ধারণা থেকেই শুরু হয় অন্যের ব্যক্তিগত জীবনের খুঁত খোঁজার অপচেষ্টা, আর সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমাজে শুরু হয় পরনিন্দা ও চরিত্রহনন। তাই মন্দ ধারণার পথ শুরুতেই রুদ্ধ করতে না পারলে তা একসময় গোটা সমাজব্যবস্থায় অনাস্থা ও বিভেদের দেয়াল তৈরি করে।

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর খণ্ডিত আচরণ, পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার ভুল–বোঝাবুঝি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও একটি স্ট্যাটাস বা ছবি দেখে অতিদ্রুত নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া আজ মহামারির রূপ নিয়েছে।

এই সুন্নতের প্রয়োগ

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও দ্রুতগতির জীবনে এই সুন্নতের প্রয়োজনীয়তা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর খণ্ডিত আচরণ, পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার ভুল–বোঝাবুঝি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও একটি স্ট্যাটাস বা ছবি দেখে অতিদ্রুত নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া আজ মহামারির রূপ নিয়েছে।

এই সংকট নিরসনে দুটি করণীয় রয়েছে:

প্রথমত, অন্যের যেকোনো অস্পষ্ট আচরণকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা এবং নিশ্চিত না হয়ে কোনো মন্দ সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো।

দ্বিতীয়ত, নিজের কোনো কাজ বা বক্তব্য যদি ভুল ব্যাখ্যা বা সন্দেহের অবকাশ তৈরি করে, তবে অহংকার না করে নিজ দায়িত্বে তা স্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা।

মুমিনের ব্যক্তিত্বে তাকওয়ার পাশাপাশি এমন মনস্তাত্ত্বিক দূরদর্শিতা থাকা অপরিহার্য। নিজেকে সৎ রাখার পাশাপাশি অন্যের মনের পবিত্রতা রক্ষা করার এই সচেতন দায়িত্ববোধই পারস্পরিক আস্থা ও ভালোবাসাপূর্ণ একটি আদর্শ সমাজ নিশ্চিত করতে পারে।

  • নাহিদা সুলতানা: আলেমা ও প্রাবন্ধিক

    nahidasultana753375@gmail.com

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিতে অস্ট্রেলিয়ার ৭ অধিনায়কের চিঠি
ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিতে অস্ট্রেলিয়ার ৭ অধিনায়কের চিঠি

একের পর এক সাবেক ক্রিকেটাররা পাশে দাঁড়াচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের। এবার অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ৭ ক্রিকেটার কারাগারে বন্দি ইমরানের মানবিক উদ্বেগ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা। সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করা ৭ সাবেক অজি ক্রিকেটাররা হলেন- অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্দা ক্লার্ক, কিম হিউজেস, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে মানবিক কারণে তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। চিঠিতে ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো অবস্থান নেয়নি সাবেক অধিনায়কদের দলটি। সেটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেছেন, আটক যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা মৌলিক মানবিকতার বিষয় তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক। এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয় — ইমরানের নিজের চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে স্বাধীনভাবে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা এবং মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া। চিঠিতে ইমরানের ছেলে ও বোনদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তারা কয়েক মাস ধরে ইমরানের স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে সীমিত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ছিল ইমরানকে নিয়ে সাবেক ক্রিকেটারদের তৎপরতার সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক একই বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মঈন খানও ইমরানের বিষয়ে কথা বলেছেন। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে সাক্ষাতের অনুরোধও করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তার কাছ থেকে কোনো জবাব পাননি। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড

ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড

মিশিগানে ২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা সম্মেলন

মিশিগানে ২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা সম্মেলন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিল

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিল

একঝলক (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
একঝলক (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আমনের মাঠে চারা ধান রোপণ করছেন কৃষক। হেতালবুনিয়া, খুলনা, ১৫ সেপ্টেম্বরশজনেগাছের ডালে বসে ডানা ঝাপটে গা ঝাড়া দিচ্ছে এক জোড়া বুলবুলি। কামিলা ছড়ি, রাঙামাটি, ১৫ সেপ্টেম্বরলেবুগাছের কচি পাতায় জমেছে শিশিরের বিন্দু। তঞ্চঙ্গ্যাপাড়া, রাঙামাটি, ১৫ সেপ্টেম্বরধনেপাতার বীজ বপনের জন্য ঘোড়া দিয়ে চাষ শেষে জমিতে মই দিচ্ছেন কৃষক। ডাক্তারখানা, রংপুর, ১৫ সেপ্টেম্বরবর্ষার পানি জমে থাকা নিচু জমি থেকে শালুক তুলছেন এক নারী। মাইলাগী, ঘিওর, মানিকগঞ্জ, ১৫ সেপ্টেম্বরমাছ ধরার জালের ছেঁড়া অংশ সেলাই করছেন এই গৃহবধূ। পসরা, গেরদা, ফরিদপুর, ১৪ সেপ্টেম্বরমাঠে কাজের ফাঁকে বাড়ি থেকে আনা সকালের খাবার খাচ্ছেন কৃষক। হেতালবুনিয়া, বটিয়াঘাটা, খুলনা, ১৫ সেপ্টেম্বরশিকার শেষে কলাগাছের ওপর দাঁড়িয়ে ডানা ঝাপটাচ্ছে পানকৌড়ি। দ্বীপচর, দোগাছি, পাবনা, ১৫ সেপ্টেম্বরবাড়ির সামনে খেলনা ঢোল নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে এক শিশু। অযোধ্যাপুর, রংপুর, ১৫ সেপ্টেম্বরবিক্রির জন্য সকালে ডাঁটাশাক তুলে হাটের পথে রওনা হয়েছেন এই প্রবীণ। দ্বীপচর সেতু, দোগাছি, পাবনা, ১৫ সেপ্টেম্বর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোটের সঙ্গে বাল্কহেডের সংঘর্ষ, নিহত ২

রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোটের সঙ্গে বাল্কহেডের সংঘর্ষ, নিহত ২

আরও এক বছর পিআইবির ডিজি থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ

আরও এক বছর পিআইবির ডিজি থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ

আকিজ ফুডে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

আকিজ ফুডে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

সেপসিস: সাধারণ সংক্রমণ যখন হয়ে ওঠে জীবনসংকট
সেপসিস: সাধারণ সংক্রমণ যখন হয়ে ওঠে জীবনসংকট

একজন প্রবীণ রোগীর কয়েক দিন ধরে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও সামান্য জ্বর ছিল। পরিবারের সবাই ভেবেছিলেন, এটি সাধারণ প্রস্রাবের সংক্রমণ—ওষুধ খেলেই ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এক রাতে তিনি হঠাৎ এলোমেলো কথা বলতে শুরু করলেন। শ্বাস দ্রুত হয়ে গেল, শরীর ঠান্ডা ও ঘামযুক্ত মনে হলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা গেল, তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা বিরল নয়। সংক্রমণকে আমরা অনেক সময় ছোট সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়াই এত তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে যে শরীর নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে। এই জীবনসংকটপূর্ণ অবস্থার নাম সেপসিস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ সেপসিসে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এর বোঝা বেশি। অথচ দ্রুত লক্ষণ শনাক্ত করে জরুরি চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। সেপসিস কি শুধু রক্তে জীবাণু? অনেকে সেপসিসকে “রক্তে জীবাণু” বা “রক্তে বিষক্রিয়া” বলে থাকেন। কিন্তু বিষয়টি আরও বিস্তৃত। সেপসিসে জীবাণুর পাশাপাশি সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিক্রিয়ায় রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, কিডনি ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। নিউমোনিয়া, প্রস্রাবের সংক্রমণ, পেটের ভেতরের সংক্রমণ, পিত্তনালির সংক্রমণ, ত্বক বা ক্ষতের সংক্রমণ—এসব থেকে সেপসিস হতে পারে। অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও কখনো গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবী—বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে সেপসিস সৃষ্টি হতে পারে। তাই সেপসিস মানেই যে একটি নির্দিষ্ট জীবাণু বা রোগ, তা নয়। কোন লক্ষণগুলো বিপদের সংকেত? সেপসিসের শুরু সব সময় একই রকম হয় না। কারও প্রচণ্ড জ্বর হতে পারে, আবার প্রবীণ বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন রোগীর জ্বর নাও থাকতে পারে। কয়েকটি লক্ষণ বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে— * হঠাৎ বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া বা অসংলগ্ন কথা বলা* শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা অস্বাভাবিক দ্রুত শ্বাস নেওয়া* হৃদ্‌স্পন্দন খুব দ্রুত হওয়া বা নাড়ি দুর্বল মনে হওয়া* জ্বর, প্রচণ্ড কাঁপুনি অথবা অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগা* ত্বক ঠান্ডা, ফ্যাকাশে, ঘামযুক্ত বা ছোপছোপ হয়ে যাওয়া* প্রচণ্ড ব্যথা বা এমন অসুস্থ বোধ করা, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি* প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া* অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঘুমঘুম ভাব বা জাগাতে কষ্ট হওয়া একটি লক্ষণ দেখলেই যে সেপসিস হয়েছে, তা বলা যায় না। তবে কারও সংক্রমণ আছে বা সম্প্রতি সংক্রমণ হয়েছে এবং তার সঙ্গে এ ধরনের দ্রুত অবনতি দেখা দিলে সেপসিসের কথা ভাবতে হবে। কারা বেশি ঝুঁকিতে? সেপসিস যে কারও হতে পারে। তবে নবজাতক ও ছোট শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী ও সদ্য সন্তান প্রসবকারী নারী, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি-লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ঝুঁকি বেশি। যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যাঁদের শরীরে ক্যাথেটার বা অন্য কোনো চিকিৎসা-যন্ত্র রয়েছে এবং যাঁরা সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা বড় অস্ত্রোপচার করিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পরিবারের করণীয় কী? সেপসিস ঘরে বসে চিকিৎসা করার রোগ নয়। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে—কোথায় সংক্রমণ ছিল, কখন থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে এবং রোগীর আচরণ, শ্বাসপ্রশ্বাস বা প্রস্রাবের পরিমাণে কী পরিবর্তন এসেছে। প্রয়োজনে একটি সরল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা যায়—“রোগীর সংক্রমণ আছে। এটি কি সেপসিস হতে পারে?” হাসপাতালে চিকিৎসকেরা রোগীর রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস, অক্সিজেনের মাত্রা, রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস অনুযায়ী দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য চিকিৎসা, শিরায় তরল এবং প্রয়োজনে অক্সিজেন ও নিবিড় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে হাসপাতালে যেতে দেরি করা উচিত নয়। আবার ভাইরাসজনিত সাধারণ রোগে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াও সঠিক নয়। অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জীবাণুর ওষুধপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতের গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলতে পারে। সেপসিস কি প্রতিরোধ করা যায়? সব সেপসিস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো যায়। সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা, কাটা বা ক্ষত পরিষ্কার ও ঢেকে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক নির্ধারিত নিয়মে গ্রহণ করতে হবে। কোনো সংক্রমণ চিকিৎসার পরও উন্নতি না হলে বা নতুন করে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত পুনরায় চিকিৎসা নিতে হবে। সেপসিসে সময় অত্যন্ত মূল্যবান। রোগীর অবস্থা দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই সচেতনতার মূল কথা আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং বিপদের লক্ষণগুলো চিনে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। একটি সাধারণ সংক্রমণের সঙ্গে যদি রোগীর আচরণ, শ্বাসপ্রশ্বাস বা সামগ্রিক অবস্থার হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে, অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা নিন এবং প্রশ্ন করুন—“এটি কি সেপসিস হতে পারে?” এই একটি প্রশ্ন কখনো একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। লেখক: কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট, অরল্যান্ডো হেলথ, ফ্লোরিডা শিক্ষক, গবেষক, লেখক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসক। এইচআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

জাপানি নারীদের মতো সুন্দর চুল পেতে যা করবেন

জাপানি নারীদের মতো সুন্দর চুল পেতে যা করবেন

ইসলাম গ্রহণের ৯০০ বছর উপলক্ষে মালদ্বীপে বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ

ইসলাম গ্রহণের ৯০০ বছর উপলক্ষে মালদ্বীপে বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ

0 Comments