হরমুজ প্রণালিতে টোগোর পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আজ শুক্রবার আইআরজিসি এই দাবি করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এই তথ্য জানায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলা চালায়। এই হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত অবরোধ আরোপ করে রেখেছে তেহরান।
ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায় করতে চায়। ইরানের নির্ধারিত পথে না গিয়ে অন্য পথে যাওয়ার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগে দেশটি বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, টোগোর পতাকাবাহী ‘ট্রেন্ড’ নামের তেলবাহী জাহাজটিকে নিশানা করা হয়, আটক করা হয়।
জাহাজটি এই নৌপথ দিয়ে ‘অবৈধভাবে’ যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘নিরাপত্তাজনিত ঘটনা’ ঘটেছে। ঘটনাস্থলটি ওমানের খাসাব শহর থেকে ১৬ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে।
তবে ইউকেএমটিও এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। ফলে আইআরজিসির যে জাহাজের কথা বলেছে, সেটিই ওই জাহাজ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
সাতটি পাহাড়ি ছড়া থেকে বনের নাম হয়েছিল সাতছড়ি। এখন সেই ছড়াগুলোর চারটির অস্তিত্বই নেই। যে তিনটি ছড়া দৃশ্যমান, সেগুলোতেও পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। বনের পুকুরগুলোও বালু ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আগামী শুষ্ক মৌসুমে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রাণীদের পানির সংকট দেখা দিতে পারে।হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ি এলাকায় ২৪৩ হেক্টর বা প্রায় ৬০০ একরজুড়ে সাতছড়ি উদ্যান। ২০০৫ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পায় সাতছড়ি।মিশ্র চিরসবুজ ও পাতাঝরা বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই বনের ভেতর একসময় ছোট–বড় তিনটি পুকুর ছিল। পুকুরের টলমলে পানিতে তৃষ্ণা মেটাতে সেখানে আসত হরিণসহ নানা বন্য প্রাণী। পাহাড়ি ঢল ও বালুর স্রোতে ধীরে ধীরে দুটি পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। বাকি পুকুরটিরও তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বনের ভেতরের কয়েকটি পাহাড়ি ছড়ার অবস্থাও নাজুক। সাতছড়ির বর্তমান এই অবস্থা প্রথম আলোর কাছে তুলে ধরেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলেছে প্রথম আলো। এই প্রতিবেদকও ১৪ সেপ্টেম্বর সাতছড়ি বনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাতছড়ি বনে পানির সংকট তীব্র হলে বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে এলে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়তে পারে। শিকারিদের কবলেও পড়তে পারে বিপন্ন প্রাণী।বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতছড়িতে রয়েছে ২০০টির বেশি প্রজাতির গাছ। শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, ডুমুর, জাম, জামরুল, বাঁশ, বেতসহ নানা প্রজাতির উদ্ভিদ এখানে রয়েছে। বনের জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ। সাতছড়িতে প্রায় ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তুর বসবাস। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬ প্রজাতির উভচর। রয়েছে দেড় শতাধিক প্রজাতির পাখিও।উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মায়া হরিণ, মেছো বাঘসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাস এই বনে। পাখির মধ্যে ধনেশ, কাঠঠোকরা, বনমোরগ, লালমাথা ট্রগনসহ নানা প্রজাতি রয়েছে।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি তোফাজ্জল সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, বনের জলাধারগুলো শুধু প্রাণীর তৃষ্ণা মেটায় না, বনের স্বাভাবিক পরিবেশ, ব্যাঙ, কীটপতঙ্গের প্রজনন এবং খাদ্যের জোগানসহ পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে। এমনিতেই সাতছড়িতে পানির উৎস কম। বন্য প্রাণী ও বনের স্বার্থে পুকুর পুনঃখননসহ সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।বালু-পলিমাটিতে ভরাট জলাধারসরেজমিনে ১৪ সেপ্টেম্বর উদ্যানে দেখা যায়, সাতছড়ি বন কার্যালয়ের উত্তর দিকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ১০ শতক আয়তনের পুকুরটি ভরাট হয়ে আছে। উদ্যানের প্রবেশপথ থেকে পূর্ব-উত্তর দিকে ৩০০ মিটার দূরে প্রায় ১২ শতক আয়তনের পুকুরটিরও একই অবস্থা। ওয়াচ টাওয়ারের পশ্চিম দিকে বনের গহিনে ১৫ শতক আয়তনের আরেকটি পুকুর রয়েছে, সেখানে পানি আছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে পুকুরের গভীরতা একেবারে কমে গেছে।সাতছড়ি চা-বাগান এলাকায় বিজিবি ক্যাম্পের পাশে দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়া এবং সাতছড়ি টাওয়ারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আরেকটি ছড়া দৃশ্যমান থাকলেও পাহাড়ি বালুতে হারিয়ে যেতে বসেছে। বনের টিপরাপল্লির সামনে থেকে বয়ে যাওয়া ছড়াটি সুরমা চা-বাগান ও নোয়াপাড়া চা-বাগান হয়ে সুতাং নদে গিয়ে মিশেছে। এটি বনের বড় ছড়া হিসেবে পরিচিত। সেটিও প্রায় শুকিয়ে গেছে।সাতছড়ি টিপরাপল্লির প্রধান এবং বাংলাদেশ টিপরা কল্যাণ সংঘের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি চিত্ত রঞ্জন বর্মা প্রথম আলোকে বলেন, সাতছড়ির নামকরণ হয়েছিল সাতটি ছড়া থেকে। এখন সেই সাতটি ছড়ার মধ্যে দু–তিনটির অস্তিত্ব থাকলেও পানি নেই বলেই চলে। বৃষ্টি হলে ছড়াগুলোতে এক-দুই ঘণ্টা পানি দৃশ্যমান থাকলেও পরে শুকিয়ে যায়।সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের দায়িত্বে থাকা মৌলভীবাজারের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার গত জুলাই মাসে বন বিভাগে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের কয়েকটি জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বন্য প্রাণীর পানির সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জলাধারগুলোর পানি ধারণক্ষমতা পুনরুদ্ধার, বিকল্প পানির উৎস স্থাপনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।জাতীয় এই উদ্যানে আরও পুকুর খননের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বন বিভাগের সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জলাধারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সাতছড়ির জলাধার পুনঃখনন শুধু বন্য প্রাণীর পানি সরবরাহের বিষয় নয়; এটি পুরো বনের প্রতিবেশ রক্ষার সঙ্গে জড়িত। একটি বনের গাছপালা, মাটি, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ, উভচর ও স্তন্যপায়ী প্রাণী পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।বনে পানির ব্যবস্থা না থাকলে আশপাশের মানুষও সংকটে পড়বেন। বনের চাকলাপুঞ্জি এলাকার বাসিন্দা মনির মিয়া বলেন, বনের ভেতরে পানি থাকলে সব প্রাণী সেখানেই থাকে। পানি না থাকলে সেগুলো লোকালয়ের দিকে চলে আসতে পারে। এতে প্রাণীগুলো যেমন বিপদে পড়বে, তেমনি মানুষও আতঙ্কে থাকবে।বনে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে হবেসম্প্রতি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন বনাঞ্চল ঘুরে এসেছেন বন্য প্রাণী, চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের বিশেষজ্ঞ রেজা খান। সাতছড়ি বনের পানির উৎসের বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সিলেট বিভাগের বনগুলোর মধ্যে এখন সবচেয়ে কম ছড়া দেখা যায় সাতছড়িতে। বনের রেস্টহাউসের পাশ দিয়ে যাওয়া ছড়াটি ছিল প্রধান ছড়া। সেটিও এখন মরা ছড়ায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বনের ভেতরে থাকা পুকুরগুলো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় সেগুলোও ভরাট হয়ে গেছে।বনের আশপাশের এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট ভূমিক্ষয় থেকে জলাধারগুলো ভরাট হয়ে গেছে বলে জানান রেজা খান। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে প্রাণীদের পানির চাহিদা মেটাতে সাতছড়ি বনের পুকুরগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বনের পরিবেশের ক্ষতি না করে আরও কয়েকটি পুকুর খনন করা দরকার। পুকুরগুলোর পাড় খাড়া না করে এমনভাবে ঢালু করা করা উচিত, যাতে বিভিন্ন প্রাণী সহজেই পানির কাছে পৌছাতে পারে। পুকুরগুলোতে যাতে সারা বছর পানি থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রায় দুই মাস পর আগের মতো স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গ্যাস সরবরাহ। শিল্পে অগ্রাধিকার দিয়ে তিন দিন ধরে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি গ্যাসের তিন ভাগের এক ভাগ বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি দুই ভাগ শিল্প খাতে।পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরবরাহ করা হয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন করা হয়েছে ১৬১ কোটি ঘনফুট। আর এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ৯৯ কোটি ঘনফুট।এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দিনে সরবরাহ নেমে এসেছিল ২২০ কোটি ঘনফুটে। ১৫ আগস্ট টার্মিনাল চালুর পর সরবরাহ বাড়িয়ে ২৩২ কোটি ঘনফুট করা হয়। এখন এটি আরও বাড়িয়ে আগের অবস্থায় নেওয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার এলএনজি থেকে ১০১ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করায় মোট সরবরাহ ২৬৩ কোটি ঘনফুট হয়েছিল।জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশ যাচ্ছে শিল্প খাতেসোমবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। যদিও সোমবার রাত থেকেই প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়।জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহ বাড়ানোর পর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে শিল্প গ্রাহকদের। বাড়তি গ্যাসের অধিকাংশ যাচ্ছে শিল্প খাতে। বাগেরহাটের রামপাল ও পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ আছে। তাই চলমান লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ খাতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে।গ্যাস পেলে সংকট কেটে যাবে, সারের ঘাটতি থাকবে না: শিল্প উপদেষ্টাতবে গ্যাস বিতরণ সংস্থা ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে বাড়তি গ্যাসের পুরোটা শিল্পে সরবরাহ করা হয়নি। বুধবার এটি জানিয়ে রপ্তানি খাতের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের চারটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সঞ্চালন কোম্পানি জিটিসিএলকে একটি যৌথ চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনগুলো হলো বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ এবং বিটিটিএলএমইএ। চিঠিতে বলা বলা হয়, দেশের সবচেয়ে বড় বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্যাসকে শিল্প খাতের চাহিদার চেয়ে ৩০ শতাংশ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। আর অন্য বিতরণ সংস্থাগুলোকে প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত তিতাস এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান চিঠিতে।শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতে আগের মতো সরবরাহ করতে পারছে না তিতাস। ফলে শিল্পের পাশাপাশি আবাসিকে রান্নার কাজেও ভোগান্তি শেষ হয়নি গ্রাহকের।ঢাকা, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করে তিতাস। এ সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত ২১ জুলাইয়ের আগে তিতাসকে মোট ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৩০ কোটি ঘনফুট, সার কারখানায় ৭ কোটি ঘনফুট, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ১১৩ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। আর গতকাল তিতাস পেয়েছে ১৩৭ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ২২ কোটি ঘনফুট, সারে ৭ কোটি ঘনফুট, শিল্পসহ অন্যান্য খাতে সরবরাহ করা হয়েছে ১০৮ কোটি ঘনফুট। তার মানে শিল্প, আবাসিক ও সিএনজি খাতে আগের মতো সরবরাহ করতে পারছে না তিতাস। ফলে শিল্পের পাশাপাশি আবাসিকে রান্নার কাজেও ভোগান্তি শেষ হয়নি গ্রাহকের।পেট্রোবাংলা ও তিতাস সূত্র বলছে, ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্প এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ আগের ধারায় ফিরেছে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ এলাকায় সরবরাহ বেড়েছে, কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ এখনো কম। সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর ও কোনাবাড়ী এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ তেমন বাড়ানো যায়নি। নরসিংদীর কিছু এলাকায় ভালো, আর কিছু এলাকায় গ্যাস তেমন বাড়েনি।গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে, অগ্রাধিকারে শিল্প খাত, লোডশেডিং কিছুটা কমেছেবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসছে। পরিকল্পনা অনুসারে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আজ থেকে শিল্পে সরবরাহ আরও স্বাভাবিক হবে। এরপর দুটি কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র (পায়রা ও রামপাল) থেকে উৎপাদন বাড়লে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর ও কোনাবাড়ী এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ তেমন বাড়ানো যায়নি। নরসিংদীর কিছু এলাকায় ভালো, আর কিছু এলাকায় গ্যাস তেমন বাড়েনি।উৎপাদনে ফিরছে শিল্পকারখানা ঢাকার সাভার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাসের সরবরাহ কোথাও বেড়েছে, কোথাও অপরিবর্তিত রয়েছে। আশুলিয়ার বাইপাইল–সংলগ্ন ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) আশিকুল ইসলাম গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে গ্যাসের চাপ কমপক্ষে ৭–৮ পিএসআই (প্রতি বর্গ ইঞ্চি) থাকতে হয়। দুই মাস ধরে ১ থেকে দেড় পিএসআই ছিল। গত বুধবার সর্বোচ্চ সোয়া ৫ পিএসআই, বৃহস্পতিবার ৭ পিএসআই পাওয়া গেছে।নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। এতে অনেক কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে এখনো কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সদর উপজেলার ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় অবস্থিত বৃহৎ ফকির নিটওয়্যার লিমিটেডে। এই প্রতিষ্ঠানে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ ৫–৬ পিএসআই পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ২৪ ঘণ্টা উৎপাদন চালাতে পারছে।একই শিল্পনগরীতে ফেয়ার অ্যাপারেলস লিমিটেডে ডাইং কারখানার মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুম প্রথম আলোকে বলেন, আগের তুলনায় গ্যাসের চাপ বেড়েছে। টানা উৎপাদনকাজ চালাতে পারছেন তাঁরা।নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়েছে। এতে অনেক কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে এখনো কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।সারা দেশে মোট কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয় নরসিংদীতে। ছোট-বড় তিন হাজারের বেশি শিল্পকারখানা রয়েছে এই জেলায়। প্রায় দুই মাস ভোগান্তির পর জেলার শিল্পকারখানাগুলোয় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মাধবদীর এমএমকে ডাইংয়ের স্বত্বাধিকারী মোমেন মোল্লা জানান, গ্যাসের সমস্যা এখন আর নেই, তবে বিদ্যুতের সমস্যা রয়ে গেছে।নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রাশেদুল হাসান বলেন, গ্যাসের অভাবে কোনো শিল্পকারখানাই এখন বন্ধ নেই। গ্যাস পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরেছে, এটি ধরে রাখতে হবে।গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা। গাজীপুরে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ার পর কারখানায় উৎপাদনে গতি ফিরেছে। কোনো কারখানায় উৎপাদন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। টাওয়েল টেক্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ওমর ফারুক বলেন, গ্যাসের চাপ বাড়ায় কারখানায় উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে।কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ এখনো কম গতকাল দুপুরে সাভারের কলমা এলাকার উইন্টার ড্রেস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ অন্তত ৫ পিএসআই প্রয়োজন। গতকালও এই চাপে গ্যাস আসেনি। বয়লার বন্ধ রাখতে হয়েছে।তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (গাজীপুর) সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ধীরে ধীরে সাভার উপজেলায় গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই স্বাভাবিক হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান হয়ে যাবে।গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে নরসিংদীর ঘোড়াদিয়া এলাকার শিল্পী ডাইংয়ের কর্মকর্তা অমিত সাহা বলেন, ভোর থেকে গ্যাস ছিল না। তবে দুপুরের পর কারখানায় গ্যাসের চাপ দেড় পিএসআই দেখা গেছে। এ চাপে বয়লার চলে না, অন্তত আড়াই পিএসআই লাগে।তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোর অধিকাংশ জায়গায় আগের তুলনায় গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ১২ থেকে ১৫ পিএসআই চাপেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে কিছু জায়গায় গ্যাসের চাপ ওঠানামা করার পাশাপাশি কম চাপের তথ্যও পাওয়া গেছে।[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার ও প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী]এলএনজি টার্মিনালে মেরামতের কাজ চলছে, কমেছে গ্যাসের চাপ
‘ইশ্! কী যে মিস করেছি।’ কথাটা বলেই কিছুটা থেমে গেল শারমিন নাহার। পাশে তখন জিপিএ-৫ পাওয়া যমজ বোনের হাতে সংবর্ধনা ক্রেস্ট। প্রথম আলোর এক্সপেরিয়েন্স জোনে গেম নিয়ে ব্যস্ত বোন, আর শারমিন দাঁড়িয়ে তা দেখছে। বোনের সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব আছে, তবু নিজের ফলের আক্ষেপটা মুহূর্তেই ফুটে উঠল তাঁর মুখে।পরক্ষণেই নিজেকে সামলে শারমিন বলল, ‘এবার মিস করেছি, তাতে কী! এইচএসসিতে ভালো ফল করে এমন আয়োজন আর মিস করতে চাই না।’শরতের স্নিগ্ধ সকালে এমন আনন্দ, স্বপ্ন আর প্রত্যয়ের গল্পে মুখর হয়ে ওঠে ঠাকুরগাঁও পর্বের জিপিএ-৫ উৎসব। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আজ শুক্রবার সকালে শুরু হয় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।সকাল সাড়ে আটটার আগেই শিক্ষার্থীরা ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আসতে শুরু করে। কারও সঙ্গে মা-বাবা, কেউ এসেছে ভাই-বোন বা বন্ধুদের নিয়ে। পুরোনো বন্ধুকে দেখে কেউ জড়িয়ে ধরছে, কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছে। উৎসবে অংশ নিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে।‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজন এবং শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছে জিপিএ-৫ উৎসব।সকাল নয়টায় ক্রেস্ট ও স্ন্যাকস সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আখতারুজ্জামান, ক্রীড়া সংগঠক আবু ইয়াসিন মাসুদ রানা ও নারী হকি দলের খেলোয়াড় রিয়া মনি। শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল গেম, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ আইডলের সেরা ১০-এর প্রতিযোগী খোকা খান।বন্ধুদের পেয়ে দুষ্টুমিতে মেতে ওঠে কেউ কেউএবারের আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই বিকাশ। সহযোগিতায় আছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।শারমিন ও তাঁর যমজ বোন পুরাতন ঠাকুরগাঁও বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেয়। বোন জিপিএ-৫ পেলেও শারমিন অল্পের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফল থেকে পিছিয়ে যায়। বোনের আনন্দ ভাগ করে নিতে সে-ও এসেছে উৎসবে। নিজের ফলের আক্ষেপের কথা বললেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী শারমিন।ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার আমগাঁও গ্রামের সাদিয়া আক্তার জিপিএ-৫ পেয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে যোগ দিতে ভোরেই প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে সে। সাদিয়া বলে, ‘এই আয়োজনটি কিছুতেই হারাতে চাইনি। তাই ভোরেই বাড়ি থেকে রওনা হয়েছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে, এত দূর থেকে আসার কষ্টটা সামান্যই।’নিজের সংবর্ধনা ক্রেস্টের ছবি তুলছে এক শিক্ষার্থীপীরগঞ্জ উপজেলা থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শারমিন আক্তারের কাছেও আয়োজনটি ছিল বিশেষ। সে বলে, ‘এখানে গোটা জেলার শিক্ষার্থীদের মেলা বসেছে। এখানে আসার জন্য আমার মধ্যে একটা ব্যাকুলতা কাজ করেছে। পথে বৃষ্টি ব্যাঘাত ঘটালেও আটকাতে পারেনি।’রানীশংকৈল উপজেলার আল হাসনা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়ার কাছে উৎসবের বড় পাওয়া নতুন বন্ধু তৈরি করা। সে বলে, ‘এই অনুষ্ঠানে এসে নতুন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় হলো। এই দিনটি এত সহজে ভুলব না।’উপহার সামগ্রী সংগ্রহ করছে শিক্ষার্থীরানর্থ পয়েন্ট স্কুল ও কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মায়মুনা আলিবার জন্য এ আয়োজন একটি পুরোনো স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় বোনের সঙ্গে প্রথম আলোর জিপিএ-৫ সংবর্ধনায় এসেছিল সে। সেদিনই এমন মঞ্চে আসার স্বপ্ন দেখেছিল। মায়মুনা বলে, ‘আয়োজন দেখে আমি ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। যেকোনো মূল্যে আমাকে এখানে আসতেই হবে—এটা আমার স্বপ্ন ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।’বালিয়াডাঙ্গীর লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া জয়ন্ত রায় সঙ্গে করে এনেছে নবম শ্রেণির ছোট ভাই সুশান্ত রায়কে। সুশান্ত বলে, ‘এত কৃতী শিক্ষার্থী একসঙ্গে এসেছে—দেখে খুব ভালো লাগছে। আমাকেও ভালো ফল করে এমন অনুষ্ঠানে আসতে হবে।’‘এখানে এসে মনে হলো, আপনারা আমাদের জন্য ভালো কিছু ভাবেন’