জাতীয়

গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মে জড়িত এই আমলারা, জানতে চাইলে জবাব, ‘আমি একা করি নাকি’

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মে জড়িত এই আমলারা, জানতে চাইলে জবাব, ‘আমি একা করি নাকি’
গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মে জড়িত এই আমলারা, জানতে চাইলে জবাব, ‘আমি একা করি নাকি’

চার বছর আগে সরকারের কাছ থেকে বিনা সুদে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মনিরুল ইসলাম। গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ৫০ হাজার টাকা সরকারি ভাতাও পান তিনি।

সরকারের দেওয়া বিনা সুদের ঋণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা দিয়ে যে গাড়ি চলে, সেটার বদলে মনিরুল ব্যবহার করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি স্পোর্ট ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি, যা জিপ নামে পরিচিত)। গাড়িটির চালক সরকারি। জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচও মেটায় সরকার।

মনিরুল ইসলাম যে এসইউভি ব্যবহার করেন, সেটা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ’ নামের একটি প্রকল্পের। এ রকম প্রকল্পের নামে গাড়ি কিনে তা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য দেয় এলজিইডি। এ তালিকায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের কিছু কর্মকর্তা।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ও বগুড়া সিটি করপোরেশনও গাড়ি নিয়েছে এলজিইডি থেকে। এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এলজিইডির একটি গাড়ি ব্যবহার করে।

এ তালিকায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশনের কিছু কর্মকর্তা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তারা বলেছেন, এটা তাঁরা একা করেন না। যদিও নিয়ম বলছে, প্রকল্পের গাড়ি শুধু প্রকল্পেই ব্যবহার করতে হবে এবং প্রকল্প শেষে তা পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা এলজিইডি। পরিকল্পনা কমিশনে এলজিইডির প্রকল্প পাস করাতে হয়। দুদক দুর্নীতি দমনে কাজ করে। এসব সংস্থার কর্মকর্তারা যখন এলজিইডির গাড়ি ব্যবহার করেন, তখন পরস্পরকে সুবিধা ও সুরক্ষা দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এটা যোগসাজশমূলক অনিয়ম। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এলজিইডি যেমন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে, তেমনি যাঁরা গাড়ি ব্যবহার করছেন, তাঁরাও নিয়ম মানছেন না। তিনি বলেন, এলজিইডি বিপুল সম্পদ ব্যবহার করে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও বেশি। এমন একটি সংস্থার কর্মকর্তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য অন্য সংস্থাকে গাড়ি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন, এটা ভাবা অমূলক নয়।

অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তারা বলেছেন, এটা তাঁরা একা করেন না। যদিও নিয়ম বলছে, প্রকল্পের গাড়ি শুধু প্রকল্পেই ব্যবহার করতে হবে এবং প্রকল্প শেষে তা পরিবহন পুলে জমা দিতে হবে।

কত গাড়ি

এলজিইডি গ্রামীণ অবকাঠামো, তথা রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, হাটবাজার ইত্যাদি উন্নয়নে কাজ করে। পরিকল্পনা কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এলজিইডির হাতে প্রকল্প রয়েছে ১১৯টি।

বাংলাদেশে প্রকল্পে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গাড়ি কেনা হয়। এলজিইডিও প্রকল্পে শত শত গাড়ি কিনেছে। তাদের কাছে প্রকল্পের কত গাড়ি আছে, তা জানা সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তারা কিছুতেই সে তথ্য দিতে রাজি নন। তবে ২৬১টি গাড়ির একটি তালিকা পাওয়া গেছে। সে তালিকায় কারা এসব গাড়ি ব্যবহারের করেন, তা উল্লেখ রয়েছে।

তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৬১টি গাড়ির মধ্যে ২১১টি এসইউভি, ৪১টি ডাবল কেবিন পিকআপ এবং ৯টি কার।

৫৯ গাড়ি অন্যদের দিয়েছে এলজিইডি

প্রথম আলোর কাছে আসা তালিকায় দেখা যায়, ২৬১টি গাড়ির মধ্যে ২১১টি এলজিইডির কর্মকর্তারা চালান। তাদের অনেকেই গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকারভুক্ত নন। ৫৯টি গাড়ি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দিয়েছে এলজিইডি।

সবচেয়ে বেশি ২৬টি গাড়ি রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে রয়েছে আরও ৮টি। মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগ মিলিয়ে সংখ্যাটি ৩৪।

পরিকল্পনা কমিশনে ১০টি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৬টি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ৩টি, প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩টি, বগুড়া সিটি করপোরেশনে ২টি এবং দুদকে একটি গাড়ি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি গাড়ি পরিবহন পুলে ‘স্ট্যান্ডবাই’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তালিকায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, তাঁদের দপ্তর ও নিরাপত্তার জন্য গাড়ি বরাদ্দ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ছয়টি গাড়ির ব্যবহারকারী হিসেবে প্রসিকিউটর লেখা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রসিকিউটররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। নিরাপত্তার জন্য তাঁদের গাড়িতে চলাচল প্রয়োজন। এ কারণে সরকারি সংস্থার কাছ থেকে গাড়ি আনা হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহারকারীদের তালিকায় সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব থেকে শুরু করে উপসচিব ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের ক্ষেত্রেও সদস্য, বিভাগীয় প্রধান, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে এলজিইডির গাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি গাড়ি পরিবহন পুলে ‘স্ট্যান্ডবাই’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তালিকায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, তাঁদের দপ্তর ও নিরাপত্তার জন্য গাড়ি বরাদ্দ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ছয়টি গাড়ির ব্যবহারকারী হিসেবে প্রসিকিউটর লেখা হয়েছে।

এলজিইডির যেসব গাড়ি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থায় দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কীভাবে দেওয়া হয়েছে, চালক, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বছরে কত টাকা খরচ হচ্ছে এবং গাড়িগুলো ফেরত আনার কোনো উদ্যোগ আছে কি না—এসব বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পরিকল্পনা কমিশন ও দুদকে গাড়ি দেওয়া হয়েছে কি না, সেটা তিনি বলতে পারছেন না। তবে মন্ত্রণালয়ে তাঁদের কাজের সঙ্গে যাঁরা সম্পৃক্ত, তাঁরা এলজিইডির গাড়ি ব্যবহার করেন।

প্রকল্পের গাড়ি প্রকল্পের বাইরের কেউ ব্যবহার করতে পারেন কি না, জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর বেলাল হোসেন দেননি। তিনি বলেন, কাজের প্রয়োজনে যখন যেখানে দরকার সেখানে এলজিইডির গাড়ি দেওয়া হয়েছে।

গাড়ি নিয়ে এই অনিয়ম নতুন নয়। সাবেক স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে তিনটি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। তখন তিনি সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, একটি গাড়ি তিনি ব্যবহার করেন এবং একটি তাঁর পরিবার ব্যবহার করে। একটি থাকে বিকল্প হিসেবে। তিনি বলেন, তাঁর আগের সচিবও তিনটি গাড়িই ব্যবহার করতেন।

হেলালুদ্দীন এখন কারাগারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেই সেটা বৈধ হয় না।

স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহারকারীদের তালিকায় সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব থেকে শুরু করে উপসচিব ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের ক্ষেত্রেও সদস্য, বিভাগীয় প্রধান, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে এলজিইডির গাড়ি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

দুই গাড়ি ব্যবহার

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে ৩৫ জন কর্মকর্তার নাম পাওয়া গেছে, যাঁরা সরকারের বিনা সুদের ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন এবং মাসে মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা নেন; তবে এলজিইডির গাড়িও ব্যবহার করেন।

‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিবদের জন্য বিনা সুদে গাড়ি কেনার ঋণ দেওয়া শুরু করে সরকার। তখন বলা হয়েছিল, সরকারি গাড়ির প্রাধিকার পাওয়া কর্মকর্তাদের পরিবহন পুল থেকে গাড়ি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবেই সুদমুক্ত ঋণ ও ভাতা–সুবিধা চালু করা হয়।

তখন এ বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করে বলা হয়, কর্মকর্তারা বিনা সুদে ঋণ পাবেন ৩০ লাখ টাকা। নেওয়া হবে শুধু ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ। ঋণগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কোনো কর্মকর্তা যদি আট বছর ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধা (ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতি) পান, তাহলে তাঁকে শেষ পর্যন্ত পরিশোধ করতে হয় ১৩ লাখ টাকার মতো। এতে মাসে কিস্তি আসে ১১ হাজার টাকার আশপাশে।

অন্যদিকে সরকার গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাসে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়। ব্যবহারকারীরা বলছেন, ঢাকায় চলাচল করলে একজন কর্মকর্তার গাড়ি ঋণের কিস্তি, চালকের বেতন ও জ্বালানি খরচ হয়ে যায় সরকারের দেওয়া রক্ষণাবেক্ষণের অর্থে। অর্থ মন্ত্রণালয় গত ৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ–সুবিধা ৫০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে বলেছিল। তবে কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে ১৬ জুলাই উদ্যোগটি বাতিল হয়।

প্রথম আলোর হাতে থাকা গত ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাবে, বিনা সুদের গাড়িঋণ নিয়েছেন ২ হাজার ৩৫৭ জন কর্মকর্তা। গত ২ এপ্রিল বিএনপি সরকার গাড়িঋণ দেওয়া স্থগিত করে।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে ৩৫ জন কর্মকর্তার নাম পাওয়া গেছে, যাঁরা সরকারের বিনা সুদের ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন এবং মাসে মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা নেন; তবে এলজিইডির গাড়িও ব্যবহার করেন।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নেননি

এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকারের নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আবদুল মঈন খানকে একটি গাড়ি দিতে চেয়েছিল সংস্থাটি। তবে মঈন খান তা নেননি। তিনি সরকারের পরিবহন পুলের গাড়ি ব্যবহার করেন। স্থানীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও এলজিইডির প্রকল্পের গাড়ি নেননি।

অবশ্য প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মো. তাসনিমুজ্জামান ও সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) তৌহিদুল ইসলাম এলজিইডির গাড়ি নিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সচিবের একান্ত সচিব জিসান বিন মাজেদ, অতিরিক্ত সচিব আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সচিব পরিমল সরকার, খলিলুর রহমান, আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ ও কাজী আনোয়ার ইমাম, উপসচিব সুলতানা আক্তার, আশফিকুন নাহার, তৌকির হোসাইন, হেলেনা পারভিন, রবিউল ইসলাম (পরে যুগ্ম সচিব হয়েছেন), আরিফুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান ব্যবহার করেন এলজিইডির গাড়ি।

এলজিইডি সূত্র বলছে, ৫৯টি গাড়ির সব কটিই প্রকল্পের। এলজিইডির প্রকল্পের গাড়ি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।

বিনা সুদে গাড়ি নেওয়ার পর আরেকটি গাড়ি কেন ব্যবহার করতে হচ্ছে—এমন প্রশ্নে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শুধু স্থানীয় সরকার বিভাগ নয়, অন্যরাও (মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা) গাড়ি ব্যবহার করেন। তাঁকে যে গাড়ি দেওয়া হয়েছে, সেটা ফিক্সড (নির্ধারিত) নয়। মাঝেমধ্যে ব্যবহার করেন। বিনা সুদে যে গাড়ি নিয়েছেন, সেটি তিনি নিজে মাঝেমধ্যে ব্যবহার করেন, পরিবারের সদস্যরাও ব্যবহার করেন।

এলজিইডির গাড়ি ব্যবহার করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানও। তিনিও বিনা সুদে সরকারি ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন, মাসে মাসে রক্ষণাবেক্ষণ ভাতাও নিচ্ছেন। একই সঙ্গে দুটি গাড়ি ব্যবহার প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

এলজিইডি সূত্র বলছে, ৫৯টি গাড়ির সব কটিই প্রকল্পের। এলজিইডির প্রকল্পের গাড়ি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।

পরিকল্পনা কমিশনে ১০ গাড়ি

সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের কাজ হলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যেসব প্রকল্প নেয়, সেগুলো পর্যালোচনা করা এবং অনুমোদনের প্রক্রিয়া করা। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্প আটকে দিতে পারে। প্রকল্প পাস করাতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সেই পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের ১০টি গাড়ি দিয়েছে এলজিইডি। এর মধ্যে ৯টি গাড়ি ৯ জন কর্মকর্তা চালান। একটি থাকে ‘স্ট্যান্ডবাই’, অর্থাৎ যখন যার প্রয়োজন হয়, তিনি ব্যবহার করেন।

এলজিইডির গাড়ি ব্যবহার করা পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা হলেন কমিশনের সদস্য নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া ও মাহমুদুল হোসাইন খান, বিভাগীয় প্রধান কবির আহামদ, বাবুল মিঞা ও মো. আশরাফুজ্জামান, যুগ্ম সচিব মোছা. আনার কলি এবং উপপ্রধান শাহ মো. হেলাল উদ্দিন।

পরিকল্পনা কমিশনের বিভাগীয় প্রধান কবির আহামদ ব্যবহার করেন ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৮-৩৫৭১ নম্বর গাড়ি। অন্য একটি সংস্থার গাড়ি অফিসে যাতায়াত বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার কতটা যৌক্তিক—৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে এমন প্রশ্নে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রজেক্ট দেখি, প্রজেক্টের কাজের জন্য নিয়ে যাই, এটা প্রজেক্টের কাজেই ব্যবহার করি।’

পরিকল্পনা কমিশন যেহেতু বিভিন্ন সংস্থার প্রকল্প যাচাই ও তদারকি করে, সেই সংস্থারই গাড়ি ব্যবহার স্বার্থের সংঘাত কি না, জানতে চাইলে কবির আহামদ বলেন, ‘আমরা শুধু প্রোজেক্টে যাওয়ার জন্য গাড়ি ব্যবহার করি।’

সেই পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের ১০টি গাড়ি দিয়েছে এলজিইডি। এর মধ্যে ৯টি গাড়ি ৯ জন কর্মকর্তা চালান। একটি থাকে ‘স্ট্যান্ডবাই’, অর্থাৎ যখন যার প্রয়োজন হয়, তিনি ব্যবহার করেন।

এই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পর পরিকল্পনা কমিশনের পার্কিং এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কমিশনের ভেতরে ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৮-৩৫৭১ নম্বর গাড়িটি রাখা। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই গাড়িতেই কবির আহামদ নিয়মিত অফিসে আসা-যাওয়া করেন।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান মো. বাবুল মিঞাও এলজিইডির গাড়ি ব্যবহার করেন। তাঁর কার্যালয় কমিশনের ১৭ নম্বর ভবনে। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার আগে ভবনের সামনেই ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৮-২৮০১ নম্বর এলজিইডির গাড়িটি পার্ক করা দেখা যায়।

জানতে চাইলে বাবুল মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা অফিশিয়াল কাজে ব্যবহার করা হয়। অফিশিয়াল কাজের বাইরে ব্যবহার করা হয় না।’ প্রকল্পের গাড়ি এভাবে ব্যবহার করা যায় কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি একা তো ব্যবহার করছি না।’

প্রকল্প যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাই যখন সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার করেন, তখন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—এ কথা তুলতেই বাবুল মিঞা বলেন, ‘আমি যদি এসে এই ব্যবস্থা চালু করতাম, তাহলে আমাকে বলতে পারতেন। আমি তো এটা চালু করিনি।’

সরকারের কাছ থেকে বিনা সুদে ঋণ নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার পরও অন্য সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করা উচিত কি না—জানতে চাইলে বাবুল মিঞা বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে তো বলতে পারেন না। এর চেয়ে বড় বড় অকাম–কুমাম আছে সেগুলো নিয়ে লেখেন।’

এলজিইডি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে অবকাঠামো নির্মাণের কাজও করে থাকে। মন্ত্রণালয়টিতে তিনটি গাড়ি ছিল, যা সম্প্রতি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

গাড়ি ফেরত আসে না

প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে এবং তা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিক দফা চিঠি দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারও চিঠি দিয়েছিল।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়িসেবা নগদায়ন নীতিমালা-২০২০-এর আওতায় গাড়ির ঋণ নেওয়া হয়েছে। গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ পুরো অর্থ (৫০ হাজার টাকা) নিচ্ছেন। আবার বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যবহার করছেন। ফলে জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অপচয়ের কারণ ঘটছে।

যদিও অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।

নিয়ম হলো, প্রকল্প শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সচল গাড়ি সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলে জমা দিতে হয়। গত পাঁচ বছরে শেষ হওয়া এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের কটি গাড়ি পরিবহন পুলে জমা দেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা থেকে গত চার বছরে মাত্র ১৮টি গাড়ি জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রকল্পের গাড়ি জমা না দিয়ে ব্যবহার করার বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সচিব এবং বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক সরকার শক্ত অবস্থান নিলেই কেবল এ অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিতে অস্ট্রেলিয়ার ৭ অধিনায়কের চিঠি
ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিতে অস্ট্রেলিয়ার ৭ অধিনায়কের চিঠি

একের পর এক সাবেক ক্রিকেটাররা পাশে দাঁড়াচ্ছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের। এবার অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ৭ ক্রিকেটার কারাগারে বন্দি ইমরানের মানবিক উদ্বেগ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা। সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করা ৭ সাবেক অজি ক্রিকেটাররা হলেন- অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্দা ক্লার্ক, কিম হিউজেস, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে মানবিক কারণে তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। চিঠিতে ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো অবস্থান নেয়নি সাবেক অধিনায়কদের দলটি। সেটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেছেন, আটক যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণ করা মৌলিক মানবিকতার বিষয় তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক। এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই চিঠিতে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয় — ইমরানের নিজের চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডকে স্বাধীনভাবে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ নিশ্চিত করা এবং মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া। চিঠিতে ইমরানের ছেলে ও বোনদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তারা কয়েক মাস ধরে ইমরানের স্বাস্থ্য ও কারাগারে তার চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে সীমিত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ছিল ইমরানকে নিয়ে সাবেক ক্রিকেটারদের তৎপরতার সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক একই বিষয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মঈন খানও ইমরানের বিষয়ে কথা বলেছেন। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে সাক্ষাতের অনুরোধও করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তার কাছ থেকে কোনো জবাব পাননি। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড

ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড

মিশিগানে ২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা সম্মেলন

মিশিগানে ২০২৮ সালের ৪২তম ফোবানা সম্মেলন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিল

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ৫টি সিঁড়ির ৪টিতেই তালা ছিল

একঝলক (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)
একঝলক (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

আমনের মাঠে চারা ধান রোপণ করছেন কৃষক। হেতালবুনিয়া, খুলনা, ১৫ সেপ্টেম্বরশজনেগাছের ডালে বসে ডানা ঝাপটে গা ঝাড়া দিচ্ছে এক জোড়া বুলবুলি। কামিলা ছড়ি, রাঙামাটি, ১৫ সেপ্টেম্বরলেবুগাছের কচি পাতায় জমেছে শিশিরের বিন্দু। তঞ্চঙ্গ্যাপাড়া, রাঙামাটি, ১৫ সেপ্টেম্বরধনেপাতার বীজ বপনের জন্য ঘোড়া দিয়ে চাষ শেষে জমিতে মই দিচ্ছেন কৃষক। ডাক্তারখানা, রংপুর, ১৫ সেপ্টেম্বরবর্ষার পানি জমে থাকা নিচু জমি থেকে শালুক তুলছেন এক নারী। মাইলাগী, ঘিওর, মানিকগঞ্জ, ১৫ সেপ্টেম্বরমাছ ধরার জালের ছেঁড়া অংশ সেলাই করছেন এই গৃহবধূ। পসরা, গেরদা, ফরিদপুর, ১৪ সেপ্টেম্বরমাঠে কাজের ফাঁকে বাড়ি থেকে আনা সকালের খাবার খাচ্ছেন কৃষক। হেতালবুনিয়া, বটিয়াঘাটা, খুলনা, ১৫ সেপ্টেম্বরশিকার শেষে কলাগাছের ওপর দাঁড়িয়ে ডানা ঝাপটাচ্ছে পানকৌড়ি। দ্বীপচর, দোগাছি, পাবনা, ১৫ সেপ্টেম্বরবাড়ির সামনে খেলনা ঢোল নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে এক শিশু। অযোধ্যাপুর, রংপুর, ১৫ সেপ্টেম্বরবিক্রির জন্য সকালে ডাঁটাশাক তুলে হাটের পথে রওনা হয়েছেন এই প্রবীণ। দ্বীপচর সেতু, দোগাছি, পাবনা, ১৫ সেপ্টেম্বর

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোটের সঙ্গে বাল্কহেডের সংঘর্ষ, নিহত ২

রোগী পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে স্পিডবোটের সঙ্গে বাল্কহেডের সংঘর্ষ, নিহত ২

আরও এক বছর পিআইবির ডিজি থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ

আরও এক বছর পিআইবির ডিজি থাকছেন ফারুক ওয়াসিফ

আকিজ ফুডে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

আকিজ ফুডে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

সেপসিস: সাধারণ সংক্রমণ যখন হয়ে ওঠে জীবনসংকট
সেপসিস: সাধারণ সংক্রমণ যখন হয়ে ওঠে জীবনসংকট

একজন প্রবীণ রোগীর কয়েক দিন ধরে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও সামান্য জ্বর ছিল। পরিবারের সবাই ভেবেছিলেন, এটি সাধারণ প্রস্রাবের সংক্রমণ—ওষুধ খেলেই ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু এক রাতে তিনি হঠাৎ এলোমেলো কথা বলতে শুরু করলেন। শ্বাস দ্রুত হয়ে গেল, শরীর ঠান্ডা ও ঘামযুক্ত মনে হলো। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা গেল, তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা বিরল নয়। সংক্রমণকে আমরা অনেক সময় ছোট সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়াই এত তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে যে শরীর নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে। এই জীবনসংকটপূর্ণ অবস্থার নাম সেপসিস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ সেপসিসে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এর বোঝা বেশি। অথচ দ্রুত লক্ষণ শনাক্ত করে জরুরি চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। সেপসিস কি শুধু রক্তে জীবাণু? অনেকে সেপসিসকে “রক্তে জীবাণু” বা “রক্তে বিষক্রিয়া” বলে থাকেন। কিন্তু বিষয়টি আরও বিস্তৃত। সেপসিসে জীবাণুর পাশাপাশি সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিক্রিয়ায় রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, কিডনি ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। নিউমোনিয়া, প্রস্রাবের সংক্রমণ, পেটের ভেতরের সংক্রমণ, পিত্তনালির সংক্রমণ, ত্বক বা ক্ষতের সংক্রমণ—এসব থেকে সেপসিস হতে পারে। অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও কখনো গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবী—বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ থেকে সেপসিস সৃষ্টি হতে পারে। তাই সেপসিস মানেই যে একটি নির্দিষ্ট জীবাণু বা রোগ, তা নয়। কোন লক্ষণগুলো বিপদের সংকেত? সেপসিসের শুরু সব সময় একই রকম হয় না। কারও প্রচণ্ড জ্বর হতে পারে, আবার প্রবীণ বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন রোগীর জ্বর নাও থাকতে পারে। কয়েকটি লক্ষণ বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে— * হঠাৎ বিভ্রান্ত হয়ে যাওয়া বা অসংলগ্ন কথা বলা* শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা অস্বাভাবিক দ্রুত শ্বাস নেওয়া* হৃদ্‌স্পন্দন খুব দ্রুত হওয়া বা নাড়ি দুর্বল মনে হওয়া* জ্বর, প্রচণ্ড কাঁপুনি অথবা অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগা* ত্বক ঠান্ডা, ফ্যাকাশে, ঘামযুক্ত বা ছোপছোপ হয়ে যাওয়া* প্রচণ্ড ব্যথা বা এমন অসুস্থ বোধ করা, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি* প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া* অতিরিক্ত দুর্বলতা, ঘুমঘুম ভাব বা জাগাতে কষ্ট হওয়া একটি লক্ষণ দেখলেই যে সেপসিস হয়েছে, তা বলা যায় না। তবে কারও সংক্রমণ আছে বা সম্প্রতি সংক্রমণ হয়েছে এবং তার সঙ্গে এ ধরনের দ্রুত অবনতি দেখা দিলে সেপসিসের কথা ভাবতে হবে। কারা বেশি ঝুঁকিতে? সেপসিস যে কারও হতে পারে। তবে নবজাতক ও ছোট শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী ও সদ্য সন্তান প্রসবকারী নারী, ডায়াবেটিস বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি-লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের ঝুঁকি বেশি। যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যাঁদের শরীরে ক্যাথেটার বা অন্য কোনো চিকিৎসা-যন্ত্র রয়েছে এবং যাঁরা সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা বড় অস্ত্রোপচার করিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পরিবারের করণীয় কী? সেপসিস ঘরে বসে চিকিৎসা করার রোগ নয়। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাঁকে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে—কোথায় সংক্রমণ ছিল, কখন থেকে সমস্যা শুরু হয়েছে এবং রোগীর আচরণ, শ্বাসপ্রশ্বাস বা প্রস্রাবের পরিমাণে কী পরিবর্তন এসেছে। প্রয়োজনে একটি সরল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা যায়—“রোগীর সংক্রমণ আছে। এটি কি সেপসিস হতে পারে?” হাসপাতালে চিকিৎসকেরা রোগীর রক্তচাপ, শ্বাসপ্রশ্বাস, অক্সিজেনের মাত্রা, রক্ত ও অন্যান্য পরীক্ষা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস অনুযায়ী দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য চিকিৎসা, শিরায় তরল এবং প্রয়োজনে অক্সিজেন ও নিবিড় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করে হাসপাতালে যেতে দেরি করা উচিত নয়। আবার ভাইরাসজনিত সাধারণ রোগে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াও সঠিক নয়। অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জীবাণুর ওষুধপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতের গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলতে পারে। সেপসিস কি প্রতিরোধ করা যায়? সব সেপসিস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো যায়। সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা, কাটা বা ক্ষত পরিষ্কার ও ঢেকে রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক নির্ধারিত নিয়মে গ্রহণ করতে হবে। কোনো সংক্রমণ চিকিৎসার পরও উন্নতি না হলে বা নতুন করে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত পুনরায় চিকিৎসা নিতে হবে। সেপসিসে সময় অত্যন্ত মূল্যবান। রোগীর অবস্থা দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই সচেতনতার মূল কথা আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং বিপদের লক্ষণগুলো চিনে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। একটি সাধারণ সংক্রমণের সঙ্গে যদি রোগীর আচরণ, শ্বাসপ্রশ্বাস বা সামগ্রিক অবস্থার হঠাৎ পরিবর্তন ঘটে, অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা নিন এবং প্রশ্ন করুন—“এটি কি সেপসিস হতে পারে?” এই একটি প্রশ্ন কখনো একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। লেখক: কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট, অরল্যান্ডো হেলথ, ফ্লোরিডা শিক্ষক, গবেষক, লেখক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রশাসক। এইচআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

জাপানি নারীদের মতো সুন্দর চুল পেতে যা করবেন

জাপানি নারীদের মতো সুন্দর চুল পেতে যা করবেন

ইসলাম গ্রহণের ৯০০ বছর উপলক্ষে মালদ্বীপে বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ

ইসলাম গ্রহণের ৯০০ বছর উপলক্ষে মালদ্বীপে বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ

0 Comments