দেশের প্রত্যেক নাগরিকেরই আছে নিজস্ব চাহিদা, প্রত্যাশা ও অধিকার। ছোট্ট একটি গ্রামের একজন কৃষক চান ভালো রাস্তা, শিশু চায় খেলার মাঠ, নারীরা চান সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, আর একজন তরুণ চান কর্মসংস্থান। এভাবেই প্রতিটি মানুষের জীবন ঘিরে আছে নানা ধরনের প্রয়োজন ও দাবি।
গ্রামের ছোট্ট একটি ইউনিয়ন পরিষদে উচ্চারিত এসব দাবি একসময় পৌঁছে যেতে পারে উপজেলা, জেলা পেরিয়ে জাতীয় সংসদের আলোচনায়। তাহলে গণতন্ত্রের শুরুটা কোথায়—জাতীয় সংসদে, নাকি সেই গ্রামের উঠানে, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ প্রথমবার নিজের কথা বলার সুযোগ পান?
গণতন্ত্রের গল্প আমরা প্রায়ই জাতীয় নির্বাচন দিয়ে শুরু করি। ভোটের মাঠ, প্রার্থীদের প্রচারণা, নির্বাচনী ইশতেহার, ভোটকেন্দ্র, ফলাফল—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতিই যেন গণতন্ত্রের প্রধান মঞ্চ। কিন্তু গণতন্ত্রের শেকড় অনেক গভীরে। সেই শেকড় ছড়িয়ে আছে গ্রামের রাস্তা, হাট-বাজার, ওয়ার্ড সভা, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ—অর্থাৎ মানুষের একেবারে কাছের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়। একজন নাগরিক রাষ্ট্রকে যতটা কাছ থেকে অনুভব করেন, তার বড় অংশই স্থানীয় পর্যায়ে।
জন্মনিবন্ধন, স্থানীয় রাস্তা, পানি, স্যানিটেশন, সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক সেবা কিংবা এলাকার উন্নয়ন—এসব বিষয়ে রাষ্ট্রের উপস্থিতি মানুষ প্রথমে অনুভব করেন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদে ওঠার পথ শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর পথ নয়; এটি হতে পারে গণতন্ত্রের একটি সিঁড়ি।
ধরা যাক, একটি গ্রামের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা। বর্ষায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। স্কুলের শিশুরা দুর্ভোগে পড়ে, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে সমস্যা হয়। একজন নাগরিক প্রথমে কোথায় যাবেন? সম্ভবত ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে গিয়ে তিনি চেয়ারম্যান বা সদস্যের কাছে সমস্যার কথা বলবেন। অন্যরাও একই দাবি তুলবেন। আলোচনা হবে, অগ্রাধিকার নির্ধারণ হবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব যাবে। এই ছোট্ট প্রক্রিয়াটিই আসলে গণতন্ত্রের একটি বাস্তব পাঠ। কারণ এখানে একজন নাগরিক জানছেন, আমার সমস্যার কথা বলার অধিকার আছে। আর জনপ্রতিনিধি বুঝতে পারছেন, আমাকে মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে।
নাগরিকের সবচেয়ে কাছের দরজা বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর সবচেয়ে পরিচিত প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ। জাতীয় সংসদে একজন এমপির কাছে পৌঁছানো অনেক নাগরিকের জন্য কঠিন হতে পারে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বা চেয়ারম্যান তুলনামূলকভাবে হাতের নাগালেই থাকেন। স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ সরাসরি তাদের এলাকার প্রতিনিধিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। এই নির্বাচন নাগরিককে শেখায়—কাকে ভোট দেবেন, কেন দেবেন, প্রার্থীর অতীত কী, তিনি এলাকার জন্য কী করেছেন বা করতে পারেন—এসব নিয়ে ভাবতে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক নাগরিকত্বের চর্চা শুরু হয় অনেকটা এখান থেকেই।
স্থানীয় সমস্যার অনেকটাই জাতীয় নীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনো ইউনিয়নে কৃষক সেচের পানি পাচ্ছেন না—এর পেছনে থাকতে পারে জাতীয় কৃষিনীতি। কোনো এলাকায় নদীভাঙন হচ্ছে—সেটি জাতীয় পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো গ্রামের তরুণ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না—সেটি দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নীতির প্রশ্ন। অর্থাৎ একটি গ্রামের সমস্যা ধীরে ধীরে জাতীয় সমস্যার অংশ হয়ে ওঠে। এখানেই স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু তৈরি হয়।
স্থানীয় মানুষ সমস্যার কথা বলেন। জনপ্রতিনিধিরা তা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক দলগুলো সেই সমস্যাকে নীতিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। জাতীয় সংসদে আইন ও বাজেটের মাধ্যমে তার সমাধানের কাঠামো তৈরি হতে পারে। এই প্রবাহটি কার্যকর হলে গণতন্ত্র হয়ে ওঠে নিচ থেকে ওপরে ওঠার একটি ব্যবস্থা।
সিঁড়ির পরের ধাপ ইউনিয়ন পরিষদের পর স্থানীয় শাসনের আরও কিছু স্তর রয়েছে। উপজেলা পরিষদ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি ইউনিয়নের সমস্যা যখন শুধু একটি গ্রামের সমস্যা থাকে না বরং একাধিক ইউনিয়নের সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়; তখন সেটি আরও বড় পরিসরের পরিকল্পনার দাবি তৈরি করে। ধরা যাক, কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ একই সড়ক ব্যবহার করেন। সেই সড়কের উন্নয়ন শুধু একটি ইউনিয়নের বিষয় নয়। একইভাবে একটি নদী, একটি বাজার, একটি হাসপাতাল বা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহু এলাকার মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
জাতীয় সংসদ দেশের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সংসদের কাজ শুধু রাজধানী বা জাতীয়, রাজনীতির খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা নয়। একজন সংসদ সদস্য যে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন; সেই এলাকার মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন-চাহিদার সঙ্গেও তার দায়িত্ব জড়িয়ে থাকে। একটি এলাকার কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, নারী, তরুণ কিংবা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সমস্যাগুলো জাতীয় নীতিতে প্রতিফলিত হওয়া দরকার। সেখানেই স্থানীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে জাতীয় গণতন্ত্রের যোগসূত্র। অর্থাৎ জাতীয় সংসদে বসা একজন প্রতিনিধি শুধু একটি আসনের মানুষ নন; তিনি বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিজের এলাকার মানুষের কণ্ঠও বহন করেন।
তবে শুধু প্রতিষ্ঠান থাকলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না। স্থানীয় সরকার যদি পর্যাপ্ত ক্ষমতা, অর্থ ও স্বাধীনতা না পায়, জনপ্রতিনিধিরা যদি কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারেন, নাগরিক অংশগ্রহণ যদি সীমিত থাকে কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষিত হয়—তাহলে গণতন্ত্রের এই সিঁড়ি দুর্বল হয়ে পড়ে।
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদ—প্রতিটি স্তরেই একটি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনগণের কাছে কে জবাবদিহি করবে? একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে তার এলাকার মানুষ প্রশ্ন করবেন। চেয়ারম্যানকে উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব দিতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্য ও সরকারকে জনগণের সামনে তাদের নীতি ও কাজের ব্যাখ্যা দিতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চক্র।

গণতন্ত্র তখনই শক্তিশালী হয়; যখন একজন সাধারণ নাগরিক মনে করেন—রাষ্ট্র শুধু দূরের কোনো ক্ষমতাকেন্দ্র নয়; রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে আমারও একটি কণ্ঠ আছে। একটি ইউনিয়নের ভাঙা রাস্তা থেকে জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ, একটি গ্রামের পানির সংকট থেকে জাতীয় পানি নীতি, একজন তরুণের চাকরির দাবি থেকে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা—সবকিছুর মধ্যে একটি অদৃশ্য সুতো রয়েছে। সেই সুতোর নাম জনগণের অংশগ্রহণ। তাই গণতন্ত্রের সিঁড়ির শেষ ধাপ জাতীয় সংসদ নয়। বরং জাতীয় সংসদও সেই সিঁড়ির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো—নাগরিকের সচেতনতা। কারণ মানুষ যদি প্রশ্ন করতে না শেখে, প্রতিনিধি বাছাই করতে না শেখে, নিজের অধিকার সম্পর্কে না জানে এবং অন্যের অধিকারকে সম্মান না করে, তাহলে সবচেয়ে সুন্দর প্রতিষ্ঠানও প্রাণহীন হয়ে যেতে পারে। তাই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জাতীয় সংসদে ওঠার সিঁড়ি শুধু জনপ্রতিনিধিদের ওঠার পথ নয়। এটি সাধারণ মানুষের কণ্ঠকে স্থানীয় দাবি থেকে জাতীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেওয়ার পথ। আর সেই সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ যত শক্ত হবে, তত শক্ত হবে গণতন্ত্রের পুরো ভবন।
এসইউ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিশেষ করে অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের— যাদের ‘হারেদি’ বলা হয়— সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির বিষয়টি ইসরায়েলি সমাজে বড় ধরনের ক্ষোভ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একদিকে দীর্ঘ সময় ধরে রিজার্ভ সেনাদের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে হারেদি পুরুষদের একটি বড় অংশ সামরিক সেবার বাইরে থাকায় ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন আরো তীব্র হচ্ছে।
ঘুষ নেওয়াকে যৌক্তিক দাবি করে মন্তব্য করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে ক্লোজড করা হয়েছে।
এখনো পিটার ডুরি মেসিকে সবুজ গালিচায় দেখলে উদাত্ত কণ্ঠ আর অলৌকিক সুরের মূর্ছনায় বিমোহিত করেন সকলকে। হয়তো আগামীকাল (৭ অক্টোবর) ভোরে, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির শেষ দিনে আরও একবার এই ব্রিটিশ ধারাভাষ্যকার শব্দ-বন্ধনের নিখুঁত দ্যোতনায় উচ্চারণ করবেন এক মহাজাগতিক কবিতা।