জাতীয়

সাতছড়ির ছড়ায় পানি নেই, পুকুরও ভরাট, জাতীয় উদ্যানে প্রাণীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
সাতছড়ির ছড়ায় পানি নেই, পুকুরও ভরাট, জাতীয় উদ্যানে প্রাণীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে
সাতছড়ির ছড়ায় পানি নেই, পুকুরও ভরাট, জাতীয় উদ্যানে প্রাণীদের ওপর কী প্রভাব পড়বে

সাতটি পাহাড়ি ছড়া থেকে বনের নাম হয়েছিল সাতছড়ি। এখন সেই ছড়াগুলোর চারটির অস্তিত্বই নেই। যে তিনটি ছড়া দৃশ্যমান, সেগুলোতেও পানির প্রবাহ নেই বললেই চলে। বনের পুকুরগুলোও বালু ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আগামী শুষ্ক মৌসুমে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রাণীদের পানির সংকট দেখা দিতে পারে।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ি এলাকায় ২৪৩ হেক্টর বা প্রায় ৬০০ একরজুড়ে সাতছড়ি উদ্যান। ২০০৫ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পায় সাতছড়ি।

মিশ্র চিরসবুজ ও পাতাঝরা বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই বনের ভেতর একসময় ছোট–বড় তিনটি পুকুর ছিল। পুকুরের টলমলে পানিতে তৃষ্ণা মেটাতে সেখানে আসত হরিণসহ নানা বন্য প্রাণী। পাহাড়ি ঢল ও বালুর স্রোতে ধীরে ধীরে দুটি পুকুর ভরাট হয়ে গেছে। বাকি পুকুরটিরও তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বনের ভেতরের কয়েকটি পাহাড়ি ছড়ার অবস্থাও নাজুক। সাতছড়ির বর্তমান এই অবস্থা প্রথম আলোর কাছে তুলে ধরেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলেছে প্রথম আলো। এই প্রতিবেদকও ১৪ সেপ্টেম্বর সাতছড়ি বনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাতছড়ি বনে পানির সংকট তীব্র হলে বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে এলে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়তে পারে। শিকারিদের কবলেও পড়তে পারে বিপন্ন প্রাণী।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাতছড়িতে রয়েছে ২০০টির বেশি প্রজাতির গাছ। শাল, সেগুন, আগর, গর্জন, চাপালিশ, পাম, মেহগনি, ডুমুর, জাম, জামরুল, বাঁশ, বেতসহ নানা প্রজাতির উদ্ভিদ এখানে রয়েছে। বনের জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ। সাতছড়িতে প্রায় ১৯৭ প্রজাতির জীবজন্তুর বসবাস। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬ প্রজাতির উভচর। রয়েছে দেড় শতাধিক প্রজাতির পাখিও।

উল্লুক, চশমাপরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মায়া হরিণ, মেছো বাঘসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাস এই বনে। পাখির মধ্যে ধনেশ, কাঠঠোকরা, বনমোরগ, লালমাথা ট্রগনসহ নানা প্রজাতি রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি তোফাজ্জল সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, বনের জলাধারগুলো শুধু প্রাণীর তৃষ্ণা মেটায় না, বনের স্বাভাবিক পরিবেশ, ব্যাঙ, কীটপতঙ্গের প্রজনন এবং খাদ্যের জোগানসহ পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে। এমনিতেই সাতছ‌ড়ি‌তে পানির উৎস কম। বন্য প্রাণী ও বনের স্বার্থে পুকুর পুনঃখননসহ সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বালু-পলিমাটিতে ভরাট জলাধার

সরেজমিনে ১৪ সেপ্টেম্বর উদ্যানে দেখা যায়, সাতছড়ি বন কার্যালয়ের উত্তর দিকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ১০ শতক আয়তনের পুকুরটি ভরাট হয়ে আছে। উদ্যানের প্রবেশপথ থেকে পূর্ব-উত্তর দিকে ৩০০ মিটার দূরে প্রায় ১২ শতক আয়তনের পুকুরটিরও একই অবস্থা। ওয়াচ টাওয়ারের পশ্চিম দিকে বনের গহিনে ১৫ শতক আয়তনের আরেকটি পুকুর রয়েছে, সেখানে পানি আছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে পুকুরের গভীরতা একেবারে কমে গেছে।

সাতছড়ি চা-বাগান এলাকায় বিজিবি ক্যাম্পের পাশে দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়া এবং সাতছড়ি টাওয়ারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আরেকটি ছড়া দৃশ্যমান থাকলেও পাহাড়ি বালুতে হারিয়ে যেতে বসেছে। বনের টিপরাপল্লির সামনে থেকে বয়ে যাওয়া ছড়াটি সুরমা চা-বাগান ও নোয়াপাড়া চা-বাগান হয়ে সুতাং নদে গিয়ে মিশেছে। এটি বনের বড় ছড়া হিসেবে পরিচিত। সেটিও প্রায় শুকিয়ে গেছে।

সাতছড়ি টিপরাপল্লির প্রধান এবং বাংলাদেশ টিপরা কল্যাণ সংঘের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি চিত্ত রঞ্জন বর্মা প্রথম আলোকে বলেন, সাতছড়ির নামকরণ হয়েছিল সাতটি ছড়া থেকে। এখন সেই সাতটি ছড়ার মধ্যে দু–তিনটির অস্তিত্ব থাকলেও পানি নেই বলেই চলে। বৃষ্টি হলে ছড়াগুলোতে এক-দুই ঘণ্টা পানি দৃশ্যমান থাকলেও পরে শুকিয়ে যায়।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের দায়িত্বে থাকা মৌলভীবাজারের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার গত জুলাই মাসে বন বিভাগে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের কয়েকটি জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বন্য প্রাণীর পানির সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জলাধারগুলোর পানি ধারণক্ষমতা পুনরুদ্ধার, বিকল্প পানির উৎস স্থাপনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় এই উদ্যানে আরও পুকুর খননের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বন বিভাগের সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জলাধারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

বন বিভা‌গের কর্মকর্তারা বলছেন, সাতছড়ির জলাধার পুনঃখনন শুধু বন্য প্রাণীর পানি সরবরাহের বিষয় নয়; এটি পুরো বনের প্রতিবেশ রক্ষার সঙ্গে জড়িত। একটি বনের গাছপালা, মাটি, পানি, পাখি, কীটপতঙ্গ, উভচর ও স্তন্যপায়ী প্রাণী পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।

বনে পানির ব্যবস্থা না থাকলে আশপাশের মানুষও সংকটে পড়বেন। বনের চাকলাপুঞ্জি এলাকার বাসিন্দা মনির মিয়া বলেন, বনের ভেতরে পানি থাকলে সব প্রাণী সেখানেই থাকে। পানি না থাকলে সেগুলো লোকালয়ের দিকে চলে আসতে পারে। এতে প্রাণীগুলো যেমন বিপদে পড়বে, তেমনি মানুষও আতঙ্কে থাকবে।

বনে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে হবে

সম্প্রতি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন বনাঞ্চল ঘুরে এসেছেন বন্য প্রাণী, চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের বিশেষজ্ঞ রেজা খান। সাতছড়ি বনের পানির উৎসের বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সিলেট বিভাগের বনগুলোর মধ্যে এখন সবচেয়ে কম ছড়া দেখা যায় সাতছড়িতে। বনের রেস্টহাউসের পাশ দিয়ে যাওয়া ছড়াটি ছিল প্রধান ছড়া। সেটিও এখন মরা ছড়ায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি বনের ভেতরে থাকা পুকুরগুলো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় সেগুলোও ভরাট হয়ে গেছে।

বনের আশপাশের এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট ভূমিক্ষয় থেকে জলাধারগুলো ভরাট হয়ে গেছে বলে জানান রেজা খান। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে প্রাণীদের পানির চাহিদা মেটাতে সাতছড়ি বনের পুকুরগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বনের পরিবেশের ক্ষতি না করে আরও কয়েকটি পুকুর খনন করা দরকার। পুকুরগুলোর পাড় খাড়া না করে এমনভাবে ঢালু করা করা উচিত, যাতে বিভিন্ন প্রাণী সহজেই পানির কাছে পৌছাতে পারে। পুকুরগুলোতে যাতে সারা বছর পানি থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সৌদির অনুরোধে হুতিদের লাগাম টানতে ইরানের ওপর চীনের চাপ, কারণ কী
সৌদির অনুরোধে হুতিদের লাগাম টানতে ইরানের ওপর চীনের চাপ, কারণ কী

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের লাগাম টানতে তেহরানের কাছে সহায়তা চেয়েছে চীন। সৌদি আরব গত এক সপ্তাহে ইরান–সমর্থিত এই গোষ্ঠীর সামরিক অগ্রযাত্রার পর বেইজিংয়ের কাছে সাহায্য চেয়েছিল। এরপরই চীন একান্তে তেহরানের কাছে এ অনুরোধ জানায়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি ইরানি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।সূত্রগুলো জানায়, লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশে হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য চীনের দ্বারস্থ হয় রিয়াদ।চীন প্রকাশ্যে সংযম, সংলাপ ও নৌপথে নিরাপদ চলাচল ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে তেহরানকে একান্তে দেওয়া বার্তায় এর চেয়ে আরও বেশি কিছু বলা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বেইজিং চায় না জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ুক। এ কারণে হুতিদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।আলোচনার বিষয়ে অবহিত সূত্রগুলো পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছে। তবে বার্তাটি ঠিক কীভাবে তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে তারা কোনো তথ্য দেয়নি। গত বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির চীন সফরের সময় বার্তাটি দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীনের এই বার্তার জবাবে তেহরান বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ না হলে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরবে না।তিনটি ইরানি সূত্র জানায়, চীনা কর্মকর্তারা তেহরানকে সরাসরি কোনো হুমকি দেননি। হুতিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ দেওয়া হবে, এমন কোনো ইঙ্গিতও বেইজিং দেয়নি।হুতিদের ঠেকাতে সামরিক সহায়তা চেয়ে মিত্রদের দ্বারে সৌদি আরব, সাড়া পাবে কিএ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চীন চায় না আঞ্চলিক উত্তেজনা ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আরও ছড়িয়ে পড়ুক। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বেড়ে গেলে তাতে কোনো পক্ষেরই স্বার্থ রক্ষা হবে না।মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান জানাতে হবে। মানুষের জীবন–জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে, এমন পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে আলোচনা–সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছে দেশটি।এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পায়নি রয়টার্স।হামলার মুখে সক্রিয় করা হয়েছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাবিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকিএক দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতাও চীন।পণ্যবাজারের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। এর পরিমাণ ছিল দিনে গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল।এ বিষয়ে অঞ্চলটিতে দায়িত্বরত এক জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, হুতিদের লাগাম টানতে ইরানের ওপর চাপ দিতে পারে, বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে এই হাতে গোনা দেশগুলোর মধ্যে চীন অন্যতম।সৌদি আরবের সুন্নি প্রভাবের বিরোধিতার মধ্য দিয়ে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে ইয়েমেনে হুতি গোষ্ঠীটির উত্থান ঘটে। ইরানি সূত্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, হুতিদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অর্থ দিয়ে থাকে ইরান। হুতিরা বর্তমানে তেহরানের পশ্চিমা ও ইসরায়েলবিরোধী ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ।ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুতিদের যেকোনো হুমকি সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়বে।হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের জাহাজ বা বন্দরে হুতিদের অব্যাহত হামলা মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রধান তেল রপ্তানি পথকে একই সময়ে ব্যাহত করতে পারে। এতে জ্বালানিসংকট আরও গভীর হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিস্তৃত সংঘাতে নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।মক্কা নগরীর দিকে হুতিদের ড্রোন, সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি একটি সূত্র বলেছে, ইরান ও তার মিত্ররা এখন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের দুই প্রান্তেই চাপ সৃষ্টি করছে। আর চীন দুটি নৌপথের ওপরই নির্ভরশীল।ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকা বলেন, বেইজিং হয়তো ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপের বিরোধিতা করবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের স্বার্থ ইরানের বাইরেও বিস্তৃত। চীনের তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক আসে এ অঞ্চল থেকে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার।ভাতানকা বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু একপর্যায়ে এ সক্ষমতা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা ইরান যে শক্তির ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে, শেষ পর্যন্ত সেই শক্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’চীনের দোটানাতিনটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, বেইজিংয়ের উদ্বেগের বিষয়ে তেহরান কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।সূত্রগুলো বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে থাকা ইরানের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। দেশটির তেলশিল্প টিকিয়ে রাখতে, অর্থনৈতিক চাপ কমাতে যে বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা থাকা হাতে গোনা কয়েকটি দেশের একটি চীন।বেইজিং তার কূটনৈতিক প্রভাবও দেখিয়েছে। বহু বছরের বৈরিতার পর ২০২৩ সালে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতা করেছিল চীন।ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সৌদি আরবের এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি হুতিদেরমাঝ আকাশে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমানতবে সে প্রভাবেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০২১ সালে চীন ও ইরান ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি সই করে। এরপর তেলবহির্ভূত খাতে চীনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ইরানের ভেতরে সমালোচনা হয়েছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির তুলনায় ইরানে এ বাণিজ্য–বিনিয়োগের পরিমাণ কম।চীন এমন একটি পক্ষ, যাকে তেহরান উপেক্ষা করতে পারে না। তবে দুটি ইরানি সূত্র বলেছে, তেহরানের কাছে বেইজিংয়ের স্বার্থ অনেকগুলো বিবেচনার মধ্যে একটি মাত্র। ইরানের সিদ্ধান্ত কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।ট্রাম্প-সি বৈঠকের আগে আবার বেইজিং যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীন কি এগিয়ে আসবেপশ্চিমা সেই কূটনীতিক বলেন, তেহরান ও বেইজিংয়ের একে অপরকে প্রয়োজন। চীন এমন একটি পক্ষ, যাকে তেহরান উপেক্ষা করতে পারে না। আর বেইজিং চায়, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হোক, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিরাপদ থাকুক।বিশ্লেষকেরা বলছেন, চীন তার দাবির সঙ্গে বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তেহরানের ওপর নিজের প্রভাব খাটাতে চীন সত্যিই প্রস্তুত, এর প্রমাণ পাওয়া গেলে বেইজিংয়ের দৃঢ় অবস্থানের সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলবে।মারিব-তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা, ইরান যুদ্ধে নতুন চাপের মুখে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
একঝলক (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

একঝলক (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬)

গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে আওয়ামী লীগের মশালমিছিল, ভিডিও ভাইরাল

গভীর রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে আওয়ামী লীগের মশালমিছিল, ভিডিও ভাইরাল

এআই ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা দিতে মেটার নতুন উদ্যোগ

এআই ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা দিতে মেটার নতুন উদ্যোগ

বিশ্ব বাঁশ দিবস: বাঁশকোড়লের তরকারি থেকে কবরে বাঁশের বেড়া, জীবনে কতভাবে বাঁশ দেখেছেন?
বিশ্ব বাঁশ দিবস: বাঁশকোড়লের তরকারি থেকে কবরে বাঁশের বেড়া, জীবনে কতভাবে বাঁশ দেখেছেন?

বাঁশ দেওয়া আর বাঁশ খাওয়ার পালাবদলেই চলছে জীবন। এদিকে যাপনের বহু ক্ষেত্রে বেশ কাজে লাগে বাঁশ। আর সেজন্যই আজ ১৮ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় বিশ্ব বাঁশ দিবস।আপনার জীবনও কি বাঁশময়? বাঁশ দেওয়া আর বাঁশ খাওয়ার ধারনাটি যতই নেতিবাচক হোক, আমাদের জীবনযাপনের বহু ক্ষেত্রে বেশ কাজে লাগে এই বাঁশ। বাঁশ ছাড়া কিন্তু চলেই না আমাদের। বাঁশে ভর দিয়েই নগরী বাড়ছে কলেবরে আর উচ্চতায়। দালান ও অবকাঠামো তুলতে কিন্তু এই বাঁশেরই শরণাপন্ন হতে হয়। অবকাঠামো তুলতে কিন্তু এই বাঁশেরই শরণাপন্ন হতে হয়বাঁশঝাড় ছাড়া গ্রামাঞ্চলে এখনও কোনো বাড়ি দেখা যায় নাবর্ধিষ্ণু নতুন ঢাকার চাহিদার যোগান দিতে শত বছর আগে বুড়িগঙ্গার কোল ঘেষে গড়ে ওঠে বাঁশপট্টি। গ্রামে বাঁশের খুঁটিতেই ঘর দাঁড়ায়। বাঁশ থেকে হয় বেড়া আর ঘরের দেওয়াল। বাঁশঝাড় ছাড়া গ্রামাঞ্চলে এখনও কোনো বাড়ি দেখা যায় না। এখন অবশ্য আগের মতো নির্জন এলাকা দুর্লভ বলে বাঁশঝাড়ে ভুতপেত্নী থাকার গল্পগুলো গল্পই হয়ে গিয়েছে।বাঁশের সাঁকো দেখেছেন নিশ্চয়ই। এদিকে গ্রামে আগের দিনে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেও বাঁশের খুঁটির ওপরে তৈরি করা হতো শৌচাগার। হালকা আর ঘুণে ধরার ভয় নেই বলে পাকা বাঁশের কদর আছে এখনও ঘরবাড়ি তৈরিতে।বাঁশের সাঁকো দেখেছেন নিশ্চয়ই৪২ প্রজাতির বাঁশ জন্মায় আমাদের দেশেলতানো গাছের লাউ, চিচিঙ্গা, শসা বুনলে অবশ্যই লাগবে জাংলা। বাঁশের চটি দিয়েই বানাতে হয়। সব মিলিয়ে চারিদিকে শুধু বাঁশ আর বাঁশ। বুদুম বাঁশের নাম শুনেছেন? সবচেয়ে মোটা হয়ে থাকে এই বাঁশ। এদিকে মুলি বাঁশের নাম সবাই জানি আমরা। ৪২ প্রজাতির বাঁশ জন্মায় আমাদের দেশে। বাঁশ দেওয়া শুনলেই ভয় পাবেন না। লাকি ব্যাম্বু এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় হাউসপ্ল্যান্টগুলোর একটি। চাইনিজরা বিশ্বাস করে বাঁশ সৌভাগ্যের প্রতীক। চাইলে কিন্তু আজ অনায়াসে বাঁশ দিতে পারেন প্রিয়জনকে। লাকি ব্যাম্বু আর কী!চাইলে কিন্তু আজ অনায়াসে এরকম বাঁশ দিতে পারেন প্রিয়জনকেপার্বত্য অঞ্চলে তো বাঁশ জীবনের অপরিহার্য অংশ। টং ঘরে বাঁশ লাগবে। বাঁশের চটা দিয়ে ঝুড়ি তৈরি করা হয়। হাতে বাঁশের লাঠি না থাকলে পাহাড়ি পথে চলাচল কঠিন। বাঁশ সেখানে রান্নার তৈজস। বিশেষ প্রকারের বাঁশ দিয়ে তৈরি চুঙ্গা পিঠা তো আছেই। হালের ক্রেজ ব্যাম্বু চিকেনআর হালের ক্রেজ ব্যাম্বু চিকেন, ব্যাম্বু বিরিয়ানির কথা না বললেই নয়। বাঁশের ফোকরে পুরে রান্না করা হয় বিন্নি ভাতও।শুধু রান্নার কাজে লাগে না বাঁশ। বাঁশ খেতেও দারুণ মজা। কচি বাঁশকোড়ল বা ব্যাম্বু শুট এখন বলতে গেলে আমাদের দেশে এক ভাইরাল খাদ্যোপকরণ। পার্বত্য অঞ্চলে বহু যুগ ধরেই এটি খেয়ে আসছেন সকলে। চাইনিজ বা অন্যান্য ওরিয়েন্টাল রান্নায়ও বাঁশ কোড়ল অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাঁশ খাওয়ার আছে আরও সব উপায়।কচি বাঁশকোড়ল বা ব্যাম্বু শুট এখন বলতে গেলে আমাদের দেশে এক ভাইরাল খাদ্যোপকরণদেশে এখন মিলছে বাঁশপাতার চাআমাদের দেশে এখন মিলছে বাঁশপাতার চা। বলা হচ্ছে অনেক স্বাস্থ্যগুণ আছে এই চায়ের। এভাবে কি বাঁশ খেয়েছেন কখনো? রেসিপি রইল নিচের লিংকে।আমাদের দেশে এখন বাঁশের আসবাব, হোম ডেকোর পণ্য, তৈজস আর জানালায় বাঁশের তৈরি ব্লাইন্ড নিয়ে যেকোনো সময়ের চেয়ে আগ্রহ বেশি। ইকো ফ্রেন্ডলি এই উপকরণটির আসলে তুলনা নেই। ইকো ফ্রেন্ডলি এই উপকরণটির আসলে তুলনা নেইতবে বাঁশ ব্যবহার করার আগে ঠিকভাবে জাগ দেওয়া, শুকানো ও সিজন করা জরুরি। সুরক্ষার জন্য ভার্নিশ বা পেইন্ট ব্যবহার করা যায়। এতে শোভাও বাড়ে।বাংলা ভাষায় অবশ্য বাঁশ বলতে শুধু বাঁশই বোঝায় না। জীবনের যত প্রতিকূলতা আর নেতিবাচকতাকে বাঁশ খাওয়া বলি আমরা। জীবনটা আজকাল বাঁশময়ই বটে। এদিকে বাঁশ দিতেও দ্বিধা করেন না অনেকে। প্রেমিক-প্রেমিকা বাঁশ দিয়ে চলে যায়। ভাগ্যের হাতেও বাঁশ খাই আমরা অহরহ।পরীক্ষার খাতায় বাঁশ খাওয়ার দুঃখ আমরা কেই-বা ভুলতে পেরেছি। শোনা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ছাত্ররা অনেকেই বাঁশবাগান বলে থাকে। আবার ভাইরাল মিম বলে, জীবনটা মাটির চুলা, একের পর এক বাঁশ ঢুকছে। প্রেমিক-প্রেমিকা বাঁশ দিয়ে চলে যায়। ভাগ্যের হাতেও বাঁশ খাই আমরা অহরহ। ওহ, আজ ১৮ সেপ্টেম্বর। প্রতি বছর এই দিনেই বিশ্ব বাঁশ দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি ২০০৯ সালে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ৮ম বিশ্ব বাঁশ সম্মেলনে ঘোষণা করে ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশন (WBO)। এর উদ্দেশ্য হলো বাঁশের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। কেন বাঁশ দিবস উদযাপন করা হয় বাঁশ দিবস হলো পরিবেশ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে বাঁশের নানা উপকারিতা তুলে ধরার একটি উদ্যোগ। এদিনে বিশেষভাবে যেসব দিক তুলে ধরা হয়: পরিবেশ রক্ষা: বাঁশ দ্রুত বর্ধনশীল ও নবায়নযোগ্য সম্পদ। এটি প্রচুর কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে এবং গভীর শিকড়ের কারণে মাটিক্ষয় রোধ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়তা করে। অর্থনৈতিক সুযোগ: বাঁশ দিয়ে টেক্সটাইল, নির্মাণসামগ্রী, হস্তশিল্প, খাবারসহ নানা শিল্প গড়ে তোলা যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে সহায়তা করে। টেকসই জীবনযাপন: বাঁশ কাঠ ও প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প। এটি দিয়ে বায়োডিগ্রেডেবল (পচনশীল) পণ্য তৈরি করা যায় এবং কাটার সময় গাছের মূল ধ্বংস হয় না। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: বাঁশ স্থানীয় সংস্কৃতি, সঙ্গীত, হস্তশিল্প ও স্থাপত্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বাঁশের সবচেয়ে খারাপ ব্যবহার মনে হয় কাউকে আঘাত করার অস্ত্র হিসেবে বাঁশের গল্প যেন আর শেষই হচ্ছে না। তবে বাঁশের সবচেয়ে খারাপ ব্যবহার মনে হয় কাউকে আঘাত করার অস্ত্র হিসেবে। মব সৃষ্টি, সন্ত্রাস আর হানাহানি, মারামারি না হোক বাঁশ দিয়ে। কারও অনাকাংক্ষিত মৃত্যুর পর কবরে বাঁশের বেড়ার পাশে দাঁড়িয়ে যেন আর কেউ না কাঁদে। বিশ্ব বাঁশ দিবসে এটুকুই চাওয়া। সূত্র: ডেইজ অব দ্য ইয়ার হিরো ইমেজ: জেমিনি এআই ছবি: জেমিনি এ আই, হাল ফ্যাশন, উইকিমিডিয়া কমন্স ও ইন্সটাগ্রাম

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
আগেভাগে কর দিলে করছাড় পাওয়া যাবে না, নিয়মের মারপ্যাঁচে এক অদ্ভুত হিসাব

আগেভাগে কর দিলে করছাড় পাওয়া যাবে না, নিয়মের মারপ্যাঁচে এক অদ্ভুত হিসাব

‘শখ জাগছে, আপনারে জ্যাতা পুড়মু, আপনি কী কন’—ব্যবসায়ীকে বিএনপি নেতার হুমকি

‘শখ জাগছে, আপনারে জ্যাতা পুড়মু, আপনি কী কন’—ব্যবসায়ীকে বিএনপি নেতার হুমকি

শিশুর দেরিতে কথা বলা মানেই কি অটিজম

শিশুর দেরিতে কথা বলা মানেই কি অটিজম

মেট্রোরেলে বিপুল বিনিয়োগ, পিছিয়ে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা
মেট্রোরেলে বিপুল বিনিয়োগ, পিছিয়ে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা

ঢাকার পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নে একের পর এক মেট্রোরেল প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস, রেল, হাঁটা, সাইকেলসহ অন্যান্য পরিবহনমাধ্যমের সঙ্গে এর সমন্বয় হচ্ছে না বলে মনে করছেন পরিবহন ও নগর–পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের পাশাপাশি কম খরচে বেশি মানুষকে সেবা দিতে বাসব্যবস্থার উন্নয়ন, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং বিদ্যমান রেল যোগাযোগের উন্নয়নেও অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। আজ শুক্রবার সকালে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ‘মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা: আইপিডির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় পরিবহন ও নগর–পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) এ সভার আয়োজন করে।সভায় আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ২০০৫ সালের স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে (এসটিপি) ঢাকার জন্য একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল। এতে বাসের মানোন্নয়ন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিং, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), পথচারীবান্ধব ব্যবস্থা এবং পরবর্তী সময়ে মেট্রোরেল চালুর প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ২০ বছর পরও সেই পরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি।আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বর্তমানে মেট্রোরেলকে ঘিরে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। অথচ ঢাকার সঙ্গে আশপাশের এলাকার বিদ্যমান রেল যোগাযোগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। একই সঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে।আদিল মুহাম্মদ খানের ভাষ্য, যেসব প্রকল্পের ব্যয় ৪০–৪৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে থাকার কথা ছিল, সেগুলোর কোনো কোনোটি এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে মেট্রোরেল প্রয়োজনীয় গণপরিবহনের অংশ হওয়ার বদলে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রকল্পে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।বিপুল ব্যয় খতিয়ে দেখা দরকারবাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, বড় বড় প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও ঢাকার মানুষের চলাচলের ভোগান্তি কমেনি। একটি মেট্রোরেলের অভিজ্ঞতা ভালো হওয়ায় আরও মেট্রোরেল প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রতিটি প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জন্য কতটা যুক্তিসংগত, তা খতিয়ে দেখা দরকার।এই পরিকল্পনাবিদ বলেন, মেট্রোরেলের পাশাপাশি কম খরচে বেশি মানুষকে সেবা দিতে বাসব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। ঢাকাকেন্দ্রিক বড় বড় প্রকল্পের পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হলে ঢাকার ওপর মানুষের চাপও কমানো সম্ভব।আরিফুল ইসলাম বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা অন্যান্য ব্যয়বহুল প্রকল্পে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন শহরেও উন্নয়ন করা যেত।মেট্রো দিয়ে পুরো পরিবহন সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়পরিবহন পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মুনতাসির মামুন বলেন, ঢাকার পরিবহন খাতে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের বড় অংশ মেট্রোকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। অথচ ঢাকার মোট যাতায়াতের খুব সামান্য অংশ মেট্রোরেল বহন করছে।মুনতাসির মামুন বলেন, মেট্রোরেল দিয়ে ঢাকার পরিবহন সমস্যার পুরো সমাধান সম্ভব নয়। ১০টি মেট্রোরেল লাইন হলেও মোট যাতায়াতের একটি সীমিত অংশ এতে স্থানান্তর করা যাবে। তাই কোথায় আগে বিনিয়োগ করা হবে—ইন্টারসেকশন ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাস নেটওয়ার্ক নাকি নতুন মেট্রোরেল, তা অগ্রাধিকার দিয়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।আইপিডির গবেষক ফরহাদুর রেজা বলেন, একটি শহরের কার্যকর ও আরামদায়ক পরিবহনব্যবস্থা কোনো একটি পরিবহনমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা সম্ভব নয়। বাস, মেট্রো, রেল, হাঁটা, সাইকেলসহ বিভিন্ন মাধ্যমকে সমন্বিত করেই পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।আইপিডির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশআলোচনা সভায় বলা হয়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং গাবতলী থেকে দাসেরকান্দি—এই তিন পথে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিন প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।এ প্রেক্ষাপটে মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আইপিডির পক্ষ থেকে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।আইপিডি বলেছে, একাধিক মেট্রোরেল প্রকল্প একসঙ্গে অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ফলে অর্থায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।মেট্রোরেল প্রকল্পে আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে আইপিডি। পাশাপাশি দেশীয় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলেছে সংস্থাটি।প্রকল্পের ব্যয় যাচাইয়ে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার সুপারিশ করেছে আইপিডি। একই সঙ্গে প্রকল্পের পুরো জীবনচক্রে সম্ভাব্য ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ এবং একটি ওপেন ডেটা ড্যাশবোর্ড চালুর প্রস্তাব দিয়েছে তারা।আইপিডির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণ দরপত্র আসার পরও কেন প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বারবার বাড়ার কারণ অনুসন্ধান করে দায় নির্ধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কেইনের ‘৭৩ গোলই সব বলে দিচ্ছে’

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে কেইনের ‘৭৩ গোলই সব বলে দিচ্ছে’

যেভাবে বেড়ে ওঠেন নবীকন্যা ফাতেমা

যেভাবে বেড়ে ওঠেন নবীকন্যা ফাতেমা

মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সংকট দুর্বলতা বা লজ্জার বিষয় নয়

মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সংকট দুর্বলতা বা লজ্জার বিষয় নয়

0 Comments