আরও এক বছর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক (ডিজি) থাকছেন সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ।
‘প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আইন, ২০১৮’-এর ধারা ৯(২) অনুযায়ী তাকে এ নিয়োগ দিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে আবারও ফারুক ওয়াসিফ এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। যোগদানের তারিখ থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হবে। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দিয়ে নির্ধারিত হবে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফারুক ওয়াসিফকে পিআইবির মহাপরিচালক নিয়োগ দেয়। তিনি সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে পরিচিত এবং নিয়োগের আগে দৈনিক সমকালের পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরএমএম/ইএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে কুলসুমা নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় শোকে কাতর তার পরিবার। একইসঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের মেয়ে মিম। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলায় আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এসময় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলে অনেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। হুড়োহুড়িতে কয়েকজন সিঁড়িতে পড়ে যান। আরও পড়ুন মমেকে আগুন: ‘পদদলিত হয়ে ছয়জন মারা যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি’ নিহত কুলসুমার মেয়ে মিম বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে তার মা ও ছোট ভাই একসঙ্গে নিচে নামার চেষ্টা করছিলেন। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে সিঁড়িতে তারা পড়ে যান। মিম বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে আমার মা ও ছোট ভাই একসঙ্গে নিচে নামার চেষ্টা করছিলেন। সিঁড়িতে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে তারা পড়ে যান। পরে আমি উঠে আমার ভাইকে টেনে তুলি। এরপর মাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে ভিড়ের মধ্যে তাকে কয়েক দফা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমার মা তখন আমাকে একবার ডাক দিয়ে বলছিলেন, ও মিমি, আমারে ধরলি না? আমি মানুষের চিপার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। পরে উঠে আমার ছোট ভাইকে তুলেছি। এরপর মাকে আনতে গেলে আমাকে দুবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।’ মিম জানান, পরে অনেক কষ্টে তার মাকে সিঁড়ির কাছ থেকে উদ্ধার করে নিচে নামানো হয়। সেখানে পানি দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। আরও পড়ুন ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, শিশুসহ ৬ জন নিহতের খবর মিমের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরও তার মাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, আমি অনেকজনকে বলেছি, একটু পানি দেন, একটু ধরেন। পরে দুজন এসে তাকে ধরে নিচে নামায়। ইমার্জেন্সিতে নেওয়ার পর অক্সিজেন দেওয়া হয়। আমি বারবার বলেছি, আমার আম্মু অসুস্থ, একটু দেখেন। তারা বলছিল দাঁড়াও, দাঁড়াও। মিমের অভিযোগ, তার মাকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে টাকা ও ফরম পূরণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আগে টাকা নাকি আগে রোগী? আমার রোগীকে তো আগে বাঁচাবে। পরে টাকা নেওয়ার দরকার হলে টাকা নিত। কিন্তু আগে বলছে, টাকা দেন, টাকা দেন। আমি তখন টাকা খুঁজছিলাম। পরে টাকা দেওয়ার পর ফরম ফিলাপ করানো হয়েছে। যদি আমার আম্মুকে সঙ্গে সঙ্গে ভালোভাবে পরীক্ষা করত, তাহলে হয়তো আজকে তাকে ফিরে পেতাম।’ এদিকে হাসপাতাল সূত্র ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন সিঁড়িতে পড়ে যান। অভিযোগ উঠেছে, ভবনের তিনটি সিঁড়ির মধ্যে মাত্র একটি সিঁড়ি খোলা ছিল। ফলে আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনেরা দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় পদদলিত হয়ে ছয়জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবীর জানান, ‘ছয়জন পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ হাসপাতালের রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে কুলসুমা নামে এক নারীর তথ্য পাওয়া যায়। পরে তার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে তারাকান্দা উপজেলার ওই নারী নিহত হন। ফুলবাড়িয়া উপজেলার শাহজাহান নামে আরেকজনের মৃত্যুর খবরও তার ছেলে নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার সময় তারা হাসপাতাল ভবনের ভেতরে ছিলেন। বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ভবনের সিঁড়িগুলো কেন বন্ধ বা তালাবদ্ধ ছিল এবং সেখানে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হবে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে পদদলিত হয়ে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি মুহূর্তে সিঁড়ি ব্যবহারের সুযোগ এবং রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের দাবি, শুধু অগ্নিকাণ্ডের কারণ নয়, আতঙ্কের মুহূর্তে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তী চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হোক। এদিকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জাগো নিউজকে বলেন, গতকালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান ভূঁইয়াকে। তিনি নিজে সদস্যসচিবের দায়িত্বে আছেন। কমিটিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দুজন এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন প্রতিনিধি রয়েছেন। তিনি বলেন, লিফটে আগুন লাগার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তদন্ত কমিটি আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখবে। ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, থাকলে তা চিহ্নিত করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে। তদন্তে অন্য কোনো বিষয় উঠে এলে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। হোসাইন সুলভ/এফএ
কোথাও জমে থাকা পানিতে পাট জাগ দেওয়া হচ্ছে, কোথাও কোমরসমান পানিতে নেমে পাটের আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে। আবার কোথাও গ্রামের পিচঢালা সড়কের ওপর সারি করে ভেজা পাটের সোনালি আঁশ শুকাতে দেওয়া হয়েছে। রোদের তাপে শুকিয়ে ওঠা আঁশগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সাতক্ষীরা সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলার গ্রামে গেলে এমন দৃশ্য চোখে পড়বে।পাট কাটার পর ১৫ থেকে ২০ দিন পানিতে জাগ দিয়ে রাখলে আঁশ ছাড়ানোর উপযোগী হয়। বেশির ভাগ কৃষক এখন পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও পাটকাঠি বড় বড় আঁটি করে খাড়াভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আবার কোথাও ভ্যানগাড়িতে পাটের বোঝা তুলে বাজারের দিকে যাচ্ছেন কৃষকেরা।সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের পাশে তুজলপুর এলাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে পাটের আঁটি বাঁধছিলেন কৃষক মোহাম্মদ আবদুল করিম। তিনি বলেন, ১৮ দিন পানিতে জাগ দিয়ে রেখেছিলেন পাট। তিন-চার দিন হলো পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়েছেন। এখন আঁটি বেঁধে শুকাচ্ছেন। ধান কাটার পর জমিতে পাট লাগিয়েছিলেন। খরচ বাদ দিয়ে এবার ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।মো. সাইফুল ইসলাম, উপপরিচালক, সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরএবার জেলায় পাটের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। এখনো কয়েকটি এলাকায় পাট কাটা চলছে।সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর ১১ হাজার ৬০৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ৬৮ হেক্টর। এসব জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার বেল (গাঁট বা বান্ডিল) পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বেলে প্রায় ১৮২ কেজি পাট থাকে।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলো বলেন, এবার জেলায় পাটের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। এখনো কয়েকটি এলাকায় পাট কাটা চলছে। কৃষকেরা প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৫ মণ ফলনের কথা জানিয়েছেন। পাটের পাতা মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায় এবং আঁশ ও পাটকাঠি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে জেলায় পাটভিত্তিক কোনো শিল্প না থাকায় উৎপাদিত পাট স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি জেলার বাইরেও বিক্রি হয়।গতকাল সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাঠি এলাকায় এক নারীকে পাটের আঁশ শুকানোর জন্য সড়কের ওপর মেলে দিতে দেখা যায়। ২০ দিন পানিতে জাগ দেওয়ার পর আঁশ ছাড়িয়ে এখন তা শুকাচ্ছেন তিনি।একই সড়কের পাশে বিলের পানিতে বসে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিলেন তিনজন কৃষক। তাঁদের একজন আসাদুল সরদার। তিনি বলেন, ১১ শতক জমিতে পাট চাষ করতে বাজার থেকে ৩০০ গ্রাম বীজ কিনে বুনেছিলেন। প্রায় দুই মণ পাট হয়েছে। পাটকাঠিও পেয়েছেন। প্রতি আঁটি পাটকাঠি ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।সাতক্ষীরার সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলার সাতজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটখেতে রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম ছিল। সাধারণত পাটে ছত্রাকজনিত গোড়া পচা, পাতা শুকিয়ে যাওয়া ও বিছা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এবার এসব রোগবালাই তুলনামূলক কম হয়েছে।আবুল হোসেন, কৃষক আমি প্রতিবছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করি। গত বছর ২৫ মণ পাট পেয়েছিলাম। এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রায় ৩০ মণ পাট হবে বলে আশা করছি।গত রোববার কলারোয়া উপজেলার ঝাপাঘাট গ্রামের সড়কের পাশে একটি ডোবার পাড়ে বসে পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছিলেন কৃষক কিবরিয়া সরদার। তিনি বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেন। ৩৪ আঁটি পাটকাঠি হয়েছে। আর পাট হবে আড়াই থেকে তিন মণ। সব মিলিয়ে চাষ ও পাট ধোয়া বাবদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পাট ও পাটকাঠি বিক্রি করে এবার লাভ থাকবে।গত বছর রোগবালাই বেশি ছিল, বারবার পাটখেতে কীটনাশক দিতে হয়েছে বলে জানান তালা উপজেলার ইসলামকাটি এলাকার কৃষক আকবার আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে পাটের দামও ভালো।পাট ছাড়ানোর পর পাটের আঁশ শুকাতে দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পাটকাঠিগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন কৃষকেরা। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাঠি এলাকায় একই কথা বলেছেন কলারোয়ার হেলাতলা এলাকার কৃষক আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিবছর দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করি। গত বছর ২৫ মণ পাট পেয়েছিলাম। এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রায় ৩০ মণ পাট হবে বলে আশা করছি।’কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ দাম নিয়ে কৃষকেরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। গত বছরও পাটের দাম কাছাকাছি ছিল। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। আর মৌসুমের শেষের দিকে ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সালেহ্ মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ বলেন, সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকায় পাটের বড় বাজার আছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনছেন। এখন কৃষকেরা বিভিন্ন মাধ্যমে বাজারদর জানতে পারেন।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মুঠোফোনের অবস্থান ও কলের বিস্তারিত তথ্য অর্থের বিনিময়ে সরবরাহের অভিযোগে সেতু হোসেন (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার ভোরে রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানার মাহিষবাথান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।র্যাবের ভাষ্য, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ পুলিশের ক্রাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিডিএমএস) সার্ভারে বেআইনিভাবে প্রবেশ করতেন সেতু। সেখান থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও অর্থের বিনিময়ে অন্যদের কাছে সরবরাহ করতেন তিনি।গতকাল সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সেতুকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের সিপিএসসি ও সিপিসি-৩, জয়পুরহাটের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান চালান।গতকাল রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, অভিযানে ছয়টি সিপিইউ, চারটি ল্যাপটপ, ১০টি মুঠোফোন ও ৩১টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম দিয়ে সাইবার অপরাধের কার্যক্রম চালানো হতো বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেতু হোসেন নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।র্যাবের দাবি, বিভিন্ন মুঠোফোন সিমের এনআইডি-সংক্রান্ত তথ্য, বিকাশ ও নগদে নিবন্ধনের তথ্য, মুঠোফোনের অবস্থান, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং খুদে বার্তার (এসএমএস) তালিকা সংগ্রহ করা হতো। পরে এসব তথ্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করার অভিযোগ আছে।র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেতু হোসেন নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।পরে সেতু হোসেনকে রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আজ মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।