জাতীয়

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের সিঁড়ি

দেশের প্রত্যেক নাগরিকেরই আছে নিজস্ব চাহিদা, প্রত্যাশা ও অধিকার। ছোট্ট একটি গ্রামের একজন কৃষক চান ভালো রাস্তা, শিশু চায় খেলার মাঠ, নারীরা চান সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, আর একজন তরুণ চান কর্মসংস্থান। এভাবেই প্রতিটি মানুষের জীবন ঘিরে আছে নানা ধরনের প্রয়োজন ও দাবি।

গ্রামের ছোট্ট একটি ইউনিয়ন পরিষদে উচ্চারিত এসব দাবি একসময় পৌঁছে যেতে পারে উপজেলা, জেলা পেরিয়ে জাতীয় সংসদের আলোচনায়। তাহলে গণতন্ত্রের শুরুটা কোথায়—জাতীয় সংসদে, নাকি সেই গ্রামের উঠানে, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ প্রথমবার নিজের কথা বলার সুযোগ পান?

গণতন্ত্রের গল্প আমরা প্রায়ই জাতীয় নির্বাচন দিয়ে শুরু করি। ভোটের মাঠ, প্রার্থীদের প্রচারণা, নির্বাচনী ইশতেহার, ভোটকেন্দ্র, ফলাফল—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিই যেন গণতন্ত্রের প্রধান মঞ্চ। কিন্তু গণতন্ত্রের শেকড় অনেক গভীরে। সেই শেকড় ছড়িয়ে আছে গ্রামের রাস্তা, হাট-বাজার, ওয়ার্ড সভা, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ—অর্থাৎ মানুষের একেবারে কাছের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়। একজন নাগরিক রাষ্ট্রকে যতটা কাছ থেকে অনুভব করেন, তার বড় অংশই স্থানীয় পর্যায়ে।

জন্মনিবন্ধন, স্থানীয় রাস্তা, পানি, স্যানিটেশন, সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা কিংবা এলাকার উন্নয়ন—এসব বিষয়ে রাষ্ট্রের উপস্থিতি মানুষ প্রথমে অনুভব করেন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদে ওঠার পথ শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর পথ নয়; এটি হতে পারে গণতন্ত্রের একটি সিঁড়ি।

আরও পড়ুন

নেতারও ছাড় নেই, ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ঠান্ডা পানিতে চুবানো হয়!

গণতন্ত্রের প্রথম পাঠ কোথায়?

ধরা যাক, একটি গ্রামের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা। বর্ষায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। স্কুলের শিশুরা দুর্ভোগে পড়ে, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে সমস্যা হয়। একজন নাগরিক প্রথমে কোথায় যাবেন? সম্ভবত ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে গিয়ে তিনি চেয়ারম্যান বা সদস্যের কাছে সমস্যার কথা বলবেন। অন্যরাও একই দাবি তুলবেন। আলোচনা হবে, অগ্রাধিকার নির্ধারণ হবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব যাবে। এই ছোট্ট প্রক্রিয়াটিই আসলে গণতন্ত্রের একটি বাস্তব পাঠ। কারণ এখানে একজন নাগরিক জানছেন, আমার সমস্যার কথা বলার অধিকার আছে। আর জনপ্রতিনিধি বুঝতে পারছেন, আমাকে মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ

নাগরিকের সবচেয়ে কাছের দরজা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর সবচেয়ে পরিচিত প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ। জাতীয় সংসদে একজন এমপির কাছে পৌঁছানো অনেক নাগরিকের জন্য কঠিন হতে পারে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বা চেয়ারম্যান তুলনামূলকভাবে হাতের নাগালেই থাকেন। স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ সরাসরি তাদের এলাকার প্রতিনিধিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। এই নির্বাচন নাগরিককে শেখায়—কাকে ভোট দেবেন, কেন দেবেন, প্রার্থীর অতীত কী, তিনি এলাকার জন্য কী করেছেন বা করতে পারেন—এসব নিয়ে ভাবতে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের চর্চা শুরু হয় অনেকটা এখান থেকেই।

স্থানীয় সমস্যার অনেকটাই জাতীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনো ইউনিয়নে কৃষক সেচের পানি পাচ্ছেন না—এর পেছনে থাকতে পারে জাতীয় কৃষিনীতি। কোনো এলাকায় নদীভাঙন হচ্ছে—সেটি জাতীয় পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো গ্রামের তরুণ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না—সেটি দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নীতির প্রশ্ন। অর্থাৎ একটি গ্রামের সমস্যা ধীরে ধীরে জাতীয় সমস্যার অংশ হয়ে ওঠে। এখানেই স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু তৈরি হয়।

স্থানীয় মানুষ সমস্যার কথা বলেন। জনপ্রতিনিধিরা তা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক দলগুলো সেই সমস্যাকে নীতিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। জাতীয় সংসদে আইন ও বাজেটের মাধ্যমে তার সমাধানের কাঠামো তৈরি হতে পারে। এই প্রবাহটি কার্যকর হলে গণতন্ত্র হয়ে ওঠে নিচ থেকে ওপরে ওঠার একটি ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন

নাইন-ইলেভেন: মাত্র ১০২ মিনিটে বদলে যায় পৃথিবীর ইতিহাস

উপজেলা ও জেলা পরিষদ

সিঁড়ির পরের ধাপ ইউনিয়ন পরিষদের পর স্থানীয় শাসনের আরও কিছু স্তর রয়েছে। উপজেলা পরিষদ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি ইউনিয়নের সমস্যা যখন শুধু একটি গ্রামের সমস্যা থাকে না বরং একাধিক ইউনিয়নের সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়; তখন সেটি আরও বড় পরিসরের পরিকল্পনার দাবি তৈরি করে। ধরা যাক, কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ একই সড়ক ব্যবহার করেন। সেই সড়কের উন্নয়ন শুধু একটি ইউনিয়নের বিষয় নয়। একইভাবে একটি নদী, একটি বাজার, একটি হাসপাতাল বা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহু এলাকার মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

জাতীয় সংসদ

জাতীয় সংসদ দেশের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সংসদের কাজ শুধু রাজধানী বা জাতীয়, রাজনীতির খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। একজন সংসদ সদস্য যে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন; সেই এলাকার মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন-চাহিদার সঙ্গেও তার দায়িত্ব জড়িয়ে থাকে। একটি এলাকার কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, নারী, তরুণ কিংবা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সমস্যাগুলো জাতীয় নীতিতে প্রতিফলিত হওয়া দরকার। সেখানেই স্থানীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে জাতীয় গণতন্ত্রের যোগসূত্র। অর্থাৎ জাতীয় সংসদে বসা একজন প্রতিনিধি শুধু একটি আসনের মানুষ নন; তিনি বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিজের এলাকার মানুষের কণ্ঠও বহন করেন।

তবে শুধু প্রতিষ্ঠান থাকলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না। স্থানীয় সরকার যদি পর্যাপ্ত ক্ষমতা, অর্থ ও স্বাধীনতা না পায়, জনপ্রতিনিধিরা যদি কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারেন, নাগরিক অংশগ্রহণ যদি সীমিত থাকে কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষিত হয়—তাহলে গণতন্ত্রের এই সিঁড়ি দুর্বল হয়ে পড়ে।

সিঁড়ির প্রতিটি ধাপেই চাই জবাবদিহি

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ—প্রতিটি স্তরেই একটি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনগণের কাছে কে জবাবদিহি করবে? একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে তার এলাকার মানুষ প্রশ্ন করবেন। চেয়ারম্যানকে উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব দিতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্য ও সরকারকে জনগণের সামনে তাদের নীতি ও কাজের ব্যাখ্যা দিতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চক্র।

আরও পড়ুন

অভিজাত এলাকায় খেয়া নৌকা, ৫ টাকায় পারাপার

গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়; যখন একজন সাধারণ নাগরিক মনে করেন—রাষ্ট্র শুধু দূরের কোনো ক্ষমতাকেন্দ্র নয়; রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে আমারও একটি কণ্ঠ আছে। একটি ইউনিয়নের ভাঙা রাস্তা থেকে জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ, একটি গ্রামের পানির সংকট থেকে জাতীয় পানি নীতি, একজন তরুণের চাকরির দাবি থেকে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা—সবকিছুর মধ্যে একটি অদৃশ্য সুতো রয়েছে। সেই সুতোর নাম জনগণের অংশগ্রহণ। তাই গণতন্ত্রের সিঁড়ির শেষ ধাপ জাতীয় সংসদ নয়। বরং জাতীয় সংসদও সেই সিঁড়ির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো—নাগরিকের সচেতনতা। কারণ মানুষ যদি প্রশ্ন করতে না শেখে, প্রতিনিধি বাছাই করতে না শেখে, নিজের অধিকার সম্পর্কে না জানে এবং অন্যের অধিকারকে সম্মান না করে, তাহলে সবচেয়ে সুন্দর প্রতিষ্ঠানও প্রাণহীন হয়ে যেতে পারে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদে ওঠার সিঁড়ি শুধু জনপ্রতিনিধিদের ওঠার পথ নয়। এটি সাধারণ মানুষের কণ্ঠকে স্থানীয় দাবি থেকে জাতীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেওয়ার পথ। আর সেই সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ যত শক্ত হবে, তত শক্ত হবে গণতন্ত্রের পুরো ভবন।

এসইউ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রাজশাহীতে ৪৫০ কোটি টাকার পাট বাণিজ্যের সম্ভাবনা
রাজশাহীতে ৪৫০ কোটি টাকার পাট বাণিজ্যের সম্ভাবনা

পাটের মাঠে এবার যেন সোনালি সম্ভাবনার ঢেউ। অনুকূল আবহাওয়া এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় রাজশাহীতে এবার পাটের ব্যাপক ফলন ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে সাড়ে ৪ শত কোটি টাকার পাট বিক্রির আশা করছে কৃষি বিভাগ। রাজশাহীর মোহনপুর, বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, পবা, তানোর, গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘার বিস্তীর্ণ জমিতে বাম্পার ফলন হয়েছে পাটের। আর বাজারে মিলছে গত কয়েক বছরের তুলনায় স্বস্তিদায়ক দাম। বর্ষাকালের পর্যাপ্ত বৃষ্টি এবার পাটচাষিদের জন্য বাড়তি আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। পাশাপাশি জাগ দেওয়ার জন্যও মিলেছে প্রয়োজনীয় পানি। ফলে পাট কাটার পর আঁশ ছাড়ানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় ভোগান্তি কমেছে কৃষকদের। জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও পাট কেটে আঁটি বাঁধছেন কৃষক, কোথাও পানিতে জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে। আবার কোথাও বাড়ির আঙিনায় ধোয়া পাট রোদে শুকিয়ে বাজারজাতের প্রস্তুতি চলছে। কৃষকের ব্যস্ততার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জমে উঠছে স্থানীয় হাট-বাজারও। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহীর নয়টি উপজেলায় মোট ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৯ হাজার টন। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৮২ শতাংশ জমির পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ শেষ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৪৮ হাজার ২০০ টন পাট পাওয়া গেছে। বাকি জমির পাট সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শেষ হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মৌসুমে রাজশাহীতে পাটের আবাদ হয়েছিল ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ৪৮ হাজার ৬৭৭ টন। এক বছরের ব্যবধানে এবার আবাদ বেড়েছে ১ হাজার ৯৪ হেক্টর। একই সঙ্গে উৎপাদনও গত বছরের তুলনায় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলনের এ প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাজারদরের ইতিবাচক চিত্র। রাজশাহীর বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের পাটের ক্ষেত্রে দাম উঠছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে কৃষকের ঘরে যেমন বাড়ছে পাট বিক্রির টাকা, তেমনি গ্রামীণ হাট-বাজারেও বাড়ছে লেনদেন। মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভার বিশালপুর গ্রামের পাটচাষি মো. সুজন ইসলাম বলেন, গত বছর পাটের ভালো দাম না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা ছিল। এবার ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারদরও ভালো রয়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৬০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি করতে পারছেন। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও এবার ভালো লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি। ধুরইল ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল আলম দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তিনি বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় এবার পাট জাগ দেওয়া ও ধোয়ার কাজে তেমন সমস্যা হয়নি। বাজারদরও ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি। মোহনপুরের এই স্বস্তির ছবি আরও স্পষ্ট বাগমারায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার পাটের গাছ হয়েছে লম্বা ও স্বাস্থ্যবান। মাঠ থেকে পাট কেটে কৃষকরা জাগ দিচ্ছেন। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় অনেকেই আগামী মৌসুমে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। বাগমারা উপজেলার কৃষক হাফিজুর রহমান চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের পাট চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এবার গাছের বৃদ্ধি খুব ভালো হয়েছে। সময়মতো জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যও পেয়েছেন। ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করেছেন তিনি। এতে আগের তুলনায় মণে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি পেয়েছেন। তাই আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা করছেন। দুর্গাপুরে এবার পাটের মাঠে স্বস্তি থাকলেও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা বাড়তি খরচের কথা বলছেন কৃষকরা। একই সময়ে ব্যাপক পরিমাণ পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর কারণে শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি। লোডশেডিং ও সার সংকটও উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। তবে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখছেন তারা। দুর্গাপুরের কৃষক শাহীন আলম বলেন, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে জাগ দেওয়ার পানিরও সমস্যা হয়নি। তবে একসঙ্গে সবাই পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ শুরু করায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে এবং মজুরিও বেড়েছে। লোডশেডিং ও সার সংকটের কারণে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তারপরও ভালো দাম পাওয়ায় লাভ হয়েছে। পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘার কৃষকদের মাঠেও একই চিত্র। অন্যদিকে তানোর, গোদাগাড়ী ও পবার অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতেও পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল বৃষ্টি ও কৃষকদের পরিচর্যায় এসব এলাকার জমিতেও ফলন ভালো হয়েছে। ফলে জেলার প্রায় সব এলাকাতেই পাট নিয়ে কৃষকের প্রত্যাশা বেড়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মিতা সরকার বলেন, ‘সরকারি প্রণোদনা, সময়মতো উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার রাজশাহীতে পাটের আবাদ ও উৎপাদন বেড়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরাও পাট চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে হিসাব করলে চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার পাট বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।’ পাট অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক নাদিম আক্তার বলেন, ‘চলতি বছর জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৬৯৬ কুইন্টাল পাট উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন প্রায় ২১ হাজার কুইন্টাল বেশি হতে পারে। বর্তমানে কোনো কোনো এলাকায় প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, ‘বাংলাদেশ একসময় পাটের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে পাটের ব্যবহার ও গুরুত্ব কিছুটা কমে এসেছে। একসময় পাট দিয়ে নানা ধরনের পণ্য তৈরি ও ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে এর ব্যবহার অনেকটাই সীমিত। পাটের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে পাট আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাটজাত পণ্যের নতুন বাজার তৈরি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া গেলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। মনির হোসেন মাহিন/কেজে/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে প্রতিশোধের সম্পর্ক নেই, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই

মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে প্রতিশোধের সম্পর্ক নেই, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই

অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান: দুই সপ্তাহে ৬২৩ অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন

অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান: দুই সপ্তাহে ৬২৩ অবৈধ বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন

মমেক হাসপাতালে পদদলিত হয়ে নিহত কুলসুমার বাড়িতে শোকের মাতম

মমেক হাসপাতালে পদদলিত হয়ে নিহত কুলসুমার বাড়িতে শোকের মাতম

মাটিতে খেললেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, যা বলছে গবেষণা
মাটিতে খেললেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে, যা বলছে গবেষণা

শহরের জীবনে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ দিন দিন কমে আসছে। কংক্রিটের ভবন, ব্যস্ত রাস্তা আর চার দেয়ালের মধ্যে বড় হচ্ছে অনেক শিশু। ফলে মাটি, ঘাস, গাছপালা কিংবা বনজ পরিবেশের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগাযোগও কমে যাচ্ছে। তবে গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রকৃতির সঙ্গে এই যোগাযোগ শুধু মন ভালো রাখা বা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাটি ও গাছপালার সংস্পর্শে এলে ত্বকে বসবাসকারী অণুজীবের বৈচিত্র্যও বাড়তে পারে। বাগান করার সময় হাতে মাটি লাগা, গাছের ছাল স্পর্শ করা কিংবা ঘাসের ওপর খেলাধুলা-এসব স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক অণুজীবের সংস্পর্শে আসে। ত্বকে থাকা অণুজীবের ভারসাম্যের ওপর এই সংস্পর্শের কোনো প্রভাব পড়ে কি না এবং এর সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাত্র ২০ সেকেন্ডের মাটির সংস্পর্শ ফিনল্যান্ডের গবেষকদের পরিচালিত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ২০ সেকেন্ড ধরে মাটি, পিট ও শ্যাওলা ঘষতে বলা হয়েছিল। এরপর গবেষকরা তাদের ত্বক পরীক্ষা করে অণুজীবের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির বিষয়টি লক্ষ্য করেন। কলের পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরও এই পরিবর্তনের কিছুটা রেশ দেখা গিয়েছিল। ফিনল্যান্ডের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ গ্রোনরুস বলেছেন, এই পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ২০ সেকেন্ড প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার ফলে ত্বকের অণুজীবে স্থায়ী পরিবর্তন তৈরি হয়নি। তাই গবেষকদের ধারণা, একবারের অল্প সময়ের সংস্পর্শের চেয়ে নিয়মিতভাবে দীর্ঘ সময় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ত্বকে সব জীবাণুই ক্ষতিকর নয় ত্বকে ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য অণুজীবের উপস্থিতি দেখলেই সেটিকে ক্ষতিকর মনে করার কারণ নেই। ত্বকে বিভিন্ন ধরনের অণুজীব স্বাভাবিকভাবেই বসবাস করে। তাদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকলে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে সম্ভাব্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগ কমে যেতে পারে। বনভূমির মতো পরিবেশে শিশুদের খেলা শিশুদের ওপর প্রকৃতির প্রভাব বোঝার জন্য ফিনল্যান্ডে আরও গবেষণা হয়েছে। মধ্য ফিনল্যান্ডের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের জন্য বন-জঙ্গলের মতো পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে শিশুরা দিনের বেশ কয়েক ঘণ্টা গাছে চড়া, মাটি ও কাঠ নিয়ে খেলা, বালির দুর্গ তৈরি এবং বিভিন্ন গাছপালার সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেত। গবেষকরা শিশুদের ত্বক, লালা ও মলের পাশাপাশি রক্ত ও চুলের নমুনাও সংগ্রহ করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকার সঙ্গে শিশুদের অণুজীব সমষ্টি বা মাইক্রোবায়োম এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২৮ দিনের খেলায় কী পরিবর্তন দেখা গেল? ২০১৬ ও ২০১৭ সালের একটি পূর্ববর্তী গবেষণায় ডে-কেয়ারের খেলার মাঠে পিট এবং গাছ লাগানোর বাক্সসহ বনভূমির মতো বিভিন্ন উপাদান যুক্ত করা হয়েছিল। শিশুরা সেখানে ২৮ দিন নিয়মিত খেলাধুলা করার পর তাদের ত্বক, লালা ও অন্ত্রে অণুজীবের বৈচিত্র্য তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। পাকা বা নুড়িপাথর বিছানো খেলার মাঠে খেলা করা শিশুদের সঙ্গে তুলনা করেই এই পার্থক্য পাওয়া যায়। আরও পড়ুন শিশুদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস? দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক বছর পর আবার পরীক্ষা করেও ত্বকের অণুজীবের বৈচিত্র্যের কিছু পার্থক্য বজায় থাকতে দেখা যায়। এছাড়া বনের মাটিতে খেলাধুলা করা শিশুদের ত্বকে সম্ভাব্য রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের উপস্থিতিও কম পাওয়া গিয়েছিল। আরও পড়ুন বাবা মা যেভাবে সন্তানদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলবেন গবেষকদের মতে, ত্বকে অণুজীবের বৈচিত্র্য বেশি থাকলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ কমতে পারে। তবে প্রকৃতির সংস্পর্শে এলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিতভাবে বাড়ে-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। সূত্র: জিও নিউজ, বিবিসি এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
লোহিত সাগরের উপকূলে নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে হুতিদের, যেভাবে তারা শুল্ক–কর আদায় করে

লোহিত সাগরের উপকূলে নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে হুতিদের, যেভাবে তারা শুল্ক–কর আদায় করে

পাটের আঁশে লাভের আশা

পাটের আঁশে লাভের আশা

মা যদি আর্থিক প্রতারণা করেন সন্তানের করণীয় কী

মা যদি আর্থিক প্রতারণা করেন সন্তানের করণীয় কী

এনআইডিসহ ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে রাজশাহীতে যুবক গ্রেপ্তার
এনআইডিসহ ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে রাজশাহীতে যুবক গ্রেপ্তার

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মুঠোফোনের অবস্থান ও কলের বিস্তারিত তথ্য অর্থের বিনিময়ে সরবরাহের অভিযোগে সেতু হোসেন (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার ভোরে রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানার মাহিষবাথান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।র‍্যাবের ভাষ্য, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ পুলিশের ক্রাইম ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিডিএমএস) সার্ভারে বেআইনিভাবে প্রবেশ করতেন সেতু। সেখান থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও অর্থের বিনিময়ে অন্যদের কাছে সরবরাহ করতেন তিনি।গতকাল সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সেতুকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাবের সিপিএসসি ও সিপিসি-৩, জয়পুরহাটের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান চালান।গতকাল রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, অভিযানে ছয়টি সিপিইউ, চারটি ল্যাপটপ, ১০টি মুঠোফোন ও ৩১টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম দিয়ে সাইবার অপরাধের কার্যক্রম চালানো হতো বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।র‍্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেতু হোসেন নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।র‍্যাবের দাবি, বিভিন্ন মুঠোফোন সিমের এনআইডি-সংক্রান্ত তথ্য, বিকাশ ও নগদে নিবন্ধনের তথ্য, মুঠোফোনের অবস্থান, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং খুদে বার্তার (এসএমএস) তালিকা সংগ্রহ করা হতো। পরে এসব তথ্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করার অভিযোগ আছে।র‍্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেতু হোসেন নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।পরে সেতু হোসেনকে রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আজ মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীন ৬ থেকে ১১ গ্রেডে চাকরির সুযোগ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীন ৬ থেকে ১১ গ্রেডে চাকরির সুযোগ

সম্পর্ক সহজ করতে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের ফেরতের আহ্বান

সম্পর্ক সহজ করতে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের ফেরতের আহ্বান

কুমিল্লা নগরীতে যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লা নগরীতে যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার

0 Comments